kire vai like kome ka????
Non Stop Poems
Everyday Read Unlimited Poems.
It's A page about poems in Banglai.Everyday those who wants to read many poems they can join with us with hiting the like button.We always try to most interesting poems and the audiences need to be with us and always like its post.So if they with us we will be more impressive and post more more and more poems.All of them can release there opinions here....So Thank You Very Much to you All for being with us......
কণিকা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যথার্থ আপন
কুষ্মাণ্ডের মনে মনে বড়ো অভিমান,
বাঁশের মাচাটি তার পুষ্পক বিমান।
ভুলেও মাটির পানে তাকায় না তাই,
চন্দ্রসূর্যতারকারে করে 'ভাই ভাই'।
নভশ্চর ব'লে তাঁর মনের বিশ্বাস,
শূন্য-পানে চেয়ে তাই ছাড়ে সে নিশ্বাস।
ভাবে, 'শুধু মোটা এই বোঁটাখানা মোরে
বেঁধেছে ধরার সাথে কুটুম্বিতাডোরে;
বোঁটা যদি কাটা পড়ে তখনি পলকে
উড়ে যাব আপনার জ্যোতির্ময় লোকে।'
বোঁটা যবে কাটা গেল, বুঝিল সে খাঁটি---
সূর্য তার কেহ নয়, সবই তার মাটি।
হাতে-কলমে
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরই তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই॥
গৃহভেদ
আম্র কহে, একদিন, হে মাকাল ভাই,
আছিনু বনের মাঝে সমান সবাই;
মানুষ লইয়া এল আপনার রুচি---
মূল্যভেদ শুরু হল, সাম্য গেল ঘুচি॥
গরজের আত্মীয়তা
কহিল ভিক্ষার ঝুলি টাকার থলিরে,
আমরা কুটুম্ব দোঁহে ভুলে গেলি কি রে?
থলি বলে, কুটুম্বিতা তুমিও ভুলিতে
আমার যা আছে গেলে তোমার ঝুলিতে॥
কুটুম্বিতা
কেরোসিন-শিখা বলে মাটির প্রদীপে,
ভাই ব'লে ডাকো যদি দেব গলা টিপে।
হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা;
কেরোসিন বলি উঠে, এসো মোর দাদা॥
উদারচরিতানাম্
প্রাচীরের ছিদ্রে এক নামগোত্রহীন
ফুটিয়াছে ছোটো ফুল অতিশয় দীন।
ধিক্-ধিক্ করে তারে কাননে সবাই;
সূর্য উঠি বলে তারে, ভালো আছি ভাই?।
অসম্ভব ভালো
যথাসাধ্য-ভালো বলে, ওগো আরো-ভালো,
কোন্ স্বর্গপুরী তুমি করে থাকো আলো?
আরো-ভালো কেঁদে কহে, আমি থাকি হায়
অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়॥
প্রত্যক্ষ প্রমাণ
বজ্র কহে, দূরে আমি থাকি যতক্ষণ
আমর গর্জনে বলে মেঘের গর্জন,
বিদ্যুতের জ্যোতি বলি মোর জ্যোতি রটে,
মাথায় পড়িলে তবে বলে--- 'বজ্র বটে!'
ভক্তিভাজন
রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম---
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
মূর্তি ভাবে 'আমি দেব'--- হাসে অন্তর্যামী॥
উপকারদম্ভ
শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির॥
সন্দেহের কারণ
'কত বড়ো আমি' কহে নকল হীরাটি।
তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি॥
অকৃতজ্ঞ
ধ্বনিটিরে প্রতিধ্বনি সদা ব্যঙ্গ করে,
ধ্বনি-কাছে ঋণী সে যে পাছে ধরা পড়ে॥
নিজের ও সাধারণের
চন্দ্র কহে, বিশ্বে আলো দিয়েছি ছড়ায়ে,
কলঙ্ক যা আছে তাহা আছে মোর গায়ে॥
মাঝারির সতর্কতা
উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে,
তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে॥
নতিস্বীকার
তপন-উদয়ে হবে মহিমার ক্ষয়,
তবু প্রভাতের চাঁদ শান্তমুখে কয়,
অপেক্ষা করিয়া আছি অস্তসিন্ধুতীরে
প্রণাম করিয়া যাব উদিত রবিরে॥
কর্তব্যগ্রহণ
কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যারবি---
শুনিয়া জগত্ রহে নিরুত্তর ছবি।
মাটির প্রদীপ ছিল; সে কহিল, স্বামী,
আমার যেটুকু সাধ্য করিব তা আমি॥
ধ্রুবাণি তস্য নশ্যন্তি
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে, শুধু ব্যর্থ হয় তারা॥
মোহ
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ও পারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ও পার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে---
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলই ও পারে॥
ফুল ও ফল
ফুল কহে ফুকারিয়া, ফল, ওরে ফল,
কত দূরে রয়েছিস বল্ মোরে বল্!
ফল কহে মহাশয়, কেন হাঁকাহাঁকি---
তোমারই অন্তরে আমি নিরন্তর থাকি॥
প্রশ্নের অতীত
হে সমুদ্র, চিরকাল কী তোমার ভাষা?
সমুদ্র কহিল, মোর অনন্ত জিজ্ঞাসা।
কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?
হিমাদ্রি কহিল, মোর চিরনিরুত্তর॥
মোহের আশঙ্কা
শিশু পুষ্প আঁখি মেলি হেরিল এ ধরা---
শ্যামল, সুন্দর, স্নিগ্ধ, গীতগন্ধ-ভরা;
বিশ্বজগতেরে ডাকি কহিল, হে প্রিয়,
আমি যতকাল থাকি তুমিও থাকিয়ো॥
চালক
অদৃষ্টেরে শুধালেম, চিরদিন পিছে
অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?
সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলেম থামি,
সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি॥
পাহাড় সমান বেদনা
- মোঃ লুৎফুর রহমান
তুমি বেছে নিলে ধন-সম্পদ,
আমাকে নিলেনা !
তুমি এখন ভালবাস,
অন্য কাউকে !
আমাকে দিলে শুধু,
পাহাড় সমান বেদনা !
কষ্ট দিলে আমায় তুমি,
ভ্রষ্ট করলে এই জীবন !
স্পষ্ট করলে তুমি,
তোমার কঠিন অবস্থান !
করেছ মিছে অবিনয়,
করেছি কত সবিনয় ৷
একটু ভালবাসা জন্য !
বুকের পাজর ভেঙ্গে,
মায়াহীন হয়ে ত্যাগ করলে-
জীবন্ত মনের বাসনা ৷
স্বপ্ন ভেঙ্গে মাড়িয়ে দিলে,
আমার পৃথিবী !
বজ্রের মত হঠাৎ তোমার,
অশনি সংকেত বিবৃতি !
মেনে নেয়া অনেক কঠিন,
এই ভাঙ্গা মনে ৷
আমি যদি মরে যাই,
জান তুমি কেঁদোনা !
দেখা দাও হে নেপথ্য
- রাজু আহমেদ
সময় বন্ধ্যা নিরুদ্দেশী
শব্দ সবুজ ভাব,
দৃষ্টি-পটে দরজা আঁটা
বন্দী সরস খা'ব|
একাগ্রতায় হাতড়ে মরি
উদয় অস্ত জুড়ে,
সময় তবু শূণ্যকে ছোঁয়
পূর্ণতা যায় মুড়ে|
প্রসব জ্বালা সমুদ্র ফের
জনম বন্ধদ্বার,
মিলেনাতো প্রাণের দেখা
গোঙ্গানো হয় সার|
যুবক চাঁদের প্রচুর জলেও
পঙতি আলোহীন,
ছন্দতারাও হয়না হীরক
অসংখ্য রঙীন|
কাতর আমি পা'য় জড়িয়েও
লক্ষ নদীর ঘাট,
রিক্তহাতা সরষে জলও
পায়নি চৈতী মাঠ|
তামাক ধোঁয়ায় মেঘ করেছি
আকাশ শার্টের নীল,
চিন্তা তবু বাদাম বন্দী
ছোঁয়না কাঠের ঝিল|
কণ্ঠ ভরাট পাখির কাছেও
লক্ষ হাজার বার,
গভীর গাঢ় সিক্ত মধুর
হার চেয়েছি ধার|
যে হার সাজে উঠবে দেহে
ছন্দ প্রখর তাল,
কিন্তু হঠাত্ মধ্য পথেই
ছিন্ন ভাবের জ্বাল|
কি অসহ্য! খড়ের মগজ
পুড়ছে অনর্গল,
খিড়কী তবু খুলছেনাতো
কাব্য মেঘের জল|
কোথায় আছো নেপথ্য হে
একটু ছোঁয়াও চোখ,
তোমায় পেয়ে আমার শিশুর
সফল জন্ম হোক|
অভিবাদন
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা
ব্যর্থ নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা
দিকে দিকে উদ্যাপন করছে লগ্ন,
পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন।
আজকে সামনে নিরুচ্চারিত প্রশ্ন,
মনের কোমল মহল ঘিরে কবোষ্ণ
ক্রমশ পুষ্ট মিলিত উন্মাদনা,
ক্রমশ সফল স্বপ্নের দিন গোনা।
স্বপ্নের বীজ বপন করেছি সদ্য,
বিদ্যুৎবেগে ফসল সংঘবদ্ধ!
হে সাথী, ফসলে শুনেছো প্রাণের গান?
দুরন্ত হাওয়া ছড়ায় ঐকতান।
বন্ধু, আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী
আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি;
তারই সুত্রপাতকে করেছি সাধন
হে সাথী, আজকে রক্তিম অভিবাদন।।
পঁচিশ মার্চঃ অতপর
- কবীর হুমায়ূন
হায়েনার দল ভেবেছিলো বুঝি-
এই বাঙালি নিরীহ ভেড়ার দল,
ভয় দেখালেই গৃহ কোন মাঝে
নিরবে ফেলবে ভয়ালু অশ্রুজল।
তাই বুঝি তারা- কাপুরুষ মনে
গুলির আলোতে রক্তিম করে
রাতের অন্ধকার,
ঝাপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র মানুষের 'পরে
পশু চেতনায় চরম হিংস্রতার।
এই বাঙালি প্রেমের আকর,
মায়াময় হৃদির ধীর, অচঞ্চল;
প্রয়োজনে ব্যাঘ্র চিত্তের হিংস্রতা জাগে-
রক্ষা করতে মা ও বোনের অঞ্চল।
বুঝেছিলো তারা বেশ কিছুদিন পর
ঘোলা করে মেঘনার কালো জল।
জয় বাংলা- শ্বাশ্বত আমার বাংলাদেশ!
রূপ মাধুরীর প্রেম মহিমায়
আমারে করিয়াছো মহান ও বিশেষ।
প্রত্যুত্তর
- শ্রীস্বপন চক্রবর্ত্তী
মুখের উপরই বন্ধ করলে দরজাটিকে
কী ভেবেছিলে,
তুমিই বুঝি ছিলে
সাগরে যাবার একমাত্র পথ, হায়
ভাবো নি কখনো, একটা দরজা বন্ধ হলে পরে
হাজার কবাট খুলে যায় হাজার দিকেই
ছলছল গুটি গুটি পায়ে অনন্তঃ সাগরই
কখন সামনে এসে দাঁড়ায় ।।
লোনাজলে আলুথালু সাঁতার কাটা শেষে
তীরে এসে দেখি তুমিই দাঁড়িয়ে আছো
ছন্নছাড়া পাগলিনী বেশে
ভাবোনি তো – এই আমাকেও দেখবে তুমি
সাগরের অথৈ জলে,
সে কোন মায়াবী ছলে
আবারও ভিড়াতে চাও তোমার নষ্ট ডিঙাখানি
তোমার ওই ছলনা চঞ্চল মন জানি সখী জানি ।
বদ্ধ কবাটের ওপারেই তুমি থাকো
সযতনে আপনারে রুদ্ধ করে রাখো
দু’হাত ছড়িয়ে চোখের জলে যতই ডাকো
মাঝ সমূদ্রে ভেসে যাই অপার আনন্দে রাই
আর কখনই আমাকে কাছে পাবে নাকো ।।
বিক্ষোভ
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম।
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ, কানে দেয় হাত চাপা,
তাতেই কি হয় আসল নকল মাপা?
বিদ্রোহী মন! আজকে ক'রো না মানা,
দেব প্রেম আর পাব কলসীর কণা,
দেব, প্রাণ দেব মুক্তির কোলাহলে,
জীন্ ডার্ক, যীশু, সোক্রোটিসের দলে।
কুয়াশা কাটছে, কাটবে আজ কি কাল,
ধুয়ে ধুয়ে যাবে কুৎসার জঞ্জাল,
ততদিনে প্রাণ দেব শত্রুর হাতে
মুক্তির ফুল ফুটবে সে সংঘাতে।
ইতিহাস! নেই অমরত্বের লোভ,
আজ রেখে যাই আজকের বিক্ষোভ।।
বাংলার মুখ
- জীবনানন্দ দাশ
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি - চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ
দেখেছিল; বেহুলাও একদিন গাঙুড়ের জলে ভেলা নিয়ে -
কৃষ্ণা-দ্বাদশীর জোৎস্না যখন মরিয়া গেছে নদীর চড়ায় -
সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট দেখেছিল, হায়,
শ্যামার নরম গান শুনেছিল - একদিন অমরায় গিয়ে
ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়
বাংলার নদ-নদী-ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায়।
বর্ণনাতীত মুহূর্তগুলো
- শহীদুল হক
বাষ্প হতে হতে যখন আকাশের দিকে যাও,
ভুলে যাও সবকিছু, ভুলে যাও জগৎ সংসার,
বছরের যে কোন সময় সেটা,যে কোন বেলা
কখনো কোকিল ডাকে কখনো বা ডাকে না,
চাইলেই বসন্ত এসে ধরা দেয় পৃথিবীর হাতে,
কোকিলও যেন কানে কানে এসে বলে যায়,
'আমি ডাকি বা না ডাকি,আজ তোমার বসন্ত'
বাষ্পও বুঝে যায়, স্বর্গ আকাশেই থাকে,
তরল আগুনে ডুব দিয়ে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য্যের
চেয়েও আরও বেশি আশ্চর্য উপায়ে বাষ্প হয়ে যাও,
চাতকও যেন সেই কবে কোন এক বর্ষায়
কানে কানে বলে গিয়েছিল,আকাশের জলই
'মেটাতে পারে তোমার নবাগত তৃষ্ণা'
তারপর কতবার রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর
কাহিনীর মতো তোমাকে স্পর্শ করলেই
ডানা গজাতে থাকে ধীরে ধীরে, তারপর পৃথিবী
ছেড়ে উড়ে যেতে থাকি আকাশে,সেখানে বাষ্পকণা
পান করতে করতে কতবার ভেবেছি, তোমার
ঐ জলকণাগুলি্ আস্বাদনই করা যায় কেবল,
বর্ণনা করা যায় না পৃথিবীর ভাষায়,
স্বর্গ তো আকাশেই থাকে, আর স্বর্গের লিপি
আজও দুর্বোধ্য পৃথিবীর মানুষের কাছে...
স্বাধীনতার কথা
- মোঃ হাবিবুর রহমান (বাবলু)
স্বাধীনতা সংগ্রাম আমি দেখিনি
দেখিনি তার উত্তাপ ছড়ানো দিনগুলো
দেখিনি কোন মায়ের ক্রন্দন
দেখিনি কোন পচে গলে যাওয়া লাশ
এমনকি সে সময় দাঁড়িয়ে থাকা কোন বীর
যে ধরে ছিল পিশাচের বুকে রাইফেল
যে কখনও জানতো না রাইফেলের ব্যবহার
তাঁর চোখে ছলছল করেছিল একটি পতাকা
যে ভেবেছিল পরাধীরতার গ্লানি মুছে যাবে ।
আমি দেখিনি তাদের, যাদের নাম হয় বিরঙ্গনা
যাদের শরীরে লেগে আছে পিশাচের দাগ
যারা হারিয়ে ছিল জীবনের এক অধ্যায়
তাঁদের চরনে আজ আমার হাজার সালাম ।
আমি দেখিনি তাঁদের, যারা গেয়েছিল বিজয়ের গান
মানুষের অন্তরে দিয়েছিল সংগ্রামী বার্তা
দেখিনি তাঁদের, যারা খাবার বিলিয়ে ছিল
প্রেরণায় জাগ্রত করেছে সংগ্রামী জনতার
আমি দেখিনি তাঁদের, যারা কলম দিয়ে যুদ্ধ করেছে
স্বাধীনতার বাণী উচ্চে তুলে দিয়েছে
যাদের লেখা পড়ে শরীর গরম হয়েছে
আমি দেখিনি তাঁদের, যারা দেশের মাথা
যাদের কারণে এ দেশ উচ্চে ধাবিত হতে পারতো
আমি দেখিনি শুধু শুনেছি তাঁরা আজ শহীদ ।
পিশাচেরা তাদের বাঁচতে দেয়নি
গড়তে দেয়নি স্বপ্নের এক দেশ ।
স্বাধীনতা সংগ্রাম আমি দেখিনি
শুনেছি ইতিহাস পড়েছি
এ কালো অধ্যায় আমাকে আবেগময় করে তোলে
মাঝে মাঝে চোখ থেকে অশ্রু বেয়ে পড়ে
তবু এ সত্য বহমান জীবন ধারায়
বারবার ফিরে আসে কোন লেখনিতে ।
পঁচিশ মার্চঃ অতপর
- কবীর হুমায়ূন
হায়েনার দল ভেবেছিলো বুঝি-
এই বাঙালি নিরীহ ভেড়ার দল,
ভয় দেখালেই গৃহ কোন মাঝে
নিরবে ফেলবে ভয়ালু অশ্রুজল।
তাই বুঝি তারা- কাপুরুষ মনে
গুলির আলোতে রক্তিম করে
রাতের অন্ধকার,
ঝাপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র মানুষের 'পরে
পশু চেতনায় চরম হিংস্রতার।
এই বাঙালি প্রেমের আকর,
মায়াময় হৃদির ধীর, অচঞ্চল;
প্রয়োজনে ব্যাঘ্র চিত্তের হিংস্রতা জাগে-
রক্ষা করতে মা ও বোনের অঞ্চল।
বুঝেছিলো তারা বেশ কিছুদিন পর
ঘোলা করে মেঘনার কালো জল।
জয় বাংলা- শ্বাশ্বত আমার বাংলাদেশ!
রূপ মাধুরীর প্রেম মহিমায়
আমারে করিয়াছো মহান ও বিশেষ।
২৫-০৩-২০১৪।
মিরপুর-১২, ঢাকা।
অভিবাদন
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা
ব্যর্থ নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা
দিকে দিকে উদ্যাপন করছে লগ্ন,
পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন।
আজকে সামনে নিরুচ্চারিত প্রশ্ন,
মনের কোমল মহল ঘিরে কবোষ্ণ
ক্রমশ পুষ্ট মিলিত উন্মাদনা,
ক্রমশ সফল স্বপ্নের দিন গোনা।
স্বপ্নের বীজ বপন করেছি সদ্য,
বিদ্যুৎবেগে ফসল সংঘবদ্ধ!
হে সাথী, ফসলে শুনেছো প্রাণের গান?
দুরন্ত হাওয়া ছড়ায় ঐকতান।
বন্ধু, আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী
আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি;
তারই সুত্রপাতকে করেছি সাধন
হে সাথী, আজকে রক্তিম অভিবাদন।।
Ki Holo vaiera Apnara Ki Kobita Gulo Like Korsen na?Problem Hole Comment E Janan....Tanahole like Dissen na Kano....
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Khulna
1174
