25/06/2022
বাংলাদেশের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন- প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ "পদ্মা সেতু" যান চলাচলের জন্য আজ খুলে দেওয়া হচ্ছে। চ্যালেঞ্জিং 'পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানাই। সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আনাচ্ছি।
বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংক উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সকল দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- “সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না'- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।
পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হ'ল। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়াস্থ জাতির পিতার সমাধি সৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ নদীসমূহের উপর নির্মিত সেতু, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মংলা সমুদ্রবন্দরের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারে "পদ্মা সেতু" যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুতিকাগার হিসেবে কাজ করবে। এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাসমূহের সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি বছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।
দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নত এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্খা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের 'সোনার বাংলাদেশ' গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
শেখ হাসিনা
#পদ্মাসেতু #শেখহাসিনা #প্রধানমন্ত্রী #বাণী #বাংলাদেশ
19/06/2022
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগামী মঙ্গলবার
সিলেট অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগামী মঙ্গলবার সিলেট অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন সকালে হেলিকপ্টারযোগে তিনি সিলেট যাবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র। সূত্রটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে সিলেট যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহমর্মিতা জানাবেন। একইসঙ্গে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
08/06/2022
পদ্মা সেতু প্রকল্প ২০০১ থেকে ২০২২, জানুন আদ্যোপান্ত
২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া ও জাজিরা, দুই প্রান্তে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ওই বছর ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ পরিত্যক্ত হয়।
এরপর জাইকা ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে আবারও সমীক্ষা চালিয়ে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টকে সেতুর জন্য উপযুক্ত স্থান মনে করে। যেটা তাদের নিজেদের অর্থেই, কিন্তু তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে নয়।
সুতরাং, পদ্মা সেতু ন্যে ক্রেডিট নিতে আশা মির্জা ফখরুল নির্জলা মিথ্যা বলেছেন আর তার সেই কথা প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পরে লেগেছে প্রথম আলো - নুরুল কবির গং ।
জাইকার সমীক্ষা রিপোর্টে সব ঠিক থাকলেও কোনভাবেই শেখ হাসিনার উদ্যোগ নেওয়া সেতুর কাজ শুরু করা যাবেনা বলে সেই সার্ভে-সমীক্ষা ও প্রোজেক্ট প্রপোজাল ফেলে রাখার নির্দেশ দেয় খালেদা জিয়া ও তার সরকার।
২০০৭ সালের ২০ আগস্ট (তখন ড. ফকরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতায়) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ সভায় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
#পদ্মাসেতু #বাংলাদেশ #শেখহাসিনা #খালেদাজিয়া #বিএনপি #জামায়াত #ফখরুদ্দিন #ইউনুস
28/05/2022
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে অনিশ্চয়তার অন্ধকার পার করে স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই পেয়েছে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪০টি পরিবারের ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ মানুষ।
১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন পরিদর্শন করেন এবং ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতার দানকৃত জমিতে প্রথম পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনকবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘আশ্রয়ণ’নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এসব গৃহহীন পরিবার ২ শতাংশ করে জমি পেয়েছে। একটি আধা পাকা দুই কক্ষের ঘর পেয়েছে। ঘরে রয়েছে গোসলখানা, টয়লেট ও রান্নাঘর।
উপকারভোগীদের সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পেশামুখী প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে ব্যারাকে বসবাসকারী সুবিধাভোগীদের মৎস্য চাষ, পাটি বুনন, নার্সারি, নকশিকাঁথা, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং এবং রিকশা-সাইকেল-ভ্যান গাড়ি মেরামতের মতো নানা পেশায় প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। আয়বর্ধনকারী ব্যবসা বা পেশা চালুর জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাচ্ছে।
ব্যারাকে পুনর্বাসিত পরিবারপ্রতি প্রাথমিকভাবে তিন মাসের ভিজিএফের আওতায় খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন, বয়স্ক, বিধবা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতাপ্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন তারা। অর্থাৎ, একজন নিঃস্ব ব্যক্তিকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানবসম্পদে পরিণত করে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।
10/05/2022
বিএনপি কি নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে?
২০২৩ সালের শেষের দিকে বা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।যার জন্য জাতীয় সংসদে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধান রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ পাস করা হয়েছিল।এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি করেছিলেন যাতে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনসহ ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ৩২৯ জনের নাম প্রস্তাব পেয়েছিল সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি।নাম পাওয়ার পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল সার্চ কমিটি।পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছে সার্চ কমিটি।২৬শে ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
নিরপেক্ষভাবে এই সিইসি গঠন নিয়েও বিএনপি প্রথম থেকে বিভিন্ন অপপ্রচার করে আসছে গণমাধ্যমে।মজার বিষয় হচ্ছে বর্তমানে যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তার নাম প্রস্তাব করেছিল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।বাংলাদেশের সকল জনগণ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কে চিনেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে।এই নির্বাচন কমিশনকে ও মানতে চাচ্ছে না বিএনপি।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করার আগে বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করেছিল।সেই সংলাপ ও প্রত্যাখ্যান করেছিল বিএনপি।সার্চ কমিটিতে ও নাম প্রস্তাব করে নাই বিএনপি।
বর্তমানে সকল রাজনৈতিক দল আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও বিএনপির তেমন কোন প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না।সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন বিএনপি কি তাহলে নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছে?
বিএনপির মহাসচিব গণমাধ্যম অনেক কিছু বললেও তিনি জানেন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামী।বর্তমানে সাধারণ জনগণ এর ও সমর্থন নাই বিএনপির কাছে।বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ দূর্ণীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।২০০২ সালে বাংলাদশে সর্বোচ্চ ধর্ষন এর ঘটনা ঘটে।বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা নারী ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের জায়গা জমি দখল, হত্যাসহ নানা অপকর্মে মেতে ওঠে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ধারনা করেছে সাধারণ জনগণ তাদের ভোট দিবে না।যদি নির্বাচনে গিয়ে হেরে যাই অনেক বড় ব্যবধানে হারবে।হারার ভয়ে কি বিএনপি নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে?
লেখক: তাজিন মাবুদ ইমন
#বিএনপি #বাংলাদেশ #তারেকজিয়া #তারেকরহমান #তারেক #খালেদাজিয়া #খালেদা #মির্জাফখরুল
18/03/2022
#স্বাধীনতাঘোষণা
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাফ বার্তা পাঠিয়ে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন
বাংলার গণমানুষের হৃদয়ের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই ’৭১-এর উত্তাল দিনগুলোতে অসম্ভব রাজনৈতিক মুনশিয়ানার সঙ্গে ধাপে ধাপে পা ফেলছিলেন। তিনি যে ধৈর্য্য ও প্রজ্ঞার সম্মিলন দেখিয়েছিলেন সেটা ছিল অভুতপূর্ব। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং পরবর্তীতে ২৫ মার্চ রাতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি মিলিটারি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে তিনি বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাফ বার্তা পাঠিয়ে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে যান।
আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাফ বার্তাটির কয়েকটি প্রতিলিপি পেয়েছি–
১. ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি সিডনি এইচ শ্যনবার্গকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলছেন: “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখ রাত সাড়ে দশটার দিকে তিনি চট্টগ্রামে একটি গুপ্ত হেডকোয়ার্টারে ফোন করে স্বাধীনতার বার্তা পাঠিয়েছিলেন যেটা পরবর্তীতে গোপন ট্রান্সমিটার দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল।”
এ ছাড়া ওই রিপোর্টে বলা হচ্ছে, রাত ১২টা থেকে একটার মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা তাঁর বাড়ির উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। তিনি ড্রেসিং রুম থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন এবং তাদের মুখোমুখি দাঁড়ান। পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলি বন্ধ করতে বলেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, কেন তারা গুলি করছে? যদি তারা তাঁকে গুলি করতে চায় সেটা করুক; কেন তারা অন্য মানুষ এবং বাচ্চাদের উপর গুলি করছে?
একজন মেজর পেছন থেকে গর্জন করে ওঠে গুলি বন্ধ করতে বলেন এবং তিনি বঙ্গবন্ধুকে জানান, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
আমরা জানার চেষ্টা করছিলাম ঠিক কয়টার সময় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করতে আসা একজন অফিসার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেড এ খান। তার লিখিত ‘The Way It Was’ বইয়ে গ্রেপ্তারের সময় উল্লেখ নেই।
দৈনিক বাংলা, ৮ম বর্ষ, ১২৯শ সংখ্যা, রোববার, ১২ই চৈত্র ১৩৭৮, ২৬ মার্চ ১৯৭২ তারিখে বেগম মুজিবের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে বেগম মুজিব বলছেন: “রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে ওরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে উপরে উঠে এল।”
এরপর আমরা পাকিস্তানি ‘Dawn’ পত্রিকার ২৮ মার্চ, ১৯৭১ রবিবার সংখ্যাটি হাতে পাই। সেদিন “Army in full control in East Pakistan, Skeikh Mujib arrested from his house” শিরোনামে “A Government handout in Karachi”-এর বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে রাত ১.৩০টার সময় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এ ছাড়া এই ঘৃণ্য ঘটনার একজন মূল পরিকল্পনাকারী রাও ফরমান আলী তার ‘How Pakistan Got Divided’ নামক বইতেও শেখ মুজিবকে রাত ১.৩০টার সময় গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করেছেন।
২. ইপিআরের শহীদ সুবেদার মেজর শওকত আলীর কন্যা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সেলিনা পারভিনের সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়– ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখ রাতে সুবেদার মেজর শওকত আলী পিলখানাতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর পরিবার রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। তিনি ছিলেন সিগন্যাল কোরে বাঙালিদের মধ্যে সিনিয়র। আজিমপুর গেইটে প্রহরারত সৈনিকের মারফত রাত ১০টার কিছু পরে তাঁর কাছে মেসেজ পৌঁছে যায়। তাঁর সঙ্গে সে রাতে আরও দু-একজন ছিলেন। রাত সোয়া ১২টা বা তার কাছাকাছি কিছু সময় পরেই অয়্যারলেস মেসেজ ট্রান্সমিটাররত অবস্থায় তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
প্রফেসর সেলিনা পারভিনের ভাষ্যে: “সেই রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সুবেদার মেজর শওকত আলী যখন ট্রান্সমিট করছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিগন্যালম্যান আব্দুল মোত্তালিব। আব্দুল মোত্তালিব সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন, যিনি সেই রাতে জনাব শওকত আলীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েও বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলেন এবং এখনও জীবিত। তাঁর সাক্ষাৎকার আমি সেদিনই নিয়েছি। স্বাধীনতার ঘোষণা ট্রান্সমিশনে জনাব শওকত আলী ‘মোটোরোলা এসবিসি-৩’ সেট ব্যবহার করেন। এটি ইপিআর সিগন্যাল কোরে ব্ল্যাকসেট বলে জনপ্রিয়। সেটটিতে ভয়েস অপশন ও টিজি অপশন দুটোই রয়েছে।
“২৫ র্মাচ রাতে চট্টগ্রামে সিগন্যালম্যান আবুল খায়ের (বর্তমানে সুবেদার মেজর এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুই বছর অতিরিক্ত চাকরির সময়সীমাপ্রাপ্ত বিধায় চট্টগ্রামে কর্মরত) ওয়ারলেসের সেট নিয়ে ডিউটিতে ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি তাঁর এসবিসি-৩ সেটে ভয়েস অপশন অফ করে রেখেছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার কাছাকাছি তিনি তাঁর সেটে টিজি (টেলিগ্রাফিক) অপশনে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি পান এবং মেসেজ আনকোড করে তৎকালীন কমান্ডার ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামকে হস্তান্তর করেন। ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম মেসেজ প্রাপ্তিমাত্র তা চট্টগ্রামে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
৩. ১৯৭১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার দ্বারা প্রকাশিত ‘BANGLADESH Contemporary Events and Documents’ গ্রন্থে ১০৭ পৃষ্ঠায় চ্যাপ্টার ছয়ে “Bangladesh A New Sovereign State” শিরোনামে নিচের বার্তাটি প্রকাশ করে।
BROADCAST DECLARING INDEPENDENCE FROM
BANGLADESH RADIO ON 26TH MARCH, 1971
On the morning of March 26, the following announcement was broadcast by a radio station controlled by the Bangladesh Liberation army:
“To-day Bangladesh is a sovereign and independent state. On Thursday night West Pakistani armed forces suddenly attacked the police barracks at rajarbagh and the EPR Headquarters at Peelkhana in Dacca. Many innocent and unarmed people have been killed in Dacca city and other places of Bangladesh. Violent clashes between the East Pakistan Rifles and Police on the one hand and the armed forces of Pindi on the other, are going on. The Bengalis are fighting the enemy with great courage for an independ ent Bangladesh. Resist the treacherous enemy in every corner of Bangladesh. May God aid us in our fight for freedom.”
“Joy BANGLA”
৪. ‘BANGABANDHU SPEAKS’ A collection of speeches and statement made by Sheikh Mujibur Rahman, নামের একটা গ্রন্থ The External Publicity Division Ministry of Foreign Affairs Government of Bangladesh কর্তৃক প্রকাশিত হয়। এটা ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে প্রকাশিত। এই বইটার ২য় বিবৃতিতেই “Declaration of Independence” শিরোনামে নীচের বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে–
“THIS MAY BE MY LAST MESSAGE, FROM TODAY BANGLADESH IS INDEPENDENT. I CALL UPON THE PEOPLE OF BANGLADESH WHEREVER YOU MIGHT BE AND WITH WHATEVER YOU HAVE, TO RESIST THE ARMY OF PATION TO THE LAST. YOUR FIGHT MUST GO ON UNTIL THE LAST SOLDIER OF THE PAKISTAN OCCUPATION ARMY IS EXPELL ED FROM THE SOIL OF BANGLADESH AND FINAL VICTORY IS ACHIEVED.”
[Message embodying Declaration of Independence sent
by Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahrnan to Chittagong shortly after midnight of 25th March, i.e. early hours of 26th March, 1971 for transmission throughout Bangladesh over the ex-EPR transmitter]
অর্থাৎ আমরা সরকারি মন্ত্রণালয় দ্বারা প্রকাশিত দুটো প্রকাশনাতে দুরকম বার্তার অস্তিত্ব পাই।
৫. পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ কর্তৃক মার্চ ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা’ নামক বইতে ৯০৩ নং পৃষ্ঠায় “PAKISTAN POST AND TELEGRAPHS DEPARTMENT”-এর প্যাডে বঙ্গবন্ধু দ্বারা প্রেরিত বার্তার কপি পাওয়া যায়, যেটি শুরু হয়েছে: “Pakistani armed forces suddenly attacked the police barracks at Rajarbagh and the EPR Headquarters at Peelkhana in Dacca…”
৬. জনকণ্ঠ পত্রিকায় ৬ নভেম্বর ২০০০ সালে প্রকাশিত মুনতাসীর মামুনের একটি লেখায় পাওয়া যায় যে, পাবনার শাহজাদপুরের তৎকালীন ওসি আবদুল হামিদ ২৬ মার্চ সকাল ৮টায় একটি ওয়ারলেস মেসেজের কপি পান যেটি শুরু হয়েছে এভাবে:
“From Dacca
To
People’s of Bangladesh and all of the world.
Pakistan arms forces suddenly attacked E.P.R. of Peelkhana and Police forces at Rajarbag from 00 hours of 26th March killing laks of unarmed people…”
৭. ‘হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামে বইতেও একই বার্তার ছবি পাওয়া যায়। ছবিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় সেটি আসলে “PAKISTAN POSTS AND TELEGRAPHS DEPARTMENT”-এর প্যাডে লিখিত বঙ্গবন্ধুর বার্তা। যদিও ছবিটির বাম দিকে “PAKISTAN POS” অংশটুকু কাটা রয়েছে তথাপি সেটা যে “PAKISTAN POSTS AND TELEGRAPHS DEPARTMENT”-এর প্যাড সেটি বুঝতে অসুবিধা হয় না। এই মেসেজটি এবং পাবনা শাহজাদপুরের ওসি আবদুল হামিদ যে টেলিগ্রাফিক বার্তাটি পেয়েছিলেন এই দুইটির ট্রান্সক্রিপ্ট হুবহু এক, কিন্তু হাতের লেখা ভিন্ন। দুটি বার্তাই “PAKISTAN POSTS AND TELEGRAPHS DEPARTMENT”-এর প্যাডে লিখিত।
কয়েকদিন আগে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে একজন একটি বার্তার ইমেজ দিয়ে দাবি করেন যে, সেটি বঙ্গবন্ধুর স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরকৃত। কিন্তু সেই ইমেজটি এবং হবিগঞ্জে প্রাপ্ত টেলিগ্রাফের ইমেজ হবহু এক। শুধুমাত্র উপরে “PAKISTAN POSTS AND TELEGRAPHS DEPARTMENT” অংশটা কেটে দেওয়া হয়েছে। ফলে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরকৃত’ এই দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি।
উল্লেখ্য ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে (রিট ২৫৭৭/২০০৯) যে মামলা চলেছিল সেখানেও কেউ বঙ্গবন্ধুর স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরকৃত কোনো দলিল দাখিল করতে পারেননি।
বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বেই ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’-এর বার্তা যে কয়েকজনকে দিয়ে গিয়েছিলেন সারা দেশ ও পৃথিবীময় প্রচারের জন্য, সেটা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত। কিন্তু তাঁর ‘স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরকৃত’ কোনো ডকুমেন্ট বা দলিলের অস্তিত্ত্ব আমরা পাইনি।
আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু সচেতনভাবেই স্বহস্তে লিখিত এবং স্বাক্ষরকৃত কোনো দলিল বা ডকুমেন্ট রাখেননি। আজীবন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বিশ্বাসী শেখ মুজিবের পূর্বাপর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে কোনো ডকুমেন্ট না রাখাটাই তাঁর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। ঠিক যে কারণে ৭ মার্চ তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা দেননি (আবার স্বাধীনতা ঘোষণার বাকিও রাখেননি), ঠিক একই কারণে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি তাঁর নিজ হাতের লেখা ও স্বাক্ষরকৃত কোনো দলিল/ডকুমেন্ট রাখেননি।
বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মগোপন করবেন না। এ জন্যই তিনি সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছিলেন এবং নিজে হায়েনা পাকিস্তানিদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই যে নিজের স্বকণ্ঠে বা স্বহস্তে কোনো দলিল/ডকুমেন্ট না রাখা এবং নিজের বাসভবন থেকে কোথাও না যাওয়া– এ দুটি সিদ্ধান্ত একে অপরের পরিপূরক বলে মনে হয়। কেননা এ ধরনের দলিল আমাদের জন্য আরও আত্মঘাতী হতে পারত। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও সুদূর পরাহত করা হত।
ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে তখন তারা কোনো বিচ্ছিন্নবাদী নেতাকে গ্রেপ্তার করেনি, বরং একটি দেশের সদ্যনির্বাচিত সরকার প্রধানকে গ্রেপ্তার করে।
সৌজন্যেঃ বিডি নিউজ
মূল লেখা - বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাফিক বার্তা
তথ্য সহায়তাঃ মাহবুবুর রহমান জালালইন্টারনেট ও বিভিন্ন বইপত্র।
#গণহত্যা #২৫মার্চকালরাত #মুক্তিযুদ্ধ #মার্চ১৯৭১ #স্বাধীনতাদিবস #স্বাধীনতাঘোষণা #বঙ্গবন্ধু #শেখমুজিব
10/02/2022
জাতীয় ৪ নেতা হত্যার অন্যতম দন্ডপ্রাপ্ত আসামী খায়রুজ্জামানকে বারবার পুরষ্কৃত করে বিএনপি
- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খায়রুজ্জামানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব প্রদান করে জিয়া
- ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে তাকে জামিনে মুক্ত করে
- ২০০৩ সালের ৪ মে তাকে পরপরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহা-পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়
- ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার তাকে ফিলিপিন্সের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দিয়ে বিদেশে পাঠায়
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে তাকে হাই কমিশনার করে পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায়
#জাতীয়নেতা #বাংলাদেশ #বিএনপি
03/02/2022
সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, সংলাপ ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকাঃ
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জেতার পরেও, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সর্বদলীয় অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখার জন্য শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। এমনকি তাদের পছন্দনীয় নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণেরও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের আইন-কানুনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।
সুষ্ঠু ভোট হলে নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে, বিএনপি-জামায়াত কৌশলে সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং নির্বাচন বানচালের জন্য দেশজুড়ে নাশকতা শুরু করে। থানা লুট থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর ও যানবাহনে পেট্রোল বোমা ও নজিরবিহীন অগ্নিসন্ত্রাস চালায় বিএনপি-জামায়াত। তাদের দুর্বৃত্তায়নের ফলে প্রাণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৩ জন সদস্য। পেট্রোলে পুড়িয়ে তারা হত্যা করে দুই শতাধিক মানুষকে। মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্বের শিকার হতে হয় দুই সহস্রাধিক সাধারণ জনগণকে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, ফলে একপর্যায়ে বর্বরতা থামাতে বাধ্য হয় তারা।
বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার কারণে এসময় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে আরো প্রায় ১০টি পদ্মা সেতুর মতো স্থাপনা তৈরি করা সম্ভব হতো।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও সর্বদলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের প্রচেষ্টা চালান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের পরিবেশ সুনিশ্চিত করা। কিন্তু সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিএনপি ও তাদের জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো দূরভিসন্ধিমূলকভাবে রাজনৈতিক সংলাপের সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশে নানা ধরনের গুজব, অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনি পরিবেশ ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে।
শুধু তাই নয়, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনের মাঠে জনসংযোগ ও প্রচারণায় না নেমে, উল্টো সেই নির্বাচন বানচাল করার জন্য পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক অপপ্রচারে লিপ্ত হয় এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়।
01/02/2022
আওয়ামী লীগের দাবির মুখে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালুঃ
বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকার বিষয়টি ধরা পড়ার পর, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতার দাবি জানায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রবল জনমতের চাপে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৪ দলের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, নির্বাচনে পেশীশক্তি ও অর্থের ব্যবহার বন্ধ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইচ্ছুক প্রার্থীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরপরই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করা, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির তালিকা প্রণয়ন এবং সেখান থেকে মনোনয়ন প্রদান, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এসব প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের পর বিএনপি-জামায়াত জোটের করা ভোটার তালিকা হতে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়া হয়। এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। এরপরেই নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগসহ সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি সাধনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে শুরু করে।
30/01/2022
লবিস্ট ইস্যুতে বিএনপি'র নেতাদের দুরকম বক্তব্য - চিন্তা করুন এই ভন্ড দলের কাছে বাংলাদেশ কতোটা নিরাপদ
বাংলাদেশ থেকে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করা হয়নি। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী লবিস্ট নিয়োগ করে থাকতে পারে
- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে দেশকে রক্ষার জন্য
- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল