08/10/2025
Feni, Chittagong, Bangladesh
Feni, Chittagong, Bangladesh
08/10/2025
05/09/2025
ফেনী লাইন জনগণের পরিবহন
ঢাকা- ফেনী- চট্টগ্রাম চেয়ার কোচ
আজ মানিকনগর কাউন্টার থেকে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ফেনী ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
আপনাদের সবার ভালোবাসায় ফেনী লাইন এগিয়ে যাক।
খনার চিকিৎসা বচন:::::
(১)
“মাংসে মাংস বৃদ্ধি, ঘিতে বৃদ্ধি বল
দুধে বীর্য বৃদ্ধি, শাকে বৃদ্ধি মল”
অর্থ: মাংস খেলে মাংস বাড়ে,
ঘি খেলে শরীরে বল আসে।
দুধ খেলে বীর্য বৃদ্ধি হয়,
আর শাক খেলে পেট পরিষ্কার থাকে।
খনার চিকিৎসা বচন
(২)
“রসুনে রক্ত, আদায় গতি,
হলুদের গুণ ধরে না স্মৃতি।
তুলসী পাতায় কাশি যায়,
পেঁয়াজ খেলে যৌবন চায়।”
অর্থ: রসুন রক্ত পরিষ্কার করে, আদা হজম বাড়ায়,
হলুদ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর, তুলসী কাশি সারায়।
পেঁয়াজ খেলে যৌনশক্তি বাড়ে।
খনার চিকিৎসা বচন
(৩)
“কাঁচা আমে পেটের শান্তি,
পাকা আমে রসের ভাঁড়।
বেলের শাঁসে পেটের জাদু,
তেঁতুল খেলে মুখে ছাঁদ।”
অর্থ: কাঁচা আম হজমে সহায়ক, পাকা আম শক্তি দেয়,
বেল পেট পরিষ্কার করে,
তেঁতুল মুখে স্বাদ বাড়ায়।
খনার চিকিৎসা বচন
(৪)
“ধনে পাতা গরম কমায়,
পুদিনা মুখ ঠান্ডা চায়।
লেবুতে মল, কচুতে রক্ত,
এই সবজিতে জীবন শক্ত।”
অর্থ: ধনে গরম কমায়, পুদিনা ঠান্ডা দেয়,
লেবু হজমে সহায়, কচু রক্ত বাড়ায়।
খনার চিকিৎসা বচন
(৫)
“তেঁতুল দিলে মুখে রস,
পাকা কলায় চলে গস।
নিম পাতা করে শোধন,
তুলসী পাতায় হয় রোগ ক্ষয়ন।”
অর্থ: তেঁতুল মুখে টক-মিষ্টি স্বাদ আনে,
পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
নিম পাতা রক্ত পরিশোধ করে,
তুলসী রোগ প্রতিরোধে সহায়।
খনার চিকিৎসা বচন
(৬)
“আদায় গরম, রসুনে বল,
মেথি খেলে কমে কল।
চিরতা জলে পিত্ত ধোয়,
তেতো কাহার কভু ক্ষয়?”
অর্থ: আদা গরম, রসুন শক্তিদায়ক,
মেথি গ্যাস-অম্বল কমায়।
চিরতা পিত্ত দূর করে,
আর তেতো শরীরের রোগ কমায়।
খনার চিকিৎসা বচন
(৭)
“কচুতে রক্ত, চাল কুমড়ো ঠান্ডা,
তালের রসে শীতল ফাঁদা।
আনারসে গ্যাসে শান্তি,
দুধে খেলে শরীর ভারী।”
অর্থ: কচু রক্ত বাড়ায়, চাল কুমড়ো ঠান্ডা দেয়,
তালের রস ঠান্ডা রাখে, আনারস গ্যাস কমায়।
দুধ শরীর মজবুত করে।
খনার চিকিৎসা বচন
(৮)
“মধু মুখে দিলে জ্বালা যায়,
তিলের তেলে চুলে আয়।
লাউয়ে জ্বর, করলাতে পিত্ত,
জ্বরের দিনে করো না হিত।”
অর্থ: মধু মুখ ঠান্ডা রাখে,
তিলের তেল চুলে দিলে উজ্জ্বল হয়।
লাউ জ্বর কমায়, করলা পিত্ত দূর করে,
তবে জ্বরে করলা খাওয়া ঠিক নয়।
ফেনীর সন্তান হিসেবে আমাদের জেনে রাখা জরুরী
ফেনী জেলায় ৬টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৪৩টি ইউনিয়ন, ৪৪১টি ওয়ার্ড আছে।
★ ফেনী জেলার ৬টি উপজেলা
১। ফেনী সদর।
২। ছাগলনাইয়া।
৩। সোনাগাজী।
৪। দাগনভুইয়া।
৫। ফুলগাজী।
৬। পরশুরাম।
★ ফেনী জেলায় ৫ টি পৌরসভা।
১। ফেনী পৌরসভা।
২। ছাগলনাইয়া পৌরসভা।
৩। দাগনভুইয়া পৌরসভা।
৪। সোনাগাজী পৌরসভা।
৫। পরশুরাম পৌরসভা।
ইউনিয়নঃ- ফেনী জেলার ৪৩ টি ইউনিয়ন।
★ফেনী সদর-মোট ইউনিয়ন ১২টি
১। শশর্দি।
২। ধর্মপুর।
৩। কাজিরবাগ।
৪। মোটবী।
৫। ছনুয়া।
৬। পাঁচগাছিয়া।
৭। বালিগাঁও।
৮। কালিদহ।
৯। লেমুয়া।
১০। ধলিয়া।
১১। ফাজিলপুর।
১২। ফরহাদ নগর।
★ ছাগলনাইয়া-মোট ইউনিয়ন ৫টি
১। রাধানগর।
২। পাঠান নগর।
৩। শুভপুর।
৪। ঘোপাল।
৫। মহামায়া।
★ সোনাগাজী-মোট ইউনিয়ন ৯টি
১। চর মজলিশপুর।
২। বগাদানা।
৩। মঙ্গলকান্দি।
৪। মতিগঞ্জ।
৫। চর দরবেশ।
৬। চর চান্দিয়া।
৭। সোনাগাজী সদর।
৮। আমিরাবাদ।
৯। নবাবপুর।
★ দাগনভুইয়া-মোট ইউনিয়ন ৮টি
১। সিন্দুরপুর।
২। রাজাপুর।
৩। পুর্ব চন্দ্রপুর।
৪। রামনগর।
৫। ইয়াকুবপুর।
৬। দাগনভুইয়া সদর।
৭। মাতুভুইয়া।
৮। জায়লস্কর।
★ পরশুরাম-মোট ইউনিয়ন ৩টি
১। চিথলিয়া।
২। মির্জা নগর।
৩। বক্সমাহমুদ।
★ ফুলগাজী-মোট ইউনিয়ন ৬টি
১। ফুলগাজী।
২। মুন্সিরহাট।
৩। দরবারপুর।
৪। আনন্দপুর।
৫। জি এম হাট।
৬। আমজাদহাট
16/05/2025
এই ভদ্রলোককে চেনেন?
সম্ভবত না।
আজকে এক জেনারেলের গল্প শোনেন। উনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল খাজা ওয়াসিউদ্দিন। বাঙালিদের প্রতি চরম বৈষম্য চলাকালেও তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকা সর্বোচ্চ র্যাংকধারী পূর্ববাংলার অফিসার ছিলেন।
তার আরেকটা পরিচয় আছে, ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। একইসাথে নবাব সলিমুল্লাহ আর খাজা নাজিমউদ্দীনের আত্মীয় তিনি। জন্ম ঢাকার আহসান মঞ্জিলে, ১৯২০ সালে। ১৯৪০ সালে কমিশন লাভ করেন। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হয়ে যোগ দেন ব্রিটিশ আর্মিতে। বার্মা ফ্রন্টে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। মাত্র ৩ বছরের মধ্যে, ১৯৪৩ সালে মেজর হন। ১৯৪৫ সালের মধ্যে হন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একই সাথে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মড ফোসের্সের ISSB বোর্ডের ডেপুটি প্রেসিডেন্টও হন। অথচ তার বয়স তখন মাত্র ২৫! দেশভাগের পর চলে আসেন পাকিস্তানে। পাকিস্তান আর্মির ISSB বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, ঢাকা আর লাহোরে দুইটা ডিভিশনে GOC, একটা কোরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যন্ত হয়েছিলেন তিনি। বাঙালি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলে সেনাপ্রধানও হতে পারতেন।
পাকিস্তান আর্মির মতন জায়গায় নিজের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সবসময় সাহসিকতার পরিচয় দিতেন জেনারেল ওয়াসি, এমনকি তার সিনিয়রদের সামনেও। তৎকালীন বাঙালি সৈনিকদের প্যাট্রন বা অভিভাবক ছিলেন যে অল্প কয়েকজন অফিসার তাদের মধ্যেই ছিলেন জেনারেল ওয়াসি, ব্রিগেডিয়ার মজুমদার, কর্নেল ওসমানীরা। বাঙালি সৈনিকদের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের গর্ব প্রতিষ্ঠা করতে ভূমিকা রাখেন জেনারেল ওয়াসি। সেইসময় পাকিস্তানি অফিসারদের নিজেদের প্রাদেশিক ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল। আর্মি স্ট্যান্ডার্ড ভাষা ছিল ইংরেজি। গুটিকয়েক যারা বাঙালি অফিসার ছিলেন, তারাও বাংলা বলার সাহস পেতেন না।
এসব নিয়মকে তুড়ি মেরে নিজের নেমপ্লেটে তিনি ব্যবহার করতেন বাংলা ভাষা। এমনকী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্নেল কমান্ডেন্ট হিসেবে অভিষেকের সময় বক্তব্যও দেন তিনি বাংলায়। লাহোর এবং শিয়ালকোটে ৪ এবং ৫ ইস্ট বেঙ্গলের প্রেজেন্টেশন বক্তব্য দেন সম্পূর্ণ খাঁটি বাংলায়। পরবর্তীতে জেনারেল খলিল বলেন, শিয়ালকোটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলুচিস্তানের কসাই খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান। ওয়াসিউদ্দিনের বাংলা বক্তব্য তিনিসহ অন্যান্য পাকিস্তানি অফিসাররা যেন ভেড়ার মতন শুনতে থাকেন। জেনারেল ওয়াসির এমন স্পষ্টবাদিতা, স্পর্ধা ও সাহসিকতা সবসময়ই পাকিস্তানিদের জন্য তেতো ছিল। কিন্তু অফিসিয়ালি তারা কিছু করতেও পারতেন না।
জেনারেল ওয়াসি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন সবসময়। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে কর্প্স কমান্ডার থেকে তুলনামূলক অ-গুরুত্বপূর্ণ অর্ডন্যান্স জেনারেলের দায়িত্বে পাঠায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে আসতে পারেন নি তিনি। তবে ১৯৭৩ সালে ফিরে আসেন তিনি বাংলাদেশে। জেনারেল ওয়াসিউদ্দিনকে বাংলাদেশ সরকার যথাক্রমে কুয়েত এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত করেন। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশী স্থায়ী রিপ্রেজেনটেটিভ হন তিনি। ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন অন্তরালে থেকে যাওয়া এই বীর। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। তার প্রতি রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।❤️❤️
মূল লেখাঃ তাহমিদ
ঈষৎ পরিমার্জিত
#শিক্ষা
জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন ফোনে বলল, "বড়োই লজ্জায় আছি।"
- "কেন কী হয়েছে?"
- "ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।"
- "তো?"
- "জাপানি স্যার একটা বড় শিক্ষা দিয়েছেন।"
- "কী করেছেন?"
- "আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে,তা স্মরণে রাখার মতো জোর দিয়ে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেননি।
তাই তিনি দুঃখিত।"
- "হুম।"
- "আমি তো আর কোনদিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলবো না। আজ যদি তিনি আমাকে বকতেন বা অন্য কোন শাস্তি দিতেন, আমি হয়তো কোনও একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম।"
জাপানি দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানি দর্শকরা গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
এ আবার কেমন কথা?
এটা কি কোনো পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস যখন রেফারির গুষ্টি তুলে গালি দে। বলে দে পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চিনাবাদামের খোসা যা পাস ছুঁড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে, খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি, এতে সরকার বা বিরোধী দলের হাত আছে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকী হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারিকিরির ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন, "আমার মাথা কেটে নিন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।"
আরে ব্যাটা, তুই যুদ্ধে হেরেছিস, তোর আত্মীয়স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারিদিকেই তো জল। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস (লক্ষণ সেন) থেকে শিখে নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার 'মীর জাফর'-দের সাথে হাত মেলা। সেখান থেকে হুঙ্কার দে। সম্রাট হিরোহিতোর এই আচরণ আমেরিকানদের পছন্দ হল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকেই বিনা আঘাতে বাঁচিয়ে রাখা হলো ।
২০১১ সালের ১১ই মার্চ। সুনামির আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানির মালিক সাতো সান প্রথমেই বাঁচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়োরিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ)-দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উঁচু টিলায় নিজে পথ দেখিয়ে গিয়ে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোঁজ নিতে। ইতিমধ্যে সুনামি এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল সুনামি। আজও খোঁজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার (ইসস!!! সাতো সান যদি একবার আমাদের প্রমোটারের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন)। সাতো সান অমর হলেন চায়নাতে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় ওনার প্রতিকৃতি বানিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
নয় বছরের এক ছেলে। স্কুলে ক্লাস করছিল। সুনামির আগমনের কথা শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালো এবং সব ছাত্রদের নিয়ে তিন তলায় জড়ো করলো। তিন তলার ব্যালকনি থেকে দেখলো তার বাবা স্কুলে আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে ফোসফোসে জলের সৈন্য দল। গাড়ির স্পিড জলের স্পিডের কাছে হার মেনে গেল। চোখের সামনে নেই হয়ে গেল বাবা। সৈকতের কাছেই ছিল তাদের বাড়ি। শুনলো, মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠল। শিবিরের সবাই খিদে আর শীতে কাঁপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছেন। আশ্রিতরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছেলেটিও আছে।
এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যতখানি খাদ্য (রুটি) আছে তাতে লাইনের সবার হবে না। ছেলেটির কপালে জুটবে না।সাংবাদিক সাহেব তার কোট পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহণ করল, তারপর যেখান থেকে রুটি বিলি হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াল।
সাংবাদিক সাহেব কৌতূহল চাপতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন, "এ কাজ কেন করলে খোকা ?"
খোকা উত্তর দিল "বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। ওদের হাতে থাকলে, বন্টনে সমতা আসবে।তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশি ক্ষুধার্ত লোকও তো থাকতে পারে।"
সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন, এই ভেবে সাংবাদিক সাহেবের পাপবোধ হল। এই ছেলের কাছে কী বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন তিনি।
যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, যদি ট্রেনে বা বাসে কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন।
গভীর রাতে কোনো ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারীরা ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না।
ট্রেনে বাসে টিকিট ফাঁকি দেওয়ার হার প্রায় শূণ্যের কোঠায়।
একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক ভারতীয় দেশে গেলেন। মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে।
*এই শিক্ষা জাপানিরা কোথায় পান?*
সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে।
সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শেখানো হয় তা হল -
*কননিচিওয়া* (হ্যালো)
- পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র 'হ্যালো' বলবে।
*আরিগাতোউ* (ধন্যবাদ)
- সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
*গোমেননাসাই* (দুঃখিত)
- মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।
এগুলো যে স্কুলে শুধু মুখস্ত করে শেখানো হয় তা নয়। বাস্তবে শিক্ষকরা প্রোএক্টিভলি সুযোগ পেলেই এগুলো ব্যবহার করেন এবং করিয়ে ছাড়েন।
সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা এবং প্র্যাকটিসটি ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শেখে।
আমাদের দিক নির্দেশকেরা তাদের বাল্যকালটা যদি কোনও রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন তাহলে কী ভালোটাই না হতো! কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেওয়া হয়।
সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা যা দরকার অর্থাৎ নিজের বই-খাতা, পোষাক, খেলনা, বিছানা সব নিজে গোছানো। টয়লেট ব্যবহার করে নিজেই পরিষ্কার করা। খাবার খেয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিজেই ধুয়ে ফেলা ইত্যাদি।
প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেঁধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস-ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শেখানো হয়।
আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসতেই পারেন, কিন্তু উল্টে আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।
ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে তারা স্কুলে যায়।
ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম, কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরি না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ক্লাসে রোল নং ১ মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরি হয় নামের বানানের আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমস্ত আইটেমগুলো থাকে *গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য, ইন্ডিভিজুয়েল নয়।*
সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা গ্রুপে। সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা ছাত্রছাত্রীরা পেয়ে যায় স্কুলের খেলাধুলা জাতীয় এ্যাক্টিভিটি থেকে।
এই জন্যই হয়তো জাপানে তথাকথিত 'লিডার' তৈরি হয় না কিন্তু এরা সবাই এক একজন বড় লিডার,,,,🙂
[লেখাটি ড. আশির আহমেদের জাপান কাহিনি ১ম খন্ড থেকে নেয়া ]
24/02/2025
একজন বৃদ্ধা ফল বিক্রেতাকে এক মহিলা ক্রেতা জিজ্ঞাসা করলেন, "আপেলের দাম কত?"
বৃদ্ধা উত্তর দিলেন, "৩০০ টাকা কেজি।"
মহিলা বললেন, “আমি ২৫০ টাকা দেব, না দিলে আমি চলে যাব, কিছুই নেব না।”
বৃদ্ধা করুণ চোখে উত্তর দিলেন, "আপনি যে দামে চান, তাতেই কিনতে পারেন। এটা আমার জন্য বউনি, কারণ আজ আমি একটাও আপেল বিক্রি করতে পারিনি। বাড়িতে অসুস্থ স্বামী বিছানায় পড়ে আছে, আমার কোনো কর্মক্ষম ছেলেও নাই। পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে আমাকে তাই আপেল বিক্রি করতেই হবে।"
মহিলা তার পছন্দের দামে ৫ কজি আপেল কিনলেন এবং মনে মনে ভাবলেন তিনি জিতে গেছেন।
তিনি আপেল নিয়ে হাজবেন্ডের সাথে তাদের বিলাসবহুল গাড়িতে উঠলেন এবং এরপর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঢুকলেন।
তারা রেস্টুরেন্টের সবচেয়ে দামি মেনু অর্ডার করলেন। যদিও তারা খেলেন সামান্যই, বেশিরভাগ খাবারই টেবিলে পড়ে থাকল।
তাদেরকে ৩৮০০ টাকা বিল দেওয়া হলো। মহিলা ৪০০০ টাকা দিয়ে এলেন এবং মুচকি হেসে মার্জিত রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে বললেন, "বাকিটা টিপস।"
এই গল্পটি একটি বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের মালিকের জন্য স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু একজন হতদরিদ্র ফল বিক্রেতার জন্য বড়ই নির্মম।
প্রশ্ন হলো, আমরা যখন একজন দরিদ্র বিক্রেতার কাছ থেকে কোনো জিনিস কিনি, তখন কেন সবসময় তার উপর ক্ষমতা জাহির করি?
আর যারা আমাদের উদারতার যোগ্য নয় তাদের প্রতি কেন আমরা উদার হই?
কোনও এক মহৎ মানুষের আত্মজীবনীতে পড়েছিলাম :
আমার বাবা গরিবদের কাছ থেকে বেশি দামে জিনিস কিনতেন, যদিও তার ওইসব জিনিসের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
তিনি কখনো কখনো তাদেরকে বেশি দাম দিতেন। আমি তখন অবাক হয়ে যেতাম। একদিন আমি বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "বাবা, তুমি কেন এটা করো?"
আমার বাবা উত্তর দিলেন, "ওরা ভিক্ষা না করে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আমার তরফ এটা শুধুই দান নয়, সম্মান দিয়ে দান।"
আমি জানি আপনাদের অনেকেই এই বার্তা শেয়ার করবেন না, অনেকে হয়তো আমার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত ও হবেন না, কিন্তু যদি আপনি তাদের মধ্যে একজন হন যারা এই গল্পটি পড়ার জন্য সময় দিয়েছেন তাহলে দয়া করে এই গল্পটি শেয়ার করুন। সম্ভবত আপনি একটি ভালো বীজ বপন করছেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the business
Website
Address
Feni
3900
