Save CHT

Directions

Save CHT পাহাড়ের ইতিহাস উন্মোচন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য

‎‎‎চাকমা ও কুকিদের সশস্ত্র বিদ্রোহী আন্দোলনের ইতিহাস; স্বাধীনতা যুদ্ধে অবস্থান ও অতীত-বর্তমান-উগ্র দাঙ্গাবাজ কুকিদের সম্...
07/10/2026

‎‎‎চাকমা ও কুকিদের সশস্ত্র বিদ্রোহী আন্দোলনের ইতিহাস; স্বাধীনতা যুদ্ধে অবস্থান ও অতীত-বর্তমান-

উগ্র দাঙ্গাবাজ কুকিদের সম্পর্কে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার পাহাড়ি এলাকায় অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু ১৮৫৯-৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কুকিরা স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ শুরু করে। চাকমাদের পাশাপাশি ব্রিটিশদের উপর আক্রান্ত বেশি হয়।

কুকিদের এই আক্রমণে ১৮৬ জন ব্রিটিশ প্রজা খুন হয় এবং ১০০ জনকে তারা বন্দী করে। এছাড়া কুকিরা অন্যান্য ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর উপরও অত্যাচার করে। প্রশাসনিকভাবে এ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টি ত্বরান্বিত করা হয়।

১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কুকিদের শায়েস্তা করার জন্য ব্রিটিশরা নানা আইন প্রণয়ন করে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ প্রশাসনের উপর কুকিরা দফায় দফায় আক্রমণ করে। এই আক্রমণ ঠেকাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নয় অর্থাৎ যাদের এ অঞ্চলে জায়গা জমি নেই তাদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি (১৯০০ সার্কেল আইন) বলা হয়েছে এখানকার বাসিন্দা হতে হলে নিজ নামে বৈধ জায়গা-জমি থাকতে হবে। এবং জেলা প্রশাসক ডিসি'র বাসিন্দা সনদের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে গণ্য হবে৷ তৎকালীন কুকিরা দল বেঁধে এসে আক্রমণ করত। মূলত কুকিদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হেডম্যান রিপোর্ট অনুযায়ী ডিসি সনদের প্রচলন শুরু হয়। যা আজ শুধু বাঙালিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে৷ এই কুকিরা ছিল বর্বর জাতি, তারা চাকমাদের মত অত্যাচারী এবং অকৃতজ্ঞ পরিচয় বহনকারী জাতি৷ তারা উভয় জাতিই যুদ্ধবাজ ও দাঙ্গাবাজ। উগ্র জাতীয়তাবাদ লালন, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যের ভূমি নিজেদের দাবি করা এবং মিথ্যা গল্পকাহিনি নির্ভর ইতিহাস চর্চা করাই তাদের অভ্যাস। এই দুটি জাতি একে অপরের বিরুদ্ধে সাপে-নেউল এর মত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মূল বিরোধ হচ্ছে চাকমাদের সঙ্গে৷ চাকমা ও কুকি বিদ্রোহ আন্দোলনের ইতিহাস আছে। যারা ইতিহাসবিদ তারা একে অকপটে স্বীকার করে চাকমা ও কুকি বিরোধ। সাধারণ চাকমা ও কুকিরা এখনও সেই বিদ্রোহের কথা বলে। প্রবাদ আছে চাকমা শিশুদের তাদের মায়েরা ঘুম পারাতেন, কুকি আসার ভয় দেখিয়ে। বয়োবৃদ্ধ চাকমারা এখনও তা স্বীকার করে। খ্রিষ্টীয় ১৬/১৭শ শতকের দিকে আগত কুকিরা পরবর্তী অনুপ্রবেশ করা চাকমা কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়েছিল৷ ব্রিটিশদের সাথে প্রথমে চাকমাদের কিছু বিষয়ে বিরোধ থাকলেও কুকি দমনে ব্রিটিশ আর চাকমা দলনেতারা এক হয়ে যায়। চাকমা দলনেতারা ছিল ব্রিটিশদের অধীনস্থ কর্মচারী। একারণে চাকমারা ব্রিটিশদের আনুগত্য ছিল। ব্রিটিশরা চাকমাদের সহযোগিতায় কুকিদের দেশান্তরিত করেছিল৷ সে দেশান্তরী হওয়ার ভয় এখনো কুকিদের মধ্যে কাজ করছে। তাই তারা সবসময় ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্কে থাকে। তাদের মধ্যে অবিশ্বাসের দানা বাঁধে।

চাকমা ও কুকি বিদ্রোহ আন্দোলন এবং ব্রিটিশদের স্বার্থ হাসিলের দায়ভার তো বর্তমান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বহন করতে পারেনা। এবং তারজন্য কুকিরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিতে পারেনা৷ কুকিদের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিরোধ চাকমাদের সঙ্গে। আজকে শান্তি কমিটি আলোচনার মাধ্যমে কুকি জনগোষ্ঠীর তথাকথিত অধিকারের সশস্ত্র গ্রুপ কেএনএফ কে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে নানা প্রচেষ্টা করছে। সশরীরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে উভয় পক্ষের। এর মধ্যে অনেকগুলো দাবি নিয়ে চুক্তি হয়েছে। আরো আলোচনা চলমান। কিন্তু কেএনএফ পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯টি উপজেলা নিয়ে আলাদা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কুকিল্যাণ্ড গঠন করতে অনড়! তাদের সরকার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সশস্ত্র জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে চেষ্টা করছে কিন্তু তারপরও তারা অকৃতজ্ঞের মত সরকার তথা রাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে। যা বৈরী আচরণের শামিল।

আগরতলায় সাবেক ইউপিডিএফ নেতা ও বর্তমান জেএসএস কমান্ডার গ্রেপ্তার।ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে এক বাংলাদেশি সশস্ত্র সদস্য...
06/10/2026

আগরতলায় সাবেক ইউপিডিএফ নেতা ও বর্তমান জেএসএস কমান্ডার গ্রেপ্তার।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে এক বাংলাদেশি সশস্ত্র সদস্য এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) জ্যেষ্ঠ অস্ত্র কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। ঐতিহ্যবাহী ‘হেরিটেজ পার্ক’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু। ভারতে তিনি 'বিজয় চাকমা' নামে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন এবং এই ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি আধার কার্ডও সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেরিটেজ পার্কে পিসিজেএসএস-এর সাথে জড়িত ক্যাডাররা একটি গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে এনসিসি থানার পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে শ্যামল কান্তি চাকমাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও তাঁর দুই সহযোগী মিথান চাকমা এবং জ্যোতিষ্মান চাকমা ওরফে বুলবুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ত্রিপুরায় তাঁর উপস্থিতি ও সার্বিক কর্মকাণ্ড, সহযোগীদের তথ্য এবং যে পরিস্থিতির অধীনে তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন, তা জানতে জিবি আউটপোস্টে গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রাজ্যে নিজেদের অবস্থান বা ঘাটি তৈরির বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাবি, আটককৃত শ্যামল কান্তি চাকমা ২০১৫-২০১৬ সালে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংগঠনটি ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭-২০১৮ সালে ইউপিডিএফ থেকে দলছুট আরেক নেতা তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার নেতৃত্বে গঠিত ‘ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’ দলে যোগদান করেন তিনি। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলে বর্মা সভাপতি হলে শ্যামল কান্তি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের গুলিতে বর্মা নিহত হলে সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন শ্যামল কান্তি। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপে যোগ দেন।

পার্বত্য অঞ্চলের আলো-আঁধারি: সন্ত্রাস বর্জন করে শিক্ষাই হোক মূল হাতিয়ার: বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু নিম্ন ...
06/10/2026

পার্বত্য অঞ্চলের আলো-আঁধারি: সন্ত্রাস বর্জন করে শিক্ষাই হোক মূল হাতিয়ার:

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের সংগ্রামের গল্পটি আজ পুরো দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সহকর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য ছুটির দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে যিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ২ লাখ টাকার সম্মাননা ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার এই মহৎ উদ্যোগের ফলস্বরূপ তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এখন সরকারি স্বীকৃতি পেয়ে 'তিন্দু সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অর্জন পুরো পার্বত্যবাসীর জন্য এক বিশাল গর্বের মুহূর্ত।

কিন্তু এই আনন্দের খবরের পাশাপাশি পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে কিছু অন্ধকারের প্রতিবন্ধকতা বারবার আমাদের ভাবিয়ে তোলে। আজ পার্বত্য অঞ্চলে জেএসএস, ইউপিডিএফ কিংবা কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। অস্ত্রধারী এই দলগুলো পাহাড়ের আনাচে-কানাচে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা তাদের নিত্যদিনের রুটিন। অস্ত্রের জোরে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলে কি কখনো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?

এই সশস্ত্র সন্ত্রাস ও চরম অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ সরকার এবং আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সেনাবাহিনী পাহাড়ি জনপদে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা এবং অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার কথা, তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়নের আলো দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি কোণায় পৌঁছাতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন।

আসুন, হানাহানি ও অন্ধকারের পথ চিরতরে বন্ধ করতে আমরা এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ভয়াল পথ একসাথে রুখে দেই। সন্ত্রাসবাদ নয়, শিক্ষাই হোক আমাদের একমাত্র শক্তি। বামং খিয়াং মিংলেনের মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরাই আমাদের সঠিক পথের দিশারি। পাহাড়ে হোক শান্তি, শিক্ষা ও প্রগতির অবিরাম জয়যাত্রা!

খাগড়াছড়ির গুইমারায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আমজাদ হোসেন (৩৯) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফের কথিত...
05/10/2026

খাগড়াছড়ির গুইমারায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে আমজাদ হোসেন (৩৯) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফের কথিত চাঁদা সংগ্রাহক ব্রিটিশ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কবুতরছড়া সমিল এলাকার একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আমজাদের কাছ থেকে প্রথমে ১০০ টাকা নেওয়ার পর আবারও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার কাছে থাকা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চাঁদাবাজি, হামলা ও সহিংসতার এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রত্যাশা চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

অসুস্থতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন খাগড়াছড়ি দীঘিনালার কমল বিকাশ চাকমা। সম্প্রতি ফেসবুকে মা...
05/10/2026

অসুস্থতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন খাগড়াছড়ি দীঘিনালার কমল বিকাশ চাকমা। সম্প্রতি ফেসবুকে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। পরে লোকলজ্জায় পোস্টটি মুছে ফেললেও তাঁর অসহায়ত্বের খবর পৌঁছে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে। কমল বিকাশ চাকমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ওই পোস্ট গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডারের নজরে আসে। এরপর রিজিয়নের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাঁকে গুইমারা রিজিয়নে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

রিজিয়নে গিয়ে তিনি স্টাফ অফিসারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা, আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

কমল বিকাশ চাকমা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও মানবিক যোগাযোগের কথা তুলে ধরেন। অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা একজন মানুষের পাশে সেনাবাহিনীর এভাবে এগিয়ে আসার ঘটনাটি পাহাড়ে মানবিকতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা—সচেতন হওয়া জরুরি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঞ্চলিক সশস...
04/10/2026

আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা—সচেতন হওয়া জরুরি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য, একপাক্ষিক বক্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ছড়িয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ ও প্রচারণা নিয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও, ছবি বা দাবি দেখলেই তা সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। একটি ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই না করে শেয়ার করলে গুজব ও বিভ্রান্তি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীলভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক বক্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্য যাচাই করুন, গুজবে কান দেবেন না। সচেতন থাকুন, দায়িত্বশীলভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।

লক্ষ্মীছড়িতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আড়াল করতে ইউপিডিএফের সেনা বিরোধী অপপ্রচার।খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাক...
03/10/2026

লক্ষ্মীছড়িতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আড়াল করতে ইউপিডিএফের সেনা বিরোধী অপপ্রচার।

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকায় গত মধ্যরাত থেকে ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী কিছু বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে (যাদের ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রিত নিউজ পোর্টালে) "ঠ্যাঙাড়ে দুর্বৃত্ত/মুখোশ" বলে উল্লেখ করা হয়) সাথে নিয়ে জনহয়রানি ও নিপীড়নমূলক অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, "বসন্ত চাকমা এবং বৃষ কুমার চাকমা নামের দুই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ডেকে তুলে শারীরিকভাবে প্রহার, মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের আটকে রেখে ইউপিডিএফ সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। উক্ত সংবাদে উৎপল চাকমা (৩৪, পিতা: শশী ভূষণ চাকমা, গ্রাম: ফিত্তি পাড়া) ও মিন্টু চাকমা (২৬) নামের ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর সাথে থেকে অভিযান চালাতে সাহায্য করা এবং সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়। সংবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে স্থানীয় নারীদের প্রতিবাদ ও উপস্থিতির মুখে আটকে রাখা ব্যক্তিদ্বয়কে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী।"

স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুক্তি বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ প্রসীত নিয়ন্ত্রিত নিউজের প্রচারিত এই বিবরণটির আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন। লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকাটি রাঙামাটির কাউখালী, চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি ও রাউজান সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় এটি ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর মতো আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপের জন্য ভৌগোলিক হিসেবে একটি সুবিধাজনক অবস্থান। এই বর্মাছড়ি দুর্গম অঞ্চল হিসেবে নিরাপদ আবাসন ও আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে ইউপিডিএফ নিয়মিত চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন ও গুমসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। সাধারণ স্থানীয় জনসাধারণের আকুল আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেখানে একটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করে। সেসময় ওই জায়গাটিকে "বৌদ্ধ বিহার বা ধর্মীয় স্থান" হিসেবে অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মকে পুঁজি করে সেনাবাহিনীর কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে ইউপিডিএফ। পরে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন বন্ধ করে দেয়। এবং অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির উৎসের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে।

এই অঞ্চলে ইউপিডিএফ-এর আয়ের প্রধান উৎস অবৈধ কাঠের ব্যবসা ও অস্ত্রের মুখে চাঁদাবাজি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এসব অবৈধ কাঠের ব্যবসা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এসব সেনা অভিযানের কারণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং নিজেদের কোণঠাসা অবস্থা থেকে নজর সরাতে সেনাবাহিনী দুই গ্রামবাসীকে নির্যাতন করেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা "ভিকটিম কার্ড" খেলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। বাস্তবে সেখানে এ ধরনের কোনো নির্যাতন বা হয়রানির ঘটনা ঘটেনি।

"ঠ্যাঙাড়ে দুর্বৃত্ত/মুখোশ" বলে উৎপল চাকমাকে বলিদান ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকাই মূল উদ্দেশ্য: উক্ত প্রতিবেদনে 'উৎপল চাকমা' নামের যে ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর অভিযানের সহযোগী হিসেবে দেখিয়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে গত ২০ বছর ধরে ইউপিডিএফ-এর রাজনৈতিক ও সশস্ত্র শাখার একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। তিনি ইউপিডিএফ-এর হয়ে রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন, বহু মানুষের ও প্রতিপক্ষ গ্রুপের ক্ষতি সাধন করেছেন। তবে বিগত ১-২ বছর ধরে উৎপল চাকমার সঙ্গে ইউপিডিএফ-এর তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছে। মূলত উৎপল চাকমাকে ফাঁসাতে গিয়েই মনগড়া গল্প বানিয়ে সেনাবাহিনীকে টেনে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউপিডিএফ নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার পাশাপাশি বহু বছর ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা উৎপল চাকমাকে বলিদান দিল এবং তার অবদানকে অস্বীকার করল।

বর্মাছড়ি এলাকায় মূলত সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটে ইউপিডিএফ-এর নিজস্ব কোন্দল ও স্থানীয়দের ওপর তাদের অত্যাচারের কারণে। এসব নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে এবং সেনাবাহিনীর নিয়মিত অভিযান বন্ধ করে এলাকাটিকে পুনরায় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি বানিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ ধরনের কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ইউপিডিএফ এর হুমকির মুখে পাহাড়ি প্রতিবাদী তরুণী উপমা চাকমা।খাগড়াছড়ি দীঘিনালার পরিচিত মুখ  সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট উপমা চাকম...
01/10/2026

ইউপিডিএফ এর হুমকির মুখে পাহাড়ি প্রতিবাদী তরুণী উপমা চাকমা।

খাগড়াছড়ি দীঘিনালার পরিচিত মুখ সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট উপমা চাকমা পার্বত্য অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং ইউপিডিএফ সংগঠনে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের দ্বিমুখী আচরণের বিষয়ে নিজ ফেসবুক Upama Chakma আইডিতে একটি গঠনমূলক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। পোস্টটিতে তিনি বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের নামে পরিচালিত কিছু কার্যক্রমের সমালোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থান্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে জানান যে, বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলনের মুখোশ উন্মোচন ও বস্তুনিষ্ঠ প্রশ্ন তোলায় ইউপিডিএফ-এর কিছু কর্মী তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি চাকমা ভাষায় আরেকটি পোস্টে পাহাড় অশান্ত করার যেকোন আন্দোলনে ছেলেমেয়েরা যেনো যেতে না পারেন সেজন্য পিতা-মাতাকে সজাগ দৃষ্টিতে রাখতে বলেন। পাহাড়কে একটি মহল অশান্তি করতে মরিয়া বলে তিনি পোস্ট ও ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে একজন নারীকে গঠনমূলক সমালোচনার জন্য হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন স্বাধীন মতপ্রকাশ রোধ করার প্রচেষ্ঠা হিসেবে বিবেচিত। ইউপিডিএফ সংগঠন সংশ্লিষ্ট কেউ যদি হুমকি দিয়ে থাকে তার দায়ভার অবশ্যই ইউপিডিএফকে বহন করতে হবে বলে মনে করেন, সচেতন মহল।

উপমা চাকমা শুরুতেই তাঁকে দেওয়া হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেন:
"আজ 'বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলন'-এর কালো ব্যানার ধারণ ও প্রতিবাদের সততা নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পর ইউপিডিএফ-এর কিছু কর্মী আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।"

তিনি ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের অবস্থানের বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন:
"যারা এতদিন ইউপিডিএফকে একটি 'স্বতন্ত্র সংগঠন' হিসেবে উল্লেখ করতেই প্রতিবাদ করতো, আজ তারাই ইউপিডিএফের পতাকা বহন করে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই দ্বিমুখী অবস্থানের ব্যাখ্যা কী?"

তিনি 'বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলন'-এর তথাকথিত নেতাদের উদ্দেশ্য করে লেখেন:
"বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন—এই অবস্থানের নৈতিক ব্যাখ্যা কী? অতীতের অবস্থান ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে, তার দায় কি তারা এড়িয়ে যেতে পারবেন?"

তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি ছাত্র আন্দোলনের বিরোধী নন, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেন বলির পাঁঠা না বানানো হয়। তিনি অতীত হিংসাত্মক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন:
"আমি সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে নই। ছাত্রদের ন্যায্য দাবি, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকারকে আমি সম্মান করি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন জুম্ম নারী হিসেবে অতীতের ঘটনাগুলো থেকে আমি যে বাস্তবতা দেখেছি, তা আমাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন থাকা আমার অধিকার।"

তিনি ২০২৪ সালের সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন:
"২০২৪ সালের দাঙ্গা-সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আমাদের বহু জনগোষ্ঠীর প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার প্রশ্ন—সেই ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে কি তথাকথিত একাত্তর নামধারী আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নেতারা তারা পরবর্তীতে কতটা দায়িত্ব নিয়েছেন? তাদের খোঁজখবর কি রাখা হয়েছে, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের পর বিষয়টি আড়ালে চলে গেছে?"

পোস্টের শেষাংশে তিনি সাধারণ ছাত্রসমাজকে কোনো দল বা সংগঠনের হাতিয়ার না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন:
"আন্দোলনের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয়—এ বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ অনুগত্য নয়; বরং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত নিজের বিবেক, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অতীতের শিক্ষা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া।"
"কোনো হত্যাকান্ড, উস্কানি বা অপরিকল্পিত রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যেন আর কোনো নিরীহ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন না হয়। আবেগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সচেতন থাকা প্রয়োজন।"

"অতীতের ভুল ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া অপরাধ নয়। বরং সেই অভিজ্ঞতা মনে রেখে ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক থাকা আমাদের সবার দায়িত্ব।"

তবে হুমকি নিয়ে একাধিক পোস্ট উপমা চাকমা ফেসবুক করলেও এর মধ্যে প্রধান পোস্টটি তিনি সরিয়ে নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে ফের হুমকির কারণে তিনি পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। এই বিষয়ে উপমা চাকমার বক্তব্য নিতে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এই নিয়ে খাগড়াছড়ির সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে লিপ্ত, ঠিক তখন উপমা চাকমার মতো সাহসী নারীদের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কোনো সন্ত্রাসী হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন তাঁর এই যৌক্তিক প্রশ্নগুলোকে খাটো করতে পারে না। পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের স্পষ্ট ও নিরপেক্ষ কণ্ঠস্বর অপরিহার্য।

পাহাড় জঙ্গলে অস্ত্রধারী জীবন কতকাল? নিজের জীবনের কাছে একবার প্রশ্ন করুন।পাহাড়ের যারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র হাতে জঙ্গলে জীব...
30/09/2026

পাহাড় জঙ্গলে অস্ত্রধারী জীবন কতকাল? নিজের জীবনের কাছে একবার প্রশ্ন করুন।

পাহাড়ের যারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র হাতে জঙ্গলে জীবন কাটাচ্ছেন, তাদের কাছে আজ একটি সহজ প্রশ্ন, এই জীবন কি সত্যিই আপনার কাঙ্ক্ষিত জীবন? অনেক তরুণ নানা স্বপ্ন বা কোনো সংগঠনের প্রভাবে অস্ত্রধারী জীবনে জড়িয়ে পড়ে। কেউ নিজের ইচ্ছায় এই পথে এসেছে, আবার কেউ ভয়, চাপ, প্রলোভন বা পরিস্থিতির কারণে সেই পথে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু একটা সময় এসে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই জীবন কি সত্যিই আমি চেয়েছিলাম?

একবার একটু গভীরভাবে নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখুন।

জঙ্গলে দিনের পর দিন থাকা, কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো ঝড়-বৃষ্টি, কখনো খাবারের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অভিযানের ভয়, রাতের পর রাত ঘুমহীনভাবে কাটানো এসব কি একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন হতে পারে?

সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো: এই জীবনে নিজের মা-বাবার পাশে থাকা যায় না, স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে প্রতিদিন তাকানো যায় না, ভাই-বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা যায় না। সন্তান বড় হচ্ছে, অথচ বাবা তার পাশে নেই। মা অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ছেলে কখন বাড়ি ফিরবে তিনি জানেন না। স্ত্রী জানেন না, আগামীকাল তার স্বামী বেঁচে থাকবেন কি না।

অস্ত্র হাতে থাকা মানে শুধু নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরো একটি পরিবারের অনিশ্চয়তা।

আর সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফসহ বিভিন্ন দল-উপদল অধিকারের কথা বলেই মানুষ থেকে চাঁদা নেয় আর সেই চাঁদার টাকা দিয়েই পাহাড়ের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে। সংঘাতের কারণে একে অন্যের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। কখনো প্রতিপক্ষ, কখনো সাধারণ মানুষ, কখনো পরিচিত মানুষও এই সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কত মা সন্তান হারাচ্ছেন, কত স্ত্রী স্বামীহারা হচ্ছেন, কত সন্তান পিতৃহারা হচ্ছে। একটি মানুষ মারা গেলে শুধু একটি জীবনই শেষ হয় না, তার সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎও ভেঙে পড়ে।

এভাবে আর কতদিন?

অধিকার, জুম্মল্যান্ড, কুকিল্যান্ড নামক আলাদা রাষ্ট্র, উন্নয়ন, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার কথা বলে পাহাড়ের বহু যুবককে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ বিশ্বাস থেকে গেছে, কেউ পরিস্থিতির চাপে গেছে, আবার কেউ হয়তো জোরপূর্বকও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু যারা আজ বুঝতে পারছেন যে এই জীবন তাদের জন্য নয়, তাদের জন্য ফিরে আসার একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পথ থাকা প্রয়োজন।

ফিরে আসা মানে পরাজয় নয়। ফিরে আসা মানে নিজের জীবনকে আবার নিজের হাতে নেওয়া।

বাংলাদেশে অতীতে সশস্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদাহরণ রয়েছে। সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ দেখিয়েছে, কেউ যদি অস্ত্র ছেড়ে সমাজে ফিরতে চান, তাহলে তাকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব।

পাহাড়ের ক্ষেত্রেও এমন একটি মানবিক ও আইনসম্মত পথ তৈরি করা যেতে পারে।

যারা সত্যিকার অর্থে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট পুনর্বাসন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তির অপরাধ ও মামলার ধরন অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির সুযোগ, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

কারণ একজন সাবেক অস্ত্রধারীকে যদি শুধু তার অতীত দিয়ে বিচার করা হয়, তাহলে তার সামনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু তাকে যদি নতুন জীবন শুরু করার বাস্তব সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে নিজের পরিবারকে বাঁচাতে পারে, সমাজের একজন উৎপাদনশীল মানুষ হতে পারে এবং পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

যারা এখনো জঙ্গলে আছেন, তাদের উদ্দেশে একটি কথা:

একটু নিজের জীবনের কথা ভাবুন, আপনার হাতে যে অস্ত্র, সেটি হয়তো আপনাকে শক্তিশালী মনে করাচ্ছে। কিন্তু এই অস্ত্র কি আপনার মায়ের চোখের পানি মুছতে পারছে? আপনার সন্তানের পাশে বসতে পারছে? আপনার স্ত্রীকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ দিতে পারছে? আপনার নিজের বৃদ্ধ বয়সের নিশ্চয়তা দিতে পারছে?

অস্ত্র আপনাকে একটি সংগঠনের সদস্য করতে পারে, কিন্তু আপনাকে একটি সুখী পরিবার দিতে পারে না।

আজ আপনি পাহাড়ের জঙ্গলে আছেন। কিন্তু দশ বছর পরে কোথায় থাকবেন? আপনার সন্তান তখন কীভাবে আপনাকে দেখবে? আপনার পরিবার কি আপনাকে পাশে পাবে? আপনার জীবন কি শুধু পালিয়ে বেড়ানো, ভয়, সন্দেহ এবং সংঘাতের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে?

জীবন একবারই পাওয়া যায়।

এই জীবন শুধু কোনো সংগঠনের ইচ্ছার জন্য নয়। এই জীবন আপনার নিজের, আপনার বাবা-মায়ের, আপনার স্ত্রী-সন্তানের, আপনার ভাই-বোনের।

আপনি যদি সত্যিই এই জীবন থেকে বের হয়ে আসতে চান, তাহলে প্রথম সিদ্ধান্তটি আপনাকেই নিতে হবে।

“আমি আর অস্ত্রের জীবন চাই না। আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমি স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।”

কেউ হয়তো বলবে, “তুমি বের হতে পারবে না।”

কিন্তু মনে রাখবেন, পরিবর্তনের প্রথম দরজাটি মানুষের নিজের মনেই খুলে যায়।

আপনি যদি নিজের মন ঠিক করেন এবং সত্যিই অস্ত্র ছেড়ে দিতে চান, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে আপনার সেই সিদ্ধান্তকে নিরাপদ ও আইনসম্মতভাবে বাস্তব জীবনে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

পাহাড়ের যুবকদের হাতে অস্ত্র নয়, কলম, বই, কৃষির সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকা উচিত।

জঙ্গলের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা নয়, পরিবারের সঙ্গে আলোয় বসে খাবার খাওয়াই হোক জীবনের আনন্দ।

ভয় নিয়ে রাত কাটানো নয়, নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখাই হোক জীবনের লক্ষ্য।

আজ যে যুবক অস্ত্র হাতে নিয়েছে, আগামীকাল সেই যুবকই একজন শিক্ষক, কৃষক, উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কর্মকর্তা কিংবা দক্ষ পেশাজীবী হয়ে নিজের পরিবার ও পাহাড়ের মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।

একটি ভুল পথ মানুষের পুরো জীবনকে শেষ করে দিতে পারে। আবার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত সেই জীবনকে নতুন করে শুরু করার সুযোগও দিতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেকে ইউপিডিএফ (মূল) দল ও জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সংঘাতে এক নিষ্পাপ শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর কোন...
30/09/2026

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেকে ইউপিডিএফ (মূল) দল ও জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সংঘাতে এক নিষ্পাপ শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না; এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক। পাহাড়ে শান্তির বদলে এ ধরনের সংঘাত কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এই গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষ আজ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাজেকের পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে। আধিপত্য বিস্তারের এই রক্তক্ষয়ী দায় সাধারণ মানুষ কেন বইবে? অবিলম্বে পাহাড়ে এই সহিংসতা বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। আহত শিশুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

Address

Fulbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Save CHT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category