31/12/2017
ছাত্রশিবির যশোর শহর
Our vision: To nourish the citizenry as honest efficient and patriotic with intent to enrich Bangladesh.
@[375209152625120:]
31/12/2017
28/12/2017
জান্নাতের দুইটি পাখি
..... মো: শাহাবুল আলম
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
শহীদেরা মরে না, তারা অমর। তাদেরকে অন্য মৃতদের মধ্যে শামিল করা যায় না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে একাধিকবার বলেছেন। সূরা বাকারায় ১৫৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَا تَشْعُرُونَ
আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদের মৃত বল না বরং তারা জীবিত,কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রত্যয়ে যারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের পথ চলা নিঃসন্দেহে বর্ণনাতীত কঠিন। এ কাঠিন্যের মাপকাঠি দিয়ে মহান প্রভু তার অতি প্রিয় বান্দাহদেরকে বাছাই করে নেন। কিছু বান্দার জীবনের বিনিময়ে পরীক্ষা করতে চান কারা ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী। সূরা বাকারাহ'র ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয়,ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। (হে পয়গম্বর!) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।
শহীদ ভাইদের স্মৃতি, খোদাভীতি আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। চলার পথে যাবতীয় ভয়-ভীতি দূর করে হৃদয়কে সুদৃঢ় করে দেয়। ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস সুখের কোন ফুল বিছানা নয়। কন্টকময় বাঁধা পেরিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামনের দিকে চলতে হয়। প্রয়োজনে নিজের জীবনকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ত্যাগ-কুরবানীর নজীর স্থাপন হয়। অতীতের নবী-রাসূল এবং বিভিন্ন সময়ে মর্দে মুজাহিদদের জীবনে এরুপ ঘটনা ঘটেছে। ‘সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব চিরন্তন’ পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত এটা থাকবে। তাই বলে যারা আল্লাহর প্রেমিক তারা ইসলামী আন্দোলন থেকে কখনো পশ্চাদগমন করে না। তারা শয়তানি শক্তি নির্মূলের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। এমনকি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সত্যের সাক্ষ্য হিসাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করেন।
শহীদ হাবিবুল্লাহ এবং শহীদ কামরুল হাসান যশোরে ইসলামী আন্দোলনের দুটি প্রেরনার নাম। দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারী মাইকেল মধুসদন দত্ত (এম এম) কলেজের অর্থনীতির তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র। তারা যেমন মেধাবী ছাত্র ছিলেন তেমন চরিত্রবান ও সংগঠক ছিলেন। তারা দুইজনই অর্থনীতির ছাত্র এবং কলা অনুষদের দায়িত্বশীল ছিলেন।
এই দুইজন ভাই ২০১৫ সালের ২৩ শে নভেম্বর শহীদ হন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হাবিবুল্লাহ ভাইকে ধরে নিয়ে আসাদ হলের কসাইখানা খ্যাত ২০১ নম্বর রুমে আটকে রেখে হকিস্টিক, রড, স্টাম, রামদা দিয়ে পিটিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালাই। নির্যাতনের কারনে তার সমস্ত অঙ্গ রক্ত জমাট হয়ে কাল হয়ে গিয়েছিল এবং দুই পা ভেঙ্গে গিয়েছিল। সেদিন তাদের চিৎকারের আর্তনাদ ছাত্রলীগের নরপুশুদের কর্নকুহুরে প্রবেশ করেনি। এদিকে থানায় পুলিশকে জানালে পুলিশ আমাদের ভাইদের উদ্ধার না করে ছাত্রলীগের সহায়তায় শহরের রেলগেটে অবস্থিত আমাদের আরেকটি মেসে হামলা চালায়। সেখানে শিবিরের সাথী আল মামুনকে মেরে মারাত্বকভাবে আহত করে। পরে তাকে মুমুর্ষু অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এদিকে হাবিবুল্লাহ এবং কামরুল হাসানের অবস্থা যখন আশংকাজনক,নির্যাতনের প্রায় ২ ঘন্টা পর বিকাল ৩.০০ টার দিকে পুলিশ এ দুইজন ভাইকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু পুলিশ এবং ডাক্তারদের অবহেলায় আমাদের ভাইয়েরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে তাদের অবস্থার আরো অবনতি হয়। অবশেষে বিকাল ৪.০০ টার সময়ে আমাদের প্রিয় ভাই হাবিবুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেন। কামরুল হাসানের অবস্থা আরো অবনতি হলে মুরুব্বী সংগঠনের দায়িত্বশীল ভাইয়েরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর জন্য প্রশাসন এবং ডাক্তারদের কাছে অনেক অনুরোধ করার পর অনেক দেরিতে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। নরপশুরা তার পেটে এমন ভাবে নির্যাতন করেছিল যে তার পেটের লান্স ফেটে গিয়েছিল। ফলে দৌলতিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে আসার আগে রাত ১২.৩০ মি আমাদের এ ভাইটিও সবাইকে কাঁদিয়ে মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। আর আহত মামুনকে কোন রকম চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন পর মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠায়। সেদিন আমাদের ভাইদের চাপা কাঁন্না হয়তোবা আল্লাহর আরশে পৌঁছেছে কিন্তু সরকারের পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কানে পৌঁছায়নি। পুলিশ আমাদের ভাইদের হত্যাকারীদের নামে কোন মামলা নেইনি এমনকি একটি মিছিল পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। যেমন আল্লাহর রাসূল (স:) এর সাহাবী হযরত খুবাইব ইবনে আদী রা:কে কাফিররা অত্যান্ত নৃশংসভাবে হাত,পা র্কতন করে প্রকাশ্যে হত্যা করেছিল তিনি আসমানের দিকে চেয়ে শুধু বলেছিলেন ”হে আাল্লাহ তুমি এদের সংখ্যা গুনে রাখা এবং এদের কাউকে ছেড়ে দিয়ে না” তাই দুনিয়ার আদালতে এর কোন বিচার না হলেও আখেরাতের আদালতে আল্লাহ অবশ্য এর বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।
আজ শহীদ হাবিবুল্লাহ এবং কামরুল হাসান আমদের মাঝে নাই। তাদের পিতা-মাতা হারিয়েছেন প্রিয় আদরের ধন। শহীদের সাথীরা হারিয়েছে তাদের প্রিয় দায়িত্বশীলকে। শহীদের সাথী এবং তাদের পিতামাতার কান্না আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কর্ণকহুরে প্রবেশ করবে না কারন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বোবা বধীর বানিয়ে দিয়েছেন।আল্লাহ সূরা বাকারার ৭ নং আয়াতে বলেছেন।
خَتَمَ اللّهُ عَلَى قُلُوبِهمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عظِيمٌ
আল্লাহ তাদের অন্তর ও কর্ণসমূহের উপর মহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের উপর আবরন রয়েছে আর তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি।
কিন্তু যে ক্যাম্পাসে দুইজন ভাই শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য ভাই বাতিলের কাছে রক্ত ঝরিয়েছেন, যে ক্যাম্পাসে আমাদের অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং আবেগ জড়িত সে ক্যাম্পাসকে আমরা গুটি কয়েক সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাধারন ছাত্রদেরকে তাদের হাতে জিম্মি করতে চাই না। শহীদ দিবসে তাদের জন্যে শুধু দোয়া এবং অশ্রু বিসজর্ন দিলে এদেশে ইসলামী বিল্পব কখনো কায়েম হবে না। তাই বেশী বেশী দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে শহীদের রেখে যাওয়া কাজকে আরো বেগবান করতে পারলে সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলো ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটিতে পরিনত হবে ইনশাআল্লাহ। আর তখনই শহীদের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ-কুরবানীর স্বার্থক হবে।
মহান রব্বুল আলামীন শহীদ হাবিবুল্লাহ ও শহীদ কামরুল হাসান সহ যারা ইসলামী আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়েছেন তাদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং এ সকল শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে কবুল করুন। (আমিন)
পরিশেষে কবি মোশারফ হোসেন খানের কবিতা দিয়ে শেষ করছি।
" বারুদ-বিশ্বাসে জ্বলে ওঠো ফের
বদর, ওহুদের মত
ঝরুক রোহু, বয়ে যাক খুনের দরিয়া
তবুও থামবে না সিংহদল শত!
এ মিছিল এগুবেই সম্মুখে
খুনের তরঙ্গ পেরিয়ে
ঐতো শত শহীদ ডাকছে আমাদের
সাহসী হাত নাড়িয়ে "
যশোরের তরঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রথম অডিও।
‘ জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবের আগেই পাকিস্তানের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষনা করেন ': হামিদ মীর
---------------------------------------------
-----------------------------------------------------
যদি আপনি এটা ভাবেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে শুধু পাকিস্তান প্রীতির অপরাধে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, তাহলে জেনে রাখুন, এটা পুরো সত্য নয়। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ‘আদালতি হত্যা’কে কেন্দ্র করে কিছু পাকিস্তানি পত্রিকায় হেডলাইন দ্বারা এ কথা বোঝা যাচ্ছে যে, নিজামী সাহেব বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানের অনুগত ছিলেন। এ মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া বাস্তবতা পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতির একেবারে বিপরীত।
হাসিনা ওয়াজেদের সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা আর্ন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির যেসব নেতাকে দন্ড দিয়েছে, পাকিস্তানি মিডিয়া ওই নেতাদের ‘পাকিস্তানী ডানপন্থী’ অভিহিত করে হাসিনা ওয়াজেদের দাবিকেই সমর্থন জোগাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত পাকিস্তানের মিডিয়া ভারত সম্পর্কে বেশি এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে কম জানে। আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী জানেন না যে, ১৯৭১ সালে সেনা অভিযানের আগে পূর্ব-পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর নেতা প্রফেসর গোলাম আযম স্পষ্ট ভাষায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি করেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের মজলিসে শূরা দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, যদি পাকিস্তানের ঐক্য অটুট না থাকে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিবর্তে আইনগত বিচ্ছিন্ন হওয়াকে প্রাধান্য দেবে।
সেনা অভিযান শুরু হলে গৃহযুদ্ধ কঠোররূপ ধারণ করে। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা আলবদর ও আলশামস নামে সংগঠনগুলোতে যুক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে মুক্তিবাহিনীর মোকাবেলা শুরু করে, যারা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা অর্জন করেছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং প্রফেসর গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান জামায়াতে ইসলামীর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেন। আর বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রফেসর গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল করেন। প্রকাশ থাকে যে, জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তানপন্থী ছিলেন না। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের আগে পাকিস্তানের প্রতি বিদ্রোহ করেছিলেন এবং একজন মেজর হিসেবে চট্টগ্রামে রেডিও স্টেশন কব্জা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
জেনারেল জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের বিদ্বেষের কারণে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সমঝোতা করেন। তার মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। জামায়াতে ইসলামী খালেদার বিএনপিকে সমর্থন জানায় এবং ১৯৯১ সালে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে কিং মেকার হয়ে সামনে চলে আসে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী ও অপর কিছু দলকে সাথে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী করার প্রস্তাব দেয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের উপেক্ষা করে এবং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় চলে আসেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কে এক আকর্ষণীয় মোড় তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীর সাথে মিলে আন্দোলন করে এ দাবিতে যে, নতুন নির্বাচন বিএনপি সরকারের অধীনে নয়, বরং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হবে। আওয়ামী লীগের সাথে জোট করে জামায়াতে ইসলামীর মারাত্মক ক্ষতি হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি দ্বিতীয়বার জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৭টি আসনে জয়লাভ করে। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী বানানো হয়। তার কর্মকান্ড বিএনপির অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় বেশ ভালো ছিল। এতে বিএনপির মন্ত্রীরা তার সাথে হিংসা করতে থাকেন। বিএনপি কিং মেকারকে সাথে রাখতে চেয়েছিল, তবে কিং মেকারের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভয়ও ছিল।
বিএনপির মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জামায়াতে ইসলামীর মারাত্মক ক্ষতি হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা মাত্র দুটি আসন লাভ করে।
এটা ওই সময়ের কথা, যখন আওয়ামী লীগের ভেতর হাসিনা ওয়াজেদের মিত্রদের একটি গ্রুপ তার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তার নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের দাবি করে। ওই দাবির সমর্থনকারীরা ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অনেক দিন ধরে আন্দোলনও করে।
সেখানে বারবার এটা বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান ১৯৭১ সালের সেনা অভিযানে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি। সুতরাং ওই অভিযানের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতাকারীদের বিচার করা হোক। স্মর্তব্য যে, ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে ঢাকায় স্মৃতিসৌধে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে অতিথিদের মন্তব্যের জন্য রাখা বইয়ে মোশাররফ ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বিএনপি ওই দুঃখপ্রকাশকে নিজেদের বিশাল কৃতিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশের পরিবর্তে ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি করতে থাকে।
হাসিনা ওয়াজেদের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাদের বিচার শুরু করা হলে বাংলাদেশে এ প্রশ্ন ওঠে যে, যখন আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে মিলে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করল, তখন তারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের কথা ভুলে গেল কেন? আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন জামায়াতে ইসলামীর সাথে মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, ওই সময় আওয়ামী লীগের কাছে জামায়াতে ইসলামীকে নিষ্পাপ মনে হলো কেন? বাস্তবতা হলো, বিএনপি মারাত্মক অভ্যন্তরীন সঙ্কটের শিকার। আর জামায়াতে ইসলামী বিকল্প বিরোধী দল হিসেবে সামনে এসে হাজির হয়েছে। ভারতে বিজেপির মতো ধর্মভিত্তিক দলের উত্থান বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সেকুলার ও প্রগতিবাদী দলের বিকল্প হিসেবে দীপ্তিমান করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর কিং মেকার অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগেরও ভয় ছিল। আওয়ামী লীগের এ শঙ্কাও রয়েছে যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে জামায়াতে ইসলামীর শেকড় অনেক গভীরে। সুতরাং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর দুর্বল ও অসুস্থ নেতাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর মূল উদ্দেশ্য এক ঊর্ধ্বমুখী রাজনৈতিক শক্তিকে খতম করা। মানবাধিকারের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দন্ড নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সুতরাং এ দন্ড বাংলাদেশের অভ্যণÍরীণ বিষয় নয়। হাসিনা ওয়াজেদের সরকার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আপত্তিগুলো পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করতে পারে না। আমি অনেকবার বলেছি যে, পাকিস্তাান সরকারের উচিত, ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য নিছক দুঃখপ্রকাশের পরিবর্তে ক্ষমাপ্রার্থনা করে বাংলাদেশের সাথে বিদ্বেষ দূর করে দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নতুন বিদ্বেষ জন্ম দিচ্ছে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসি বিদ্বেষের আগুন আরো বাড়িয়ে দেয়। পাকিস্তানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নামসর্বস্ব আখ্যায়িত করা হয়। এ দল আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি, ন্যাশনাল পার্টি ও বেলুচ ন্যাশনাল পার্টিÑ বিএনপির রূপ ধরে আজো বিদ্যমান। পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। তার দলও নিঃশেষ হয়নি। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে এ দল নতুন নাম নিয়ে আবির্ভূত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অনুধাবনের জন্য প্রফেসর গোলাম আযমের ওই চিঠিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা তিনি ২০১২ সালে গ্রেফতারের আগে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে লিখেছিলেন। তিনি ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলেছেনÑ ‘আমি ১৯৭১ সালে ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা অভিযানের বিরোধিতা করেছিলাম।’ ‘বাংলাদেশে জুলুমের রাজত্ব’ শিরোনামে ওই চিঠি জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তাান লাহোরের মনসুরা থেকে প্রকাশ করেছে। চিঠির শেষে প্রফেসর গোলাম আযম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ থাকার জন্য দোয়া করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুঃখ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তাদের মিত্র ছিল। আর ২০১৬ সালে ১৯৭১ সালের ঘটনায় তাদের আমিরকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বেশ কিছু কৃত ও অ-কৃত ভুলের সাজা ভুগল। একসময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সামনে জবাবদিহিতার এই প্রশ্ন আসবে যে, ১৯৯৬ সালে আপনার রাজনৈতিক মিত্র ২০১৬ সালে কিভাবে যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেল?
পাকিস্তানের জাতীয় পত্রিকা দৈনিক জং (১২ মে, ২০১৬)
উর্দু থেকে ভাষান্তর ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
* হামিদ মীর : পাকিস্তানের জিও টিভির নির্বাহী সম্পাদক
11/05/2016
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যশোর শহর (সাংগঠনিক জেলা শাখার) উদ্যোগে প্রয়াত আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত।
রাসুল (সা) এর সাহাবিদের মধ্য অন্যতম তিনজন কবি হলেন হযরত হাসান বিন সাবিত (রা)।যার জন্য মসজিদে নববীতে একটা আলাদা মেমবার তৈরি করা হয়েছিল।তার কবিতাই ছিল যুদ্ধের বর্ণনা, মুসুলমানদের বিজয় গাথা, এবং ইসলামি ঐতিহ্য।তাকে উপাধি দেওয়া হয় "রাসুলের কবি"হিসাবে।আরেকজন কবি হলেন আলি ইবনে আবু তালিব (রা)।ইসলামের চতুর্থ খলিফা।তার রচনা শৈলি ছিল অনবদ্য।উপদেশ মূলক রচনা, যুদ্ধে উৎসাহ প্রদান ও বিজয়গাথা প্রকাশ পেয়েছে।আরেকজন কবি ছিলেন কাব ইবনে জুহায়ির রা।তিনি ইসলামের প্রাথিমযুগে ইসলামের বিরুদ্ধে কবিতা রচনা করে রাসুল (সা) এর মনকে দারুন ভাবে ব্যাথিত করে।রাসুল সা ঘোষনা দিলেন কাবকে যেখানে পাবে সেখানে তাকে হত্যা করবে।তখন কাবের জন্য পৃথিবি সংকচিত হয়ে যাই।তখন কাব (রা) রাসূল (সা) এর দরবারে এসে ইসলাম গ্রহন করেন।এবং আমরন ইসলামের জন্য কবিতা লিখে যান।
#আরিফ জামান
হযরত উমর (রা) এর ব্যাক্তিত্বের পরিচয় দিতে গিয়ে মনষীগণ বলেন-তার মধ্য ছিল আলেকজান্ডারের সাহস ও বিরত্ব, এরিস্টটলের সাংগাঠনিক দক্ষতা,তৈমুর লংয়ের কঠোরতা,বুদ্ধদেবের কোমলতা,নওশেরওয়ারের ন্যায়পরায়নতা,ইবরাহীমের ধর্মপরায়নতা,এবং আবু হানিফার শিক্ষা ও প্রঙ্গা প্রভূত গুনের অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছিল।
সংগ্রহে --
আরিফ জামান
মুহাম্মদ রাসূল (সাঃ)
আরিফ জামান
আমি যতবার শুনি মুহাম্মদ রাসূল
ততবার তার দর্শনে হই যে ব্যাকুল।
এই প্রাণ চাই শুধু তাকে ভালোবাসতে
সর্বদা পাশে বসে নির্মল বাণি শুনতে।
আমি ধন্য তাঁর জিবন আদর্শ পেয়ে
যার ছোঁয়ায় অন্তরে প্রশান্তি আসে বেয়ে।
সেই সুন্দর চরিত্ গুণে মুগ্ধ হয়ে
জনতা সব থাকত তোমার পাণে চেয়ে।
খোদা চাইলে সেদিনের বিজয় ঝংকারে
হয়ত আমায় পেতে বদরের প্রান্তরে।
তবুও জানায় শুকরিয়া রবের তরে
আমায় পাঠায়ছে তোমার উম্মত করে।
মম হৃদয়ে তুমি থাকবে অনন্তকার
আমার এ মিনতি সঙ্গি হয়ো পরকাল।
তোমার দেখানো পথে পারি যেন চলতে
আজ বড় স্বাধ জাগে তোমাকে কাছে পেতে।
অভিশপ্ত শয়তান
আরিফ জামন
অভিশপ্ত শয়তান নোঙর ফেলবে
যতই আবৃত রাখো অন্তর্দেশ
সে নষ্ট করবে পবিত্র স্বপ্নলোক
ঢুকে যাবে ধমনীর শিরা-উপশিরায়
বানাবে প্রবৃত্তির পূজারি
অবিকল তোতাপাখির মত আওড়ালে বুলি
পাক কোরআন রেহালে রেখে দিলে চুমি
অথবা ঠুনকো বাদশাহর ন্যায় করলে কাবা রক্ষণাবেক্ষণ
অভিশপ্ত শয়তান কি যাবে চলে?
আল্লাহ প্রেমে বিমোহিত হয়ে
একবার পড়েই দেখো পাক কোরআন
অভিশপ্ত শয়তান পরাস্ত করার এ অনন্য বাণী।
আর কত লাল হবে সবুজ বাংলা
রক্তের ফিনকিতে ভিজবে দূর্বাঘাস।
রক্তসাগরের ঢেউ ছিল '৭১
উপাখ্যান,কাহিনি,ইতিহাস বিরচণ,
লোহিত বাংলা পেরিয়ে ৪৬ বয়সি
সবুজাভ শিহরণ
সঞ্জিবনি হিমেল অনল
বহাবে তুমি-এমনি হবে মন।
অথচ
জিঘাংসার বিষাক্ত বায়ূ এখনও বহমান।
ও বঙ্গ,
তোমার সন্তান কাঁদছে এখনও
ইয়াজিদি প্রেতাত্বা দিয়ে হাসছ
সিমারের হাসি
কত মলিনতারে তুমি দিয়েছ ফাঁসি।
আহারে!
নিষ্পাপ প্রাণ যায় ঘাতক বুলেটে,
বিনাবিচারে!
ভেবেছ ছাড় পাবে?
বড্ড বেবাক তুমি।
গিফারি শামিম --
আমরা বাকহিন
স্বার্থান্ধের মত ধরেছি তোমাদের
পবিত্র- কফিন
মাফ করে দিও।
স্কন্ধে অসহনিয় এ ভার
পদযুগল যেন চলছেনা আর।
ক্রন্দসি জননি, শোকে পাথর
নাড়ি ছেঁড়া ধন চলে গেছে মোর।
স্বজনের চোখের জ্বলে -তখনও দেখেছি
যেন কিসের ঢেউ
প্রবল বেগে ছুটছে তটে।
গিফারি শামিম-
কথা বলবেই এ জমিন
বৃথা যাবেনা তপ্ত খুন
সাথিরা নিবে চরম প্রতিশোধ।
এক চরম প্রতিশোধ।।
গিফারি- শামিম
১৪.৪.১৬
সাইফুল ইসলাম সুজন
শামীম, আবু যর গিফারী,হাবিবুল্লাহ
বা কামরুল ওদেরকে তো হত্যা করাই
উচিৎ।বেঁচে থাকার কোন অধিকারই
ওদের নেই।ওরা কানে এয়ার ফোন গুজে
ইয়ো ইয়ো গান শোনে না।কানে দুল
আর হাতে বালা পরে আধুনিক
সাজে না।ওরা সিগারেট,গাজা,ইয়
াবা,ফেনসিডিলের নেশায় বুদ হয়ে থাকে না।ওরা এত খারাপ যে নারী নিয়ে
ফূর্তি করে না,ওরা টেন্ডারবাজি
করে না,ওরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই
করে না,ওরা ধর্ষনের সেঞ্চুরী এমনকি ইভটিজিংও
করে না।সাধারণ মানুষ, গর্ভবতী নারী
বা শিশু ওদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন
হয় না।ওরা পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা
পাওয়ার আশায় ক্যাম্পাসে ভাংচুর
করে পত্রিকায় শিরোনাম হয় না।ওরা
বড়ই ভয়ঙ্কর। মসজিদে আযান দেয়, নামাজ
পড়ে আবার ইমামতিও করে।বড় ছোট
সবাইকে সালাম দিয়ে বুকে টেনে
নেয়।কেউ অসুস্থ্য বা রক্তের প্রয়োজন
মনে করলে ওদের কাছেই আস্থা পায়।
ওরা এতই খারাপ যে পিতা মাতা,
শিক্ষক,গুরুজনকে অসম্ভব সম্মান করে।
মানুষর বিপদে সবার আগে ছুটে যায়।
নেশা থেকে ছাত্রদেরকে ফিরিয়ে
পড়ার টেবিলে নিতে চায়।ওরা
ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক তাই সবকিছুকেই
ধর্মের কষ্টিপাথরে যাচাই করতে চায়।
ওদের কত বড় সাহস নামাজের আল্লাহু
আকবার ধ্বনিকে ওরা মসজিদ থেকে বের করে সংবিধান তথা
রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়!ওরা এতই
খারাপ যে ১৪০০ বছর আগের পুরাতন কোরআনের আইন
এখন চালু করতে চায়।তাই ওদের এ
সমাজে বেঁচে থাকার কোন অধিকার
নেই ওদেরকে তো হত্যা করাই উচিৎ!!!
লেখক:- দপ্তর সম্পাদক, যশোর শহর।
শুভ পুণ্যাহ
(অণু গল্প)
আরিফ জামান
আশফাক আলী হুকোটা পাশে রেখে পিঠটা দেয়ালের সাথে মিলিয়ে দিলো।কপালে স্পষ্ট বিষন্নতার ছাপ ফুটে ওঠেছে।ঠিক দেখে মনে হচ্ছে জগতের তামাম চিন্তা তাকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করে চলেছে।আগামীকাল "পহেলা বৈশাখ"।শুভ পুণ্যাহের দিন।জমিদার প্রতাপ রায়ের সব খাজনা পরিশোধ করতে না পারলে আশফাক আলীকে নিশ্চীত চড়ক উৎসবে নিমজ্জিত করা হবে।কিংবা তার চেয়েও ভয়াবহ কোন শাস্তি পেতে হতে পারে।অথচ আশফাক আলীর পক্ষে তার সব সম্পদ বিক্রি করেও জমিদারে নির্ধারিত খাজনার অর্ধেক ও পরিশোধ করা সম্ভব নয়।স্ত্রী মিতু স্বামীর কাছে এসে আলতো করে নরম হাত কপালে বুলাতে বুলাতে বল্লো ওগো এত চিন্তা করো না।তুমি দেখো কিচ্ছু হবে না।সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
শুভ পুণ্যাহের দিনে জমিদার প্রতাপ রায় আশফাক আলীকে বলতে শুরু করলো "তুই আমাকে আগে বলবিনা তোর ঘরে অত সুন্দরী একটা বউ আছে"?ওর জন্য তোর সব খাজনা ও শাস্তি মওকুফ করে দিলাম।ও এখন থেকে আমার খাস কামড়ার অলংকার।এই বলে জমিদার প্রতাপ রায় খুব উৎফুল্ল মনে খাস কামড়ার দিকে যেতে উদ্যত হলো।ততক্ষনে আশফাক আলীর দুই চোখ থেকে বৃষ্টির মত ক্রমশ জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
#পাদটিকা-আগেরকার দিনগুলি পহেলা বৈশাখ কৃষকদের জন্য সুখকর কোনো কিছু ছিলোনা।তারা জমিদারদের ভয়ে ভীত সত্রস্ত থাকতো সবসময়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Jessore
7400
