17/07/2024
নদীর জলে আগুন ছিলো
আগুন ছিলো বৃষ্টিতে
আগুন ছিলো বীরাঙ্গনার
উদাস-করা দৃষ্টিতে।
আগুন ছিলো গানের সুরে
আগুন ছিলো কাব্যে,
মরার চোখে আগুন ছিলো
এ-কথা কে ভাববে?
কুকুর-বেড়াল থাবা হাঁকায়
ফোসে সাপের ফণা
শিং কৈ মাছ রুখে দাঁড়ায়
জ্বলে বালির কণা।
আগুন ছিলো মুক্তি সেনার
স্বপ্ন-ঢলের বন্যায়-
প্রতিবাদের প্রবল ঝড়ে
কাঁপছিলো সব-অন্যায়।
এখন এ-সব স্বপ্নকথা
দূরের শোনা গল্প,
তখন সত্যি মানুষ ছিলাম
এখন আছি অল্প।
© আসাদ চৌধুরীর
30/01/2023
তখন হয়তো মানুষ ছিলাম
এখন আছি অল্প।
05/10/2017
এখন কোথাও যাই না।
আগেও যাইনি কখনো।
বন্ধুরা গিয়েছে।
বন্ধুরা যায়—
মসজিদ থেকে সোজা পানশালার পথে
মন্দির থেকে পরস্ত্রীর ভেতর। অাঁধারে।
কাপড়ে শরীর ঢেকে খুব সুখে আছে ওরা।
চুরি শিখিনি বলে তাদের মধ্যে শুধু আমিই
খালি গায়ে হেঁটেছি।
এখন কোথাও যাই না,
নিজের ভেতরে ঘুরি—
ঘুরে ঘুরে আবিষ্কার করি
মসজিদ-মন্দির, হেরাগুহা, গির্জা, প্যাগোডা,
কালিনী নই কূল, কবিতা লেখার হাত,
হাতকে ঘিরে পিঁপড়ের মত
অগনিত দুঃখ—
মৃত নদীর রেখা, শামুকের খোল,
সুখ বোঝাই বিধ্বস্ত
একটি প্রাচীন জাহাজ
আমি যার গন্তব্য ছিলাম।
বন্ধুরা যে যার মত
দৌড়োচ্ছে
লাফাচ্ছে
এ ডাল থেকে ও ডালে
এ নারী থেকে ও নারীতে
এখানে থেকে সেখানে
আমিই শুধু বানর হতে শিখিনি
নিশ্বাস চেপে একজনের ভেতর
শিকড় ছড়িয়ে স্থির দাঁড়িয়ে আছি—
ভয়ে নিশ্বাস ছাড়ি না,
যদি আমার দীর্ঘশ্বাসে মুহূর্তে পুড়ে যায় গ্রহ,
পুড়ে যায় ফুলের শয্যা, বন্ধুদের লোভাতুর হাত,
গোলাপের পাপড়ি, প্রিয় নারীটির কাঁকন।
আমি বৈ আর সবার আকাশ ঝকঝকে
তারকাভর্তি, ঝাড়-দেয়া মেঝের মতন পরিচ্ছন্ন,
সূর্য অস্ত গেলে প্রতিরাতে চাঁদ ওঠে।
আমার আকাশ বিপরীত, অগোছালো।
মেঘে মেঘে কেয়ামত ঘনিয়ে আসে
চাঁদ-সূর্য অস্ত গেছে
সেই কবে
কেনো-ই বা যাবে না!
যাবারই কথা
আমি তো নিজেকে তাদের মত
দাঁড়িপাল্লায় তুলতে পারিনি—
বন্ধুরা এক হাতে শিকার
আর এক হাতে ফাঁদ
দুটোই আঁকতে পেরেছে।
আমি পারিনি।
দু হাতেই বাগান এঁকেছি
মানুষ এঁকেছি.... আমি তাই পারিনি।
"কবিতা: বন্ধুরা পেরেছে, আমি পারিনি"
© তামীম চৌধুরী
30/09/2017
যখন সত্য এসে মিথ্যার সামনে দাঁড়ায়,
মিথ্যা বিলুপ্ত হয় ৷ কারন
মিথ্যাতো প্রকৃতিগত ভাবেই বিলুপ্ত"
07/09/2017
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি ?
শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায়
তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো
যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে
নীরার সুষমা
চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু ?
তখন সে যুবতীকে খুকি বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়--
আমি ডান হাত তুলি, পুরুষ পাঞ্জার দিকে
মনে মনে বলি,
যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো--
ছুঁয়ে দিই নীরার চিবুক
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে আর কোনোদিন
পাপ করতে পারি ?
এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে , ভালোবাসি--
এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায় ?
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে পড়ে ভীষণ জরুরী
কথাটাই বলা হয়নি
লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশী বাতাস
আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে সবগুলো সিঁড়ি
থমকে দাঁড়িয়ে আমি নীরার চোখের দিকে....
ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ
সত্যবদ্ধ অভিমান--চোখ জ্বালা করে ওঠে,
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে
এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি--
এই ওষ্ঠে আর কোন মিথ্যে কি মানায় ?
সত্যবদ্ধ অভিমান
--সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
03/06/2017
আমায় আশা দিয়ে নিরাশ করো-
গোলক ধাঁধাঁর বৃত্ত ;
আমায় পরশ দিয়ে সরষ করো-
লাগাম ছাড়া নৃত্য।।
02/06/2017
** দলছুটের কাব্য **
উজাড় করে দিতে রাজি,
মুক্ত আকাশ এক!
হঠাৎ থেমে মুচকি হেসে,
একটু ফিরে দেখ্!
25/05/2017
'বিন্দে শুধায় আজকে তুমি এমন কেন রাই,
অধরকোনে দেখছি হাসি, শ্যাম তো কাছে নাই??'
22/05/2017
"দিতে পারো একশো ফানুস এনে?
আজন্ম সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই"
©শঙ্খনীল কারাগার
22/05/2017
তুমি আমায় ডেকেছিলে
এক মেঘে ঢাকা দিনে
কেন আমি দেইনি সাড়া
আমার চোখে আকাশ দেখে
তুমি বলেছিলে কিছু
বুঝিনি কেন সেই ইশারা
এখন আমি অন্য আমি হয়ে
ছুটে চলি তোমারই শহরে
হারিয়ে চোখের যত ঘুম!
:- ঝুম ( মিনার)