20/07/2019
Bandar VAT Division, Dhaka -East
জন কল্যাণে রাজস্ব
20/07/2019
17/07/2019
উৎসে মূসক কর্তন: নতুন আইন বনাম পুরাতন আইন
✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️✂️
১। কর্তনের বিধান জারির পদ্ধতি: নতুন আইনে একটি এসআরও প্রজ্ঞাপনের উৎসে মূসক কর্তনের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
পুরাতন আইনে এটি করা হয়েছে একটি আদেশের মাধ্যমে।
২। সরবরাহকারী কর্তৃক চালানপত্র প্রদান: নতুন আইনে উৎসে কর্তনের ক্ষেত্রে চালানপত্র (মূসক-৬.৩) ছাড়া কোন পণ্য বা সেবার গ্রহণ করা যাবে না। আইনে যাই থাকুক না কেন, উৎসে কর্তনের ক্ষেত্রে
পুরাতন আইনে চালানপত্র ছাড়া পণ্য/ সেবার সরবরাহ গ্রহণ বৈধ ছিল।
৩। অনিবন্ধিত ব্যক্তির নিকট থেকে সরবরাহ গ্রহণ নিষিদ্ধ: নতুন আইনে ভ্যাট নিবন্ধিত নয়, এমন ব্যক্তির নিকট থেকে উৎসে কর্তনকারী করযোগ্য পণ্য/সেবা কিনতে পারবেন না।
পুরাতন আইনে এ ধরণের শর্ত ছিল না। নিবন্ধিত হোক বা না হোক যে কারো নিকট থেকে পণ্য/সেবা কেনা যেতো।
৪। উৎসে কর্তনের ক্ষেত্র ও পরিধি: নতুন আইনের ৩য় তফসিলে উল্লিখিত শতাধিক পণ্য/সেবার উপর উৎসে কর্তন প্রযোজ্য।
পুরাতন আইনে কেবল ৩৯ টি সেবার উপর উৎসে কর্তন প্রযোজ্য ছিলো।
৫। ১৫% হারে সরবরাহে উৎসে কর্তনের অপ্রযোজ্যতা: নতুন আইনে যে কোন সরবরাহের ক্ষেত্রে ১৫% হারে মূসক চালানপত্র থাকলে উৎসে কর্তন হবে না।
পুরাতন আইনে এই সুবিধা পেতেন কেবল উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।
৬। সাব-কনট্রাক্টরের বিলে উৎসে কর্তন: নতুন আইনে উৎসে কর্তনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনট্রাক্টর কর্তৃক প্রাপ্ত কার্যাদেশের বিপরীতে সাব কনট্রাক্টর মূসক ৬.৩ সহ কোন সরবরাহ দিলে তাকে উৎসে কর্তন করে সাব কনট্রাক্টরের অনুকূলে কর কর্তন সনদ জারি করতে হবে। ঐ সনদের ভিত্তিতে সাব কনট্রাক্টর দাখিলপত্রে হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করবেন। সরবরাহ গ্রহীতা কর্তৃক কনট্রাক্টরের বিল পরিশোধ কালেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
পুরাতন আইনে কনট্রাক্টর কর্তৃক সাব-কনট্রাক্টরের বিল উৎসে কর্তনের প্রমাণ দাখিল করলে মূল সরবরাহ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎসে কর্তন করতো না।
৭। চালানপত্রবিহীন ক্রয়ে মূল্য পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা: নতুন আইনে চালানপত্র (মূসক ৬.৩) ছাড়া কোন সরবরাহ দেয়া হলে সরবরাহকারীর অনুকূলে মূল্য পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে।
পুরাতন আইনে এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কেবল উৎসে প্রযোজ্য পরিশোধ করতে হতো।
৮। যোগানদার ও নির্মাণ সংস্থা সেবায় ভ্যাটের হার: নতুন আইনে যোগানদার ও নির্মাণ সংস্থা উভয় ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ৭.৫%।
পুরাতন আইনে নির্মাণ সংস্থায় ৭% এবং যোগানদার সেবায় ৫% উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য ছিলো।
৯। সরবরাহকারীর ভ্যাট নিবন্ধনের আবশ্যকতা: নতুন আইনে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া টেন্ডার বা কার্যাদেশের বিপরীতে পণ্য/সেবা সরবরাহ করা যাবে না।
পুরাতন আইনে টার্নওভার কর ও কুটির শিল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিও টেন্ডার বা কার্যাদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করতে পারতো।
১০।সরকারি দপ্তরের বিলে উৎসে কর্তন: নতুন আইনে অনিবন্ধিত ক্রেতা যেমন: সরকারী. আধা সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিল পাসের সময় উৎসে কর্তন নিশ্চিত করবেন সরকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এবং বিল প্রেরণকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ভ্যাট অনলাইন সিস্টেমকে ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে জানানোর বিধান করা হয়েছে।
পুরাতন আইনের অধীনে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও তা আইনে উল্লেখ ছিল না এবং ভ্যাট অনলাইন সিস্টেমকে জানানোর আবশ্যকতা ছিল না।
১১। উৎসে কর কর্তন সনদ: নতুন আইনে সরবরাহ গ্রহণকারী বা ক্রেতা কর্তিত ভ্যাট ট্রেজারী চালানে জমা প্রদান নিশ্চিত করে মূসক ৬.৬ এর মাধ্যমে সরবরাহকারীর অনুকূলে উৎসে কর কর্তনের সনদ জারি করবেন। এই সনদে ভ্যাটসহ সরবরাহের মূল্য লিখতে হবে।
পুরাতন আইনে সরবরাহ গ্রহণকারী বা ক্রেতা কর্তিত ভ্যাট ট্রেজারী চালানে জমা প্রদান নিশ্চিত করে মূসক ১২খ এর মাধ্যমে সরবরাহকারীর অনুকূলে উৎসে কর কর্তনের সনদ ইস্যু করতে হতো। কর কর্তন সনদে ভ্যাট ব্যাতীত সরবরাহের মূল্য লিখতে হতো।
১২। উৎসে কর্তনকারী সত্ত্বা: নতুন আইনেসরকারী প্রতিষ্ঠান, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী সংস্থা (এনজিও), ব্যাংক, বীমা বা অন্যকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি ও মাধ্যমিকোত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎসে মূল্য সংযোজন কর উৎসে আদায়/ কর্তনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
পুরাতন আইনে সরকারী প্রতিষ্ঠান, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী সংস্থা (এনজিও), ব্যাংক, বীমা বা অন্যকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, লিমিটেড কোম্পানি, ১(এক) কোটি টাকার অধিক বার্ষিক টার্নওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠান] এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎসে মূল্য সংযোজন কর উৎসে আদায়/ কর্তনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।
১৩। উৎসে কর্তনের সময়: নতুন আইনে উৎসে কর্তনকারী সত্তা কর্তৃক সরবরাহের মূল্য পরিশোধের সময় উৎসে কর কর্তন হবে।
পুরাতন আইনেও অনুরূপ বিধান ছিলো।
১৪। ট্রেজারী চালান জমা দেয়ার সময়: নতুন আইনে উৎসে কর্তনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে ভ্যাট জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে পুরাতন আইনেও একই বিধান ছিল।
১৫। উৎসে কর কর্তন সনদ ইস্যুর সময়: নতুন আইনে ট্রেজারি চালান জমা দেয়ার পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে উৎসে কর্তন সনদ ইস্যু করতে হবে।
পুরাতন আইনেও একই বিধান ছিল ।
১৬। দাখিলপত্র দাখিল: নতুন আইনে টেন্ডার বা দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হলে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যক্তিকে প্রতি মাসে মূসক ৯.১ ফরমে দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। যথাসময়ে দাখিলপত্র দাখিল না করলে ভ্যাট অনলাইন সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন অকার্যকর হয়ে হবে। তিনি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
পুরাতন আইনেও নিবন্ধিত সরবরাহকারীর প্রতি মাসে দাখিলপত্র জমা দেয়ার বিধান ছিল। তবে ভ্যাট অনলাইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন অকার্যকর করার কোন পদ্ধতি ছিল না।
১৭। হ্রাসকারী ও বৃদ্ধিকারী সমন্বয়: নতুন আইনে উৎস কর্তনের প্রতিটি ঘটনায় নিবন্ধিত বিক্রেতা বা সরবরাহকারী যে কর মেয়াদে উৎসে কর্তনের বিপরীতে কর কর্তন সনদ (মূসক ৬.৬) পাবেন, সেই করমেয়াদে বা পরবর্তী কর মেয়াদের মধ্যে সরবরাহকারী ব্যক্তি উৎসে কর্তিত অর্থের সমপরিমাণ একটি হ্রাসকারী সমন্বয় করবেন। অপরদিকে, নিবন্ধিত উৎসে কর্তনকারী বা ক্রেতা যে করমেয়াদে সরবরাহের মূল্য পরিশোধ করে ট্রেজারি চালানে কর পরিশোধ করেন, সেই করমেয়াদে দাখিলপত্র কর্তিত ভ্যাটের সমপরিমাণ বৃদ্ধিকারী সমন্বয় করবেন।
পুরাতন আইনে এই সমন্বয়গুলো করতে হতো। তবে চালানপত্র (মূসক ১১) ছাড়া সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর হ্রাসকারী সমন্বয় প্রযোজ্য ছিল না।
১৮। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট ইত্যাদির ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট আদায়: নতুন আইনে সরকারী, আধাসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন,পারমিট ইত্যাদি সুবিধা প্রদান বা নবায়নকালে এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও অন্য কোনো সংযোগ বা সুবিধা আইনের ধারা ২ এর দফা(১০০) অনুযায়ী সেবা সরবরাহ বলে বিবেচিত হবে। এসব সুবিধা প্রদানকারী সত্তাকে ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত হয়ে ভ্যাট আদায় করতে হবে।
পুরাতন আইনে সরকারী, আধাসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন,পারমিট ইত্যাদি সুবিধা প্রদান বা নবায়নকালে এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও অন্য কোনো সংযোগ প্রদানকালে এরূপ সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তির নিকট হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের ওপর ১৫% হারে উৎসে ভ্যাট আদায় করতো।
১৯।জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, পানি ইত্যাদি পরিসেবার ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন : নতুন আইনে ভ্যাট কাটতে হবে না।
পুরাতন আইনেও কাটতে হতো না।
২০।শূন্য হারের সরবরাহে উৎসে কর্তনের অপ্রযোজ্যতা: নতুন আইনে শূন্য হারে সেবা/পণ্য সরবরাহ দিলে উৎসে কর্তন করতে হবে না। রপ্তানি ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য হার প্রযোজ্য।
পুরাতন আইনে এ বিধান ছিল না।
২১।ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহে উৎসে কর্তনের অপ্রযোজ্যতা: নতুন আইনের ১ম তফসিল দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত উভয় ধরণের সরবরাহের ক্ষেত্রেই উৎসে ভ্যাট কর্তন প্রযোজ্য নয়। তবে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের বিপরীতে সরবরাহকারীকে অবশ্যই মূসক ৬.৩ বা চালানপত্র ইস্যু করতে হবে।
পুরাতন আইনেও অনুরূপ বিধান ছিলো।
২২।স্থান ও স্থাপনা ভাড়ায় উৎসে কর্তন: নতুন আইনে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার উপর উৎসে ভ্যাট কর্তনের বিধান করা হয়েছে। যদিও এর কোন প্রয়োজন ছিল না। কারণ আলোচ্য সেবার ব্যাখ্যা অনুযায়ী ভাড়া গ্রহণকারী বা ক্রেতা নিজেই ভ্যাট দেবেন, পূর্বে যেমন দিয়ে এসেছেন।
পুরাতন আইন অনুযায়ী স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারী সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর্তনের বিধান ছিল না।
©️ Akm Mahbubur Rahman
20/06/2019
Daily Nayadiganta
বাবা আমার অহঙ্কার আমার গর্ব : আরজিনা খাতুন, সহকারী কমিশনার, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা
১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০
-
আমার স্নেহশীল বাবার নাম আহমেদ আলী। মা-মতি বেগম। আমরা দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আমি বড়। আমার বাবা ছিলেন একজন সৎ হতদরিদ্র সাধারণ কৃষক। যার কাজ নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। ছোট্টবেলায় ভীষণ অভাব-অনটনে আমার বেড়ে ওঠা। আমার বাবার বয়স যখন মাত্র ১৩-১৪ বছর, তখন বজ্রপাতে দাদা মারা যান। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দাদীও মারা যান। কিশোর বাবার ওপর তখন দেড় বছর, তিন বছর, পাঁচ বছরের ভাইবোনদের দায়িত্ব। দাদার নিজের কিছু জমিজমা ছিল কিন্তু কোথায় কেমন অবস্থায় আছে তা জানা বা বোঝা বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই নিজে গতর খেটে ভাইবোনদের কোনো মতে বড় করে তোলেন। আমার বাবা লেখাপড়া জানতেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত একজন মানুষ, যিনি আমার সার্বক্ষণিক গাইড, বন্ধু ও ফিলোসফার। আমার বাবার প্রতিটি শব্দে, আচরণে ছিল বিশাল ব্যক্তিত্বের আভাস। তিনি ধানক্ষেতে কাজ করলেও তার মেয়েকে নিয়ে ছিল আকাশচুম্বী স্বপ্ন। আমার স্বপ্নচারী বাবা ভাবতেন আমি তার রাজকন্যা। বাবা আমার মুখ দেখে ভীষণ খুশি হয়ে বলেছিলেন, দেখো, আমার মেয়ে একদিন এই গ্রামের নাম উজ্জ্বল করবে। ঠিক তাই। আমার গ্রামে আমিই প্রথম এসএসসি, অনার্স-মাস্টার্স ও বিসিএস ক্যাডার হয়েছি। আমাদের গ্রামের নাম তালুকপাড়া, থানা-বালিয়াকান্দি, জেলা-রাজবাড়ী। আমি যে গ্রামে বাস করতাম, সেটা ছিল বাংলাদেশের অত্যন্ত অনুন্নত বিল হাওর এলাকা। আমাদের বাড়িটার দুই দিকে বিল, পানিতে থৈ থৈ মাঝখানে ছোট্ট বেড়া, ছন, বাঁশকাঠির ঘর, কোনো মতে জীবনযাপন করা। শুষ্ক মওসুমে বাবা ধান, সবজি চাষ করে টাকা-পয়সা উপার্জন করতে পারতেন কিন্তু বর্ষায় আমাদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। বাবা তখন বিল থেকে মাছ মেরে বাজারে বিক্রি করে খাবারের ব্যবস্থা করতেন। আমার যখন ৫-৬ বছর বয়স। বাবা তখন আমাকে আদর্শলিপি কিনে দেন। আমি যথারীতি বাড়ি থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরের এক স্কুলে ভর্তি হই, ইসলাম মোল্লা নামের চাচার মাধ্যমে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে। সেই থেকে পথ চলা। প্রতিদিন অন্ধকার থাকতে একা একা স্কুলে চলে যেতাম। দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার পরই ছিল বিশাল হাইওয়ে। বড় বড় ট্রাকগুলো যখন বিকট আওয়াজ করে আসতে থাকত, তখন আমার ছোট্ট বুকটা থরথর করে কাঁপত। আমি ভয়ে আতঙ্কে রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে মাথা নিচু করে কান বন্ধ করে শুয়ে পড়তাম। আমার স্কুল টাইম খুব সম্ভব সকাল ৯টার দিকে ছিল কিন্তু আমি রওনা দিতাম ভোর ৬-৭টার দিকে। তা না হলে ক্লাসে পৌঁছা যেত না। এমনি করে কোনো মতে ক্লাস টু-থ্রিতে পড়ার সময় একদিন ক্লাসে পড়া না পড়ার কারণে ও খারাপ রেজাল্ট করার জন্য শ্রেণী শিক্ষক আমাকে এমন মার মারলেন যে আমার শরীর, হাত-পা দিয়ে রক্ত ছুটে গেল। পরে ১৫-২০ দিন আমি বিছানা থেকেই উঠতে পারিনি। বাবা সব শুনে শিক্ষকের ওপর এতটুকু রাগ করলেন না বরং বললেন, স্যার তো ঠিকই করেছেন। আমার মনেও জিদ চাপল আমি পড়া কেন পারব না। আসলে আমি পড়াশোনা করতাম কিন্তু সেটা প্রপার ওয়েতে হতো না। ক্লাসে শিক্ষকেরা কী পড়াতেন সেটাও আমি বুঝতাম না। তা ছাড়া বাসায় পড়া বলে দেয়ার মতো এমন কোনো মানুষ আমার পাশে ছিল না। অতঃপর বাবা তার ফুফাতো ভাই আফজাল চাচাকে আমাকে পড়াতে অনুরোধ করলেন। আমি কয়েক গ্রাম পার হয়ে চাচার বাসায় পড়তে গেলে চাচীও আমাকে পড়াতেন রান্না করতে করতে। মা তখন চাচীর হাত ধরে বললেন, ‘বু আমাদের তো কিছু নাই, আপনাকে কী আর দেবো? তবে বছর শেষে আমি আপনাকে একটা নাক ফুল বানিয়ে দেবো।’ চাচী খুব ভালো মানুষ, এসএসসি পাস ছিলেন। তিনি আমাকে খুব ভালোবেসে পড়াতেন। তার পর থেকে আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি রাত জেগে পড়াশোনা করতাম, মা-বাবা দুইজনই আমার সাথে জেগে থাকতেন। কখনো বাতাস করতেন কখনো কুপি নিভে গেলে তা জ্বালিয়ে দিতেন। ক্ষুধা লাগলে মুড়ি চিঁড়া খেতে দিতেন। ক্লাস থ্রির পড়া শেষ করতে করতেই পাশের গ্রামে এমপিওভুক্ত একটা স্কুল হয়। নাম কাশেম মণ্ডল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওখানে আমি ক্লাস ফোরে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ওই স্কুলের আলম স্যার আর হাশেম স্যার আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে নেন অর্থাৎ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই আমাকে পড়াতেন স্কুল ছুটির পর। ক্লাস এইটে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার পর হাইস্কুলের শিক্ষকদের নজরে পড়ি। তারাও আমাকে পড়ার ব্যাপারে সাহায্য করেন। বিশেষ করে শহীদুল ইসলাম স্যার। আমার ছোট দুই ভাই মতিউর রহমান ও রবিউল ইসলাম এসএসসি পাস করার পর নন কমিশন র্যাংকে আর্মিতে যোগদান করেন। আমি অনার্স মাস্টার্স পড়ার সময় পরীক্ষার ফি, ঢাকায় আমার খরচ সবাই মিলে চালাত। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার উঠে আসার পেছনে বাবা-মা, ভাই, শিক্ষক, চাচা-চাচী, আমার স্বামী আবু হেনা মো: রউফ উল আজমের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।
বিয়ের সময় আমি অনার্স তৃতীয়বর্ষের ছাত্রী। সুতরাং স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া বিসিএস ক্যাডার হওয়াও এত সহজ ছিল না। তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। আমার যখন বয়স ৬-৭ বছর, তখন বাবা মাঠে কাজ করতেন। আমি স্কুল থেকে ফিরে বাবার জন্য দুপুরের ভাত নিয়ে যেতাম। একটু বড় হতেই বাবার সাথে আমি ধান বুনতাম, ধান কাটতাম। কখনো সবজি বাগান পরিষ্কার করতাম। বাবা বলতে, মা তুই পারবি না, ওটা আমিই করে নেবো নিই। তুই বরং আমার পাশে বসে থাক। অনেক দূর পথ হেঁটে আসতাম বলে বাবার মুখটা কেমন মলিন হয়ে যেত। বাবা আমার ঘামঝরা মুখটা মুছে দিতেন। বাবা খেতে বসলে আমিও বাবাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতাম। কখনো কাপড় দিয়ে বাবার মাথাটা ঢেকে রাখতাম, যাতে দুপুরের কড়া রোদ থেকে একটু সময়ের জন্য বাবা আরাম করে ভাত খেতে পারেন। আমি জোর করে যখন ধান কাটতাম, তখন বাবা অবাক চোখে তাকিয়ে দেখতেন। কখনো বাবার চোখ বেয়ে তপ্ত পানি গড়িয়ে পড়তেন। বর্ষাকালে জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেলে বাবা হাটবারের দিন পেঁয়াজ রসুন-আদা কিনে আনতেন। আমি বাসায় বসে সেগুলো মায়ের সাথে পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রি করতাম। এভাবেই আমাদের সংসার কোনো মতে চলত।
গ্রামের লোকেরা বলতেনÑ মেয়ে মানুষ দু’দিন পর পরের বাড়ি চলে যাবে। এত লেখাপড়া করিয়ে কী হবে? অথচ বাবা বলতেন আমার জন্য না হোক, আমার মেয়ে তার সন্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠুক! প্রজন্মের পর প্রজন্ম আর কত কষ্ট সইবে? তা না হলে জীবন তো জীবনের কাছে ফিরে আসবে না। বাবার এই দূরদর্শিতা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিত। আজো ভাবি বাবা এতটা ফিলোসফার কি করে হয়েছিলেন, তিনি তো কখনো প্রাইমারি স্কুলও পাড়ি দেননি।
বাবার ধৈর্য, অদম্য মনোবল আজো আমাকে শক্তি জোগায়। ছোট্টবেলা থেকে আমার প্রতিটি রেজাল্টের সময় বাবার সে কী খুশি! সেই খুশি যেন বেহেশতের সুখের চেয়েও অধিক মূল্যবান। আর তাই এত কষ্ট প্রতিকূলতার মধ্যেও বাবার জন্য আমার এগিয়ে যাওয়া। বাবা আমাকে কখনো বুঝতে দেননি আমি তার মেয়ে; বরং বুঝিয়েছেন আমি তার যোগ্য সন্তান। ছেলেমেয়ে যে আলাদা কোনো ব্যাপার নয়, বিষয়টা আমি আমার বাবার কাছ থেকেই শিখেছি।
আমি ৩১তম বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডার। যেদিন প্রথম আমি জানলাম সত্যিই আমি বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছি। বাবাকে ফোনে প্রথম খবরটা জানালাম। বাবাতো খুশিতে আত্মহারা। তিনি বারবার বলছিলেন মা, তুই সত্যি অফিসার হয়েছিস? বাবা অবশ্য বিসিএস ক্যাডার সম্পর্কে জানেন না কিন্তু মেয়ে তার সরকারি অফিসার হয়েছে এটা বুঝতে পেরেছেন। আমার বাবা খুব আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ। সব সময় বাবার আদর্শ ন্যায়নীতি বোধ, সৎ উপদেশ আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
অনুলিখন : রুমা ইসলাম
25/04/2019
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (পূর্ব) ঢাকা এর সুযোগ্য ও সম্মানিত কমিশনার জনাব মোঃ #জামাল হোসেন স্যারের দিকনির্দেশনায় বন্দর ডিভিশনের বিভাগীয় কর্মকর্তা মিজ #আরজিনা খাতুন ম্যাম অত্র বিভাগের অধিক্ষেত্রভূক্ত নৌবাহিনী ডকইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি তাদের নৌযান তৈরী পদ্ধতি ও মেরামত কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।এছাড়াও বিভাগীয় কর্মকর্তা তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন। আলোচনায় তিনি ডকইয়ার্ড ও নৌযানের ভ্যাট পরিশোধ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে অত্র বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্থির চিত্রঃ
04/10/2018
৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলায় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বন্দর বিভাগের অংশগ্রহণ।
24/09/2018
08/08/2018
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা(পূর্ব), ঢাকা এর সুযোগ্য কমিশনার জনাব মো: জামাল হোসেন মহোদয় এর দিকনির্দেশনা অনুসারে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অংশ হিসেবে অদ্য ৮ আগস্ট ২০১৮ খ্রি: রোজ বুধবার কাঁচপুরের বিসিক শিল্প নগরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন বন্দর বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।
08/07/2018
বন্দর বিভাগে যোগদানকৃত অফিস সহায়ক এবং সিপাহীদের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বন্দর বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা জনাব প্রদীপ কুমার দে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তাবৃন্দ।
03/07/2018
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা(পূর্ব), ঢাকা এর সুযোগ্য কমিশনার জনাব মো: জামাল হোসেন মহোদয়ের দিক নির্দেশনা অনুসারে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্দর বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড ও শীপ বিল্ডিং প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনকালে কিছু চিত্র নিম্নরূপ।
30/06/2018
ঢাকা(পূর্ব) কমিশনারেটের সুযোগ্য কমিশনার জনাব মোঃ জামাল হোসেন মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসারে অদ্য ৩০/০৬/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ বন্দর বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সরকারী রাজস্ব আহরণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুসারে রাজস্ব জমা দেয়ার ব্যাপারে জোড় তাগিদ দেয়া হয়।
26/06/2018
বন্দর বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ বন্দর স্টীল ইন্ডাঃ পরিদর্শন করেন। বন্দর স্টীল ইন্ডাঃ এর পরিচালক জনাব মোঃ আক্তার সাহেবের সাথে মতবিনিমিয় করে, কিভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব জমা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
12/06/2018
বন্দর বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তা অদ্য ১২/০৬/২০১৮ খ্রি: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট অনুসারে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের যথাযথ শুল্ক আদায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হচ্ছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Bandar
Narayanganj
1410
