ট্রেনে উঠে বন্ধু শুধু বলেছিলো বাড়ি গফরগাঁও 🫣
ভিডিওঃ কালেক্টেড।
RadioGafargaon.com
নিজেকে শুধু বিশ্বাস করে দেখুন,
আপনি অবিশ্বাস্য সব কাজও
করে ফেলতে পারবেন।
আমাদের গফরগাঁও
15/01/2023
হুজুর যখন সুপারম্যান! বিশ্ব ইজতেমা ২০২৩ সাল।
ছাত্রলীগ করতাম বলে সে আমায় ছেড়ে চলে গেছিলো, এখন তার ছেলে আমার সাথে সেলফি তুলে ক্যাপশন দেয় "প্রিয় অভিভাবক!"😎
আমাদের মহল্লার হাসি-খুশি, সর্বদাই প্রাণবন্ত, অসম্ভব ভদ্র একটি মেয়ে শতাব্দী দত্ত। তার বাবা স্কুল শিক্ষক। সেও ভালো ছাত্রী । এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে খায়রুল্লাহ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগের পরিক্ষাথী ছিল। প্রত্যাশা ছিল জিপিএ-৫ পাবে। এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই এইচএসসির পড়াশোনা শুরু করে দেয়। রাস্তায় দেখা হলে বলতো আংকেল দোয়া করবেন। পড়াশোনার খবর জিঙ্গাসা করলে বলতো ইংরেজি ও সায়েন্সের চারটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়া শুরু করে দিয়েছি। আজ এসএসসি রেজাল্ট হলো । সে জিপিএ-৪.৮৭ পেলো । হয়ত কোন একটি বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। কিংবা পরীক্ষা অনুযায়ি রেজাল্ট হয়নি। জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রত্যাশার চাপ সে হয়তো সামলে উঠতে পারেনি। আত্মহননের পথ সে বেছে নেয়।
স্কুল ছাত্রী শতাব্দীকে শিখানো হয়নি জিপিএ-৫ পাওয়া ভালো, সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া আরও ভালো। কিন্তু ফল ভালো না হলে জিপিএ-৫ না পেলে যে সব খারাপ হয়ে যায় তা কিন্তু নয়। মোটেও নয়। এ জন্য ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের দরজা যে বন্ধ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়, মোটেও তা নয়।
তুমি যদি ঈদে শপিং করার বাজেট কম পেয়ে বাবার উপর মন খারাপ করে থাকো ; তাহলে তুমি এটা চিন্তা করবে যে তোমার বাবা তোমাকে কাপড় কেনার জন্য যত টাকা দিয়েছে তোমার বাবা নিজেকে এতটাও দেয়নি।
বাবার কাছ থেকে না পাওয়াটা একটা শিশু সুলোভ অভিমান কিন্তু বাবা হয়ে সন্তানকে দিতে না পারার দুঃখটা বড় একটা অভিশাপ। এটা তুমি যখন বাবা হবে তখন হয়তবা বুঝবে। আর যার বাবা নেই তার কথা নাই বললাম।
- Zunayed Evan
আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায়......
14/02/2022
ঘটনাটি ময়মনসিংহের ১৪ বছর আগের। হঠাৎ একদিন রওশনকে দেখে মুগ্ধ হন সোহেল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মেয়েটি হাঁটতে পারেন না। জানার পর সোহেলের মুগ্ধতা আরো বেড়ে যায় রওশনের প্রতি। শুরু হয় প্রেম। প্রেমের বিষয়টি জেনে স্বজনরা রওশনকে বলেছিল প্রেম শেষ হয়ে গেলেই পালিয়ে যাবে ছেলেটি। স্বজনদের এ ভাবনাটা যে অমূলক ছিল তা কিন্তু নয়। কারণ চারপাশে ঠুনকো বিষয়ে তারা শেষ হয়ে যেতে দেখেছে অনেক মজবুত সম্পর্কও। সেইসব অভিজ্ঞতা থেকেই রওশনকে সাবধান করেছিলেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বজনদের ভাবনার উল্টোটা ঘটেছে। প্রেমিকা রওশনকে বিয়ে করেছে সোহেল। ১৪ বছর ধরে তারা মুগ্ধতার সঙ্গে সংসার করছে।তাদের ঘরে এখন ফুটফুটে একটি মেয়ে। ১৪ বছর ধরে স্বামী সোহেলের পিঠের সঙ্গী রওশন। স্বামীই তার প্রধান বাহন। যেকোনো জায়গায় স্বামীর পিঠে উঠে চলে যায় রওশন। এ সমাজে বহু বুক ভরা ভালোবাসা নিশিষেই শেষ হতে দেখেছি আমরা। কিন্তু ১৪ বছর হলো পিঠ ভরা ভালোবাসায় ক্লান্ত হতে দেখিনি এক পুরুষকে। স্ত্রী হিসেবে রওশনের মতো ভাগ্যবান এবং স্বামী হিসেবে সোহেলের মতো ভরসার পুরুষ এ সমাজে এখন নেই বললেই চলে। আজীবন ভালো থাকুক ওরা
05/02/2022
গফরগাঁয়ের ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম এর জীবনী....
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের প্রাক্তন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসেম (৯৪) আর নেই। রাজনীতির জন্য জীবন উৎসর্গীত এই মহান ব্যক্তির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দিন অতিবাহিত হয়েছে স্বজনদের কাছে। আবুল হাসেম ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে নৌকা নিয়ে দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জীবন কাটিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। খদ্দরের পাঞ্জাবি, পাজামা, গায়ে মুজিব কোট, মাথায় গান্ধী টুপি দেখে যে কেউ বলে দিতে পারতেন তিনিই গফরগাঁওয়ের প্রিয় হাসেম ভাই।
উনি বুধবার (২ ফেরুয়ারী) সকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর আদরের এই এমপির বার্ধক্যের কারনে শ্রবন ও দৃষ্টি শক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি সময় কাটাতেন টেলিভিশন দেখে আর নাতনির পাঠ করা দৈনিক পত্রিকার সংবাদ শুনে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওনার যাপিত জীবন ছিল হুইল চেয়ার নির্ভর। পক্ষাঘাতগ্রস্থ অবস্থায় আবুল হাসেম পাঁচ বছর আগে থেকে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। এ সময় তার দেখাশোনা করতেন স্বজনরা। সর্বশেষ স্ত্রীও ব্রেইনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে যান। তখন থেকেই তিনি অনেকটাই নিঃসঙ্গ একাকী জীবন যাপন করছিলেন। কর্মব্যস্ত জীবনে স্বজনদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও সব সময় পাশে থাকতে পারতেন না। বলতে গেলে তার ছায়া সঙ্গী হয়ে ছিলেন নাতনী শিরিন আকতার।
স্বাধীনতা উত্তরকালে প্রাক্তন এমপি আবুল হাসেম নিজ এলাকার তিনশত কিলোমিটার কাঁচা ভাঙ্গাচুড়া রাস্তাঘাট স্বেচ্ছা শ্রমদানের মাধ্যমে হাজারো মানুষের অংশ গ্রহনে চলাচল উপযোগী করেছিলেন। তা দেখতে ছুটে আসেন আ.লীগ কেন্দ্রিয় নেতা কামরুজ্জামান ও আব্দুর রাজ্জাক। সে সময় তাঁরা আবুল হাসেম সাহেবের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশাংসা করে বঙ্গবন্ধুকে বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়াও নারী সমাজকে তিনি নানাভাবে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। সেলাই মেশিন দিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে উপার্জনের পথ দেখিয়েছেন। সময়টা ছিল ১৯৭২ সাল। তখন নারী সমাজ ঘর হতে পা ফেললে বেপর্দা বলে নিগৃহীত হতেন। এইসব অপবাদ উপেক্ষা করে আবুল হাসেম সাহেবের দেখানো পথে গফরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী সমাজ আর্থ সামজিক মুক্তির পথ খুঁজে পায়। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় অবকাঠামোতে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন তিনি। গঠন করেন পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পউস)। এই সংস্থার মাধ্যমে বেকার যুবকদের নানামুখী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করেন। আজো আবুল হাসেমের পল্লী উন্নয়ন সংস্থা অনবদ্য রোল মডেল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আবুল হাসেম প্রথমে পাড়ি জমান ভারতে। সেখান থেকে পরে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু যখন বলেছিলেন ‘তিন বছর কিছুই দিবার পারব না’, তখন হাসেম ভাই ডাক দেন প্রিয় গফরগাঁও বিনির্মাণের।
১৯৩১ সালের ১৭ আগস্ট জন্ম নেয়া আবুল হাসেম স্কুলজীবনেই ভারতীয় কংগ্রেস দলের ছাত্রসংগঠনের একজন কর্মী হিসাবে যুক্ত হন ছাত্ররাজনীতিতে। বিপ্লবী যুগান্তর দলের কমরেড ফণিলাল বল ছিলেন তার রাজনৈতিক গুরু।
১৯৫০ সালে গফরগাঁও কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রথম ব্যাচের ছাত্র থাকাকালে তিনি ছিলেন ছাত্র সংসদের ভিপি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনের জন্য ঘুরে বেড়ান সারা এলাকায়। ২১ ফেব্রুয়ারি গফরগাঁওয়ের আব্দুল জব্বার ঢাকায় শহীদ হয়েছেন শুনে ছাত্র-যুবকদের এক বিশাল দল নিয়ে ঢাকায় ছুটে যান। শহীদ জব্বারসহ ভাষাশহীদদের রক্ত কপালে মেখে দীপ্ত শপথ নিয়েছিলেন এই আবুল হাসেমসহ গফরগাঁওয়ের সঙ্গীয় ছাত্র-যুবকরা।
১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পরের বছর ১৯৫৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগীর পক্ষে গফরগাঁও-ভালুকা অঞ্চলে ক্যাম্পিং করেন আবুল হাসেম। ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব আন্দোলনেই একনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৪৬ সালে নেতাজি সুভাষ বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রথম গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন আবুল হাসেম। দ্বিতীয় ও শেষবার কারাবরণ করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর। তখন বিনা বিচারে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুই বছর জেলে রাখা হয় বঙ্গবন্ধুর আদরের এমপি আবুল হাসেমকে।
আবুল হাসেম সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় গড়ে তোলেন অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্তত ২০টি হাই স্কুল ও গফরগাঁওয়ের একমাত্র মহিলা কলেজ। তার বদৌলতে এলাকার শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি গফরগাঁওয়ে গড়ে তোলেন লঙ্গরখানা। গফরগাঁওয়ের প্রবীণ সাংবাদিক সেই সময়ের তরুণ কমিউনিস্ট নেতা ফকির এ মতিনের পরিচালনায় লঙ্গরখানায় প্রতিদিন শত শত ভূখা অনাহারি মানুষ খাবার খেয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
শুধু রাজনীতিকই নন, সাহিত্য-সংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন আবুল হাসেম। তারই প্রত্যক্ষ সহায়তায় গফরগাঁওয়ে ১৯৭৫ সালে তটিনী খেলাঘরের মাধ্যমে শুরু হয় সাস্কৃতিক ও শিশু-কিশোর আন্দোলন। আবুল হাসেমের লেখা ‘যখন এমপি ছিলাম’ বইটি গফরগাঁওয়ের ইতিহাস ঐতিহ্যর একটি প্রামান্য দলিল। অর্থাভাবে বইটি তিনি আর পূনঃপ্রকাশ করতে পারেননি। রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৬০ বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার।
কি করলে অভাব কমে যাবে....❗
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Gafargaon
Mymensingh
2230
