27/05/2025
বিক্ষোভ মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার বলেন, ‘আজ গণ–অভ্যুত্থানের ১০ মাস পরে দেখতে পেলাম একাত্তরের গণহত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার আজহার বেকসুর খালাস পেল। যার মাধ্যমে রক্তের ওপর দাঁড়ানো এই সরকার আমাদের সঙ্গে বেইমানি করছে।’
‘রক্তের ওপর দাঁড়ানো সরকার আমাদের সঙ্গে বেইমানি করছে’
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই রায় দেওয়ার পর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বামপন্থী ছাত্রসং...
25/04/2025
৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল নেতাকর্মী, সাবেক, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শুভেচ্ছা।
৪২ তম জাতীয় সম্মেলন ও ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকাল ৪ টায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে, সাবেক সম্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন, 'ঐতিহ্যের পদাবলি'।
29/03/2025
গার্মেন্টস ও চা-বাগান শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাসসহ সকল ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে
আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে সংহতি
সমাবেশ স্থান: ২৯ শে মার্চ (শনিবার)
সন্ধ্যা ৭টায়, পুরান থানা, ইসলামিয়া সুপার মার্কেট। কিশোরগঞ্জ।
16/02/2025
তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ নারীবিদ্বেষী প্রক্টরদ্বয়কে অপসারণ করতে হবে
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক সভায় যথোপযুক্ত তদন্ত, শোকজ নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ব্যতীত ১০ ছাত্রীকে স্বৈরাচারী কায়দায় বহিষ্কার করেছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাগিব নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি চবি'র এই অন্যায্য, স্বৈরাচারীর আচরণের নিন্দা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মব সন্ত্রাস নির্মূলের বদলে মবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল আক্রমণ, বহিষ্কারসহ নানা হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা দিয়ে তাদের হলের সামনে মব ভায়োলেন্স ও হলের ছাত্রীদের উপর অশ্লীল আক্রমণের বৈধতা দেয়া হচ্ছে৷ অথচ বিগত ছয় মাস যাবৎ 'শেখ হাসিনা হল' এর ছাত্রীরা প্রশাসনিকভাবে হলের নাম পরিবর্তন ও হলের সামনে নৌকার প্রতিকৃতি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে ৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্যাসিবাদের চিহ্ন অপসারণ না করে হলের সামনে মব সন্ত্রাসকে উস্কে দেয়৷ সঙ্গত কারণেই নারী শিক্ষার্থীরা এই অরাজকতায় বাধা প্রদান করে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. কোরবান আলী মব সন্ত্রাসীদের না থামিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন৷ যার প্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়৷ ফলে নারী শিক্ষার্থীদের গণহারে বহিষ্কার করে, এই ঘটনার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর অব্যহত প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে, নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করা চরম অবমাননাকর বক্তব্য তার দায়িত্বশীলতার সকল সীমা লঙ্ঘন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে এহেন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এহেন নারী বিদ্বেষী একজন প্রক্টরের কাছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই নিরাপদ নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অফিশিয়াল শোকজ নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে নির্বিচারে বহিষ্কার সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অগ্রহণযোগ্য। সহকারী প্রক্টর ড. কোরবান আলীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের ‘আওয়ামীলীগের দোসর’ ও অশালীন গালিগালাজের অভিযোগ আছে। একজন প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ ও ট্যাগিং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখ ফেলে দেয়। তাছাড়া বহিষ্কৃত ছাত্রীদের পক্ষে মত দেওয়ায় প্রক্টর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার অত্যন্ত ঘৃণ্য ভাষায় “হানি ট্র্যাপ”-এর উল্লেখ করে যৌন হয়রানিমূলক পোস্ট দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টে ছাত্রীদেরকে স্লাটশেমিং করা হয়েছে, যার ব্যাপারে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ৯ জন ছাত্রীকে স্বৈরাচারী কায়দায় ২ বছরের বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে কার কতটুকু অন্যায় বা আদৌ বহিষ্কারাদেশের মতো অন্যায় আছে কিনা, তা মোটেও বিবেচনা করা হয়নি। বরং এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সুযোগ নেওয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মধ্যরাতে ছাত্রী হল প্রাঙ্গণে উন্মত্ত ছেলেদের প্রবেশ, ভাঙচুর এবং সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করাকে চরম নিন্দা জানাই। এ ধরনের পরিবেশ শিক্ষাঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরে এবং তা প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। প্রশাসন যদি যথাযথ ব্যবস্থা নিত, তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এছাড়া অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো আমলে নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না করে উল্টো নারী বিদ্বেষ বৃদ্ধির একটা সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া আমরা লক্ষ্য করছি।
আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিম্নোক্ত দাবি জানাচ্ছি :
১. অনতিবিলম্বে নারী বিদ্বেষী বর্তমান প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরকে পদত্যাগ বা পদ থেকে অপসারণ করা।
২. যথাযথ নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীর ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বার্তা প্রেরক
মাঈন আহমেদ
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন