26/11/2025
সময় থাকলে লেখাটা পড়তে পারেন শেয়ার করতে পারেন।
২০১৫ সালের আগে ভারত হারলে বাংলাদেশে কখনো এমন উৎসব বা ট্রল দেখা যেত না। এমনকি পাকিস্তান সমর্থকরাও ভারত হারলে নাচত না। আজ কেন করছে?
কারণ ধর্ম নয়—কারণ রাজনৈতিক আচরণ, কর্তৃত্ববাদ, অবহেলা আর অসম সম্পর্ক।
একসময় এই দেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতীয় ক্রিকেটকে সমর্থন করত। আজ সেই প্রেম কেন নেই?
কারণ আমরা দেখেছি—তিস্তায় পানি নেই, বর্ষায় ডুবিয়ে দেয়া হয়, বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে হুট করে পণ্যবন্ধ, আর আচরণে সবসময় একতরফা আধিপত্য।
সম্প্রতি ভারতের সিদ্ধান্তে সীমান্ত-বাণিজ্যের অনেক পথ বন্ধ। ভেবেছিল বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাস্তব উল্টো। বাংলাদেশ বিকল্প তৈরি করেছে—নতুন বন্দর, নতুন বাজার, নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার। ভারতের পণ্যের ওপর আগের নির্ভরতা নেই।
বরং ক্ষতিটা হচ্ছে ভারতেরই।
নিউমার্কেট থেকে শুরু করে অসংখ্য হোটেল, শপিং সেন্টার—যাদের ৭০–৮০ শতাংশ ব্যবসা চলত বাংলাদেশি ক্রেতার ওপর—আজ অর্ধেক দোকান বন্ধ। বহু ব্যবসায়ী পেশা বদল করেছে। বর্ডার এলাকার ভারতীয় ব্যবসা প্রায় শেষ হয়ে আসছে। বাংলাদেশের ক্ষতি করতে গিয়ে আজ তারা নিজেরাই হাহাকার করছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
বাংলাদেশের হাজার হাজার রোগী ভারতে ডাক্তার দেখাতে যেত—টাকা দিয়ে। তাদের হাসপাতালগুলো বিপুল অর্থ উপার্জন করত। এটা মানবিক সাহায্য নয়—ব্যবসা ছিল।
এখন ভিসা না দেওয়ায় বহু রোগী যেতে পারছে না। ভেবেছিল এতে বাংলাদেশ বিপদে পড়বে।
কিন্তু বাংলাদেশ বিকল্প তৈরি করেছে—দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছে, কিছু কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, রোগ ধরতে একটু সময় লাগছে, তবু থেমে নেই। পাশাপাশি চায়নার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশিরা।
এতে ভারতের হাসপাতালগুলোই আজ ক্ষতিগ্রস্ত, বহু জায়গায় রোগী সংকটে তারা নিজেরাই হাহাকার করছে।
বাংলাদেশ কাউকে ফ্রি সার্ভিস দিত না। আমরা ডাক্তার দেখাতাম টাকা দিয়ে, ব্যবসার মাধ্যমে।
তবুও ভারত মানবিক দিক থেকেও অমানবিক আচরণ করছে—যে রোগীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তাদেরই ভিসা বন্ধ করে আটকে রাখা হয়েছে।
এইসব আচরণই আজ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব দেখা যায়।
আমরা বাঙালী—অকৃতজ্ঞ নই। ভালোবাসা পেলে দশগুণ ফেরত দিই।
এ কারণেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এই দেশে কোটি সমর্থক পায়, যদিও তারা মুসলিম দেশ নয়।
ধর্ম নয়—আচরণই সম্পর্কের ভিত্তি।
বাংলাদেশ প্রতিবেশি হিসেবে সম্মান চায়—সমান আচরণ চায়।
বন্ধুত্ব জোর করে নয়, ন্যায্যতার মাধ্যমে গড়ে উঠে।
