Guruchand Thakur

Directions

Guruchand Thakur খাওবা বা না খাও তাতে কোন দুঃখ নেই।
ছেলে মেয়েকে শিক্ষা দাও এই আমি চাই।।

হরিলীলামৃত ছাপানোর ইতিহাস বিভ্রান্তিকর কেন?(এটা কি কারো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করা হয়েছে?)লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়     ...
08/08/2026

হরিলীলামৃত ছাপানোর ইতিহাস বিভ্রান্তিকর কেন?
(এটা কি কারো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করা হয়েছে?)
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
মতুয়াধর্ম দর্শনের প্রধান আকর গ্রন্থ ‘শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত’ কিভাবে ছাপানো হয়েছিল, সেকথার বিস্তারিত উল্লেখ আছে দ্বিতীয় আকর গ্রন্থ, ‘শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিত’-এ। কিন্তু তৃতীয় আকর গ্রন্থ ‘সোনার মানুষ গোপাল সাধু’-এর সঙ্গে ২য় আকর গ্রন্থের ‘হরিলীলামৃত ছাপানোর ঘটনার অনেক বৈপরিত্য দেখা যায়। যদিও ২য় ও ৩য় আকর গ্রন্থের কবি একজন। আচার্য মহানন্দ হালদার। যাইহোক আসুন আমরা এই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিচার বিশ্লেষণের চেষ্টা করি।
‘শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিত’- কবি মহানন্দ হালদার- ১ম প্রকাশ ১৯৪৩ সাল। আমার কাছে আছে ৫ম সংস্করণ ২০০৯ সাল, এই গ্রন্থের পৃ. ৩৩৭-৩৩৮ অনুসারে আমরা দেখতে পাই।
প্রভু তবে ডাক দিয়া কহে হরিবরে।
“চলে যাও কলিকাতা গ্রন্থ ছাপিবারে।।
সুধন্য, গোপাল আর তুমি একজন।
তিন জনে এক সঙ্গে করহ গমন।।”
প্রভুর আজ্ঞাতে তিনে তখনি ছুটিল!
পরদিনে কলিকাতা উপস্থিত হ’ল।।
পাণ্ডুলিপি প্রেসে দিলে গণ্ডগোল হয়।
প্রেস’য়ালা বলে “ইহা ছাপা নাহি যায়।।”
কারণ জিজ্ঞাসা করে সুধন্য কুমার।
প্রেস বলে “এক স্থানে আপত্তি আমার।।
নমঃশূদ্র ঘরে এল স্বয়ং ভগবান।
এই কথা ছাপিবারে নাহি বলে প্রাণ”।।
বহু তর্কাতর্কি পরে তবে রাজী হ’ল।
ছলে বলে কিছু টাকা বেশী নিয়া নিল।।
ছিদাম মুদির লেনে ছিল এক প্রেস।
এতদিনে তাহা বুঝি হইয়াছে শেষ।।
“শাস্ত্র প্রচার প্রেস” নাম বলি কয়।
দুই মাসে ছাপানর কার্য শেষ হয়।।
তের’শ তেইশ সালে গ্রন্থ ছাপা হ’ল।
প্রতিখণ্ড তিনটাকা মূল্য রেখে দিল।।

আর এই একই কবি অর্থাৎ আচার্য মহানন্দ হালদার রচিত গ্রন্থ “সোনার মানুষ গোপাল সাধু” – ১ম প্রকাশ ১৯৯২, আমার কাছে আছে ২য় সংস্করণ ২০০৮, এই গ্রন্থে (অখণ্ড সংস্করণ) পৃ. ৪৩৭ ও ৪৩৯ তে দেখতে পাই-
“তুমি যাবে হরিবর, আর যাক যজ্ঞেশ্বর,
আরো সাথে লইবে গোপালে।।” পৃ.৩৩৭
“অর্থ শুধু কথা নয়, এ গ্রন্থে যা’ লেখা রয়,
ছাপালে তা’ হ’তে হবে খুন।।”
***********
“মোদের রয়েছে জানা, ধর্মগ্রন্থ এইখানা,
তাতে দোষ ভেবে হারা দিশে।।”
ছাপাখানা ছিল যার, খুলে বলি পরিস্কার,
“কারণ ত’ তোমরা জান না।
লেখা আছে এই গ্রন্থে, কলিযুগ শেষপ্রান্তে,
অবতার করেছে কল্পনা।।
তা’ আবার কোনঘরে, টানিয়াছে সে ঈশ্বরে,
অতি ক্ষুদ্র নমঃশূদ্র ঘরে।
এই কথা যদি ছাপি, এক হ’ব মহাপাপী,
অপরাধী হ’ব তার পরে।।
অন্য অন্য জাতি সব, করে মহা কলরব,
আমাকে ধরিবে সবে বেড়ে।
***************
সাতদিন পরে বুঝে, অর্থ তার পায় খুঁজে,
কিবা করে উপায় এখন?
মুকুন্দ মল্লিক ধন্য, নমঃশূদ্র অগ্রগণ্য,
তাঁর কাছে করিল গমন।।
সব কথা বলে তাঁরে, জিজ্ঞাসিল কি প্রকারে,
ছাপা হবে লীলা গ্রন্থখানা।
*****************
যাহা হোক একখানে, ছিদাম মুদির লেনে,
ছাপাখানা আছে একখান।
নামেতে শাস্ত্র প্রচার, ছাপাখানা হয় যার,
জানি তিনি জাতিতে খ্রীষ্টান।।
সেইখানে গেলে পরে, মনে বলে হতে পারে,
চেষ্টা করে দেখুন সেথায়।
খ্রীষ্টানেরা কেহ আর, ধারে না এসব ধার,
কাজ করে যদি টাকা পায়।।’’
সেইখানে লেখা দিতে, মালিক সন্তুষ্ট চিত্তে,
পাণ্ডুলিপি করিল গ্রহণ।
মুল্যাদি সাব্যস্ত হলে, তিনজনে হরিবলে,
ওড়াকান্দি ফিরিল তখন।।
গ্রন্থ ছাপা হ’ল শেষ, মতুয়ার মনোক্লেশ,
দূর হ’ল প্রভুর কৃপায়। (পৃ. ৪৩৯)
আমরা প্রথমে দেখতে পাচ্ছি-
(১)গুরুচাঁদ ঠাকুর হরিবর সরকার, সুধন্য ও গোপালকে বই ছাপানোর জন্য যেতে বলছেন। কিন্তু পরের বইতে দেখতে পাচ্ছি- হরিবরের সঙ্গে যজ্ঞেশ্বর ও গোপালকে নিয়ে যেতে বলছেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। তো সুধন্য ও যজ্ঞেশ্বরকে নিয়ে একটা বিভ্রান্তি ঘটছে। যদিও এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
(২) তের’শ তেইশ সালে গ্রন্থ ছাপা হ’ল।
প্রতিখণ্ড তিনটাকা মূল্য রেখে দিল।।
কিন্তু ১৩২৩ সালের ছাপানো গ্রন্থে আমরা দেখতে পাই মূল্য ধার্য করা হয়েছে ২ টাকা।

(৩) বহু তর্কাতর্কি পরে তবে রাজী হ’ল।
ছলে বলে কিছু টাকা বেশী নিয়া নিল।।
প্রথম বইতে, বই ছাপানোর জন্য অনেক তর্কাতর্কির পরে কিছু টাকা বেশি নিয়ে বই ছাপাতে রাজী হওয়ার কথা পাই। কিন্তু দ্বিতীয় বইতে এই ধরণের কোনো সম্ভাবনারও উল্লেখ দেখতে পাইনা। বরং-
খ্রীষ্টানেরা কেহ আর, ধারে না এসব ধার,
কাজ করে যদি টাকা পায়।।’’
সেইখানে লেখা দিতে, মালিক সন্তুষ্ট চিত্তে,
পাণ্ডুলিপি করিল গ্রহণ।
দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় বইতে- মুকুন্দ মল্লিকের নির্দেশ মতো ছিদাম মুদি লেনের ‘শাস্ত্র প্রচার’ ছাপা খানায় গেলেন। যার মালিক হচ্ছেন খ্রিস্টান। তাই, বইতে কি লেখা আছে সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। ছাপানোর টাকা পেলেই হলো।
যাহা হোক একখানে, ছিদাম মুদির লেনে,
ছাপাখানা আছে একখান।
নামেতে শাস্ত্র প্রচার, ছাপাখানা হয় যার,
জানি তিনি জাতিতে খ্রীষ্টান।।

প্রথম গ্রন্থ ছাপা হয় ১৯৪৩ সালে। যেটাকে মতুয়া আকর গ্রন্থ হিসাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। আর এই গ্রন্থ ছাপানো হয়েছে বিশেষ নিয়ন্ত্রন ও নির্দেশনের মাধ্যমে আর গ্রন্থ সত্ত্বও কবির নিজের নেই। কিন্তু পরের গ্রন্থ কবি মহানন্দ হালদারের একান্ত ব্যক্তিগত। তাই এখানে কিন্তু আমরা এই বিভ্রান্তির জন্য কিছু নির্দেশনের গন্ধ পাচ্ছি ১ম বইতে। যেটা সাধারণ মতুয়া অনুরাগীদের মানসিক একটা প্রেসার দেওয়া হয়েছে। যেটা আমারও মতুয়া দর্শনে অবগাহন করার সময় মনে হয়েছিল। এসব কথা এই জন্য বলছি- কারণ, প্রমাণ্য সূত্রে জানাগেছে- পরবর্তিতে ‘শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত’ যেটা ছাপা হয়েছে সেখানে বংশলতা দেওয়া আছে। যেটা প্রথম সংস্করণে নেই। আর ওই বংশলতা হরিচাঁদ ঠাকুরের পূর্বজদের ‘মৈথিলী ব্রাহ্মণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। যার বাস্তব প্রমাণও পাওয়া গেছে। এবং এটাও করা হয়েছে মতুয়াদের মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করার জন্য। সঙ্গে আরোও কিছু উদ্দেশ্যও থাকাটা অসম্ভব নাও হতে পারে।
এবার পাঠকগণকে এই বিভ্রান্তির সম্পর্কে অনুধাবন করতে হবে। এর ফলে সঠিক মতুয়াধর্ম দর্শন প্রচারের ক্ষেত্রে কতটা লাভ বা ক্ষতি হয়েছে। আর এর ফলে কি বিশেষ কারো কারো বিশেষ সুবিধা হয়েছে??
#হরিলীলামৃত
#মতুয়া
#হরিচাঁদ
#গুরুচাঁদ

তোমার বিদ্যাসাগর ও আমার বিদ্যাসাগরলেখক – জগদীশচন্দ্র রায়(এটা কবিতা নয়, কবিতার আকারে কিছু তথ্যকে তুলে ধরা হয়েছে)তুমি লিখে...
02/08/2026

তোমার বিদ্যাসাগর ও আমার বিদ্যাসাগর
লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়
(এটা কবিতা নয়, কবিতার আকারে কিছু তথ্যকে তুলে ধরা হয়েছে)

তুমি লিখেছো-
‘বিদ্যাসাগরের মতো হিন্দু ধর্মের আর কোনও সংস্কারক গত দুশ বছরে জন্মেছেন কি?
কারও কথা তো জানিনা।’ তাহলে সবাই আসুন, জানুন।

তোমার মতো আরো অনেকেই জানেন না খবরটি।
কারণ, তোমার বিদ্যাসাগর ও তুমি আন্তর্জাতিক।
আর আমার বিদ্যাসাগর ও আমি হয়ে আছি প্রান্তিক।
তোমার বিদ্যাসাগর কাজ করেছিলেন তাঁর জাতির জন্য,
সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না শূদ্রের জন্য।
তোমার বিদ্যাসাগর গড়ে ছিলেন ৩৫টি স্কুল,
প্রসার ঘটিয়েছিলেন নারী শিক্ষায়।
আন্দোলন করেছিলেন বিধবা বিবাহের।

আমার বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে গড়ে উঠল ৩৯৫২টি স্কুল।
(একথা বিশ্বাস না হলে দেখুন,
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দশম শ্রেণির বই
‘স্বদেশ পরিচয় ও পরিবেশ’ সেখানে উল্লেখ আছে তাই।)
সার্বজনীন শিক্ষা ও নারী শিক্ষার জন্য করলেন আন্দোলন।
আর ১৯১০ সালে করলেন বিধবা বিবাহ প্রচলন।
স্কুল শিক্ষা শুধু নয়, সামাজিক শিক্ষারও করলেন প্রবর্তন।
তোমার বিদ্যাসাগরকে যেমন সমাজের ধর্মান্ধ উচ্চবর্গীয়দের সাথে
করতে হয়েছিল মোকাবিলা।
আমার বিদ্যাসাগরকেও তার থেকে অধিক প্রতিবন্ধকতার
শিকার হয়ে লড়াই করতে হয়েছিল একেলা।
কেন? সে কথা কি জানো?
ব্রাহ্মণের ফতোয়া ছিল-
শূদ্র পক্ষে তপ জপ ত্রেতাযুগে নাই।
শূদ্রকের মাথা কাটে রামচন্দ্র তাই।।
নমঃশূদ্র অতি ক্ষুদ্র ক্ষীণ হয়ে রবে।
বিদ্যাশিক্ষা তার পক্ষে কভু না সম্ভবে।।
কৃষিকর্ম করে যারা সেই ভাবে র’বে।
বিদ্যা পেলে কৃষিকর্ম বল কে করিবে? -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪১
এরপর আরো শোন-
শিক্ষা নিবে ব্রাহ্মণাদি উচ্চ-বর্ণ যত।
তারা যাতে শিক্ষা পায়, কর সেই মত।।
যেই-কর্ম যেবা জানে তারে তাই দাও।
কৃষক লাঙ্গল পাবে মাঝি পাবে নাও।।
নমঃশূদ্র-ভরা দেখি ঘৃতকান্দি গাঁও।
উলুবনে কেন বাপু মুক্‌তা ছড়াও? -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪২
এসব কথা শুনে, আমার বিদ্যাসাগর
ঘোষণা করিল আর একবার।
“খাও বা না খাও তা’তে কোন দুঃখ নাই।
ছেলে পিলে শিক্ষা দেও এই আমি চাই।।” -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩৭
ছেলে মেয়েকে দিতে শিক্ষা
প্রয়োজনে করিবে ভিক্ষা।।
শুধু নয় এই কথা, বুঝিয়া সকলের ব্যথা, বলিলেন তিনি-
“তাই বলিভাই মুক্তি যদি চাই
বিদ্বান হইতে হবে।
পেলে বিদ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চিরসুখী হবে ভবে।।” গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩০
আরো বলিলেন-
বিদ্যা ছাড়া কথা নাই বিদ্যা কর সার।
বিদ্যা ধর্ম্ম, বিদ্যাকর্ম্ম, অন্য সব ছার।।
বাঁচ বা না বাঁচ, প্রাণে বিদ্যাশিক্ষা চাই।
বিদ্যাহীন হ’লে বড় তার মূল্য নাই।। গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১০৮

এবার শোনো তবে নারী শিক্ষার কথা-
আমার বিদ্যাসাগর করিলেন ঘোষণা-
বালক বালিকা দোঁহে পাঠশালে দাও।
লোকে বলে “মা’র গুণে ভালো হয় ছা’ও”।। গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ৫২৯
তাই, ‘নারী শিক্ষা তরে প্রভু আপন আলয়।
(১৯৩২ সালে) “শান্তি-সত্যভামা” নামে স্কুল গড়ি’ দেয়।। গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ৫৪৬

এবার শোনো, বলি বিধবা বিবাহের কথা-
এ কথা না জানার জন্য মনে পেয়োনাকো ব্যথা।
“তের শত ষোল সালে (ইং ১৯১০) বারুণী (মার্চ মাস) সময়।
বিধবা বিবাহ দিতে প্রভু আজ্ঞা দেয়।।” গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ২৬১
এই জাতি পিছে নহে নারীর সম্মানে।।
বিধবা বিবাহ প্রথা এরা মান্য করে। -গুরুচাঁদ চরিতপৃ.২৫৭

গোপালের মত নিয়া শ্রীনাথ করিল বিয়া
আর বিয়া করে কতজন।
ফরিদপুর, খুলনা বরিশাল এক থানা
ত্রিশ জনে বিবাহ করিল। -গুরুচাঁদ চরিতপৃঃ ২৫৪

এইভাবে বিধবা বিবাহ শুরু হয়েগেল।
তাই দেখে ব্রাহ্মণের বুকে পড়িল বাজ।
এই প্রথা বন্ধ করতে দেখালো ঝাঁঝ।

‘বিধবার দিল বিয়ে কার কাছে বুদ্ধি নিয়ে
হেন কর্ম্ম করে ঝাঁকে ঝাঁকে।।
মতুয়াদের বাদ দাও সমাজেতে নাহি নাও
খৃষ্টানের মত ব্যবহার।
কর তারে হুকা বন্ধ নাপিত ব্রাহ্মণ বন্ধ
এক সঙ্গে করো না আহার।।’-গুরুচাঁদ চরিত পৃঃ ২৫৪

তোমার বিদ্যাসাগর বিদ্যান ব্রাহ্মণ পণ্ডিৎ
আমার বিদ্যাসাগর নিম্ন বলে শিক্ষার অধিকার হল খন্ডিৎ।
তাই গেল মক্তবেতে, সেখানে পেল শুধু প্রাথমিক শিক্ষা।
উচ্চের দরজায় পেলেনা উচ্চ শিক্ষা।
তারপরেও এতো কিছুর জন্য করলেন দ্বীপ্তমান।
কিন্তু কেন সে দীপশিখা পেলনা তোমাদের কাছে সম্মান?
জন্মগত কারণ কি এখানে নয় প্রধান?
আমার বিদ্যাসাগর এরকম করিলেন কতো কাজ।
সে কথা না জানলে তোমাদের হবে কি লাজ?

যদি শুনতে চাও আরো বলি তাঁর কীর্তি কথা।
কুসংস্কার থেকে মুক্তির জন্য দিয়েছিলেন বার্তা।
“কুসংস্কার আছে যত দূর কর’ অবিরত
বিদ্যা শিক্ষা কর ঘরে ঘরে।’ -গুরুচাঁদ চরিত পৃঃ ১১৯

ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্ত হতে করিলেন আহবান-
ব্রাহ্মণ রচিত যত অভিনব গ্রন্থ।
‘ব্রাহ্মণ প্রধান’ মার্কা বিজ্ঞাপন যন্ত্র।। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ২৩
কথা উপকথা কত সৃজন করিল।
ঘাটে মাঠে গাছে পথে দেবতা গড়িল। -গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ২২
ধর্ম্ম ধ্বজাধারী সাজি যত পুরোহিত।
ধর্ম্মকে পিষিয়া করে কার্য বিগর্হিত।।
মাতৃত্ব সতীত্ব কহে হাস্যকর নীতি।
নারীজাতি লয়ে করে পাপের বেসাতি।। -গুরুচাঁদ চরিত পৃ.২১
কোথায় ব্রাহ্মণ দেখ কোথায় বৈষ্ণব।
স্বার্থবশে অর্থলোভী যত ভণ্ড সব।।
-লীলামৃত, ঠাকুরনগর, ১০ম সংস্করণ পৃ. ৯৪

সমাজ সংস্কার তরে করিলেন আহবান-
বাল্যকালে পুত্র কন্যা বিয়া নাহি দিবে।
পথ ঘাট ঘর দ্বার পবিত্র রাখিবে।। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ৫২৯

কর্মগুণই শ্রেষ্ঠগুণ, জন্মগুণ নয়,
‘মানুষ সবার শ্রেষ্ঠ ভেদাভেদ ইষ্টানিষ্ট
কর্মগুণে মান পায় জন্মগুণে নয়। - গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ৭৩

আমার বিদ্যাসাগরের পিতা হরিচাঁদ যাঁর নাম
যিনি ছিলেন দিশা দ্রষ্টা। তিনি বলিলেন-

জীবে দয়া, নামে রুচি মানুষেতে নিষ্টা।
ইহা ছাড়া আর যতো সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।
শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত পৃ. ১১
আরো বলিলেন-
কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ পেলে খাই।
বেদ বিধি শৌচাচার নাহি মানি তাই।।
(শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত পৃ. ১০৪

আরো বলি শোন, আমার বিদ্যাসাগরের কথা
তিনি কোনো দিন জাতিভেদ মানিতেন না।
তিনি বলিতেন-
নরাকারে ভূমণ্ডলে যত জন আছে।
‘একজাতি’ বলে মান্য পাবে মোর কাছে।
গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ২০১
সামাজিক নীতি সব শোন ভক্তজন।
‘জাতিভেদ’ প্রথা নাহি মানিবে কখন। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ৫৭০
মানুষে মানুষ বল ভিন্ন জাতি কোথা?
নরজাতি এক জাতি ভেদ করা বৃথা।। গুরুচাঁদ চরিত পৃ.৩৬০ )

আমার বিদ্যাসাগর গুরুচাঁদ নাম।
বাংলার ফরিদপুরে ওড়াকান্দি ধাম।
যাঁর কাছে গান্ধিজি পাঠিয়েছিলেন দেশবন্ধুকে
স্বদেশী আন্দোলনে তাঁকে দলে নিতে।
গান্ধিজিকে পত্র লিখে জানালেন আমার গুরুচাঁদ
এটাতো স্বদেশী আন্দোলন নয়, তোমাদের ফাঁদ।
সঠিক দরদ যদি জাগে তোমাদের মনে
অস্পৃশ্যতা দূর করে ভাই বলে নাও কাছে টেনে।
জন্ম যাঁর 13 মার্চ ১৮৪৬সালে। প্রয়াণ ২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৩৭
যাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সুভাস বোশ উপাধি দিলেন ‘মহামানব’।
এখানে কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্য নয়,
কিন্তু প্রশ্ন রেখে যাই, প্রায় একই কৃত্ত্বিতের জন্য
একজন বিরাজ করছেন সুউচ্চ শিখরে।
অন্যজন কেন পড়ে আছে অন্ধকারে?


এতো ঘটনার পরেও তোমরা
জানলে না আমার বিদ্যাসাগরের নাম
এটা শুধু ঘৃণা নয়, তাঁর অপমান।
এসব বিভেদের কথা নয়, অধিকারের কথা।
এর জন্য বোঝা চাই সকলের ব্যথা।
তবেই হবে সুন্দর এই ধরতী।
ফুটিবে সমতা, সতন্ত্রতা ন্যায়ের প্রকৃতি।
আসুন সবে মিলে হাতে হাত ধরি।
সুন্দর এই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করে গড়ি।।
--------------
#বিদ্যাসাগর
#গুরুচাঁদ

25/07/2026

MediaFire is a simple to use free service that lets you put all your photos, documents, music, and video in a single place so you can access them anywhere and share them everywhere.

‘স্বদেশী ও স্বাধীনতা আন্দোলন প্রসঙ্গে গুরুচাঁদ ঠাকুর’ বইটি আমি প্রায় ১০ বছর আগে লিখেছিলাম। নানা কারণে এতদিন এটিকে প্রকা...
25/07/2026

‘স্বদেশী ও স্বাধীনতা আন্দোলন প্রসঙ্গে গুরুচাঁদ ঠাকুর’ বইটি আমি প্রায় ১০ বছর আগে লিখেছিলাম। নানা কারণে এতদিন এটিকে প্রকাশযোগ্য রূপে আনতে পারিনি। অবশেষে গতকাল (২৪-০৭-২০২৬) শ্রদ্ধেয় Sudhir Ranjan Halder মহাশয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় বইটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়েছে।
বইটির অধিকাংশ তথ্য ‘শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ চরিত’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কে বিভিন্ন বহুজন মহামানবের মতামতও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
প্রায় এক দশক আগে এই বইটি লেখার প্রধান কারণ ছিল—তখন দেখেছিলাম, কেউ কেউ দাবি করছেন যে গুরুচাঁদ ঠাকুর স্বদেশী আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি। আর বর্তমানে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নমঃশূদ্র সমাজের অবদান কী ছিল?
এই বইয়ে আমি কোনো ব্যক্তিগত মত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিনি; বরং প্রামাণ্য তথ্য ও সূত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।
বইটির PDF কপির লিঙ্ক সংযুক্ত করা হয়েছে। আগ্রহীরা ডাউনলোড করে পড়ে নিজেদের মতামত জানালে আনন্দিত হব।
https://www.mediafire.com/file/na49c3t0qgxs35o/স্বদেশী+ও+স্বাধীনতা+আন্দোলন+প্রসঙ্গে+গুরুচাঁদ+ঠাকুর।+লেখক-+জগদীশচন্দ্র+রায়।.pdf/file

বুদ্ধ, হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্রলেখক: জগদীশচন্দ্র রায়মতুয়া আন্দোলন সম্পর্কে আলোচন...
13/06/2026

বুদ্ধ, হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্র
লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়
মতুয়া আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি প্রশ্ন প্রায়ই উত্থাপিত হয়—মতুয়া আন্দোলনের সঙ্গে গৌতম বুদ্ধ এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের সম্পর্ক কোথায়? কেন তাঁদের একই ধারার আলোচনায় যুক্ত করা হয়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বিষয়টিকে কেবল ধর্মীয় বা আবেগগত দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ইতিহাস, সমাজচিন্তা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ, প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে যেমন একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে, তেমনি থাকে তার অস্তিত্ব, বিকাশ ও উত্তরাধিকারের প্রশ্ন।
এই আলোচনায় প্রবেশের আগে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অনেকের মনে হতে পারে যে মতুয়া ধর্মকে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য তা নয়। এখানে কেবল ইতিহাস, গ্রন্থসূত্র ও বিভিন্ন চিন্তাধারার মিল-অমিলের ভিত্তিতে একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রহণ বা বর্জন সম্পূর্ণরূপে পাঠকের নিজস্ব বিবেচনার বিষয়।
হরিচাঁদ ঠাকুর ও বুদ্ধের আদর্শ:-
মতুয়া দর্শনের সঙ্গে বুদ্ধের সম্পর্ক অনুধাবন করতে হলে প্রথমেই ‘শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত’ গভীরভাবে পাঠ করা প্রয়োজন। এই গ্রন্থের ১৫ পৃষ্ঠায় “শ্রীশ্রীহরিঠাকুরের জন্মবিবরণ” অংশে উল্লেখ আছে—
“বুদ্ধের কামনা তাহা পরিপূর্ণ জন্য,
যশোমন্ত গৃহে হরি হৈল অবর্তীণ।”
এই পংক্তির অর্থ হলো—বুদ্ধের অপূর্ণ কামনাকে পূর্ণতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—বুদ্ধের সেই কামনা কী ছিল?
বুদ্ধের আদর্শের কেন্দ্রে ছিল মানবমুক্তি, সমতা, মৈত্রী, ন্যায় ও কল্যাণ। তিনি তাঁর ভিক্ষুদের উদ্দেশে বলেছিলেন—
“বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়।”
অর্থাৎ ধর্ম হবে কেবল বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়; তা হবে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও সুখের জন্য।
অন্যদিকে মতুয়া দর্শনে আমরা দেখি—
“জীবে দয়া, নামে রুচি, মানুষেতে নিষ্ঠা।
ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।" (শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত ১ম প্রকাশ, পৃ. ১১)
এখানেও মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং মানবকেন্দ্রিক চেতনার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে দেখা যায়, বুদ্ধের মানবমুখী দর্শন এবং হরিচাঁদ ঠাকুরের মতুয়া দর্শনের মধ্যে একটি মৌলিক আদর্শিক সাদৃশ্য বিদ্যমান।
বুদ্ধের দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল—সমতা, স্বাধীনতা, মৈত্রী ও ন্যায়।
মতুয়া দর্শনের ভিত্তি—সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা।
শব্দের ভিন্নতা থাকলেও উভয়ের লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও সামাজিক বৈষম্যের অবসান। এই কারণেই অনেক গবেষকের মতে, হরিচাঁদ ঠাকুর তাঁর সময়ের সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে বৌদ্ধধর্মের মানবিক আদর্শকে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছিলেন।
কেন মতুয়া আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছিল?
বাংলার ইতিহাসে পালযুগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং দীর্ঘকাল বাংলায় বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিকশিত হয়েছিল।
‘গুরুচাঁদ চরিত’-এ উল্লেখ রয়েছে—
“পালবংশ মহাতেজা বঙ্গদেশে যবে রাজা,
বৌদ্ধ ধর্ম আসিল এদেশে।
বৌদ্ধ রাজধর্ম মানি বঙ্গবাসী যত প্রাণী,
বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নিল শেষে।।" (পৃষ্ঠা নং ২৮ ,পঞ্চম সংস্করণ ২০০৯ )
কিন্তু পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামাজিক রূপান্তর এবং ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাব বিস্তারের ফলে বাংলার সমাজব্যবস্থায় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে অবহেলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মুক্তির জন্য একটি নতুন সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই হরিচাঁদ ঠাকুর মতুয়া আন্দোলনের সূচনা করেন।
তিনি সন্ন্যাসের পরিবর্তে গার্হস্থ্য জীবনের মধ্যেই ধর্মচর্চার কথা বলেন এবং ঘোষণা করেন—
“হাতে কাম, মুখে নাম।”
অর্থাৎ কর্ম ও নৈতিক জীবনই হবে ধর্মচর্চার প্রধান ভিত্তি।
আম্বেদকর ও মতুয়া আন্দোলনের সংযোগ:-
এবার প্রশ্ন আসে—ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের সঙ্গে মতুয়া আন্দোলনের সম্পর্ক কোথায়?
১৯৩৫ সালে আম্বেদকর ঘোষণা করেছিলেন—
“আমি হিন্দু হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি, কিন্তু হিন্দু হিসেবে মৃত্যুবরণ করব না।”
পরবর্তীকালে ১৯৫৬ সালে তিনি ‘বৌদ্ধধম্ম’ গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, সামাজিক বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য মানবিক ও যুক্তিনির্ভর ধর্মীয় দর্শনের প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরও সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও তথাকথিত নিম্নবর্ণের মানুষের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ফলে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে উভয় আন্দোলনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ও সাংবিধানিক অগ্রগতিঃ-
হরিচাঁদ ঠাকুরের সূচিত আন্দোলনকে সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তাই তিনি শিক্ষা আন্দোলনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।
এই ধারাকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদান করেন মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার ফলেই ড. আম্বেদকর গণপরিষদে প্রবেশের সুযোগ লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের সংবিধান প্রণয়নের নেতৃত্ব দেন।
সংবিধানের মাধ্যমে তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি জনজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) জন্য যে সাংবিধানিক সুরক্ষা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তা সামাজিক ন্যায়বিচারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ফলে হরিচাঁদ ঠাকুরের সামাজিক আন্দোলন, গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ড. আম্বেদকরের সাংবিধানিক নেতৃত্ব—সবকিছুই একটি বৃহত্তর মুক্তি আন্দোলনের ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উপসংহার
ঐতিহাসিক ও আদর্শিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুদ্ধ, হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং ড. বি. আর. আম্বেদকর—প্রত্যেকে তাঁদের নিজ নিজ সময়ে অবহেলিত মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
তাঁদের আন্দোলনের ধরন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য ছিল এক—মানুষের মুক্তি, সামাজিক ন্যায়, শিক্ষা, আত্মমর্যাদা ও সমতার প্রতিষ্ঠা।
তাই এই মহান ব্যক্তিত্বদের অবদানকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি দীর্ঘ সামাজিক জাগরণ ও মানবমুক্তির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁদের প্রদর্শিত আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করাই হতে পারে তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায়।
#মতুয়া_ধর্ম
#বৌদ্ধ_ধম্ম
#গৌতম_বুদ্ধ
#হরিচাঁদ_ঠাকুর
#গুরুচাঁদ_ঠাকুর
#বাবাসাহেব_আম্বেদকর
#যোগেন্দ্রনাথ_মণ্ডল

গুরুচাঁদ ঠাকুরের আলোয় মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল: শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আন্দোলন.লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়(লেখাটি AI দিয়ে...
26/04/2026

গুরুচাঁদ ঠাকুরের আলোয় মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল:
শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আন্দোলন.
লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়
(লেখাটি AI দিয়ে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ লেখার লিঙ্ক ও AI দ্বারা Audio করে Video link কমেন্টে দেওয়া হয়েছে?)
আদর্শের মিলন: বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা ও যৌবনের তেজ
সময়টা ১৯২৬ সাল। শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের বয়স তখন সত্তর—জীবনের পড়ন্ত বিকেল। অন্যদিকে, তাঁরই ভাবশিষ্য যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের বয়স মাত্র বাইশ; যার রক্তে তখন সমাজ পরিবর্তনের উত্তাল জোয়ার। সেই সময়ে একদিকে চলছিল জমিদারি অত্যাচার, অন্যদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদের ধর্মীয় ও সামাজিক শোষণ। এই দ্বিমুখী শোষণে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য আর অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত। এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে যার মনে দ্রোহের আগুন জ্বলছিল, সেই তরুণ যোগেন্দ্রনাথের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো বৃদ্ধ গুরুচাঁদ ঠাকুরের কালজয়ী বাণী।
গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা-দর্শন:
শিক্ষাই যে মুক্তির একমাত্র চাবিকাঠি, তা গুরুচাঁদ ঠাকুর উপলব্ধি করেছিলেন গভীরভাবে। তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন:
"খাও বা না খাও তাতে দুঃখ নেই।
ছেলেমেয়ে শিক্ষে দাও এই আমি চাই।।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৪৪)
তিনি আরও বলতেন, সন্তানদের শিক্ষিত করতে প্রয়োজনে ভিক্ষা করতেও দ্বিধা করা উচিত নয়। অশিক্ষাকে তিনি 'মারণ ব্যাধি' হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছিলেন:
"অজ্ঞান ব্যাধিতে ভরা আছে এই দেশ।
জ্ঞানের আলোকে ব্যাধি তুমি কর শেষ।।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৩৭)
গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্পষ্ট বার্তা ছিল—অজ্ঞানতার ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হলে জ্ঞানের আলো অর্জন করা বাধ্যতামূলক। তাঁর ভাষায়:
"তাই বলি ভাই মুক্তি যদি চাই,
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিদ্যাধন দুঃখ নিবারণ,
চির সুখী হবে ভবে।" (গুরুচাঁদ চরিত, পৃ. ১৩০)
যোগেন্দ্রনাথের বজ্রশপথ: অধিকার অর্জনের সংগ্রাম
গুরুর এই দর্শনে দীক্ষিত হয়ে উদীয়মান যুবক যোগেন্দ্রনাথ ঘোষণা করলেন, জমিদারদের কাছে আবেদন-নিবেদন করে কোনো লাভ হবে না। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই পরিবর্তন করতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন:
• স্বার্থত্যাগ ছাড়া সমাজের কাজ হয় না।
• শিক্ষাই হলো সমাজ উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি।
• অশিক্ষিত সমাজকে কেউ মর্যাদা দেয় না; মর্যাদা নিজেদের চেষ্টায় অর্জন করতে হয়।
• শিক্ষা মানুষকে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করে, আর সংঘবদ্ধ মানুষকে কেউ শোষণ করতে পারে না।
সংসদীয় রাজনীতি ও শিক্ষা বিস্তারঃ
১৯৩৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাখরগঞ্জ উত্তর-পূর্ব নির্বাচন কেন্দ্র থেকে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন। তিনি প্রভাবশালী কংগ্রেস প্রার্থী সরল দত্তকে ১৮১৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি 'আগৈলঝাড়া ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী'কে হাইস্কুলে রূপান্তরিত করেন এবং নিজেই তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সামাজিক সংস্কার ও অধিকার আদায়ের মাইলফলকঃ
মন্ত্রী থাকাকালীন এবং আইনসভার সদস্য হিসেবে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান:
• পুলিশ বিভাগে সংস্কার: তপশিলি পুলিশদের জন্য আলাদা কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করেন, কারণ তৎকালে সাধারণ ব্যারাকে তাঁদের বসতে দেওয়া হতো না।
• অবকাঠামো উন্নয়ন: তাঁর প্রচেষ্টায় গ্রামীণ অঞ্চলে অসংখ্য বাঁধ, খাল এবং রাস্তা নির্মিত হয়, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেয়।
• ছাত্রাবাস নির্মাণ: তপশিলি ও মুসলিম ছাত্রদের জন্য কলকাতা শহরে দুটি করে ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি আদায় করেন। তাঁরই উদ্যোগে 'উদয়ন ছাত্রাবাস' ও 'ভারতী ভবন' প্রতিষ্ঠিত হয়।
• বৃত্তি ও আসন সংরক্ষণ: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী নলিনী রঞ্জন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি সপ্তম শ্রেণির পরিবর্তে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া কলেজ হোস্টেলগুলোতে আসন সংরক্ষণ ও দরিদ্র ছাত্রদের জন্য মাসিক ১৫ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
• চাকরিতে সংরক্ষণ: ১৯৪৩ সালে নাজিমুদ্দিন মন্ত্রিসভায় যোগদানের শর্ত হিসেবে তিনি তপশিলিদের জন্য গেজেটেড পোস্টসহ সকল সরকারি চাকরিতে সাম্প্রদায়িক অনুপাত অনুযায়ী সংরক্ষণের নীতি কার্যকর করেন।
আপসহীন নেতৃত্বঃ
একবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তপশিলিদের কোটা পূরণ নিয়ে বিতর্ক উঠলে যোগেন্দ্রনাথ গর্জে উঠেছিলেন। হামিদুল হক চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী সদস্যদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি বলেছিলেন:
“লাল চোখ দেখাবেন না, লাল চক্ষু আমাদেরও আছে। আমি মন্ত্রিত্ব করি, চাকরি নয়। এই মন্ত্রিত্ব কারো দেওয়া দান নয়। যে সুখের ঘর বেঁধে দিয়েছি, প্রয়োজন হলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সেটা ভেঙে দিতে পারি।”
নারী শিক্ষার প্রসারে অবদানঃ
গুরুচাঁদ ঠাকুর নারী-পুরুষের সমাধিকারে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন:
"শুনেছি পিতার কাছে আমি বহুবার।
নারী ও পুরুষ পাবে সম অধিকার।।"
তাঁর এই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ১৯৪৪ সালে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, “মায়েরাই শিশুদের প্রথম শিক্ষয়িত্রী; তাই সমাজকে শিক্ষিত করতে হলে নারী সমাজকে আগে শিক্ষিত করা প্রয়োজন।” তাঁর প্রচেষ্টায়:
• বিধান পরিষদে অবৈতনিক প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের বিল পাশ হয়।
• তপশিলি ছাত্রীদের জন্য চতুর্থ শ্রেণি থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়।
• বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য ছাত্র সমাজকে উৎসাহিত করা হয়।
উপসংহার
গুরুচাঁদ ঠাকুরের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দর্শনকে রাজনীতির ময়দানে এবং সরকারি নীতিতে রূপান্তর করেছিলেন মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। আজ তপশিলি ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ যে শিক্ষার আলো ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এই দুই মহামানবের হাত ধরেই।
#যোগেন্দ্রনাথ_মণ্ডল
#গুরুচাঁদ_ঠাকুর
#সমাজ_সংস্কার
#শিক্ষা_আন্দোলন
#অধিকার_অর্জন
#সংগ্রাম
#সামাজিক_আন্দোলন
#আন্দোলন

একটা প্রবাদ আছে, পোনা দেখে নাফাচ্ছ ভূঁইখান(জমি) কার?মতুয়াদের অবস্থাও এরকম। ভূঁইখান কার একটু ভেবে দেখুন।এটাও সবাই জানেন ক...
22/04/2026

একটা প্রবাদ আছে, পোনা দেখে নাফাচ্ছ ভূঁইখান(জমি) কার?
মতুয়াদের অবস্থাও এরকম। ভূঁইখান কার একটু ভেবে দেখুন।

এটাও সবাই জানেন কুঠারের হাতলটা দেখে জঙ্গলের সব গাছ কুঠারের পক্ষে হয়ে যায়। কারণ সেখানে জাত ভাই আছে।
পরিণাম, একসময় জঙ্গলই পরিস্কার হয়ে যায়।
অবস্থাটা এরকমই হচ্ছে এবং হতে থাকবে।

04/04/2026

গুরুচাঁদের শিক্ষা আন্দোলনে ডাঃ সি. এস. মীডের অবদান।
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
(আমার লেখা ‘গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন’ থেকে তুলে দিলাম। লেখাটিকে AI -এর মাধ্যমে অডিও বানিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। আলোচনাটি কেমন লাগল জানাবেন। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন। ধন্যবাদ)

28/03/2026

চাঁদের আলো
লেখক- Prohlad Roy
কণ্ঠ- Pabitra Biswas
ঊনবিংশ শতকের নবজাগরণ
বাংলার আকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ,
যদি ও অন্ধকার রাত্রি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মাঝে।
পৃথিবীর মাটির কাছাকাছি,
উদীয়মান চাঁদ ভরিয়ে দেয়
স্নিগ্ধ আলোকে।

নক্ষত্রের প্রবল তেজ—
আলোকিত মহাবিশ্ব;
তবু মাটির মানুষের থেকে
আলোকবর্ষ দূরে।
মাটির মানুষের কাছে—
উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক,
পুলকিত জোৎস্নায়,
অমানিশার অন্ধকার
বুঝি সরে সরে যায় বহুদূরে।

বঙ্গের আকাশে বসন্ত পূর্নিমা,
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ যেন—
আলো হাতে ঘুরে যায় কুটিরে কুটিরে।
চোখ বন্ধ রাখা অন্ধের মতো,
গভীর নিশীথে সাড়া পড়ে,
ভাঙ্গা ঘরে এসে গেছে--
চাঁদের আলোকিত
উদ্দাম তরঙ্গ-রাশি।
ঘুচে যায় সব অন্ধকার,
মিশে যায় তরল জলের মতো জনতার মাঝে।
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ যেন মহাকাণ্ডারী!
মহাসমুদ্রের প্রবল জলোচ্ছ্বাস।

অসংখ্য দলিত, পীড়িত,
নির্যাতিত, অস্পৃশ্য মানবের মাঝে—
শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে,
মানবের কল্যাণ সাধনে,
সংঘবদ্ধ সমাজ গঠনে,
সকল ব্যবধান দূর করে দিতে--
মাতালেন তিনি মাতালেন।
জনতার রাশি, সর্বমানবে,
সংহতির মন্ত্রে আজ তারা মত্ত।
অধিকারের সংগ্রামে,
সামাজিক মর্যাদায়,
কর্ম ও ধর্মের প্রবল আকাঙক্ষায়--
আজ তারা মতুয়া।
দিগ্বিদিক এই পরিচয়ে,
সমাজ সংস্কারে, মানবের উত্থানে,
আজীবন সংগ্রামী—
হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ
আজও স্নিগ্ধ, সুস্নাত,
রোমাঞ্চিত করা--
আমাদের সংগ্রামী বীর,
রাষ্ট্রযুদ্ধের মহাযোদ্ধা।

27/03/2026

গুরুচাঁদ ঠাকুর কি শুধু নমঃশূদ্রদের জন্য কাজ করেছেন? নাকি সেটা সমগ্র জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কল্যাণের জন্য? তাহলে তাঁকে কেন একটা জাতির মধ্যে গন্ডিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে? আসুন গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণী ও কর্মধারার বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
গুরুচাঁদ ঠাকুরের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার আন্দোলন। তাই তিনি জীবনের উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রথমেই ঘোষণা করেন-
“খাও বা না খাও তা’তে কোন দুঃখ নাই।
ছেলে পিলে শিক্ষা দেও এই আমি চাই”।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪৪
ছেলে মেয়েকে দিতে শিক্ষা
প্রয়োজনে করিবে ভিক্ষা।
অর্থাৎ আপনি পেটের খুদা মিটাতে সক্ষম কি না সেটা আমার কাছে বড় প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হচ্ছে আপনার সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে তোলা। আর এর জন্য আপনাকে প্রয়োজনে ভিক্ষা করতে হলেও করবেন। কিন্তু সন্তানকে অশিক্ষিত করে রাখবেন না।
এবার বলুন তো এই কথা কি কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য? নাকি বিশ্বের সকল মানুষদের শিক্ষিত করার জন্য এই উদাত্ব আহ্বান?
তিনি অশিক্ষাকে মারণ ব্যধির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন-
অজ্ঞান ব্যাধিতে ভরা আছে এই দেশ।
জ্ঞানের আলোকে ব্যাধি তুমি কর শেষ।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩৭
অর্থাৎ এই অজ্ঞানতার ব্যাধিতে দেশ ভরে আছে। একমাত্র জ্ঞানের আলো দিয়েই এই অজ্ঞানতাকে দূর করা যাবে।
মানুষ সব সময় মুক্তির সন্ধান করে। গুরুচাঁদ ঠাকুর মানুষের এই মুক্তি লাভের জন্য বলেছেন-
তাই বলিভাই মুক্তি যদি চাই
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিধ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চির সুখি হবে ভবে।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৩০
মুক্তি এখানে কোন মুক্তি? মুক্তি হচ্ছে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেরিয়া এসে জ্ঞানের আলোতে মুক্তি। সেই মুক্তির জন্য আপনাদের বিদ্যান হতে হবে। তাহলে মুক্তি পাবেন। আর সব দুঃখের নিবারণ ঘটবে। আপনি চির সুখি হ’তে পারবেন।
শিক্ষা অর্জনকে তিনি এত মহত্বপূর্ণ মনে করেছেন, যার জন্য তিনি বলেছেন-
বিদ্যা ছাড়া কথা নাই বিদ্যা কর সার।
বিদ্যাধর্ম, বিদ্যাকর্ম, অন্য সব ছার।। -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১০৮
অর্থাৎ ধর্ম কর্ম সব কিছুর মূল হচ্ছে বিদ্যা। বাকী সব গুরুত্বহীন। তাই সকলে এই অমূল্য সম্পদকে অর্জন করুন।
বলুন তো শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে আর ক’জন এরকম দীপ্ত ঘোষণা করেছেন? যে বিদ্যাই ধর্ম কর্ম ও সার। বাকী অন্য সব অসার। তবুও কেন আমরা দেখতে পাই তাঁর এই বাণী প্রচার বিমুখতায় রুদ্ধ হয়ে আছে?
এবার দেখা যাক গুরুচাঁদ ঠাকুরের এই শিক্ষা আন্দোলনের ভাগীদার কারা ছিলেন? আর তিনি কাদের জন্য কাজ করছেন-
শিক্ষা আন্দোলন যবে প্রভু করে দেশে।
ভক্‌ত সুজন যত তার কাছে আসে।।
নমঃশূদ্র তেলী মালী আর কুম্ভকার।
কপালী মাহিষ্য দাস চামার কামার।।
পোদ আসে তাতী আসে আসে মালাকার।
কতই মুসলমান ঠিক নাহি তার।।
সাবাকে ডাকিয়া প্রভু বলে এই বাণী।
“শুন সবে ভক্তগণ আমি যাহা জানি।।
নমঃশূদ্রকুলে জন্ম হয়েছে আমার।
তবু বলি আমি নাহি নমঃর একার।।
দলিত পীড়িত যারা দুঃখে কাটে কাল।
ছুঁস্‌নে ছুঁস্‌নে বলে যত জল-চল।।
শিক্ষা-হারা দীক্ষা-হারা ঘরে নাহি ধন।
এই সবে জানি আমি আপনার জন।।” -গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ১৪৪
এই শিক্ষার আন্দোলন যখন গুরুচাঁদ ঠাকুর শুরু করেন তখন ঠাকুরকে যারা শ্রদ্ধা করতেন বা তাঁর কথা মেনে চলতেন এরকম বিভিন্ন জাতির লোকেরা ঠাকুরের কাছে আসতেন; যেমন- তেলী, মালী কুম্ভকার, কাপালী, মাহিষ্য, দাস, চামার, কামার, পোদ (পৌন্ড্র), তাতী, মালাকার। এছাড়া অগণিত মুসলমানও ঠাকুরের কাছে আসতেন। এদের সবাইকে গুরুচাঁদ ঠাকুর বলতেন, “তোমরা আমাকে ভক্তি শ্রদ্ধা কর। কিন্তু আমি যা জানি সেটা হচ্ছে, আমি জন্মগত কারণে নমঃ জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করলেও আমি কিন্তু শুধু নমঃদের নই। আমি তাদের; যারা পদদলিত, পীড়িত, অত্যাচারিত, যাদের সব সময় দুঃখ-কষ্ট নিয়ে জীবন কাটাতে হয়। যাদেরকে দেখলে উচ্চবর্ণীয়রা অচ্ছুৎ বলে ঘৃণা করে। যাদের পেটে খাবার নেই। শিক্ষার আলো যাদের মধ্যে পৌঁছায়নি। যাদের সহায় সম্বল বলে কিছুই নেই। তারাই হচ্ছে আমার আপন জন।”

সমাজ নারীকে যখন পণ্যদ্রব্য মনে করে তার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে; তাকে মানুষ নয়, নারী বলেই সামাজিক পণ্য হিসাবে গণ্য করে; সেরূপ সামাজিক সংকটের মূহুর্তে আমরা হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের কি প্রতিফলন দেখতে পাই নারীদের সম্পর্কে?
শুনেছি পিতার কাছে আমি বহুবার
নারী পুরুষ পাবে সম অধিকার।।
সমাজে পুরুষ পাবে যেই অধিকার।
নারীও পাইবে তাহা করিলে বিচার।।
তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে অনেক বার শুনেছি যে, নারী পূরুষদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করা যাবেনা। উভয়ে সমান অধিকার পাবে। অর্থাৎ পুরুষ যে অধিকার পাবে নারীও সেই অধিকার সমানভাবে পাবে।
এবার বলুন তো সে যুগে দাঁড়িয়ে এরকম দৃপ্ত কন্ঠে নারীর অধিকার নিয়ে ক’জনে ঘোষণা করেছেন? এ সব কথা কি বিশ্বের সমস্ত নারীদের অধিকারের জন্য নয়?
একবার গুরুচাঁদ ঠাকুরের সংগ্রামের সাথী অস্ট্রলিয়ান মিশনারী সি. এস. মীড্‌ সাহেবের জীবন সঙ্গীনী Alice Pappin, গুরুচাঁদ ঠাকুরের সামাজিক কর্ম-কান্ডে আপ্লুত হয়ে, অনুপ্রাণীত হয়ে তাঁকে ‘ধর্মপিতা’ বলে সম্বোধন করেন। তবে তিনি আবার গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাছে জানতে চান যে-
“আমি আপনাকে পিতা বলেছি, তাই আমি আপনার কন্যা। কিন্তু আমিতো অন্য ধর্মের। তাই আপনি কি আমার হাতের খাবার খাবেন?”
তখন গুরুচাঁদ ঠাকুর জানান,
“শুন কন্যা, গুণে ধন্যা, আমার বচন।
জাতি-ভাগ মোর ঠাঁই পাবে না কখন।।
নরাকারে ভূমন্ডলে যত জন আছে।
‘এক জাতি’ বলে মান্য পাবে মোর কাছে।।
আমার পিতার ভক্ত আছে যত জন।
এক জাতি বলে তারা হয়েছে গণ।।
লোকাচারে তার কেহ কায়স্থ ব্রাহ্মণ।
‘মতুয়ার’ মধ্যে তাহা নাহি নিরূপণ।।
নমঃশূদ্র, তেলী মালী, ব্রাহ্মণ কায়স্থ।
ইস্‌লাম, বৈদ্য জাতি-রোগে সিদ্ধ-হস্ত।।
মতুয়া সকলে এক, জাতি-ভেদ নাই।
বিশেষতঃ কন্যা হ’লে নাহিক বালাই।। গুরুচাঁদ চরিত পৃঃ ২০০/২০১
অর্থাৎ “জাতিগত কারণে বা ধর্মীয় কারণে সে যে জাতি বা ধর্মেরই হোক না কেন আমার কাছে তার কোন অস্তিত্ব পাবেনা কখনো। এই বিশ্বে যত লোক আছে, সকলে আমার কাছে ‘এক জাতি’ অর্থাৎ ‘মানব জাতি’ বলে গণ্য হবে। আমার পিতা ঠাকুর হরিচাঁদের যত ভক্তরা আছেন; তাদেরকে সব সময় এক জাতি বলেই গণ্য করা হয়েছে। যদিও তারা লোকাচারে কেউ ব্রাহ্মণ, কায়স্থ বা অন্য জাতির লোক। তবে এটা সত্য যে, বিভিন্ন জাতি বা ধর্মের লোকেরা নিজেদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথাকে প্রাধান্য দেয়। যার ফলে সমাজের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়। যেটা একটা কঠিক সামাজিক ব্যাধি। তবে আবার বলি, মতুয়ারা সকলে একই জাতি। এখানে কোন ভেদাভেদ নেই। আর অন্য জাতি বা ধর্মে যেমন নারীদেরকে মর্যাদা দেওয়া হয়না, কোন অধিকার দেওয়া হয়না, সেক্ষেত্রে মতুয়াধর্মের নিময়ানুসারে আমার কাছে নারীরা সব মর্যাদা পাবেন, অধিকার পাবেন। তাদেরকে কখনো পৃথক দৃষ্টিতে দেখা হবেনা বরং তাদের প্রগতির জন্য আমি আরো বেশি করে কাজ করব। যেখানে কোন রকম ভেদাভেদ বা জাতি ধর্মের পরিচয় থাকবেনা।”
গুরুচাঁদ ঠাকুর জাতিভে সম্পর্কে আরো বলেছেন-
সামাজিক নীতি সব শোন ভক্তজন।
‘জাতিভে্দ’ প্রথা নাহি মানিবে কখন।।
শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিত পৃ.৫৭০
গুরুচাঁদ ঠাকুর তাঁর অনুয়ায়ীদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে,- সামাজিক নীতি হিসাবে কেউ যেন জাতিভেদ প্রথাকে প্রশ্রয় না দেন।
আসলে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরকে নিয়ে এক জাতির মধ্যে গন্ডী বদ্ধ করে রাখার পিছনের আরও বড় কারণ, হচ্ছে যে,- হরিচাঁদ ঠাকুর তার জ্ঞানের উপলব্ধিতে বুঝতে পেরেছিলেন যে, বেদের মধ্যে যে জাতি ভেদের বীজ রোপন করা হয়েছে, মানুষকে উচ, নিচ্‌ ভেদাভেদ করে এক শ্রেণীর মানুষকে পশুর থেকেও নিচ্‌ করে রেখেছে, আর অলৌকিক ভগবান, স্বর্গ, নরক, আত্মা, পরমাত্মার পঙ্কিলতায় ডুবিয়ে রেখেছে। সে জন্য তিনি দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছিলেন-
কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ পেলেও খাই।
বেদ বিধি শৌচাচার নাহি মানি তাই।। - হরিলীলামৃত পৃঃ ১০৪
অর্থাৎ তিনি বেদ ও তার বিধানকে সমাজের জন্য কুকুরের উচ্ছিষ্ট থেকেও নিকৃষ্ট মনে করে ছিলেন।
তিনি আবার ঘোষণা করেন-
কোথায় ব্রাহ্মণ দেখ, কোথায় বৈষ্ণব।
স্বার্থ বসে অর্থ লোভী যত ভন্ড সব।।
-লীলামৃত ঠাকুরবাড়ি, ঠাকুর নগর প্রকাশ, পৃঃ ৯৪
তিনি ব্রাহ্মণ এবং বৈষ্ণবদের উদ্দেশ্যে কি বললেন? এরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অর্থ লোভী ও ভন্ড। অর্থাৎ তারা মানুষকে মিথ্যা পাপ, পুণ্য, স্বর্গ, নরক, আত্মা, পরমাত্মা, জন্মান্তর ইত্যাদির ভয় দেখিয়ে আর তার থেকে মুক্তি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে। এরা সকলেই ভন্ড। ব্রাহ্মণ এবং বৈষ্ণবদের ধর্মীয় ব্যবসার প্রতি এরকম কুঠারাঘাত করার সাহস আর ক’জন দেখিয়েছেন বলুন তো? আর এর জন্য তারা হরিচাঁদের আদর্শ কি করে প্রচার করতে পারে?
হরিচাঁদ ঠাকুরের এই কথাকে আরো অগ্নি স্ফুলিঙ্গ দান করেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি বলেন-
“ব্রাহ্মণ রচিত যত অভিনব গ্রন্থ।
‘ব্রাহ্মণ প্রধান’ মার্কা বিজ্ঞাপন যন্ত্র।।” গুরুচাঁদ চরিত- পৃঃ ২৩
ব্রাহ্মণরা যত সব গ্রন্থ রচনা করেছে, সবই তাদের গুণ-কীর্তনের জন্য। সব জায়গায় ব্রাহ্মণকেই শ্রেষ্ঠ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই তাদের রচিত সমস্ত গ্রন্থ হচ্ছে ‘বিজ্ঞাপন যন্ত’।
তো আমরা হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের অগণিত বাণীকে পাই যে গুলো সমাজ সংস্কার মূলক। মানুষকে প্রগতির দিশা দেখানোর সোপান।
কিন্তু শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ্যবাদী জাত ব্যবস্থার শৃংখল দ্বারা তাদের কর্ম ধারাকে গন্ডীবদ্ধ করে রেখেছে। আর এই কাজে প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে সমাজের কিছু ডিগ্রীধারী পন্ডিত। যে পন্ডিতেরা বিভিন্ন সংগঠনের উচ্চ পদে বসে আছে। আর হরি-গুরুচাঁদের বাণী, কর্ম ও আদর্শকে এগিয়ে না নিয়ে, নিজেদের নাম কেনার জন্য দোকানদার সেজে বসে আছে। আশাকরি, এই ডিগ্রীধারী দোকানদারদেরকে সুবুদ্ধি সপন্ন মানুষেরা তাড়াতাড়ি চিনতে পারবেন। কারণ, এই ডিগ্রীধারীরাও ব্রাহ্মণ্যবাদের পৃষ্ঠপোষক।
তাই এই পৃষ্ঠপোষকদের যদি ঘুম না ভাঙ্গে তাহলে সমাজের সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ নিশ্চয় একদিন এদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্যকে বানচাল করে দিয়ে দিকে দিকে হরি-গুরুচাঁদের সঠিক ধর্ম-দর্শনকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দেবেন; এই আশা করে সমাপ্ত করছি।
__________________________

Address

Gopalganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Guruchand Thakur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category