30/07/2026
#একটি গাড়ির গল্প
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী
১৯৮৪ সাল। হোমনা তখন নতুন উপজেলায় রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্ব, মানুষের সেবা এবং উন্নয়নের নতুন যাত্রায় প্রয়োজন ছিল একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গীর। ঠিক সেই সময় কুমিল্লা থেকে হোমনার মাটিতে এসে পৌঁছায় একটি জীপ। তার পরিচয়, **কুমিল্লা-ক-৭৫০৭**।
জাপানের বিশ্বখ্যাত নির্মাতা **মিটসুবিসি**-র তৈরি এই ডিজেলচালিত জীপটি শুধু একটি গাড়ি ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল হোমনা উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডেপুটি কমিশনার, কুমিল্লার নামে নিবন্ধিত এই গাড়িটি প্রথম থেকেই দায়িত্ব পালন করেছে নিষ্ঠা ও নির্ভরতার সঙ্গে।
একটি একটি করে দিন পেরিয়েছে, বছর কেটেছে। এই জীপের চাকার ঘূর্ণনে হোমনার গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, কাঁচা-পাকা পথ, নদী-খাল পেরিয়ে পৌঁছেছে সরকারি সেবা। **১৯৮৪ থেকে ২০০৯ সাল** পর্যন্ত দীর্ঘ **২৫ বছরে** এই গাড়ি বহন করেছে **১৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে**। তাদের সঙ্গে ছুটে বেড়িয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং অসংখ্য সরকারি দায়িত্ব পালনের গল্প।
এই গাড়ির প্রতিটি অংশে যেন জমে আছে হোমনার ইতিহাসের স্পর্শ। এর চাকার ধুলোয় মিশে আছে মানুষের হাসি-কান্না, সংগ্রাম, সাফল্য আর পরিবর্তনের অগণিত স্মৃতি। এটি দেখেছে একটি উপজেলার বেড়ে ওঠা, প্রশাসনের পরিবর্তন এবং সময়ের নানা বাঁক।
আজ হয়তো এই জীপ আর রাজপথে ছুটে চলে না। ইঞ্জিনের শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু ইতিহাসের ভাষা থেমে যায়নি। আজও এটি নীরবে দাঁড়িয়ে আছে, অতীতের গৌরব ও জনসেবার এক জীবন্ত স্মারক হয়ে। নতুন প্রজন্মকে জানিয়ে দিচ্ছে, একটি সাধারণ গাড়িও কখনো কখনো একটি জনপদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
হোমনা উপজেলার **৩২তম নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা** **মোঃ শহিদুল ইসলাম**-এর উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক জীপটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানতে পারে, **ক-৭৫০৭** শুধু একটি গাড়ির নম্বর নয়, এটি হোমনা উপজেলার প্রশাসনিক ঐতিহ্য, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম।