16/12/2024
১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস,
বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবগাঁথার এক অবিস্মরণীয় দিন
জয় বাংলা!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনীতিতে বিশ্বাসী
16/12/2024
১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস,
বাঙালি জাতির হাজার বছরের গৌরবগাঁথার এক অবিস্মরণীয় দিন
জয় বাংলা!
16/12/2024
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযু্দ্ধে নেতৃত্বদানকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো বীরাঙ্গনা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ভারতীয় সেনা, মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশ ও তার জনগণ এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।
মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
জয় বাংলা।।
'জয় বাংলা' কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিত করলো আপিল বিভাগ।
এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে আপিল বিভাগ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করলো তাও এই বিজয়ের মাসে।
11/11/2024
09/11/2024
📷 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ভয়েস আর্টিস্ট দিয়ে কল রেকর্ড তৈরি করে, তা বুস্ট করে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জঘন্য চক্রান্ত করছে বর্তমান #ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি এবং সত্য #গোপন করার এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য। সবাইকে ট্রোলের মাধ্যমে ব্যস্ত রেখে, সরকারের চলমান #অপরাধগুলো সুন্দরভাবে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। সাবধান, আসল সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে আমাদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
03/11/2024
“যতবারই হত্যা করো জন্মাবো আবার
দারুন সূর্য হবো, লিখবো নতুন ইতিহাস।
আজ ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান এর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
25/10/2024
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা: রাজনৈতিক দমন পীড়নের বেঞ্চমার্ক
ছাত্রলীগ বাংলাদেশের একমাত্র ভ্যানগার্ড। এই ছাত্রসংগঠনের ইতিহাসটা বাংলাদেশেরই ইতিহাস। বাংলা, বাঙালি, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে যার জন্ম। পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে এই সংগঠনের মত বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য এবং অর্জন কোন সংগঠনের নেই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফ্যাসিস্ট সিদ্ধান্তে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শ’খানের লোক সময় বেঁধে দিলো, আর অনির্বাচিত একটা সরকারের সিদ্ধান্তে ৭৬ বছর পুরোন একটা ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়ে গেলো! এতো সোজা?
এরা বলে মেধাবী! যে আইনে এই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে সেটা একবার পড়ে দেখবে না? পড়াশোনা করতে পারলে তো মব (ভীড়) হতো না। আর শিশু উপদেষ্টারা না হয় আইনের ম্যারপ্যাচ বুঝবে না - কিন্তু আইনের অধ্যাপক? সেও কী প্রজ্ঞাপন জারির আগে অন্তত পড়ে দেখবেন না আইনটা?
(বিস্তারিত জানতে পড়ুন: সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1009.html)
এরা আইন-আদালত-সংবিধান কিছুই মানে না। মবের মুল্লুকে মব জাস্টিসই যখন শেষ কখা তখন তখন ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর আওতায়’ বলে ফরমান জারি করে কাকে বিভ্রান্ত করছে?
২০০৯ সনের ১৬ নং আইনের রেফারেন্স যখন টেনেছে তখন এই আইনের আলোকে দেখা যা এই আইনের অপপ্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ। আদতে, ছাত্রলীগের উপর এ নিষেধাজ্ঞা একটি অযৌক্তিক এবং বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় দমন পীড়নের একটি কৌশল।
১. সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ প্রণীত হয়েছিল মূলত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা, সন্ত্রাসী হামলা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের যে কোনো কার্যক্রম দমন করা। আইনটি বিশেষ করে এমন সংগঠন বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায় বা জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে। অর্থাৎ, আইনটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংজ্ঞা এবং প্রাসঙ্গিকতা
Anti-Terrorism Act 2009 এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন সব কর্মকাণ্ড, যা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়ায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করে।
সাধারণভাবে, এই আইনটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বা দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু, ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, যার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর কাজের ধরন ও উদ্দেশ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলেনা।
একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা তখনই ন্যায্য হতে পারে যখন এটি প্রমাণিত হয় যে সংগঠনটি সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত, যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। তবে ছাত্রলীগের ইতিহাস ও কাঠামোকে বিচার করে এটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা স্রেফ আইনের বেইআইনি অপপ্রয়োগ।
আইনি বিচ্যুতি:
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারা ১৬ এবং তফসিল ২ অনুযায়ী, যে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে নিষিদ্ধ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগ কি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কাজ করেছে? নাকি তার কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত হয়েছে? পুরো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইনের অধীনে ব্যাপক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে যে, সংগঠনটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯, ধারা ১৬ (Proscription of a terrorist entity) স্পষ্ট করে যে:
"The Government may, by notification in the official Gazette, declare an organization as a proscribed entity if it is involved in terrorism or instigates terrorism."
এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপনে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সন্ত্রাস হিসেবে প্রমাণিত না হলে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা আইনটির সীমারেখার বাইরে চলে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দমন পীড়ন
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত সংগঠনটি সবসময়ই জাতীয় ইস্যুতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রলীগের সক্রিয়তা ছিল। তবে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
তবে, কিছু সদস্যের অপরাধের জন্য পুরো সংগঠনকে দায়ী করা অযৌক্তিক এবং স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড। যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে সেই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত, কিন্তু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা নৈতিক কিংবা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। ব্যক্তির অপরাধের জন্য সমগ্র সংগঠনকে দায়ী করা আইনের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচ্য, বিশেষ করে যখন এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
ছাত্রলীগের মতো বিশাল সংগঠনে বহিরাগত বা অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের অনুপ্রবেশ একটি পরিচিত সমস্যা। ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কীভাবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। ২০০৯ সাল থেকে টানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের নামে যে সব অভিযোগ তা যে এদের দ্বারা নয় তারও তো তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
৩. আইনের অপপ্রয়োগ
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ তখনই ঘটে যখন একটি আইনকে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, কিন্তু একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হলে তা স্পষ্টতই আইনের অপপ্রয়োগ হিসেবে পরিগণিত হবে। ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে না হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা আইনপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা লঙ্ঘন করে।
বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত
সন্ত্রাস বিরোধী আইন একটি শক্তিশালী আইন, কিন্তু তা যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আইনটি ব্যবহার করে ছাত্রলীগের মতো একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে, যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইন প্রয়োগ করা হলে তা রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত বাড়াতে পারে। আইনটি তৈরি করা হয়েছিল সন্ত্রাসী সংগঠন ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হলে আইনের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটে।
৪. সংগঠনের দায় বনাম ব্যক্তির দায়
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ব্যক্তির অপরাধের জন্য সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যায়, কিন্তু একটি সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে সংগঠনের কাঠামো এবং কার্যকলাপকে সেই প্রমাণের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। ছাত্রলীগের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু পুরো সংগঠনকে দায়ী করে নিষিদ্ধ করা সঠিক নয়। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করার একটি উদাহরণ হতে পারে, যা আইনের নিয়মিত প্রয়োগের পরিপন্থী।
আইনের ন্যায্য প্রয়োগে ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা হতে হলে, প্রমাণিত অপরাধ এবং সেই অপরাধের সাথে সংগঠনের সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হবে, যা আইনগত বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রমকে বেশি প্রতিফলিত করে।
৫. গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
ছাত্রলীগের ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন এবং নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হীন অপকৌশল
আইনের অপপ্রয়োগ তখনই ঘটে যখন কোনো আইনকে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাস দমন করা, কিন্তু ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হলে এটি রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রম। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে আইনের এই অপপ্রয়োগটি প্রমাণ করে যে এটি এ দেশের মানুষের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃচিহ্ন করানোর একটি হীন অপকৌশল।
সংগঠনের ঐতিহাসিক ভূমিকা:
ছাত্রলীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সামরিক স্বৈরশাষনবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংগঠনটি এমন অনেক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, যা জাতির জন্য ইতিবাচক ছিল। সন্ত্রাসী হিসেবে এই ধরনের একটি সংগঠনকে চিহ্নিত করা এর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং জনপ্রিয়তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৬. উপযুক্ত প্রমাণ
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারা অনুযায়ী, একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে যে সেই সংগঠন সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। কিন্তু ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রমাণ ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা আইনের অপপ্রয়োগ বলে বিবেচিত হতে পারে।
● Anti-Terrorism Act 2009, Section 6: সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সংজ্ঞা এবং এর প্রভাব ব্যাখ্যা করে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার সরাসরি জড়িত থাকা প্রমাণিত হতে হবে।
● Bangladesh Constitution, Article 37: বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার কথা বলে। ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
৭. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অবস্থান
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাধারণত রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে। মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো সংগঠনকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞার পেছনে হীনরাজনৈতিক উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
৮. আদালতের পর্যালোচনা এবং চ্যালেঞ্জের সুযোগ:
একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে, আদালত এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা বিচার করতে পারে। ছাত্রলীগ যদি আদালতে সন্ত্রাসের সংজ্ঞার আওতায় না পড়ে এবং তার কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক হয়, তবে আদালত প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সব নাগরিকের সমান অধিকার এবং রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যকলাপ পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে (Article 38 of the Constitution of Bangladesh: Freedom of Association). আদালত এই অধিকার সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনটির যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অযৌক্তিক, আইনের অপপ্রয়োগ, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি কৌশল। এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের বিরুদ্ধে হুমকি।
আর ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, ছাত্রলীগ কখনো মসৃণ ছিল না। কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ দেশের মানুষের অধিকারের জন্য অহর্নিশ লড়াই-সংগ্রাম করেই লিখেছে তাদের গর্বিত ইতিহাস। গত ৭৬ বছরে এই সংগঠন যত বাধাবিপত্তি পেয়েছে তার কাছে এই ফরমান কিছুই না।
এখন দেখেন! আপনারা যা ভালো মনে করেন।
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা: রাজনৈতিক দমন পীড়নের বেঞ্চমার্ক
ছাত্রলীগ বাংলাদেশের একমাত্র ভ্যানগার্ড। এই ছাত্রসংগঠনের ইতিহাসটা বাংলাদেশেরই ইতিহাস। বাংলা, বাঙালি, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে যার জন্ম। পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে এই সংগঠনের মত বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য এবং অর্জন কোন সংগঠনের নেই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফ্যাসিস্ট সিদ্ধান্তে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শ’খানের লোক সময় বেঁধে দিলো, আর অনির্বাচিত একটা সরকারের সিদ্ধান্তে ৭৬ বছর পুরোন একটা ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়ে গেলো! এতো সোজা?
এরা বলে মেধাবী! যে আইনে এই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে সেটা একবার পড়ে দেখবে না? পড়াশোনা করতে পারলে তো মব (ভীড়) হতো না। আর শিশু উপদেষ্টারা না হয় আইনের ম্যারপ্যাচ বুঝবে না - কিন্তু আইনের অধ্যাপক? সেও কী প্রজ্ঞাপন জারির আগে অন্তত পড়ে দেখবেন না আইনটা?
(বিস্তারিত জানতে পড়ুন: সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1009.html)
এরা আইন-আদালত-সংবিধান কিছুই মানে না। মবের মুল্লুকে মব জাস্টিসই যখন শেষ কখা তখন তখন ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর আওতায়’ বলে ফরমান জারি করে কাকে বিভ্রান্ত করছে?
২০০৯ সনের ১৬ নং আইনের রেফারেন্স যখন টেনেছে তখন এই আইনের আলোকে দেখা যা এই আইনের অপপ্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ। আদতে, ছাত্রলীগের উপর এ নিষেধাজ্ঞা একটি অযৌক্তিক এবং বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় দমন পীড়নের একটি কৌশল।
১. সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ প্রণীত হয়েছিল মূলত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা, সন্ত্রাসী হামলা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের যে কোনো কার্যক্রম দমন করা। আইনটি বিশেষ করে এমন সংগঠন বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায় বা জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে। অর্থাৎ, আইনটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংজ্ঞা এবং প্রাসঙ্গিকতা
Anti-Terrorism Act 2009 এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন সব কর্মকাণ্ড, যা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়ায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করে।
সাধারণভাবে, এই আইনটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বা দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু, ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, যার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর কাজের ধরন ও উদ্দেশ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলেনা।
একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে এই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা তখনই ন্যায্য হতে পারে যখন এটি প্রমাণিত হয় যে সংগঠনটি সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত, যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। তবে ছাত্রলীগের ইতিহাস ও কাঠামোকে বিচার করে এটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা স্রেফ আইনের বেইআইনি অপপ্রয়োগ।
আইনি বিচ্যুতি:
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারা ১৬ এবং তফসিল ২ অনুযায়ী, যে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে নিষিদ্ধ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগ কি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কাজ করেছে? নাকি তার কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত হয়েছে? পুরো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইনের অধীনে ব্যাপক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে যে, সংগঠনটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯, ধারা ১৬ (Proscription of a terrorist entity) স্পষ্ট করে যে:
"The Government may, by notification in the official Gazette, declare an organization as a proscribed entity if it is involved in terrorism or instigates terrorism."
এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপনে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সন্ত্রাস হিসেবে প্রমাণিত না হলে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা আইনটির সীমারেখার বাইরে চলে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দমন পীড়ন
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত সংগঠনটি সবসময়ই জাতীয় ইস্যুতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রলীগের সক্রিয়তা ছিল। তবে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
তবে, কিছু সদস্যের অপরাধের জন্য পুরো সংগঠনকে দায়ী করা অযৌক্তিক এবং স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড। যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে সেই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত, কিন্তু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা নৈতিক কিংবা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। ব্যক্তির অপরাধের জন্য সমগ্র সংগঠনকে দায়ী করা আইনের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচ্য, বিশেষ করে যখন এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
ছাত্রলীগের মতো বিশাল সংগঠনে বহিরাগত বা অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের অনুপ্রবেশ একটি পরিচিত সমস্যা। ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কীভাবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে। ২০০৯ সাল থেকে টানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রলীগের নামে যে সব অভিযোগ তা যে এদের দ্বারা নয় তারও তো তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
৩. আইনের অপপ্রয়োগ
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ তখনই ঘটে যখন একটি আইনকে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, কিন্তু একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হলে তা স্পষ্টতই আইনের অপপ্রয়োগ হিসেবে পরিগণিত হবে। ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে না হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা আইনপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা লঙ্ঘন করে।
বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত
সন্ত্রাস বিরোধী আইন একটি শক্তিশালী আইন, কিন্তু তা যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আইনটি ব্যবহার করে ছাত্রলীগের মতো একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে, যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইন প্রয়োগ করা হলে তা রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত বাড়াতে পারে। আইনটি তৈরি করা হয়েছিল সন্ত্রাসী সংগঠন ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হলে আইনের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটে।
৪. সংগঠনের দায় বনাম ব্যক্তির দায়
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ব্যক্তির অপরাধের জন্য সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যায়, কিন্তু একটি সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে সংগঠনের কাঠামো এবং কার্যকলাপকে সেই প্রমাণের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। ছাত্রলীগের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু পুরো সংগঠনকে দায়ী করে নিষিদ্ধ করা সঠিক নয়। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করার একটি উদাহরণ হতে পারে, যা আইনের নিয়মিত প্রয়োগের পরিপন্থী।
আইনের ন্যায্য প্রয়োগে ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা হতে হলে, প্রমাণিত অপরাধ এবং সেই অপরাধের সাথে সংগঠনের সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হবে, যা আইনগত বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রমকে বেশি প্রতিফলিত করে।
৫. গণতন্ত্রের জন্য হুমকি
ছাত্রলীগের ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন এবং নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হীন অপকৌশল
আইনের অপপ্রয়োগ তখনই ঘটে যখন কোনো আইনকে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাস দমন করা, কিন্তু ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হলে এটি রাজনৈতিক দমনমূলক কার্যক্রম। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে আইনের এই অপপ্রয়োগটি প্রমাণ করে যে এটি এ দেশের মানুষের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃচিহ্ন করানোর একটি হীন অপকৌশল।
সংগঠনের ঐতিহাসিক ভূমিকা:
ছাত্রলীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সামরিক স্বৈরশাষনবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংগঠনটি এমন অনেক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, যা জাতির জন্য ইতিবাচক ছিল। সন্ত্রাসী হিসেবে এই ধরনের একটি সংগঠনকে চিহ্নিত করা এর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং জনপ্রিয়তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৬. উপযুক্ত প্রমাণ
সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারা অনুযায়ী, একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে যে সেই সংগঠন সরাসরি সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। কিন্তু ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রমাণ ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা আইনের অপপ্রয়োগ বলে বিবেচিত হতে পারে।
● Anti-Terrorism Act 2009, Section 6: সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সংজ্ঞা এবং এর প্রভাব ব্যাখ্যা করে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার সরাসরি জড়িত থাকা প্রমাণিত হতে হবে।
● Bangladesh Constitution, Article 37: বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার কথা বলে। ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
৭. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অবস্থান
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাধারণত রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে। মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো সংগঠনকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞার পেছনে হীনরাজনৈতিক উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
৮. আদালতের পর্যালোচনা এবং চ্যালেঞ্জের সুযোগ:
একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে, আদালত এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা বিচার করতে পারে। ছাত্রলীগ যদি আদালতে সন্ত্রাসের সংজ্ঞার আওতায় না পড়ে এবং তার কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক হয়, তবে আদালত প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, সব নাগরিকের সমান অধিকার এবং রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যকলাপ পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে (Article 38 of the Constitution of Bangladesh: Freedom of Association). আদালত এই অধিকার সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনটির যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অযৌক্তিক, আইনের অপপ্রয়োগ, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি কৌশল। এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারের বিরুদ্ধে হুমকি।
আর ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, ছাত্রলীগ কখনো মসৃণ ছিল না। কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ দেশের মানুষের অধিকারের জন্য অহর্নিশ লড়াই-সংগ্রাম করেই লিখেছে তাদের গর্বিত ইতিহাস। গত ৭৬ বছরে এই সংগঠন যত বাধাবিপত্তি পেয়েছে তার কাছে এই ফরমান কিছুই না।
এখন দেখেন! আপনারা যা ভালো মনে করেন।
23/10/2024
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি
-----
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন,
৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন,
৫৮ এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন,
৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
৬৬ এর ছয় দফা
’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
৭০ এর নির্বাচন ও
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ করেছিলো ছাত্রলীগকে, ফলাফল হিসাবে আওয়ামী লীগ - ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় বলতেন, 'ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস'
স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তিকে সাথে নিয়ে অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রজ্ঞাপন মানবে না বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ। যে সংগঠনের ৫০ লাখের উপরে নেতা কর্মীরা আছে এই বাংলাদেশে , সে সংগঠন নিষিদ্ধ করা যায় না।
কতজনকে হত্যা করবেন? জেলে নেবেন?
পারবেন না।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।।
23/10/2024
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি কিংবা গেজেট পাশ করার মাধ্যমে এ সংগঠনকে বিলুপ্ত করার চিন্তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। ৭৬ বছরের ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধে ১৭ হাজার ছাত্রলীগের তাজা প্রাণের আত্মাহুতি, আর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের অসামান্য অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ইতিহাসের পাতা থেকে এই সংগ্রাম মুছে ফেলা কখনোই সম্ভব নয়।
ছাত্রলীগ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়, এটি একটি বিপ্লবী চেতনার প্রতীক, যা বাংলাদেশকে রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার সংকল্পে অটুট। অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রলীগ সবসময়ই দেশের মা, মাটি, ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এই সংগঠন মুজিববাদের পতাকাবাহী, যা জিন্নাহপ্রীতির মতো বৈপরীত্যকে চূর্ণ করে সত্যিকারের বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি মজবুত করেছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতিসত্তার জন্য আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। তাদের আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা কখনো মুছে যাবে না।
ছাত্রলীগের মন্ত্র এখন একটাই —“জন্মভূমি অথবা মৃত্যু।” দেশপ্রেম ও জাতির মর্যাদা রক্ষার জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
18/10/2024
একটি মানুষ, একটি ছবি। যে আর কখনোই বড় হবে না। সময়ের নিষ্ঠুর নিয়মের কাছে তার বয়স বন্দি হয়ে গেছে। ৬০ তম জন্মদিনে এসেও সে ছোট্ট বাবুটি হয়ে আছে। কোন কিশোরী মেয়ে তার প্রেমে পড়েনি, তার জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে চিঠি লেখেনি। কোন যুবতী মেয়ে তাকে পাবার আসায় ঘর ছাড়েনি। আবার তার রক্ত বীর্যেও কারো সৃষ্টি হয়নি। জন্মের এতোদিন পার হয়ে গেলেও সে শিশুই রয়ে গেছে।
তাকে নিয়ে কখনো যুবক কবিদের কবিতার আসর বসেনি। তাকে ভেবে কোন প্রৌঢ় নারী আফসোস করেনি। কেউ কোনদিন তাকে 'আপনি' বলে সম্মোধনও করেনি।
সময়ের নিষ্ঠুর থাবায় সেদিন যে ছেলেটির বয়স বন্দি হয়ে গিয়েছিল সেই পিচ্চি শেখ রাসেলের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বাবু। তুমি নেই, কিন্তু তুমি আছ।
17/10/2024
পরিবারের পক্ষ থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নতুন জায়গা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি। না পেয়ে সেখানে মতিয়া চৌধুরীর স্বামী বজলুর রহমানের কবরেই তাকে শায়িত করা হয়।
আগুনের দিন শেষ হবে একদিন...
#মতিয়াচৌধুরী 🇧🇩
৭'ই মার্চের ভাষণ:-
৭'ই মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করতে, ভাষণ দেন নি।।
৭'ই মার্চের ভাষণ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষেও ছিলো না।।
৭'ই মার্চের ভাষণের দিন বঙ্গবন্ধু বা তার পরিবারের কারো জন্মবার্ষিকী কিংবা মৃত্যু বার্ষিকীও ছিলোনা।।
৭'ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের জন্য ভোটও চান নি।।
৭'ই মার্চে বঙ্গবন্ধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যেও ভাষণ দেন নি।।
৭'ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলনও করেন নি।।
৭'ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কারো বিয়ে উপলক্ষেও ছিলো না।।
৭'ই মার্চ ছিলো বাঙালি জাতির সাহস, অনুপ্রেরণা ও ঐক্যের দিন।।
যে ভাষণে ছিলো বাঙালি জাতির মুক্তির আহ্বান।।
একটি ভূখণ্ড ও একটি জাতি'কে জুলুম নিপিড়ন অত্যাচারের কবল থেকে রক্ষা করতে, স্বাধীনতার আহ্বান।।
৭'ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে এদেশের মানুষ সাহস সঞ্চয় করে, মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে।।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়টা দিন গুরুত্বপূর্ণ, তারমধ্যে ৭'ই মার্চ একটি অন্যতম দিন৷।
এটা আপনি অস্বীকার করেন, সেটা আপনার ব্যাপার।।
কিন্তু আপনি যখন বলবেন ৭'ই মার্চ গুরুত্বপূর্ণ দিবস না, এটা বাদ দিবেন- সমস্যা নাই।।
৭'ই মার্চ যদি গুরুত্বপূর্ণ দিবস না হয়, বা গুরুত্বপূর্ণ দিন না হয়- তাহলে কয়দিন পর যে বলবেন ১৬'ই ডিসেম্বর, ২৫'এ মার্চ, ও ২৬'এ মার্চ গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিলো না, তা আর বোঝার বাকি থাকেনা।।
উপরে আমি যে বিষয়গুলো বললাম, সেগুলো পড়ে আপনি একবার চিন্তা করুন- ৭'ই মার্চের ভাষণ কি দেশের সাথে সম্পর্ক, নাকি দলের সাথে সম্পর্ক।।
এখন আপনারা যারা বিরোধীতা করবেন, তারা বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করাতে পারবেন- কিন্তু এই যুক্তি দিয়ে কি আপনি ৭'ই মার্চের ভাষণের অবদান মুছে দিতে পারবেন??
৭'ই মার্চ আর ৭১'র মহান মুক্তিযুদ্ধ, অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।।
যদি আপনি মুক্তিযুদ্ধ'কে স্বীকার করেন, তাহলে ৭'ই মার্চ আপনি অস্বীকার করবেন কোন যুক্তি দিয়ে??
আসলে যুক্তি দিয়ে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না।।
゚