15/05/2026
ইসলামের বিজয়ের জন্য জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে : মাওলানা এটিএম মা'ছুম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা'ছুম বলেছেন, ইসলামের বিজয় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, আদর্শিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছে, এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করছে, যা অতীতের স্বৈরাচারী শাসনকেও হার মানিয়েছে। সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে, যার পরিণতি শুভ হবে না।”
আজ জুম'আ বার (১৫ মে) চান্দগাঁও থানা আয়োজিত রুকন শিক্ষা শিবির থানা আমীর মোহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “একটি আদর্শ সমাজ গঠনে রুকনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শ তুলে ধরতে হবে। বর্তমান সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তাকওয়া, জনসম্পৃক্ততা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদেরকে সময়োপযোগী নেতৃত্বে পরিণত করতে হবে।”
নির্ধারিত বিষয়ের উপর আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে আদর্শিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।”
এছাড়া শিক্ষা শিবিরে আরো আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন।
শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সরকার, থানা সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ ওমর গনি।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক, গাজী মো. ইসমাইল, আবদুল কাদের পাটোয়ারী, ড. জাকির হোসেন হাওলাদার, অধ্যাপক মো. ইসমাইলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
14/05/2026
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এমপি'র সঙ্গে ইইউ-এর মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আজ ১৪ মে বৃহস্পতিবার, বেলা ১২:০০টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি'র সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর এ্যাম্বাসেডর মি. মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউন।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়কালে তারা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী গণতন্ত্রকে অর্থবহ করা এবং সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি এবং এপিএস জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
হ
06/05/2026
জাপানের হিরোশিমা শহরে পিস পার্ক ও পিস মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা
আজ ৬ মে, বুধবার, জাপানের হিরোশিমা শহরে অবস্থিত পিস পার্ক ও পিস মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর তিন দিন পর, ৯ আগস্ট, নাগাসাকি শহরের ওপর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের আরেকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
অনুমান করা হয়, ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণের ফলে হিরোশিমায় প্রায় ১,৪০,০০০ মানুষ এবং নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। পরবর্তীতে এই দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও প্রায় ২,১৪,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
এখন ২০২৬ সাল। আজও হিরোশিমা শহর সেই বেদনাদায়ক ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে ভবনটির ওপর বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তার ভগ্নাবশেষ আজও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
পরিদর্শনকালে হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক ও সেখানে গবেষণারত প্রবাসী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি, এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, এমপি, উপস্থিত ছিলেন।
05/05/2026
৫ই মে কালো রাত। ২০১৩ সালের এই দিনে সারাদেশ থেকে আগত হেফাজতে ইসলামের নিরীহ লাখো আলেম-ওলামার উপর রাতের আঁধারে ঝাপিয়ে পড়ে শাসক দলের যান্ত্রিক আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। চালানো হয় কাপুরুষিত এক পৈশাচিকতা।
05/05/2026
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বিকেল ৩:৩০ মিনিটে মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।ো
05/05/2026
জাপানের নাগোয়া শহরে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাব : ডা. শফিকুর রহমান এমপি
জাপানের বৃহত্তর নাগোয়া শহরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি-কে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
৫ই মে, মঙ্গলবার জাপানের "সিবুকাওয়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে" বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে এই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. মাজেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রোগ্রাম উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র আল-কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।
নাগোয়া শহরসহ বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়। আয়োজক ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ উপস্থিত অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এমপি সর্বপ্রথম উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৫ জনসহ বিএনপির আরও একজন নেতা তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। সুযোগ থাকার পরও তাঁরা অন্যায়ের পক্ষে বা ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেননি। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়ে আসলে বাংলাদেশকেই সম্মানিত করেছেন। প্রবাসে থেকেও আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আবার ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।" সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারাবন্দী ৩৯ জন প্রবাসী ভাইয়ের মুক্তির বিষয়ে তিনি প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের অন্যান্য দাবি-দাওয়া নিয়েও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে গণভোট ব্যর্থ হয়েছে, সুতরাং বাংলাদেশেও গণভোট ব্যর্থ হবে না। দেশের প্রায় ৭০% মানুষ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়ে নিজেদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা মানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অপমান করা। বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন। এ সময় "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" শ্লোগানে অনুষ্ঠানের হল মুখরিত হয়ে ওঠে।
জাপানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। জাপানের আদলে একটি নৈতিক, শিক্ষিত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী রাষ্ট্র গড়তে তিনি কাজ করে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শুধু জাপান নয়, বিশ্বের সকল বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে একযোগে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি তার কাজ অব্যাহত রাখবেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ একদিন একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে, যেদিন দেশে কোনো গুম, খুন থাকবে না, থাকবে না দারিদ্র্য কিংবা দুর্নীতি। এজন্য তিনি তরুণ সমাজকে কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি এবং বাজার সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতির এই দুর্ভোগ কমাতে সরকারকে সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। সকল চাঁদাবাজদের শেকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
উপস্থিত সকলকে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর দ্বীন মেনে চলা অপরিহার্য। একটি সমাজে যতদিন আল্লাহর ভয় প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন দেশের গুম, খুন ও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
সর্বশেষ তিনি সকলকে দেশের জন্য দো'য়া করতে বলেন এবং বিরোধী দলের যেকোনো ভুল নির্দ্বিধায় ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ভুল হলে জানালে তিনি নিজেদের সংশোধন করে নেবেন। একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য বিরোধী দল হিসেবে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, এমপি।
জনাব সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে হারিয়েছে। জাতিসংঘের রেফারেন্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এত মানুষের ত্যাগের পরও এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হয় তাহলে জনগণ কখনো আমাদের ক্ষমা করবেন না। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর বিগত ফ্যাসিবাদের সময়কার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না হয় সেজন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, ৭০% জনগণ যে গণভোটের রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, প্রয়োজনে জান দেবেন, কিন্তু শহীদ ওসমান হাদীসহ হাজারো শহীদের জুলাইকে বৃথা যেতে দেবেন না। গণভোটের একটি দাড়ি-কমাও ছাড় দেওয়া হবে না। ক্ষমতাসীনরা যদি জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাহলে তাদেরকেও রাজপথে মোকাবেলা করা হবে। তিনি ঘোষণা করেন- হয় জন্মভূমি, নয়তো মৃত্যু। জুলাইয়ের মতো আবারও সকল প্রবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক সংবর্ধনার পাশাপাশি ইসলামিক মিশন জাপানের উদ্যোগে একটি পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও উপস্থিত শিশুদের জন্য ছিল ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
পুরো অনুষ্ঠানটি ইসলামিক মিশন জাপান, নাগোয়া শাখার তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। সবশেষ ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তিনি নাগোয়াবাসীকে সুন্দর এই আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশী কম্যুনিটির জন্য ইসলামিক মিশন জাপানের সহায়তা সবসময় অবারিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
28/04/2026
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার, দুপুর ২ টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি'র সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান ইভারস আইজবস এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিস বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার মিস ইন্টা লেইস, লিগাল এনালিস্ট মিস ইরিনি মারিয়া গোওনারি এবং রায়ান ইসলাম।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতেই মি. ইভারস আইজবস মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। এসময় বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানকে হস্তান্তর করা হয়।
সফররত ইইউ মিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতার কাছে সর্বশেষ তথ্য জানতে চান।
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তীতে এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে। এই পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।
বিরোধীদলীয় নেতা তার আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্য আক্রমণর শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সফররত ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের সদস্যগণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশমালা সম্পর্কেও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন।
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।
28/04/2026
ফরিদপুরে এক যুবক কর্তৃক তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা এবং সারা দেশে বজ্রপাত ও সড়ক দুর্ঘটনায় নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, দুঃখ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোটেক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফরিদপুরে সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নে এক যুবকের কোদালের কোপে নিজের দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশী নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক ও ভয়ংকর। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। হত্যার সাথে জড়িত যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক, নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নিহতের ঘটনা ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক। সারা দেশে সড়কে প্রাণহানির ঘটনাগুলো সড়কে অব্যবস্থাপনার চিত্রকে তুলে ধরছে। সরকারকে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি রোধে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষাসহ অবৈধ যানচলাচ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রত্যেকটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, মৌসুমি ঝড় ও আকস্মিক বজ্রপাতে নোয়াখালীর তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের চৌফলদন্ডী ব্রিজ এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন, যা খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত, শোকাহত এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের উত্তম মর্যাদা কামনা করছি।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিনে বজ্রপাতে দেশে বেশকিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এজন্য বৈরি আবহাওয়ার সময় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বৈরি পরিবেশে যথাযথ ব্যবস্থাসহ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সরকারের উদ্যোগে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা, বিশেষত বিস্তীর্ণ কৃষি কর্মক্ষেত্রে বজ্রপাত নিরোধক লাইটনিং এরেস্টার স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডে এসব মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এজন্য পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।