কবিতাবলী

কবিতাবলী

Share

কবিতা পড়ুন। আলোকিত হোন। আপন আলোয় ভু?

15/02/2025
09/02/2017

তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো
‘এই আকাশ আমার’
কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা।

সন্ধ্যেবেলা ক্যামেলিয়া হাতে নিয়ে বলতেই পারো,
‘ফুল তুই আমার’
তবু ফুল থাকবে নীরব নিজের সৌরভে আচ্ছন্ন হয়ে।

জ্যোত্স্না লুটিয়ে পড়লে তোমার ঘরে,
তোমার বলার অধিকার আছে, ‘এ জ্যোত্স্না আমার’
কিন্তু চাঁদিনী থাকবে নিরুত্তর।

মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে
যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’, কী করে থাকবো নির্বাক?
তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।
---------------------------------
উত্তর-/-শামসুর রাহমান

Photos 30/01/2017
24/06/2016

"প্রতিদান"
___জসীম উদ্দিন
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে
করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে
মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকে আঘাত করিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান,
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে
করেছে পর।
মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক
ভরি
রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ানো ফুল মালঞ্চ ধরি।
যে মুখে কহে সে নিঠুরিয়া বাণী,
আমি লয়ে করে তারি মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত কীযে আনি সাজাই নিরন্তর-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে
করেছে পর।

17/06/2016

" হায় চিল "
– জীবনানন্দ দাশ
হায় চিল, সোনালি ডানার চিল,
এই ভিজে মেঘের দুপুরে তুমি আর
কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে
ধানসিড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের
ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে
আসে!
পৃথিবীর রাঙ্গা রাজকন্যাদের
মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে
দূরে; আবার তাহারে কেন ডেকে
আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা
জাগাতে ভালোবাসে !
হায় চিল, সোনালি ডানার চিল,
এই ভিজে মেঘের দুপুরে তুমি, আর
উড়ে-উড়ে কেঁদো নাকো
ধানসিড়ি নদীটির পাশে।

17/06/2016

" নিজের কানে কানে "
___ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এক এক সময় মনে হয়, বেঁচে থেকে আর
লাভ নেই
এক এক সময় মনে হয়
পৃথিবীটাকে দেখে যাবো শেষ
পর্যন্ত!
এক এক সময় মানুষের ওপর রেগে উঠি
অথচ ভালোবাসা তো কারুকে
দিতে হবে
জন্তু-জানোয়ার গাছপালাদের
আমি ওসব
দিতে পারি না
এক এক সময় ইচ্ছে হয়
সব কিছু ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে
ফেলি
আবার কোনো কোনো বিরল মুহূর্তে
ইচ্ছে হয় কিছু এককটা তৈরি করে
গেলে মন্দ হয় না।
হঠাৎ কখনো দেখতে পাই সহস্র চোখ
মেলে
তাকিয়ে আছে সুন্দর
কেউ যেন ডেকে বলছে, এসো এসো,
কতক্ষণ ধরে বসে আমি তোমার জন্য
মনে পড়ে বন্ধুদের মুখ, যারা শত্রুদের,
যারাও হয়তো কখনো
আবার বন্ধু হবে
নদীর বিনারে গিয়ে মনে পড়ে
নদীর চেয়েও উত্তাল সুগভীর
নারীকে
সন্ধের আকাশ কী অকপট, বাতাসে
কোনো মিথ্যে নেই,
তখন খুব আস্তে, ফিসফিস করে, প্রায়
নিজেরই কানে-কানে বলি,
একটা মানুষ জন্ম পাওয়া গেল,
নেহাৎ অ-জটিল কাটলো না!

17/06/2016

" শাঁখা"
___নির্মলেন্দু গুণ
আমি তোমাকে শাঁখা দিতে
চাইলাম,
তুমি চাইলে অর্থহীন সোনার
কাঁকন।
আমি তোমাকে সংসার দিতে
চাইলাম,
তুমি চাইলে সুসজ্জিত স্তব্ধ অবকাশ।
আমি তোমাকে সন্তান দিতে
চাইলাম,
তুমি চাইলে বাস্তবের বিদীর্ণ
পলাশ।
আমি তোমাকে স্বপ্ন দিতে
চাইলাম,
তুমি ঘুমের ওষুধ কিনে নিলে।
June 16 at 4:14pm · Public

17/06/2016

রাহুর প্রেম
_রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুনেছি আমারে ভালো ই লাগে না
,
নাই-বা লাগিল তোর ,
কঠিন বাঁধনে চরণ বেড়িয়া
চিরকাল তোরে রব আঁকড়িয়া
লৌহশৃঙ্খলের ডোর ।
তুই তো আমার বন্দী অভাগিনী
বাঁধিয়াছি কারাগারে ,
প্রাণের শৃঙ্খল দিয়েছি প্রাণেতে
দেখি কে খুলিতে পারে ।
জগৎ-মাঝারে যেথায় বেড়াবি ,
যেথায় বসিবি , যেথায় দাঁড়াবি ,
কি বসন্ত শীতে দিবসে নিশীথে
সাথে সাথে তোর থাকিবে
বাজিতে
এ পাষাণ প্রাণ অনন্ত শৃঙ্খল
চরণ জড়ায়ে ধ'রে ।
এক বার তোরে দেখেছি যখন
কেমনে এড়াবি মোরে ।
চাও নাই চাও , ডাক নাই ডাক ,
কাছেতে আমার থাক নাই থাক ,
যাব সাথে সাথে , রব পায় পায় ,
রব গায় গায় মিশি —
এ বিষাদ ঘোর , এ আঁধার মুখ ,
হতাশ নিশ্বাস , এই ভাঙা বুক ,
ভাঙা বাদ্য-সম বাজিবে কেবল
সাথে সাথে দিবানিশি ।
অনন্ত কালের সঙ্গী আমি তোর
আমি যে রে তোর ছায়া —
কিবা সে রোদনে কিবা সে
হাসিতে
দেখিতে পাইবি কখনো পাশেতে ,
কখনো সমুখে কখনো পশ্চাতে ,
আমার আঁধার কায়া ।
গভীর নিশীথে একাকী যখন
বসিয়া মলিন প্রাণে ,
চমকি উঠিয়া দেখিবি তরাসে
আমিও রয়েছি বসে তোর পাশে
চেয়ে তোর মুখপানে ।
যে দিকেই তুই ফিরাবি বয়ান
সেই দিকে আমি ফিরাব নয়ান ,
যে দিকে চাহিবি আকাশে আমার
আঁধার মুরতি আঁকা ।
সকলি পড়িবে আমার আড়ালে ,
জগৎ পড়িবে ঢাকা ।
দুঃস্বপ্নের মতো , দুর্ভাবনাসম ,
তোমারে রহিব ঘিরে —
দিবস-রজনী এ মুখ দেখিব
তোমার নয়ননীরে ।
বিশীর্ণকঙ্কাল চিরভিক্ষাসম
দাঁড়ায়ে সম্মুখে তোর
‘ দাও দাও ' বলে কেবলি ডাকিব
ফেলিব নয়নলোর ।
কেবলি সাধিব , কেবলি কাঁদিব ,
কেবলি ফেলিব শ্বাস —
কানের কাছেতে প্রাণের
কাছেতে
করিব রে হা-হুতাশ ।
মোর এক নাম কেবলি বসিয়া
জপিব কানেতে তব ,
কাঁটার মতন দিবস রজনী
পায়েতে বিঁধিয়ে রব ।
পূর্বজনমের অভিশাপ-সম
রব আমি কাছে কাছে ,
ভাবী জনমের অদৃষ্টের মতো
বেড়াইব পাছে পাছে ।
ঢালিয়া আমার প্রাণের আঁধার
বেড়িয়া রাখিব তোর চারি ধার
নিশীথ রচনা করি ।
কাছেতে দাঁড়ায়ে প্রেতের মতন
শুধু দুটি প্রাণী করিব যাপন
অনন্ত সে বিভাবরী ।
যেন রে অকূল সাগর-মাঝারে
ডুবেছে জগৎ-তরী —
তারি মাঝে শুধু মোরা দুটি প্রাণী
রয়েছি জড়ায়ে তোর বাহুখানি ,
যুঝিস ছাড়াতে , ছাড়িব না তবু
সে মহাসমুদ্র- ' পরি ।
পলে পলে তোর দেহ হয় ক্ষীণ ,
পলে পলে তোর বাহু বলহীন ,
দুজনে অনন্তে ডুবি নিশিদিন —
তবু আছি তোরে ধরি ।
রোগের মতন বাঁধিব তোমারে
নিদারুণ আলিঙ্গনে —
মোর যাতনায় হইবি অধীর ,
আমারি অনলে দহিবে শরীর ,
অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর
কিছু না রহিবে মনে ।
গভীর নিশীথে জাগিয়া উঠিয়া
সহসা দেখিবি কাছে ,
আড়ষ্ট কঠিন মৃত দেহ মোর
তোর পাশে শুয়ে আছে ।
ঘুমাবি যখন স্বপন দেখিবি ,
কেবল দেখিবি মোরে ,
এই অনিমেষ তৃষাতুর আঁখি
চাহিয়া দেখিছে তোরে ।
নিশীথে বসিয়া থেকে থেকে তুই
শুনিবি আঁধারঘোরে ,
কোথা হতে এক কাতর উন্মাদ
ডাকে তোর নাম ধ'রে ।
সুবিজন পথে চলিতে চলিতে
সহসা সভয় গণি ,
সাঁঝের আঁধারে শুনিতে পাইবি
আমার হাসির ধ্বনি ।
হেরো অন্ধকার মরুময়ী নিশা —
আমার পরান হারায়েছে দিশা ,
অনন্ত এ ক্ষুধা অনন্ত এ তৃষা
করিতেছে হাহাকার ।
আজিকে যখন পেয়েছি রে তোরে
এ চিরযামিনী ছাড়িব কী করে ।
এ ঘোর পিপাসা যুগ-যুগান্তরে
মিটিবে কি কভু আর ।
বুকের ভিতরে ছুরির মতন ,
মনের মাঝারে বিষের মতন ,
রোগের মতন , শোকের মতন
রব আমি অনিবার ।
জীবনের পিছে মরণ দাঁড়ায়ে ,
আশার পশ্চাতে ভয় —
ডাকিনীর মতো রজনী ভ্রমিছে
চিরদিন ধরে দিবসের পিছে
সমস্ত ধরণীময় ।
যেথায় আলোক সেইখানে ছায়া
এই তো নিয়ম ভবে ,
ও রূপের কাছে চিরদিন তাই
এ ক্ষুধা জাগিয়া রবে!

17/06/2016

অলীক স্বপ্ন
__ রেদোয়ান মাসুদ
যতোটা না কাছের ছিলাম
তার চেয়ে অনেক বেশি দূরের হয়ে
গেলাম।
আপন ভেবেই কাছে টেনেছিলাম
আপন ভেবেই ঝিনুকের মত আগলে
রেখেছিলাম
বুকের মাঝে, অতল তলে।
জানা ছিল না জমে থাকা
ভালোবাসার মাঝে কখনও আবার
সূর্যের রশ্মি উকি দিবে,
আর গলে গলে ক্ষয়ে পড়বে
ঝর্ণার মত চোখের কনা দিয়ে।
শুধু জানা ছিল হৃদয়ের গভীরে
শীতল আবহনে জমে থাকা
ভালোবাসা কখনও বাষ্পে পরিণত হয়
না
যে বাষ্প হারিয়ে যায় বাতাসের
সাথে।
এতদিন যা দেখেছিলাম
সবই ছিল তন্দ্রার মধ্যে অলীক স্বপ্ন!
এখন ঘুম থেকে জেগে দেখলাম
আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই
আছি।
শুধু স্বপ্নে সবকিছু বুকে টেনে
নিয়েছিলাম
এখন আবার সেই দূরের হয়ে গেলাম।

17/06/2016

স্থির সত্য
– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বহুদিন আকাশ ভাসানো জ্যোৎস্নায়
হেঁটে যাইনি
নদীর কিনারায়
একটি ঘাসফুল ছিঁড়ে নিয়ে ছুঁড়ে
দেইনি স্রোতে
বহুদিন, বহুদিন-
তবু আমি জানি
এখনো কোনোদিন জ্যোৎস্নায়
ভেসে যায় আকাশ
আমার জন্য প্রতীক্ষা করে
নদীর কিনারার মাটি প্রতীক্ষা
করে আছে
আমার পদস্পর্শের
ঘাসফুলটি হাওয়ায় দুলছে প্রতীক্ষায়
আমি তাকে ছিঁড়ে নেব
জলস্রোত ছলচ্ছল শব্দে আমায় ডাক
পাঠাবে
এই সব স্থির সত্য নিয়ে বেঁচে আছি ।

24/05/2016

প্রতি স্মৃথিকথা
..........সৌরভ মাহমুদ্..........

খুব করে যারা ভুলে গেছে অামায়,
অামার তামাটে শরির অতিক্ষুদ্র হাতের স্পর্শ।
অামার গায়ের গন্ধ অার ভালবাসা।
শুষ্ক চুলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাউলা বাতাস,
মিথ্যা তথ্যের রঙ্গ তামাশা,
কর্কশ কন্ঠের তিব্র হাসির ঝর।
ভুলে গেছে যারা অামার ভূমির ফসল,
রোদ্রে চিকচিক করা অাবেগি জল,
হালাকা হাতের তিক্ত বিনাশি স্পর্শ,
অার মাঝেমাঝে কিছু না বলেই মুচকি হাসি।
অামার সঙ্গে যারা দৌড়ে বেরাতো পুরোটা জির্ণ পথে,
হৃদয়জুড়ে যারা করতো অনুভুতি বিস্তার,
যারা একসাথে বর্জন করতো অশ্লিলতা,
যারা জাগিয়ে তুলতো তুমুল শিল্পবোধ।
যারা একসাথে গড়ে তুলেছে মোহময় ব্যাবলিন।
অামাকে তারা ভুলে গেছে সময়ের সাথে,
অামি ভুলি না কারোর অবদান, কারোরই অভিশাপ,
কারো দৃষ্টি দৃষ্টিভঙ্গি কন্ঠ বাক্য অামি ভুলি নি।
অামি ভুলার সাধনা বর্জিত পুরুষের মতোই,
সবকিছু খুব অগোছালোভাবে মনে রাখি।
...............................................................
উৎসর্গঃ যারা অামায় ভুলে গিয়েছিল, ভুলে গেছে, ভুলে যাবে।

24/05/2016

বাসা
____ তসলিমা নাসরিন
তাকে ভেবে রাতের ঘুম না ঘুমোনোর কথা নয় আমার,
দিনের সমস্ত ব্যস্ততা উপেক্ষা করে
উদাস বসে থাকার আমার কথা নয়।
অন্য কোথাও সে তার মতো সুখে আছে; অন্য কোনোখানে,
এ খবর শুনেও যে কোনো কাজেই বড় অন্যমনস্ক হই,
তাকে চাই, সেই আগের মতো চাই,
অপেক্ষা করার কথা নয়, অথচ করি।
তার ছলাকলা, তার চতুর চোখ,
তার বহুগামি শরীর, তার অনর্গল মিথ্যে,
তার হৃদয়হীন নষ্ট জীবনের সঙ্গে জীবন--
আমি ছাড়া দীর্ঘদিন আর কেউ
যাপন করবে না বলে চাই।
আমার জীবন ছাড়া অন্য কোনও জীবন নিয়ে
শখের খেলাধুলার কোনো সুবিধে নেই বলে চাই,
ভালোবাসি বলে নয়।
ভালোবাসি বলে নয়,
জীবন খুব খালি খালি বলে নয়,
তাকে চাই, তাকে সুখ দিতে।
শেষ বিন্দু সহিষ্ণুতা ঢেলে তার আনন্দ চাই।
আমার যা কিছু আছে, সবটুকু তাকে দিয়ে,
তার কিছু না-দেওয়াটুকুই চাই।

Want your business to be the top-listed Government Service in Mymensingh?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


12/B, Jobed Ali Road, Kanchijuli
Mymensingh
2200