বাপ ছেলে এক মঞ্চে।
The Best Solution
The best solution to any human problem (family, social, personal, economic and religious problems) is given through the Qur'an and Sunnah.
Contact Us For The Best Solution To Your Problem.
07/02/2022
16/09/2021
#জীবনকে_উপভোগ_করুন
বইটি সত্যিই অসাধারণ এক বই।
এই বইটি পড়ুন,ঘুরে যাবে আপনার জীবনের মৌড় আলোর দিকে।জানাতে পারবেন জীবন পরিচালনা করার নানান পথ & পদ্ধতি।বদলে দিন আপনার জীবন কে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে।এই বইটি হবে সহায়ক জীবন কে উপভোক করতে।বইটি সংগ্রহ করুন,পড়ুন, জীবন উপভোগ করুন রাসুল(সা)এর জীবনের আলোকে শান্তি পাবেন জীবনে নেমে আসবে আল্লাহর রহমত জীবন হবে সাথ`ক।আল্লাহ কবুল করুক আমীন।
#সুরা_আদ_দোহা_নেপথ্য_গল্প_থেকে
#আরিফ_আজাদ
সুরা আদ-দোহা আমাদের প্রায় সবার অত্যন্ত প্রিয় একটা সুরা। মন খারাপের দিনে ছোট্ট এই সুরা যেন মহৌষধ হিশেবে মুমিন ব্যক্তির জীবনে কাজ করে। আর করবেই-বা না কেনো? স্বয়ং নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এই সুরাটা একপ্রকার ‘স্বস্তি’ হিশেবে নাযিল হয়েছিলো।
আমাদের মন খারাপের দিনে, অলস দুপুরে, উদাস বিকেলে যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে অন্তর, যখন জানা-অজানা কারণে হৃদয়টা কেবল ছটফটায়, যখন নাভিশ্বাস উঠে যায় মাঝে মাঝে, জীবন থেকে যখন আমাদের পালাতে ইচ্ছে করে, সুরা আদ-দোহা তখন যেন আমাদের ঠিক ঠিক পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে। আমরা তখন তিলাওয়াত করি আর স্মরণ করি সেই আয়াতগুলো যেগুলোতে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা শুনিয়েছেন আশা এবং ভরসার ঐশী বাণী।
‘নিশ্চয় আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেন নি আর না তিনি আপনার ওপর অসন্তুষ্ট।’ [১]
‘নিশ্চয় আপনার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা উত্তম’। [২]
‘শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এতো পরিমাণ দেবেন যে আপনি খুশি হয়ে যাবেন।’ [৩]
দুঃখের ভারে নুইয়ে পড়া অন্তরে, বেদনায় মরচে ধরা হৃদয়ে এই আয়াতগুলো যেন রহমতের বারিধারা হয়ে ধরা দেয়। এই আয়াতগুলো যেন জীবন নিয়ে নতুনভাবে ভাবার, নতুন করে বাঁচার তাগিদ দিয়ে যায় আমাদের। আমরা উপলব্ধি করি— যে খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি, তা শীঘ্রই কেটে যাবে। নতুন ভোরের সোনারঙা আলোয় ভরে উঠবে আমাদের মনের উঠোন। আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে এক সুন্দর পরিণতি আর এই দুঃখ সেই পরিণতিতে পৌঁছানোর সিঁড়ি মাত্র।
আমাদেরকে দুঃখের অতল গহ্বর থেকে টেনে তোলা সুরা আদ-দোহার সেই আয়াতগুলো নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি, ভাবি এবং ভবিষ্যতেও ভাববো, ইন শা আল্লাহ। সেগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলোকে নিজেদের জীবনে ধারণ করে আমরা সুখ আর স্বস্তিময় করে তুলবো আমাদের দুঃখের মুহূর্তগুলোকে।
তবে, সুরা আদ-দোহার আয়াতগুলো নিয়ে বেশ অনেক ভাবনা-চিন্তা করা হলেও, এই সুরা নাযিলের পেছনে যে নেপথ্য কাহিনী, সেই কাহিনীতেও রয়েছে ভাবনার অনেক খোরাক।
সুরা আদ-দোহা নাযিলের প্রেক্ষাপট প্রায় আমাদের সকলের-ই জানা। লম্বা একটা সময়, তাফসিরকারকদের মতে প্রায় পনেরো দিন টানা ওহী নাযিল বন্ধ থাকায় নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ চিন্তায় পড়ে যান। এদিকে এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে ভুল করেনি মক্কার মুশরিকরা। তারা সোৎসাহে বলে বেড়াতে লাগলো— ‘দেখেছো, মুহাম্মাদের রব মুহাম্মাদকে ছেড়ে চলে গেছে। তার জন্যে বার্তা নিয়ে যে আসতো, সে আর আসে না।’
ওহী নিয়ে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের আগমন বন্ধ থাকায় নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন এমনিতেই বেশ অস্থির আর অশান্ত। তারওপর এই প্রসঙ্গে মুশরিকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ নবিজীর সেই মন খারাপটাকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো যেন।
বিষণ্ণতায় ছেঁয়ে গেলো নবিজীর মন। একদিকে ওহী নাযিল বন্ধ থাকার বেদনা, অন্যদিকে মুশরিকদের ক্রমাগত মানসিক আঘাত! সবমিলিয়ে নবিজী যেন বিধ্বস্ত হয়ে পড়লেন তখন।
নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে টেনে তুলতে, তাঁর অশান্ত মনটাকে শান্ত করতে, হৃদয়ের বিপন্ন অবস্থাকে স্থির করতে এবং সর্বোপরি মক্কার মুশরিকদের অপবাদের জবাব দিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা নাযিল করলেন সুরা আদ-দোহা।
সুরা আদ-দোহার আলোচনায় যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা বাদ পড়ে যায় তা হলো— নেপথ্যের এই কাহিনীটা। কাহিনীটা আমরা জানি বটে, কিন্তু তা নিয়ে গভীর ভাবনা-চিন্তা কখনো হয়তো ওভাবে করা হয়নি।
নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশান্ত হয়ে পড়েছিলেন, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা ওহী পাঠাচ্ছেন না। বহুদিন হয় জিবরাঈল ওহী সমেত তাঁর কাছে আসছে না। কেনো হঠাৎ করে ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেলো? তবে কি তিনি কোন ভুল করে ফেলেছেন যার কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন? তবে কি তিনি নবুয়্যাতের ঝান্ডা বয়ে বেড়াবার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন? তবে কি তিনি বাদ পড়েছেন আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের তালিকা হতে?
এই সমস্ত ভাবনা আর দুশ্চিন্তাগুলো কুরে কুরে খাচ্ছিলো নবিজীকে। এসবের কোন উত্তর তিনি কারো কাছে পাচ্ছেন না। যেকোন পরিস্থিতিতে যে জিবরাঈল আল্লাহর আদেশ নিয়ে এসে নবিজীকে পথ দেখাতো, আজ বহুদিন তাঁর দেখা নেই— এটা কি স্বাভাবিক কোন ব্যাপার!
নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তা মোটেও স্বস্তির ছিলো না। যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা পরিত্যাগ করে, তার জীবনের আর মূল্যটাই-বা কী! মানসিক অশান্তি আর শত্রুপক্ষের নিরন্তর কথার আঘাত— সব মিলিয়ে নবিজী তখন পার করছেন জীবনের এক কঠিন সময়।
সুরা আদ-দোহা নাযিলের এই যে প্রেক্ষাপট, এখান থেকে আমাদের শিখবার কী আছে?
নবিজীর সমস্ত ব্যাকুলতা ছিলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন কি-না তা ভেবে। আল্লাহর সান্নিধ্য ছিলো নবিজীর কাছে জীবনের সবচেয়ে সেরা প্রাপ্তি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালার সাথে ওহীর মাধ্যমে যে নিত্য-নৈমিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেটাই তাঁর কাছে সমস্ত প্রাপ্তি, সমস্ত চাওয়া, সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষার উর্ধ্বে। এই প্রাপ্তির চেয়ে বড় কোন প্রাপ্তি নেই। এই ভালোবাসার চাইতে মধুর কোন প্রণয় নেই। এই সম্পর্কের চাইতে সুন্দর কোন বন্ধন নেই।
যখন এই প্রাপ্তিতে সাময়িক বিরতি এলো, এই প্রণয়ে যখন ঘটলো ক্ষণিকের বিচ্ছেদ, এই সম্পর্কে যখন নেমে এলো মুহূর্তের ছন্দপতন— নবিজী তখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা’কে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়লেন।
আল্লাহকে হারানোর এই ব্যাকুলতা, এই আবেগ, এই টান নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুভব করতে পেরেছিলেন কারণ আল্লাহর সাথে তাঁর সম্পর্কটা ঠিক ততোখানি গাঢ় ছিলো যতোখানি গাঢ় হলে বিচ্ছেদ-ব্যথা অনুভূত হয়। সম্পর্ক যতোখানি গভীর হলে তার সাময়িক বিচ্ছেদে মানুষ পাগলপারা হয়ে যায়, নবিজীর জীবনে আল্লাহর অবস্থান ছিলো সেরকম।
আমরা যদি আমাদের জীবনের দিকে তাকাই, আমাদের জীবনের কোথাও কি আমরা সেই টান, সেই ব্যথা, সেই আবেগ আর ব্যাকুলতা আল্লাহর জন্য অনুভব করি যা করতে পেরেছিলেন নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?
আমাদের দুয়া কবুল হয় না। আমরা কি কখনো এভাবে ভেবেছি যে— আল্লাহ আমাকে পরিত্যাগ করেননি তো? এমন কোন পাপ কি আমি করেছি যার কারণে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে আমার দুয়া কবুল করছেন না?
আমাদের চাকরি হয় না। আমরা কি ভেবেছি— ‘আল্লাহ কি আমার ওপর অসন্তুষ্ট? এজন্যেই কি আমার রিযিকের রাস্তা কঠিন হয়ে উঠেছে?’
আমাদের সন্তান হয় না। আমরা কি কখনো এভাবে চিন্তা করেছি— ‘আমার কোন পাপের কারণে কি আল্লাহ আমাকে সন্তান দান করছেন না?’
আমাদের ব্যবসা থেকে বারাকাহ উঠে যায়, সংসারে অশান্তি বিরাজ করে, সময়ে-কাজে আমরা কূলিয়ে উঠতে পারি না। সালাতে মন বসে না, কুরআন তিলাওয়াতে অন্তর নরম হয় না, হারামের মধ্যে সহজে আমরা ডুবে যাই। এতোসব অন্যায়-পাপ আর পঙ্কিলতার মাঝে নিমজ্জিত হয়ে কখনো একটাবারের জন্যে আমরা নীরবে-নিভৃতে ভেবেছি কি— ‘হায়! কেনো আমার জীবনটা এতো এলোমেলো-অগোছালো? কেনো আমার জীবন থেকে ছন্দ হারিয়ে গেছে? কেনো আমার হৃদয় থেকে লুপ্ত হয়েছে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, কুরআনের জন্য প্রেম আর দ্বীনের জন্য দরদ? তবে কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা আমাকে সত্যিই পরিত্যাগ করেছেন? তবে কি সত্যিই আমি অনুসরণ করছি শয়তানের পদাঙ্ক? তবে কি সিরাতুল মুস্তাকীমের রাস্তা ছেঁড়ে আমি হাঁটতে শুরু করেছি জাহান্নামের রাস্তায়? হায়! আল্লাহকে হারিয়ে কী-ই বা পাওয়া হবে আমার?’
নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে যদি এই প্রশ্নগুলো আমরা করতে পারি, জীবন থেকে আল্লাহর অনুগ্রহ হারিয়ে গেছে ভেবে যদি সেভাবে ব্যাকুল হতে পারি যেভাবে ব্যাকুল হয়েছিলেন নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যদি হৃদয়ের গভীর থেকে চাইতে পারি তাঁর ভালোবাসা এবং ছেঁড়ে আসতে পারি সমস্ত অবাধ্যতা, তবে সুরা আদ-দোহার সেই সমস্ত সু-সংবাদকে আমরা আমাদের জন্যও ভাবতে পারি যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা বলছেন—
‘নিশ্চয় আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেন নি আর না তিনি আপনার ওপর অসন্তুষ্ট।’
‘নিশ্চয় আপনার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা উত্তম’।
‘শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এতো পরিমাণ দেবেন যে আপনি খুশি হয়ে যাবেন।’
সুরা আদ-দোহা নাযিলের এই নেপথ্য কাহিনীকে যদি ধারণ করতে পারি জীবনে, আশা করা যায়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা কখনোই আমাদের ছেঁড়ে যাবেন না।
22/08/2021
#কুরআন_তেলাওয়াতের_উদ্দেশ্য:-
" #আপনি_কেনো_কোরআন_তেলাওয়াত_করেন?"
অধিকাংশ মানুষকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে; উত্তরে এ কথায় বলে "কুরআন আল্লাহর কিতাব, তেলাওয়াত সর্বোত্তম আমল, প্রতিটি হরফে দশ নেকি করে" মানে কুরআন পাঠের যাবতীয় ফজিলত উল্লেখ্য করতে থাকে।
আসলেই আমরা এই উত্তর বা নিয়্যাত এর মাধ্যমে আমাদের কুরআন তেলাওয়াত কে এই এবং একক উদ্দেশ্যের মাঝে সীমাবদ্ধ করে রেখেছি। যা কুরআন পাঠের উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি উদ্দেশ্য মাত্র। ফলে অন্যান্য মহৎ উদ্দেশ্য গুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হয়।
কুরআন তেলাওয়াতের অনেকগুলো উদ্দেশ্য বা নিয়ত রয়েছে। যার প্রতিটি একটি অপরটির চেয়ে গুরুতর। যদিও একটি উদ্দেশ্য বা নিয়ত নিয়ে কুরআন তেলাওয়াত যথেষ্ট। সে উদ্দেশিগুলি হলো:-
১. ثواب বা প্রতিদান। (কুরআন তেলাওয়াতে এই নিয়ত টি আমরা সকলেই করে থাকি)
২. مناجاة و مسألة বা চাওয়া, প্রার্থনা করা।
৩. شفاء বা আরোগ্যতা।
৪. بركة বা বরকত বা কল্যাণ।
৫. علم বা জ্ঞান।
৬. عمل বা আমল করা।
এ সবগুলো নিয়ত বা উদ্দেশ্য একই সময়ে একই তেলাওয়াতের জন্য করা হলে, তখন সে তেলাওয়াত টা সত্যিই মনমুদ্ধকর অনন্য এক প্রভাব বিস্তারকারী এবং উপকারী তেলাওয়াত হয়। যা ভাবাই যায়না।
মূলকথা কথা হলো:- انما الأعمال بالنية যে ব্যাক্তি যে উদ্দেশ্য বা নিয়তে কুরআন তেলাওয়াত করবে, সে তাই পাবে। কেউ তেলাওয়াতে শুধু সওয়াব এর নিয়ত করলে শুধু সওয়াব পাবে, বরকতের আশা করলে বরকত পাবে, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য করলে জ্ঞান অর্জন হবে। কেউ এক সাথে সবগুলি নিয়ত করলে সবগুলি পাবে। والله أعلم
02/08/2021
আপনি হয়তো দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় আছেন। হতে পারে আপনার বিয়ে হচ্ছে না, ডিভোর্স হয়েছে, কিংবা বেকার বসে আছেন, জব পাচ্ছেন না অথবা স্যালারি বাড়ছে না, হতে পারে আপনার পরিবারে নানান জটিলতা, এমনও হতে পারে যে আপনি এই সব সমস্যাই একত্রে ফেস করছেন।
আমরা সবাই ই কমবেশি সমস্যার বেড়াজালে আটকে আছি এবং সমাধানের পথ খুঁজছি। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পাশাপাশি নানান দোয়া করে যাচ্ছি। কিন্তু দোয়া কবুল হচ্ছে না৷ সমস্যা সমাধানের দরজাগুলো খুলতে পারছি না। অস্থির হবেন না। একটা শব্দ খুলে দিতে পারে সব বন্ধ দরজাগুলো। “আসতাগফিরুল্লাহ!”
হ্যাঁ। “আসতাগফিরুল্লাহ” কে আমাদের জীবনের সাথে মিশিয়ে ফেলি। আসমান থেকে আমাদের রব আমাদের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেবেন। আমাদের রব তো রহমানুর রাহিম। তিনি অসীম দয়ালু। এবং তিনি গাফুরুর রাহিমও। অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
তাঁর দয়া আর করুণা দিয়ে তিনি আমাদের শুধু ক্ষমা ই করবেন না, পাশাপাশি অন্য সমস্যারও সমাধান করে দেবেন। কারণ তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
“তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। (ক্ষমাপ্রার্থনা করলে) তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তোমাদেরকে তিনি ধনসম্পদ ও সন্তানাদি দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। তোমাদের জন্যে তিনি বিভিন্ন রকমের বাগান ও অনেক নদ-নদী সৃষ্টি করে দেবেন।”
-- [সূরা নূহ (৭১) : ১০-১২]
খেয়াল করুন, বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। বৃষ্টি মানে কি শুধুই পানি? আমাদের অন্তরের প্রশান্তি, রিযক, সুস্বাস্থ্য সবকিছুই তো আল্লাহর হাতে। তিনিই তো সুকুন বর্ষণ করবেন। আমরা নিজেদের অন্তরে নিজেরা প্রশান্তি আনতে পারবো? সম্ভব কি?
কিন্তু ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের অন্তরে আসমান থেকে প্রশান্তি এনে দেবেন। শুধু তাই নয়, ধনসম্পদ ও সন্তানাদি দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। সুবহানআল্লাহ!
তাই আমাদের কর্মের পথ, রিযকের পথ, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্যগত যে কোনো সমস্যার বন্ধ দরজার পথ খুলতে আমরা সারাদিন আসতাগফিরুল্লাহ বলার অভ্যাস করি।
শুধু বিড়বিড় করে অনেকবার বলে না গিয়ে অর্থ বুঝে আন্তরিকতার সাথে ক্ষমা চেয়ে বলি। আসতাগফিরুল্লাহ অর্থ, ‘আল্লাহ আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি, আমাকে ক্ষমা করুন।’ এটা মন থেকে মিন করে বলি।
কাজ করছি? আসতাগফিরুল্লাহ বলি, রান্নাবান্না করছি? আসতাগফিরুল্লাহ বলি। অবসর কাটাচ্ছি? আসতাগফিরুল্লাহ বলি। দাঁড়াতে উঠতে বসতে সবসময় আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকি।
“আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন।”
-- [সূরা হুদ: আয়াত ৩]
“আল্লাহ তাদের আজাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ইস্তেগফার করছে।”
-- [সূরা আনফাল: আয়াত ৩৩]
“কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করছো না, যেন তোমাদের রহমত করা হয়?”
-- [সূরা নামল : আয়াত ৪৬]
“যে ব্যক্তি ‘ইস্তেগফার এর সাথে আঁকড়ে থাকে অর্থাৎ ইস্তেগফারে সর্বদা নিয়োজিত থাকে আল্লাহতায়ালা তাকে সর্ব প্রকার বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি করে দেন আর প্রত্যেক দূরাবস্থা থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেন আর তাকে ঐ সমস্ত রাস্তায় দান করেন যা সে ধারনাও করতে পারে না”
-- [রিয়াদুস সালেহীনঃ হাদিস নং ১৮৭৩]৷; [আবু দাউদ]
আমাদের জীবনের বারাকাহ তো তখন আসবে যখন বিপদ আপদ থেকে আল্লাহ আমাদের উদ্ধার করবেন। তাছাড়া আর তার জন্য আসতাগফিরুল্লাহ বেশি বেশি পড়ার অভ্যাস থাকা দরকার আমাদের।
আরো চমৎকার বিষয় কি জানেন? আসতাগফিরুল্লাহ বেশি পড়ার কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ হিসেবে কবুল করে নেয়। ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ হলো এমন ব্যক্তি, যে ব্যক্তির দোয়াগুলো কবুল হয়ে যায়। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সঙ্গে ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ এর সেই রুটিওয়ালার কাহিনীই তার প্রমাণ।
আজ থেকেই হোক আমাদের সেই আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার ইস্তেগফার। আজ থেকেই হোক সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া। আল্লাহ সবাইকে হক এর উপর থেকে এই আমল করার তাওফিক দিক। আমিন।
[বিঃদ্রঃ ইস্তেগফার অনেক রকম আছে যেটা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। তবে সবচেয়ে সহজ ইস্তেগফার ‘আসতাগফিরুল্লাহ’]
Copyed
#যুব_সমস্যা:-
এর অন্যতম #সমাধান হলো দ্রুত #বিয়ে করে ফেলা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Nawabganj, Rajshahi Division
Nawabganj
3600
