রাজপথের সৈনিক

রাজপথের সৈনিক

Share

আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়

24/01/2024

রাম মন্দিরের উদ্ধোধন উপলক্ষে তথাকথিত কিছু বাংলাদেশী আনন্দ উদযাপন করছে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি বাবরি মসজিদ যে মন্দির ভেঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে এটা আপনার বাপ দাদা বা বিগত কয়েক পুরুষের কেউ দেখেনি এবং খোদ আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) শিওর করেনি যে ওখানে কোনো মন্দির ছিল তারা বলেছে যে ওখানে কিছু একটা ছিল(সেটা যে কোনো কিছু হতে পারে)
কিন্তু আমারা দেখেছি কিভাবে একটা মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে । এটা সম্ভব হয়েছে কারণ সেখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে,এই এক‌ই কাজ যদি কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় করা হয় তাহলে কি আপনারা আনন্দ উদযাপন করবেন?
আপনার তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম যে ৪০০ বছর আগে মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিলো, ৪০০ বছর আগের ঘা আপনারা এখনো ভুলতে পারেননি যেটা আপনি তো দূরের কথা আপনার কয়েক পুরুষ‌ও দেখেনি তাহলে এই প্রজন্ম নিজ চোখে দেখেছে কিভাবে একটা মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে আপনাদের তুলনায় এই প্রজন্মের ঘা একেবারে তাজা আর তাজা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়েন না

12/10/2023

একফোঁটা রক্ত শরীরে থাকতে আল-আকসা ছেড়ে দিবো না

25/09/2023

সেদিন ছিলো ৫০০ টন, আর এখন ৫,০০০ টন। সামনের দিনে ৫০,০০০ টন হলেও কেউ আর কিছু বলবে না। কারণ এখন আর আবরার ফাহাদ বেঁচে নেই,,,

05/01/2020

ইহুদি খ্রিস্টানরা হত্যা করার সময় শিয়া সুন্নি বাছাই করছে না। ইরাকিদেরও মারছে ফিলিস্তিনিদেরও মারছে। কিন্তু মুসলিমরা এই লোকটাকে শিয়া কাফের বলে পৈশাচিক এক হাসি দিচ্ছে।
সেই মুসলিমদের বলছি আপনারা মধ্যপ্রাচ্যে যান। শিয়া ইরানকে সরিয়ে ইসরায়েল আমেরিকার হাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে বাঁচান।
আর যদি বলেন সেই দ্বায়িত্ব যদি আপনার না তাহলে অন্তত যান রোহিঙ্গাদের বাচাঁন। তাহলে এই দেশ টা বাঁচবে আপনার সুন্নি মুসলমানরাও বাঁচবে।

স্যার [ #শহীদ_জেনারেল_কাশেম_সুলাইমানি]
আমাদেরকে ক্ষমা করুন আমরা বীরের মূল্যায়ন করতে জানি না 😢😢

05/01/2020

আমি শিয়া সুন্নি বুঝিনা,শুধু এটুকু বুঝি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার জারজ সন্তান ইজরায়েলকে বশে আনার একটায় ঔষধ ইরান।
তবে আজ #মেজর #জেনারেল #কাসেম #সোলায়মানি কে হত্যা করে আমেরিকা ইরানের বুকের ঠিক মাঝখানে তীর গেথে দিয়েছে।
এখন ইরানের কাউন্টারে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯%।
তারা যে একজন বীরকে হারিয়ে দমে যায়নি সেটা মনে হয় তারা অবশ্যই প্রমান করবে..
নতুবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নাম নিশানা বিলিন হতে পারে।

25/12/2016

এটা কি মগের মুল্লুক নাকি
ধর্মের কথা বলতে গেলেই নামের পরে জঙ্গী টাইটেল বসে যাচ্ছে

16/04/2016

খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ)

ভূমিকা :

খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) ছিলেন মুসলিম ইতিহাসে ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক মহান সেনাপতি। যিনি রণক্ষেত্রে নিজের শক্তি ও মেধার দ্বারা বাতিলের শক্তি মূলোৎপাটন করে তাওহীদের ঝান্ডাকে বুলন্দ করেছিলেন। মিসরের খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক আববাস মাহমুদ আল-আক্কাদ ‘আবকারিয়াতু খালিদ’ নামক গ্রন্থে তাঁর সামরিক ব্যক্তিত্বের পর্যালোচনা করে বলেন, ‘সামরিক নেতৃত্বের সব গুণাবলীই খালিদ (রাঃ)-এর মধ্যে ছিল। বাহাদুরী, সাহসিকতা, উপস্থিত বুদ্ধি, তীক্ষ্ম মেধাসম্পন্ন, অত্যধিক ক্ষিপ্রতা এবং শত্রুর উপর অকল্পনীয় আঘাত হানার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় (তালিবুল হাশেমী, বিশ্বনবীর সাহাবী, অনুবাদ : আব্দুল কাদের (ঢাকা : আধুনিক প্রকাশনী, ২য় সংস্করণ; ১৯৯৪ খ্রিঃ, ১/১৮৮ পৃঃ)। নিমেণ এ কুশাগ্রবুদ্ধি মহান সেনাপতির সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হ’ল।

নাম ও জন্ম :

মূল নাম খালিদ, উপনাম আবু সুলায়মান ও আবুল ওয়ালীদ। লক্বব সাইফুল্লাহ (আল্লাহ্র তরবারী)। মূতার যুদ্ধে অসমান্য অবদানের জন্য তিনি ‘সাইফুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

খালিদের জন্ম তারিখ সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু জানা যায় যে, নবুয়তের ১৫ অথবা ১৬ বছর পূর্বে তাঁর জন্ম হয়। আর রাসূল (ছাঃ)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির সময় তাঁর ২৪ অথবা ২৫ বছর বয়স হয়েছিল।

বংশ পরিচয় :

পিতা ওয়ালিদ ইবনু মুগীরা। মাতা লুবাবা আস-সুগরা। যিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ময়মুনা বিনতুল হারিছের বোন (আছহাবে রাসূল ২/৬৩ পৃঃ)। এ দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর খালু। তিনি মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশ তালিকা হচ্ছে-খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখযুম আল-কুরাশী আল-মাখযুমী (আল-ইছাবাহ ফী তাময়ীযিছ ছাহাবা, ২/৯৮ পৃঃ)।

ইসলাম গ্রহণ :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খালিদ ইবনু ওয়ালিদের ইসলাম গ্রহণের জন্য দো‘আ করতেন। তিনি বলতেন, ‘হে আল্লাহ খালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালামা ইবনু হিশাম এবং দুর্বল মুসলমানদেরকে কাফিরদের হাত থেকে মুক্তি দান করুন’। এ দো‘আর বরকতে আল্লাহ্র রহমতে ৭ম হিজরী সনে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ইসলাম গ্রহণ করেন (তাফসীর ইবনু কাছীর ১৬৩ পৃঃ)। তবে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সময় সম্পর্কে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। আসমাউর রিজালের বিভিন্ন গ্রন্থে বলা হয়েছে, তিনি ৮ম হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) নাজ্জাশীর দরবারে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তা সবার জানা কথা। এটা অষ্টম হিজরীর ঘটনা। অপর বর্ণনায় পাওয়া যায়, আমর হাবশা থেকে ফেরার পথে খালিদ এবং উছমান ইবন ত্বালহার সাথে সাক্ষাত হয় এবং তারা তিনজন একত্রে ইসলামের গ্রহণ করে। এতে বোঝা যায় এরা সপ্তম হিজরীর প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ পাকই সবকিছু ভাল জানেন (আর-রাহীকুল মাখতূম ৩৫৭ পৃঃ)। হযরত খালিদ ইবনু ওয়ালিদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণকালে বলেছিলাম আল্লাহ্র পথে বাঁধা সৃষ্টি করে জীবনে যত পাপ করেছি হে আল্লাহ্র রাসূল (রাঃ) তা ক্ষমার জন্য দো‘আ করুন। তখন রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বলেছিলেন, ‘ইসলাম অতীতের সকল গুনাহসমূহকে মুছে দেয়’। আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)! আমি এ কথার উপর বায়‘আত করলাম (রিজালুন হাওলার রাসূল, ২৮৪ পৃঃ)।

ইসলামের দাওয়াত সম্প্রসারণে খালিদ :

হিজরী নবম সনে রাসূল (ছাঃ) খালিদকে তাওহীদের দাওয়াত প্রচারের উদ্দেশ্যে বনী জুজাইম গোত্রে প্রেরণ করেন। খালিদের দাওয়াতের ফলে বনী জুজাইম গোত্র ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হয়। কিন্তু অজ্ঞতাবশতঃ তারা তাদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে না পারায় খালিদ তাদের ভুল বোঝেন। তিনি তাদেরকে হত্যার আদেশ দেন। ফলে সে গোত্রের বহুলোককে হত্যা করা হয়। রাসূল (ছাঃ) বিষয়টি অবহত হ’লে তিনি ভীষণ দুঃখিত হন। তিনি হাত উঠিয়ে দো‘আ করেন, ‘হে আল্লাহ খালিদ যা করেছে এ ব্যাপারে আমি দায়মুক্ত। অতঃপর তিনি আলী (রাঃ)-কে সেখানে পাঠান এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দেন। এমনকি তাদের নিহত প্রাণীগুলোরও ক্ষতিপূরণ দেন (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, পৃঃ ৪৫০)।

১০ম হিজরী সনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) খালিদ (রাঃ)-কে নাজরানের বনু আব্দিল মাদ্দাদের গোত্রে পাঠান। যেহেতু খালিদ বনু জুজাইমের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কঠিন ভুল করেছিলেন সেজন্য রাসূল (ছাঃ) এ যাত্রার পূর্বে তাকে বিশেষভাবে নছীহত করে বলেন, ‘কেবল ইসলামের দাওয়াতই দিবে, কোন অবস্থাতেই তলোয়ার উঠাবে না। তিনি এ নছীহত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেন। তার দাওয়াতে মাদ্দান গোত্র ইসলাম কবুল করে ধন্য হয়। এ সকল নওমুসলিমদের তিনি দ্বীনী তা‘লীম ও তারবিয়াত শিক্ষা দেন এবং তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে নিয়ে আসেন। একই বছরে ইয়ামানবাসীর নিকটে দাওয়াত প্রচারে খালিদ ও আলী (রাঃ)-কে পাঠান। তাঁদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইয়ামানবাসী ইসলাম গ্রহণ করে (আসহাবে রাসূল, ২/৬৬ পৃঃ)।

মূর্তি ভাঙ্গলেন খালিদ :

জাহেলী যুগে আরববাসীদের মূর্তিপূজার একটি অন্যতম কেন্দ্র ছিল উজ্জা। রাসূল (ছাঃ) খালিদকে ঐ কেন্দ্রীয় মূর্তিটি ধ্বংসের জন্য পাঠালেন। তিনি সেখানে গিয়ে নিমেণর পংক্তিটি আবৃতি করতে করতে তাকে মাটির সাথে গুড়িয়ে দেন, ‘ওহে উজ্জা তুই অপবিত্র, আমরা তোকে অস্বীকার করি। আমি দেখেছি আল্লাহ তোকে অপমান করেছেন’।

সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহ্র তরবারী উপাধি লাভ :

মূতার যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিকে হারিয়ে মুসলিম বাহিনী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখন তারা খালিদ ইবন ওয়ালীদকে সিপাহসালার মনোনীত করেন। অতঃপর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হয়ে খালিদ অসীম বীরত্ব ও অপূর্ব দক্ষতা প্রদর্শন করে বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন। মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর এই তেজস্বীতা ও বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহ্র তরবারী উপাধিতে ভূষিত করেন।

রণাঙ্গনে খালিদ :

খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের মাত্র দুমাস পরেই সর্বপ্রথম মূতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ৬২৯ খৃষ্টাব্দের ২২ শে মার্চ মূতার যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যায়েদ ইবনু হারিছা (রাঃ)-কে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি নির্দেশ দেন যায়েদ নিহত হ’লে জাফর আর জাফর নিহত হ’লে আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে। যখন উভয়পক্ষের মাঝে তুমুল যুদ্ধ শুরু হ’ল তখন তিন সেনা কমান্ডারই অতুলনীয় বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করতে করতে অবশেষে শাহাদত বরণ করেন। অতঃপর জনতার মতামতের ভিত্তিতে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) সেনা কমান্ডার নিযু্ক্ত হন। অতঃপর তিনি অসীম বীরত্ব দেখিয়ে শত্রু পক্ষকে ছিন্নভিন্ন ও ছত্রভঙ্গ করে দেন। তিন তিনজন সুযোগ্য সেনা নায়ককে হারিয়েও মুসলমানরা অবশেষে বিজয় লাভ করেছিল (আর-রাহীকুল মাখতুম ৪০১-৪০২ পৃঃ)। ছহীহ বুখারীতে স্বয়ং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তলোয়ার ভেঙ্গেছে। এরপর আমার একটি ইয়ামানী তলোয়ার অবশিষ্ট ছিল (ছহীহ বুখারী, মূতার যুদ্ধ অধ্যায় ২/৭১১ পৃঃ)।

১০ম হিজরী সনে মক্কা বিজয়ের মূহূর্তে ছাহাবাগণ যখন মক্কায় প্রবেশ করছিলেন তখন রাসূল (ছাঃ) খালিদকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন মক্কার ঢালু এলাকায় প্রবেশ করেন। নবী (ছাঃ) খালিদকে বলেন, যদি কুরাইশরা কেউ তোমার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তাহ’লে তুমি তাকে ক্বতল করবে। এরপর মক্কায় গিয়ে আমার সাথে দেখা করবে। খালিদ (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর এ নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। অতঃপর তিনি ও তাঁর সঙ্গীদের পথে যেসব পৌত্তলিক বাঁধা হয়ে এসেছিল তাদেরকে মুকাবেলা করে হত্যা করেন। অতঃপর খান্দামা নামক স্থানে খালিদ ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে উচ্ছৃঙ্খল কতিপয় কুরাইশ পক্ষ মুখোমুখি হয়। কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলে। এতে বারো জন কুরাইশ নিহত হয়। এ ঘটনায় কুরাইশদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করতে সংকল্পবদ্ধ হাম্মাম ভয়ে ভীতু হয়ে ছুটে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। এভাবে খালিদ (রাঃ) মক্কার দক্ষিণাংশের সমস্ত বিপর্যয় অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মুকাবেলা করে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মিলিত হন (আর-রাহীকুল মাখতুম ৪১৯ পৃঃ)।

ভন্ডনবীদের দমনে খালিদ :

রাসূল (ছাঃ)-এর ইন্তেকালের পর সমস্ত আরবে বিদ্রোহের দানা বাঁধতে থাকে। একদিকে ইসলাম ত্যাগকারী ও যাকাত অস্বীকারকারী, অপর দিকে ভন্ডনবীদের উৎপাত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই ফেৎনাবাজদের শিরদাড়া গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়ে আবূ বকর (রাঃ) তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু বিশিষ্ট ছাহাবীদের অনুরোধে তিনি তা করেননি বরং মদীনাতেই রয়ে গেলেন। তিনি গোটা সেনাবাহিনীকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১টি ভাগের দায়িত্ব দিলেন খালিদকে। খালিদকে মদীনা থেকে বিদায় দেওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তোমার সম্পর্কে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘খালিদ আল্লাহ্র একটি তরবারী-যা আল্লাহ কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত করেছেন। খালিদ আল্লাহ্র কতইনা ভাল বান্দা’ (রিজালুন হাওলার রাসূল ২৯৩ পৃঃ)। তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে মদীনা ত্যাগ করেন। সর্বপ্রথম তিনি ভন্ডনবী তুলায়হার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তুমুল যুদ্ধ চলছে। প্রতিটি সংঘর্ষে তুলায়হা পরাজয় বরণ করছে। এমন সময় তুলায়হা একদিন তার আপনজনদের জিজ্ঞাসা করল আমাদের এত বিপুল সৈন্য থাকতেও আমাদের এমন শোচনীয় পরাজয় কেন? তার সঙ্গীরা তাকে বলল, আমাদের প্রত্যেকেই চায় তাঁর সাথী আগে মারা যাক আর তারা প্রত্যেকেই চায় যে সে তাঁর সঙ্গীর আগে মৃত্যুবরণ করুক (হায়াতুছ ছাহাবা ৩/৬৯৩ পৃঃ)। অতঃপর খালিদ তুলায়হার সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করেন এবং ৩০ জনকে বন্দী করেন।

তারপর তিনি মুসায়লামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। মুসায়লামা হামযা (রাঃ)-এর হত্যাকারী ওয়াহশী (রাঃ)-এর হাতে নিহত হয়ে চির বিদায় নেয় (আসহাবে রাসূলের জীবনকথা ২/৬৭ পৃঃ)। ‘তারীখুল খুলাফা’ গ্রন্থকার বলেন, ভন্ড নবীদের ফিৎনা নির্মূল করার পর হযরত খালিদ (রাঃ) যাকাতদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী ও মুরতাদদের দিকে ধাবিত হন এবং তাদের উপর কঠিনতর আঘাত হানেন। তাদের কিছু মারা যায় এবং কিছু ধৃত হয়। আর অবশিষ্টরা তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে’ (তারীখুল খুলাফা, ৭২ পৃঃ)।

অপরাজিত এক বীর সিপাহসালার খালিদ :

অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দমনের পর খালিদ ইরাক অভিমুখে রওয়ানা দেন। আনবার, আইনুত তামুর, দুমা, হীরা ও সোনা প্রভৃতি অঞ্চল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিজয় লাভ করেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) সর্বশেষ যুদ্ধ করেন ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে। ফোরাতের এক তীরে মুসলিম বাহিনী অপর তীরে ইরাকী বাহিনী। ইরাকীদের প্রস্তাবমতে তাদেরকে নদী পার হবার সুযোগ দিলে তারা নদী পার হয়। মুসলিম বাহিনী শত্রু বাহিনীকে তিন দিক ঘিরে ফেলে। তাদের পিছনে বিক্ষুব্ধ তরঙ্গমালা বিশাল নদী। সামনে মুসলিম সৈন্যদের তরবারীর ভেদ। পিছনে সুবিশাল সমুদ্র। পালানোর কোন পথ নেই। সামনে অতিক্রম করলে তরবারীর আঘাত আর পিছনে ফিরে গেলে ডুবে মরা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিল না। অতঃপর মুসলিম বাহিনী শত্রু পক্ষকে কঠিনভাবে আক্রমণ করে। ফলে মুসলমানগণ বিজয় লাভ করেন। পরিশেষে যুদ্ধ বিজয়ের পর খালিদ গোপনে হজ্জ করতে যান (আছহাবে রাসূলের জীবনকথা, ৬৮ পৃঃ)।

ইরাক জয়ের পরপরই খালিদ (রাঃ) খলীফার নির্দেশে বসরায় যান ও পূর্বে অবস্থানরত মুসলিম বাহিনীর সাথে যোগদান করেন। খালিদ সেখানে পৌঁছেই বসরায় আক্রমণ করেন। তার আক্রমণে হতভম্ব হয়ে বসরাবাসী ৬৩৮ খৃষ্টাব্দে তাদের শান্তি চুক্তি করে। এরপর খালিদ সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হন। সিরিয়ায় অভিযানের প্রথমেই খালিদ দামেশক অবরোধ করেন। সেখানে খালিদ (রাঃ) প্রায় ছয়মাস অবরোধ করে রাখেন। কিন্তু দুর্গ প্রাচীর অতিক্রম করতে পারেন নি। এ সময় এক পাদ্রীর পুত্র সন্তান জন্মের কারণে আনন্দে নগরীর অধিবাসীরা মদপানে মত্ত ছিল। তাই সময় বুঝে একদিন রাতে খালিদ তাঁর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে দুর্গ প্রাচীর অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশ করেন ও দ্বাররক্ষীদের হত্যা করেন। ফলে নগরের প্রধান ফটক মুসলমানদের নিকট উন্মুক্ত হয়। অকস্মাৎ আক্রমণে ভীত হয়ে তারা তরিৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে মুসলমানদের সাথে সন্ধি করে। এ অভিযানে আবু ওবায়দা, আমর ইবনুল ‘আছ ও সুরাহবিল (রাঃ) খালিদকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন।

দামেশক বিজয়ের পর খালিদ (রাঃ) জর্দান অভিমুখে রওয়ানা দেন এবং জর্দানের নিকটবর্তী ফিহল নামক স্থানে তাঁবু স্থাপন করেন। রোমানরা সেখানে অযৌক্তিক প্রস্তাব সম্বলিত সন্ধি প্রস্তাব দেয়। মুসলমানরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে রোমানগণ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। দামেশক জর্দান ও হিমসের ন্যায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নগরের পতনে রোমান সম্রাট ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ২,৪০,০০০ জনের এক বিরাট বাহিনী প্রেরণ করেন।

খালিদ ইবনু ওয়ালীদ যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান বিভিন্ন কমান্ডার পৃথকভাবে সৈন্য পরিচালনা করছেন। তখন খালিদ (রাঃ) যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে এক গুরুগম্ভীর ভাষণ প্রদান করেন। হামদ ও ছানার পর তিনি বলেন, ‘আজকে এ দিন আল্লাহ্র নিকট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তোমরা গর্ব অহংকার থেকে বিরত থাক। তোমরা খালেছভাবে যুদ্ধ কর। তোমাদের কাজের জন্য প্রভুর সন্তুষ্টি কামনা কর। এসো আমরা নেতৃত্ব ভাগাভাগি করি। কেউ আজ কেউ আগামী ও কেউ পরশু আমীর হই। আর আজকের দিন আমার উপর ছেড়ে দাও’। অতঃপর তাঁর এই তেজোদীপ্ত বক্তব্য সকলে সমর্থন দিল। প্রধান সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে খালিদ (রাঃ) মুসলিম সেনাদলকে এমনভাবে বিন্যস্ত করলেন যে আরবরা কোনদিন এমন বিন্যস্তকরণ চোখে দেখেনি (আছহাবে রাসূলদের জীবনকথা ২/৬৯)। অতঃপর তুমুল যুদ্ধ শুরু হল। রোমানরা এমনভাবে আক্রমণ করল যে আরবরা এরকম বিপদে ইতিপূর্বে কখনও নিমজ্জিত হয়নি। মুসলিম বাহিনীর মাঝখানের দায়িত্বে ছিলেন কাকা ও ইকরামা (রাঃ)। খালিদ তাদেরকে ও সমস্ত মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণের নির্দেশ দিলেন। ফলে যুদ্ধ সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করল। হযরত খালিদও তীব্র আক্রমণ চালালেন। তিনি যে দিক গেলেন সে দিকের রোমান বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। তাদের শোচনীয় পরাজয় হল। ঐতিহাসিক তাবারীর মতে, এ যুদ্ধে লক্ষাধিক রোমান সৈন্য নিহত হয়।

এরপর মুসলমানরা বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করে। এ অবরোধে মুসলিম বাহিনীর সেনাপ্রধানদের মধ্যে খালিদও ছিলেন একজন। বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীরা বাঁচার কোন পথ না পেয়ে স্বয়ং উমার (রাঃ)-এর নিকট সন্ধিচুক্তি করার প্রস্তাব দেন। তাদের অনুরোধে উমার (রাঃ) সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এভাবেই প্রত্যেক যুদ্ধে খালিদ ইবনে ওয়ালীদের সুতীক্ষ্ম ও সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদান করে ইসলামের বিজয় পতাকা বিশ্বের ময়দানে উড্ডীন করেন।

প্রধান সেনাপতির পদ থেকে অপসারণঃ

খলীফা উমার (রাঃ) খালিদ (রাঃ)-কে ৬৩৮ খৃষ্টাব্দে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেন। অতঃপর খলীফা ওমর (রাঃ) সর্বত্র ঘোষণা দেন যে, ‘আমি খালিদকে আস্থাহীনতা, ক্রোধবশতঃ বা এ জাতীয় কোন কারণে অপসরণ করিনি। শুধুমাত্র এ কারণে পদচ্যুত করেছি যে, মুসলমানরা জেনে নিক যে, খালিদের শক্তির ওপর ইসলামের বিজয়সমূহ নির্ভরশীল নয়। বরং ইসলামের বিজয় আল্লাহ্র মদদ ও সাহায্যের উপর নির্ভরশীল (ইবনুল আছীর, তারিখে কামিল, ২/৪১৮ পৃঃ)।

অপসারণের কারণঃ

তার অপসারেণের করণ সম্পর্কে ইতিহাসে দু’টি অভিমত পাওয়া যায়। প্রথমত, মুসলিম অমুসলিম সকলেই ধারণা করত যে, খালিদ বিন ওয়ালিদের কারণে প্রত্যেক যুদ্ধে বিজয় হচ্ছে। খলিফা এ কুধারণা দূর করার জন্য তাকে অব্যাহতি দেন (আছহাবে রাসূল ২/৭৩ পৃঃ)।

দ্বিতীয়ত, তাঁর অব্যাহতির ঘটনা কেউ কেউ এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, খালিদ (রাঃ)-এর ব্যয় কখনো কখনো সীমা অতিক্রম করত। মাঝে মাঝে তিনি বিপুল পরিমাণে সম্পদ দান করতেন। তিনি কবি আশ‘আছ ইবনে ক্বায়েসকে ১০ হাজার দিরহাম দান করে দেন। খলিফা বিষয়টি অবগত হয়ে আবূ উবায়দাকে জিজ্ঞেস করতে বলেন, তিনি কোন খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করেছেন? তিনি উত্তরে বলেন নিজের অর্থ থেকে। তারপর তিনি খলীফার নির্দেশ পড়ে শোনান। অতঃপর খালিদ (রাঃ) বলেন, আমি খলীফার ফরমান শুনলাম ও মানলাম। কারো মতে এ ঘটনা ইয়ারমুকের যুদ্ধ চলাকালে ঘটে (আছহাবে রাসূলের জীবনকথা, ২/৭২ পৃঃ)।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন :

খলীফার উক্ত অব্যাহতি আদেশ তিনি অবনত মস্তকে মেনে নেন এবং সাধারণ সৈনিক বেশে বাকি যুদ্ধে শরীক থাকেন। তারপর খলীফা তাকে সিরিয়ার রাহা, হিরাত, আমদ এবং লারতার অঞ্চলসমূহের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন (আছহাবে রাসূলের জীবনকথা, ২/৭২ পৃঃ)। অতঃপর তিনি খলীফা প্রদত্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত সিরিয়ায় গমন করেন। তিনি ইয়াযীদকে লেবানন, আমর (রাঃ)-কে জেরুজালেম, সুরাহবিলকে জর্দান অভিমুখে পেরণ করেন এবং তিনি দ্রুত গতিতে বলবেক, এডেসা, আলেপ্পো, কিন্নিসিরিন প্রভৃতি স্থান দখন করে সমগ্র সিরিয়া অঞ্চলে মুসলিম শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আর এভাবে তিনি একজন সুদক্ষ সেনানায়ক থেকে একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রীয় শাসকে পরিণত হন।

সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইসলাম গ্রহণের পর হযরত খালিদ মাত্র ১৪ বছর জীবিত ছিলেন। এ অল্প সময়েই তিনি মোট ১২৫ মতান্তরে ৩০০ টি ছোট-বড় যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তবে মজার বিষয় হল তিনি কোন যুদ্ধেই পরাজিত হননি (ইবনুল আছীর, তারীখে কামিল, ৪১৮ পৃঃ)।

ইলমে হাদীছে তাঁর অবদানঃ

ইসলাম গ্রহণের পর থেকে প্রায় মৃত্যু অবধি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করেছেন। মহানবী (ছাঃ)-এর সান্নিধ্যে থাকার খুবই কম সুযোগ পেয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, জিহাদের ব্যস্ততা আমাকে কুরআনের বিরাট একটি অংশ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছে (আল-ইছাবা, ৪১৫ পৃঃ)। তারপরেও তিনি এ শিক্ষা থেকে একেবারে বঞ্চিত থেকেছেন তা নয়। বরং তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে যতটুকু সময় কাঁটাতে পেরেছেন তার সদ্ব্যবহার করেছেন। তিনি মোট ১৮ মতান্তরে ১৭টি হাদীছ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্ব আলাইহ হাদীছ ২টি এবং বুখারী এককভাবে একটি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি ফৎওয়া বিভাগে সাধারণত বসতেন না। তাই তার ফৎওয়ার সংখ্যা দুটির বেশি পাওয়া যায় না।

ইন্তেকালঃ

খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ) ৬৩৯ খ্রিঃ মোতাবেক হিজরী ২১ মতান্তরে ২২ সালে কিছুদিন অসুস্থ হন এবং ৬০ বছর বয়সে মদীনাতে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, তিনি ‘হিমছ’-এ মৃত্যুবরণ করেন। তবে এ মত ঠিক নয় বলে ধারণা করা হয়। কারণ খলীফা উমর (রাঃ) তাঁর যানাযায় উপস্থিত হন বলে ধারণা করা হয় (উসদুল গাবা ১/৯৫)। খালিদের মৃত্যুতে উমার (রাঃ) আফসোস করে বলেছিলেন, ‘নারীরা খালিদের মত সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।’ এমন কি তাঁর মৃত্যুতে খলীফা নিজে কেঁদেছিলেন (রিজালুন হাওলার রাসূল, ৩০৫ পৃঃ)।

উপসংহারঃ

খালিদ (রাঃ) ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীরের আসনে সমাসীন। সামরিক ক্ষেত্রে এবং রণাঙ্গনে তাঁর যে অবদান তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। পাশাপাশি এ কথাও স্পষ্টত প্রতিভাত হয় যে, তিনি একজন যোগ্য শাসকও ছিলেন। পরিশেষে ‘খালিদ সাইফুল্লাহ’ নামক গ্রন্থের একটি উদ্ধৃতি দিয়েই শেষ করছি। সেখানে বলা হয়েছে ‘আল্লাহ তা‘আলা খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ)-এর উপর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ করেছেন। তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা ভুলবার নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ, আমরা যেন তার জীবনীর বিভিন্ন ঘটনাবলীকে নিয়ে চিন্তা করি এবং নিজেদের মধ্যে তাঁর গুণাবলীর সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা করি। কারণ মুসলিম জাতির তাঁর গুণাবলী অবলম্বনের মধ্যেই যথার্থ সার্থকতা নিহিত’। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন। আমীন!!

-মুহাম্মাদ তামীমুল ইসলাম

16/04/2016

অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান উসমান মৃত্যুর পূর্বে তার পূত্র এবং সিংহাসনের উত্তরাধীকারী ওরহান এর নিকট একটি পত্র লিখে যান। পত্রটি- বংশ পরম্পরায় সকল অটোম্যান সম্রাটদের নিকট- সিংহাসনে অরোহনের পূর্বে হস্তান্তর করা হতো। পত্রের সেই চিরন্তন বানীগুলোকে ধারন করে অটোম্যানরা প্রায় 700 বছর ধরে দুনিয়ার সবচেয়ে বৃহত্তম সাম্রাজ্যটি গৌরব এবং সম্মানের সঙ্গে শাসন করেছেন। পাঠকগণের জ্ঞাতার্থে চিঠিটি তুলে ধরলাম-

প্রিয়পুত্র!

তোমার জীবনের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের ওপর সর্বদা ধর্মীয় বিষয়গুলোকে অধিকতর মর্যাদা প্রদান করিও। মনে রাখবে ধর্মীয় নীতি নৈতিকতার সাহায্যেই তুমি কেবল একটি শক্তিশালী নৈতিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে। ধর্মীয় বিষয়াদি তদারকীর দায়িত্ব কখনো গুনাগার, পাপী, দায়িত্বজ্ঞানহীন, অনভিজ্ঞ, ভিন্নমতের মানুষ কিংবা- অলস ব্যক্তিদের ওপর অর্পন করবে না। এই ধরনের লোকজনকে ভুলেও রাষ্ট্র ক্ষমতার কোন পদে বসাবে না। কারন যে মানুষ তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভয় করে না সেই মানুষ কখনো আল্লার বান্দাদেরকে সম্মান করতে জানেনা। একজন পাপী যদি অনবরত পাপ করতে থাকে সে ক্ষেত্রে সে কখনোই কারো অনুগত হতে পারেনা। পন্ডিত ব্যক্তিগণ, ধার্মিক মানুষজন, শিল্পী এবং সাহিত্যিকগণ হলেন রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাদের প্রতি সবসময় সম্মান, শ্রদ্ধা এবং দয়া প্রদর্শন করবে।
সব সময় খুজেঁ খুজেঁ গুণী ব্যক্তিদেরকে বের করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক-স্থাপন করবে এবং তাদেরকে অর্থবিত্ত দিয়ে নিজেকে সম্মানীত করার চেষ্টা করবে। এই সকল লোকের মাধ্যমে তোমার রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নীতিমালা সমূহ বাস্তবায়ন করবে। হে পূত্র- তুমি আমার জীবন থেকে শিক্ষা নাও- এই জনপদে আমার নেতৃত্ব ছিলো অতিশয় দূর্বল। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে আমি তোমাকে বর্তমানের গৌরবময় স্থানে রেখে গেলাম- অথচ এই স্থানে পৌছানোর কোন যোগ্যতাই আমার ছিলো না। তুমি আমার জীবন যাত্রা এবং কর্মপন্থা অবলম্বন করো, দ্বীনে মোহাম্মদীকে রক্ষা করো এবং বিশ্বাসী মানুষ ও ফুলকে সুরক্ষা করো এবং ভালবাসো। মহান আল্লার অধিকারের দিকে ভুলেও নজর দিবেনা এবং আল্লার অধিকারের প্রতি সম্মান রাখবে এবং তার বান্দাদেরকে সম্মান করবে। আমি যেভাবে তোমাকে আদেশ ও উপদেশ দিয়ে গেলাম তদ্রুপ তোমার পরবর্তী উত্তরাধীকারীকেও তুমি এই ওসিয়তগুলো পৌছে দেবে। প্রতিটি কর্ম সম্পাদনে তুমি সর্বোচ্চ যতœশীলতার সঙ্গে পরিশ্রম করবে, কখনো নিষ্ঠুর হবে না, প্রতিটি কর্মে স্বচ্ছতা এবং ন্যয়বিচার নিশ্চিত করবে এবং সবশেষে ফলাফলের জন্য মহান আল্লার ওপর নির্ভর করবে। শত্রুর আক্রমন, প্রতিহিংসা, নিষ্ঠুরতা আর চক্রান্ত থেকে তোমার জনগণকে রক্ষা করবে। কখনো কারো সঙ্গে অসৌজন্যমূলক অসদাচ‍রন করবেনা। জনগণকে সম্মান করবে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোম্যান সুলতান একটা স্টেজে জার্মানদেরকে সাহায্য করতে বাধ্য হন। আবার নবিজীর চল্লিশতম বংশধর শেরিফ বিন আলি ব্রিটিশদের সাহাজ্য নিয়ে অটোম্যান খলিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।ইংজদের সহায়তায় আরব শেরিফ যুদ্ধের আগেই আরব মুসলমানদের শাসক হতে চেয়েছিলেন । যুদ্ধের সময়ে শেরিফ ইংরেজদের লিখিত চুক্ত বিশ্বাস করেন। একাধিক বার বিশ্বাস ভঙ্গের প্রমান পেয়েও তিনি বিশ্বাস করতে থাকেন আরব ভুমি থাকবে অক্ষত। সেখানে তিনিই হবেন একচ্ছত্র শাসক। অথচ যুদ্ধ শেষ হওয়ার অনেক আগেই রাশিয়া ফ্রান্স, ইংল্যান্ড নিজেদের মধ্যে মুসলিম দেশগুলো ভাগাভাগি করে নেয়। ফিলিস্তিন ভুখন্ড দিয়ে দেয় ইসরাইলকে। একে একে ইংরেজ আর ফরাসিদের হাতে পরে বাগদাদ, দামেস্ক, ফিলিস্তন সহ মুসলিম বিশ্বের আরও অনেক ভুখন্ড।ব্রিটিশরা আরব এবং ভারতীয় মুসলিমদেরকে দিয়ে অটোম্যান খিলাফতের বিরুদ্ধে করায়। ভারতের সাধারণ মুসলিমরা ব্রিটিশদের হয়ে যুদ্ধ করছিল আবার সাথে সাথে বারবার দেয়া ব্রিটিশদের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছিল - অটোম্যান সাম্রাজ্য থাকবে অক্ষত।এখানে মুসলিমরা ইমেপেরিয়লিস্ট এজেন্ডার বাস্তবায়নকারি হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তারা ছিল বড় প্লেনের অংশ মাত্র,মোটেও খেলোয়াড় নয়। এখনকার সময়ের সৌদিআরব, কুয়েত আরব আমিরাতের মত যারা ভাবে আমেরিকা তাদের আদি এবং অকৃত্তিম বন্ধু। তারা ভাবে সাদ্দাম আমাদের জন্য হুমকি, অতএব সাদ্দামকে সরিয়ে দাও যে কোন মুল্যে।গাদ্দাফি আরবদের সম্মেলনে দাড়িয়ে বলেছিলেন- আমরা যারা এখানে বসে আছি, এরপর একে একে আমাদের পালা আসবে। নিয়তির কি পরিহাস ঠিক এরপরই এসেছে গাদ্দাফির পালা। গাদ্দাফির কথা শুনে বাশার আল আসাদ হাসছিলেন, হেসে সমরথন দিচ্ছিলেন। এরপর আসল তার পালা। এভাবে আরবদেরপালা চলছে। তেলের পরিমান এবং তেল সম্পদে প্রবেশাধীকারকে হিসেব করে এ যুদ্ধ চলবে।মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদল হবে আমেরিকা- রাশিয়ার প্রক্সি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বাঘ আর সিংহের মধ্যে কে বেশী ফ্রেন্ডলি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে মুসলিম উম্মাহ এখন খুব ব্যস্ত

16/04/2016

এই পৃথিবীতে বহু ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ইসলামের সেবা করে ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি ইসলামের জ্ঞান ভান্ডারে যে অবদান রেখে গেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ তার কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে।

জন্ম ও বংশ পরিচয়:
ইমাম আজমের পূর্ব পুরুষরা আদিতে কাবুলের অধিবাসী হলেও ব্যবসায়িক সূত্রে তারা কুফাতে নিবাস গড়েন। তার পিতা সাবিত ছিলেন একজন তাবেয়ি। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি ৬৯৯ ঈসায়ি সালের ৫ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল নাম ছিল নোমান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আবু হানিফা উপনামে সুখ্যাতি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন:
বিখ্যাত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ইমামে আজম ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। লেখাপড়ার প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ১৯ বা ২০ বছরের দিকে ইমাম শাবীর (রহ.) নজরে পড়েন তিনি। ইমাম শাবী (রহ.) তাকে ডেকে দ্বীনী জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেন। শাবীর ক্ষণিকের সান্নিধ্য তার জীবনের মোড় বদলে দেয়। তিনি জ্ঞানার্জনের প্রতি প্রচন্ড আগ্রহী হয়ে উঠেন। ব্যবসার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দিয়ে জন্মভূমি কুফার বড় বড় শায়েখদের থেকে জ্ঞানার্জন করতে থাকেন। তিনি বিশেষভাবে ইমাম হাম্মাদের শিষ্যত্ব বরণ করেন। ইমাম হাম্মাদ হলেন ইবরাহিম নখঈ’র প্রিয় ছাত্র। আর ইবরাহিম ইবনে নখঈ (রহ.) হাদিস শাস্ত্র ও ইলমে শরিয়ত শিক্ষা লাভ করেছিলেন হজরত আলী (রা.) এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে।
ইমাম হাম্মাদ একাধারে বিশ বছর পরম যত্নের সঙ্গে মেহনত করে নোমান ইবনে সাবিতকে ইমামে আজমরূপে গড়ে তোলেন।

ইমাম আজম শুধু কুফার প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকিহদের জ্ঞানভান্ডারের ওপর সন্তুষ্ট না থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য হারামাইন শরিফাইন ভ্রমণ করেন। ১৩০ হিজরি থেকে ১৩৬ হিজরি পর্যন্ত একটানা ৬ বছর হারামাইন শরিফাইনে অবস্থান করে সেখানকার বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের কাছ থেকে হাদিস আহরণ করেন। ঐতিহাসিকদেরর মতে তিনি প্রায় চার হাজার মুহাদ্দিস থেকে হাদিস শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

কর্মজীবন:
১২০ হিজরিতে উস্তাদ হাম্মাদের ইন্তেকালের পর তিনি উস্তাদের মাদ্রারাসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঠদানের পাশাপশি পৈতৃক কাপড়ের ব্যবসাও ধরে রেখেছিলেন।

তাবেয়ি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন:
ইমামে আজম (রহ.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্য ধন্য বেশ কয়েকজন সাহাবির সঙ্গলাভ করে তাবেয়ি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- হজরত আনাস ইবনে মালেক রা. (৯৩ হি.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আউফা রা. (৮৭ হি.), হজরত সাহল ইবনে সাদ রা. (৮৮ হি.) হজরত আবু তুফাইল রা. (১১০ হি.), হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইদি রা. (৯৯ হি.), হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. (৯৪ হি.) ও হজরত ওয়াসেনা ইবনে আসকি রা. (৮৫ হি.)।

জীবনচিত্র:
আল্লাহতায়ালা ইমাম আবু হানিফাকে অতুলনীয় জ্ঞান দান করেছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। তিনি প্রায় ৫৫ বার হজব্রত পালন করেন। আদায় করেন অসংখ্য ওমরা। প্রতি রমজানে অসংখ্যবার কোরআন খতম করতেন। কথিত আছে, তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বছর এশার নামাজের অজু দিয়ে ফজরের নামাজ পড়েছিলেন।
ব্যবসায়ী কার্যক্রমে কোনো লেনদেনের ব্যপারে সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলে সে লেনদেনের সম্পূর্ণ অর্থ দান করে দিতেন। সততা ও নৈতিকতা ছিল তার ব্যবসার মূলভিত্তি। উপার্জিত সম্পদের বৃহৎ একটি অংশ জনসেবায় খরচ করতেন।

অবদান:
পাঠদানের দীর্ঘ জীবনে অসংখ্যা ছাত্রকে ফকিহরূপে তৈরি করেছেন। তদানীন্তন সময়ের বিশাল মুসলিম স¤্রাজ্যের প্রায় সব শহরের বিচারপতির আসন তার ছাত্ররা অলঙ্কৃত করেছিলেন। তার প্রিয় ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ছিলেন প্রধান বিচারপতি।
ইমাম আবু হানিফার রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মুসনাদে আবু হানিফা, আল ফিকহুল আকবার, ওয়াসিয়াতু আবু হানিফা ও কিতাবুল আসার।
গবেষকদের মতে তিনি চল্লিশ হাজার হাদিস থেকে বাছাই করে কিতাবুল আসার সঙ্কলন করেছিলেন। তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো কোরআন ও হাদিস থেকে জনসাধারণের আমল উপযোগী মাসয়ালা বের করার মূলনীতি দাঁড় করানো। তার সম্পাদিত এ শাস্ত্রের নাম উসূলুল ফিক্হ। এ কাজের জন্যই তিনি ইমামে আজম খ্যাতি লাভ করেন। তার প্রণীত ফিকাহ আমাদের কাছে ফিকহে হানাফি নামে পরিচিত।

মৃত্যু:
খলিফা মনসুর তাকে প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি জালেম শাসকের সমর্থনের দায় এড়ানোর জন্য এ পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এতে অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে খলিফা ইমাম আবু হানিফাকে কারাগারে বন্দী করেন। প্রতিদিন তাকে কারাগার থেকে বের করে প্রকাশ্যে দশটি করে চাবুক মারা হতো। চাবুকের আঘাতে তার শরীর থেকে রক্ত বের হতো। সে রক্তে কুফার মাটি রঞ্জিত হতো। পানাহেরর কষ্টসহ বিভিন্নভাবে সত্তর বছর বয়সের বৃদ্ধ ইমামকে নির্যাতন করা হয়। অবশেষে জোর করে বিষ পান করানো হয়। ৭৬৭ ঈসায়ি সালের ১৪ জুন মোতাবেক ১৫০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

16/12/2015

আমি জানি না লাদেন কে? আর লাদেনের কি অপরাধ? আসলেই কি সে অপরাধী ? নাকি সে প্রি-ডিফাইন্ড সিনেমার নায়ক?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের প্রধান সহযোগী গোয়েবলসের প্রপাগান্ডার কথা মনে আছে? তার নীতি কথা ছিলো- মিথ্যা কে বার বার প্রচার করতে থাকো, তাহলে সেটা সত্য হয়ে যাবে। মানুষের মগজে মিথ্যা খবর টাকে বার বার এমন ভাবে ধোলাই করে দিতে হবে যেন সেটা সত্য বলে মনে করে।আর সেই ঘটনাই আমাদের সাথে বার বার ঘটানো হচ্ছে। আমরা নির্দিদ্ধায় সব হজম করে নিচ্ছি। আসুন এবার সিনেমা দেখা শুরু করি।

সিনেমার পরিচালকঃ হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের কর্তা ব্যাক্তিরা, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাগ্য নির্ধারন করে।


সিনেমার শুটিং স্পটঃ সারা পৃথিবী।

সিনেমার নায়কঃ ওসামা-বিন-লাদেন, সাদ্দাম হোসেন,গাদ্দাফী, পারভেজ মোশাররফ প্রমুখ ব্যাক্তি বর্গ।

কাহিনী ক্লুঃ ভিয়েত নাম যুদ্ধ থেকে শুরু – (আফগান যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ইরাক -কুয়েত যুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে যুদ্ধ, ইরাক দখল) লিবিয়া যুদ্ধ পর্যন্ত চলমান।

সিনেমার দর্শকঃ এই মুহুর্তে যিনি আমার পোস্ট পড়ছেন তিনি সহ সমস্ত বিশ্বের মানুষ।

সিনেমার ইতিহাসঃ ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সিনেমার তৈরি না করলে আমেরিকা নামক দেশের অস্তিত্ত্ব থাকতো না। প্রতি একদশক পর পর আমেরিকা নামক দেশের সিনেমা সারা বিশ্বে বাজারজাত করার প্রয়োজনীয়তা আছে। ১৯৪৫ সালের যুদ্ধের পরে আমেরিকা কি কি সিনেমা করেছে তা হয়তো বিশ্ব বাসী জানেন। পঞ্চাশের দশকে ছিলো কোরিয়ান যুদ্ধ। ষাটের দশকে ছিলো ভিয়েতনাম যুদ্ধ। আশির দশকে ছিলো আফগান যুদ্ধ। নব্বই দশকে ছিলো ইরাক যুদ্ধ। একবিংশ শতাব্দিতে এসে দেখছি ক্রমাগত তিনটি যুদ্ধ।

কেন সিনেমার প্রয়োজন হয়? ঃ
আমেরিকান ড্রিম বলে একটা কথা আছে। বিশ্বের অন্য দেশ থেকে সম্পদ সংগ্রহ করো সেটা জোর করে হলেও করো। আর আমেরিকাতে বসে ভোগ করো। আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য সিনেমার প্রয়োজনিয়তা অপরিসীম। কারন তাদের প্রধান পন্য হচ্ছে অস্ত্র। অস্ত্র ব্যাবসা না থাকলে আমেরিকা আর বাংলাদেশের কোনো তফাত মনে হয় থাকতো না। ওদের বৃহত ভোগ্য পন্য হচ্ছে তেল। তাই সিনেমার শুটিং স্পট বেশীর ভাগই হয়ে থাকে তেল সমৃদ্ধ দেশ গুলোকে কেন্দ্র করে। তবে সিনেমার নায়ক দের কে কাহিনীর প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করা হয়।
যেমন লাদেন কে সৌদি থেকে সুদানে নেয়া হলো। তার পরে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়। তার পরে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। এখন তাকে পরপারে পাঠানো হয়েছে।

সিনেমার কাহিনী একঃ সিনেমার ডিটেইলস কাহিনী বলতে গেলে পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই এই যায়গায় কাট করে দিলাম******************( এই যায়গায় কাহিনী ছিলো, ৮০’র দশকে সোভিয়েত আফগান যুদ্ধ। ইরাক ইরান যুদ্ধ । ইরাক কুয়েত যুদ্ধ। রাশিয়া ধ্বংস ও বিভক্তি। এই সিনেমার নায়ক ছিলেন সাদ্দাম হোসেন ও ওসামা বিন লাদেন) তবে সব কাহিনী একই সুত্রে গাথা- একটির সাথে আরেকটি জড়িত।

সিনেমার কাহিনী এখানেই শেষ নয়। যেহেতু ইরাক ৯১ সালের যুদ্ধে আমেরিকার হাতে আসেনি। লাদেন বহিস্কার হলেন সৌদি থেকে। সুদানে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। প্রথম সিনেমা যেহেতু শেষ হয়ে গিয়েছিলো...... জানিনা এখানে যাওয়ার পরে সিয়াইএর সাথে লাদেনের কোনো স্পম্পর্ক ছিলো কিনা। অনেকে বলে থাকেন সম্পর্ক ছিলো। কারন লাদেন কে আমেরিকার প্রয়োজন ছিলো।

সিনেমার কাহিনী দুইঃ

টুইন টাওয়ার হামলার ব্যাপারে অনেক অনেক কাহিনী শুনা যায়, যা এখনো রহস্যাবৃত।

বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা হলো সিআইএ, তার তুলনায় বিন লাদেন নিতান্তই গুহামানব, তিনি কি করে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করলেন তাও একটা রহস্যাবৃত। একজন ইহুদিও কেন মারাগেলো না তাও রহস্যময়। কি ভাবে এতোগুলো বিমান ছিনতাই হলো তার বিশদ ব্যাখ্যাও কেউ পায়নি। যা হোক আমেরিকা সেই গোয়েবলসের কাহিনীর মতন প্রচার করতে লাগলো ওসামা বিন লাদেন এই ঘটনার জন্য দায়ী। সিএনএন,বিবিসি,ফক্সনিউজ সব বিরাট বিরাট মিডিয়া গুলো আমেরিকার পক্ষে নির্লজ্জ মিথ্যাচার শুরু করলো। আর আমেরিকার হাতে চলে আসলো ট্রাম্প কার্ড। এই ট্রাম্পকার্ডের জোরে বলা শুরু করলো, আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলাম। যারা আমাদের পক্ষে নাই তারা সকলেই আমাদের বিরুদ্ধে। সারা বিশ্বেই আলকায়েদা নামক জু জুর ভয় ছড়িয়ে দেয়া হলো । কাহিনীর প্রয়োজনেই ওসামা বিন লাদেনকে পাঠানো হলো আফগানিস্তানে। আমাদের চোখের সামনেই এই সভ্যযুগেও আফগানিস্তানের মতন দেশকে দখল করে নেয়া হলো।

সিনেমার কাহিনী তিনঃ আফগান যুদ্ধে বিশাল ও ব্যায় বহুল যুদ্ধে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য এখন আমেরিকার প্রয়োজন পেট্রোলিয়াম, যা বিশ্বের জ্বালানী শক্তি। আমেরিকার নিমজ্জিত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে ইরাকের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা তেল। তাই লাদেন কে ইরাকের মাটিতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলো। ব্যাপক হারে প্রচার করা হলো সাদ্দামের সাথে আলকায়েদার সম্পর্ক আছে। কিন্তু বিশ্ব বিবেক সেটা মেনে নেয়নি- সেকুলারিস্ট দল সাদ্দামের বাথ পার্টির সাথে ইসলামিক মৌলবাদী আলকায়েদার দলের সম্পর্ক থাকতে পারে সেটা কেউ হজম করতে পারছিলো না। তাই হজম করানোর জন্য নতুন টেকনিক করা হলো। প্রচার করা হলো সাদ্দামের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী মারনাস্ত্র আছে। অবশ্য অনেকে বলে সেটা নাকি ইরাক-ইরান যুদ্ধে আমেরিকাই সাদ্দামকে দিয়েছিলো।(সিনেমার কাহিনী এক দৃস্টব্য) যা হোক জাতিসঙ্ঘের অস্ত্র পরিদর্শক দল তন্ন তন্ন করে খুজেও কোনো অস্ত্র পেলেন না। অস্ত্র পরিদর্শক দলের প্রধান হান্স ব্লিক্স কে লন্ডনে তার নিজ বাড়িতে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেলো। ততকালীন আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামস্ফেল্ড হাস্যকর মিথ্যা চার করে ইরাকের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট ছবি-ফুটেজ নিয়ে ইরাক আক্রমনের যুক্তি তুলে ধরলেন। টনি ব্লেয়ার তো ডাইরেক্ট বলে দিলেন ৪৫ মিনিটের মধ্যেই ইরাকি মারনাস্ত্র খুজে পাওয়া যাবে যদি ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইরাকের মাটিতে প্রবেশ করে।২০০৩ সালে শুরু হলো ইরাক অভিযান। লাখ লাখ ইরাকির মৃত্য হলো, কিন্তু গন বিধ্বংসী কোনো অস্ত্র খুজে পাওয়া গেলো না। সাদ্দাম একসময়ে(২০০৪) সালে ধরা পড়লেন। তাকে টিভিতে লাইভ দেখানো হলো। টানা তিন দিন মিডিয়া তাকে নিয়ে প্রচার করলো । হাস্যকর বিচারে তার ফাসি হলো। সিনেমার নাট্যমঞ্চ থেকে একজন নায়কের বিদায় হলো। এখানে একটি শুটিং শেষ। পুরা কাহিনী আমরা পর্যবেক্ষন করেছি বিশ্ব মিডিয়া দ্বারা। সেটা বহু কাল ব্যাপি। এখনো সেই সিনেমা দেখছি।

কিছু কাহিনী পর্যবেক্ষন ঃ ইরাকের গনবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য বিবিসি চরম সুনামহানীর শিকার হয়। সিএনএন মিডিয়াতেও ভাঙ্গন শুরু হয়। যা হোক তাতে কিছু আসে যায় না-২০ লাখ ইরাকি অলরেডী নিহত। জর্জ টেনেট কে বরখাস্ত করেন বুশ সাহেব। কিন্তু তিনি বিশ্ববাসীর কাছে ক্ষমা চাননি। টনি ব্লেয়ারও উদ্ধত কন্ঠে বলেছিলেন ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার কথা ইরাক যুদ্ধ সঠিক ছিলো। বুশের প্রেসিডেন্ট থাকা কালীন সময়ে যখন মার্কিন মুলুকে মন্দা আসতো ঠিক তখনই লাদেনের একটা ভিডিও ক্যাসেট বের হতো-যেটাতে সব সময়েই মার্কিনীদের হুমকি দেয়া হতো। আর অমনি করে মার্কিনীরা আফগানে বোম্বিং করতো। প্রেসিডেন্ট বুশের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিপেত। ক্যাসেট গুলো বের হতো তখনোই যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন হতো।


পরিশেষেঃ পরিশেষে আরেকজন নায়কের নাকি পতন হয়েছে। তার নাম ওসামা বিন লাদেন। বিশ্বের একনম্বর ভয়ানক সন্ত্রাসী। কিন্তু তার গডফাদার কে? বা তার উত্থানের পিছনে কারা জড়িত? তাদের হদিস এখনো নাকি পাওয়া যায়নি। আর লাদেনের লাশ নাকি সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে সেটা কেউ দেখেছে কিনা জানা যায়নি। সাদ্দামের মতন তাকে লাইভ টিভি শো-তে উপস্থাপন করাই হয়নি। আর আমরা হাজমোলা বা প্রান হজমী ক্যান্ডি খেয়ে সব রুপকথা-ঠাকুর মার গল্প হজম করেই যাচ্ছি।

বর্তমানে যেখানে সিনেমা চলছে ঃ লিবিয়া।

ভবিষ্যতে যেখানে সিনেমা চলবেঃ সিনেমার শুটিং ভবিষ্যতে কোথায় হবে তা পেন্টাগনের নির্মাতা পরিচালকগন ভালো বলতে পারবেন। আগামী ২০-৩০ বছর পরে কি হবে সেই কাহিনীও হয়তো তৈরি করে ফেলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশও শুটিং স্পটের বাইরে থাকবে কি না সেটাও বিবেচ্য বিষয়। আর সিনেমার প্রয়োজনেই বিভিন্ন নায়কের আগমন ঘটবে যেমনটি ঘটেছিলো সাদ্দাম-লাদেনের । আমেরিকান পেন্টাগনের পরিচালকেরা যাকে যোগ্য মনেকরেন এই পদের জন্য তিনিই আসবেন।

উপসংহারঃ লাদেন পৃথিবী বাসীর কাছে মরে গেছে। হয়তো তিনি পৃথিবীর নির্জন কোনো দ্বিপে প্রাসাদোপম অট্টালিকায় বসবাস করছেন,-- জানি না আসলে কি হয়েছে। মার্কিনীরা যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে তাকে আবারো বিশ্ববাসীর কাছে জীবিত করবে। আর প্রান হজমী ক্যান্ডি খেয়ে বিশ্বাস করে যাবো। অবাক হচ্ছেন- না অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারন লাদেন এর আগেও ৩ বার মরেছিলো।

শেষ কথাঃ তেল আর অস্ত্র ব্যাবসায়ী মার্কিন এলিট সাম্রাজ্য বাদীদের থেকে আমার এই সবুজ পৃথিবী কবে মুক্ত হবে জানি না। তবে আমি শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করি(দ্যা ডে অফ জাজ মেন্ট)। পরম করুনাময় আল্লাহ সব কিছুই দেখছেন। মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানে যারা বিশ্বাস করেন- একদিন আল্লাহই সেই দিন সব রহস্য খোলাস করে দিবেন। যে দিন কোনো গোপনই আর গোপন থাকবে না।

Want your business to be the top-listed Government Service in Jessore?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Jessore
7450