31/03/2025
খুলনা বিভাগের প্রথম নম:শূদ্র মন্ত্রী হন যশোর থেকে। তিনি হলেন শরৎচন্দ্র মজুমদার। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত এমএলএ শরৎচন্দ্র মজুমদার ১৯৫৫ সালে লবন ও আবগারি মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ১৮৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মণিরামপুরের পোড়াডাঙ্গা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দর্পনারায়ন মজুমদার চাঁচড়ার জমিদারের নায়েব ছিলেন। শরৎ মজুমদার ১৯২০ সালে মশিয়াহাটি স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তর্ণ হন। এরপর ১৯২৫ সালে স্নাতক পাশ করেন। যশোর সদর মহকুমার মধ্যে তিনিই নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম, যিনি গ্রাজুয়েট এবং বৃহত্তর যশোর জেলায় ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে তৃতীয় গ্রাজুয়েট (প্রথম গ্রাজুয়েট ঝিনিইদহ মহকুমার শ্রী রসিকলাল বিশ্বাস, দ্বিতীয় মশিয়াহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নড়াইল মহকুমার শ্রী অনন্ত কুমার বিশ্বাস)। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে শরৎচন্দ্র মজুমদার আইন সভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে তিনি লবন ও আবগারি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শরৎচন্দ্র মজুমদার কিছুদিন মণিরামপুরের রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শরৎচন্দ্র মজুমদার স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দোগাছিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। ওই সময় তিনি আলীপুর কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। শরৎচন্দ্র মজুমদারের পৌত্র সহজকান্তি মজুমদার জানান, তার বাবা অমাল মজুমদারের বাবারা ছিলেন দুই ভাই। একজন মান্দার মজুমদার এবং আরেকজন হলেন শরৎচন্দ্র মজুমদার। তিনি আরও জানান, ভারতে
তার ঠাকুরদার (শরৎচন্দ্র মজুমদার) একমাত্র পুত্র রজত মজুমদার এবং দুই মেয়ে টুকু মজুমদার ও টুনি মজুমদার আছেন। তার ঠাকুরদা ১৯৮৯ সালের ১৫ অক্টোবর ইহলোক ত্যাগ করেন।
ছবির ক্যাপশান: যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য খয়রাত হোসেন, শেখ মুজিবুর রহমান, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, আতাউর রহমান খান, শরৎচন্দ্র মজুমদার, মাহমুদ আলী। উপরের সারিতে ডান থেকে এম মনসুর আলী, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, মশিউর রহমান, মনোরঞ্জন ধর ও আব্দুর রহমান খাঁ (১৯৫৪)।

19/03/2025
31/10/2024