17/04/2023
১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতার সংগ্রামের সাক্ষী, লালবাগ কেল্লা
১৮৫৭ সালে মঙ্গল পান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রাম শুরু হয়েছিলো। যার ছোঁয়া সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও প্রথম সংগ্রাম সফলতার মুখ দেখেনি, কিন্তু এরপর থেকেই ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিলো তাদেরকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। বাণিজ্য করতে এসে ইংরেজরা হাতে নিয়ে নেয় রাজদণ্ড। শুরু হয় শোষণ ও নিপীড়ণের নতুন অধ্যায়। রাজ্য দখল করলেও তাদের সম্মুখীন হতে হয় ছোট বড়ো একের পর এক বিদ্রোহের। তার মধ্যে ফকির আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, সাঁওতাল বিদ্রোহ, রংপুর বিদ্রোহ, পাগলপন্থী, বিষ্ণুপুর বিদ্রোহ উল্লেখযোগ্য। এই ছোট ছোট বিদ্রোহগুলো পরবর্তীতে স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধের দ্বার উন্মোচন করে, যা দাবানলের মতো দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সেইসময় ঢাকায় অবস্থিত ইংরেজ, ডাচ, আর্মেনিয়ানরা তখন কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করলো। অতি সচেতন হয়ে তারা পাহারা আরও বাড়িয়ে দিলো। যেকোনো মুহূর্তে ঢাকায় বিদ্রোহ হতে পারে ভেবে, তারা জলপাইগুড়ি থেকে সৈন্য এনে ঢাকাকে পাহারা দিবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো। এই সময় শহরে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে থাকলো। যেমন: ব্রাম্মন রুটিয়ালাকে পেটানোর অপরাধে এক সিপাহীকে জরিমানা করা হয়েছিল। যখন ইংরেজ সৈন্য ঢাকায় আসে, সিপাহীর পোশাক পরা কিছু লোক কয়েকজন সৈন্যকে পেটায়। এতে করে শহরের পরিবেশ আরও থমথমে হয়ে ওঠে। এবং এই কারণেই নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই তারা লালবাগে অবস্থিত সিপাহীদের নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত নিলো। ২২ নভেম্বর ১৮৫৭ এর ভোরের আগেই নির্দেশ মতোই কমিশনার, জজ, কিছু সিভিলিয়ান ও ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক সম্ভবত ঢাকা কলেজের কাছে জড়ো হয়। লে. লুইস, লে. ডডওয়েল ও উইলিয়াম ম্যাকফার্সন লালবাগের দিকে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, লে. রিন্ড, ফারবেশ আরও অনেকে রওনা হন কোষাগারের দিকে সিপাহীদের নিরস্ত্র করতে। সেই সময় ১৫ জন সিপাহী তোপখানার পাহারায় ছিল। যাদের বেশিরভাগই তখন ঘুমিয়ে ছিল। সিপাহীদের যখন নিরস্ত্র করা হচ্ছিলো তখনি লালবাগ থেকে গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। ইংরেজ স্বেচ্ছাসেবকরা এই আওয়াজে ভয় পেয়ে যায়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তোপখানার সিপাহীরা পালিয়ে যায়। নৌসেনারা যখন লালবাগ যায় সেখানে দেখে সিপাহীরা ততক্ষনে প্রস্তুত হয়েই ছিল। হয়তো তারা আগে থেকে কিছু ধারণা করতে পেরেছিলো। দেশি সিপাহীরা এই ধরণের কোনো আক্রমণ আশা করেনি। গোলাগুলির আওয়াজে অবাক হলেও তাদের কাছে থাকা দশ রাউন্ড গুলি দিয়ে তারা প্রতিউত্তর দিচ্ছিলো। তাদের মধ্যে একজন পাঞ্জাবি মহিলা ক্রমাগতভাবে পরি বিবির মাজার থেকে আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়ছিলো। লালবাগের অস্ত্রাগারের চাবি ছিল সুবেদারের কাছে। সিপাহীদের ও সুবেদারের স্ত্রীর অনুরোধের পরও যখন তিনি চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান তখন সিপাহীরা তাকে হত্যা করে চাবি ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু ইংরেজরা ততক্ষনে তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পরীবিবির মাজারের সামনে বসানো কামান দিয়ে সিপাহীরা ইংরেজদের বাধা দিচ্ছিলো। অস্ত্রের অভাবে আত্মসমর্পণ করলেও ইংরেজরা তাদের নির্মম ভাবে হত্যা করে। কিছু সিপাহীর লাশ ফেলা হয় দুর্গের পশ্চিম দিকের পুকুরে। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয় অনেক সিপাহীকে। সংঘর্ষের সময় কিছু সিপাহী পালিয়ে গিয়েছিলো। ২০ জন সিপাহীকে গ্রেফতার করা হয় যাদের মধ্যে সুবেদারের স্ত্রীও ছিল। ২০ জনের মধ্যে ১১ জনকে ফাঁসি দেয়া হয় চকবাজার ও আন্টাঘর ময়দানে, যা বর্তমানে বাহাদুর শাহ পার্ক নামে পরিচিত (পাঞ্জাবি মহিলা সিপাহীকেও আন্টাঘরে ফাঁসি দেয়া হয়।)। ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সলিমুল্লাহ এতিমখানার দক্ষিণে কবর দেয়া হয়, এটি একসময় 'গোরে শহীদ মহল্লা' নামে পরিচিত ছিল। পালিয়ে যাওয়া সিপাহীদের যারা ধরা পড়েছিল তাদেরকে এক গির্জার ফাঁকা জায়গায় তৈরী ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে মারা হয়েছিল। ঢাকায় তখন শিখ এবং পাঠান মিলে মোট ২৬০ জন সিপাহী ছিল। বাংলাদেশের চট্রগ্রামে সিপাহীরাও সংগ্রাম করেছিল। ঢাকার সিপাহীরা শুধু উত্তেজিত হয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিলো এরকম কিছু একটা ঘটবে। কিন্তু সেটা যে এতো জলদি, তা তারা বুঝতে পারেনি। ইংরেজদের অতি আতংকের কারণেই তারা এই আক্রমণ করেছিল। সরকারি তথ্যমতে, লালবাগে ৪১ জন সিপাহী ও ৩ জন ইংরেজ নৌসেনা নিহত হন। আসলে কেন এই সংগ্রাম সফল হয়নি? তখন ইংরেজদের সাথে শুধু জমিদার বা ধনীরা নয়, মধ্যবিত্তদের কেউ কেউ হাত মিলিয়ে ছিল। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজ সরকারকে সমর্থন করা ছাড়া তাদের কোনো উপায়ও ছিলোনা। সিপাহীদের হেরে যাওয়ার খবর ছিল তাদের জন্য আনন্দের। যে আন্টাঘর ময়দানে সিপাহীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়েছিল, সাধারণ মানুষ অনেকদিন সেই জায়গায় যেতে ভয় পেতো। তৈফুর বলেছেন, লালবাগের যে পুকুরে সিপাহীদের লাশ ফেলা হয়েছিল, সেই জায়গায় এক ধরণের ভৌতিক পরিবেশ তৈরী হয়েছিল। অনেকেই নাকি সেই জায়গা থেকে, 'ভাই, পানি, পানি' , 'ভাই, পানি, পানি' বলে চিৎকার শুনতে পেতো। হয়তো তৃষ্ণার্ত মৃত সিপাহীর আত্মা সাধারণ মানুষের কাছে একটু পানি চেয়ে আকুতি জানাতো। এগুলো সবই গল্প। কিন্তু এই গল্পগুলোই অনেকদিন মানুষের মনে দাগ কেটেছিল। সুতরাং আমাদের এই লালবাগ কেল্লা শুধু মোঘল স্থাপনা নয়, পরি বিবির মাজার নয়, আমাদের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের আত্মাহুতি দেয়া বীর শহীদদের আত্মত্যাগের শহীদ মিনার। এই শহীদদেরও আমাদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। ১৯৭১ এর আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তার পেছনে এই শহীদদেরও অবদান অপরিসীম।
কলমে Ahmed
13/04/2023
স্কুলে যাওয়ার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে ৮০০ মিটার খাড়া পাহাড়ের চূড়া হতে ওঠা-নামা করা লাগে যে শিশুদের!
ছোটবেলায় নিজেদের বাবার কাছ থেকে মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে, হেঁটে কিংবা নদী পাড় হয়ে স্কুলে যাওয়ার গল্প শোনেনি এমন লোক বোধহয় কমই আছে৷ তাদের গল্পের সত্যটা কতটুকু সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে৷ কিন্তু চীনের সীচুয়ান প্রদেশের আতুলের নামে একটি গ্রামে, আক্ষরিক অর্থেই স্কুলে হতে বাসায় ফেরার জন্য তাদের ৮০০ মিটার খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় মই বেয়ে ওঠা লাগা, আবার স্কুলে যেতে চাইলে এই মই বেয়ে নামা লাগে নিচে। এই ওপরে ওঠতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা৷ যার কারণে এই গ্রামের শিক্ষার্থীরা মাসে মাত্র ২ বার স্কুল থেকে বাসায় ফেরে।
মাত্র ৪০০ লোকের বাস ওই গ্রামটিতে, এই ছোট্ট গ্রামই ২০১৬ সালে সবার নজর কেড়েছিল যখন ছবিগুলো বেইজিং নিউজে প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৫ জন স্কুল শিক্ষার্থীকে মই বেয়ে ওপরে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে সর্বনিম্নের বয়স ছিল মাত্র ৬! অবশ্য এই ছবি প্রকাশের পর পাহাড়ের চূড়ায় স্কুল তৈরি সম্ভব না হলেও কাঠের তৈরি পুরানো মইগুলো সরিয়ে নতুন বড় ধরণের মই লাগিয়েছে সেখানকার প্রশাসন।
19/03/2023
ছবিটি বেশিদিন আগের নয়; ১৯০৩ সালের। একজন ইংরেজ ব্যবসায়ী তার দাসীর পিঠে আরোহন করছেন!
ব্রিটিশরা ভারত শাসন করতে এসে এভাবেই ভারতের মানুষদেরকে দাস-দাসী হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
আশ্চর্য হলেও সত্য যে, যেসময় ইংরেজরা দেশে দেশে নিজেদের কলোনি গড়ে মানুষকে দাস-দাসীতে রূপান্তরিত করেছিল, সেই সময়টাকেই ইউরোপীয়রা তাদের উন্নতি ও বিপ্লবের যুগ বলে অভিহিত করে!
আজও আমাদের বাঙালিদের মধ্যে এমন কিছু লোক পাওয়া যায়, যারা ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের শাসনকে অনেক মহান চোখে দেখে! অবশ্য গোলামি করা মানসিকতার জাতি তো কখনও এরচেয়ে উন্নত চিন্তাও করতে পারার কথা না।
28/02/2023
🦶👣পা আবিষ্কার
🦶👣ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আইখানউমে এক মন্দির খনন করেছিল। হঠাৎ করে তারা বিশাল এক মার্বেল পাথরের পা আবিষ্কার করে ফেললেন। অত্যন্ত চমৎকার এবং নিখুঁতভাবে খোদাই করা হয়েছিল পাটিকে। স্যান্ডেলের মধ্যে বজ্র ঈশ্বরের যে ছবি রয়েছে তা দেখে বোঝা যায় এটি গ্রীক দেবতা জিউসের মূর্তির অংশ। যে টুকরোটি আবিষ্কার হয়েছিল সেটি সাধারণত মানুষের পায়ের দৈর্ঘ্যের থেকে তিনগুন বড়। এই পায়ের দৈর্ঘ্য থেকে এই মন্দিরটির উচ্চতা কত হতে পারে সেটি কিন্তু ধারণা করা যায়। পায়ের আকার দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মন্দিরে জিউস বসেছিলেন। গ্রীক স্থাপত্য শৈলীর সুস্পষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় স্যান্ডেলের সাজ সজ্জা এবং শারীরবৃত্তীয় বাস্তবতাতে। ধারণা করা হয় যে এই মূর্তিটি কোন এক গ্রীক শিল্পী তৈরি করেছিল। গ্রীক নান্দনিকতায় তৈরি প্রত্নবস্তুটি ১৯৬৮ সালে আইখানউমে পাওয়া যায়। আইখানউম মূলত আফগানিস্তানে অবস্থিত একটি গ্রীক শহর।
আলেকজান্ডারের সাথে বহু সৈন্য ভারতবর্ষে এসে একপর্যায়ে তারা ভারতবর্ষে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। আফগানিস্তানে অবস্থান করলেও নিজ দেশের স্থাপত্য মন্দিরও বাড়িঘর তৈরির মূল শিক্ষাটি হাজার মাইল দূরেও তারা তাদের স্থাপত্যে সৃষ্টির ক্ষেত্রে ধরে রাখতে পেরেছিল। আবিষ্কারের পর আফগানিস্তানের জাদুঘরে এই সমস্থ প্রত্নবস্তুগুলোকে রাখা হয়েছিল। প্রত্নবস্তু গুলোর মাধ্যমে আফগানিস্তানের প্রাচীন ইতিহাস গুলো আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
১৯৯০ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন জাদুঘরের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে এই জিনিসগুলো সংরক্ষনের জন্য সরকারি ভবনে সরিয়ে রাখে। তবে দুঃখের বিষয় জিউসের এই পাটি কিন্তু আফগানিস্তানের সেই যুদ্ধের সময় জাদুঘর থেকে লুট হয়ে যায়। একজন জাপানি সংগ্রাহক এটি নিজের সংগ্রহশালায় রাখার জন্য কিনে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দ্য প্রটেকশন অফ ডিসপ্লেসড কালচারাল প্রপার্টিজ এদের উদ্যোগে জিউসের মূর্তির এই পায়ের অংশটি আফগানিস্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা ছোট ভেঙ্গে যাওয়া মুর্তি হয়তো তেমন কোন অর্থই বহন করে না। কিন্তু এটি আফগানিস্তান গ্রীক সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল নমুনা। এই সংস্কৃতি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে গ্রেকো ব্যাক্টিয়ান রাজ্যগুলির মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
Rabab Ahmed
01/01/2023
অথ চোর কাহিনী..... 🌚😎🌚
শুনে নাক সিঁটকাবেন না যেন, ইনি যে সে চোর নয় এক সেলিব্রেটি চোর। ভাগ্যিস চুরি করেছিল তা নাহলে ভিঞ্চি সাহেবের ঐ স্বপ্নসুন্দরীর থোড়াই এতো নামডাক হতো ?
১৯১১ সালের ২১শে আগস্ট, দিনটি ছিল সোমবার। ভোরের আবছায়া কাটেনি তখনো। বিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়ামের ভেতরে এক আলমারি থেকে বেরিয়ে এলো একজন। দেয়াল থেকে ফ্রেমে আঁটা মোনালিসা ছবিটিকে নামালেন, তারপর ফ্রেম থেকে ছবিটি খুলে নিজের ওভারকোট দিয়ে মুড়ে বেরিয়ে গেলেন ল্যুভর থেকে। টের পেল না কাকপক্ষীও! সারাদিন কেউ একবারও খেয়াল করলো না ছবিটি জায়গায় নেই।
পরদিন মানে ২২ তারিখ সকালে লুই বেরুঁ নামে এক চিত্রশিল্পী যখন মোনালিসার স্কেচ আঁকার জন্য দেয়ালের সামনে দাঁড়ালেন, দেখলেন শুধু চারটি হুক, ছবি নেই। বেরুঁ ভেবেছিলেন কোন ফটোগ্রাফার ছবি তোলার জন্য হয়তো ওটা নামিয়ে নিয়ে গেছেন। রক্ষী পঁপাদাইনকে পাঠালেন ফটোগ্রাফারদের কাছে কখন ছবিটা ফেরত পাওয়া যাবে তা জানতে। তাঁরা যখন বললো ওটা আদৌ নামানো হয়নি তখনই টনক নড়ে উঠলো ল্যুভর কর্তৃপক্ষের, শুরু হলো গরুখোঁজা! সরকার থেকে সন্ধানকারীকে ৪০ হাজার ফ্রাঁ পুরস্কার দেবার ঘোষণা করা হলো। প্যারিসের এক মিডিয়া হাউজ একধাপ এগিয়ে ঘোষণা করলো ৫০ হাজার ফ্রাঁ !
ল্যুভরের কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত সিঁড়ির নিচে খুঁজে পাওয়া গেলো মোনালিসার সোনালী ফ্রেম, সাথে কভার গ্লাসটি। ঘটনা ফলাও করে ছাপা হলো ফ্রান্স সহ ইউরোপের বড় বড় পত্রিকাগুলোতে। প্যারিসের তৎকালীন বিখ্যাত পত্রিকা ‘লা পেতিত প্যারিসিয়েঁ’-এর শিরোনাম হলো, “অন্তত ফ্রেমটি এখনও আমাদের কাছে রয়েছে!” তদন্তে নামে ফ্রেঞ্চ সুরেতি। সমালোচকরা ল্যুভরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এক ফরাসী সাংবাদিক মন্তব্য করেছিলো, “লা জ্যাকোন্দা" চুরি হওয়ার একমাত্র কারণ, এটি যে চুরি হতে পারে তা কখনো কেউ কল্পনাও করেনি!”
মোনালিসা চুরি হওয়ার ধাক্কা সামলানোর এক সপ্তাহ পর যখন ল্যুভরের দরজা আবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো, তখন প্যারিসবাসী হুমড়ি খেয়ে পড়লো শুধু এতদিন ধরে ‘মোনালিসা’-র আড়ালে লুকিয়ে থাকা চারটি হুক দেখার জন্য! ল্যুভরের ইতিহাসে সেই প্রথমবার দর্শনার্থীদেরকে লাইনে দাঁড় করাতে হলো। কাগজে সম্পাদকীয় লেখা হলো, “এরপর কী আইফেল টাওয়ারের পালা?”ফ্রান্সের রাস্তায় পথশিল্পীরা গান বাঁধলেন “It couldn’t be stolen, we guard her all the time, except on Mondays“। 🙄
১৯১৩ সালের নভেম্বর মাস। তদন্তে বেরিয়ে এলো ভিনসেনজো পেরুগিয়া নামে ল্যুভরে একজন ইতালীয় ঠিকা রঙ মিস্ত্রি ছিলেন। আগের দিন রবিবার কাজের শেষে জাদুঘরের ভেতর ঝাড়ু রাখার আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন। পরদিন মানে ২১শে আগষ্ট ভোরবেলা মোনালিসাকে সেই মক্কেল তাঁর কোটের নিচে লুকিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। দু'বছর পর ইতালির এক হোটেলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।(* বিস্তারিত জানতে পড়ুন নারায়ন সান্যাল মশাইয়ের লেখা.... #প্রবঞ্চক )
আদালতে পেরুগিয়া বলেন, বিখ্যাত এই ছবির শিল্পী লিওনার্দো ছিলেন ইতালীয় নাগরিক, তাই মোনালিসা ইতালির সম্পত্তি। ফরাসি সম্রাট ওটা জোর করে নিজের দেশে নিয়ে গেছিলেন। তিনি এটা ইতালিতে এনে কোন অন্যায় করেননি। আসল ঘটনা কিন্তু তা নয়, লিওনার্দো যখন ফ্রান্সে এসেছিলেন তখন রাজা প্রথম ফ্রান্সিস মাত্র চার হাজার সোনার মুদ্রার বিনিময়ে ওনার কাছ থেকে মোনালিসা ছবিটি কিনে নিয়েছিলেন। রেখেছিলেন তাঁর ভার্সাইয়ের রাজপ্রাসাদে। এরপর নেপোলিয়ন মোনালিসাকে নিয়ে গিয়েছিলেন টুইলিরাইসে, নিজের প্রাসাদের শয়নকক্ষে। ১৮২১ সালে নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর ল্যুভর মিউজিয়ামকে ওটি উপহার দেওয়া হয়। ছবিটি পরিণত হয় ফ্রান্সের জাতীয় সম্পত্তিতে। বিচারে এক বছরের জেল হলো ভিনসেনজোর। আর মোনালিসাকে ফিরিয়ে আনা হয় ফ্রান্সের ল্যুভরে, সেবছরেই।
বিচারে শাস্তি পেলে কী হবে, মোনালিসা চুরি করে ভিনসেনজো পেরুগিয়া ইতালিতে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে সেদিন সম্মান পেয়েছিলেন। সাত মাস কারাদন্ড ভোগ করেই বেরিয়ে আসেন পেরুভিয়া, নাম লেখালেন ইতালির সেনাবাহিনীতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আবার ফিরে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে, রঙের দোকান খুলে সেখানেই ছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। অবশেষে নিজের ৪৪তম জন্মদিনেই সীসা বিষক্রিয়ায় পরলোকে পাড়ি জমান ‘মোনালিসা’-কে বিখ্যাত করার পেছনের এই সেলেব্রিটি তস্কর।
কলমে ✍🏻 স্বপন সেন 🌲
16/11/2022
প্যালিওনথ্রোপলজি স্টাডিজ: হোমো ইরেক্টাস।
হোমো ইরেক্টাস ছিল প্লাইস্টোসিন যুগের প্রাচীনতম মানুষের একটি প্রজাতি। তাদেরকে বিভিন্ন মানব প্রজাতির সরাসরি পূর্বপুরুষ বলে মনে করা হয়, যেমন: H(হোমো) হাইডেলবার্গেনসিস, নিয়ান্ডারথাল, ডেনিসোভান এবং আধুনিক মানুষ বা হোমো সেপিয়েন্স। H. erectus আধুনিক মানুষের সাথে তাদের পূর্বপুরুষ, অস্ট্রালোপিথেসিনের সাথে অনেক বেশি মিল ছিল বলে মনে হয়, যারা মানুষের মত চলাফেরা, শরীরের অনুপাত, উচ্চতা এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতা। 'হোমো ইরেক্টাস আচিউলিয়ান' মানে যারা পাথরে হাতিয়ার শিল্পের সাথে যুক্ত ছিল, এবং ধারণা করা হয় যে তারা প্রথম আগুন জ্বালানো শুরু করেছিলেন, কথা বলতে, শিকার করতে এবং সমন্বিত দলে জড়ো হতে, আহত বা অসুস্থ গোষ্ঠীর সদস্যদের দেখাশোনা করতে, এছাড়াও নানা শিল্প তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।
চিনের 'Zhoukoudian' নামক গুহাটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলির মধ্যে একটি। যেখানে ৪৫ জন হোমো ইরেক্টাস ব্যক্তির দেহাবশেষ পাওয়া গেছে এবং হাজার হাজার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
28/08/2022
বিবর্তন কি শুধুমাত্র একটা তত্ত্ব?
অনেকেই তর্কে তুলে আনেন। “বিবর্তন ফ্যাক্ট না, এটা একটা থিওরি মাত্র” বলে বোঝাতে চান বিবর্তন বিশ্বাসযোগ্য নয়! সংক্ষেপে বলতে গেলে বিবর্তন ফ্যাক্ট এবং থিওরি দুটোই, নির্ভর করে আপনি কী নিয়ে কথা বলছেন তার উপর।
সকল প্রাণী সরলতর প্রাণী থেকে কয়েক মিলিয়ন বছরে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। সেই সরলতর প্রাণীকে বলা হয় LUCA (Last Universal Common Ancestor)- এটা একটা বৈজ্ঞানিক ফ্যাক্ট। এই ফ্যাক্টের সত্যতা পাওয়া যায় ফসিলে, ডিএনএতে আর জৈবভূগোলে। আপনি ফসিল খুঁজতে যত গভীরে যাবেন তত সরলতর প্রাণীর ফসিল পাবেন। সরলতর প্রাণীদের ভীড়ে আপনি জটিল গঠনের ফসিল পাবেন না, কখনোই। একই গভীরতায় পাওয়া ফসিলরা একই রকম গঠনের হবে, জটিলতার দিক থেকে।
ডিএনএর গঠনও প্রচ্ছন্নভাবে বিবর্তনের প্রমাণ দিয়ে যায়। শিম্পাঞ্জীর সাথে মানুষের কার্যকর জীন ৯৯.৬% মিলে যায়। ইদুরের সাথে ৮০% মিলে যায়। এই শতকরা অনুপাত আবার একক পূর্বপুরুষের জীবনকালের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো বিবর্তনকে ফ্যাক্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এবার দেখা যাক থিওরির অংশটা।
থিওরি হচ্ছে যা দিয়ে ফ্যাক্টকে বিশ্লেষণ করা হয়। The Theory of Evolution by the means of Natural Selection”, থিওরিটা হচ্ছে প্রাকৃতিক নির্বাচনের অংশটা।
অন্যভাবে বলতে গেলে, বিবর্তন হচ্ছে ফ্যাক্ট, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা ঘটে এটা হচ্ছে থিওরি। আরো কিছু থিওরি যদি আমরা দেখি তবে ব্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হবে- The theory of universal gravity, The germ theory, The cell theory, The heliocentric theory, যেগুলো সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক সম্মানপ্রাপ্ত সত্য সেগুলোকেও থিওরিই বলা হয়।
চার্লস ডারউইন আর আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের আগেও অনেক প্রকৃতিবাদী-জীববিজ্ঞানী-দার্শনিক বিবর্তনের কথা বলে গেছেন। তারা যেটা পারেন নি সেটা হচ্ছে “কেনো” প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া। ডারউইন আর ওয়ালেস “কেনো” আর “কিভাবে” ব্যাখা করতে পেরেছেন। আর সেটাই তাদের অসাধারণ আর ক্ষেত্রবিশেষে ঘৃনার পাত্র করে তুলেছে।
15/08/2022
একটি জোঁক ২ থেকে ১৫ মিলিলিটার
রক্ত শুষতে পারে। সেই সঙ্গে মুখ থেকে
এক ধরনের লালা মিশিয়ে দেয় রক্তে।
যাতে হিরুডিন, ক্যালিক্রেইন, ক্যালিনের
মতো কিছু উৎসেচক থাকে। যা রক্তের দূষণ দূর
করতে সাহায্য করে।
জোঁক শরীরের পচনশীল অংশের দূষিত রক্ত দ্রুত শুষে নিয়ে নতুন রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে৷ এমনকি, রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। জোঁকের শরীর থেকে ডেস্টাবিলেস নামে এক ধরণের প্রোটিন প্রবেশ করে মানুষের দেহে। যা বহু জেদি জীবাণুকে মেরে ফেলে।
জয়েন্ট পেইনেও দারুণ কাজ করে জোঁক থেরাপি। ব্যথার জায়গায় কিছুক্ষণ জোঁক রাখলে রক্ত সরবরাহের উন্নতি হয়!
Photo Collection : History Unlimited