বীরঙ্গনা সখিনা পিকনিক স্পট-প্রস্তাবিত
(বিনোদনের জন্য ঐতিহাসিক স্থান)
স্থান: কুমড়ী-কিল্লা তাজপুর, গৌরীপুর-ময়মনসিংহ।
বীরঙ্গনা সখিনা-কে নিয়ে সুন্দর গান উপভোগ করুন-
Collected by: Ahad Suman & Ahadul Islam Suman
14/11/2021
https://www.ajkerpatrika.com/72157
বীরাঙ্গনা সখিনার সমাধি ঘিরে পর্যটনকেন্দ্রের সম্ভাবনা অমর প্রেমের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বীরাঙ্গনা সখিনার সমাধি পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠতে পারে। এই সম....
19/11/2017
Beerongona Sokhina's Mazar
27/11/2016
**তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ‘বীরঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটি’**
এসিক ও ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন-এর সহযোগিতায় ‘‘দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরঙ্গনা সখিনা (বি.এস) সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড’’ নিম্নোক্ত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে:
১. ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রাখা ও সমৃদ্ধ করা
আনুমানিক চারশত বছর পূর্বে অর্থাৎ সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঐতিহাসিক রণক্ষেত্রে বীরঙ্গনা সখিনা নিহত হন। মোগল আমলের ইতিহাসে সখিনার বীরত্বগাথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। স্বামীর প্রতি সখিনার গভীর ভালবাসা ও গৌরীপুরের কিল্লাতাজপুরের যুদ্ধে তার আত্মদানের স্মৃতিকে অবিস্মরণীয় করে রাখার জন্য ইলেক্টোরাল ভোটের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড প্রদান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। রণবীর সখিনা বিবির মাজার গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কুমড়ী গ্রামে অবস্থিত।
২. ইলেক্টোরাল ভোটিং সিস্টেম প্রবর্তন
যোগ্যতার ভিত্তিতে ইলেক্টোরাল মেম্বারদের ভোট পাওয়ার পয়েন্ট প্রদান। পরীক্ষামূলকভাবে এর প্রয়োগ ও সাফল্য এবং ইলেক্টোরাল ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের ঘোষণা।
বি:দ্র: ২০০৬ সালে ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে গবেষণা করা হয়। যার ফলে এ দেশে জাতীয় ইলেক্টোরাল কমিটি, ইলেক্টোরাল কলেজ, ইলেক্টোরাল স্কুল, ইলেক্টোরাল কমিটি ইত্যাদি ইলেক্টোরাল সংগঠন গঠন করা হয়।
৩. বিশেষ অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড
বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বা বিভাগে কোন বিশিষ্টজন উল্লিখিত চার বা একাধিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের নিকট থেকে প্রোফাইল সংগ্রহ করে ভোটের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ঘোষণা করা।
More: http://maohaup.blogspot.com/2016/11/bs-silver.pen.award.html
08/11/2016
***ময়মনসিংহে ‘বীরঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ১০ গুণী***
‘দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির’ উদ্যোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ গুণীজনকে ‘বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ পৌরসভার শহীদ সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে গুণীজনদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তোলে দেয়া হয়।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন-
১.সমাজসেবায় অবদানের জন্য ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু, গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল মান্নান, কেন্দুয়া নিঝুম পার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ লতিফ আহমেদ খান;
২.শিল্পকলা, শিক্ষা, ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য গৌরীপুরের ছড়াকার আজম জহিরুল ইসলাম, নান্দাইলের কবি আবদুল হান্নান ইউজেটিস,
৩.ভাষা ও সাহিত্যে কেন্দুয়ার নাট্যকার শফিকুল ইসলাম খান,
৪.গবেষণায় গৌরীপুরে কৃষি যন্ত্রপাতির উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ কেনু মিস্ত্রী,
৫.সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রে অবদানের জন্য গৌরীপুরের প্রবীণ সাংবাদিক ও অধ্যাপক কাজী এমএ মোনায়েম, গৌরীপুরের মফস্বল সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন শাহীন এবং নিউজবাংলাদেশ.কমের গৌরীপুর উপজেলা সংবাদদাতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ডিন পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুর রশীদ। অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ফজর আলীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু, নেত্রকোনা এমআইএসটির অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এমএ জিন্নাহ। ফ্লোরেন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার।
আরও জানতে: http://maohaup.blogspot.com/2016/11/bs.award.html
21/08/2016
*** মতিন রহমান পরিচালিত ‘বীরঙ্গনা সখিনা’ চলচ্চিত্র***
ঐতিহাসিক ঈশা খাঁর দৌহিত্র ফিরোজ খাঁর সহধর্মিনী ও উমর খাঁর একমাত্র কন্যা বৃহত্তর ময়মনসিংহের বীরঙ্গনা নারী ‘বিবি সখিনা’। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের বিখ্যাত লোককাহিনী অবলম্বনে নির্মিত তার ঐতিহাসিক ঘটনাটি সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিনয় করেন উজ্জ্বল, ববিতা, দিতি ও আরো অনেকেই। সিনেমাটি ইউটিউবে সার্চ দিয়েও পেলাম না। কারো সংগ্রহে থাকলে অনুগ্রহপূর্বক আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করলে আপনি/আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ
কাহিনীটি জানতে ভিজিট করুন: http://maohaup.blogspot.com/p/blog-page_26.html
***ময়মনসিংহ গীতিকার অমর কাব্য গাঁথা ফিরুজ খান দেওয়ানের পালা***
উত্তরে গারো পাহাড়, জয়ন্ত ও খাশিয়ার অসম শৈল শ্রেণীর পদলেহন করে একদিকে সোমেশ্বরী, কংশ অন্যদিকে সুরমা কুশিয়ারার ধারা প্রবাহ ছুটে চলেছে অনবরত। এই ধারা প্রবাহ আর তাদের শাখা-প্রশাখা প্রবেশ করেছে ধনু, ফলেশ্বরী, ভাটেশ্বরী, বরুনী, সুন্ধনা, সুরিয়া আর ঘোড়াউৎরার মত অসংখ্য নদীতে। আর এই নদীগুলো হচ্ছে হাওর অঞ্চলের প্রাণ। এই নদীগুলোরই অন্তর্বর্তী দেশের সাধারণ মানুষের করুণ গাঁথা হচ্ছে ময়মনসিংহ গীতিকা।
নিস্তরঙ্গ জলরাশি, নলখাগড়া আর ইকরার বনে সমাচ্ছন্ন হাওর অঞ্চল। কুড়া পাখীর গুরুগম্ভীর শব্দে নিনাদিত আকাশ আর প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য ও রূপ মাধুর্যে সুষমামন্ডিত বৈশিষ্ট্যগুলো গাঁথাগুলোকে করেছে সুসংহত, সুবিন্যস্ত আর নাটকীয় মহিমায় সমৃদ্ধ। শুধু তাই নয়, এই কাব্য গাঁথাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের ঐশ্বর্যমন্ডিত কালজয়ী বস্তুনিষ্ঠ সাহিত্য সম্পদ হিসেবে দেশে বিদেশে সমাদৃত।
পূর্বকালে কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোণা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পূর্ব ময়মনসিংহ বলে পরিচিতি লাভ করেছিল। পূর্ব ময়মনসিংহই হচ্ছে ময়মনসিংহ গীতিকার স্বাধীন উর্বর ক্ষেত্র এবং গাঁথাগুলোর অভিনয় ক্ষেত্র।
গীতিকাগুলোর আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে নারীচরিত্র। গীতিকার নারীচরিত্র হৃদয়গ্রাহীরূপে উদ্ভাসিত হয়েছে। এদের প্রেম-নিষ্ঠা-সংযম-সহিষ্ণুতা, তেজস্বিতা, সতীত্ব, পতিব্রতা, আত্মত্যাগ আর ব্যক্তিত্ব যা সহজাত হৃদয়বৃত্তির দিক থেকে অনন্য। এদের বলিষ্ঠ প্রেমের কারণে আত্মবিসর্জিত হৃদয়গ্রাহী বিষাদাত্মক চরিত্রগুলো সৃষ্টি হয়েছে। ঐ চরিত্রগুলোর অন্যতম প্রতিবিম্বগুলোর মধ্যে ‘সখিনা' অন্যতম।
পালাগানে বিচিত্ররূপে উপস্থাপিত সখিনা চরিত্রটি এই অঞ্চলের ইতিহাসসিদ্ধ চরিত্র। ফিরুজ খান দেওয়ানের পালায় ‘সখিনা'কে মনোগ্রাহী রূপে পরিবেশন করা হয়েছে।
ষোড়শ শতকের ভাটি রাজ্যের অধিপতি ঈশা খানের দ্বিতীয় স্ত্রী অলি নেয়ামত খানমের দু'সন্তান আদম খান ও বিরহিম খান। আদম খানের পুত্র ফিরুজ খান। ফিরুজ খানের সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলের সখিনা।
ঈসা খানের গৌরবে গৌরবান্বিত একজন সাহসী বীর পুরুষ ছিলেন ফিরুজ খান। তাই পালাটি রচিত হয়েছে তার নামেই। ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম এই পালাগানটি চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেছিলেন কিশোরগঞ্জ শহরের রহমান গায়েনের কাছ থেকে। পরবর্তীকালে সাহিত্য ও নন্দনতত্ত্ব বিষয় বিভিন্ন আলোচনায় পালাগানটি বিশেষ স্থান পায়। বিশেষ করে বাংলার শেষ মধ্যযুগে বীরাঙ্গনা নারী নানা আলোচনায় বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে গীতিকাটি। নিঃসন্দেহেই কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের উৎকৃষ্টতম লোকসাহিত্য-পালাগীতিকা এবং কাহিনীর জনপ্রিয়তার দরুন একদিকে সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন অন্যদিকে সাহিত্যশৈলীতে ইতিহাসের বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। এরপর কাহিনীটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশ্বমঞ্চেও প্রবেশ করেছে। বড় কথা হচ্ছে ফিরুজ খান দেওয়ানের পালায় ভাটি অঞ্চলের একজন বীরাঙ্গনা নারীর প্রতিমূর্তিরূপে নারীত্বের সর্বাঙ্গীন সৌন্দর্যের প্রতীকরূপে প্রতিভাত হয়েছেন সখিনা।
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষদিকে ভাটি রাজ্যের অধিপতি ঈসা খানের অধস্তন পুরুষদের সাথে বাংলার শেষ পাঠান বীর খাজা ওসমান খান লোহানীর অধস্তনদের মধ্যে সম্পর্কটি ছিল অপেক্ষাকৃত জটিল। কারণ, ঈসা খানের পুত্র মুসা খান মোগল সেনাপতি ইসলাম খান চিশতীর নিকট আত্মসমর্পণ করার পর তার সন্তানগণ মোগলদের সাথে থাকা ওসমান খান লোহানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল বিভিন্ন রণাঙ্গনে তারই টানাপোড়েনে ক্রমশ শত্রুতার সৃষ্টি হয় বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী এই দু'টি বংশের অধস্তন পুরুষদের মধ্যে।
গীতিকায় উপস্থাপিত চরিত্রগুলোর কার্যকলাপ বহুমাত্রায় তাদের সহজাত আচরণের বিপরীতধর্মী এবং সম্ভবত এই কারণেই সখিনা কর্তৃক স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধাচরণের বিষয়টিকে কাহিনীটির কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে। আর এজন্যই বীরাঙ্গনা নারীর চরিত্র চিত্রায়নে গাঁথা কাব্যটি প্রাণধর্মে সজীব হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, সখিনার বীরাঙ্গনা চরিত্রের পাশাপাশি দুঃসাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে স্বামীর জন্য পিতা শত্রুকে পরাজিত করার প্রত্যয়ে আপন প্রতিভার দীপ্তময় হয়ে উঠেছে। যেমন বলা হয়েছে-
মানা না করিয়ো মাগো বিদায় দেও মোরে।
রণে জিত্যা স্বামী লইয়া আইবাম আমি ঘরে।।
নচিব যদি বোরা হয় মা রণে যদি মরি।
স্বামীর যোগ্যা রণে মরতে দুঃখু নাইযে করি।।
সোয়ামীর লাইগ্যা আমি তেজিবাম জান
বিদায় কালেতে মাগো জানাই সালাম।।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে ‘সখিনা' এই অঞ্চলের ইতিহাস সিদ্ধ-নারী। তিনি বাংলার শেষ পাঠানবীর খাজা ওসমান খান লোহানীর ৩য় অধস্তন খাজা ওমর খান লোহানীর একমাত্র কন্যা। খাজা ওসমান খান লোহানী বর্তমান মৌলভীবাজারের দুলস্বপুরে মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় নিহত হলে সম্রাট জাহাঙ্গীর খাজা ওসমান খান লোহানীর পুত্র মোবারেজ খানকে কেল্লাতাজপুর অঞ্চলের জায়গীর প্রদান করেন। মোবারেজ খানের মৃত্যুর পর তার পুত্র ওমর খান সম্রাটের পক্ষ থেকে এ অঞ্চলেই জায়গীর প্রাপ্ত হয়ে তাজপুর দুর্গেই অবস্থান করেন।
বাংলার সুলতানী আমলের উল্লেখযোগ্য দুর্ভেদ্য দুর্গ তাজপুর কামরূপ সামন্তরা প্রথমে এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিল মৃন্ময় পদ্ধতিতে। বাংলার স্বাধীন সুলতানগণ-- এই দুর্গটিকে ইটের প্রাচীর দ্বার সুরক্ষিত করে।
দুলম্বপুরের যুদ্ধের পর থেকেই ঈসা খানের বংশ এবং যাহা ওসমান খান লোহানীর বংশের অধস্তনদের মধ্যে বৈরীভাবের সৃষ্টি হয়। ফলে জঙ্গলবাড়ী দুর্গের অধিপতি আর তাজপুর দুর্গের অধিপতির মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টি হয়নি কোন দিন।
ফিরুজ খান জানতে পারেন ওমর খানের কন্যা সখিনার কথা। ফিরুজ খান ভুলে যান তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি। জঙ্গলবাড়ী দুর্গ থেকে বিবাহের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয় তাজপুর দুর্গে।
ফিরুজ খান কর্তৃক প্রেরিত একজন ওজির ওমর খানের নিকট ফিরুজ খানের বিবাহের প্রস্তাব পেশ করার পর তাজপুর অধিপতি ওমর খানের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি কাব্যগাঁথায় বলা হয়েছে এভাবে--
এই কথা শুনিয়া ওমর খাঁর গোস্বা হইল মনে
কহিতে লাগিল পরে সভার সদনে।।
কাফেরের ওজি জঙ্গলবাড়ীর দেওয়ান।
রোজা নামাজ ছাড়া যেইনা মুছলমান
না মুছলমান পাঠাইল সাদির কারণ
এই না দুঃখ সহে দেখ ওজির নাজিরগণ
বেইজ্জত করিলা আমায় সেইত কাফেরে
উচিৎ শাস্তি দিলাম আমি ভাইব্যা চিন্তা তারে।
অর্থাৎ ফিরুজ খান কর্তৃক প্রেরিত ওজিরকে অপমান করে তাজপুর দুর্গ থেকে বের করে দিলে ওজির ফিরে আসেন জঙ্গলবাড়ী। ফিরুজ খান সব শুনে সিদ্ধান্ত নেন তাজপুর অভিযানের। গীতিকায় বলা হয়েছে-- এভাবে
এই কথা শুনিয়া মিয়ার গোসা হইল ভারি।
শহরে বাজারে ডঙ্কা মারে তাড়াতাড়ি\
ডাঙ্কা মারিল দেওয়ান ফৌজের কারণ।
কালুকা যাইতে হইবে করিবারে রণ\
ফৌজদারগণ যত এই কথা শুনিয়া
পলকে আইল যত ফৌজ যে লইয়া\
সাজাইয়া রণের ঘোড়া হইল সোয়ার।
পন্থে মেলা দিল সবে করি মারমার\
পরের দিনেতে সাহেব ফৌজ যে লইয়া।
কেল্লা তাজপুর শহরে মিয়া দাখিল হইল গিয়া\
দেওয়ান বাড়ি ফৌজে ঘিরিয়া লইল।
ঘটিতে ধরিয়া মিয়া দেওয়ানরে খেদাইল\
খেদাইল ওজির নাজীর যত লোকজন।
তারপর মিয়া অন্তর বাড়ি করিল গমন\
ফিরুজ খান যখন তাজপুর আক্রমণ করেন তখন ওমর খান প্রথমদিকে আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও যুদ্ধে পরাজিত হন তিনি। ঐতিহাসিকভাবে বিষয়টি সত্য যে, ওমর খান যুদ্ধে পরাজিত হবার পর ফিরুজখান সখিনাকে প্রথমে অপহরণ করেন এবং তার সম্মতিতেই জঙ্গলবাড়ি দুর্গে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে উমর খানের পরাজয় অন্যদিকে কন্যাকে অপহরণের পরিশোধ নেবার জন্য দিল্লীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকার সুবাদারকে নির্দেশ দিলেন ওমর খানকে সাহায্য করার জন্য এবং ফিরুজ খানকে উচিৎ শিক্ষা দেবার জন্য।
ওমর খান মুঘল সৈন্যদের সহায়তায় অভিযান নিয়ে আসে ফিরুজ খানের বিরুদ্ধে। প্রচন্ড যুদ্ধে পরাজিত হন ফিরুজ খান, সেইসাথে তিনি বন্দীও হন।
রণপ্রত্যাগত বিজয়ী স্বামীর গলায় জয়মাল্য পরাবার জন্য যে সখিনা অপেক্ষা করছিলেন, সেই সখিনা শুনলেন স্বামীর পরাজয়ের বার্তা। গীতিকায় বলা হয়েছে এভাবে-
শুন শুন দরিয়া আরে কহি যে তোমারে
তুল্যা আন চাম্পা গোলাপ মালা গাথিবারে\
লড়াই জিত্যা আইলে স্বামী মালা দিবাম গলে।
অজুর পানি তুইল্যা রাখ সোনার গুইছালে\
আবের পাঙ্ঘা আইন্না রাখ শয্যার উপরে।
রণ জিত্যা আইলে স্বামী বাতাস করতাম তারে\
কান্দিয়া দরিয়া বান্দী কহিতে লাগিল
এতদিনে কন্যা আপনার নচিব বোরা হইল।
বাহু হইতে খুল কন্যা বাজুবন্ধ তার।
গলা হইতে খুল কন্যা হীরামনের হার\
পাও হইতে খুল কন্যা নোউর পাঞ্জনী।
কোমর হইতে খুল কন্যা ঘুংঘুর ঝুনঝুনি\
শোন শোন বিবি আরে কইযে আপনেরে
আপনার স্বামী হইল বন্দী তাজপুর কারে।
এই কথা শুনিয়া বিবি উট্যা খাড়া হইল।
আসমান ভাঙ্গিয়া যেন শিরেতে পড়িল\
যে হোক সে হউক দরিয়া আমার কথা ধর।
শীঘ্র করি রণের ঘোড়া আন্যা খাড়া কর\
আমার স্বামীরে বন্দী করে শরীলের কত জোর।
সাজাও দেখি রণের ঘোড়া গেল কতদূর\
স্বামীর জন্য পিতার বিরুদ্ধে কন্যার যুদ্ধ যাত্রা। এককথায় বলা যায় সখিনা তার সহজাত-প্রবৃত্তির কারণে সার্থক উদ্ভাবনী শক্তি বলে বিপদ মুক্তির মানসে দুঃসাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং শত্রুকে পরাজিত করার জন্য আপন প্রতিভায় দীপ্তময় হয়ে উঠেছে। হৃদয়ের অপ্রতিরোধ্য গতিতে কিংবা সচেতন ক্রিয়ায় অনুভূতির সুগভীর তীব্রতায় বীরঙ্গনা সখিনা তেজস্বী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সখিনা অমিত বিক্রমে যুদ্ধ করছিল পিতার বিরুদ্ধে। যুদ্ধের বিবরণটি গীতিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে এভাবে-
সেপাই ফৌজদার যত আগে পাছে যায়।
পায় পাছানিতে ধুলা আসমানে উড়ায়\
দিনের পথ বাইয়া তারা এক দন্ডে যায়।
এই না সে কেল্লাতাজপুর সামনে দেখা যায়\
বাপ হইয়া দেখ দুষমন হইল।
ঘেরাও করিতে কেল্লা বিধি হুকুম দিল\
আড়াই দিন হইল রণে কেউ না জিতে হারে।
আগুন লাগাইল বিবি কেল্লাতাজ পুর শরে\
বড় বড় ঘর দরজা পুইড়া হইল ছাই।
রণে হারে বাসসার ফৌজ সরমের সীমা নাই\
এমন সময় শুনে সবে কোন কাম হইল।
তাজপুর তারা আস্যা নফর সালাম জানাইল
আপোষনামা লইয়া আইলাম দেখা করিবারে।
জঙ্গল বাড়ির নফর আমি জানাইযে তোমারে\
ফিরুজ খান দেওয়ান মোরে দিলাইন পাঠাইয়া।
খবর কহিতে তোমায় শুন মন দিয়া\
যার লাইগ্যা জ্বলে আগুন জঙ্গলবাড়ি শরে।
তালাক দিয়াছে দেওয়ান সেই সখিনারে।
জনশ্রুতি রয়েছে। ফিরুজখানকে যখন তাজপুর দুর্গে বন্দী করা হয়েছিল তখন সখিনা পুরুষের বেশ ধরে এবং সিপাহসালার হয়ে অজস্র সৈন্য নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন স্বামীকে উদ্ধার করে আনার জন্য। যুদ্ধ তখন চলছিল। সখিনার জয় হবে এমন সময় ওমর খান কূট কৌশলের আশ্রয় নিল। মিথ্যা তালাকনামা লিখে সখিনাকে বিভ্রান্ত করল ওমর খান। আর মিথ্যে তালাকনামাটি দেখে বীরঙ্গনা সখিনার কুসুম কোমল স্থানটিতে আঘাত পেল মারাত্মকভাবে। সমরাস্ত্র সজ্জিত বীরঙ্গনা মুহূর্ত মাত্র স্তব্ধ হয়ে ফিরুজ খানের নামমুদ্রাঙ্কিত বর্জ্জন পত্রের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সংজ্ঞাশূন্য হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এবং মৃত্যুবরণ করল। যুদ্ধটি সম্ভবত তাজপুর দুর্গের অতি নিকটে কুমড়ি নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। কারণ কুমড়িতেই সখিনার সমাধি অবস্থিত।
গীতিকায় ইতিহাসসিদ্ধ এই কাহিনীটি আমাদের গ্রাম্য কবির স্বভাবসুলভ সাদামাটা ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। যা আমাদের হৃদয় মনকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। নিরাভরণ অকৃত্রিম কাব্য ভাষায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
বাংলার ৫টি রাজ্যের দুটি অভিজাত পরিবারের প্রতিচ্ছবি গীতিকার ছত্রে ছত্রে বিম্বিত করেছেন। কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রয়াস চালালেও তার জন্য যে উমর খানকে অস্বাভাবিক মূল্য দিতে হয়েছে গীতিকা থেকে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে গাঁথা কাব্যটি ইতিহাস স্নাত হলেও জীবনধর্ম সাহিত্য-মূল্য নির্ধারণেও আমাদের হৃদয়তন্ত্রীতে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে।
এই কথা শুনিয়া মিয়ার গোসা হইল ভারি।
শহরে বাজারে ডঙ্কা মারে তাড়াতাড়ি\
ডাঙ্কা মারিল দেওয়ান ফৌজের কারণ।
কালুকা যাইতে হইবে করিবারে রণ\
ফৌজদারগণ যত এই কথা শুনিয়া
পলকে আইল যত ফৌজ যে লইয়া\
সাজাইয়া রণের ঘোড়া হইল সোয়ার।
পন্থে মেলা দিল সবে করি মারমার\
পরের দিনেতে সাহেব ফৌজ যে লইয়া।
কেল্লা তাজপুর শহরে মিয়া দাখিল হইল গিয়া\
দেওয়ান বাড়ি ফৌজে ঘিরিয়া লইল।
ঘটিতে ধরিয়া মিয়া দেওয়ানরে খেদাইল\
খেদাইল ওজির নাজীর যত লোকজন।
তারপর মিয়া অন্তর বাড়ি করিল গমন\
ফিরুজ খান যখন তাজপুর আক্রমণ করেন তখন ওমর খান প্রথমদিকে আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও যুদ্ধে পরাজিত হন তিনি। ঐতিহাসিকভাবে বিষয়টি সত্য যে, ওমর খান যুদ্ধে পরাজিত হবার পর ফিরুজখান সখিনাকে প্রথমে অপহরণ করেন এবং তার সম্মতিতেই জঙ্গলবাড়ি দুর্গে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে উমর খানের পরাজয় অন্যদিকে কন্যাকে অপহরণের পরিশোধ নেবার জন্য দিল্লীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট প্রতিকার প্রার্থনা করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকার সুবাদারকে নির্দেশ দিলেন ওমর খানকে সাহায্য করার জন্য এবং ফিরুজ খানকে উচিৎ শিক্ষা দেবার জন্য।
ওমর খান মুঘল সৈন্যদের সহায়তায় অভিযান নিয়ে আসে ফিরুজ খানের বিরুদ্ধে। প্রচন্ড যুদ্ধে পরাজিত হন ফিরুজ খান, সেইসাথে তিনি বন্দীও হন।
রণপ্রত্যাগত বিজয়ী স্বামীর গলায় জয়মাল্য পরাবার জন্য যে সখিনা অপেক্ষা করছিলেন, সেই সখিনা শুনলেন স্বামীর পরাজয়ের বার্তা। গীতিকায় বলা হয়েছে এভাবে-
শুন শুন দরিয়া আরে কহি যে তোমারে
তুল্যা আন চাম্পা গোলাপ মালা গাথিবারে\
লড়াই জিত্যা আইলে স্বামী মালা দিবাম গলে।
অজুর পানি তুইল্যা রাখ সোনার গুইছালে\
আবের পাঙ্ঘা আইন্না রাখ শয্যার উপরে।
রণ জিত্যা আইলে স্বামী বাতাস করতাম তারে\
কান্দিয়া দরিয়া বান্দী কহিতে লাগিল
এতদিনে কন্যা আপনার নচিব বোরা হইল।
বাহু হইতে খুল কন্যা বাজুবন্ধ তার।
গলা হইতে খুল কন্যা হীরামনের হার\
পাও হইতে খুল কন্যা নোউর পাঞ্জনী।
কোমর হইতে খুল কন্যা ঘুংঘুর ঝুনঝুনি\
শোন শোন বিবি আরে কইযে আপনেরে
আপনার স্বামী হইল বন্দী তাজপুর কারে।
এই কথা শুনিয়া বিবি উট্যা খাড়া হইল।
আসমান ভাঙ্গিয়া যেন শিরেতে পড়িল\
যে হোক সে হউক দরিয়া আমার কথা ধর।
শীঘ্র করি রণের ঘোড়া আন্যা খাড়া কর\
আমার স্বামীরে বন্দী করে শরীলের কত জোর।
সাজাও দেখি রণের ঘোড়া গেল কতদূর\
স্বামীর জন্য পিতার বিরুদ্ধে কন্যার যুদ্ধ যাত্রা। এককথায় বলা যায় সখিনা তার সহজাত-প্রবৃত্তির কারণে সার্থক উদ্ভাবনী শক্তি বলে বিপদ মুক্তির মানসে দুঃসাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং শত্রুকে পরাজিত করার জন্য আপন প্রতিভায় দীপ্তময় হয়ে উঠেছে। হৃদয়ের অপ্রতিরোধ্য গতিতে কিংবা সচেতন ক্রিয়ায় অনুভূতির সুগভীর তীব্রতায় বীরঙ্গনা সখিনা তেজস্বী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
সখিনা অমিত বিক্রমে যুদ্ধ করছিল পিতার বিরুদ্ধে। যুদ্ধের বিবরণটি গীতিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে এভাবে-
সেপাই ফৌজদার যত আগে পাছে যায়।
পায় পাছানিতে ধুলা আসমানে উড়ায়\
দিনের পথ বাইয়া তারা এক দন্ডে যায়।
এই না সে কেল্লাতাজপুর সামনে দেখা যায়\
বাপ হইয়া দেখ দুষমন হইল।
ঘেরাও করিতে কেল্লা বিধি হুকুম দিল\
আড়াই দিন হইল রণে কেউ না জিতে হারে।
আগুন লাগাইল বিবি কেল্লাতাজ পুর শরে\
বড় বড় ঘর দরজা পুইড়া হইল ছাই।
রণে হারে বাসসার ফৌজ সরমের সীমা নাই\
এমন সময় শুনে সবে কোন কাম হইল।
তাজপুর তারা আস্যা নফর সালাম জানাইল
আপোষনামা লইয়া আইলাম দেখা করিবারে।
জঙ্গল বাড়ির নফর আমি জানাইযে তোমারে\
ফিরুজ খান দেওয়ান মোরে দিলাইন পাঠাইয়া।
খবর কহিতে তোমায় শুন মন দিয়া\
যার লাইগ্যা জ্বলে আগুন জঙ্গলবাড়ি শরে।
তালাক দিয়াছে দেওয়ান সেই সখিনারে।
জনশ্রুতি রয়েছে। ফিরুজখানকে যখন তাজপুর দুর্গে বন্দী করা হয়েছিল তখন সখিনা পুরুষের বেশ ধরে এবং সিপাহসালার হয়ে অজস্র সৈন্য নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন স্বামীকে উদ্ধার করে আনার জন্য। যুদ্ধ তখন চলছিল। সখিনার জয় হবে এমন সময় ওমর খান কূট কৌশলের আশ্রয় নিল। মিথ্যা তালাকনামা লিখে সখিনাকে বিভ্রান্ত করল ওমর খান। আর মিথ্যে তালাকনামাটি দেখে বীরঙ্গনা সখিনার কুসুম কোমল স্থানটিতে আঘাত পেল মারাত্মকভাবে। সমরাস্ত্র সজ্জিত বীরঙ্গনা মুহূর্ত মাত্র স্তব্ধ হয়ে ফিরুজ খানের নামমুদ্রাঙ্কিত বর্জ্জন পত্রের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সংজ্ঞাশূন্য হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এবং মৃত্যুবরণ করল। যুদ্ধটি সম্ভবত তাজপুর দুর্গের অতি নিকটে কুমড়ি নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। কারণ কুমড়িতেই সখিনার সমাধি অবস্থিত।
গীতিকায় ইতিহাসসিদ্ধ এই কাহিনীটি আমাদের গ্রাম্য কবির স্বভাবসুলভ সাদামাটা ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। যা আমাদের হৃদয় মনকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। নিরাভরণ অকৃত্রিম কাব্য ভাষায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
বাংলার ৫টি রাজ্যের দুটি অভিজাত পরিবারের প্রতিচ্ছবি গীতিকার ছত্রে ছত্রে বিম্বিত করেছেন। কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রয়াস চালালেও তার জন্য যে উমর খানকে অস্বাভাবিক মূল্য দিতে হয়েছে গীতিকা থেকে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে গাঁথা কাব্যটি ইতিহাস স্নাত হলেও জীবনধর্ম সাহিত্য-মূল্য নির্ধারণেও আমাদের হৃদয়তন্ত্রীতে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে।
-মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন শাহজাহান
(সংগৃহীত)
18/04/2016
“বীরঙ্গনা সখিনা (বিএস) সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড”
বৃহ্ত্তর ময়মনসিংহ জেলার আঞ্চলিক পর্যায়ে চারটি ক্ষেত্রে ১০টি অ্যাওয়ার্ড ষোষণা।
প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য নিম্নবর্ণিত চারটি ক্ষেত্রে বীরঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ ভূষিত হবে।
*** সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্র;
*** গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি;
*** শিল্পকলা, শিক্ষা, ভাষা ও সাহিত্য;
*** সমাজসেবা অথবা ইলেক্ট্রোরাল কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষেত্র।
12/03/2016
ঐতিহাসিক বীরঙ্গনা সখিনার কাহিনী:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত মাওহা ইউনিয়নের কেল্লা তাজপুর গ্রামটি সপ্তদশ শতাব্দীর মোগল শাসনামলের স্মৃতি বিজড়িত। যেখানে রয়েছে বার ভূঁইয়ার অন্যতম কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ির স্বাধীন শাসক ঈশা খাঁর দোহিত্র ফিরোজ খাঁর স্ত্রী ও কেল্লা তাজপুরের মোগল দেওয়ান উমর খাঁর কন্যা সখিনা বিবির নানা স্মৃতি। এই গ্রামের কুমড়ী নামক স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে ইতিহাসখ্যাত পতিপ্রাণা সখিনা বিবি। সখিনা বিবির ঐতিহাসিক সমাধি সবার নজর কাড়ে।
কেল্লা তাজপুরকে ঘিরে একটি ঐতিহাসিক চমকপ্রদ কাহিনী প্রচলিত আছে। কেল্লা তাজপুরের মোঘল দেওয়ান উমর খাঁর কন্যা সখিনা ছিলেন অপরূপা রপবতী ও সর্ববিদ্যায় পারদর্শী। তার এই রূপ-গুণের খ্যাতি আশেপাশের সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এখান থেকে ৫০/৬০ মাইল দূরবর্তী বার ভূঁইয়ার অন্যতম কিশোরগঞ্জের জঙ্গলবাড়ির স্বাধীন শাসক ঈশা খাঁর দোহিত্র ফিরোজ খাঁর কানেও সে খবর পৌঁছে। সেই থেকে অপরূপা সুন্দরী সখিনাকে এক পলক দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে ফিরোজ খাঁর অন্তর। কিন্তু দেওয়ান উমর খাঁ পরিবারের কঠোর পর্দাপ্রথা ফিরোজের ভালোবাসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কৌশলের আশ্রয় নেয় ফিরোজ খাঁ। দরিয়া নামক এক সুন্দরী বাদীকে তসবী বিক্রেতা সাজিয়ে উমর খাঁর অন্তঃপুরে সখিনার বাসগৃহে পাঠানো হয়। দরিয়ার মুখে ফিরোজ খাঁর অসামান্য রূপ-গুণের কথা শুনে সদ্য যৌবনপ্রাপ্তা সখিনা নিজের অজান্তেই মনপ্রাণ সপে দেয় ফিরোজের চরণতলে। চপলমতি কন্যার হঠাত্ ম্রিয়মানা হওয়ার অন্তর্নিহিত কারণ বুঝতে বাকি থাকে না খাস বাদীর। সেও সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। প্রেমানলে দ্বগ্ধ ফিরোজ খাঁ জঙ্গলবাড়িতে এসে মাতা ফিরোজার সম্মতি নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় উমর খাঁর দরবারে। কিন্তুু আভিজাত্যগর্বী কন্যাপক্ষ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠে। লজ্জা-ঘৃনা ক্ষোভে ফিরোজ খাঁ বিশাল বাহিনী নিয়ে কেল্লা তাজপুর অভিযান চালায়। অতর্কিত আক্রমণে উমর খাঁর বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পরাজয় বরণ করে। শত্রুপক্ষের বিজয়ে উমর খাঁর অন্তঃপুর নারীশূন্য হলেও সখিনার ভাবান্তর হল না। তিনি ঠায় বসে থাকলেন। বিজয়ী ফিরোজ অন্তঃপুরে ঢুকে তাকে বাহুবন্ধী করে জঙ্গলবাড়ি নিয়ে যাবেন-এমনটিই যেন চাহিতব্য ছিল। হলও তাই। ইচ্ছার টানে, অনিচ্ছার ভানে সখিনা জঙ্গলবাড়িতে নীত হলেন। বিবাহের মধ্যদিয়ে উভয়ের অতৃপ্ত প্রেম পূর্ণতার সুধাবারিতে অবগাহন করে।
এদিকে পরাজিত উমর খাঁ প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মত্ত হয়ে আশপাশের হিতাকাঙ্ক্ষীগণের সাহায্য প্রার্থনা করলে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া গেল। সম্মিলিত অতিকায় বাহিনীর প্রতিআক্রমণে পরাজয় ঘটল জঙ্গলবাড়ির সৈন্যদের। ফিরোজ খাঁ বন্দী হলেন। এরপর সখিনাকে তালাক দেওয়ার জন্য বন্দীর উপর চলে অনুক্ষণ চাপ প্রয়োগ। বন্দীর সাফ কথা জীবন থাকতে সখিনার প্রেমের অমর্যাদা করে স্বার্থপরের মত রাজ্যভোগ করবেন না। হঠাত্ যুদ্ধের ময়দানে আবির্ভূত হল সতের-আঠার বছর বয়েসী এক অনিন্দ্যকান্তি এক যুবক। তার হাতের ছটায় যেন বিদ্যুত্ লাফাচ্ছে। যুবকের নেতৃত্বে ফিরোজের বিপর্যস্ত বাহিনী পুনরায় ঘুরে দাঁড়ায়। ক্ষ্যাপা নেকড়ের মত তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রু সৈন্যর উপর। দুর্ধর্ষ আক্রমণে উমর খাঁর বাহিনী বিপন্নপ্রায়। এমন সময় ঘটল সেই নিন্দনীয় ঘটনা যা কাহিনীর কলংকজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। উমর খাঁর জনৈক উজিরের কুমন্ত্রণায় রটিয়ে দেয়া হল-যাকে উপলক্ষ করে এই যুদ্ধ, সেই সখিনাকে তালাক দিয়েছেন এই ফিরোজ খাঁ। আলামত হিসেবে ফিরোজের সই জাল করে দেখানো হল যুদ্ধক্ষেত্রে। মুহূর্তে পাল্টে গেল যুদ্ধের ভাবগতি। যুবক সেনাপতির মাথা ঘুরছে, দেহ কাঁপছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছ, ঘোড়ার লাগাম খসে পড়ছে আর তরবারির হাত হয়ে গেছে স্থবির। আস্তে আস্তে নিথর দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভূলুণ্ঠিত সেনাপতির শিরস্ত্রাণ খসে গিয়ে বের হয়ে পড়ে তার আনুলায়িত মেঘবরণ অপূর্ব কেশরাশি। সবাই দেখল এতক্ষণ যে তরুণ সেনাপতি অভূতপূর্ব রণকৌশলে যুদ্ধ করছিল সে আর কেউ নয় উমর খাঁর আদুরের দুলালী সখিনা। খবর পেয়ে ছুটে এলেন পিতা। কলিজার টুকরো কন্যার প্রাণহীন দেহ কোলে নিয়ে উন্মাদের মত বিলাপ করলেন। সে ক্রন্দনে জঙ্গলবাড়ির বাতাস কি পরিমাণ ভারি হচ্ছিল জানা যায়নি, তবে এই কাহিনী শ্রবণে পূর্ববাসীর অন্তর আজো করুণ রসে সিক্ত হয়ে ওঠে, কারো গাল বেয়ে ঝরে কয়েক ফোঁটা নোনাজল।
শোকে মুহ্যমান উমর খাঁ জামাতা ফিরোজ খাঁকে মুক্ত করে দেন। বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ফিরোজ যেন প্রতিবন্ধী হয়ে গেলেন। প্রিয়তমার বিয়োগ ব্যথা তাকে কিছুতেই সুস্থ হতে দেয় না। অগত্যা রাজপট চুকিয়ে একবস্ত্রে গৃহত্যাগকেই উপযুক্ত ভাবলেন তিনি।
কেল্লা তাজপুরবাসী দেখে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এক সোম্যকান্তি মৌলি দরবেশ সখিনার সমাধিতে প্রদীপ জ্বেলে নিশ্চুপ বসে থাকেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে অন্ধকারে পড়ে যায়, নিশুতি রাতের নৈঃশব্দ গ্রাস করে চারপাশ;তথাপি সেই আনমনা ফকির স্থিরনেত্রে সমাধির দিকে চেয়ে থাকেন। কালে জানা গেল ইনিই জীবদ্দশায় সখিনার স্বামী ফিরোজ খাঁ। প্রেমিকার সমাধিতে নিত্য সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে হয়ত ঋণ শোধের চেষ্টা করে গেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।
বীরঙ্গনা নারী সখিনা যে জায়গায় প্রাণত্যাগ করেন সেই কুমড়ী নামক স্থানে গড়ে উঠেছে তার সমাধি। বীরঙ্গনা সখিনার এ মর্মস্পর্শী ঘটনা দেশবাসীর অজানা নয়। কবি, সাহিত্যিকরা এ নিয়ে অনেক গল্প, নাটক রচনা করলেও এ গৌরবগাঁথা অমর স্মৃতিচি?েহ্ন রক্ষায় নেই সরকারি বেসরকারি কোনো উদ্যোগ।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তত্কালীন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ইহসানুল হকের প্রচেষ্টায় এর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, ঐতিহাসিক এই স্থানটিতে প্রতিবছরই উপজেলা ও আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন ও শিক্ষার্থীরা বনভোজন করতে আসে। অনেক মানুষ আবার শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে এখানে শিন্নি-মানত করে থাকে। তাই ঐতিহাসিক এই সমাধিটি সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দে পরিণত হতে পারে। নতুবা সংরক্ষণের অভাবে এটি কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Maoha Union, Gouripur
Mymensingh
2270
