28/05/2026
ফতুল্লা থানা পুলিশ কর্তৃক হোসিয়ারী ব্যবসায়ী হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার।
............................................................................
সূত্রঃ ফতুল্লা মডেল থানার মামলা নং-৯৩, তারিখ-২৭/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৮০/৩৪ পেনাল কোড।
ঘটনাস্থলঃ ফতুল্লা থানাধীন ফতুল্লা খান সাহেব আলী ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন বটগাছ তলার পাশে জনৈক সায়িম এর বাড়ীর নিচ তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটে ভিকটিমের হোসিয়ারি কারখানায়।
ডিসিস্ট এর নাম ঠিকানাঃ মোঃ হারুন খালাসী (৪৬), পিতা-মৃত কাদের, মাতা-লুতফা বেগম, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।
বাদীঃ রেখা বেগম (৩৯), জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৮৬৬৯০০১৬৪৯, পিতা-ওসমান সরদার, স্বামী-মৃত হারুন খালাসী, সাং-খালাসী বাড়ী, নগড় জোয়ার, বানারী, থানা-টঙ্গীবাড়ী, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, এ/পি সাং-জালকুড়ি রাব্বানীনগর, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাঃ এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলাম, ফতুল্লা মডেল থানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, মোবা-০১৯১৪-৩৬৪৮১০।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ঠিকানাঃ ১। মোসাঃ মীম (২০), পিতা-মেছের আলী, স্বামী-সোহেল মনির, মাতা-আমেনা, সাং-নাটোপাড়া, ইউনিয়ন- ২নং জামাল ইউনিয়ন, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-ঝিনাইদহ, এ/পি সাং-স্টেডিয়াম এর উত্তর পাশে, ঐক্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র, ৭ম তলা বিল্ডিং এর ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ২। মোঃ রানা হোসেন (২৪), পিতা-মৃত দেলোয়ার মিস্ত্রি, মাতা-কমলা বেগম, সাং-রামকলা, থানা-নীলফামারী সদর, জেলা-নীলফামারী, এ/পি সাং-জালকুড়ি পূর্বপাড়া, জালকুড়ি হাই স্কুলের বাম পাশে, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা নারায়ণগঞ্জদের অত্র থানাধীন লামাপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উদ্ধারঃ নগদ ১,৯০,০০০/- (এক লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা, ডিসিস্ট এর ব্যবহৃত ০৩ (তিন) টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ ডিসিস্ট মোঃ হারুন খালাসী দীর্ঘদিন যাবৎ ফতুল্লা থানাধীন এলাকায় হোসিয়ারী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গত ২৬/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তিনি তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন প্রদানের উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ অফিসে রাখেন। পরবর্তীতে বিকাল বেলায় পরিবা
রের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল হতে সন্দেহজনক বার্তা প্রাপ্ত হয়ে কারখানায় খোঁজ নিতে গেলে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মোঃ হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়া নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে ডিসিস্ট এর স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকালে জানা যায় যে, এজাহার নামীয় আসামি মোসাঃ মীম ও মোঃ রানা ডিসিস্টের হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন। ডিসিস্ট হারুন খালাসী (৪৬) মীম আসামী মীম ছাড়াও কারখানার অন্যান্য মেয়েদের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক করে বলে তা জানতে পারে। ডিসিস্ট আসামি মোসাঃ মীম ও মীমের বোন জিম এর সাথে দৈহিক মেলামেশা করতে চায় কিন্তু ২নং আসামি রানা জিমকে ভালোবাসে এবং ১ন আসামি মীম এর অন্যত্র বিয়ে হয়েছে তাই বিষয়টি আসামিরা সহজে মেনে নিতে পারে নাই। এই ক্ষোভ থেকেই আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ডিসিস্ট হারুন খালাসীকে চায়ের সাথে এক পাতা ১০টি ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে অচেতন করে কারখানায় থাকা হোসিয়ারি কাপড় বাধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ডিসিস্টের মৃত্যু নিশ্চিত করে ডিসিস্ট এর শরীর কারখানায় রাখা কাপড় দিয়ে ডেকে শ্রমিকদের বেতনের ২,৮০,০০০/- (দুই লক্ষ আশি হাজার) টাকা পরস্পর যোগসাজসে চুরি করে বাহিরে থেকে কারখানার দরজা তালা বদ্ধ করে পালিয়ে যায়।
বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, সুযোগ্য পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে জনাব মোঃ শামীম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার "ক" সার্কেল নারায়ণগঞ্জ এর দিক নির্দেশনায় এবং জনাব মোহাম্মদ মাহবুব আলম, অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় এসআই (নিঃ) শামীম হোসেনসহ একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখিত আসামিদের অত্র থানাধীন লামাপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান পরিচালনা করার সময় আসামিদের দেখানো মতে ডিসিস্ট মোঃ হারুন খালাসী (৪৬) এর ব্যবহৃত ০৩ (তিন) টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং শ্রমিকদের বেতনের নগদ-১,৯০,০০০/- (এক লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিজেদের জড়িয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা তৎপর এবং এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।