03/08/2019
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে মহামারী আকার ধারন করা ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে চলুন জেনে নেই । নিজে সচেতন থাকি অপরকেও সচেতন করি ।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণসমূহঃ
১. এ জ্বর অনেক ক্ষেত্রে কম হতে পারে, আবার বেশিও হতে পারে। দেখা যায়, জ্বর তিন-চার দিন পর ভালো হয়ে যায় ।
২. এরপর প্লাটিলেট কম হতে থাকে। এরপর মাঝখানে একটি বিরতি দিয়ে আবার জ্বর আসে। এই জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা করবে। জ্বর সাধারণত দুই দিন থাকার পর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় র্যাশ দেখা যায় ।
৩। জ্বর যদি জটিল পর্যায় হয়, তাহলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, রক্তবমি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে আবার শ্বাসকষ্টও হতে পারে। ওপরের পেটে পানি চলে আসতে পারে ।
৪. এই জ্বরে যেহেতু পানিশূন্যতা বেশি হয়, তাই প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ঘাম হতে পারে। বমি বমি ভাব হতে পারে, খাবারে অরুচি হতে পারে। অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের যে লক্ষণ, সেগুলো প্রায় সবই ডেঙ্গু জ্বরে থাকবে ।
ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। এর লক্ষণ হল - রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া । নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয় । শরীরের হাত পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে । এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে । যেটা এ বছর খুব বেশি পরিমানে দেখা যাচ্ছে । জ্বর বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ ই রক্তচাপ খুব বেশি কমে যাওয়ায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে ।
ডেঙ্গু রোগের প্রকৃতিঃ
শিশু ও ছোট বাচ্চাদের মধ্যে এ জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের এতে বিপদ বেশি । ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের হয়ে থাকে । তাই ডেঙ্গু জ্বরও চারবার হতে পারে। যারা আগেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু হলে তা মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে । যাদের ক্রনিক অসুখ যেমন, ডায়বেটিস ও অ্যাজমা রয়েছে তাদের জন্য ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হতে পারে ।
ডেঙ্গু জ্বর যেভাবে প্রতিরোধ করা যাবেঃ
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা । বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন, মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে
এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনে ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে। দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে ।
প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে । যেমন - ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে । এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে ।
সর্বোপরি সকলে সচেতন থাকুন আর সমাজের অন্যদেরকেও সচেতন করুন ।