23/09/2026
এক রাতে এক কাঠমিস্ত্রির কারখানায় একটি সাপ ঢুকে পড়ল। অন্ধকারে ঘোরাঘুরি করার সময় মেঝেতে পড়ে থাকা একটি ধারালো করাতের সাথে সাপের শরীর ঘষা লেগে সামান্য কেটে গেল।
সাপটি ভাবল, করাতটি হয়তো তাকে আক্রমণ করেছে! রাগে অন্ধ হয়ে সাপটি ফিরে এসে সেই করাতটিকে জোরে এক ছোবল মারল। ফলস্বরূপ, করাতের ধারালো দাঁতে সাপের মুখ আরও রক্তাক্ত হয়ে গেল।
এবার সাপের রাগ ও ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করল। সে ভাবল, "এই করাতকে আজ আমি মেরেই ফেলব!" এই ভেবে সাপটি তার পুরো শরীর দিয়ে করাতটিকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল এবং নিজের সর্বশক্তি দিয়ে তাকে পিষে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল।
পরদিন সকালে কাঠমিস্ত্রি কারখানায় এসে অবাক হয়ে দেখল, তার করাতটি আগের মতোই অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে, আর সেই করাতকে পেঁচিয়ে ধরে থাকা সাপটি নিজের আঘাতেই রক্তাক্ত হয়ে মরে পড়ে আছে! করাতটি সাপটিকে মারেনি, বরং সাপের অন্ধ রাগ আর আক্রোশই তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করেছে।
আমাদের ভেতরে থাকা 'হিংসা' বা অন্যের প্রতি ক্ষোভ ঠিক এই সাপের মতোই কাজ করে।
আমরা যখন অন্যের ভালো কিছু দেখে হিংসা করি, তখন আমরা মনে মনে চাই ওই মানুষটির ক্ষতি হোক। কিন্তু বাস্তবে, যার প্রতি আমরা হিংসা করছি তার বিন্দুমাত্রও ক্ষতি হয় না (ঠিক ওই করাতটির মতো)।
বরং হিংসার আগুনে পুড়ে আমাদের নিজেদের মনের শান্তি, ঘুম আর সুখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা নিজেরাই নিজেদের তিলে তিলে ধ্বংস করতে থাকি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) কত চমৎকারভাবেই বলেছেন,
"তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আগুন যেভাবে শুকনা কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, হিংসা ঠিক সেভাবেই মানুষের নেক আমলগুলোকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়।" (সুনানে আবু দাউদ)
অন্যের ভালো দেখে যে হিংসা করে, সে পরোক্ষভাবে আল্লাহর বণ্টনের ওপরই অসন্তুষ্ট হয় (অর্থাৎ সে মনে করে আল্লাহ তাকে কেন দিলেন, আমাকে কেন দিলেন না)।
বুদ্ধিমান সে-ই, যে অন্যের সুখ দেখে খুশি হয় এবং আল্লাহর কাছে নিজের জন্যও বরকত চায়।
© সংগৃহীত