বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা প্রকৌশল  বিশ্ববিদ্যালয় ।

Share

23/05/2025

আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য ভাইয়েরা, অনুগ্রহ করে আগামী এক সপ্তাহ ফুল হাইবারনেসনে থাকেন। এটাই মঙ্গল। কুত্তায় হাড্ডি নিয়া মারামারি করছে করুক, আপনি মাংশ হয়ে আপাতত হাজির হওয়ার চেষ্টাই কইরেন না। দড়ি ছিড়ে ওগুলা খাওয়া হবে।

সংগ্রহীত:

আওয়ামী লীগরে কনফ্রন্টেশনে নামাইয়া ওদের সবাইরে ঐক্যবদ্ধ কইরা দিয়েন না।

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দখল এর নামে যারা তৃন্মূলকে উষ্কে দিচ্ছেন, তারা দলের ক্ষতি করতেছেন।

ট্র‍্যাপে পরবেন জাস্ট।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এর বর্তমান অবস্থা, ফাদ পেতে অপেক্ষা করছে। সারা দেশের শিবিরও কিন্তু ঢাকায়....

"২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। ১০০ পুলিশ সোনালী ব্যাঙ্ক -অগ্রনী ব্যাঙ্কের পাশে, ৬ টা পুলিশের গাড়ি, পার্টি অফিসের অপজিটে পুলিশ, কাপড়ের দোকানে পুলিশ, জিরোপয়েন্টে, ক্লাবের গেইটে ---! ছাত্র দল মিছিল করলো কেবল সামনে দিয়ে"

01/08/2023

কলঙ্কময় শোকের মাস।
=========================
তোমার নাভিমূলে লুকানো ছিলো বিশ্বনিখিলের প্রকৃষ্ট সূর্যকিরণ। মন-মনন-মনীষার সঠিক প্রয়োগে ধীরে ধীরে তা’ মিশেগেলো তোমারই মহত মস্তিষ্কে। সুদর্শন তুমি বিচক্ষণ তুমি ; তুমি নির্ভীক কবি। মা-মাটি-মানুষের অনুভব ও মর্মসত্যকে ধারণ করে, রেসকোর্সে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে ছড়িয়ে দিলে : সূর্যমাখা উত্তাপ, বাস্তবানুগ শুবুদ্ধি আর লাবণ্যময় চেতনা বাঙালির মগজে-মগজে। উদ্বুদ্ধ বাঙালি ছিনিয়ে আনলো স্বাধিকার। তোমার লালিত স্বপ্ন লালিত দর্শন খুঁজে পেলো আপনভূবন। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা তুমি ; তুমি বাঙালির জনক ও পথ-প্রদর্শক। আমাদের আত্মার পরম আত্মীয়।

আজো তোমার সফেদ পাঞ্জাবির ‘পর হৃদপিন্ডজুড়ে যখন দেখি রক্তবলয়িত ভোরের সূর্য; ব্যথার আগুনে কলকল ক’রে ওঠে বুক ; বুক ভ’রে ওঠে কালো অশ্রুজলে। অশ্রুবিন্দুতে ভ’রে যায় সব বাংলার মাঠ ঘাট জনপদ। মাতৃভূমির মাটিতে যতোদিন র’বে নিসর্গ বিদ্যমান, জনয়িতা, তোমার অস্তিত্ব র’বে বাঙালি হৃদয়ে সতত বিরাজমান— বন্ধু তুমি, পিতা তুমি শেখ মুজিবুর রহমান।

13/04/2020

নববর্ষের প্রাক্কালে গনতন্ত্রের মানসকন্যা , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন প্রদান করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুরো ভাষণ----

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী,
আসলামু আলাইকুম।

১৪২৭ বঙ্গাব্দের নববর্ষের শুভেচ্ছা। দেশে-বিদেশে - যে যেখানেই আছেন - সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।
বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।
আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কাল্রাতে ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বঁধু - সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে।
বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে।
ইতঃপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করবো।
প্রিয় দেশবাসী,
আমরা ঘরে বসেই এবারের নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করবো। কবিগুরুর কালজয়ী গান ‘‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নি¯œানে শুচি হোক ধরা” গেয়ে আহ্বান করবো নতুন বছরকে। অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যত।
করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই:
মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়
আড়ালে তার সূর্য হাসে,
হারা শশীর হারা হাসি
অন্ধকারেই ফিরে আসে।
সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রবাসে বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করে থাকেন। রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে এদিনটি। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে উঠে।
এবার সবাইকে অনুরোধ করবো কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজ-সহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।
প্রিয় দেশবাসী,
চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে।
আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। যে সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন ইতোমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।
সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য আমি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়োজিত পুলিশ-সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী আনা-নেওয়ার কাজে এবং মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীগণসহ জরুরি সেবা কাজে যাঁরা নিয়োজিত রয়েছেন, তাঁদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রিয় দেশবাসী,
করোনাভাইসের কারণে গোটা বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আভাস দিচ্ছে।
আপনারা জানেন, এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কোয়ারেন্টিন বা সঙ্গনিরোধ। অর্থাৎ নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা। বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দি। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কার্ফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও গত ২৫-এ মার্চ থেকে ২৫-এ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-খাটো কারখানা বন্ধ।
গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমাদের আমদানি-রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাইবোনেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে।
আমরা বিশ্ব ব্যবস্থার বাইরে নই। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুঃচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা জানিনে, এই সঙ্কট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপি’র ৩.৩ শতাংশ।
করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে আমরা চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছি। যা অবিলম্বে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে, স্বল্প-মেয়াদে -আগামী অর্থবছরে এবং মধ্য-মেয়াদে - পরবর্তী তিন অর্থবছরে - এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। চারটি কার্যক্রম হচ্ছে:
(১) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা: সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘কর্মসৃজনকেই’ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
(২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন: অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য।
(৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি: দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে।
(৪) মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা: অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।
বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসমূহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি করোনাভাইরাসজনিত কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সুরক্ষায় যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে:
(১) স্বল্প-আয়ের মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
(২) শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

(৩) দিনমজুর, রিক্সা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্র্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্র্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যাঁরা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লক-ডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এখাতে ৭৬০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
(৪) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘বয়স্ক ভাতা’ ও ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা হবে। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা।
(৫) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এ বাবদ সর্বমোট ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। কেউ গৃহহীন থাকবেন না।
শিল্পখাতে যে সব আর্থিক প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, ঊীঢ়ড়ৎঃ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঋঁহফ-ইডিএফ-এর সুবিধা বাড়ানোর জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, চৎব-ংযরঢ়সবহঃ ঈৎবফরঃ জবভরহধহপব ঝপযবসব- এর আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা।
প্রিয় দেশবাসী,
এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলিতে যাতে কোনপ্রকার খাদ্য সঙ্কট না হয়, সেজন্য আমাদের একখ- জমিও ফেলে রাখা চলবে না।
এজন্য কৃষি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণের ঘাটতি যাতে না হয় এবং সময়মত কৃষকের হাতে পৌঁছে - সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।
কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য চলতি মওসুমে গত বছরের চেয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান ক্রয় করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল হতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের কৃষি, মৎস্য, ডেইরি এবং পোল্ট্রি খাতে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ প্রদান করা হবে। কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোন খাদ্য সঙ্কট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে।
আল্লাহর রহমতে গত মওসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মওসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। তবে, এসব ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা বিচ্ছিন্নভাবে না বিলিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে শৃঙ্খলার সঙ্গে বিতরণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যাবে। আমি বিত্তবানদের এই সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাবস্থায় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সঙ্কটকালে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।
আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই মহামারী মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করুন।
যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়। বিদ্রোহী কবির ভাষায় তাই বলতে চাই:
ঐ নূতনের কেতন ওরে কাল-বোশেখীর ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন- জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!
প্রিয় দেশবাসী,
বাঙালি বীরের জাতি। অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মোকাবিলা করেছে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সস্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।
নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা, মহামারীর এই প্রলয় দ্রুত থেমে যাক। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সবাইকে আবারও নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

Photos from বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা প্রকৌশল  বিশ্ববিদ্যালয় ।'s post 15/11/2019

সকলকে অভিনন্দন ও মুজিবীয় শুভেচ্ছা...

03/11/2019

মুক্তিযুদ্ধ আজও গৌরব এবং অহংকারের দ্বিপ্তি ছড়াতে পারেনা। মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবার প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। কিছুদিন আগেই মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার নিয়ে ট্রল হয়েছে। গুপ্তঘাতকদের এদেশে আজ প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শ, দল এবং জনসমর্থন রয়েছে। এই শক্তি কি কোনদিনও নিঃশেষ হবে? আমরা কি কোনদিনও আশংকামুক্ত হবো?

যা আজ দেখছি, জানতে পারছি, দেশ যেখানে দাড়িয়ে এটা মিরাকল। মিরাকলের নাম শেখ হাসিনা। কোনোভাবেই, কোনো হিসাবেই যে মানুষটির ২০১৯ সালে বেঁচে থাকারই কথা নয়!!

আজ বাঙালী জাতির আরেকটি গভীর শোকের দিন ! বাঙালী জাতিসত্ত্বা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিতর-বাহির করায়ত্ব করে পাকিস্তান কনফেডারেশনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথে ঘাতকরা রাতের আঁধারে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসের জঘন্যতম আরেকটি (পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড এবং তিনমাসের মধ্যে দ্বিতীয়) হত্যাযজ্ঞ ঘটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

বুলেটে ঝাঝড়া করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকে সুনিপুনভাবে পরিচালনা করা প্রধান চার কুশিলবকে। লাশের উপর প্রশ্রাব করে, লাশ থেকে হৃদপিন্ড, নাড়ি-ভুড়ি ছুড়ে, নৃত্য করে, বেয়নেট খুচিয়ে করা হয় অানন্দ উদযাপন।

আর হ্যা, জানেন তো? এই হত্যাকান্ড এবং এই সম্পর্কিত নথিপত্র এমনভাবে ধ্বংশ করা হয়েছে যে, কিছুদিন আগেও আমরা নিশ্চিত ছিলাম না হত্যাকান্ড ২তারিখে, ৩ তারিখে নাকি ৪ তারিখে ঘটানো হয়েছে!!! হত্যাকান্ডের কুশিলব আমাদের স্বজাতি।

১৯৫২ সালে ভাষার লড়াইয়ে পরাজিত, ১৯৬৪তে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরাজিত এবং ১৯৭০ সালে ক্ষমতার লড়াইয়ে পযদুস্থ পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী অস্ত্রের ভাষায়, রক্তের কালিতে, নিষ্ঠুরতার প্রলয়ে এই অঞ্চলে পশ্চিমা শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিল। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় পশ্চিমাগোষ্ঠি অস্ত্রের ভাষায় শাসনের সিদ্ধান্ত নেয়।

রক্ত, জীবন, সাহসিকতা দিয়ে বাঙালী যে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে তা ছিল হায়েনাদের জন্য অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য এবং নির্বাচনের ফলাফলের মতোই অনভিপ্রেত।

এটুকু পর্যন্ত যা হয়েছে, সবকিছুতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্টির রাজনৈতিক অপরিক্কতা, লিপ্সা এবং প্রতিহিংসার ধারাবাহিকতায় খুব কমই ঘাটতি পাওয়া যায়। এখনো ওখানকার রাজনীতি!, নেতৃত্বের, রাষ্ট্রের কি অবস্থা অামরা সবাই জানি। ওদের স্বভাবিক রাজনৈতিক চরিত্র অনুযায়ী যুদ্ধ আরও কিছুদিন প্রলম্বিত হওয়ার কথা এবং ওদের ক্যাজুয়ালিটি পঞ্চাশ হাজারের মতো হওয়া উচিৎ ছিল।

কিন্তু; কি কারনে হঠাৎ যুদ্ধের মাঠ থেকে শর্তহীন আত্নসমর্পন করেছিলো পাকিস্তান? শুধুমাত্র জেনারেল জ্যাকবের বাকপটুতায় ধরাশায়ী হয়ে নিয়াজী আত্ন-সমর্পনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো? জাতিসংঘ কিছুদিন যুদ্ধ বন্ধ ( সিজ ফায়ার) রাখার জন্য প্রবলভাবে চেষ্টা করছিলো যা পাকিস্তান রাজী না হওয়ার কারনে সম্ভব হচ্ছিলো না! সেই বিষয়ে আলোচনা করতে জেনারেল নিয়াজির অফিসে গিয়েছিলেন জেনারেল জ্যাকব। উনি ফিরে আসেন নিয়াজীকে অাত্ন-সমর্পনে রাজী করিয়ে!! এখানে ইতিহাসবেত্তারা কেনো ম্যাগনিফাইং গ্লাস কেনো ধরছে না?

যতবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, পাকিস্তানের ইতিহাস, স্বাধীনতা পরবর্তী এদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা-প্রবাহ পড়ি, শুনি বা বুঝার চেষ্টা করি প্রতিবারই আমার কাছে ১৬ই ডিসেম্বর মিথ বলে মনে হয়। মনে হয়, অনেক বড় একটা ধোঁকাবাজী হয়েছে আমাদের সাথে। এই একটা মিথ/ সমীকরন সঠিকভাবে বিশ্লেষন না করার কারনে, বুঝতে না পারার কারনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে। চার জাতীয় নেতা হত্যাকান্ড, হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা, কিবরিয়া হত্যা, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রক্ষমতা সম্ভোগ, আজও হায়েনার দল ও তাদের অনুসারীদের দাম্ভিকতা, ষড়যন্ত্র সব একই পথে এগিয়েছে।

ভারতের সাথে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়ার পর পাকিস্তানি মস্তিস্কে অবশ্যই বাহিরেরর কোন সুহৃদ পাকিস্তানের গাঁজাখুরি এবং ভ্রান্ত মাস্টারপ্লানটি একটু সংশোধন করে দেন। এটা সম্ভবত ডিসেম্বরের ৪-৬ তারিখের দিকে হবে। দিকভ্রান্ত, সকলদিকেই নিস্চিত পরাজয় এবং ধ্বংশের শংকায় থাকা পাকিস্তানি জানোয়ারগুলো বুঝে হোক অথবা না বুঝে ওদের সামগ্রীক রাজনৈতিক ইতিহাসে দ্বিতীয়বার সফলতা লাভ করে। ( প্রথমবার অবশ্যিক ভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে দ্বিজাতিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে জন্মদিতে পারা)।

ওরা স্বাধীন বাংলাদেশের একটা পোট্রেট তৈরী করে। এই পোট্রেটে কে কোথায় কিভাবে থাকতে পারে তার তালিকা করে। সেই তালিকা মোতাবেক পরের কয়দিন চলে নিধনযজ্ঞ। স্বাধীনতা অনিবার্য মেনে রাষ্ট্র দখলের যে মাস্টার প্লান করা হয় সেখানে শত্রুর ধ্বংশ এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন দুটোই যুগপৎ ঘটানো সম্ভব। অসাধারন!!!

প্রাথমিক সাফল্য, কোনরুপ বিচার, শর্তছাড়া সকল সেনা ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। যা কিছু মুহুর্ত আগেও ছিলো অসম্ভব।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই, যে মৌলিক বিষয়গুলো অর্জনের প্রয়াসে ত্রিশলক্ষ জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল; বাংলাদেশ নাম ব্যতীত রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্য সকল মৌলকতায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয় এবং পরাজিত শক্তি নিজেদের স্থলাভিষিক্ত করে!!

রাষ্ট্রের ঊষালগ্নে তালিকা করে কর্মপটূ এবং দেশপ্রেমী বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে ফাঁকা করা হয় রাষ্ট্রযন্ত্রের এবং জাতিসত্বার সকল মৌলিক কূঠুরীসমুহ। এই মাস্টারস্ট্রোকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের মৌলিক রক্ষাকবচ চৌকিগুলোর পূর্ন- নিয়ন্ত্রন নেয় পাকিস্তানের গুপ্তচরেরা ।

শেখ মুজিব সহ বাঙালী চেতনার যে বীঁজ সমূলে উৎপাটনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন কত সহজেই না বাস্তবায়িত হয়! বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়।

সদ্য স্বাধীনদেশে বাঙালী জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সলীল সমাধী ভস্মীভূত করা হয় গৌরবের ইতিহাসকে পরিবর্তন এবং কুশীলব প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। পাকিস্তানি জানোয়ার গুলো এদেশের পাঠ্যবইয়ে হয়ে যায় "পাক-বাহিনী"।!!

অসাম্প্রায়িক, তেজদীপ্ত, আত্ননিয়ন্ত্রনের স্বপ্নে বিহব্বল জাতিকে যুদ্ধের মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরের মাথায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দাওয়াই, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ দুটি শব্দ বাঁদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নতুন ইতিহাস, ধর্মতন্ত্র ভিত্তিক নতুন জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাষ্ট্রমঞ্চে আসেন মহান বীর, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো যাঁর স্বাধীনতার ঘোষনায় সমগ্র বাঙালী ঐক্যবদ্ধ মুক্তি-সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পথ-প্রদর্শক।

তিঁনি স্বাধীনতাবিরোধী ও শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র, চোরাকারবারী, সুযোগসন্ধানী ধনাট্য, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী একিভূত করে সামরিক পোশাকে বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। আইন করে বন্ধ ঘোষনা করেন সকল হত্যার বিচার।

নতুন জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার পথে পরের চার বছরে হত্যা করেন একাত্তরের সন্মুখ রনাঙ্গনে বাঙালী জাতীয়তাবাদের জন্য লড়াই করা সামরিক- বেসামরিক সাড়ে চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা। কারাবাস, বাস্তুচ্যুতি, অপঘাতের মাধ্যমে নির্যাতিত করা হয় প্রায় পয়ত্রিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

প্রনোয়ন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা!

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ তালিকা যখন প্রনোয়ন করা হয়, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন প্রখ্যাত রাজাকার, পাকিস্তানের এদেশীয় বিস্বস্ত সহচর শাহ আজিজ। মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তি, যাচাইকরনের কাজটি পরিচালিত হয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুদ্ধের পূর্বেই পাকিস্তানের পক্ষগ্রহন করা এবং একাত্তরের পুরোসময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর অন্যতম রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের মিত্র মুসলিম লীগ। আজিজ সম্পর্কে এখানে বলতে গেলে লেখা বড় হয়ে যাবে। আপনারা উইকি বা গুগল করবেন প্লিজ।

আপাতত সমীকরন এ পর্যন্তই। আবার কখনো মন চাইলে লিখবো।

"তোঁমাদের রক্ত ধূলোয় লুটোয়নি,
জীবন হয়নি নশ্বর,
দ্রোহের মূর্ছনায় শাণিত প্রজন্ম,
শকুনীরা আজ ভস্মর"

আব্দুল্লাহ আল মাসুম,
সাবেক সভাপতি, ডুয়েট ছাত্রলীগ।

02/08/2017

ডুয়েট ছাত্রলীগের হল কমিটির জন্য জীবন বৃত্তান্ত ফরম সোহেল ফটোকপিতে ও পদ্মা ফটোকপিতে পাওয়া যাবে, যারা যারা ইচ্ছুক, তাদেরকে ফরম পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (দপ্তর সম্পাদক /উপদপ্তর সম্পাদক ) বরাবর জমা দেওয়ার আহবান জানানো হলো।

আল আমিন
দপ্তর সম্পাদক
ডুয়েট ছাত্রলীগ

31/07/2017

নোটিশ

আজ রাত ০৯ঃ০০ ঘটিকায় ডুয়েট ছাত্রলীগের মিছিল অনুষ্ঠিত হবে ।

ডুয়েট ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দ, ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্টের সকল নেতৃবৃন্দকে যথা সময়ে কে.এন.আই হলে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান করা হইলো ।

Photos 30/07/2017
Want your business to be the top-listed Government Service in Gazipur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka University Of Engineering & Technology
Gazipur
1700