Charbhadrasan is located at 23.5583°N 90.0833°E . It has 12415 units of house hold and total area 141.59 km².
চরভদ্রাসন উপজেলার পটভূমি
ব্রিটিশ শাসন আমলের সমাপ্তির দিকে তখনও জমিদারী প্রজাতন্ত্র আইন রহিত হয়নি। জনশ্রুতির মতে এ এলাকায় ব্রিটিশদের নিয়োজিত জমিদারের পেয়াদা ছিল মঙ্কিম। স্বাধীনচেতা মঙ্কিম ছিল তিতুমীর এর ভাবস্বাগরেদ। তারই নির্দেশে জমিদারদের খাজনা না দেওয়ার জন্য উদ্ধুদ্ব করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট জমিদার মকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হয় বন্দুক যুদ্ধ। মকিম নিহত হয়। তার অন্যান্য অনুসারীদের
দেশত্যাগ করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তার অনুগতদের চর পত্তন দেয়। কথিত মতে তখন এলাকার নাম করন করা হয় চরভদ্রাসন। ১৯৪৭ সালের ব্রটিশ উপনিবেশ থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্র ১৪ই আগষ্ট স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয়। তৎপরবর্তী প্রজাতন্ত্র আইন ১৯৫০ সালে প্রবৃত্ত হয়। জমিদারশ্রেণী বিলুপ্ত সাধিত হয়। এলাকাটি ফরিদপুর জেলাধীন সদর মহকুমার অন্তভূক্ত থাকে। চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর সংলগ্ন খাসের হাটে পুলিশ স্টেশন তথা প্রশাসনিক কেন্দ্র বিন্দু ছিল।১৯৫৪ সালে উক্ত এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ভেঙ্গে গেলে বতমানে স্থাপিত জায়গায় চরভদ্রাসন হাট প্রতিষ্ঠা হয়। তখন পুলিশ স্টেশন চরহাজিগঞ্জ স্থান্তরিত হয়। এমডি ও জনাব এস,এম জয়নাল আবেদীন ১৯৬৮ সালে ইউটিডিসি চরভদ্রাসন বাজারের উত্তর দক্ষিণে প্রতিষ্ঠা করেন একই বছর চরভদ্রাসন আইয়ুব কলেজ বতমানে অবস্থিত চরভদ্রাসন পাইলট হাই স্কুলের একটি কক্ষে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে হেলথ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে চরহাজিগঞ্জ থেকে পুলিশ স্টেশন স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৩ সালে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সকল বিভাগ সেটআপ হয়। ১ম উপজেলা চেয়রম্যান জনাব মো: আবুল হোসেন এবং ইউএনও জনাব মো: নরুল হুদা। বর্তমানে চরভদ্রাসন উপজেলায় সকল বিভাগের কাযক্রম চলছে। ৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। যথা-চরহরিরামপুর,চরঝাউকান্দা,চরভদ্রাসন,গাজিরটেক ইউনিয়ন।
সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ১ (চরঝাউকান্দা), স্মৃতিস্তম্ভ ২ (চরভদ্রাসন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসের সামনে এবং হাজিগঞ্জ বাজার)।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৯৭, মন্দির ১০।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৩%; পুরুষ ৩৭.২%, মহিলা ৩১.৫%। কলেজ ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩০, কমিউনিটি বিদ্যালয় ৪, মাদ্রাসা ৯। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: চরভদ্রাসন পাইলট হাইস্কুল (১৯৪৬), চর হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৪)।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সিনেমা হল ১, কমিউনিটি সেন্টার ৪, খেলার মাঠ ৮।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫৯.২১%, অকৃষি শ্রমিক ২.৬৬%, শিল্প ০.৭২%, ব্যবসা ১২.০৯%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৮২%, চাকরি ৭.১৩%, নির্মাণ ২.৪৬%, ধর্মীয় সেবা ০.১৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৪.৬১% এবং অন্যান্য ৭.১১%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৩.৫৬%, ভূমিহীন ৪৬.৪৪। শহরে ৫৬.৯৮% এবং গ্রামে ৫১.৭৪% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
শিল্প ও কলকারখানা তেলকল, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, ওয়েল্ডিং প্রভৃতি।
কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, বিড়িশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৮। হাজীগঞ্জ, চরভদ্রাসন, মৌলভীর চর বাজার উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য আখের গুড়, পিঁয়াজ, রসুন, চীনাবাদাম, মশুর ডাল, পাট।
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচীর আওতাধীন। তবে ১৯.৩৮% পরিবার (শহরে ৩৩.৫৯% এবং গ্রামে ১১.৮৩%) পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৫.৯১%, ট্যাপ ০.২৯%, পুকুর ০.৪৬% এবং অন্যান্য ৩.৩৪%।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৪৫.২৯% (শহরে ৫৬.২৫% এবং গ্রামে ৩৯.৪৭%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪৭.৩০% (শহরে ৩৬.৪৫% এবং গ্রামে ৫৩.০৬%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৭.৪১% (শহরে ৭.৩০% এবং গ্রামে ৭.৪৭%) পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৮, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৩, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২, কমিউনিটি ক্লিনিক ২৭, ক্লিনিক ৪।
তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; চরভদ্রাসন উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।