ঢাকার বি নিউজ.com

ঢাকার বি নিউজ.com

Share

Dhaka .....

Photos 31/08/2018
Photos 10/05/2017

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র কর্মপরিকল্পনা রূপপ্রকল্প "ভিশন-২০৩০" ঘোষণা।

০.প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।
১. জনগনের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
২. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
৩.সুনীতি,সুশাসন,সুসরকারের সমন্বয় করা হবে।
৪.ক্ষমতায় গেলে গনভোট চালু করা হবে।
৫.জাতীয় সংসদ হবে সব কর্মকান্ডের মুল কেন্দ্রবিন্দু।
৬.বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে
৭.গ্রাম আদালত আবার চালু করা হবে
৮.প্রশাসন,পুলিশ ও বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে
৯.সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সংস্কার করা হবে।
১০.সংবিধান সংশোধন করে নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।
১১.প্রতিবেশী দেশের সাথে বিশেষ সমর্পক গড়ে তোলা হবে।
১২.মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রননয় করা হবে ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
১৩.মুক্তিযোদ্ধা, প্রান্তিক,প্রতিবন্ধীবাদে সব কোটা বাতিল করা হবে।
১৪.মাথাপিছু আয় ৫০০০ মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাএা করা হবে।

১৫.জাতীয় ঐকে্যর মাধ্যমে সন্এাস -জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা হব
১৫.গুম-খুনের অবসান ঘটানো হবে
১৬.জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে
১৭.বিদেশে উচ্চশিক্ষায় মেধাবীদের জন্য তহবিল গঠন করা হবে
১৮.ঢাবিসহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে
১৯.আইটি খাতে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
২০.উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ সকল প্রকার কালাকানুন বাতিল করা হবে।
২২.তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে।
২৩.২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে।
২৪.কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে ও কৃষি গবেষণার ব্যবস্থা করা হবে।
২৫.কৃষিখাতে সুদ মওকুফ করা হবে।
Collected

Photos 12/04/2017

জরুরি সংবাদ সম্মেলন
ভাষণ
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
স্থান : বিএনপি চেয়ারপার্সন কার্যালয়, তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।

আজ আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট কিছু কথা খুব স্পষ্ট করে নিবেদন করতে চাই। আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা গত সাত থেকে দশ এপ্রিল ভারত সফর করে ফিরে এসেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সফরের উপর তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। সফরকালে বাংলাদেশের জনগণকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে দু’দেশের মধ্যে অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সেগুলোর বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

এই সফরের আগে থেকেই দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও যথেষ্ঠ উদ্বিগ্ন ও শংকিত ছিলাম। কারণ প্রস্তাবিত চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে সফরের আগেও রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং কারো মতামত নেয়া হয়নি। তাদের একতরফা কথিত পার্লামেন্টেও কোনো আলোচনা হয়নি। এই গোপনীয়তার কারণে সকলের মধ্যে যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছিলো সফরের পর তা যথার্থ প্রমানিত হয়েছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশী রফতানি-পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে এই সফরে কোনোই অগ্রগতি হয়নি।

জনগণের দাবি সত্বেও আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের সুন্দরবন-বিনাশী এবং পরিবেশ বিধ্বংসী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের জন্য তিনি একটি কথাও বলেননি। বরং প্রধানমন্ত্রীকে কতগুলো আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় ভারতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতেই কেবল অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা সই করা হয়েছে। এই সফরকে দেশবাসী কেবলই দেওয়ার এবং কোনো কিছুই না পাবার এক চরম ব্যর্থ সফর বলেই মনে করে।


সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপি দেশের বিপুল সংখ্যক জনগণের সমর্থনপুষ্ট জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। নানাভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিএনপিই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দেশজাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত স্বার্থ জড়িত রয়েছে এমন কোনো বিষয়ে বিএনপি নীরব থাকতে পারে না। আপনারা জানেন, বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন করেছিল। এর আগেই জাতীয় সংসদের অর্ধেকের বেশি ১শ’ ৫৪টি আসনের প্রার্থীদেরকে কোনো রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বাদবাকী আসনগুলোতেও বিএনপিসহ উল্লেখযোগ্য কোনো বিরোধী দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও এই প্রহসনে শামিল হননি। শুধু তাই নয়, আমাদের ডাকে ভোটাররাও একতরফা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন সেই নির্বাচনী প্রহসন ব্যাপকভাবে বর্জন করেন। অনুগত নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের যোগসাজসে ব্যাপকভাবে জালভোট দিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে দেখানো হলেও আপনারা নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় জানেন যে, শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি।

অনেক কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ছিল শূণ্য। এমন প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচিত বলে ঘোষিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দলের অস্তিত্বও নেই। ফলে দেশে বলবৎ রয়েছে জবাবদিহিতাহীন একতরফা স্বৈরশাসন। এতবড় প্রহসন ও জালিয়াতির মাধ্যমে গঠিত সরকারের নৈতিক কোনো ভিত্তি ও গ্রহনযোগ্যতা থাকে না। জনগণের সম্মতি ও প্রতিনিধিত্বহীন এ ধরণের সরকারের জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহনের এখতিয়ার ও অধিকারও থাকে না।


উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ,
দেশের সচেতন নাগরিক ও বিশ্ববাসীর সঙ্গে আপনারাও দেখেছেন যে, সেই কলঙ্কিত ও প্রহসনের নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের তদানীন্তন সরকার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে খুবই ন্যক্কারজনকভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। ভারতের তদানীন্তন বিদেশ সচিব বাংলাদেশ সফরে এসে ক্ষমতাসীনদের প্রহসনের নির্বাচনের নীল-নকশা বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা কারো অজানা নয়। সে কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ভারতের বিগত সরকারই আওয়ামী বলয়ের শাসন ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা করেছে এবং তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই এদেশের জনবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।

এদেশের জনগণ আরো মনে করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি বা করেনি। তারা কেবল কৃতজ্ঞতার ঋণই ক্রমাগত শোধ করে চলেছে। এতে বিসর্জন দেয়া হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা। খর্ব হয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সফরে তিনি তৃপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত তো নয়ই বরং আতঙ্কিত। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী একগাদা চুক্তি ও সমঝোতা চায়নি। হিসাবের পাওনা চেয়েছে।


সাংবাদিক ভাই-বোনেরা,
এই সফরে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনো চুক্তি ও সমঝোতা সই না করার ব্যাপারে সফরের আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ প্রকাশ্যেই তাদের মতামত জোরালোভাবে ব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে একটি জাতীয় ঐক্যমত গড়ে উঠেছিলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের মতামতের প্রতিধ্বনি করে আমরাও এ ধরনের কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার দাবি জানিয়েছিলাম। তা সত্বেও জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমরাও শংকিত।

বিএনপি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের জন্য গুম, খুন, নির্যাতন, জেল, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েও সাধ্যমতো আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অনেক বিষয়েই ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আমাদের মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তা সত্বেও জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার বিষয়ে আমরা সকলে মিলে একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের পক্ষে। ভারত সফরকালে শেখ হাসিনা এসব বিষয় সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা পালন করলে আমরা অকুণ্ঠ চিত্তে তার সেই ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানাতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তিনি বাংলাদেশকে ভারতের সামরিক পরিকল্পনার অংশ করে এসেছেন।


প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। অগণিত প্রাণদান ও ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাবলীর নিরসনের নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। ভারতের জনগণের সঙ্গে শান্তি ও সহযোগিতার আবহে আমরা পাশাপাশি বাস করতে চাই। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্বেও প্রতিবেশী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ব্যাহত করতে ভারতের বিগত শাসকদের একতরফা ভূমিকায় বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ।

আমরা আশা করি ভারতের বর্তমান সরকার অতীতের সেই ভুল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের মনোভাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। গণবিচ্ছিন্ন কোনো পক্ষের সঙ্গে কোনো চুক্তি করা বা চাপিয়ে দেয়াই বড় কথা নয়। মানুষের সমর্থন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা চুক্তিই যে কেবল গায়ের জোরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, তার প্রমাণ নিকট ইতিহাসেই রয়েছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘শান্তিচুক্তি’ নামে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘকাল যে একটি কাগুজে দলিলে পর্যবসিত হয়েছিল তা আমরা সকলেই দেখেছি। তাই জাতিকে অন্ধকারে রেখে, জনগণের মতামত যাচাই না করে দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চুক্তি বা সমঝোতা করে অবিশ্বাস আরো ঘণীভূত করা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।


প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
ভাটির দেশ হিসাবে সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এটা কারো কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার বিষয় নয়। তিস্তার পানি বন্টনের বিষয়টি দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যকার বিষয়। এ জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুই দেশের মধ্যেকার আলোচনায় সংশ্লিষ্ট করায় বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে দেওয়া ৫০ কোটি ডলারের সহায়তার আওতায় ভারত কোন্ ধরনের সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে জানতে চাওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন যে, এখনও এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ থেকেই বোঝা যায় যে, শেখ হাসিনা যাই বলুন না কেন একমাত্র ভারতই হবে ওই ঋণের আওতায় একমাত্র অস্ত্র সরবরাহকারী।

এই সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যে ভাবে ভারতের সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে তার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস, কারিকুলাম ও অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়াদি অযাচিত হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে আরো লক্ষ্য করেছি যে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার জন্য যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো দূর করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপই গ্রহন করা হয়নি।

পাট রফতানির ক্ষেত্রে ভারত যে এন্টি-ডাম্পিং ক্লজ প্রয়োগ করে থাকে তা তুলে নেওয়ার ব্যাপারেও এই সফরে প্রধানমন্ত্রী কিছুই করতে পারেননি। সফর শেষে প্রকাশিত দু’দেশের যৌথ ইশতেহারে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও এই প্রতিশ্রুতি অতীতের মতোই অন্ত:সারশূন্য হয়ে থাকবে বলে দেশবাসীর মতো আমাদেরও আশঙ্কা। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ব্যাপারে ভারতের সম্মতি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনা এখন এই প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এখন আরো পিছিয়ে গিয়ে প্রকল্পটির স্থান পরিবর্তন এবং নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভারতীয় প্রস্তাব তিনি মেনে নিয়েছেন।


প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
দেশে জনসমর্থিত ও গণতান্ত্রিক কোনো সরকার না থাকলে তাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের কাছ থেকে জাতীয় স্বার্থ আদায় করে আনা সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ সরকার যতই বন্ধুত্বের বুলি আওড়াক না কেন, প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকেও সমমর্যাদার ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে তারা পারেনি, পারবেও না। তাই দেশবাসী বিষ্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি দিল্লিতে কিছু চাইতে যাননি।

কেবল বন্ধুত্বের জন্য গিয়েছিলেন এবং সেটা তিনি পেয়েছেন। কিসের এই বায়বীয় বন্ধুত্ব তা দেশবাসীই বিচার করে দেখবেন। তবে এই কথার মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন যে, ভারত থেকে তিনি দেশের জন্য কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। বরং ভারতের চাহিদা মোতাবেক সবকিছুই দিয়ে এসেছেন।

চুক্তি ও সমঝোতাগুলো প্রকাশ করার বদলে তিনি তার নিজের উপর আস্থা রাখতে বলেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তার উপর আস্থা রেখে দেশবাসী আজ পর্যন্ত কোনো কিছুই অর্জন করতে পারেনি। বরং ভোট দেয়ার অধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার হারিয়েছে। তার ওপর আস্থা রেখে অতীতে জনগণ দেখেছে তিনি একের পর এক জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসংখ্য চুক্তি করেছেন। ভারতকে একতরফাভাবে কেবল দিয়েই এসেছেন। বিনিময়ে কিছুই আনতে পারেননি।

এবারেও জনগণ চরম হতাশা ও বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করলো যে, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অস্ত্র ক্রয়, লাইন অব ক্রেডিট ঋণ, পারমাণবিক প্রকল্পে সহযোগিতা, ডিজেল ও বিদ্যুৎ আমদানি, কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, মহাকাশ সহযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি যে সব চুক্তি ও সমঝোতায় সই করেছেন তাতে বাংলাদেশের ওপর ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যই কেবল বাড়বে। শেখ হাসিনা তার সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে তার এবং তাদের সরকারের যেসব সাফল্য দাবী করেছেন সেগুলোর বেশির ভাগই অসত্য ও একতরফা। সরকার একটি ধারাবাহিকতা।

আমাদের সরকারের কিছু উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে তিনি সেগুলো বাস্তবায়নের একতরফা সাফল্য দাবি করেছেন। প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং আমাদের সরকার কী কী করেছে তা দেশবাসী জানেন। শহীদ জিয়াই অবজ্ঞা ও অবহেলার ইতিহাস মুছে দিয়ে সশস্ত্রবাহিনীকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন এবং এর মর্যাদা ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনিই সশস্ত্রবাহিনীকে আধুনিক করে গড়ে তুলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতাই বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী বিশ্বে এক গৌরবময় অবস্থান অর্জন করেছে। মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে এই সত্যকে কখনো ম্লান করা যাবে না।

আমাদের সশস্ত্রবাহিনী এখন বিভিন্ন দিক দিয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চমান অর্জন করেছে। কোনো অস্ত্র আমদানিকারক দেশ থেকে এই বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করলে সেই মানের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি রয়েছে। এক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার ফলে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত মান ও স্বাতন্ত্র্য সমঝোতার নামে ব্যাহত হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতিকে এক্সপ্লয়েট করার জন্য শেখ হাসিনা ভারত সফরের আগে আলেম সম্মেলন করেন। ফিরে এসে গতকালই আবার হেফাজতে ইসলাম প্রভাবিত কওমী মাদ্রাসার ওলামায়ে কেরামদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলেমদের সঙ্গে তার অতীত আচরণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ক্রমাগত আঘাতের কথা দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি।

এখন তিনি নিজেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। অতীতেও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার লক্ষ্যে দেশে ইসলামী শরিয়তী আইন চালুর জন্য একই ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। এখন কওমী মাদ্রাসা সনদকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা বলে ধোঁকা দিচ্ছেন।

আমাদের সরকার দায়িত্বে থাকার সময় মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করা হয়েছিলো। ২০০৬ সালে কওমী মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি আমাদের সরকার দিয়েছিল। সেটা গেজেট নোটিফিকেশনও হয়েছিল। পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়। গত ১১ বছরে মাদ্রাসা-বিরোধী সরকারগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বিষয়টি আর এগুতে পারেনি।

শেখ হাসিনা গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বিদেশীরা এদেশে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে চক্রান্ত করেছিল বলে আবারো সম্পূর্ণ অসত্য অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে কিন্তু কোনো প্রভু নেই। বিদেশী চক্রান্তে নয়, জনগণের ভোটেই বিএনপি সবসময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বরং আওয়ামী লীগই ভোট ছাড়া বিদেশী মদত নিয়ে ক্ষমতায় আসার খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শেখ হাসিনার অভিযোগের জবাবে আমি বলতে চাই, সশস্ত্রবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে বিএনপি কখনো ব্যবহার করেনি। তারাই করেছেন। তারা সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশাল-এর অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। জেনারেল এরশাদ ও মঈনের ক্ষমতা দখল এবং জেনারেল নাসিমের সামরিক অভ্যূত্থান প্রচেষ্টায় তারাই প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিলেন। কাজেই নিজেদের অপরাধ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে তারা পার পাবেন না।


প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারত সফরকালে শেখ হাসিনাকে কে স্বাগত জানালো, কোথায় রাখা হলো, কেমন সংবর্ধনা দেওয়া হলো, তার এবং তার পিতার কী কী প্রশংসা করা হলো তাতেই বাংলাদেশের জনগণ খুশি নয়। বাংলাদেশের মানুষ আপ্যায়নের চাইতে তাদের ন্যায্য পাওনা কী এসেছে সেটা জানতে চায়। সেটা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা ও বন্ধুত্বের কথামালার উপর নির্ভর করে না।

দুর্ভাগ্যের বিষয় এইসব জমকালো আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বাংলাদেশ যে বঞ্চিত ছিলো সেই বঞ্চিতই থেকে গেলো। বাংলাদেশ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। দু’দেশের যৌথ ইশতেহারে যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশে এখন সেই গণতন্ত্র নেই। জনগণের কোনো অধিকার নেই। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নেই। জনগণ তাদের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পাবার জন্য সংগ্রাম করছে। গণতান্ত্রিক ভারতের অবস্থান সেই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকবে সেটাই সকলের প্রত্যাশা। তাহলেই দু’দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরো দৃঢ় ও ফলপ্রসূ হবে।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

Photos 10/04/2017

বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত (লাইভ) অনুষ্ঠানে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন অপু বিশ্বাস। আজ সোমবার বিকেলে অপু বিশ্বাস একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কথা বলতে বলতে অঝোরে কাঁদতে থাকেন অপু। কান্না ছাড়া কথাই বলতে পারছিলেন না অপু বিশ্বাস।
এর আগে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস জানিয়েছেন, তাঁর একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সেই সন্তানের বাবা বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক শাকিব খান।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি ঢাকায় ফেরেন নায়িকা অপু বিশ্বাস। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় এফডিসিতে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে দুপুরে মোবাইল ফোনে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছিলেন।
এ সময় অপু জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে সব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলবেন, সব প্রশ্নের উত্তর আজ দেবেন তিনি।
এনটিভি অনলাইনকে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় এফডিসিতে আমি সংবাদ সম্মেলন করব। সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলব। সব প্রশ্নের উত্তর দেবো আজ। কেন আমি এত দিন কাজ করিনি, কোথায় ছিলাম এত দিন, কবে থেকে কাজ করতে পারব, কেন গিয়েছিলাম—এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে চাই।’
অপু আরো বলেন, ‘সবার ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এত দিন আড়ালে থেকে দেখেছি, সবাই আমাকে কত ভালোবাসে। আমি সবার কাছে অনেক বেশি ঋণী হয়ে গেলাম। গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে যে নিউজ করেছে, তা দেখে নিজের চোখেই পানি চলে আসত। সবাই আমাকে এত মিস করেছে এবং তা নিয়ে নিউজ হচ্ছে, আমি এত দিন দেখেছি, কিন্তু কিছু বলতে পারিনি। এবার সব কথা খুলে বলব। দেখা হবে আজ বিকেলে।’
কবে থেকে কাজে ফিরবেন—জানতে চাইলে অপু বলেন, “খুব তাড়াতাড়িই ফিরছি, আগামী মাসের প্রথম দিকে হতে পারে। আমি এখনো কোনো পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। দু-একদিনের মধ্যে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করব। তবে আমার অসমাপ্ত ছবি ‘রাজনীতি’, ‘মাই ডার্লিং’, ‘ভালোবাসা ২০১৬’ ছবিগুলো শেষ করব। এগুলো শেষ করতে করতে বাকি কাজ গোছাব।”
বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত ‘রাজনীতি’ ছবির শুটিং শেষ না করেই গত বছর মার্চে হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান অপু বিশ্বাস। তখন থেকেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন এই জনপ্রিয় নায়িকা। অনেকটা ইচ্ছা করেই তিনি চলে যান লোকচক্ষুর অন্তরালে। শুধু ভক্তরা নন, চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের কেউই তাঁর কোনো খবর জানতে পারেননি গত এক বছর। তবে এত দিন কোথায় ছিলেন, কীভাবে কেটেছে—সবটাই তিনি সবাইকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন এনটিভি অনলাইনকে।

02/01/2017

সুখি হতে চান?-ক্ষমা করতে শিখুন।
ধনী হতে চান? - পরিশ্রমী হোন।
ক্ষমা পেতে চান?- বিনয়ী হোন।
ব্যক্তিত্ববান হতে চান?- ঠাট্টা ছাড়ুন।
জ্ঞানী হতে চান ?- কম কথা বলুন।
প্রিয়পাত্র হতে চান?- হাসতে শিখুন।
সম্পদশালী হতে চান?-বেশীবেশী দানকরুন।
মহৎ হতে চান?-নিজের ভুল খুজুঁন।
সফলতা চান?- ধৈর্য্যধারন করুন।
হীনমন্যতা এড়াতে চান?-প্রত্যাশা বর্জন করুন।
পাপ থেকে বাঁচতে চান? -লোভ ত্যাগ করুন।
স্রষ্টার কৃপা চান?-সুসময়ে শোকরিয়া করুন।
অন্তরে শান্তি চান?-আপনজনদের সাথে ভাল ব্যহার করুন।

সকলে শেয়ার করুন

Photos 23/12/2016

সরকার যা চায় ইসি তাই করছে: বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ
ঢাকা অফিস- শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে গরমিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি মনে করেন তার পরাজয়ের পেছনে সূক্ষ্ম একটি বিষয় কাজ করেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার ঘোষণা করেন, ‘১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট, অপরদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।’ অর্থাৎ নির্বাচনে সাখাওয়াত সাড়ে ৭৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরেছেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার আগে গতকাল সন্ধ্যায় নিজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সাখাওয়াত বলেন, ‘যেখানে আমি গিয়েছি, মনে হয়েছে সেন্টারে যদি ৫০০ লোক উপস্থিত থেকে থাকে, ৪০০ লোকই আমার জয়ধ্বনি করছে। সেখানে রেজাল্টের যে অবস্থা এতে তো বোঝা যায় যে, সূক্ষ্ম একটা বিষয় এখানে বিরাজ করছে। এই বিষয়টা আমরা পর্যালোচনার পরই আপনাদের জানাব।’
নির্বাচনের ফলাফলে গরমিল করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে ১ হাজার ভোট পড়েছে। ওই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ৮০০ ও ধানের শীষে ৫০০ ভোট দেখানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- এক হাজার ভোট পড়লে কীভাবে দুই প্রতীকে ১ হাজার ৩০০ ভোট দেখানো হয়েছে। একইভাবে আরও কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফলে গরমিল পেয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘১৭৪টি কেন্দ্রে আমার এজেন্ট থাকলেও ৩০টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট দেয়া হয়েছে। বাকি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের ফলাফল শিট দেয়া হয়নি। এ কারণে ফলাফল নিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।‘
বিএনপি এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব কেন্দ্রের ফলাফল শিট না পাওয়া পর্যন্ত তা মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এ মুহূর্তে ফল প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণযোগ্যের বিষয়ে কিছু বলছি না। যেসব কেন্দ্রে কম ভোট পড়েছে, সেসব এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাখাওয়াত আরও বলেন, নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ ভোটাররা বলছেন আমাকে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু আমার জয় হল না। ফলাফলে ‘সুক্ষ্ম একটা বিষয়’ কাজ করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসির অনেক ক্ষমতা। তবুও সরকার যা চায় ইসি তাই করছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কোনো ধরনের গোলযোগ ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করা হয়।

20/12/2016

নাসিকে অবাধ, সুষ্ঠু, ভয়ভীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও ভীতি, শঙ্কা, অস্বস্তিমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বিএনপির আহ্বান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, 'আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে নাসিক নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, ভয়ভীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মানুষের মন থেকে সকল ধরণের ভীতি, শঙ্কা, অস্বস্তি দুরীভুত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। কারন সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ হলে সাধারণ ভোটাররা দল বেধে নির্বাচনী কেন্দ্রে স্বত:স্ফুর্তভাব
ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা নিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজমান হলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন ইনশাল্লাহ'।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাচ্ছি আমার শুভেচ্ছা।
বন্ধুরা, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আর মাত্র একদিন পরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই আমি দলের পক্ষ থেকে নাসিক নির্বাচন সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আপনাদের ব্রিফ করেছি। আজকেও আমি নাসিক নির্বাচন নিয়ে আপনাদের সামনে কিছু কথা বলতে চাই।
নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে নাসিক নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে অংশ নিতে পারলেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা সার্বিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন। কোথা থেকে শুরু করে কোন কোন এলাকায় গণসংযোগ চালাবেন সেই ম্যাপও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বহিরাগতদের প্রচারণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার কারনে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া সম্ভব হলো না, যা নজীরবিহীন। বিগত যে কোনো নির্বাচনে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী এলাকার বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হতো। এটাই ছিল আইন, এটাই ছিল রেওয়াজ। কিন্তু এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৭২ ঘণ্টা করা হলো। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের কথা জেনেই ৭২ ঘন্টা আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকার বাইরের লোকদের নির্বাচনী প্রচারণয় বিধিনিষেধ জারি করা হলো। এটা যে বিনাভোটের সরকারের নির্দেশেই করা হয়েছে সেটি উপলব্ধি করতে কোন ইনফরমেশন টেকনোলজির আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, মানুষের আস্থার প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিলে ধানের শীষের পক্ষে আরো ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই সরকার ইসিকে দিয়ে এই পরিপত্র জারি করিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে শুধুমাত্র ইসি আর সরকারি দল বলছে, কিন্তু যদি সরকারি দল ও বিরোধী দল একযোগে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে বলতো তাহলে বোঝা যেতো ইসি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু উল্লিখিত বিবরণে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠাতে আাগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নাসিক নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল কিংবা ভোটাররা আশ্বস্ত হতে পারছেন না।
বন্ধুরা
আমরা বরাবরই বলছি নারায়নগঞ্জ হলো সন্ত্রাসীদের লীলাভূমি। সেখানে অস্ত্রবাজরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতে বা যেকোন সময় যেকোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাতে দ্বিধা বোধ করে না। নারায়নগঞ্জের লোমহর্ষক ৭ খুন হত্যা, ত্বকি হত্যাসহ অসংখ্য খুনখারাবির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা সর্বদা আতংকের মাঝে বসবাস করে। এর মধ্যে নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রধারিরা গোটা নির্বাচনী এলাকায় তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা খবর পাচ্ছি। একটা চাপা আতঙ্কের পরিবেশ জনমনে ভীতি সঞ্চার করে রেখেছে। জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, ব্যালট ছিনতাই ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারসহ আতংকিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এমন খবরও আমরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে জানতে পেরেছি, যার কিছু সংবাদ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে আরো জানা য়ায়, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত তিন শতাধিক সন্ত্রাসী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা বারবার যে আশঙ্কার কথা আপনাদের জানিয়ে এসেছি সেই আশঙ্কা বাস্তব রুপ নেয়ার আলামত ফুটে উঠছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না, নাসিক নির্বাচনেও তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের ইচ্ছা পূরণে ইলেকশন কমিশন কেন সেনা মোতায়েনে রাজী হয়নি সেটাও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তাহলে ইসি কী তাদের শেষ বেলাতেও তাদের পুরনো কলঙ্কিত চেহারাটা আবারও জাতির সামনে উন্মোচিত করতে যাচ্ছেন ? ইসি বলেছে-কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা, কিন্তু আমরা পূর্বের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি ইসি ভোটারদেরকে ভোট দিতে ছাড় দেয়নি, তবে আওয়ামী ক্যাডারদেরকে ভোট ছিনিয়ে নিতে ঠিকই ছাড় দিয়েছে। আমি ইসি’র উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনারা বলেছেন, নির্বাচনের দিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচ সহ¯্রাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবে, কিন্তু এর আগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকেও সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখেছি। সুতরাং আবারও ইসি’র উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনাদের হাত দিয়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে, এখন শেষ বেলায় ভাল কিছু করেন, একটি ভাল নির্বাচন করে রক্তশুণ্য গণতন্ত্রের শরীরে কিছুটা হলেও রক্তের ধারা সঞ্চার করুন। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে নাসিক নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, ভয়ভীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মানুষের মন থেকে সকল ধরণের ভীতি, শঙ্কা, অস্বস্তি দুরীভুত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। কারন সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ হলে সাধারণ ভোটাররা দল বেধে নির্বাচনী কেন্দ্রে স্বত:স্ফুর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা নিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজমান হলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন ইনশাল্লাহ।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

17/12/2016

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান আলোচ্য বিষয়। দেশের গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের আশা আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হোক। তবে তাদের মনে এই ভয়ও আছে যে, অতীতে আলোচনার টেবিলে খুব কম প্রশ্নের ফয়সালা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জনগণের মনের ভাষা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে তাদের অকুণ্ঠচিত্তে অভিবাদন জানাব, আর যদি অপারগ হয়, বুঝতে হবে জাতির কপালে আরও অনেক দুর্ভোগ আছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন গঠনকল্পে ১৩ দফা রূপরেখা দিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জানানো হয়, তিনি নিবন্ধিত সব দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রথম পর্যায়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও জাসদকে (ইনু) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দল। আসলে আলোচনাটি সরাসরি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে হওয়াটিই ছিল উত্তম। গণতান্ত্রিক দেশে সেটাই হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই পরিবেশ আছে বলে মনে হয় না। এর আগে বিএনপি সরকারি দলের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানালে আওয়ামী লীগের নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, জামায়াতের দোসর বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত রেখেছে। আর আদালত জানিয়ে দিয়েছেন, দাঁড়িপাল্লা কোনো দলের প্রতীক করা যাবে না (শুরু থেকে দাঁড়িপাল্লাই ছিল জামায়াতের দলীয় প্রতীক)।
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির আলোচনার উদ্যোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘তিনি যে সিদ্ধান্ত দেন সেটা আমরা মেনে নেব।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অনেকে সমঝোতার সবুজসংকেত বলে মনে করেন। আবার কারও মতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে ফায়দা হবে না। আসল চাবি সরকারের হাতে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এটাই প্রথম আলোচনা নয়। ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বরে যখন দশম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অগ্নিকোণে ঝড় বইছিল, তখনো খালেদা জিয়া জোটের নেতাদের নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিল, যাতে জামায়াতের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির নাজির আহমদও ছিলেন। এবার তিনি বিএনপির ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। জোটের শরিক কেউ থাকবেন না। ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের আমন্ত্রণে বিএনপির নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দুবারই তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে অনড় ছিলেন। এবার তাঁদের মুখ্য দাবি যোগ্য ও দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক।

Photos 05/07/2016

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

Want your business to be the top-listed Government Service in Narayanganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Narayanganj