05/10/2022
শিক্ষণীয় পোস্ট 🌿🥀🌿
এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেল। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।
স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বলল, 'এটা তোমার কাকার দোকানে নিয়ে যাও সে যেন এটা বেচে কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দেয়'।
ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকার কাছে গেল। কাকা হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বলল, 'বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে'। কাকা কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেন, 'আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।'
পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগল। সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করল। ভালো শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রশংসিত হচ্ছিল তাঁর কাজ।
একদিন ছেলেটির কাকা বলল, 'তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।'
ছেলেটি ঘরে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে হারটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখল যে এটা একটা নকল হীরের হার। তাই সে হারটা আর কাকার কাছে না নিয়ে বাড়িতেই রেখে দিল।
কাকা জিজ্ঞেস করল, 'হারটি এনেছ?' ছেলেটি বলল, 'না কাকা, পরীক্ষা করে দেখলাম এটা একটা নকল হার'।
তখন কাকা বলল, 'তুমি যেদিন আমার কাছে হারটি প্রথম নিয়ে এসেছিলে সেদিন আমি দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম যে এটা নকল, কিন্তু তখন যদি আমি তোমাকে এই কথাটা বলে দিতাম, তাহলে তোমরা হয়তো ভাবতে যে আজ আমাদের মন্দা সময় বলেই কাকা আমাদের আসল জিনিষকে নকল বলছে'।
আজ যখন এ ব্যাপারে তোমার পুরো জ্ঞান হয়ে গেছে, তখন তুমি নিজেই বলছ এটা নকল হার।
এই দুনিয়াতে প্রকৃত জ্ঞান ছাড়া তুমি যা কিছু দেখছ যা কিছু ভাবছ সবটাই এই হারের মতই নকল, মিথ্যে।
জ্ঞান ছাড়া কোনো জিনিসের বিচার সম্ভব নয়। আর এই ভ্রমের শিকার হয়েই অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। তোমাদের সাথে আমার সেই সম্পর্কটা নষ্ট হোক আমি তা চাইনি।
23/09/2022
দুর্নীতি দমন কমিশন এর কনস্টেবল পদের(২৩-০৯-২২) mcq এর রেজাল্ট পাবলিস্ট...
29/02/2020
পরিধেয় ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে কাজ করে (কিভাবে হার্টবিট বা কত পা হাঁটলাম সেটা মাপে)?
আচ্ছা আপনি কি শুধুমাত্র এই দু'টি ব্যাপারেই জানতে চাইছেন যে ফিটনেস ব্যান্ড গুলি কিভাবে হার্টবিট আর স্টেপস্ মাপে? ঠিক আছে, আমি তাহলে প্রথমে এই দুটি নিয়ে বলি।
হৃৎস্পন্দন (Heart Beat) : ফিটনেস ব্যান্ডগুলি হার্টবিট মাপার জন্য ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (Photoplethysmography) নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে একটি LED থেকে একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলোর (সাধারণতঃ সবুজ, কারণ লাল রক্ত সবুজ রঙ বেশি ভালো শোষণ করে) ঝলকানি (এটিও নির্দিষ্ট ফ্ল্যাশ রেট বিশিষ্ট) সরাসরি আপনার হাতের উপর ফেলা হয়। আপনার ত্বকের নিচে থাকা রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণের উপর নির্ভর করে আলো প্রতিফলিত হয় যা একটি ফোটোডায়োড শনাক্ত করে। এখন হৃদপিণ্ডের সিস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় সবথেকে বেশি রক্ত থাকে — এই সময় আলোর প্রতিফলন কম হয় কারণ অধিকাংশ আলো রক্ত শোষণ করে নেয়। অপরদিকে ডায়াস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় রক্তের পরিমাণ কমে যায় — এইসময় আলো বেশি প্রতিফলিত হয়। ফিটনেস ব্যান্ডের সফ্টওয়্যার এই সময়ের পার্থক্য থেকে হার্টবিট মাপে।
আরো সহজে বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দিই — আপনার মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটটি জ্বালিয়ে ওতে আপনার আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন। আঙুলটি লাল বর্ণের দেখাবে। এই লাল বর্ণের তীব্রতা নির্ভর করে আপনার আঙুলে থাকা রক্তের পরিমাণের উপর — যেটা খালি চোখে পার্থক্য না করা গেলেও ফোটোডায়োড করতে পারে।
স্টেপস্ : স্টেপস অর্থাৎ আপনি কত পা হেঁটেছেন, মাপার জন্য ফিটনেস ব্যান্ডগুলি যে যন্ত্র ব্যবহার করে সেটি হ'ল পেডোমিটার। সাধারণতঃ একটি অ্যাক্সিলারোমিটার (MEMS Accelerometer), জাইরোস্কোপ (MEMS Gyroscope) এবং জিপিএস ব্যবহার করে আপনার নড়াচড়া শনাক্ত করে এই যন্ত্রগুলি। আপনি যখন হাঁটেন বা দৌড়ান, অ্যাক্সিলারোমিটার এবং জাইরোস্কোপ-এর X, Y এবং Z অক্ষের পরিবর্তন হয় — এই পরিবর্তন থেকে আপনি কত পা হেঁটেছেন তা গণনা করে আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি। আপনার ব্যান্ডের/মোবাইলের জিপিএস ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আপনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নড়াচড়া করেননি — আপনি সত্যিই হেঁটেছেন/দৌড়েছেন।
এবার একটা প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ইন্ডোর ওয়াক/রানিং (যেমন ট্রেডমিল এ হাঁটা বা দৌড়ানো) এর ক্ষেত্রে এই ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে স্টেপকাউন্ট করে? উত্তরটা খুবই সহজ — যখন আপনার ব্যান্ড দেখে এক জায়গায় বেশ কিছু সময় ধরে হাঁটা/দৌড়ানোর মত নড়াচড়া করছেন আপনি (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার ছন্দবদ্ধ ভাবে অক্ষ পরিবর্তন করছে), ব্যান্ডটি জিপিএস ট্র্যাকিং বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র মোশন সেন্স করা শুরু করে।
এতো গেল হার্টবিট আর স্টেপস্ মাপার পদ্ধতি। এছাড়াও ফিটনেস ব্যান্ডগুলি আপনার ঘুমের অবস্থা ও পরিমাণ (Sleeping Pattern), স্বেদন (Sweating) ইত্যাদিও মাপতে পারে। যদিও এগুলি এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে পড়েনা, আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে একটু বলতে চাই।
স্লীপ প্যাটার্ন (Sleep Pattern) : হৃৎস্পন্দন এবং স্টেপস এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হ'ল আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা উপেক্ষা করে থাকি। ২৪ ঘন্টায় অন্তত কতটা ঘুম হয়েছে তা জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী।
যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, আপনার শরীর কোন স্থান পরিবর্তন করে না (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার কোন মোশন সেন্স করে না) এবং হৃৎস্পন্দন কমবেশি সাধারণ অবস্থায় থাকে (প্রসঙ্গতঃ হাঁটা এবং দৌড়ানোর সময় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়) — আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি ঠিক এই বিষয়টি দেখে এবং তা থেকে আপনি ঘুমোচ্ছেন কিনা নিশ্চিত করে।
স্বেদন (Sweating) : এতটা অবধি পড়ার পর আপনার মনে হতে পারে, যাহ্ বাবা, বাকিগুলো তো ঠিক ছিল, ঘামের পরিমাণ মেপে আবার কী হবে? যাইহোক, শুনতে হাস্যকর হলেও আমাদের ঘামের পরিমাণ, সময়কাল, ঘামে উপস্থিত সোডিয়াম আয়ন (Na+), পটাশিয়াম আয়ন (K+) ও গ্লুকোজ-এর মাত্রা আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বর্তমানে Sweat Sensor নামে একটি সেন্সর তৈরি করা হয়েছে যা আপনার শরীরে ঘামের উপস্থিতি, সান্দ্রতা এবং এতে উপস্থিত সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করতে সক্ষম এবং আপনার শরীরের অবস্থা জানতে সক্ষম — যদিও এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এই পরিসরে সম্ভব নয়।
28/02/2020
এত মাস থাকতে ফেব্রুয়ারি মাসকে কেন ২৮/২৯ দিন করা হল? এর পরিবর্তে সব মাসগুলোকে ৩০-৩১ দিনে করলে কী ক্ষতি হত?
"রোমিউলাস" (৭৫৩ খ্রিস্টপূর্ব) ছিলেন রোম এর প্রথম রাজা এবং প্রতিষ্ঠাতা। তো সে সময়ে তাদের নানা ধরনের উৎসব, ভোজ, সামরিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এসবের হিসেব রাখার জন্য এবং সহজে মনে রাখার জন্য একটি ক্যালেন্ডার এর দরকার পড়লো।তাদের আগেও আর্লি রোমান রা ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত সেটা চন্দ্রের হিসাবে তৈরি করা ছিল এবং তার হিসেব ছিল এমন ২৯.৫ দিন = এক মাস।
রোমিউলান রিপাবলিকের যে ক্যালেন্ডার ছিল তাতে মাস ছিল ১০ টি।মাসগুলো হয় ছিল ৩০ দিন এবং ৩১ বিশিস্ট আর শুরু হতো "মার্চ" থেকে শেষ হতো "ডিসেম্বরে"। কিন্তু সমস্যা ছিল এই দশ মাসের বছরেও ৬১.২৫ দিন কম হতো। কিন্তু তা নিয়ে তাদের তেমন চিন্তা ছিলোনা।
প্রাচীন রোমে জোড় সংখ্যাকে অশুভ মনে করা হতো। তারপর রোমের দ্বিতীয় রাজা "নিউমা পম্পিলিয়াস" একটা কাজ করলেন।তিনি সেই ১০ টি মাসের মধ্যে যেসব মাস ৩০ দিন বিশিস্ট ছিল সেগুলো থেকে ১ দিন করে কমিয়ে ২৯ করলেন। তখন ১০ টি মাস ২৯ দিনের বা ৩১ দিনের গেলো। এবার এই ১০ মাস মিলে টোটাল হল ২৯৮ দিন। এবার নিউমা চাইলেন তিনি এই ক্যালেন্ডারটিকে চাঁদের ১২ টি চক্রের মধ্যে কাভার করবেন। তো সেভাবে ২৯৮ + ৫৬ = ৩৫৪ দিন হলো। কিন্তু একি ! আবার জোড় সংখ্যা ! না এ হতে দেয়া যাবেনা ! এবার তিনি ৩৫৪ এর সাথে আরও ১ দিন যোগ করে ৩৫৫ বানিয়ে বেজোড় করলেন।
এবার তিনি সেই ৫৬ + ১ = ৫৭ দিন কে ২৯ এবং ২৮ দিনে ভাগ করলেন এবং প্রথম ২৯ দিন নিয়ে নতুন একটি মাস যুক্ত করলেন যার নাম "জানুয়ারি" আর পরের ২৮ দিন নিয়ে করলেন "ফেব্রুয়ারি"। এভাবেই "ফেব্রুয়ারি" মাস আবিষ্কার হলো।
কিন্তু ২৮ ! ধুর, আবার জোড় ! এবার আর রোমান রা এটা নিয়ে মাথা ঘামালেন না । কারণ ফেব্রুয়ারি মাস তাদের কাছে আত্নশুদ্ধির মাস ছিলো।
রোমিউলার ক্যালেন্ডার ছিল ৩০৪ দিনের ১০ মাস বিশিষ্ট এবং নিউমার ক্যালেন্ডার ছিল ৩৫৫ দিনের ১২ মাস বিশিষ্ট।
এবার জুলিয়াস সিজার আসলেন । তিনি মিশরে দীর্ঘ সময় ছিলেন এবং সেখানে ক্যালেন্ডার ৩৬৫ দিনের ছিল।এরপর তিনি নিউমার সেই ৩৫৫ দিন বিশিষ্ট লুনার ক্যালেন্ডারের বিভিন্ন মাসের সাথে ১ দিন করে মোট ১০ টি দিন যোগ করে ক্যালেন্ডার সংশোধন করলেন যাকে সোলার ক্যালেন্ডার বলা হয়।
আর যেহেতু পৃথিবী সূর্যকে পুরো একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় ৩৬৫.২৪২ দিন। সেজন্য সিজার প্রতি ৪ বছরে ফেব্রুয়ারির সাথে ১ দিন যোগ করে দিলেন কারণ এই ০.২৪২ মিলে ৪ বছরে একটি দিনের সমান সময় হয় ।যা লিপ দিবস নামে পরিচিত।আর এই লিপ দিবস যে বছরে যুক্ত হয় তাকে আমরা লিপ ইয়ার বলি।
27/02/2020
মধ্যরাতের সূর্যের দেশ কাকে বলে?
“মধ্যরাতের সূর্যের দেশ” হিসেবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নরওয়ে অঞ্চল বিশ্ব-পরিচিত।
এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে “মধ্যরাতের সূর্য” আসলে কি ? “মধ্যরাতের সূর্য” হল একটি প্রাকৃতিক কারণ বা ঘটনা যার ফলে গ্রীষ্মকালে সূর্য অস্ত হয় না। অর্থাৎ দিন-রাত্রির ২৪ ঘণ্টাই সূর্যকে দেখতে পাওয়া যায়।
নরওয়েতে মধ্য রাতেও সূর্যের দেখা মিলে। আবার অনেক সময় সেখানে দিনের পর দিন সূর্যের দেখাই মেলে না। এই অঞ্চলের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত সময়টিতে সূর্য কখনো সম্পূর্ণ অস্তমিত হয় না। এঁর ফলে এই সময়টিতে রাত্রের অন্ধকারের পরিবর্তে গোধূলির ম্লান আলো রাত্রি জুড়ে বিরাজমান থাকে। তবে প্রকৃত মধ্যরাতের সূর্য দেখা যায় ২১ জুন।
এই অঞ্চলের উত্তরাংশে দুমাস ধরে সূর্য কখনই সম্পূর্ণ অস্ত যায় না। কিন্তু শীতের দুমাস আবার সূর্য ওঠেই না। আর তখন প্রায়ই উত্তরের আলো বা ‘অরোরা বোরিয়ালিস’ দেখা যায়।
25/02/2020
আমেরিকায় চার পাখার ফ্যান বহুল ব্যবহৃত হলেও, আমাদের দেশে তিন পাখার ফ্যান বেশি ব্যবহৃত হয় কেন?
অনলাইনে, মুভিতে, বিজ্ঞাপনে এমন ফ্যান অনেক দেখেছি। বলতে পারেন ফ্যানের ছবি দেখেই ফ্যান হয়ে যাওয়া। আমরা যে বাতিগুলো ব্যবহার করি, ওসব খাড়া দেয়ালে গেঁথে বা প্যাচিঁয়ে লাগানো হয়। সুন্দর মুখে ব্রণ উঠলে যেমন দেখায়, সুন্দর দেয়ালে বাল্বগুলোও তেমন। ছোট ঘরে, যা চোখের জন্য পীড়াদায়ক, চামড়ার জন্য ক্ষতিকর ও ঘরের উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও কিছুটা দায়ী এ বাতিগুলো ।
তাই আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে মনে হলো, বাতিটা যদি উপর থেকে দেয়া যায় এবং ফ্যানের মাঝখানের অংশটায় থাকে, ফ্যান ঘুরবে কিন্তু মাঝের অংশটি স্থির থাকবে। এতে বাতির আলো সুর্য্যমামার মতো উপর থেকে আসবে আবার ফ্যানের বাতাসে আলোর উষ্ণতাও কিঞ্চিত কমে যাবে।
ভারতীয় হাভেল বা খৈতান এর মতো অসাধারণ উদ্ভাবনী কোম্পানি বা বাংলাদেশের আরএফএলের মতো কোম্পানির জন্যও এটা বানানো ডালভাত ।
যাহোক, সেরকম লাইটওয়ালা ফ্যান কিনতে রাইফেলস ক্লাবে ( চট্টগ্রামে ফ্যানের "তীর্থস্থান" ) স্বস্ত্রীক গেলাম। পেলাম ও একটা বিদেশী কিন্তু দাম শুনে ২৩০ ভোল্টের কারেন্ট খেলাম। ঐ এক ফ্যানের দাম দিয়ে চারটি ভালো ফ্যান কেনা যায় ( এছাড়া স্ত্রীর যুক্তিতে ঘরে বাতি এমনিতেই আছে, আলগা বাতির কি দরকার!)
আমার স্ত্রীর মেজাজের ভয়ে তিনরুমের জন্য তিনটি তিনপাঙ্খাওয়ালা বাংলা ফ্যান কেনা হলো। শুধু আমার ইচ্ছায় একটি চারপাখার ফ্যান কিনলাম। জানলাম, বিয়ের পর বাঙালী পুরুষের ইচ্ছে বলে কিছুই নাই, সবটাই কম্প্রোমাইজ।
বৈশাখের তীব্র তাপদাহে তিনপাখাওয়ালা ফ্যানগুলো যখন সজোরে ঘুরছে, আমি চারপাখার ফ্যানের নীচে দরদর করে ঘামছি।
যখন বাঙালি পেটভরে মাংসভাত খেয়ে শরীরের অভ্যন্তরিণ তাপে উত্তপ্ত হয়ে " ফ্যান ছাড়, ফ্যান ছাড় " করে চিৎকার দিয়ে উঠবে, লোডশেডিং হাজির হবেই। আইপিএস টেবিল ফ্যান ই ভরসা তখন, সেটাও ফুরিয়ে গেলে, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সে-ই " তালপাখা" ।
বড় কুটুম্ব ( সম্বন্ধী) দাওয়াতে এসে, চারপাখার স্বল্প- বাতাস খেয়েই, আমার বুদ্ধি- স্বল্পতার কথা স্মরণ করালেন স্ত্রী কে। শালীরাও বললো, পুরুষজাতি কেনাকাটায় যে নির্বোধ, মেয়েরা তা আগে থেকেই জানে।
যাহোক,
ইজ্জতহানির ভয়ে, দৌড়ে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে স্ট্যান্ড - ফ্যান কিনে আনলাম, পাকিস্তানি " জিএফসি " সেই তীর্থস্থান থেকে । সেটায় এমন ঝড়ো হাওয়ার মতো বাতাস, শোয়েব আখতার বল হাতে ছুটে আসছে যেনো। পত্রিকার পাতা পড়া যাচ্ছেনা, উড়ছে । বিদ্যুৎ বিলও টর্নেডো গতিতে আসছে।
তখনই ভাবলাম কিছু কেনার আগে, কেন কিনবো, আদৌ প্রয়োজন কিনা, সেটা আমাদের দেশ, আবহাওয়া ও গৃহের বিদ্যুত লাইনের উপোযোগি কিনা তা জেনেই কেনা উচিত।
যাহোক, পাখা বেশি হলেই বাতাস বেশি হবে না, বরং অতিরিক্ত পাখার ওজন ফ্যানের মোটরকে শ্লথ করে দেবে, এটা বুঝলাম তবে ধরা খাওয়ার পরে। উঃ আমেরিকায় গরমকালে ফ্যান চলে মুলতঃ এসির বাতাসকে ছড়িয়ে দিতে বা শীতকালে রিভার্স সুইচের মাধ্যমে উল্টোদিকেও ফ্যান চলে সেখানে। এতে রুমহিটারের উত্তাপকে উপরে সরিয়ে নিতে সুবিধা হয় । তাই চার বা পাঁচ পাখার ফ্যান সেখানে জনপ্রিয়। আর তিনপাখার ফ্যান গরম প্রধান দেশগুলোতে জনপ্রিয় সজোরে ঘরের বাতাস বের করার জন্য।
এক শীতের সকালে দু'লিটারি ইলেকট্রিক কেটলি চালু করে আমার স্ত্রী মেইন লাইনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। আর গত বৈশাখের গরমে, ঘুষ বা জিডিপি বাড়ায়, এই বিল্ডিংয়ের বড়লোক বাসিন্দারা এত বেশি এসি লাগালো যে বিল্ডিংয়ের ট্রান্সফরমার ই বার্স্ট হয়ে গেলো।
তারপর এক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু থেকে শিখলাম,
বিদ্যুৎ দুটো মুলনীতি মেনে চলে।
একটি " ভোল্টেজ" অন্যটি "ফ্রিকোয়েন্সী'।
সমগ্র ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ায় বিদ্যুৎ ২৩০ ভোল্ট ও ৬০ হার্টজ কিন্তু উঃ আমেরিকায় ১১০ ভোল্ট ও ৫০ হার্টজ এ চলে। ঘরে সরবরাহের বিদ্যুৎ লাইনকে আমরা বলি কারেন্ট লাইন, ব্রিটিশরা " দ্যা মেইনস" মার্কিনরা " ইউটিলিটি পাওয়ার " ও কানাডিয়ানরা " হাইড্রো লাইন" বলে ( তাদের >৫০% উৎপাদিত বিদ্যুৎ জল বিদ্যুৎ বলে) ।
23/02/2020
পরিধেয় ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে কাজ করে (কিভাবে হার্টবিট বা কত পা হাঁটলাম সেটা মাপে)?
হৃৎস্পন্দন (Heart Beat) : ফিটনেস ব্যান্ডগুলি হার্টবিট মাপার জন্য ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (Photoplethysmography) নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে একটি LED থেকে একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলোর (সাধারণতঃ সবুজ, কারণ লাল রক্ত সবুজ রঙ বেশি ভালো শোষণ করে) ঝলকানি (এটিও নির্দিষ্ট ফ্ল্যাশ রেট বিশিষ্ট) সরাসরি আপনার হাতের উপর ফেলা হয়। আপনার ত্বকের নিচে থাকা রক্তনালীতে রক্তের পরিমাণের উপর নির্ভর করে আলো প্রতিফলিত হয় যা একটি ফোটোডায়োড শনাক্ত করে। এখন হৃদপিণ্ডের সিস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় সবথেকে বেশি রক্ত থাকে — এই সময় আলোর প্রতিফলন কম হয় কারণ অধিকাংশ আলো রক্ত শোষণ করে নেয়। অপরদিকে ডায়াস্টোলিক প্রেশারের সময় রক্তনালীগুলোয় রক্তের পরিমাণ কমে যায় — এইসময় আলো বেশি প্রতিফলিত হয়। ফিটনেস ব্যান্ডের সফ্টওয়্যার এই সময়ের পার্থক্য থেকে হার্টবিট মাপে।
আরো সহজে বোঝানোর জন্য একটি উদাহরণ দিই — আপনার মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটটি জ্বালিয়ে ওতে আপনার আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন। আঙুলটি লাল বর্ণের দেখাবে। এই লাল বর্ণের তীব্রতা নির্ভর করে আপনার আঙুলে থাকা রক্তের পরিমাণের উপর — যেটা খালি চোখে পার্থক্য না করা গেলেও ফোটোডায়োড করতে পারে।
স্টেপস্ : স্টেপস অর্থাৎ আপনি কত পা হেঁটেছেন, মাপার জন্য ফিটনেস ব্যান্ডগুলি যে যন্ত্র ব্যবহার করে সেটি হ'ল পেডোমিটার। সাধারণতঃ একটি অ্যাক্সিলারোমিটার (MEMS Accelerometer), জাইরোস্কোপ (MEMS Gyroscope) এবং জিপিএস ব্যবহার করে আপনার নড়াচড়া শনাক্ত করে এই যন্ত্রগুলি। আপনি যখন হাঁটেন বা দৌড়ান, অ্যাক্সিলারোমিটার এবং জাইরোস্কোপ-এর X, Y এবং Z অক্ষের পরিবর্তন হয় — এই পরিবর্তন থেকে আপনি কত পা হেঁটেছেন তা গণনা করে আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি। আপনার ব্যান্ডের/মোবাইলের জিপিএস ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আপনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নড়াচড়া করেননি — আপনি সত্যিই হেঁটেছেন/দৌড়েছেন।
এবার একটা প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ইন্ডোর ওয়াক/রানিং (যেমন ট্রেডমিল এ হাঁটা বা দৌড়ানো) এর ক্ষেত্রে এই ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কিভাবে স্টেপকাউন্ট করে? উত্তরটা খুবই সহজ — যখন আপনার ব্যান্ড দেখে এক জায়গায় বেশ কিছু সময় ধরে হাঁটা/দৌড়ানোর মত নড়াচড়া করছেন আপনি (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার ছন্দবদ্ধ ভাবে অক্ষ পরিবর্তন করছে), ব্যান্ডটি জিপিএস ট্র্যাকিং বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র মোশন সেন্স করা শুরু করে।
এতো গেল হার্টবিট আর স্টেপস্ মাপার পদ্ধতি। এছাড়াও ফিটনেস ব্যান্ডগুলি আপনার ঘুমের অবস্থা ও পরিমাণ (Sleeping Pattern), স্বেদন (Sweating) ইত্যাদিও মাপতে পারে। যদিও এগুলি এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে পড়েনা, আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে একটু বলতে চাই।
স্লীপ প্যাটার্ন (Sleep Pattern) : হৃৎস্পন্দন এবং স্টেপস এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হ'ল আমাদের পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা উপেক্ষা করে থাকি। ২৪ ঘন্টায় অন্তত কতটা ঘুম হয়েছে তা জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী।
যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন, আপনার শরীর কোন স্থান পরিবর্তন করে না (অর্থাৎ অ্যাক্সিলারোমিটার কোন মোশন সেন্স করে না) এবং হৃৎস্পন্দন কমবেশি সাধারণ অবস্থায় থাকে (প্রসঙ্গতঃ হাঁটা এবং দৌড়ানোর সময় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়) — আপনার ফিটনেস ব্যান্ডটি ঠিক এই বিষয়টি দেখে এবং তা থেকে আপনি ঘুমোচ্ছেন কিনা নিশ্চিত করে।
স্বেদন (Sweating) : এতটা অবধি পড়ার পর আপনার মনে হতে পারে, যাহ্ বাবা, বাকিগুলো তো ঠিক ছিল, ঘামের পরিমাণ মেপে আবার কী হবে? যাইহোক, শুনতে হাস্যকর হলেও আমাদের ঘামের পরিমাণ, সময়কাল, ঘামে উপস্থিত সোডিয়াম আয়ন (Na+), পটাশিয়াম আয়ন (K+) ও গ্লুকোজ-এর মাত্রা আমাদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বর্তমানে Sweat Sensor নামে একটি সেন্সর তৈরি করা হয়েছে যা আপনার শরীরে ঘামের উপস্থিতি, সান্দ্রতা এবং এতে উপস্থিত সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় করতে সক্ষম এবং আপনার শরীরের অবস্থা জানতে সক্ষম — যদিও এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এই পরিসরে সম্ভব নয়।
23/02/2020
বিশ্ব মাতিয়েছেন টাঙ্গাইলে পিসি সরকার..!
পুরো নাম প্রতুল চন্দ্র সরকার। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙ্গালীদের মধ্যে পিসি সরকার অন্যতম। জাদু শিল্পকে তিনি সব রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলা বাঙ্গালীদের গৌরবোজ্জ্বল জাতি হিসেবে পরিচালিত করেছিলেন। ১৯১৩ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার আশিকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর শিক্ষাজীবন কাটেনি স্থানীয় শিবনাথ হাইস্কুলে। বাবার নাম ভগবানচন্দ্র সরকার, মা কুসুম কামিনী দাস। পিসি সরকারা ছিলেন দুই ভাই। পিসি সরকার ছিলেন বড় আর ছোট ভাই অতুল চন্দ্র সরকার বা এসি সরকার। ছেলেবেলা থেকে জাদুবিদ্যার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। আবার জাদুবিদ্যায় বংশগত ঐতিহ্য রয়েছে পিসি সরকারের। তখনকার খ্যাতিমান জাদুকর গণপতি চক্রবর্তী তার যাদুবিদ্যার গুরু ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তিনি যাদু দেখানো শুরু করে। তাতে লেখাপড়ার বাধাগ্রস্ত হয়নি। ১৯২৯ সালে প্রবেশিকা এবং ১৯৩৩ সালে গণিত শাস্ত্রে অনার্সসহ বিএ পাশ করেন এবং জাদুকেই পেশা হিসাবে গ্রহন করেন তিনি। জাদুশিল্পী পিসি সরকারের কৃতিত্ব হলো- তিনি বহু প্রাচীন জাদু মূল সূত্র আবিষ্কার করেন। করাত দিয়ে মানুষ দ্বিখন্ডিত করার খেলাটি দেখে দর্শকরা অভিভূত হয়ে পড়েন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর জাদুতে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যেতেন। সেই সময় দ্বিখন্ডিত তরুণীর কুশল বার্তা জানার জন্য বিবিসি অফিসে এতো টেলিফোন আসতে থাকে যে, ২ ঘন্টা পর্যন্ত অফিসের সকল টেলিফোন লাইন ব্যস্ত ছিল। নিউওয়ার্ক টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ খেলাটি দেখার জন্য তাকে বিশেষ বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা ও সম্মান লাভ করেন। ওয়াটার অফ ইন্ডিয়া তার আরেকটি জনপ্রিয় খেলা। ১৯৩৪ সালে সর্বপ্রথম তিনি বিদেশ গমন করেন এবং ৭০টির মত দেশে জাদু প্রদর্শন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ফোর্স রাইটিং খেলাটি ভারতের মহা আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তারপর বিদেশে একটি দ্রুতগামী রেলগাড়ি আসার মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে আগেই হাতকড়া বন্ধ অবস্থায় ট্রেন লাইন থেকে মুক্ত হয়ে আসেন।এই হাতকড়া টি খুলতে ১৭ টি চাবি ব্যবহার করা হতো। তার জাদু অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন, বিবিসি, শিকাগো ডারলিউ জিএনটিভি নিউওয়ার্কের এনবিসি ও সিবিএস টেলিভিশনে বহুবার প্রদর্শন হয়েছে। ১৯৭০ সালে ১৩ জানুয়ারি পিসি সরকার জাপানে জিগেৎসু শহরে জাদু প্রদর্শন করতে গিয়ে আকম্মাৎ মারা যান।