একজন মেয়র নয়, একটি ব্যবস্থা: খুলনার জন্য একটি নতুন প্রতিশ্রুতি
প্রিয় খুলনাবাসী,
আমরা "আগামীর খুলনা"। আমরা এই শহরের কিছু সন্তান, যারা খুলনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খুলনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি।
কিন্তু আজ, এই শেকড়ের টান থেকেই একটি কষ্টের কথা বলতে চাই। আমরা সবাই দেখি, একটি অসহ্য বাস্তবতা আমাদের ঘিরে রেখেছে:
জনগণকে যেতে হয় নেতার দোরগোড়ায়। একটি ছোট্ট সুপারিশ, একটি সাধারণ সেবার জন্য, একটি অস্থায়ী সমাধানের আশায় মানুষকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর এই 'তাৎক্ষণিক' সাহায্যের বিনিময়ে, একটি অদৃশ্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
এই 'অদৃশ্য মূল্য' কী? এটি শুধু টাকা-পয়সা নয়, এটি আমাদের মর্যাদা। এটি আমাদের সময়ের অপচয়।
এর ফলাফল কি? আমরা দেখি যারা আমাদের সেবা করার কথা, তাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা। আর যাদের সেবা পাওয়ার কথা, তারা পড়ে থাকে একই সমস্যায় বারবার। এই সম্পদের পার্থক্যটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, কার থেকে কতটা 'অদৃশ্য মূল্য' আদায় করা হয়েছে।
এই চক্রটি ভাঙার সময় এসেছে।
বিশ্বজুড়ে নগর উন্নয়নের কাজ ও পড়াশোনা আমাদের শিখিয়েছে একটাই মূলমন্ত্র: একজন ব্যক্তির উপর নির্ভরশীলতা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধান হলো একটি কার্যকরী ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে 'অদৃশ্য মূল্য' দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
আমাদের স্বপ্ন হলো একজন ‘অদৃশ্য মেয়র’-এর। একজন মেয়র যার প্রধান কাজ হবে একটি শক্তিশালী, ডিজিটাল ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
আমাদের অঙ্গীকার হলো, খুলনার প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা গড়ে তুলবো:
স্বেচ্ছাসেবক কর্মীবাহিনীঃ একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ওয়ার্ডভিত্তিক নেটওয়ার্ক। এই ব্যবস্থায় শহরের যুবক, শিক্ষার্থী, এমনকি ইচ্ছুক যে কোনো নাগরিক একটি কেন্দ্রীয় নগর-অ্যাপ বা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। জরুরি পরিস্থিতি, সামাজিক অনুষ্ঠান, বা কমিউনিটি সেবার প্রয়োজন দেখা দিলে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ট ও সংগঠিত করতে পারবে। এটি তরুণদের জন্য একটি অর্থপূর্ণ সামাজিক অংশগ্রহণের প্ল্যাটফর্ম হবে, পাশাপাশি প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকর এবং সেবা প্রদানে সক্ষম করবে।
সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেখানে থাকবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রশিক্ষিত কর্মী, যাতে ছোটখাটো রোগের জন্য দূরের হাসপাতালে ছুটতে না হয়।
মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ: সরকারি স্কুলগুলোকে আধুনিক ও সক্ষম করে তোলা, খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা: প্রতিটি এলাকায় শিশু-কিশোর ও যুবকদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ, বসার বেঞ্চ এবং সবুজ公共空间 (public space) তৈরি করা।
সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আবাসন: শহরের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বসতবাড়ির ব্যবস্থা করা।
একটি ব্যবস্থা যা:
পরিকল্পনাভিত্তিক: পানিবদ্ধতা দূরীকরণ থেকে যানজট সমাধান, প্রতিটি সমস্যার জন্য থাকবে একটি বিজ্ঞানসম্মত, অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী এবং সময়সীমাযুক্ত মাস্টার প্ল্যান।
স্বচ্ছ: শহরের প্রতিটি টাকার খরচ, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি অনলাইনে একটি পাবলিক ড্যাশবোর্ডে লাইভ দেখানো হবে। কোনো টাকার গতিপথই 'অদৃশ্য' থাকবে না।
নাগরিক-কেন্দ্রিক: আপনার দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান হবে দ্রুত এবং সিস্টেমের মাধ্যমে, ব্যক্তির মাধ্যমে নয়। আপনার মর্যাদা রক্ষা হবে।
আমরা শুধু আশার বাণী শোনাতে চাই না। আমরা একটি “খুলনা নগরী রূপান্তর পরিকল্পনা” নিয়ে আসছি। শীঘ্রই আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি মহল্লায় বসবো আপনাদের সাথে। শুধু কথা বলতে নয়, আপনার সমস্যাগুলোকে একজন প্ল্যানার হিসেবে বিশ্লেষণ করতে, এবং তার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে।
এটি শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ডাক। রাজনীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে সরিয়ে সেবা ও ব্যবস্থাকেন্দ্রিকতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান। লেজুড়ভিত্তিক-কেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটানোর আহ্বান।
আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং অকৃত্রিম নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করি, তাহলে খুলনা হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বাসযোগ্য, আধুনিক এবং গতিশীল শহর।
আপনার মতামত, আপনার প্রতিক্রিয়া আমাদের জানাবেন। এই স্বপ্ন কি আপনারও স্বপ্ন? এই বদ্ধ চক্র ভাঙতে আপনি কি আমাদের সাথে আসবেন?
আগামীর খুলনা
(একটি নাগরিক উদ্যোগ)
#আগামীর_খুলনা #খুলনা িকল্পনা #মেয়র_প্রার্থী #বাংলাদেশ #ভবিষ্যতের_খুলনা #দুর্নীতিমুক্ত_খুলনা #স্বাস্থ্য #শিক্ষা #খেলারমাঠ #সুবিধাবঞ্চিত
আগামীর খুলনা-Khulna in Future
আগামীর খুলনা
With the aim of Preparing Khulna as the first Liveable City in Bangladesh
21/06/2025
খুলনার জলাবদ্ধতা-দায় কার? সমাধান কোথায়?
ড. মোর্ত্তুজা আহমেদ
সহযোগী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
খুলনার বেশ কিছু নতুন আবাসন প্রকল্প (বিশেষত ময়লাপোতা, নিরালা, বয়রার আশপাশে) জলাধার ভরাট করে গড়ে উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই চলছে এই দখল-উন্নয়ন। যে মাটি একসময় পানি শুষে নিত, এখন সেখান থেকে পানি সরার কোনো পথ নেই।
খুলনার জলাবদ্ধতা নির্মূল করা কোনো অলীক স্বপ্ন নয়-প্রয়োজন শুধু বাস্তবতা-ভিত্তিক পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন।প্রথমত, খুলনার একটি একীভূত Smart Drainage Master Plan দরকার-যেখানে খাল, ড্রেন, জলাশয় এবং ভবিষ্যৎ বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু ঝুঁকিকে মাথায় রেখে নগর ব্যবস্থাপনা সাজানো হবে। এই পরিকল্পনায় বুয়েট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও নগর বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে হবে।
খুলনার জলাবদ্ধতা-দায় কার? সমাধান কোথায়? বর্ষা এলে খুলনা যেন ডুবে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা, অলিগলি, স্কুল, হাসপাতাল এমনকি প্রধান সড়কগুলো পানিতে ত....
14/05/2025
আসলেই খুলনা এক মায়ার শহর, সমৃদ্ধ শহর, কোলাহলমুক্ত নির্মল শ্বাস নেওয়ার শহর। যেখানে নদী গল্প বলে আর খাল গেয়ে ওঠে ইতিহাসের গান। বহুকাল আগে, যখন পদ্মা ও মেঘনার মিলিত স্রোতে দক্ষিণ বাংলার বুক চিরে বয়ে চলত রূপসা, ভৈরব আর আটরা খাল, তখন এই অঞ্চল ছিল নিবিড় বনভূমি ও জলাভূমির এক বিস্ময়কর মিশেল। ইতিহাস বলে, খুলনার গোড়াপত্তন হয়েছিল নদীপথকে ঘিরেই। স্থানীয় লোককথা, প্রত্নতত্ত্ব ও সাহিত্যিক দলিল মিলিয়ে খুলনার জন্মকথা যেন এক রূপকথারই প্রতিচ্ছবি।
নদী-খালের বুকে জেগে ওঠা এক মায়ার শহর খুলনা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ থাকলেও প্রতিবছর ২৫ এপ্রিল বেশ ঘটা করে খুলনা জেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ...
06/04/2025
২৩ মার্চ ২০২৩, সময় নিউজ
দেশ স্বাধীনের পর ৬০টি বাস নিয়ে খুলনা শহরে ‘নগর পরিবহন’ চলাচল শুরু করে। এসব বাস চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ২০১৮ সালে নগর পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১৯ সালে চারটি বাস চালু হয়ে করোনার আগে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের আগস্টে ছয়টি বাস রাস্তায় নামানো হলেও দুই মাসের মধ্যে নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত পরিবহন সেবা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে।
বর্তমানে খুলনার রূপসা ঘাট থেকে ফুলতলা পর্যন্ত মাহেন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া জনপ্রতি ৬০-৭০ টাকা। অথচ নগর পরিবহনে এ ভাড়া ছিল ২৫-৩০ টাকা। আর শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক। এ ছাড়া ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা ও সিএনজির অতিরিক্ত চাপে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের পাশাপাশি বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
নগরীর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার শেখ নামের এক ব্যক্তি বলেন, মাহেন্দ্রের ভাড়া লোকাল গাড়ির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এত ভাড়া সত্যিই কষ্টদায়ক। সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি, ছাত্রছাত্রী ও জনসাধারণের কথা চিন্তা করে খুলনাতে যেন অবিলম্বে গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়।
খুলনায় বন্ধ নগর পরিবহন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-সাধারণ মানুষ | বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের আগস্টে খুলনায় চালু হয় নগর পরিবহন। কিন্তু মাস দু-এক চলার পর ফের বন্ধ হয়ে যায় ‘মুড়ির ....
খুলনায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল আটটায় সার্কিট হাউস ময়দানে হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাত সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।
24/07/2022
খুলনা-বাগেরহাট রেলপথ ছিল দক্ষিণ বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাসের অংশ। মাঝে কিছুদিন ছেদ পড়া সেই ইতিহাসের পুনর্নির্মাণের আহ্বান যদি আসে, খুব অযৌক্তিক হবে না। তাই খুলনার সঙ্গে পুরোনো রেলপথ চালুর পাশাপাশি দ্রুতই ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত আসা রেলপথকে সম্প্রসারিত করতে হবে বাগেরহাট হয়ে মোংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত। শুরুর কথাটা পুনর্বার বলি, সময় এসেছে আবার ইতিহাসের দাবিকে সামনে আনার, দায় পরিশোধের।
দক্ষিণে রেল যোগাযোগ ও বিস্মৃত এক রেললাইনের গল্প পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের কাজ চলছে। স্বস্তির সড়ক যোগাযোগের পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌ.....
20/05/2022
নিচের লেখা ভিডিওর বিস্তারিত অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে!
উল্লাসিনী । খুলনা শহরের প্রথম সিনেমা হল । Frist Cinema Hall In Khulna Bangladesh
বিভাগপূর্ব যুগে খুলনা শহরে যে কয়টি সিনেমা হল নির্মিত হয় তার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল উল্লাসিনী হল। এটি শহরের সবচেয়ে পুরানাে হল। ১৯৩৫/৩৬ সালের দিকে ভৈরব নদ তীরবর্তী এলাকায় কালীবাড়ীর কাছে এ হল গড়ে ওঠে। এ হলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রমথ নাথ কুরী/ প্রমথ নাথ দাস (বিভিন্ন রেফারেন্স বইতে বিভিন্ন রকম তথ্য পাওয়ার কারনে দুটো নামই আমরা ব্যবহার করেছি)। তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ। ডেলটা ঘাটের কাছে তার কাসা পিতলের বড় দোকান ছিল। তাঁর ভাই প্রফুল্ল কুরীর বিরাট কাপড়ের দোকান ছিল মহেন্দ্রদাসের মােড়ে। অর্থাৎ দুই ভাইই ছিলেন শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রথমদিকে যে তাঁরা অর্থশালী ছিলেন তা নয়। ব্যবসার মধ্যে দিয়ে তাঁরা যথেষ্ট অর্থবান হয়ে ওঠেন। প্রমথ নাথ কুরীর বাড়ী ছিল কালীবাড়ী রােডস্থ কালী মন্দিরের পাশের মােড়ে। সে বাড়ীতে পরে ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জ্ঞাতী ভাই ডাঃ ফাণভূষণ রায়ের স্ত্রী, শহরের প্রথম মহিলা ডাক্তার অবস্থান করতেন। এই প্রমথ কুরীরই দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন উল্লাসিনী। তিনি তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। হঠাৎ উল্লাসিনীর অকালমৃত্যু ঘটে। তখন প্রমথ কুরী তাঁর স্বৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শহরে তাঁর নামে একটা হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
তখন খুলনা শহরে কোন সিনেমা হল ছিল না। মানুষের চিত্তবিনােদনের সুযােগও ছিল খুব
সীমিত। তখন টেলিভিশনের জন্ম হয়নি। রেডিওরও তেমন-প্রসার ঘটেনি। এ সময় শহরে একটা সিনেমা হলের প্রয়ােজন অনুভূত হচ্ছিল। বিদ্যুৎও এসে গিয়েছিল শহরে। এমতাবস্থায় প্রমথ কুরীর সিদ্ধান্ত খুবই সময়ােপযােগী হয়েছিল-সন্দেহ-নেই। অল্পদিনের
মধ্যে তাঁর হাতে এ হল নির্মিত হয়। তাঁর মৃত স্ত্রীর নামানুসারে এর নাম রাখা হয় উল্লাসিনী হল। এ হলে প্রদর্শিত প্রথম ছবির নাম ছিল "রাজা হরিশচন্দ্র"। এ হলের উদ্বোধন শহরবাসীর জন্য ছিল একটা সাড়া জাগানাে ঘটনা। এতে সমস্ত শহরে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। এর আগে খুলনার মানুষ সিমেনা দেখতে যেত কলকাতায়।
আর তখন সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাও খুব কম মানুষেরই ছিল। কারণ কলকাতায় যাওয়ার
সুযােগ না হলে মানুষ সিনেমা দেখতে পারতাে না। আর সে সুযােগ হাতের মুঠোয় মুঠোয় চলে আসা, নিজের শহরেই সিনেমা হল, এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আর কি হতে পারে! এভাবে এখন থেকে ৮০/৮৫ বৎসর আগে খুলনা শহরের গঠমান যুগে নাগরিক
চিন্তবিনােদনের জন্য এ সুযােগ করে দিয়েছিলেন প্রমথ কুরী। শােনা যায় ব্যবসায়ী হলেও এ হল প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য খুব কমই ছিল। এর মূলে ছিল পত্নীর
স্মৃতি বাচিয়ে রাখা এবং নতুন কিছু করার প্রেরণা। সমাজে দানধ্যানেও তিনি অকৃপণ
ছিলেন। শােনা যায় তিনি (প্রমথ কুরী) বাংলা ১৩৪৬ সালে তদীয় পিতার স্মরণে দীনবন্ধু
রােডে কেশবচন্দ্র সংস্কৃত বিদ্যামন্দিরটি তেরী করে দেন । এর জন্য খুলনা পৌরসভা তাঁকে ১৩ কাঠা জমি দান করে। এখানে পৌরসভার গরুর খোঁয়াড় ছিল। প্রমথ কুরী পরিণত বয়সে এই খুলনা শহরেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অবর্তমানে এ হলের মালিক হন তাঁর পুত্র জীবন কুরী। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় এই জীবন কুরীর অকালমৃত্যু ঘটে। তখন জীবনের স্ত্রী নাবালক পুত্রকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়লে হলের মালিকানা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। জীবনের স্ত্রী তখন তৎকালীন জেলা জজের শরণাপন্ন হন। জেলা জজের
হস্তক্ষেপে সে সমস্যার সমাধান ঘটে।।
উল্লাসিনী । খুলনা শহরের প্রথম সিনেমা হল । First Cinema Hall In Khulna Bangladesh উল্লাসিনী । খুলনা শহরের প্রথম সিনেমা হল । Frist Cinema Hall In Khulna Bangladeshবিভাগপূর্ব যুগে খুলনা শহরে যে কয়টি সিনেমা হল নির্মিত হয.....
20/05/2022
খুলনার শতবর্ষী ভবন ধ্বংসযজ্ঞ পর্ব -১ । How Heritage Building being Destroyed in Khulna part -1 খুলনার আহসান আহমেদ রোড কে না চেনেন? এই আহসান আহমেদ রোডেই কিন্তু এখনো দাঁড়িয়ে আছে বহু শতবর্ষী বাড়ি। কিন্তু সভ্যতার ...
12/05/2022
খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। নগরের কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়ায় দু.....
12/05/2022
কর্তৃপক্ষ ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একদিকে যেমন সময়মতো প্রকল্প শেষ হচ্ছে না কিংবা কাজের মান যথাযথ হচ্ছে না, তেমনি অন্যদিকে জনজীবনে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তি।
নাজুক খুলনা উন্নয়ন প্রকল্প আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর বিনির্মাণে ১৯৬১ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) গঠন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কে.....
We will be posting everything about Khulna. News, service, development, opportunities, everything in/on Khulna.
That's why we are
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Khulna

05/06/2022