ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করা, যাকাত আদায় করা, হাজ্জ (হজ/হজ্জ) পালন করা এবং রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। (বুখারী, মুসলিম)[1]
এ হাদীসে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভকে এমন দালানের বা তাঁবুর সাথে তুলনা করা হয়েছে যা পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের স্তম্ভগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হলো শাহাদাহ্ তথা আল্লাহর একত্ববাদ ও তার রসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়া। যেমনটি তাঁবুর পাঁচটি খুঁটির মধ্যে তার মধ্যস্থলের খুঁটিটি অন্যান্য খুঁটির কেন্দ্রবিন্দু। ঈমানের অন্যান্য শাখা প্রশাখা তাঁবুর পেরেকের ন্যায় যা তাকে পূর্ণতা দান করে। যদি তাঁবুর পেরেকগুলোর কোন একটি নাও থাকে তাহলে তাঁবুর মধ্যে অসম্পূর্ণতা থাকবে যদিও তা দন্ডায়মান থাকবে। তবে পাঁচটি খুঁটির একটিও না থাকে তবে তাঁবু আর দন্ডায়মান থাকবে না। অনুরূপভাবে ইসলামের সবগুলো স্তম্ভ হারিয়ে গেলে ইসলাম থাকবে না। তেমনি আল্লাহর একত্ববাদ ও রসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য বাদ দিলে ইসলাম বিদূরীত হয়ে যাবে।
তবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কিছুসংখ্যক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিদ্বানের মতে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরী। তারা একাধিক হাদীস দ্বারা এর প্রমাণ পেশ করেছেন যা সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির বলে প্রমাণ করে। মুহাম্মাদ বিন নাসর বলেনঃ অধিকাংশ হাদীস বিশারদের অভিমতও তাই। আর তাদের একদলের মতে, যে ব্যক্তি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কোন একটি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে সে কাফির হয়ে যাবে।
ইমাম নাবাবী বলেনঃ শাহাদাতায়নের মাধ্যমেই বাহ্যিকভাবে কোন লোক ইসলামের গণ্ডীরমধ্যে আছে বলে সাব্যস্ত হয়। এই শাহাদাতায়নের সাথে সালাত ও অন্যান্য স্তম্ভকে তার দিকে নিসবাত করা হয়েছে এজন্য যে, তা ইসলামের সর্বাপেক্ষা বাহ্যিক আলামত। তা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তার ইসলাম পূর্ণতা লাভ করে। কোন ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করলে সে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলেছে বলে অনুভূত হয়। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ভিত্তি ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত বস্তু এক নয়। তাহলে এর জবাব হলো সবগুলো স্তম্ভের সমন্বয়েই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। এর কোন একটি বাদে সবগুলো পাওয়া সম্ভব নয়। অথবা বলা যায় যে, ইসলাম অর্থ সাধারণভাবে আত্মসমপর্ণের নাম, বিশেষ কোন আত্মসমর্পণের নাম নয়। যাতে এটা আবশ্যক হয় যে, ভিত্তি ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত বস্তু একই। অর্থাৎ- সাধারণ আত্মসমর্পণ সঠিক হওয়া নির্ভর করে ঐ সমস্ত কাজ সম্পাদনের উপর যা করণীয় আবশ্যক।
হাদীসে শুধুমাত্র পাঁচটি জিনিসের উল্লেখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এজন্য যে, ‘ইবাদাত হয়তো শুধুমাত্র কথার দ্বারা পালন হয় যেমন শাহাদাতায়ন। অথবা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে পালন হয় যেমন সওম অথবা কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে পালন হয়। তা হয়ত শারীরিক কর্ম যেমন- সালাত, অথবা আর্থিক কর্ম যেমন যাকাত অথবা শারীরিক ও আর্থিক উভয়টিই যেমন হাজ্জ (হজ/হজ্জ)।
"Beauty of "Islam""
"এসো আলোর পথে জাগরিত করি নিজেকে" এসো আলোর পথে
এসো ইসলামের পথে
এসো আমাদের সাথে
শুধু মাত্র রবকে ভালোবেসে।
31/07/2025
জিহাদ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
হারামীয়া ইবনু হাফস (রহঃ) .... আবূ যুর’আ ইবনু ’আমর ইবনু জারীর (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহর উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারনে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়ার) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই। [Bukhari:34]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
30/07/2025
তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না
(আবূ হুরাইরা) রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের দিকে [দয়ার দৃষ্টিতে] তাকাবেনও না। অধিকন্তু তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; [তারা হচ্ছে,] বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী রাজা এবং অহংকারী গরীব।’’ [Muslim:107]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
29/07/2025
আল্লাহ্ (ﷻ) রিজিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রুজী সন্ধানের ব্যাপারে জলদিবাজি করো না। পৃথিবীতে কোন বান্দাই তার ভাগ্যে নির্ধারিত সর্বশেষ রুযী অর্জন না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং রুযী সন্ধানে মধ্যবর্তী পন্থা (সুন্দর ও স্বাভাবিক বৈধ পথ) অবলম্বন কর। হালাল উপায় গ্রহণ কর এবং হারাম উপায় বর্জন কর। [Ibn Majah:2144]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
29/07/2025
ওরসজাত সন্তানের ওয়ারিসী স্বত্ব
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবনুর রাবী (রাঃ) এর স্ত্রী সা’দের দু’ কন্যাসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা দু’জন সা’দ (রাঃ) এর কন্যা, যিনি আপনার সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হয়ে শহীদ হয়েছেন। এদের পিতার পরিত্যক্ত সমস্ত মাল এদের চাচা দখল করে নিয়েছে। মেয়েদের সম্পদ না থাকলে তাদের বিবাহ দেয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে রইলেন। শেষে উত্তরাধিকার স্বত্ব সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনুর রাবী’র ভাইকে ডেকে এনে বলেনঃ সা’দের কন্যাদ্বয়কে তার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ দাও, তার স্ত্রীকে এক-অষ্টমাংশ দাও, অবশিষ্ট যা থাকে তা তুমি নাও। [Ibn Majah:2720,IF-BD]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
26/07/2025
যে ঈমানের দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করা যায়
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়ের (রহঃ) ... আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বলেন, এক সফরে জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে এসে দাড়াল। সে তাঁর আরয করল, হে আল্লাহর রাসুল! অথবা বলেছিল, হে মুহাম্মাদ! আমাকে এমন কিছু বলেদিন যা আমাকে জান্নাতের কাছে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন এবং সাহাবীদের দিকে তাকালেন। পরে তিনি বললেন, তাকে তাওফীক দেওয়া হয়েছে অথবা বললেন, তাঁকে হিদায়াত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী বললে? রাবী বলেন, সে তার পূনরাবৃত্তি করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, (এবারে) উটনী ছেড়ে দাও। [Muslim:12]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
26/07/2025
রজম
আবু বাকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। সহসা মায়েয বিন মালিক এল এবং (ব্যভিচার করেছে বলে) স্বীকারোক্তি করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফেরত পাঠালেন। তারপর সে পুনরায় এল এবং দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তি করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাকে ফেরত পাঠালেন। তারপর সে পুনরায় এল এবং তৃতীয়বার স্বীকারোক্তি করলো। আমি মায়েযকে বললামঃ তুমি যদি চতুর্থবার স্বীকারোক্তি কর, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে রজম করবেন। (পাথর মেরে হত্যা করবেন।) এরপর সে চতুৰ্থবার স্বীকারোক্তি করলো। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আটক করলেন। তারপর (উপস্থিত সাহাবীদেরকে) মায়েযের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললোঃ (ওর সম্পর্কে) আমরা ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানি না। (অর্থাৎ সাধারণভাবে ওর চরিত্র ভালো।)। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজম করার আদেশ দিলেন। [Musnad Ahmad:41]
[তাফহীমুল কুরআন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.tafhim.bangla1 ]
15/06/2025
প্রশ্ন: ক. গাড়িতে বসে কিভাবে সালাত আদায় করতে হয়? খ. সফর অবস্থায় নামাযের পদ্ধতি কি?
গ. যদি ওযু না থাকে এবং গাড়ি থেকে নেমে ওযু করা সম্ভব না হয় বা তায়াম্মুম করারও সুযোগ না পাওয়া যায় তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করব?
ঘ. কিবালার দিকে ফিরে সালাত আদায় করা সম্ভব না হলে কিভাবে সালাত আদায় করব?
উত্তর:
🔹ক. গাড়িতে বসে সালাত আদায়ের পদ্ধতি:
যদি সালাতের সময় শেষ হওয়ার পূর্বে গাড়ি থেকে নামার সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে গাড়ি থেকে নেমেই সালাত আদায় করতে হবে। কিন্তু যদি গাড়ি থেকে নেমে সালাত আদায়ের সুযোগ না থাকে এবং এ অবস্থায় সালাতের সময় অতিবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে গাড়ির মাধ্যেই সালাত আদায় করতে হবে।
এর পদ্ধতি হল, গাড়ির সিটে বসে কিবলার দিকে মুখ করে সালাত শুরু করার পর ইশারায় রুকু-সেজদা করতে হবে। রুকুর জন্য মাথাটা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকাতে হবে আর সেজদা জন্য তার চেয়ে একটু বেশি ঝুাকাতে হবে। কিবলার দিকে মুখ করে শুরু করার পর গাড়ি অন্য দিকে ঘুরলেও সমস্যা নেই। এতে সালাতের কোন ক্ষতি হবে না ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, উক্ত পদ্ধতিতে কেউ ইচ্ছে করলে, গাড়িতে বসে যতখুশি নফল সালাত আদায় করতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে চলতি পথে বাহনে বসে নফল সালাত আদায় করতেন কিন্তু ফরজ সালাতগুলো বাহন থেকে নেমে মাটিতে নেমে আদায় করতেন। তাই যথাসম্ভব ফরয নামাযগুলো গাড়ি থেকে নেমে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কোন কারণে নামা সম্ভব না হলে গাড়িতে আদায় করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
🔹 খ. সফর অবস্থায় দু ওয়াক্তের নামায একত্রিত করে পড়া জায়েজ আছে:
দূরে সফর কালীন সময় যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাতকে যেমন যথাসময়ে আদায় করা জায়েজ অনুরূপভাবে যোহর+আসর এবং মাগরিব+ইশাকে একত্রিত করে অগ্রিম বা পিছিয়ে আদায় করা জায়েজ রয়েছে। অর্থাৎ যোহরের সময় প্রথমে যোহরের দু রাকআত ফরয কসর করা তারপর আসরের দু রাকআত কসর সালাত অগ্রিম পড়া।
অথবা যোহরের সময় যোহরের সালাত না পড়ে -তা পিছিয়ে আসরের সময় প্রথমে যোহরের দু রাকআত কসর পড়া তারপর আসরের দু রাকআত সালাত কসর পড়া।
অনুরূপভাবে মাগরিবের সময় প্রথমে মাগরিবের ৩ রাকআত আদায় করা তারপর ইশার দু রাকআত সালাত অগ্রিম পড়া
অথবা মাগরিবকে পিছিয়ে ইশার সময় প্রথমে মাগরিবের ৩ রাকআত আদায় করা অত:পর ইশার দু রাকআত ফরয সালাত কসর পড়া।
কিন্তু ফজর সালাতকে যোহরের সাথে অথবা আসরকে মাগরিবের সাথে অথবা ইশাকে ফজরের সাথে একত্রিত করা বৈধ নয়।
🔹গ. সফর অবস্থায় চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয সালাতগুলো কসর তথা দু রাকআত করে পড়া এবং সুন্নত সালাতগুলো না পড়াই সুন্নত:
সফরের ক্ষেত্রে চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয সালাত (যেমন যোহর, আসর ও ইশার সালাত) দু রাকআত দু রাকআত করে কসর করা আর অন্যগুলোতে কসর না করা অর্থাৎ মাগরিব ও ফজর সালাতে যেভাবে আছে সেভাবেই আদায় করা সুন্নত।
সফরে বিতির ও ফজরের দু রাকআত সুন্নত ছাড়া অন্য ওয়াক্তের সুন্নত নামায না পড়াই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত। তবে সুযোগ থাকলে অতিরিক্ত নফল সালাত যত ইচ্ছা পড়া জায়েয রয়েছে।
❖ প্রশ্ন: যদি গাড়ি থেকে নেমে ওযু করার মত সুযোগ না থাকে অথবা তায়াম্মুমের জন্য মাটি পাওয়া না যায় অপরদিকে ওয়াক্ত শেষ পর্যায়ে তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে?
উত্তর: যদি ওযু বা তায়াম্মুম করা কোনটাই সম্ভব না হয় তাহলে ওযু/তায়াম্মুম ছাড়াই সালাত আদায় করতে হবে। তারপরও নামায পরিত্যাগ করার কোন সুযোগ নাই।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত কোন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)
তিনি আরও বলেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)
❖ প্রশ্ন: যদি গাড়িতে কিবলার দিকে ফেরা সম্ভব না হয় তাহলে কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে?
উত্তর:
সর্বাত্তক চেষ্টা করতে হবে কিবলার দিকে মুখ করে সালাত শুরু করার। তারপর গাড়ি যদি অন্য দিকে ঘুরে তাহলেও তাতে কোন সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ। কিন্তু চেষ্টা করার পরও যদি ফরয সালাতে কিবালার দিকে মুখ ফেরানো সম্ভব না হয় তাহলেও যে দিকে সম্ভব সে দিকে ফিরে সালাত আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।
এ ক্ষেত্রেও ওযু ও তায়াম্মুম করার সম্ভব না হলে ওযু/তায়াম্মুম ছাড়াই সালাত আদায় করার দলীলগুলো প্রযোজ্য।
আল্লাহু আলাম।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।
▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰▰
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (মাদানী)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
সন্তানের প্রতিপালন মা-বাবার দায়িত্ব। তারাই সন্তানকে আগামী দিনের জন্য গড়ে তোলে। শিশুর প্রতিপালনের দুটি দিক : এক. বাহ্যিক প্রতিপালন। যেমন—শিশুর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুই. তার মনস্তত্ত্ব গঠন।
ইসলাম শিশুর বাহ্যিক ও মানসিক উভয় প্রকার গঠন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। মা-বাবা যেমন শিশুর খাবার, পোশাক, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মতো বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবে, তেমনি তারা ঈমান, আখলাক ও চিন্তা-ভাবনাগুলোর প্রতিও লক্ষ্য রাখবে। সৃষ্টিগতভাবেই সন্তানের প্রতি মা-বাবা অত্যন্ত স্নেহশীল। আল্লাহ মা-বাবার ভেতর এমন মমত্ব ও ভালোবাসা তৈরি করে দেন যে তারা শিশুর সব ধরনের ভালো-মন্দের খেয়াল রাখে।
নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে সব প্রয়োজন পূরণ করে। তবে মা-বাবাকে তখনই দায়িত্বশীল বলা যাবে, যখন তারা সন্তানের দৈহিক গঠনের মতো, মানসিক গঠনকেও গুরুত্ব দেবে এবং তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে, যেন শিশুটি সুস্থ দেহের মতো সুস্থ চিন্তা-ভাবনা ও বিশ্বাস নিয়ে গড়ে ওঠে।
ইসলাম সন্তানের মানসিক গঠনে বিশুদ্ধ বোধ ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ মা-বাবা শিশুকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলো শেখানের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বাস ও চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
কেননা বিশুদ্ধ বিশ্বাসই শিশুর নীতি-নৈতিকতার রক্ষাকবচ। যে শিশু এই বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠবে যে একজন আল্লাহ আছেন এবং তিনি আমাকে দেখছেন। আল্লাহ পরকালে ভালো ও মন্দ কাজের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন, তখন সে অন্যায় ও অপরাধে লিপ্ত হতে দ্বিধা করবে। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন, তোমরা শিশুকে তিনটি বিষয় শেখাও। তাহলো নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা, নবীপরিবারের ভালোবাসা এবং কোরআনের তিলাওয়াত।
(তাবারানি)
এখানে এমন তিনটি বিষয় শেখাতে বলা হয়েছে, যার সঙ্গে শিশুর মনস্তত্ত্ব ও বিশ্বাস সম্পর্কিত। নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা শিশুকে ধর্মপ্রাণ ও আল্লাহমুখী করবে, নবীপরিবার ও সাহাবিদের ভালোবাসা তাকে সত্যান্বেষী ও সত্য প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করবে এবং কোরআনের জ্ঞান তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সুপথ প্রদর্শন করবে।
সন্তানের মানসিক গঠনের সর্বোত্তম সময় শৈশব। কেননা শিশু নিষ্কলুষ পরিচ্ছন্ন হৃদয় নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে, যা বিশুদ্ধ বোধ ও বিশ্বাস ধারণের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। আবু হুরায়রা বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্ম লাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারি রূপে গড়ে তোলে। যেমন—চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোনো (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও?’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৫১৮)
উল্লিখিত হাদিস থেকে সন্তানের মানসিক গঠনে মা-বাবার ভূমিকা ও পরিবার-প্রতিবেশের প্রভাব সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ মা-বাবা যদি দায়িত্বশীল ও সচেতন হন এবং সন্তানের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, তবে সন্তান সুষ্ঠু মনমানসিকতা নিয়ে বড় হবে। নতুবা তার মানসিক অবস্থা হবে অসুস্থ।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, শৈশবে শিশুর মানসিক গঠন ঠিক করা ঠিক ততটাই সহজ একটি চারা গাছকে বিশেষ অবয়ব দেওয়া যতটা সহজ। শৈশবে খুব সহজেই শিশুর চিন্তা-ভাবনা ও মনমানসিকতা সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়। তার জীবনের গতিধারা সুপথে পরিচালিত করা যায়। একটি সুনির্দিষ্ট মনোভাব নিয়ে বড় হওয়ার পর তার চিন্তার পরিবর্তন কঠিন হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুর মানসিক গঠনের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। হাদিস ও সিরাত গ্রন্থগুলোতে তার অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান। আমর ইবনে আবি সালামা (রা.) বলেন, আমি শৈশবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলাম। আমার হাত এদিক-সেদিক করছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, ‘বৎস! আল্লাহর নাম স্মরণ করো, ডান হাতে খাও এবং নিজের সামনে থেকে খাও।’
(সহিহ মুসলিম)
একইভাবে আবদুল্লাহ বিন আমের (রা.) বলেন, এক দিন মহানবী (সা.) আমাদের বাড়ি আগমন করলেন। আমার মা আমাকে ডাকলেন, এসো তোমাকে একটি জিনিস দেব। নবীজি (সা.) আমার মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাও? মা বললেন, খেজুর দিতে চাই। তিনি বললেন, যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার নামে একটি মিথ্যা বলার পাপ লিপিবদ্ধ হতো। (সুনানে আবু দাউদ)
নবীজি (সা.) উল্লিখিত হাদিসে শিশুর সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করতে নিষেধ করেছেন। কেননা তা শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাকে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত করে। এ ছাড়া শিশুরা মূলত তার মা-বাবা ও পরিবারের বড়দের অনুসরণ করতে ভালোবাসে। শিশুর মানসিক গঠনে মা-বাবার সুন্দর আচরণ ও জীবনযাপনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ সবাইকে শিশুর মানসিক গঠনে যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের এক বছর না যেতেই বদর যুদ্ধের মুখোমুখি হয় মুসলমানরা। তার এক বছর না যেতেই ওহুদে বড় আঘাত আসে মুসলমান বাহিনীর ওপর। নূর নবীজির (সা.) জন্য সময়টা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে মুসলমানদের পরিশুদ্ধ করার কর্মশালা দুটোই একসঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে। যুদ্ধ একবার শুরু হলে সহজে শেষ হয় না, ব্যাপারটা নবীজি (সা.) জানতেন। তাই তিনি মুসলমানদের সামরিক ও নৈতিক দুই দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। মুসলমানরা একদিকে হবে তুখোড় যোদ্ধা, অন্যদিকে হবে প্রখর কোমল। শত্রুর প্রতি তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে সিংহের মতো, আর সাধারণ মানুষের প্রতি বিছিয়ে দেবে মমতার ডানা। এ লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন হুজুর (সা.)। কিন্তু নবীজির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক অদৃশ্য শত্রু- ‘গুজব’। মুসলমান বাহিনী এক পা এগোচ্ছে তো গুজবের কারণে দুই পা পিছিয়ে যাচ্ছে। আর এ গুজব রটনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছে মদিনার মুনাফিকরা। বুঝে না বুঝে তাদের ফাঁদে পা দিয়েছে নতুন মুসলমানরা।
পুরো ব্যাপারটি ইমাম বাগাবি (রহ.) খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। তাফসিরে মাজহারির লেখক আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ তার তাফসিরে বিষয়টি এনেছেন। ইমাম বাগাবি বলেন, রসুল (সা.) মদিনার আশপাশ ও দূরদূরান্তে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। কখনো তারা জয়লাভ করত কখনো বা পরাজয় বরণ করত। মুনাফিকরা নবীজির পাঠানো বাহিনীর হারজিতের খবরাখবর রাখতেন। বাহিনী জিতলে মুনাফিকরা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মিথ্যা সংবাদ বানিয়ে মদিনার ঘরে ঘরে প্রচার করে বেড়াত। বলত, থাকবে না, মুহাম্মদ (সা.)-এর মিশন আর থাকবে না। ওমুক এলাকায় তাঁর বাহিনী কুপোকাত। শত্রুদল মদিনা আক্রমণের জন্য বেরিয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে চাইলে পালিয়ে যাও। এ ধরনের আরও নানা কথা তারা রটিয়ে দিত। তাদের দেখাদেখি অনেক নতুন মুসলমানও এ খবর হাটে বাজারে ছড়িয়ে দিত। ব্যাপক প্রচারের কারণে মুসলমান সমাজে একধরনের ভয়-অস্থিরতা দেখা দিত। একইভাবে মুসলমানরা কোথাও আক্রমণের শিকার হলে মুনাফিকরা কখনো কখনো সত্য গোপন করে বলত- মুসলমানদের বিজয় আর বেশি দূরে নয়। মদিনার ঘরে ঘরে তখন একধরনের স্বস্তি বিরাজ করত। এতে করে শত্রুর আক্রমণের ব্যাপারে তাদের যে সাবধান থাকার প্রয়োজন ছিল সেটা কিছুটা শিথিলতা দেখা দিত কারও কারও ভিতর। এমন পরিস্থিতিতে নবীজি (সা.)-এর জন্য শান্তভাবে কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়ল। মুসলমান সমাজের এই অস্থিরতা কিংবা বেশি স্বস্তিদায়ক অবস্থার কারণে বিশেষ সুবিধা পেত শত্রু পক্ষ। তারা নতুন করে সাজাত তাদের রণকৌশল।
এভাবে রাষ্ট্রের বিরোধী শক্তি মুনাফিকদের অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। পাশাপাশি কোনো গুরুতর খবর চাই তা ভালো হোক বা মন্দ হোক, সেটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচার করা যাবে না। আগে যাচাই করতে হবে। পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর তা জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা যখন শান্তি কিংবা ভয়ের কোনো খবর শুনে যাচাইবাছাই না করেই তা সমাজে ছড়িয়ে দেয়। অথচ তারা যদি বিষয়টি প্রথমে রসুলকে (সা.) জানাত কিংবা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিষয়টি জানাত তাহলে রাষ্ট্রে যারা অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত, তারা খবরটি যাচাই করে সত্য নির্ণয় করতে পারত। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকত তাহলে অল্প কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই গুজব রটনাকারী শয়তানের অনুসারী হয়ে পড়ত (সুরা নিসা, আয়াত ৮৩)।’
আয়াতে একটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, ‘ইয়াসতানবিতুনাহও’। শব্দটি এসেছে ‘ইস্তেমবাত’ থেকে। ইস্তেমবাত মানে হলো কোনো কিছু উদঘাটন করা, আবিষ্কার করা, নির্ণয় করা ইত্যাদি। ভেজালের ভিড়ে খাঁটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও ইস্তেমবাত শব্দ ব্যবহার হয়। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরআনি রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই চৌকশ গোয়েন্দা বাহিনী, সংবাদকর্মী ও জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। যারা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গুজব নামক তথ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে লড়াই করতে পারবে। আজকের বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই মহামারি আকার ধারণ করেছে গুজব। ফেসবুক, ইউটিউব খুললেই এক শটা খবরের মধ্যে নব্বইটাই থাকে গুজব। আর মানুষও সত্য খবরের চেয়ে গুজবই বিশ্বাস করে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে কোরআনের নির্দেশনা হলো, ভালোমন্দ যে খবরই আসুক না কেন সঙ্গে সঙ্গেই তা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি প্রথমে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে।
ইমানের পর ফরজ নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ মুমিন নর-নারীর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। মুমিনের দায়িত্ব হলো যথাসময়ে ফরজ নামাজ আদায় করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)
যথাসময়ে নামাজের গুরুত্ব
কোরআন-হাদিসে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের বহু তাগিদ আছে। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
১. জাহান্নামের আগুন নেভে : যথাসময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন নির্বাপিত হয়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন একজন ফেরেশতা আছে যে প্রত্যেক নামাজের সময় ঘোষণা করে : হে মানব সন্তান! তোমরা তোমাদের সেই আগুনের প্রতি মনোযোগী হও, যা তোমরা (পাপের মাধ্যমে) প্রজ্বলিত করেছ। সুতরাং তা নির্বাপিত করো।
(সহিহ আত-তারগিব, পৃষ্ঠা-৩৫৮)
২. জান্নাতের প্রতিশ্রুতি : যথাসময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে তার জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলার কারণে এর কোনটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৪২০)
৩. আল্লাহর ক্ষমা লাভ : যথাসময়ে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে নির্ধারিত সময়ে
পূর্ণরূপে রুকু ও পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে নামাজ আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন, অন্যথায় শাস্তি দেবেন।’
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪২৫)
৪. সর্বোত্তম আমল : উম্মু ফারওয়া (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, নামাজের সময় ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করা। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪২৬)
৫. ফেরেশতাদের দোয়া লাভ : সময়মতো নামাজ আদায়ের জন্য যারা সময়ের আগেই মসজিদে উপস্থিত হয় এবং নামাজের জন্য অপেক্ষা করে, ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যে পর্যন্ত মসজিদে নামাজের প্রতীক্ষায় থাকে, সে যেন নামাজের মধ্যেই থাকে, আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ মসজিদে থাকে ফেরেশতারা সে পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকেন—‘হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।’ অজু ছুটে না যাওয়া পর্যন্ত তার জন্য দোয়া চলতে থাকে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩০)
আল্লাহ সবাইকে যথাসময়ে নামাজ আদায়ের তাওফিক দিন। আমিন।
গিবত বা পরনিন্দা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। তাই কেউ কেউ গিবত থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও গিবত শোনাও যে একটি বড় পাপ, সে বিষয়ে আমরা উদাসীন। তাই নিজে গিবত করার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও অসতর্কতাবশত গিবতকারীদের গিবত শুনে পাপে লিপ্ত হয়। অথচ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অনর্থক কথাবার্তা শোনা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তুমি তাদেরকে দেখো, যারা আমার আয়াতগুলোর ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বোসো না।’
(সুরা : আনআম, আয়াত : ৬৮)
যারা এ ধরনের কথাবার্তা শোনা থেকেও নিজেদের বিরত রাখে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাদের সুনাম করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা যখন অনর্থক কথাবার্তা শুনে তখন তা থেকে বিমুখ হয়।’
(সুরা : কাসাস, আয়াত : ৫৫)
অর্থাৎ অর্থহীন ও অসার কাজ—এটি এমন সব কথা ও কাজকে বোঝায়, যা অপ্রয়োজনীয়, অনৈতিক কিংবা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন কখনো এ ধরনের কাজে লিপ্ত হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মুমিনের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যারা অহেতুক বিষয় পরিহার করে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৩)
তাই কেউ আমাদের সামনে এসে কোনো গুনাহের কথা কিংবা পরনিন্দা ইত্যাদি করলে, আমাদের উচিত তাদের এড়িয়ে চলা।
আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সামনে কেউ কারো ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বলতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিতেন। এবং ওই ভাইয়ের সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা করতেন। ইতিবাচক কথা বলতেন। ইতবান ইবনে মালিক (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) সকালে আমার কাছে এলেন। তখন এক লোক বলল, মালিক ইবনে দুখশুন কোথায়? আমাদের এক ব্যক্তি বলল, সে তো মুনাফিক; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে না।
তা শুনে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কি এ কথা বলোনি যে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়ে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। তারা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, যেকোনো বান্দা কিয়ামতের দিন ওই কথা নিয়ে উপস্থিত হবে, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’
(বুখারি, হাদিস : ৬৯৩৮)
তা ছাড়া পরনিন্দা করার মাধ্যমে নিন্দিত ব্যক্তির সম্মানহানি করা হয়, তাকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়, যে ব্যক্তি পরনিন্দাকারীকে যেকোনোভাবে তা থেকে বিরত করবে এবং যার নিন্দা করা হচ্ছিল তার সম্মান রক্ষার্থে ইতিবাচক কথা বলে তার সম্মান রক্ষার চেষ্টা করবে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করবেন। আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে লোক তার কোনো ভাইয়ের মানসম্মানের ওপর আঘাত প্রতিরোধ করে, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা তার মুখমণ্ডল থেকে জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধ করবেন। তিরমিজি, হাদিস : ১৯৩১)
আমাদের সবার উচিত পরনিন্দা থেকে বিরত থাকা, কেউ অন্যের পরনিন্দা করলে তা শোনা থেকেও বিরত থাকা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Telephone
Website
Address
Narayanganj
