26/06/2025
খুলনায় গুণী অভিনয় শিল্পী আবুল হায়াত ও কন্যা বিপাশা হায়াতের একটি স্মৃতিময় মজার ঘটনা।
একটা মজার ঘটনা বলি, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যখন 'অয়োময়' প্রচারিত হচ্ছিলো, আবুল হায়াৎ সাহেব ঈদ করতে সপরিবারে বিপাশার মামা বাড়ী খুলনাতে আসেন। যেহেতু ঈদের সময় 'অয়োময়' প্রচার শেষ হওয়ার পর হায়াৎ সাহেবের পরিবার ও বিপাশার মামার পরিবার একসঙ্গে Khulna New Market ঈদের সামান্য কিছু কেনাকাটা করতে যান। তখন বিপাশা উঠতি অভিনেত্রী। তারকার সিলমোহর লাগেনি। খুলনা মফস্বল শহর! পরিবার ভেবেছেন বিপাশাকে কেউ চিনতে পারবে না। কিন্তু যেহেতু সপ্তাহে দুবার 'অয়োময়' প্রচারিত হচ্ছে, সেদিনই প্রচারিত হয়েছে, সম্ভবত মঙ্গলবার ছিলো। ঈদের ভিড়ের মধ্যেও বিপাশা জনতার কৌতূহলের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে যায়। তাদের কৌতূহল ব্যক্তি বিপাশা নয়, অভিনেত্রী বিপাশা একটু আগেই যিনি টেলিভিশনে অভিনয় করলেন, সে কি করে এখনই খুলনায় এলেন! অর্থাৎ সেসময়ের বিটিভির সাধারণ দর্শকের Recording বিষয়টা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা ছিলো না। বিপাশাকে দেখে তাদের ভুত দেখার মতো অবস্থা! Khulna New Market এর Khan Cloth Store বিপাশার মামার বাড়ি ঢাকার বেরাইদের বাসিন্দা। তিনি তার দোকানে হায়াৎ সাহেবের পরিবারকে সমাদর করে বসালেন। হায়াৎ সাহেব ঠান্ডা মাথার মানুষ। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য্যের সাথে ভক্তদের কৌতুহল মেটালেন। যে এই পর্বটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে Record এ ধারণ করা হয়েছে। Live প্রচার নয় যেহেতু শিল্পীর উপস্থিত থাকা জরুরী নয়। তারপরে ভক্তদের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে "ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি" অবস্থা! এই ঘটনার পনেরো বছর পর মামার ইন্তেকালের পরও বিপাশা Film এর কাজ ছাড়া খুলনায় আসার সাহস করেনি!
ছবি: সপরিবারে মামার বাড়িতে বসে বিটিভিতে প্রচারিত 'অয়োময়' দেখছেন বিপাশা হায়াত; পাশে বাবা আবুল হায়াত।
তথ্য কৃতজ্ঞতা: Rosey Ahmed/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র
#অয়োময় #বিটিভি #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর
28/04/2025
সত্যজিতের ইন্দির ঠাকুরন
সিনেমার পর্দায় যাঁর উপস্থিতি অল্প সময়ের, অথচ যাঁর ছায়া ছড়িয়ে আছে পুরো ছবির গভীরে — তিনি ইন্দির ঠাকরুন। আর সেই চরিত্রে যিনি প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন, তিনি এই চুনীবালা দেবী।
সত্যজিৎ রায়ের নিজের কথা,
"উত্তমকুমার না থাকলে যেমন ‘নায়ক’ করতেন না, ঠিক তেমনি চুনীবালা দেবী না থাকলে ‘পথের পাঁচালী’ও হতো না।"
চুনিবালা দেবী হলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্না ভারতীয় অভিনেত্রী। যিনি আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিতা হয়েছিলেন। অথচ আমরা কয়জনই বা জানি তাঁর কথা?
আজ তাঁর সম্পর্কেই কিছু অজানা ঘটনা তুলে ধরতে আপনাদের সামনে হাজির হলাম।
সত্যজিৎ রায় তখন "পথের পাঁচালী" সিনেমার হরিহর, সর্বজায়া, অপু, দুর্গা সব চরিত্রের অভিনেতা/অভিনেত্রী পেয়ে গেছেন কিন্ত ইন্দির ঠাকরুন চরিত্রের অভিনেত্রীকে খুঁজে পাচ্ছেন না। মাথায় হাত। ঐ রকম একজন বৃদ্ধা অভিনেত্রী না পেলে যে এ সিনেমা করাই যাবে না!
অবশেষে সন্ধান মিলল ঠাকরুনের। পাইকপাড়ায় থাকেন এক বৃদ্ধা। বয়েস আশি। নাম তার চুনীবালা দেবী।
এক সকালে সত্যজিৎ হাজির হলেন চুনীবালা দেবীর বস্তির বাড়ীতে। সত্যজিৎ একটা মোড়ায় মুখোমুখি বসলেন ওনার সামনে।
বহুদিন আগে একটি সিনেমার ছোট্ট একটি দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন চুনীবালা।
সত্যজিৎ রায় এক জায়গায় বলেছেন, তখন চুনীবালা দেবীর বয়েস আশি পেরিয়ে গেছে। তোবড়ানো গাল, দেহের চামড়া ঝুলে পড়েছে। ঠিক যেমনটি সত্যজিৎ ভেবেছিলেন এই চরিত্রটিকে ঠিক তেমনি। কথায় কথায় সত্যজিৎ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি পথের পাঁচালী পড়েছেন?
বৃদ্ধা চুনীবালা অল্প লেখাপড়া শিখেছিলেন। কিছু বইও পড়েছিলেন।
চুনীবালা বললেন, হ্যাঁ পড়েছি বাবা।
- সিনেমায় ইন্দির ঠাকরুন করতে পারবেন?
চুনীবালা ফোকলা দাঁত বার করে হেসে বললেন, "তা তোমরা একটু শিখিয়ে পড়িয়ে নিলে পারবো বই কি বাবা!"
সত্যজিৎ বললেন, "বলুন তো একটা ছড়া? শুনি একটু।"
চুনীবালা "ঘুম পাড়ানির মাসিপিসি ....." পুরো ছড়াটা গড়গড় করে সুন্দর করে বলে দিলেন।
সত্যজিৎ রায় পরে এক জায়গায় বলেছেন, ঐ ছড়াটা আমি চার লাইনের বেশি বলতে পারতাম না। কিন্তু উনি সবটা বলে দিলেন। এই বয়েসে আশ্চর্য স্মৃতি দেখে সত্যজিৎ স্তম্ভিত হয়ে গেলেন!
সত্যজিৎ বুঝে গেলেন ইন্দির ঠাকরুন পেয়ে গেছেন। কিন্তু কলকাতা থেকে বড়াল গ্রামে প্রতিদিন শুটিং - এ যাবার ধকল এই বয়েসে নিতে পারবেন কিনা জিজ্ঞাসা করাতে চুনীবালা বললেন, "খুব পারবো। তোমরা এত কষ্ট করে বই করছো, ওটুকু কষ্ট আমি ঠিক করতে পারবো।"
ওনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল প্রতিদিন কত টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। উনি বলেছিলেন "দিনে দশ টাকা দিও।"
সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, "আপনাকে প্রতিদিন কুড়ি টাকা দেওয়া হবে।"
শুটিং এগিয়ে চলল। প্রতিদিন সকালবেলায় ট্যাক্সি করে চুনীবালাকে শুটিং স্পটে নিয়ে যাওয়া হত। সন্ধ্যেবেলায় আবার ট্যাক্সি করে ফিরিয়ে দেওয়া হত বাড়িতে।
সত্যজিৎ একদিন চুনীবালাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি ধর্মমূলক গান গাইতে পারবেন?"
চুনীবালা বললেন, "পারবো।"
পথের পাঁচালীতে চুনীবালা চাঁদনি রাতে দাওয়ায় বসে হাততালি দিয়ে গাইছেন সেই গান,
"হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো, পার করো আমারে ....."
এই গানটা চুনীবালা সত্যজিৎ রায়কে শুনিয়েছিলেন। সেই খালি গলায় গান শুনে সত্যজিৎ মুগ্ধ! সেই গানই রেকর্ড করা হল। ছবিতে খালি গলায় সেই গানই গাইলেন চুনীবালা। এক অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে সেই গান পথের পাঁচালী ছবিকে এক অন্য জগতে পৌঁছে দিলেন চুনীবালা।
পথের পাঁচালী সিনেমা ১৯৫২ সালে এক শরৎকালে কাশ ফুল আর রেলগাড়ির দৃশ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল; শেষ হতে সময় নিয়েছিল তিন বছর।
১৯৫৫ সালে ২৬ অগাস্ট পথের পাঁচালী মুক্তি পেয়েছিল। সেই বছরেই নিউইয়র্কে এ ছবি প্রথম মুক্তি পেয়েছিল।
সত্যজিৎ বুঝেছিলেন এ ছবির মুক্তি চুনীবালা দেবী দেখে যেতে পারবেন না। তাই একদিন প্রজেকটার মেশিন নিয়ে সত্যজিৎ রায় এ সিনেমা চুনীবালাকে তাঁর বাড়িতে দেখিয়ে এসেছিলেন।
চুনীবালা পথের পাঁচালী ছবি বাড়িতে বসেই দেখে গেছিলেন, মুক্তির আগে মহান হৃদয় সত্যজিৎ রায়ের উদ্যোগে।
ছবির মুক্তি চুনীবালা দেখে যেতে পারেননি তার আগেই "হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো পার করো আমারে ....." গাইতে গাইতে চলে গেলেন!
এবার আসল চমক এলো!
ম্যানিলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আন্তর্জাতিক সম্মানের পুরস্কারে সম্মানিতা অভিনেত্রীর নাম ঘোষিত হল।
চুনীবালা দেবী হলেন, ভারতীয় অভিনেতা ও অভিনেত্রীর মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিতা অভিনেত্রী! এক বিরল সম্মানের অধিকারিনী।
অনেকেই সম্ভবত এ খবর জানেন না।
কিন্তু এই পুরস্কার তিনি গ্রহণ করতে ম্যানিলায় যেতে পারেননি কারণ তার আগেই তিনি বিদায় নিয়েছিলেন।
চুনীবালা বেঁচে থাকলে এখন তাঁর বয়স হতো ১৫৩ বছর। দুর্ভাগ্য চুনীবালার! দুভার্গ্য বাঙালির!
ইন্দির ঠাকরুন "চুনীবালা"-র প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।
কৃতজ্ঞতা: পীযূষ দত্ত
সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র
#পথের_পাঁচালী #সত্যজিৎ_রায় #চুনিবালা_দেবী #ইন্দির_ঠাকরুণ #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর
20/04/2025
১৯৯০-এর দশকে কক্সবাজার কলাতলীর ডলফিন মোড়।
#কক্সবাজার #চট্টগ্রাম #ডলফিন_মোড় #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর
16/04/2025
বাংলা সঙ্গীতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশল্পী সুবীর নন্দী ও তাঁর পরিবারের সাথে দুর্লভ এক মুহূর্তে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী শ্রদ্ধেয় মান্না দে ৷
সংগীত জগতের এই দুই কিংবদন্তিই প্রয়াত হয়েছেন। অমর্ত্যলোকে ভালো থাকুন তাঁরা।
#মান্না #সুবীর #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর