07/06/2024
আমাদের গর্ব❤️
A.Aziz family
Sumon Akram
গল্পটা এমনিভাবে চলতে পারত- ডিপ্লোমার পরে চাকরি ও বিএসসি, এরপরে আবার কোনো একটা চাকরি। উদ্দেশ্য- জীবনের একটু ভালো মান নিশ্চিত করা! তবে সুমন আকরামের লক্ষ্য বদলাতে শুরু করে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সাথে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে কর্মজীবন শুরু করে তিনি এখন জার্মানির বিখ্যাত মিলিটারি (বুন্দেসভেয়ার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স ল্যাবে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।
শুরুটা করা যাক সুমন আকরামের ভাষ্যেই-
“গাইবান্ধার অবহেলিত নদীভাঙ্গন কবলিত গ্রামে আমার বেড়ে ওঠা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, বাবার হাই স্কুলের চাকুরির সামান্য আয়ে বেশ অভাব-অনটনে কাটে আমার শৈশবকাল। বাড়ির পাশে কড়াইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী শেষ করি (বৃত্তিসহ) ২০০১-২০০৫। পরে ২০০৬ সালে বাবা যে স্কুলের সহকারি শিক্ষক সেখানে মানে কামারজানি মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হই। নিজের প্রবল ইচ্ছে ছিল আইনজীবী হবো তাই বাবার ইচ্ছে ডাক্তারি পড়ানোর কথা কানে তুলিনি, কারন আমি ভাল করেই জানতাম আমাদের অর্থনৈতিক দৈন্যতার কথা। ২০১১ সালে এসএসসির পরে হঠাৎ করেই পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার ইচ্ছে জাগে। কম্পিউটার সাইন্সে রংপুর পলিটেকনিকে চান্স পাই।
তখন সবার পরামর্শে আইনজীবী-ডাক্তারী সব চিন্তা বাদ দিয়ে শুরু করি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং। মেজো ভাইয়ের সহযোগীতায় ইনটার্নশীপের সুযোগ পাই ঢাকার ফ্লোরা টেলিকমে। এরপরে সিদ্ধান্ত নিলাম দেশের কোন একটি আইটি কোম্পানীতে ম্যানেজারিয়াল পদে কাজ করতে পারলেই আমার জীবন ধন্য হবে। এ লক্ষ্যে চাকুরি শুরু করি ওয়ালটনে আইটি অফিসার হিসেবে। রাতে বিএসসির ক্লাস, দিনে চাকুরি।” ২০১৬ থেকে Prime University তে Computer Science and Engineering-এ ব্যাচেলর পড়া শুরু করেন তিনি।
বিএসসিতে পড়াকালীন ২০১৬ সালেই Uttara University তে ল্যাব সহকারী হিসেবে যোগ দেন তিনি। লক্ষ্য স্থির করেন এবার দেশের সেরা দশ কোনো প্রাইভেট বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করবেন। ২০১৭ তে এসে যোগ দেন নামকরা University of Asia Pacific-এর ইইই-র কম্পিউটার ল্যাবে। বেতন-ছুটি-সুন্দর পরিবেশ সব মিলে জীবন বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু ওই যে, আরো ভালো কিছু করার ইচ্ছে! এই ইচ্ছেই যেন মানুষকে নিয়ে যায় আরো উঁচুতে। আর সুমন আকরামকে নিয়ে গেল জার্মানিতে।
ভার্সিটির লেকচারারদের দেখে ইচ্ছে জাগে তিনিও যাবেন বাইরে পড়তে। ব্যাস, শুরু করে দেন প্রস্তুতি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে বিএসসি শেষ করেন। তারপরে শুরু করেন আবেদন। এশিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পেলেও তার লক্ষ্য ছিল ইউরোপ। শেষমেশ জার্মানি থেকে অফার লেটার আসলেও, করোনার কারণে পড়তে হয় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায়। এরপর দীর্ঘ ২৫ মাস অপেক্ষার পরে জার্মানি চলে আসেন তিনি। ২০২২ সালের শীতকালীন সেমিস্টারে Berlin University of Applied Sciences (BHT)-তে Information and Communications Engineering মাস্টার্স শুরু করেন তিনি। মাস্টার্স চলাকালীন অল্প কিছুদিন তিনি বেকার থাকেন। তখন লোকাল একটি রাইডিং কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করলেও ‘আনফিট’ কারণ দেখানোয় চাকরি হয়নি আর।
হতাশ হলেও দমে যাননি। বাইরের ‘অড জবের’ খোঁজ বন্ধ করে নিজ ডিপার্টমেন্টেই চাকরি খোঁজা শুরু করেন। সব মিলে তিনমাস যেতে না যেতেই ওয়ার্কিং স্টুডেন্ট জব হিসেবে প্রথম চাকরির ডাক পান বাংলাদেশসহ ১৫০ দেশে পরিচালিত বিখ্যাত কোম্পানী Deloitte GmbH থেকে। ২০২৩ এর মাঝে এসে স্টুডেন্ট এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পার্ট টাইম জবে যোগ দেন Technical University of Darmstadt-এ। পড়াশোনা আর পার্ট টাইম জব করে মাস্টার্স যখন শেষের দিকে তখন শুরু করেন ফুলটাইম জব হান্টিং৷
অবশেষে পেয়েও যান নিজের অবিরাম চেষ্টার ফলাফল। সুমন আকরাম এখন জার্মানির বিখ্যাত মিলিটারি বিশ্ববিদ্যালয় - Universität der Bundeswehr München-এর রোবটিক্স ল্যাবের ইঞ্জিনিয়ার। গত বছরের ১লা ডিসেম্বর থেকে তিনি শুরু করেন তার নতুন যাত্রা। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার থেকে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার, সব মিলিয়ে এ যেন রোমাঞ্চকর এক যাত্রা - যা শুরু হয় আরো কিছু ভালো করার ক্ষুধা দিয়ে!
Short Stories | Short Stories Community

03/03/2024
14/11/2023
06/02/2021
31/12/2020
09/11/2020