আপনি কি বিষন্নতা রোগের রোগী ?
---------------------------------------------------
বিষন্নতা একটি রোগ। আর যারা বিষন্নতায় ভোগে, তাদের বোনাস হিসেবে আরেকটি রোগ হয়। তা হলো অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়া। এর দুটি ধাপ আছে। দ্বিতীয় বা এ্যাডভান্স ধাপটি ভয়ংকর। এরা নিজে অন্যকে কষ্ট দেয়, আর আনন্দ নেয়। যেমন, কেউ অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে, লুকিয়ে বা প্রকাশ্যে টেকনিক করে। কেউ আশপাশের মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। কেউ বাসের সীটে বসার সময় পা এমন ভাবে ছড়িয়ে বসে, যেন পাশের জনের বসতে কষ্ট হয়। এমন কি নামাজেও এমন ভাবে দাঁড়ায় বা বসে, যেন পাশের জনের বসতে অসুবিধা হয়। কেউ দুর্বল বা অধীনস্থকে আঘাত করে। এমনকি রোগের চুড়ান্ত পর্যায়ে কেউ মানুষকে কঠিন টর্চার করে। করতে করতে হত্যাও করে ফেলে। সাইকোপ্যাথির নামতো আপনারা অবশ্যই শুনেছেন।
যদিও এমন ধরণের রোগী সংখ্যায় কম, কিন্তু এই রোগের প্রাথমিক ধাপে আমরা বেশিরভাগ মানুষ অবস্থান করছি। কারণ, বেশীরভাগ মানুষই কোন না কোন ভাবে বিষন্ন। চাওয়া পাওয়ার একটা বিশাল পার্থক্য প্রায় লোকের মধ্যেই বিরাজমান। কিছু না কিছুর অভাবে আমরা প্রায়ই ভুগছি। আপনি জীবনে যা চেয়েছেন, তা পাননি। এখন হতাশায় ভুগছেন। ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। হতে পারে আপনি লোক দেখানো ধর্ম পালন করছেন।
এই রোগের প্রাথমিক ধাপের লক্ষণ হচ্ছে, নিজে সরাসরি কষ্টের কারণ না হলেও অন্যের কষ্ট দেখা আনন্দ পাওয়া। যেমন, রাস্তায় হঠাৎ দেখলেন দুজন লোক ঝগড়া করছে। ওদের ঝগড়া আপনি উপভোগ করছেন। আপনার মন চাইবে, ওরা মারামারি করুক। কিংবা মারামারি শুরু হয়ে গেলে তাদেরকে বাধা দেয়ার পরিবর্তে আপনি দাঁড়িয়ে মজা দেখবেন। আসলে আপনি বিষন্নতা রোগের রোগী। পকেটমার ধরা পড়েছে, কিছু লোক তাকে মারছে। আপনি সেটা উপভোগ করছেন। বা, নিজে গিয়ে দুটি ঘুষিও দিলে এলেন।
আবার ধরুন, আপনি ব্রাজিলের সাপোর্টার। এখন আর্জেন্টিনা যদি কোন দলের সাথে খেলে জিতে যায়, তাহলে আপনার কষ্ট হয়। আর হেরে গেলে আনন্দ হয়। ব্রাজিলে আপনার কোন বন্ধুও নেই, আর আর্জেন্টিনায় আপনার কোন শত্রুও নেই। আর্জেন্টিনার হার-জিতের সাথে আপনার বা ব্রাজিলের কোন লাভ-ক্ষতিও নেই। তারপরও আপনার কষ্ট বা আনন্দ হচ্ছে। আসলে আপনি বিষন্নতার রোগী। আপনার অনেক কষ্টকে আপনি এটা দিয়ে কভার করছেন। এটা, শুধু ব্রাজিল বলে নয়, আপনি আর্জেন্টিনা, ভারত, পাকিস্তান বা অন্য যেকোন দলের সাপোর্টার হলেও যদি এমন অহেতুক কষ্ট বা আনন্দ আপনাকে পেয়ে বসে, তাহলেই বুঝবেন, আপনি অসুস্থ।
এই রোগীরা আবার, কারণে অকারণে অন্যকে উপহাস করে। যেমন, আপনি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। এখন ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জার্মানির কাছে হেরে গেল। এতে আর্জেন্টিনার কী লাভ হলো? কিন্তু আপনি ব্রাজিলকে নিয়ে উপহাস করবেন, ব্রাজিলের সাপোর্টারদের নিয়ে উপহাস করবেন। আসলে ব্রাজিলের সাথে আপনার কোন শত্রুতা নেই। আপনি উপহাস করবেন এই কারণে, যেন ব্রাজিলের সাপোর্টাররা কষ্ট পায়। ওদের সাথেও আপনার আসলে তেমন কোন শত্রুতা নেই। কিন্তু তারপরও আপনি ওদেরকে উপহাস করবেন, কারণ আপনি বিষন্নতার রোগী।
একই কথা কিন্তু অন্য দলের সাপোর্টারদের জন্যও প্রযোজ্য। দল কোনটি, তা বিষয় নয়, রোগের লক্ষণটি বিষয়। তাই, এমন লক্ষণ আপনার মধ্যে থাকলে ভয়ংকর অবস্থায় যাওয়ার পূর্বেই মানসিক ডাক্তারের শরনাপন্ন হউন।
Road to Jannah
সামাজিক সচেতনতা এবং আর্থিক সহযোগিতা ?
মৃত্যুর পরে আপন স্বজনদের সাথে দেখা হয় কি না?
প্রিয়জন থেকে পাওয়া মেসেজ ও জীবনের সমীকরণ
--------------------------------------------------------
স্কুলে থাকতে আমরা এক ধরণের অংক করতাম। কোন একটি অংকের ফল বের করার জন্য প্রথমে কল্পনা করতাম, মনে করি উত্তরটি এক্স (x)। এরপর অংকে দেয়া বিভিন্ন তথ্যের উপর সমীকরণ তৈরী করে এক্স (x) এর মান বের করা হতো। আমিও আমার লেখায় মাঝে মাঝে কল্পনা করতে বলি, যেন আমরা জীবনের সমীকরণের ফলাফল বের করতে পারি।
তেমনি আজও একটু কল্পনা করি। মনে করুন, আপনার খুব প্রিয় একজন মানুষ আছেন। তার প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসা, হৃদয়ের সম্পর্ক। একদিন সেই প্রিয় মানুষটির জন্য আপনি একটি চিঠি লিখলেন, বা একটি ইমেইল, বা সামান্য মেসেজও হতে পারে। পরম মমতায়। সেখানে হৃদয় নিংড়ানো নির্ঝাস ঢেলে আপনি কিছু কথা লিখলেন। আপনার ভালো-লাগা মন্দ লাগা, তাকে আপনি কত্তো ভালো বাসেন, তার কাছ থেকে কেমন ভালোবাসা আশা করেন, সব।
আপনি সেই চিঠি তাকে পাঠালেন। সেটি তিনি হাতেও পেলেন। কিন্তু আপনি জানলেন, সেই মানুষটি এর প্রতি কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আপনার কি খারাপ লাগবে না ?
কিংবা, তিনি মাঝে মাঝে বা বছরে একবার আপনার সেই আবেগকে অনুধাবন না করে, না বুঝে একটি রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে শুধু মন্ত্রের মতো পড়ে যায়। দায় সারবার জন্য। ভুল বা হাস্যকর উচ্চারণে। তখন আপনার কেমন লাগবে।
কিংবা, আপনার সেই কথাগুলোকে জীবিকার জন্য বিক্রি করে। তখন, কেমন লাগবে ?
যদি আপনার ভালো লাগে, আমার কিছু বলার নেই। আর যদি কষ্ট লাগে, তাহলে আজই ক্বুরআনটা হাতে নিন। একটু একটু করে হলেও বুঝে পড়তে শুরু করুন। একেবারে প্রথম থেকে। সুন্দর উচ্চারণে। অনুভব করার চেষ্টা করুন, অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক স্থাপন করুন। জীবনের সমীকরণটা বুঝার চেষ্টা করুন। সমাধান পেয়েও যেতে পারেন।
প্রভূ যদি আপনার প্রিয় হয়, তাহলে তাকে চেনার চেষ্টা করুন। তাঁকে ভালোবাসার চেষ্টা করুন, তাঁর ভালোবাসা পেয়ে যাবেন। জীবন পাল্টে যাবে। এই জীবন আর ওই জীবন, দুটোই।
যখন প্রচন্ড কম্পনে যমীন প্রকম্পিত হবে।
আর যমীন তার বোঝা বের করে দেবে,
আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল?’
সেদিন যমীন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
যেহেতু তোমার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা আল যিলযাল (১-৫)
25/09/2022
18/09/2022
بسم الله الرحمٰن الرحيم
02/08/2022
রোড টু জান্নাহ (Road to Jannah)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
ভূমিপল্লী, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
Narayanganj
