Manikganj Kazi Office
Muslim Marrige Register & Kazi Office, Manikganj (Sadar Upozila, 9 No. Ward)
আমাদের সেবাসমূহঃ-
১. বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন
২. তালাক রেজিষ্ট্রেশন
৩. ভিন্ন ধর্মের লোকদের বিয়ে ও তালাকের ব্যাপারে পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়
৪. জটিল বিয়ে ও তালাক সংক্রান্ত ব্যাপারে সমাধান ও সৌজন্যমূলক পরামর্শদান
৫. বিদেশে অবস্থানরত বর/কনের সাথে স্কাইপি ও ওয়েব ক্যামেরার সংযোগে বাংলাদেশে অবস্থানরত বর - কনের বিবাহ পড়ানো ও রেজিষ্ট্রেশন করা হয়।
৬. দেশ-বিদেশ ভ্রমণের জন্য ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রদান
03/03/2025
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। স্বামী রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।
দশ মিনিট পর স্ত্রীর ফোন, "আমি যেদিকে দুচোখ যায় চললাম তোমার সংসার, ছেলেমেয়ে সব ফেলে।"
স্বামী "ঠিক আছে, যাও" বলে ফোন কেটে দিল। এটা বিশ্বাস!
দুপুরে স্বামী বাসায় ফিরে দেখে স্ত্রী কোথাও যায়নি, বাসাতেই আছে আর রান্নাবান্না করে টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখেছে। এটা মায়া।
এরপর দুজন দুই রুমে মন খারাপ করে করে শুয়ে আছে, কারো কোনো কথা নেই। কেউ কাউকে খেতেও ডাকছে না, নিজেও খাচ্ছে না। এটা অভিমান।
বিকেলে স্ত্রী বাচ্চাকে নিয়ে কোচিংয়ে চলে গেল। এটা দায়িত্ববোধ।
স্বামী বেচারা প্রচন্ড ক্ষুধার্ত হয়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে দেখে দুটো প্লেট সাজানো, দুটো গ্লাসে পানি ঢালা। খেতে গিয়েও কি ভেবে খেল না। ঠিক করল স্ত্রী এলে দুজন একসাথে খাবে। এটা অপেক্ষা।
বেডরুমে এসে স্ত্রীর মোবাইলে টেক্সট করল, "তুমি যে কারণে যেতে পার নি, আমিও সে কারণে খেতে পারি নি।" এটা ভালোবাসা!
শুধু ভালোবাসা দিয়ে সংসার টেকে না, সংসার টিকেয়ে রাখার জন্য দরকার বিশ্বাস, মায়া, অভিমান, দায়িত্ববোধ এবং অপেক্ষার।
23/02/2025
যে কোনো ব্যক্তির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বিয়ে। বিয়ে এমন একটি ধাপ যেখানে একে অপরের ভালো সময় এবং খারাপ সময়ের মধ্যে ভালবাসার আর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ে সফল করতে এবং সারাজীবন এটিকে স্থায়ী করার জন্য, দম্পতিকে বিয়ের আগে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ভাবতে হয়।
তাই বিয়ের আগে নিম্নলিখিত ১০টি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত।
সামঞ্জস্যতা
সামঞ্জস্যতা প্রতিটি সফল বিবাহের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। বিয়ের গাঁটছড়া বাঁধার আগে দম্পতিকে অবশ্যই তাদের সামঞ্জস্যতা বিশ্লেষণ করতে হবে। সামঞ্জস্যতা মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আগ্রহ এবং উদ্দেশ্যগুলোর মতো জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন সঙ্গী সততা এবং বিশুদ্ধতাকে মূল্য দেয় কিন্তু অপরজন সেই নীতিগুলি সম্পর্কে উদাসীন আর নমনীয় থাকেন তাহলে সেটি সম্পর্কে মধ্যে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যোগাযোগ :-
সুস্থ যোগাযোগ মানেই সুখী বৈবাহিক সম্পর্ক। জীবনে যেখানেই দাঁড়ান না কেন, দম্পতিকে অবশ্যই দক্ষতার সঙ্গে, স্বাধীনভাবে এবং সৎ থেকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মতবিরোধ এবং ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে উঠতে এবং দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে যোগাযোগ একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন ব্যক্তি রাগান্বিত হন বা কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তাদের উচিত সঙ্গীর কাছে তা প্রকাশ করা যেন সঙ্গী বুঝতে পারে। সেটি তার যেকোনো সমস্যাই হোক না কেন।
আর্থিক সামঞ্জস্য :-
অনেক সম্পর্কের মতো দাম্পত্য জীবনে আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দম্পতির বিয়ের আগে তাদের আর্থিক সামঞ্জস্য বিশ্লেষণ করা উচিত। এতে ঋণ, সঞ্চয় এবং ব্যয়ের ধরণ জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন খরচে স্বভাবের হয়ে থাকেন এবং অন্যজনের সঞ্চয় করার প্রবণতা থাকে, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এখানে দুজনকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পারিবারিক পটভূমি :-
ব্যক্তির পারিবারিক পটভূমি তাদের ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস এবং দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিয়ের আগে একে অপরের পারিবারিক পটভূমি এবং তারা কীভাবে বিবাহকে প্রভাবিত করতে পারে তা বোঝা অপরিহার্য। যেমন, একজন যদি কঠোর, রক্ষণশীল পরিবারের বেড়ে উঠেন এবং অপরজন উদারপন্থী পরিবারে বেড়ে উঠে তবে এটি দ্বন্দ্বের কারণ হতে পারে।
দ্বন্দ্ব সমাধান :-
দাম্পত্য সম্পর্কে বিবাদ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। দম্পতিকে অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরভাবে বিরোধগুলো সমাধান করতে হবে। একে অপরের সমস্যা শোনা ও বিভিন্ন চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে আপস করা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি একজন শহরে থাকতে চান এবং অপরজন গ্রামে থাকতে চায়, তাহলে তাদের একটি সমঝোতায় আসতে হবে যাতে উভয়ের উপকারে আসে।
জীবনধারা :-
জীবনধারা একে অপরের সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। শখ, অবসর সময় এবং সামাজিকীকরণের মতো জিনিসগুলো দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন বাইরে সময় কাটাতে পছন্দ করেন এবং অপরজন বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন তবে এটি পারস্পারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।
লক্ষ্যে অন্তর্মিল :-
দম্পতিদের মাঝে তাদের ভবিষ্যতের জন্য অভিন্ন উদ্দেশ্য এবং ইচ্ছা থাকতে হবে। চাকরি, পরিবার এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের মতো উদ্দেশ্যগুলি এর অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ হিসেবে, যদি একজন সন্তান নিতে আগ্রহী কিন্তু অপরজন তাতে উৎসাহী না হলে সেটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
মানসিক সামঞ্জস্য :-
প্রতিটি বিয়েতেই মানসিক সামঞ্জস্য অত্যাবশ্যক। জীবনে উত্থান পতনের প্রতিটি মুহূর্তেই একে অপরের পাশে থাকা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন একটি কঠিন সময় পার করতে থাকেন, তবে অপরজনকে মানসিক সমর্থন দিয়ে পাশে থাকা উচিত।
ধর্মীয় বিশ্বাস :-
ধর্ম একজন ব্যক্তির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। বিয়ের আগে ধর্মীয় সামঞ্জস্যতা বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতির মতো বিষয় নিয়ে কথা বলা জড়িত। যেমন, যদি একজন যদি খুব ধার্মিক হন এবং অপরজন যদি সেটিকে হালকা ভাবে নিয়ে থাকেন, তবে তা সর্বদা বিবাদের কারণ হতে পারে।
ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি :-
বিবাহ ব্যক্তিগত বিকাশ এবং অগ্রগতির একটি প্রক্রিয়া। সংসারে একে অপরের ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং বিকাশের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এর মধ্যে জড়িত থাকে তাদের স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনের জন্য একে অপরকে সমর্থন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চায়, তবে অন্য সদস্যকেও সেটিতে সম্মত হতে হবে।
বিয়ে যে কারো জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিয়ে করার আগে বিভিন্ন পরিবর্তনশীল বিষয়গুলো যাচাই করা আবশ্যক। বিয়ে একটি সমন্বয়। উভয় পক্ষকে অবশ্যই একে অপরকে সমর্থন খোলামেলা কথা এবং উদ্ভূত যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
23/02/2025
বিবাহ, এর বিধান ও শর্তাবলী
বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমত:
বিবাহ ইসলামের একটি অন্যতম সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন,
«يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ».
“হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করার সামর্থ রাখে, তারা যেন বিবাহ করে। কেননা, বিবাহ তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে। আর যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে; কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে।”[1] (একদল বর্ণনাকারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
বিবাহের হিকমতের মধ্যে:
১- পারিবারিক সম্পর্ক বজায়, পরস্পর ভালোবাসা বিনিময়, আত্মসংযম ও হারাম কাজ থেকে নিজেকে হিফাযত করতে বিবাহ একটি উত্তম মাধ্যম ও উপায়।
২- (হালালভাবে) বংশ পরিক্রমা ঠিক রেখে সন্তান জন্ম দেওয়া ও বংশ বিস্তারে বিবাহ একটি উত্তম পদ্ধতি।
৩- নানা রোগ-ব্যাধিমুক্ত ও নিরাপদে মানুষের যৌন চাহিদা মিটাতে ও মনোবাসনা পূরণ করতে বিবাহ একটি সুন্দরতম পদ্ধতি।
৪- বিবাহের মাধ্যমে সন্তান লাভের দ্বারা পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের স্বাদ ভোগ করা যায়।
৫- বিবাহে রয়েছে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য শান্তির আবাস, প্রশান্তি, শালীনতা ও সচ্চরিত্র।
বিবাহের শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচিতি:
বিবাহের শাব্দিক সংজ্ঞা:
নিকাহ তথা বিবাহের শাব্দিক অর্থ যৌন সঙ্গম, দু’টি জিনিস একত্রিত করা। কখনও কখনও নিকাহ বন্ধন বা চুক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়, (نكح فلانة) যখন কেউ বিয়ে করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আবার বলা হয়, (نكح امرأته) সে তার স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করল।
শরী‘আতের পরিভাষায় বিবাহ:
عقد يعتبر فيه لفظ إنكاح أو تزويج في الجملة والمعقود عليه منفعة الاستمتاع أو الازدواج أو المشاركة.
“নিকাহ হলো এমন একটি চুক্তি যাতে ‘বিবাহ দেওয়া বা বিবাহ করা’ ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে উপভোগ বা একত্রে থাকা বা পরস্পর অংশীদার হওয়া বুঝায়”।
বিবাহের হুকুম:
যাদের যৌন চাহিদা রয়েছে তবে যিনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা নেই তাদের জন্য বিয়ে করা সুন্নাত। আর যাদের যিনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। যাদের যৌন চাহিদা নেই যেমন, পুরুষত্বহীন ও বয়স্ক ইত্যাদি লোকের বিয়ে করা বৈধ। তবে প্রয়োজন না থাকলে যারা দারুল হরবে তথা যুদ্ধরত কাফির রাষ্ট্রে অবস্থান করেন তাদের জন্য বিয়ে করা হারাম।
বিবাহ সংঘটিত হওয়ার শব্দাবলী:
যে কোনো ভাষায় বিবাহ করা বা দেওয়া বুঝায় এমন সব শব্দে বিবাহ সংঘটিত হবে। যেমন বলা, (زوجت أو نكحت) আমি বিবাহ করলাম বা বিয়ে দিলাম। অথবা বলা, (قبلت هذا النكاح) আমি এ বিয়ে কবুল করলাম। অথবা (تزوجتها) আমি তাকে বিয়ে করলাম, বা (تزوجت) আমি বিয়ে করলাম, অথবা (رضيت) এ বিয়ে আমি রাজি আছি।
আরবী ভাষার শব্দ ব্যবহার করা মুস্তাহাব। তবে যারা আরবী ভাষা জানেন না তারা তাদের ভাষায় প্রস্তাবনা ও কবুল করলেই বিয়ে সংঘটিত হবে।
বিবাহের রুকনসমূহ:
বিয়ের রুকন দু’টি। তা হলো:
১- প্রস্তাব (الإيجاب): অলী তথা অভিভাবক অথবা যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন তার পক্ষ থেকে বিয়ে করার বা বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া। যিনি আরবী ভালো পারেন তার (إنكاح أو تزويج) শব্দ দ্বারা প্রস্তাব দেওয়া উত্তম। কেননা এ শব্দদ্বয় কুরআনে এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ ﴾ [النساء : ٣]
“তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩]
২- কবুল (القبول): স্বামী বা তার স্থলাভিষিক্ত থেকে বিয়ে কবুল করার শব্দ। যেমন বলা, (قبلت) আমি বিয়ে কবুল করলাম বা (رضيت هذا النكاح) এ বিয়ে আমি রাজি আছি বা শুধু কবুল করেছি বলা। ইজাব তথা প্রস্তাব কবুলের আগে হতে হবে, তবে কোনো আলামত থাকলে আগে কবুল বললেও হবে।
বিবাহের শর্তাবলী:
বিয়ের শর্ত চারটি। তা হচ্ছে:
১- স্বামী-স্ত্রী নির্ধারিত হওয়া।
২- স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতি থাকা। অতএব, স্বামী-স্ত্রী কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া জায়েয নেই। কুমারী ও অকুমারী উভয়ের অনুমতি নিবে। কুমারীর চুপ থাকা তার অনুমতি দেওয়া আর অকুমারীর মৌখিক সম্মতি নিতে হবে। পাগল ও নির্বোধের ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয়।
৩- অভিভাবক: অভিভাবক পুরুষ, স্বাধীন, বালিগ (প্রাপ্তবয়স্ক), আকেল (জ্ঞানবান), বিচক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। এছাড়া একই দীনের অনুসারী হওয়াও শর্ত। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা তার অভিভাবক হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য, অতঃপর বাবার অসিয়তকৃত ব্যক্তি, অতঃপর তার দাদা, এভাবে উর্ধতন দাদারা, অতঃপর তার ছেলে ও নিম্নতম ছেলেরা, তার সহোদর ভাই, অতঃপর তার বৈমাত্রেয় ভাই, অতঃপর এসব ভাইয়ের ছেলেরা, অতঃপর, আপন চাচা, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচা, অতঃপর তাদের সন্তানেরা, অতঃপর বংশীয় নিকটাত্মীয়রা, অতঃপর দেশের বাদশাহ অভিভাবক হবেন।
৪- সাক্ষ্য: ন্যায়পরায়ণ, পুরুষ ও শরী‘আতের বিধান প্রযোজ্য (প্রাপ্তবয়স্ক) এমন দুজন সাক্ষ্যের সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
৫- স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বিবাহ বন্ধনে শরী‘আতের নিষেধাজ্ঞামুক্ত থাকা (অর্থাৎ যাদের সাথে বিয়ে হারাম তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া)।
বিবাহে যেসব কাজ সুন্নাত ও যেসব কাজ হারাম:
যে ব্যক্তি দীনদারিতা, ভিনদেশীয়তা, কুমারী, সন্তান ও সৌন্দর্য্যের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা ও সমতা বজায় রাখতে পারবে না তার জন্য একটি বিয়ে করা সুন্নাত।
বিয়ের খিতবা তথা প্রস্তাব দেওয়া কন্যাকে সতর ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে দেখা মুস্তাহাব, যাতে তাকে বিয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলে, তবে নির্জনে দেখতে পারবে না। এমনিভাবে কনেও হবু বরকে ভালোভাবে দেখা মুস্তাহাব।
বিয়ের প্রস্তাবকারী বরের পক্ষে মেয়েকে দেখা সম্ভব না হলে সে একজন বিশ্বস্ত নারী পাঠাবে, তিনি ভালোভাবে দেখে তাকে মেয়ের গুণাবলী বর্ণনা করবে।
কেউ কোনো মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিলে উক্ত প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়া বা তাকে দেখার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অন্য কেউ উক্ত মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হারাম।
যেসব নারী তিন ত্বালাক ব্যতীত বায়েন ত্বালাকের ইদ্দত পালনরত তাদেরকে স্পষ্ট বা ইশারায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ।
তবে রাজ‘ঈ তালাকের ইদ্দত পালনকারী নারীকে স্পষ্ট বা ইশারায় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হারাম।
জুম‘আর দিন (শুক্রবার) বিকেলে বিয়ে পড়ানো সুন্নাত। কেননা আসরের সালাতের পরের সময় দো‘আ কবুল হয় এবং সম্ভব হলে মসজিদে বিয়ে পড়ানো সুন্নাত।
13/08/2024
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কি তালাক দেওয়া যায়?
মুসলিম বিবাহ একটি চুক্তি, যা মুসলিম আইন অনুসারে পরিচালিত হয়। এই চুক্তির অথাৎ বিয়ে হওয়ার সময় কিছু শর্তাবলি ঠিকঠাক করে নেওয়া প্রয়োজন। যাতে পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
মুসলিম আইন কোরআনের আলোকে পরিচালিত হয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ, তালাক, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ইত্যাদি বিষয়ে বিধান দেওয়া হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে অসন্তোষ প্রকাশ পেলে যে কেউ বিবাহ–বিচ্ছেদের দিকে যেতে পারেন।
তালাক অর্থ বিবাহ ভঙ্গ বা বাতিল করা। আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদকে তালাক বলা হয়। তালাক শব্দের আভিধানিক অর্থ বন্ধনমুক্ত করা। তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। অনেকসময় উভয়পক্ষ একমত হয়ে শর্তসাপেক্ষে বা শর্তহীন তালাক দিতে প্রস্তুত হয়। এ তালাককে বলা হয় খুলা তালাক।
বিবাহ একটি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রথা। পৃথিবীর সব ধর্মেই বিবাহ আছে। তবে বিবাহ বিচ্ছেদ সব ধর্মে নেই। বিবাহ স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ ভঙ্গ করতে পারেন। তবে কাবিননামায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার না দিলে স্ত্রী আদালতের মাধ্যম ছাড়া তালাক দিতে পারেন না। তবে এখন কাবিননামায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। এটা প্রেসিডেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তালাকের আগেই স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করার নিয়ম। যদিও অনেকেই তা মানেন না। দেনমোহর বিয়ের শর্ত, তালাকের নয়।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামুলক ছিল না। ১৯৬১ সালের আইনে বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামুলক করা হয়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৭ ও ৮ ধারায় বিবাহ ভঙ্গ বা তালাকের বিষয়ে বলা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭(১) ধারায় বলা হয়েছে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে। ৭ ধারা অনুযায়ী তালাক প্রদানের জন্য স্বামী বা স্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে নোটিশ লিখিতভাবে পাঠাবে হবে।
চেয়ারম্যান একটি সালিসি পরিষদ গঠন করে উভয়পক্ষকে জানাবেন। সালিশ পরিষদের চেষ্টা হবে তালাকটা যেন না হয়। তারপরও যদি কোনো পক্ষ তালাক দিতেই চায়, তবে নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পর তালাক রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। তালাক রেজিষ্ট্রেশনও নিকাহ্ রেজিষ্টারই করবে। তালাকের ক্ষেত্রে আইনে প্রদত্ত নিয়ম পালন না করলে বা চেয়ারম্যানকে নোটিশ প্রদানে ব্যর্থ হলে কারাদন্ড এবং জরিমানা হবে।
যদি কোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা থাকেন এবং ওই সময় তাকে তালাক দেওয়া হয়, তবে সে তালাক কার্যকর হয় না। কারণ গর্ভকালীন সময়টাই হয় ইদ্দতকালীন সময়। তাই গর্ভাবস্থায় তালাক কার্যকর হয় না।
১৯৮৫ সনের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে গঠিত পারিবারিক আদালত বিবাহ ভঙ্গের ডিক্রি প্রদান করতে পারেন। পারিবারিক আদালতের ডিক্রি দ্বারা যে বিবাহ ভঙ্গ হয়েছে, ডিক্রি প্রদানের ৭ দিনের মধ্যে আদালত ডিক্রির সত্যায়িত সব নিবন্ধিত ডাকযোগে উপযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন। ডিক্রির কপি পেয়ে চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
লেখক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট
13/08/2024
পুরুষের একাধিক বিয়ে নিয়ে আইন যা বলে
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১–এর ৬ ধারা মতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। আর তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় প্রতিকার পেতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০–এর ৪৯৪–এর বিধানমতে মামলা করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আদালতে দেখাতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন স্বামী।
আইন অনুযায়ী এক স্ত্রীর বর্তমানে আরেকটি বা একাধিক বিয়ে করাকে বহুবিবাহ বলে। আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তির যদি এক স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, (যেমন সন্তান না হওয়া বা অসুস্থতা ইত্যাদি) তাহলে তাঁকে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে শেষ স্ত্রীর এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে।
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কি তালাক দেওয়া যায়?অন্তঃসত্ত্বা নারীকে কি তালাক দেওয়া যায়?
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো—১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. মারাত্মক শারীরিক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বা ডিক্রি বর্জন, ৫. মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে
কোনো পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তবে তিনি অবিলম্বে তাঁর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন। বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীরা আদালতে মামলা করে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারেন।
স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার আসলে কতটুকু?স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার আসলে কতটুকু?
দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করলেও ভরণপোষণ পাবেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসরত নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে বাবা আইনত বাধ্য।
ভরণপোষণের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন। মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে। এ ছাড়া অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
পাশাপাশি দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০–এর ৪৯৪–এর বিধানমতে, স্বামী যদি স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিয়ে করেন, তবে সেই ব্যক্তি কারাদণ্ড পাবেন, যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে। তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। তবে যে বিষয়টি এখানে উল্লেখ্য তা হলো, বহু বিবাহের মামলায় বাদীকে সফল হতে হলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব ছিল।
আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন যে, ইসলামি শরিয়তে পুরুষের জন্য একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু এটি কিছুতেই শর্তহীন নয়। বরং ভরণপোষণ, আবাসন ও শয্যাযাপনের ক্ষেত্রে শতভাগ সমতাবিধান নিশ্চিত করা না গেলে ইসলামে একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বৈধ নয়।
কাবিননামার যে বিষয়গুলো নারীর জানা প্রয়োজনকাবিননামার যে বিষয়গুলো নারীর জানা প্রয়োজন
একজন পুরুষের পক্ষে একের অধিক (দুই/তিন/চার) বিয়ে করে, সবার প্রতি সমান আচরণ বাস্তবিকভাবে অসম্ভব বিধায় পরবর্তী বিয়েগুলো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অবৈধ হবে।
লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Bismillah Supermarket (opposite Of Manikganj Press Club), 79, Shahid Rafiq Sarak
Manikganj
1800
