𝐑𝐚𝐳𝐢𝐚 𝐊𝐡𝐚𝐭𝐮𝐧 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢 𝐏𝐚𝐭𝐡𝐚𝐠𝐚𝐫

𝐑𝐚𝐳𝐢𝐚 𝐊𝐡𝐚𝐭𝐮𝐧 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢 𝐏𝐚𝐭𝐡𝐚𝐠𝐚𝐫

Share

“𝐑𝐞𝐚𝐝 𝐛𝐨𝐨𝐤𝐬, 𝐛𝐮𝐢𝐥𝐝 𝐲𝐨𝐮𝐫 𝐥𝐢𝐟𝐞.
𝐁𝐨𝐨𝐤𝐬 𝐩𝐫𝐨𝐯𝐢𝐝𝐞 𝐧𝐨𝐮𝐫𝐢𝐬𝐡𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐟𝐨𝐫 𝐭𝐡𝐞 𝐬𝐨𝐮𝐥.”

ইসলামী শিক্ষাই একটি জাতির প্রকৃত এবং বাস্তবিক মেরুদণ্ড গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক
এই চেতনা বাস্তাবায়নের অংশবিশেষ হিসাবে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
যেখানে আমরা ইসলামী সাহিত্য,ইসলামী মনন-মানসিকতা, ইসলামী সংস্কৃতি,এবং একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মানে বদ্ধপরিকর।

01/03/2024

আল্লাহ তাআলা পর্দা ফরজ করেছেন।

18/01/2024

সকল শিয়াল কি চায়.??

04/01/2024

"আলোর কাফেলা কর্তৃক আয়োজন করা হলো কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এই উপলক্ষে, আমরা সম্মানিত করেছি আমাদের আগামী প্রজন্মের মেধাবীদের, যারা তাদের প্রচেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে আলোর পথ দেখিয়েছে। তাদের সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা গর্বিত। আসুন, একসাথে নতুন সাফল্যের গল্প রচনা করি!"

04/11/2023

মাসজিদুল আকসার গুরুত্ব এবং তাতে নামাজের ফজিলত

মক্কা ও মদিনার পরে সবচেয়ে পবিত্রতম স্থাপনা হল মাসজিদুল আকসা (সহিহ বুখারি: ১১১৫) এছাড়াও প্রিয়নবী (স.) ওহি লাভ ও নবুয়ত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসই মুসলমানদের কিবলা ছিল। (সুরা বাকারা: ১৪২-১৫১)

হাদিসের ভাষ্যমতে, আল আকসা পৃথিবীর দ্বিতীয় পুরনো মসজিদ। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজি (স.)-কে প্রশ্ন করলাম—হে আল্লাহর রাসুল (স.)! দুনিয়াতে কোন মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন, মসজিদুল হারাম। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর হলো মসজিদুল আকসা। অতঃপর আমি জানতে চাইলাম যে, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বললেন চল্লিশ বছরের। (সহিহ বুখারি: ৩১১৫)

বায়তুল মুকাদ্দাস মেরাজের ভূমি হিসেবেই পরিচিত। কেননা মহানবী (স.) বায়তুল মুকাদ্দাস থেকেই মেরাজে গমন করেছিলেন। (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

নবী-রাসুলদের স্মৃতি বিজড়িত আল-আকসা
ঐতিহাসিক এ স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে মুসলমানদের নানা স্মৃতি। এখানেই শুয়ে আছেন হজরত ইবরাহিম ও মুসা (আ.)-সহ অসংখ্য নবী-রাসুল। এখানেই মহানবী (স.) সব নবী-রাসুল এবং ফেরেশতাদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন স্বয়ং নবীজি (স.)। এখান থেকেই তিনি বোরাকে করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করছিলেন। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭০ জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে এ মসজিদের কথা। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিককে আমি বরকতময় করেছি, যেন তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

মসজিদে আকসায় নামাজের ফজিলত
বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। বলেন, ‘মসজিদে হারামে এক নামাজ এক লাখ নামাজের সমান, আমার মসজিদে (মসজিদে নববি) এক নামাজ এক হাজার নামাজের সমান এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে এক নামাজ ৫০০ নামাজের সমান।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৪/১১)

উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদে হারামে হজ কিংবা ওমরা পালনে গমন করবে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে কিংবা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৭৯)

মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (স.)-কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে কিছু বলুন!’ রাসুল (স.) বললেন, ‘বায়তুল মুকাদ্দাস হলো হাশরের ময়দান। পুনরুত্থানের জায়গা। তোমরা তাতে গিয়ে সালাত আদায় করো। কেননা, তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায়ের সওয়ার পাওয়া যায়..।” (মুসনাদে আহমদ: ২৬৩৪৩)

হজরত সুলায়মান (আ.) যখন এই মসজিদ নির্মাণ শেষ করেছিলেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি কেবলমাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই ওই মসজিদে উপস্থিত হবে, সে ব্যক্তি যেন ওই দিনকার মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। (নাসায়ি: ৬৬৯, ইবনে মাজাহ: ১৪০৮)

@𝐇𝐦 𝐙𝐚𝐢𝐧𝐮𝐥 𝐀𝐛𝐢𝐝𝐢𝐧

27/10/2023

দ্বাদশ শতাব্দির কাহিনি। ক্রশ ছুঁয়ে শপথ করে পৃথিবী থেকে ইসলামের নাম-চিহ্ন মুছে ফেলার গভীর চক্রান্তে মেতে ওঠে খ্রিষ্টান দুনিয়া। ইসলামের পতন ঘটিয়ে বিশ্বময় ক্রশের রাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেছে নেয় নানা রকম কুটিল পথ। অর্থ, মদ আর ছলনাময়ী রূপসি নারীর ফাঁদ পেতে ঈমান ক্রয় করতে শুরু করে মুসলিম আমীর ও শাসকদের। এক দল গাদ্দার তৈরি করে নেয় মুসলমানদের মাঝে। সেইসঙ্গে চালায় বহুমুখী সশস্ত্র অভিযান। মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে দখল করে রাখে ইসলামের মহান স্মৃতিচিহ্ন
প্রথম কেবলা বাইতুল মুকাদ্দাস।
সেই বিজাতীয় ক্রুশেডার ও স্বজাতীয় গাদ্দারদের মোকাবেলায় গোপনে-প্রকাশ্যে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যান ইতিহাসের অমর নায়ক বিজয়ী মর্দে-মুমিন সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবি। ১১৬৯ সালে শুরু-হওয়া তাঁর ওই লড়াই বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত থামেনি একটা মুহূর্তেরও জন্য।
একদিকে মনকাড়া রূপসি নারীর ফাঁদ, অন্যদিকে ঈমানের ওপর অটল দাঁড়িয়ে থাকার অনুপম উদাহরণ। একদিকে ইসলাম ও মুসলমানদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার ঘৃণ্য মহড়া, অন্যদিকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষার জানকবুল সংগ্রাম।
সেই শ্বাসরুদ্ধকর অবিরাম যুদ্ধের নিখুঁত শব্দচিত্র
সিরিজ উপন্যাস ঈমানদীপ্ত দাস্তান

ছোটো-বড়ো, নারী-পুুরুষ নির্বিশেষে সব পাঠকের সুখপাঠ্য বই। শুরু করুন এক আকাশ ভালো লাগার মাঝে কখন যে শেষ হয়ে যাবে টেরই পাবেন না

ইতিহাসের নিখুঁত জ্ঞান।
উপন্যাসের অনাবিল স্বাদ।
উজ্জীবিত মুমিনের ঈমান-আলোকিত উপাদান

𝐑𝐚𝐳𝐢𝐚 𝐊𝐡𝐚𝐭𝐮𝐧 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢 𝐏𝐚𝐭𝐡𝐚𝐠𝐚𝐫

20/10/2023

পড়ো, পড়ো এবং পড়ো...

তুমি যে অমানিশায় ঘুরপাক খাচ্ছো, হীনম্মন্যতা গ্রাস করে নিচ্ছে তোমার চলার গতি, হতাশায় মুষড়ে পড়ছো কখনো কখনো, এ-সব থেকে তোমাকে মুক্তি দেবে তোমার জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধ্যয়ন। পড়তে থাকো...

পড়ো তোমার প্রভুর নামে...

পড়ো আধুনিক জ্ঞান ও বিজ্ঞান, পড়ো কুরআনের প্রতিটি আয়াত এমন নিমগ্নতায় যেন তোমার রব তোমার সঙ্গে কথা বলে। পড়ো শিল্পকলা, পড়ো ইতিহাস। পড়ো ধর্মের গভীরতা, পড়ো সৌরজগত নিয়ে। পড়ো সিরাত, পড়ো নৃবিজ্ঞান। পড়ো আসকালানি, পড়ো ওয়্যার এন্ড পিস। পড়া থামিয়ো না...

পড়ো তোমার বিশ্বাস এবং যা তুমি অবিশ্বাস করো...

সোস্যাল মিডিয়ার রংচঙে ঝকমারিতে সময় নষ্ট করো না। অন্যের উল্লম্ফন আর সেলিব্রেশন দেখে হতোদ্যম হয়ে যেয়ো না। তোমার সময়ও সমাগত। তুমি জ্ঞানের কাছে ফিরে এসো, জ্ঞান তোমাকে নিবিষ্টতার অনন্য উচ্চতায় উড্ডীন করবে। এমন উচ্চতা, যেখান থেকে সকল সেলিব্রেশন আর হৈ-হুল্লোড় মনে হবে ছেলেখেলা। সময়ের সঙ্গে স্রোতের টানে ভেসে যেয়ো না, তোমার নিজের স্রোত সৃষ্টি করো।

পড়ো জ্ঞানের জন্য। জ্ঞান তোমাকে মুক্তি দেবে...

দশম শতাব্দীর ইরানি বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাকারিয়া আল রাজি (৮৬৫ - ৯৩৫) বলেছিলেন, `যারা আমার সাহচর্যে এসেছেন কিংবা আমার খোঁজ রাখেন, তারাই জানেন জ্ঞান আহরণের আমার কী আকুল আগ্রহ, কী তীব্র নেশা। কিশোরকাল হতেই আমার সকল উদ্যম, এই একটি মাত্র নেশায় ব্যয়িত হয়েছে। যখনই কোনো নতুন বই হাতের কাছে পেয়েছি কিংবা কোনো জ্ঞানীর সন্ধান পেয়েছি তখনই অন্য সকল কাজ ফেলে, বহু আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করেও নিবিষ্ট মনে বইখানা পাঠ করেছি কিংবা সেই জ্ঞানীর কাছে যথাসাধ্য শিক্ষা গ্রহণ করেছি। জ্ঞান সাধনায় আমার এমন অদম্য উৎসাহ ও অসাধারণ সহিষ্ণুতার ফলেই মাত্র এক বছরে আমি কুড়ি হাজার পৃষ্ঠার মৌলিক রচনা লিখেছি (প্রতিদিন প্রায় ষাট পৃষ্ঠা) এবং তাও তাবিজ লেখার মতোই ঝরঝরে অক্ষরে। প্রায় পনের বছর আমি ব্যয় করেছি আমার বিরাট চিকিৎসা-অভিধান লিখতে। দিন-রাতে এমন কঠোর পরিশ্রম করেছি যে শেষে আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এখনও আমার জ্ঞানপিপাসা মেটেনি। আজও আমি অন্যকে দিয়ে বই পড়িয়ে শুনি কিংবা আমার রচনা লেখাই।’

পড়ো, কারণ আল্লাহ বলেছেন ‘পড়ো’। পড়া ছাড়া সৃষ্টি হয় অজ্ঞানতা, আর অজ্ঞানতা তোমাকে পরিণত করবে ধর্মান্ধ।

অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের জন্য পড়ো। আলোর জন্য পড়ো। আলো মানে নুর। আল্লাহু নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ...

𝐑𝐚𝐳𝐢𝐚 𝐊𝐡𝐚𝐭𝐮𝐧 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢 𝐏𝐚𝐭𝐡𝐚𝐠𝐚𝐫

18/10/2023

"পড়ুয়া মেয়েকে বধুয়া করুন!"

"যদি একটি পড়ুয়া মেয়ে খুঁজে পান, তাকে আপন করে নিয়েন। রাত দুটোয় ঘুম ভেঙ্গে যদি হঠাৎ দেখেন সে একটি বই বুকে জড়িয়ে ধরে অঝরে কাঁদছে, এক কাপ চা দিয়েন তাকে, তারপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখিয়েন। কিছুক্ষণের জন্য সে হয়তো হারিয়ে যাবে,

আপনার হয়তো মনে হবে আপনার বুকে মাথা রেখেও সে আসলে হেঁটে বেড়াচ্ছে অন্য কোনো জগতে।

ভয় পাবেন না, শেষ পর্যন্ত সে আপনার কাছেই ফিরে আসবে। সে এমনভাবে কথা বলবে যেন বইয়ের সব চরিত্রগুলোই বাস্তব, কারণ কিছুক্ষণের জন্য তারা আসলেই তাই।"

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
𝐑𝐚𝐳𝐢𝐚 𝐊𝐡𝐚𝐭𝐮𝐧 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢 𝐏𝐚𝐭𝐡𝐚𝐠𝐚𝐫

17/10/2023

কোরআনে ফিলিস্তিনকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলা হয়েছে কেন?
বাইতুল মুকাদ্দাস সংলগ্ন এলাকা বা ফিলিস্তিনকে কোরআনে ‘পবিত্র ভূমি’ বলা হয়েছে। হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারী বনি ইসরাইলকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন মূর্তিপূজক আমেলাকাদের কাছ থেকে পবিত্র ভূমি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। আল্লাহ বলেন,

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ جَعَلَ فِیۡکُمۡ اَنۡۢبِیَآءَ وَجَعَلَکُمۡ مُّلُوۡکًا وَّاٰتٰىکُمۡ مَّا لَمۡ یُؤۡتِ اَحَدًا مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ یٰقَوۡمِ ادۡخُلُوا الۡاَرۡضَ الۡمُقَدَّسَۃَ الَّتِیۡ کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ وَلَا تَرۡتَدُّوۡا عَلٰۤی اَدۡبَارِکُمۡ فَتَنۡقَلِبُوۡا خٰسِرِیۡنَ

স্মরণ কর, যখন মুসা তার জাতিকে বলেছিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্য হতে নবি করেছিলেন ও তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছিলেন এবং বিশ্বজগতে কাউকেও যা তিনি দেন নাই তা তোমাদেরকে দিয়েছিলেন। হে আমার জাতি, আল্লাহ তোমাদের জন্যে যে পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন তাতে তোমরা প্রবেশ কর এবং পশ্চাদপসরণ করো না; করলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। (সুরা মায়েদা: ২০, ২১)

কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে ইবনে আব্বাসের (রা.) মতে এ আয়াতে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে বায়তুল মুকাদ্দাস সংলগ্ন এলাকা বোঝানো হয়েছে। আবু ইসহাক যাজ্জাজের (রহ.) মতে ‘পবিত্র ভূমি’ অর্থ এখানে ফিলিস্তিন, দামেশক ও জর্ডানের কিছু এলাকা। কাতাদার (রহ.) মতে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে এখানে পূর্ণ শাম বা বৃহত্তর সিরিয়া অঞ্চল বোঝানো হয়েছে। বর্তমানের সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও পূর্ণ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড প্রাচীন শামের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাইতুল মুকাদ্দাস সংলগ্ন এলাকা, ফিলিস্তিন অথবা পুরো শামকে কেন পবিত্র ভূমি বলা হয়েছে এ বিষয়ে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা কাজি নাসিরুদ্দিন বায়যাবি (রহ.) বলেন, ‘বায়তুল মুকাদ্দাস, ফিলিস্তিন ও শাম আল্লাহর বহু নবি-রাসুলের স্মৃতিধন্য হওয়ায় এই অঞ্চলকে ‘পবিত্র’ বলা হয়েছে।’ (সাফওয়াতুত তাফাসীর) এই অঞ্চলে যেহেতু আল্লাহ অনেক নবি রাসুল পাঠিয়েছেন, আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দা বা মুমিনরা ব্যাপকভাবে বসবাস করেছেন, আল্লাহর ইবাদত করেছেন, এই অঞ্চল মূর্তিপূজক মুশরিকদের শাসনাধীন থাকবে এটা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেননি। তাই তিনি তার নবি মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুশরিক আমালেকাদের হটিয়ে এই ‘পবিত্র ভূমি’র নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সেখানে বসবাস করতে।

আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ছিল, আমালেকাদের সাথে যুদ্ধে বনি ইসরাইলই জয়লাভ করবে। আল্লাহর নির্দেশে হজরত মুসা (আ.) ফিলিস্তিন অভিমুখে রওয়ানা হন। কিন্তু ফিলিস্তিনের কাছাকাছি পৌঁছে বনি ইসরাইল খবর পায় আমালিকা জাতি বিশালদেহী ও অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা ভয় পেয়ে যায়। আল্লাহর নবি মুসাকে (আ.) তারা বলে,

اِنَّا لَنۡ نَّدۡخُلَہَاۤ اَبَدًا مَّا دَامُوۡا فِیۡہَا فَاذۡہَبۡ اَنۡتَ وَرَبُّکَ فَقَاتِلَاۤ اِنَّا ہٰہُنَا قٰعِدُوۡنَ

তারা যত দিন সেখানে থাকবে তত দিন আমরা সেখানে প্রবেশ করবো না, তুমি আর তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে থাকব। (সুরা মায়েদা: ২৪)

বনি ইসরাইলের এ রকম অবাধ্যতা, বেয়াদবি ও ভীরুতার কারণে আল্লাহ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং চল্লিশ বছরের জন্য তাদের ফিলিস্তিনে প্রবেশ স্থগিত করে দেন। তারা সিনাই মরুভূমির ছোট্ট একটি এলাকার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে; সামনে যাওয়ার কোনো পথও খুঁজে পাচ্ছিল না এবং মিসরেও ফিরে যেতে পারছিল না।

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শিক্ষার্থী লালবাগ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

#ফিলিস্তিন #আলআকসা
#হামাস

14/10/2023

‘ফিলিস্তিন যুদ্ধের ১০০ বছর’
❑ বই সম্পর্কে কিছু কথা:

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ তো কেবল পত্রিকার শিরোনামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে আছে লাখ লাখ পরিবারের ত্যাগের গল্প। সুদূর বেলফোরের ঘোষণা থেকে হালের ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি, প্রতিটি পরাশক্তির কূটচালের শিকার নিজ ভূমি পরবাসী এই ফিলিস্তিনিরা। বিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব জুড়ে যখন উপনিবেশায়নের সমাপ্তি ঘটছিল, তখন নাকবার ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের হতে হয়েছে দেশান্তরী। লেবানন যুদ্ধে শরণার্থী অবস্থায় থেকেও প্রাণ দিতে হয়েছে তাদের। প্রাণ দিতে হয়েছে দুই ইন্তিফাদায়। এই সংকটকে অবলম্বন করে ফায়দা নিয়েছেন কিসিঞ্জার, রিগ্যান, ট্রাম্প, কুশনার থেকে শুরু করে আরব স্বৈরশাসকরাও। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণদের কেবল অপমান আর লাঞ্ছনাই সইতে হয়েছে। ফিলিস্তিন যুদ্ধের শত বছরের ইতিহাসে ছয়টি বড় যুদ্ধে এরকম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের। এই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম আর প্রতিরোধের লড়াই নিয়েই “ফিলিস্তিন যুদ্ধের ১০০ বছর”।
সত্যি কথা বলতে গেলে বইটা যখন আমি প্রথম পড়ি তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি কিছু বই আমাকে কাঁদিয়েছে তার মধ্যে এই বইটা উল্লেখযোগ্য,
বইটা সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইল 💚🥀

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শিক্ষার্থী লালবাগ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা

13/10/2023

#ফিলিস্তিন কবে আবার মুসলিমদের কাছে ফিরে আসবে?

মুসলিম ভূখণ্ড ফিলিস্তিন। অসংখ্য নবি-রাসুলের পদচারণায় মুখরিত ছিল এ জনপদ। সর্বশেষ নবি ও রাসুল হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ফিলিস্তিনের মসজিদ আকাসায় এসেছেন, নামাজ পড়েছেন। কুরআনের বর্ণনায় তা সুস্পষ্ট। ফিলিস্তিন সাধারণ কোনো নগরী নয় বরং কুরআনের ঘোষণায় বরকতময় পুণ্যভূমিও ফিলিস্তিন।

বিশাল এ মুসলিম ভূখণ্ড ফিলিস্তিনের ১৯১৭-২০২০ সালের মানচিত্র যে কাউকে হতবাক করে দেবে। কেননা দখলদার ইসরায়েল ইয়াহুদি গোষ্ঠী প্রায় পুরো ফিলিস্তিনই দখল করে নিয়েছে। সে কারণেই মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বার বার একটি প্রশ্ন আসছে- ‘এ ফিলিস্তিন আবার কবে মুসলিমদের কাছে ফিরে আসবে?’
মিশরীয় প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, শায়খ সাঈদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহ বলেন-

‘পৃথিবীর যে কোনো স্থানে কোনো মুসলমান যদি এই প্রশ্ন করে যে- ‘ফিলিস্থিন কবে আমাদের কাছে ফিরে আসবে?’

(তাহলে) এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- ‘আপনি যদি আল্লাহর কাছে ফিরে আসেন; তাহলে ফিলিস্থিনও আপনার কাছে ফিরে আসবে।’ (তথ্য : ‘ফিলিস্থিন কবে আমাদের কাছে ফিরে আসবে’ : পৃষ্ঠা ৭-৮)

শায়খ সাঈদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহ’র বক্তব্যের ব্যাখ্যা

অনেকে শায়খের এই কথা বুঝতে না পারলে, কুরআনের একটা আয়াত ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীসগুলোর অর্থ বুঝার চেষ্টা করুন। (তাতেই উত্তর পেয়ে যাবেন)- মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও নেক কাজ করে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্বে যারা ঈমানদার ছিল তাদেররকে আর তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে। যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না।” (সুরা আন-নূর : আয়াত ৫৫)

সুতরাং কুরআনের এ আয়াত থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে মুসলমানদেরকে (প্রথমে) ঈমান আনার পরে নেক আমল করতে হবে। যেখানে অধিকাংশ মানুষ-ই হচ্ছে বেনামাজি, সেখানে মুসলমানরা যে আসলেই কতটুকু মুসলমান, সেটাই প্রশ্নসাপেক্ষ একটি ব্যপার।

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে (ব্যবসা নাম দিয়ে কৌশলে সুদ খাওয়ার একটা পদ্ধতি) কেনা-বেচা করবে, গরুর লেজ আকড়ে থাকবে (অর্থাৎ পশু পালনে বেশি মনোযোগী হয়ে যাবে), কৃষিকাজ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ পরিত্যাগ করবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর অপমানের বোঝা চাপিয়ে দেবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের ‘দ্বীনে’ প্রত্যাবর্তন করবে (ফিরে না আসবে), ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের উপর থেকে সেই অপমান উঠিয়ে নেওয়া হবে না।’ হাদিসটি সহিহ, সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহাহ : ১১)

সুতরাং, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, বর্তমানে মুসলমানদের এই দুরবস্থা ও অপমানজনক অবস্থা থেকে বের হতে হলে তাদেরকে (অবশ্যই সঠিক) ‘দ্বীনে’ ফিরে আসতে হবে। প্রত্যেকটা মুসলমানকে নিজেকে বিচার করতে হবে। নিজের পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে, তাওবাহ করে, সংশোধন হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য দোয়া করতে হবে, এবং সেই লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে।

মুসলমানেরা যদি সঠিক ঈমান-আক্বীদাহ নিয়ে, নেক আমল করে, আল্লাহর প্রতি আনুগত হয়, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে পূর্বে যেই রকম সাহায্য ও বিজয় দান করেছিলেন, আমাদেরকেও (এখনও) তিনি অনুরূপ সাহায্য ও বিজয় দান করবেন। ইনশা আল্লাহ।

কুরআন-সুন্নাহর বাস্তবায়নেই মুসলিম উম্মাহ ফিরে পাবে মজলুম জনপদ, অসংখ্য নবি-রাসুলের স্মৃতি বিজড়িত নগরী জেরুজালেম, পূণ্যভূমি ও দেশ (শামদেশ) ফিলিস্তিন এবং বায়তুল মুকাদ্দাস।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। স্বাধীন ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমিন

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শিক্ষার্থী লালবাগ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

ফিলিস্তিন কবে আমাদের কাছে ফিরে আসবে (আরবি বই থেকে তত্ত্ব সংগ্রহ

12/10/2023

জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ আল আকসা, আল-কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ..!

কেননা এটি মক্কা ও মদিনার পরে সবচেয়ে পবিত্রতম স্থাপনা। (সহিহ বুখারি: ১১১৫) এছাড়াও প্রিয়নবী (স.) ওহি লাভ ও নবুয়ত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসই মুসলমানদের কিবলা ছিল। (সুরা বাকারা: ১৪২-১৫১)

হাদিসের ভাষ্যমতে, আল আকসা পৃথিবীর দ্বিতীয় পুরনো মসজিদ। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজি (স.)-কে প্রশ্ন করলাম—হে আল্লাহর রাসুল (স.)! দুনিয়াতে কোন মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন, মসজিদুল হারাম। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর হলো মসজিদুল আকসা। অতঃপর আমি জানতে চাইলাম যে, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বললেন চল্লিশ বছরের। (সহিহ বুখারি: ৩১১৫)

বায়তুল মুকাদ্দাস মেরাজের ভূমি হিসেবেই পরিচিত। কেননা মহানবী (স.) বায়তুল মুকাদ্দাস থেকেই মেরাজে গমন করেছিলেন। (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

ইহুদি-খ্রিস্টানদের কাছেও আল-আকসা সম্মানিত। ইহুদিদের কাছে এটি পবিত্র ভূমিখ্যাত ‘টেম্পল মাউন্ট’ বা ‘ঈশ্বরের ঘর’। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এখানেই ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল যিশুকে। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর শহর জেরুজালেম।

তবে মনীষীদের মতে, মসজিদে আকসার অধিকার শুধুই মুসলমানদের। কেননা আল-আকসা মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত আদম (আ.), ইয়াকুব (আ.), সুলায়মান (আ.) এর নাম। জড়িয়ে আছে প্রায় অর্ধ জাহানের মুসলিম শাসক হজরত ওমর (রা) এবং এরপর দ্যা গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবিসহ অসংখ্য বীরের নাম।

উল্লেখিত কেউ ইহুদিদের পূর্বপুরুষ ছিলেন না। এমনকি হজরত সুলায়মান (আ.)-ও ইহুদিদের সরাসরি নবী ছিলেন না। তাই ‘জেরুজালেম ইহুদিদের ভূমি’ সংক্রান্ত ইসরাইলি দাবি সম্পূর্ণ অর্থহীন। বরং মুসলমানরাই সুলায়মান (আ.)-এর যথার্থ উত্তরাধিকারী। কেননা ইসলাম সকল নবীর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছে। তাছাড়া মুসা (আ.)-এর ওপর তুর পাহাড়ে তাওরাত নাজিল হলেও তিনি ফিলিস্তিনে বাস করেননি এবং ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তা সম্ভবও হয়নি। এছাড়াও মহানবী (স.) বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে মেরাজে গমন করার কারণে তা চূড়ান্তভাবে ইসলামেরই পবিত্র স্থান ও পুণ্যভূমি।

আল আকসা নির্মাণের ইতিহাস
হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হজরত ইয়াকুব (আ.) আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর সুলায়মান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনর্নির্মাণ করেন। (জাদুল মাআদ: ১/৫০)

আল কুদস কমিটি প্রকাশিত বিভিন্ন নিবন্ধ থেকে জানা যায়, ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধীনে আসে।

১০৯৯ সালের ১৫ জুলাই খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা নামধারী মুসলিম শাসকদের সহায়তায় সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে। এরপর তারা ১০৯৯ সালের ৭ জুন বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে।

১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ ফাতেমি খেলাফতের কেন্দ্রীয় খলিফার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ) গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসরে আগমন করেন। এরপর ১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন।

আল আকসা সংস্কারের ইতিহাস
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগে মসজিদটি পুনর্নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সংস্কার ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পুত্র খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে শেষ হয়। ৭৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ভূমিকম্পে মসজিদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে তার উত্তরসূরি আল মাহদি এর পুনর্নির্মাণ করেন। ১০৩৩ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতেমীয় খলিফা আলি জাহির পুনরায় মসজিদটি নির্মাণ করেন যা বর্তমান অবধি টিকে রয়েছে।

বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদটিতে অতিরিক্ত অংশ যোগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গম্বুজ, আঙ্গিনা, মিম্বর, মিহরাব, অভ্যন্তরীণ কাঠামো। বর্তমানে জেরুজালেম দখলদার ইসরায়েলিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মসজিদটি রয়েছে জর্ডা‌নি/ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে।

আল-আকসার সঙ্গে অন্যান্য স্থাপনার পরিচয়
মসজিদে আকসার সঙ্গে অবস্থিত স্থাপনাগুলোও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কুব্বাতুস সাখরা, কুব্বাতুস সিলসিলা ও কুব্বাতুন নবী। কুব্বাতুস সাখরাকে অনেকেই ভুলবশত মাসজিদুল আকসা মনে করে থাকেন। এটি আল আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডে অবস্থিত একটি গম্বুজ। এ গম্বুজটির নিচে রয়েছে ‘সাখরা’ নামক একটি পাথর। কুব্বাতুস সাখরা উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের আদেশে ৬৮৯ থেকে ৬৯১ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়।

জানা যায়, ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে নেওয়ার পর কুব্বাতুস সাখরা অগাস্টিনিয়ানদের দিয়ে দেওয়া হয়। তারা এটিকে গির্জায় রূপান্তর করে এবং আল-আকসা মসজিদকে রাজকীয় প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। নাইটস টেম্পলাররা কুব্বাতুস সাখরার স্থানটিকে সুলায়মান (আ.) নির্মিত স্থাপনা বলে বিশ্বাস করত। তবে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, মাসজিদুল আকসার ইবাদতের স্থানটিই নবী সুলায়মান (আ.) তৈরি করেছিলেন যা সময়ের ব্যবধানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

কুব্বাতুস সাখরার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি গম্বুজের নাম কুব্বাতুস সিলসিলা। এটি হারাম আশ শরিফের অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা। এটিও মসজিদ নয়। তবে এটিকে মুসল্লা বা সালাতের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উমাইয়া শাসনামলে এটি নির্মাণ করা হয়। ক্রুসেডারদের সময় এটি একটি খ্রিষ্টান চ্যাপল হিসেবে ব্যবহার করা হত। সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবি (রহ) পুনরায় এটিকে সালাতের স্থানে রূপান্তর করেন। পরবর্তীতে মামলুক, উসমানীয় ও ফিলিস্তিন ভিত্তিক ওয়াকফ এই স্থাপনার সংস্কার করে।

কুব্বাতুন নবী হারাম আশ শরিফে অবস্থিত একটি গম্বুজ। এটি উসমানীয় আমলে নির্মিত হয়। ১৫৩৮ সালে জেরুজালেমের উসমানীয় গভর্নর মুহাম্মদ বে এই গম্বুজ নির্মাণ করেন। ১৬২০ সালে তৎকালীন গভর্নর ফারুক বে তা পুনরায় সংস্কার করেন। কুব্বাতুন নবী স্থাপনাটি অষ্টভুজাকার এবং এর আটটি স্তম্ভ ধূসর মার্বেলে নির্মিত। এটি প্রিয়নবী (স.)-এর স্মরণে নির্মিত হয়েছে। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ)সহ বেশকিছু গবেষকদের মতে, এই স্থানে প্রিয়নবী (স.) অন্যান্য নবী ও ফেরেশতাদের নিয়ে মেরাজের রাতে সালাত আদায় করেছিলেন।

ইবনে তাইমিয়ার মতে, সুলায়মান (আ.)-এর তৈরি স্থাপনার সম্পূর্ণ স্থানটির নামই হল আল মসজিদুল আকসা। এই মসজিদ নির্মাণের পর থেকে ঈসা (আ.)-সহ অনেক নবীর দ্বারা আল্লাহর ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। হিজরতের পর বায়তুল্লাহ নতুন কিবলা হয়।

নবী-রাসুলদের স্মৃতি বিজড়িত আল-আকসা
ঐতিহাসিক এ স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে মুসলমানদের নানা স্মৃতি। এখানেই শুয়ে আছেন হজরত ইবরাহিম ও মুসা (আ.)-সহ অসংখ্য নবী-রাসুল। এখানেই মহানবী (স.) সব নবী-রাসুল এবং ফেরেশতাদের নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন স্বয়ং নবীজি (স.)। এখান থেকেই তিনি বোরাকে করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্ব-যাত্রা করছিলেন। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭০ জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে এ মসজিদের কথা। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিককে আমি বরকতময় করেছি, যেন তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

মসজিদে আকসায় নামাজের ফজিলত
বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। বলেন, ‘মসজিদে হারামে এক নামাজ এক লাখ নামাজের সমান, আমার মসজিদে (মসজিদে নববি) এক নামাজ এক হাজার নামাজের সমান এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে এক নামাজ ৫০০ নামাজের সমান।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৪/১১)

উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদে হারামে হজ কিংবা ওমরা পালনে গমন করবে তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে কিংবা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৭৯)

মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (স.)-কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে কিছু বলুন!’ রাসুল (স.) বললেন, ‘বায়তুল মুকাদ্দাস হলো হাশরের ময়দান। পুনরুত্থানের জায়গা। তোমরা তাতে গিয়ে সালাত আদায় করো। কেননা, তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায়ের সওয়ার পাওয়া যায়..।” (মুসনাদে আহমদ: ২৬৩৪৩)

হজরত সুলায়মান (আ.) যখন এই মসজিদ নির্মাণ শেষ করেছিলেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি কেবলমাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই ওই মসজিদে উপস্থিত হবে, সে ব্যক্তি যেন ওই দিনকার মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। (নাসায়ি: ৬৬৯, ইবনে মাজাহ: ১৪০৮)

মসজিদে আকসা নিয়ে ইহুদিদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড
ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত কৌশলগত হওয়ায় এ স্থান দখলের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে ইহুদি-খ্রিস্টানরা। পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানের সঙ্গে তাদের ধর্মের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এটি আয়ত্তের জন্য ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করে হলেও তা অধিকারের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে।

বর্তমানে ইহুদিবাদি ইসরাইল ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দখল করে রেখেছে। ১৯৬৯ সালে তারা একবার আল আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগও করেছিল। বর্তমানে এ মসজিদে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। ইসরাইলের মুসলিম বাসিন্দা এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা মসজিদুল আকসায় প্রবেশ ও নামাজ আদায় করতে পারে। আবার অনেক সময় বাঁধাও দেওয়া হয়।

এই বিধি-নিষেধের মাত্রা সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা হয়। কখনো শুধু জুমার সালাতের সময় বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। ইসরাইল সরকার দাবি করে- নিরাপত্তার কারণে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়।

জাতিসংঘের ভুল সিদ্ধান্ত
১৯১৭ সালে জেরুজালেম ব্রিটেনের দখলে চলে যাওয়ার সময় এখানে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। শুরু হয় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে ইহুদিদের এনে ফিলিস্তিনে অভিবাসনের প্রক্রিয়া। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইহুদিরা ফিলিস্তিনে দখলদার ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ মদদে জায়গা কিনে বসতি স্থাপন করতে থাকে এবং ১০ শতাংশ জমির মালিক হয়ে যায়। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। আর ব্রিটেন ব্যাপারটি কৌশলে জাতিসংঘে নিয়ে যায়। জাতিসংঘ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ১০ শতাংশ জমির মালিকদের জন্য গোটা ফিলিস্তিনের অর্ধেকেরও বেশি ভূমি বরাদ্দ করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।

জাতিসংঘ ইহুদিদের শুধু ফিলিস্তিনিদের জায়গা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। মুসলিম-বিরোধী ভয়ংকর এক নির্দেশনা দেয়। মুসলমানদের নিরঙ্কুশ মালিকানায় থাকা আল আকসাসহ জেরুজালেমের অধিকার ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কাউকেই না দিয়ে এর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এতে ইসরায়েল খুবই খুশি হয়। কারণ, তা তো মূলত মুসলমানদের জায়গা। আপাতত আল আকসা ও জেরুজালেমের প্রকৃত মালিকদের নিরঙ্কুশ মালিকানার বিষয়টি প্রতিহত করা গেল। তবে এ ঘোষণার সময় জাতিসংঘের আইনে আল আকসা ও জেরুজালেমের মালিকানা এককভাবে ফিলিস্তিনিদের হাতে না থাকলেও তার বাস্তব নিয়ন্ত্রণ এককভাবে মুসলমানদের হাতেই ছিল। আল আকসায় কোনো ইহুদি প্রবেশ করতে পারত না। তা ছিল শুধুই মুসলমানদের। কিন্তু ইতিহাসে ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ নামে খ্যাত ১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল, মিসর, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে ইসরায়েল বিজয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো জেরুজালেমে বাস্তব নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করে ইসরায়েল। পুরো আল আকসার একাংশকে তাদের ধর্মের পবিত্র স্থান ঘোষণা করে।

ইহুদিদের আইন-লঙ্ঘন
জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও আইন লঙ্ঘন করেই জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রই জেরুজালেমে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দেয়নি। সব রাষ্ট্রই এর বিরোধিতা করে আসছে। এমনকি জেরুজালেমের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে চলে গেলেও এখনো মসজিদে আকসার সার্বিক পরিচালনা ফিলিস্তিনের নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামি ওয়াকফের’ তত্ত্বাবধানেই রয়েছে।

জাতিসংঘ যখন দেখল যে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্রমেই আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ করছে, তখন তারাও তাদের কৌশল পাল্টে ফেলে। জেরুজালেমে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে জাতিসংঘ। জেরুজালেম ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণার ব্যাপারটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাব দ্বারা বাতিল করা হয়। অন্যদিকে আল আকসায় ইহুদিদের ‘পবিত্র স্থান’ ঘোষণাকে নাকচ করে মুসলমানদের নিরঙ্কুশ মালিকানার কথা ঘোষণা করে।

আল-আকসায় ইহুদিদের অধিকার নেই বলে ইউনেসকোর ঘোষণা
২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো তাদের ভোটাভুটির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে মসজিদে আকসা কেবলই মুসলমানদের। এতে ইসরায়েলের কোনো অধিকার নেই। কিন্তু ইহুদিদের অধিকার না থাকার পরও তারা যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, ইউনেস্কো তারও প্রতিবাদ জানায়। সুতরাং আল আকসা ও জেরুজালেম সব আইনের ভিত্তিতেই শুধু মুসলমানদের; অন্যকারো নয়।

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শিক্ষার্থী লালবাগ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

11/10/2023

শিশুর শিক্ষায় ইসলামের নির্দেশ..

আদর্শ পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শিশুকাল থেকেই নিজ নিজ সন্তানদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার বিকল্প নেই। নবিজী বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের সন্তানদের স্নেহ কর এবং তাদের আদর্শ শিক্ষায় গড়ে তোলো।
আজ যারা শিশু আগামী দিনে তারাই যুবক। সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে তারাই দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। তারাই হবে সুশোভিত ও গৌরবময় ভবিষ্যতের পথনির্দেশক। প্রত্যেক শিশুর মাঝেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের সুন্দর পৃথিবী। আল্লাহ তাআলা বলেন,
🌟 اَلۡمَالُ وَالۡبَنُوۡنَ زِیۡنَۃُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ

“ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা”
—(সুরা কাহফ : আয়াত ৪৬)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের মহৎ করে গড়ে তোলো এবং তাদের উত্তম আদব তথা শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।’ (মুসলিম)
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘ ‘সন্তানদের আদব তথা শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া সম্পদ দান করা অপেক্ষা উত্তম।’ (বায়হাকি)

ইসলামের বিধান হলো, কোনো পিতাই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের উপার্জনের জন্য বাধ্য করতে পারবেন না। তিনি উপার্জন করতে পারলে করবেন, নতুবা ঋণ করে তাদের খরচের ব্যবস্থা করবেন, যেন তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেও শিক্ষা চলাকালে পিতাই তাদের খরচ চালিয়ে যাবেন।’ (ফাতাওয়া আলমগীরী, রদ্দুল মুহতার)

শিশুদের আদর্শ শিক্ষার ব্যাপারে ইসলামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে। কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ শিক্ষার গুরুত্ব দিয়ে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল করেন। যার প্রথম ঘোষণাই ছিল- اقرا ইকরা; পড়ুন। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি কল্পনা করা যায় না
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তথা দুনিয়া ও পরকালের সফলতায় পৌঁছার অন্যতম উপায় হচ্ছে আদর্শ জাতিগঠন ও উত্তম শিক্ষাগ্রহণ। ইসলাম শিশুকাল থেকেই এ শিক্ষা গ্রহণেরই দিকনির্দেশনা দেয়। জাগতিক ও পরকালীন জীবনের সফলতার জন্য শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সুশিক্ষায়িই হতে পারে মুক্তির একমাত্র উপায়। শিশুরা ছোট বয়সে কোরআন-সুন্নাহর ‍উন্নত শিক্ষা পেলে স্বার্থক হবে দুনিয়া ও পরকালীন জীবন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে নিজ নিজ সন্তানদের শিশু বয়স থেকে ইসলামি শিক্ষায় গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শিক্ষার্থী লালবাগ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

Want your business to be the top-listed Government Service in Mymensingh?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


রাজিয়া খাতুন ইসলামী পাঠাগার
Mymensingh
2290

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 10:00 - 17:00
Wednesday 10:00 - 17:00
Thursday 10:00 - 20:00
Friday 14:00 - 18:00
Saturday 10:00 - 17:00
Sunday 10:00 - 17:00