02/06/2026
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আর কত বিলম্ব?
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আবারও আগামী ১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি, দাখিল হয়নি চূড়ান্ত প্রতিবেদন। বিচারপ্রত্যাশী পরিবার ও সচেতন নাগরিকদের কাছে এটি শুধু হতাশার নয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক নির্মম উদাহরণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এই মামলায় ১০৪ বারেরও বেশি সময় নেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ অপহরণের পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও অধরাই রয়ে গেছে। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বারবার সময় নেওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলে কার স্বার্থে এই বিলম্ব?
ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বারবার বলেছেন, তদন্ত সংস্থার গড়িমসির কারণেই বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। একটি হত্যা মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে যদি এক যুগেরও বেশি সময় লাগে, তবে তা বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
আমাদের দাবি—
✊ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
✊ তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে আদালতে দাখিল করতে হবে।
✊ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তি ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
✊ বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে।
ত্বকীর জন্য বিচার চাই।
বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হই।
#বিচার_চাই #ত্বকী_হত্যার_বিচার
01/06/2026
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বন্ধ কর, জনগণের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করো না
ঈদের আগে এক দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আবারও ‘সমন্বয়’-এর নামে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক।
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ ও শিল্পখাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির যাতাকলে সাধারণ মানুষ আরও পিষ্ট হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথাকথিত গণশুনানিতে ভোক্তা প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। তারা রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ এবং সিস্টেম লসের নামে দুর্নীতি ও অপচয় রোধের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য কমানোর পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বারবার দাম বাড়ানোর পথ বেছে নিচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প, কৃষি, পরিবহনসহ অর্থনীতির সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম সংকটে ঠেলে দেবে।
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং জনগণের স্বার্থে জ্বালানির দাম কমানোর জোর দাবি জানায়।
#জ্বালানি_তেলের_দাম_বৃদ্ধি_প্রত্যাহার_কর #মূল্যস্ফীতি_রোধ_কর #গণতান্ত্রিক_যুক্ত_ফ্রন্ট #জনগণের_স্বার্থে_জ্বালানির_দাম_কমাও
31/05/2026
🎭 মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী স্থগিত: চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
আজ (৩১ মে ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে গত ৩০ মে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা থাকলেও তথাকথিত “কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ”-এর নামে সংগঠিত একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর অপপ্রচার ও চাপে প্রশাসন প্রদর্শনী স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা এই সিদ্ধান্তকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির হিসেবে অভিহিত করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনা নয়; বরং দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা, মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ। তারা অভিযোগ করেন, উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল মেলা, শিল্প-সাহিত্য চর্চা ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। মাজারে হামলা, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, নারীদের খেলাধুলা বন্ধের চেষ্টা এবং মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর আক্রমণ তারই বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-এর স্মৃতি ও সংগ্রহশালার ওপরও অতীতে হামলা চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন, অসহিষ্ণু ও সংস্কৃতিবিরোধী শক্তি সমাজে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ বলেন, “ধর্মান্ধ ও ফ্যাসিবাদী শক্তি কখনও মুক্তচিন্তা, শিল্প-সাহিত্য কিংবা সংস্কৃতির বিকাশ মেনে নিতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়েছে এবং আজও বিভিন্ন নামে-বেনামে সমাজে বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”
তারা দেশপ্রেমিক, প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও মুক্তচিন্তার সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রতিটি সমাজে এবং রাজপথে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধেই সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার পরাজয় নিশ্চিত হবে।
সাংস্কৃতিক চর্চার স্বাধীনতা রক্ষা করো।
মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলো। ✊🎭
— চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
বার্তা প্রেরক: জসিম উদ্দিন
দপ্তর সম্পাদক
চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
26/05/2026
🔥 ঈদের আগে বেতন-বোনাস বঞ্চনায় ফুঁসে উঠল শ্রমিকরা, অবরুদ্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক!
ঈদের আগে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট ও চরম ভোগান্তি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে চৈতী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার ঈদের আগে ২০ দিনের বেতন ও পূর্ণ বোনাস দেওয়ার নির্দেশ দিলেও মালিকপক্ষ তা অমান্য করেছে। প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাওনার বিপরীতে মাত্র ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা ঈদের পরে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন।
বিক্ষোভের কারণে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা দীর্ঘসময় আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এক নারী শ্রমিকের কণ্ঠে উঠে আসে অসহায় বাস্তবতা
“ঈদের আগে বাচ্চাদের জন্য নতুন কাপড় কিনব কীভাবে? সংসার চালাবো কী দিয়ে? বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামছি।”
পরে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
✊ শ্রমিকের ঘামে শিল্পকারখানা চলে, অথচ ঈদের আগে তাদের ন্যায্য পাওনাও নিশ্চিত হয় না—এ লজ্জা পুরো সমাজের।
অবিলম্বে শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন, বোনাস ও সকল বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।