20/02/2026
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে প্রথম প্রহরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে যৌথভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকল শহিদদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
30/01/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৩০ জানুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাবিতে শহীদ তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন।
আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও রাজশাহীতে অবস্থানরত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত "তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬" এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম কনক স্যার। আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির প্রধান জনাব হরেন্দ্রনাথ সিং। উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাচুর্য্য চাকমা এবং উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক পরশ চাকমা। আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও প্রতিযোগী দলের খেলোয়াড়বৃন্দ।
সঞ্চালনা করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাচুর্য্য চাকমা। শুরুতে শহীদ তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা'র স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়৷
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর জনাব ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার বেশ কয়েকবার এই টুর্নামেন্টের আয়োজনে আসার সুযোগ হয়েছে। আপনারা একসাথে থাকেন এটা দেখে আমার খুবই ভালো লাগে। এই খেলাধুলার আয়োজন অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা করি। শহীদ তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমাদের স্মরণ করেন এবং আমাদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির প্রধান জনাব হরেন্দ্রনাথ সিং বলেন, এই টুর্নামেন্টের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। এই আয়োজন চলমান থাকুক এই প্রত্যাশা করি। সর্বোপরি পাহাড় এবং সমতলের নিপীড়িত জনগণের অধিকার রক্ষার্থে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান এবং গুইমারা রামসু বাজারের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন।
চ্যাম্পিয়ন টিমের পক্ষে উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এই পাওয়া আমার একার নয়। এই বিজয়ের পেছনে টিমের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়ের সহযোগিতা আছে। প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা করেন। আয়োজক কমিটি এবং পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
সিনিয়র শিক্ষার্থী অনিক খীসা বলেন, ক্যাম্পাসের শেষ টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা থাকবে।
বিজয় চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পিসিপির এ ধরনের আয়োজন করার জন্য আয়োজক কমিটি এবং পিসিপিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো বলেন এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যেমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ববোধ,পারস্পারিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। এছাড়াও খেলাধুলার পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সামাজিক,রাজনীতি,সংস্কৃতি সহ নিজ জাতিসত্তার-সমাজের দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা নিয়ে নিজেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কথা ব্যক্ত করেন।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমন চাকমা শহীদ তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এসব সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে আমাদের একতা দরকার। সামগ্রিক স্বার্থে কাজ করলেই আমাদের গোড়া শক্ত ও মজবুত হবে। তিনি আরো বলেন, টানা প্রায় তিন সপ্তাহ পরিশ্রম করে সফলভাবে টুর্নামেন্টের শেষ করতে পেরেছি। আয়োজক কমিটি এবং পিসিপির নেতৃবৃন্দ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই টুর্নামেন্ট সফল করতে পেরেছি।এবং সামনের নির্বাচনের পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্মো শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে যৌথ আয়োজনে পিকনিক করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক মারমা তরুণীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় সেটেলার এবং সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা। এই ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় আদিবাসীদের আনুমানিক ১৫টি বাড়িঘর, ৬০টি দোকানপাট ও ১৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ৭টি দোকানপাট লুটপাট করা হয়। এই শহীদদের স্মরণে পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্দ্যোগে স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে।
এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো মেয়েদের জন্য ৬ টি ইভেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ইভেন্টে আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজকের ফাইনাল ম্যাচে 'Phoenix Legion' বনাম 'Jummo Kings' মুখোমুখি হয়। খেলায় 'Phoenix Legion' টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে। Phoenix Legion ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ১২ ওভারে ৯৭ রান সংগ্রহ করে। Jummo Sky kings ৯৭ রান তাড়া করতে গিয়ে নিয়মিত ওভারে উইকেট হারাতে থাকে এবং সে সাথে 'Phoenix Legion' ৪১ রান ব্যবধানে জয় লাভ করে।
⛔টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন টিম- Phoenix Legion🏆
⛔টুর্নামেন্ট রানার্সআপ টিম- Jummo Sky Kings
⛔টুর্নামেন্ট তৃতীয় স্থান: Supreme Spartans
⛔ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয় 'Phoenix Legion' টিমের রক্তিম চাকমা।
⛔টুর্নামেন্ট ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয় 'Phoenix Legion' টিমের সহকারী অধিনায়ক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।
⛔টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী- নোয়েল ত্রিপুরা
⛔টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি- এমং মারমা
⛔টুর্নামেন্টে ইমার্জিং প্লেয়ার নির্বাচিত হয় 'Jummo Sky kings' টিমের রুবল বাবু চাকমা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ''তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬" টুর্নামেন্ট সমাপ্ত হয়। টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায়: তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটি-২০২৬
বার্তা প্রেরক
চেইহ্লা প্রু মারমা
তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা।
29/01/2026
তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট -২০২৬ এর তৃতীয় স্হান নির্ধারনী ম্যাচের ফলাফল
আজকের তৃতীয় স্হান নির্ধারনী ম্যাচে 'Mohazong Warriors' বনাম 'Supreme Spartans' মুখোমুখি হয়।খেলায় 'Supreme Spartans' ৯ রান ব্যবধানে জয় লাভ করে।
🚫ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয় 'Supreme Spartans' টিমের সহকারী অধিনায়ক এমং মারমা।
বিদ্র: আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট- ২০২৬ এর ফাইনাল। বহুল প্রত্যাশিত আগামীকাল টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুই শক্তিশালী টিম 'Jummo Sky Kings' বনাম 'Phoenix Legion'।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহীতে অবস্থানরত সকল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঠে উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
স্থান: শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠ
সময়: দুপুর ২:০০ ঘটিকায়।
টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায়: তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটি-২০২৬।
24/01/2026
তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট- ২০২৬ এর চতুর্থ দিনের ম্যাচের ফলাফল-
দশম ম্যাচে Phoenix Legion বনাম Jummo Sky Kings মুখোমুখি হয়। খেলায় Jummo Sky Kings ৩২ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে রান রেট হিসাব করে টেবিলের শীর্ষে থেকে ডিরেক্ট ফাইনাল নিশ্চিত করে।
🚫ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন Jummo Sky Kings টিমের খেলোয়াড় রুবল বাবু চাকমা।
এগারতম ম্যাচে Supreme Spartans
বনাম Phoenix Legion এর মধ্যে সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত খেলায় Phoenix Legion ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় লাভ করে এবং সেই সাথে টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলার টিকেট নিশ্চিত করে।
🚫ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন Phoenix Legion টিমের সহকারী অধিনায়ক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।
বিদ্র: আগামী সপ্তাহে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায়: তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটি ২০২৬
23/01/2026
তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট - ২০২৬ এর দ্বিতীয় সপ্তাহের ম্যাচের ফলাফল -
সপ্তম ম্যাচে Ghilatak Warriors বনাম Supreme Spartans মুখোমুখি হয়।খেলায় Ghilatak Warriors প্রথমে ব্যাট করে ১২২ রান টার্গেট দেয়।জবাবে Supreme Spartans ৩ উইকেট হাতে রেখে
জয়ী হয়।
🚫ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন টিমের সহকারী অধিনায়ক এমং মারমা
অষ্টম ম্যাচে Mohazong Warriors বনাম Jummo Sky kings মুখোমুখি হয়।খেলায় Mohazong Warriors ৮ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে।
🚫ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন অরবিল চাকমা।
নবম ম্যাচে খেলায় Phoenix Legion বনাম Ghilatak Warriors এর মধ্য খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় Phoenix Legion ১৬ রানের ব্যবধানে জয়ী হয়।
🚫ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।
🚫টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে Supreme Spartans
টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায়:তৈইচিং-আথুইপ্রু-আখ্রাউ মারমা
স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটি ২০২৬।
07/01/2026
৭ জানুয়ারি ১৯৭৩
১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি রোজ রবিবার ভোর সকালে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পাহাড় -জঙ্গল বেষ্টিত মহালছড়ির ইটছড়ির দুর্গম একটি এলাকার মাঠে রান্না করা ভাত ও তরকারি নিয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (প্রবাহন), জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা তুঙ (সন্তু লারমা), অমিয় সেন চাকমা (কাঞ্চন), রাম কিশোর চাকমা (শংকর), কালিমাধব চাকমা( মিহির), রূপায়ন দেওয়ান (রিপ), গৌতম কুমার চাকমা (অশোক), নিলচন্দ্র চাকমা (কান্ত), সুদত্ত চাকমা (রোক্সিও), বিজয় সিংহ চাকমা (পুলুই) জগদীশ চন্দ্র চাকমা (দেবংশী), ভদ্রসেন চাকমা উন্মেষ), অনাদি কুমার চাকমা (অম্বর) পরিমল বিকাশ চাকমা ও প্রিয় কান্তি চাকমাসহ ৩৫ জন সদস্য জড়ো হন।
গার্ড অব অনারের জন্য সবাই সারিবদ্ধভাবে সামরিক কায়দায় মাঠে দাঁড়িয়ে যান। শুরু হয় ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গার্ড অব অনার পরিচালনা করেন শান্তিবাহিনী (গণমুক্তি ফৌজ) এর ফিল্ড কম্যান্ডার সন্তু লারমা। গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এন লারমা। সন্তু লারমার কম্যান্ডান্টে শান্তিবাহিনীর চৌকষ দলের সেলুট প্রদানের পর এম এন লারমা শুরু করেন পতাকা উত্তোলন। সাথে সাথে শুরু হয় শ্লোগান। শ্লোগান ধরেছিলেন সুদত্ত চাকমা এবং সাথে সাথে সবাই সমস্বরে আওয়াজ তুলেন-
জয় জনসংহতি সমিতি!
জয় গণমুক্তি ফৌজ!
আন্দোলন দীর্ঘজীবী হোক!
পতাকা উত্তোলন ও শ্লোগানের পর বিজয় সিংহ চাকমা একটি রাইফেল থেকে ৭ বার গুলি ছোঁড়েন। এভাবে শান্তিবাহিনীর গার্ড অব অনার, পতাকা উত্তোলন, শ্লোগান, রাইফেল থেকে গুলি ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে শান্তিবাহিনী প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এন লারমা শান্তিবাহিনী গঠনের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, নিপীড়িত মুক্তিকামী মানুষের সশস্ত্র আন্দোলন, তৎকালীন বিশ্বব্যবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে সবিশেষ তুলে ধরে এক প্রেরণাদায়ক জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন।
সেদিন শান্তিবাহিনীর প্রথম ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়। সশন্ত্র বাহিনীর ফিল্ড কম্যান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন সন্তু লারমা।শান্তিবাহিনীর প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) এর সুবেদার মেজর নলিনী রঞ্জন চাকমা ওরফে অফুরন্ত (বুড়ো ওস্তাদ), ইপিআরের হাবিলদার অমৃত লাল চাকমা (বলি ওস্তাদ) ও মুজাহিদ বাহিনীর কালকেতু চাকমা (কেতু ওস্তাদ)। এমনকি বান্দরবান থেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সৈন্য হিসেবে কাজ করা বয়োবৃদ্ধ একজন মারমাও (নাম জানা যায়নি)।
ছাত্রীদের মধ্যে উমে মং, দীপ্তি চাকমা, যুথিকা চাকমা, জয়শ্রী দেওয়ান, মায়ারাণী চাকমা , জড়িতা চাকমা, ভেলুয়া চাকমা সহ অনেক ছাত্রী সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন।
Nipon Tripura
সাবেক সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
01/01/2026
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন।
16/12/2025
আজ ১৬ই ডিসেম্বর "মহান বিজয় দিবস" উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ,রাজশাহী মহানগর শাখা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের যৌথ সমন্বয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এবং সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
05/12/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৫ ডিসেম্বর ২০২৫
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হোন- স্লোগানে পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম বার্ষিক সম্মেলন- ২০২৫ সম্পন্ন হয়েছে।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জগদীশ চাকমা, পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, আরো উপস্থিত ছিলেন পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হ্লামংচিং মারমা।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা।
হ্লামংচিং মার্মা তার সংহতি বক্তব্যে বলেন: পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ লংগদুর গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠন হয়েছিলো।পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নই,এটি একটি পাঠশালা ও বটে। গণঅভ্যুন্থানের পরে আমরা ভেবেছিলাম পাহাড়ে পরিবর্তন আসবে,পাহাড়ীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমরা তার বিপরীত দেখতে পাই,শাসকগোষ্ঠী আমাদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করছে, সেটেলার ও মৌলবাদীদের তৎপরতা বেড়েছে। আমাদের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে মুক্তির সঠিক পথ, দর্শন চিহ্নিত করতে হবে। সেটির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ চুক্তির পরপরই শান্তিবাহিনীর প্রত্যাগত সদস্যদের হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিস্হিতি তৈরি করে দিয়েছিলো। তারা জুম্ম জাতির আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। চুক্তির বিরোধিতা করে জুম্ম স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে। সুতরাং ইউপিডিএফ এবং চুক্তি বিরোধীদের সাথে জনসংহতি সমিতির দন্দ্ব ভাতৃঘাতি সংঘাট নয় বরং আদর্শিক দ্বন্দ্ব বলতে পারি। আর আমরা সেটাই করছি যেটা জুম্ম জাতির জন্য কল্যাণকর।
তিনি আরো বলেন, সবাই নেতৃত্ব দিতে পারেনা। যাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী রয়েছে,সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক জ্ঞান রয়েছে তারাই নেতৃত্ব দেয়। নেতৃত্বের জন্য আমাদের যথাযথ অধ্যয়ন, অনুশীলন করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্ব এবং বর্তমান শিক্ষিত জনগণই আগামীর বৃহত্তর আন্দোলনের কান্ডারি। তরুণ ছাত্র সমাজ এবং বর্তমান প্রজন্মকে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে বৃহত্তর আন্দোলনে এগিয়ে আসতে হবে।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সদস্য দিব্য চাকমা নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দেশনা প্রদান করে বলেন: নেতৃত্বের মাঝে ভুল-ভ্রান্তি থাকবে সেটি স্বাভাবিক কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একসাথে কাজ করতে পারলেই তা শক্তি হয়ে উঠবে। কর্মীদের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে পাঠচক্র চালু করা উচিত। সর্বোপরি বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে নব গঠিত কমিটির প্রতি অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন: পিসিপি পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র লড়াকু সংগঠন ছিল, এখনো আছে। জুম্ম জনগণের বৃহৎ স্বার্থেই পিসিপি কাজ করে। তিনি পিসিপি কর্মীদের প্রগতিশীলতা, ত্যাগ নিয়ে কথা বলেন। আন্দোলন সম্পর্কে সঠিক দর্শন, সংগঠনকে জানা, অধ্যয়নে সংগঠনের প্রতি টান বেড়ে যায়। তিনি মনে করেন, সংগঠনকে ধারণ করতে পারলে কেউ সংগঠন ত্যাগ করার মানসিকতা লালন করবেনা। একজন রাজনৈতিক কর্মীর রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, মতাদর্শগত সংগ্রাম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পার্বত্য চুক্তির চার খন্ড নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি পার্বত্য চুক্তির আলোকে ভূমি সমস্যা, সেনা-ক্যাম্প, সেটেলার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। ভূমি কমিশন নিয়ে আলোচনা করেন। পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে আমরা জুম্ম সমাজ কি অধিকার পাব সেসব বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে যদি পূর্ণাঙ্গভাবে জানা না থাকে তাহলে আপনি জনগণকে অধিকারের সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, পার্বত্য চুক্তিকে শেখ হাসিনার চুক্তি বা বিগত সরকারের চুক্তি বলা হয় যেটা সম্পূর্ণই ভূল। চুক্তিটি রাষ্ট্রের সাথেই করা হয়েছিলো, তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করেছেন।চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ থাকবে। তাছাড়া চুক্তিতে উপজাতি শব্দটি কেন- এ নিয়ে আলোচনা করেন। চুক্তির প্রতিটি খন্ডের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। সর্বোপরি ২৬তম কমিটির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।
পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জগদীশ চাকমা প্রথমে ২৬তম কমিটির মধ্য দিয়ে যারা নির্বাচিত হবে তাদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহান পার্টির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি হাস্যকর হলেও সত্যি যে ইউপিডিএফ পিসিপি নিজেদের এক নাম্বার পিসিপি দাবি করে। জুম্ম জনগণ জানে যে কারা সত্যিকার অর্থে জুম্ম জনগণের স্বার্থে কাজ করে।কারা এক নাম্বার আর কারা দুই নাম্বার সেটি জনগণই নির্ধারণ করবে। আসল কি নকল সেটা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে। তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণকে সরকারেরর অনীহা বলে মনে করেন। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে থাকার কথা বলেন।সরকার আমাদেরকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য করছে চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করে।
তিনি বলেন, ভূমি কমিশনের সভা বসলেই পিসিসিপি নামক সেটেলারদের সাম্প্রদায়িক একটা সংগঠন থেকে সভায় বাঁধা প্রদান করে এবং চুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। জুম্ম জনগণ এবং ছাত্র সমাজকে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সামিল হতে হবে। যার জন্য দক্ষ, প্রায়োগিক, আদর্শিক কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমা বলেন, সংগঠনের প্রধান কান্ডারী হলো সভাপতি। সভাপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগঠন পরিচালনার জন্য এই তিন ব্যক্তির একসাথে কাজ করতে হয়। আগামী কমিটিতে যারা নেতৃত্বে থাকবেন তারা অবশ্যই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
সুমন চাকমাকে সভাপতি, ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাচুর্য্য চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়ে পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম শাখা কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।
চেইহ্লা প্রু মারমা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা
10/11/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১০ নভেম্বর ২০২৫
বুদ্ধিজীবী চত্বর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
"শোষিত মানুষের মুক্তির মিছিলে চিরকাল ধ্বনিত হবে তোমার নাম বিপ্লবী লারমা, তোমায় সালাম" স্লোগানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন
শুরুতেই শহিদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাসহ এযাবৎ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভায় সঞ্চালনা করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুমন চাকমা। সভায় সভাপতিত্ব করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমা। স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত শিক্ষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর মো. আমিরুল ইসলাম। সভায় স্বাগতিক বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রাচুর্য্য চাকমা।
এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উৎস চাকমা,উজ্জ্বল বাবু তঞ্চঙ্গ্যা এবং রুয়েটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রিমন চাকমা।
উক্ত স্মরণ সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রুয়েটে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর মো. আমিরুল ইসলাম স্যার বলেন, এম.এন লারমা ছিলেন মহান নেতা, যিনি জুম্ম তথা নিপীড়িত, শোষিত, অধিকারহীন আপামর জনতার জন্য কথা বলতেন। এম.এন লারমার কথা বলতে গিয়ে তিনি সাঁওতাল বিদ্রোহের সিধু, কানুর কথা বলেছিলেন। তিনি সূর্যসেন, প্রীতিলতার কথা বলেন যারা এমএন লারমার মতো আজো বেঁচে আছেন।
তিনি আরো বলেন, এম.এন লারমা এমন এক নেতা ছিলেন যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৪ টি জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করেছিলেন। জুম্ম জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে তিনি সমগ্র জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি এম.এন লারমার সংসদে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলেন, ৬০ দশকে এমএন লারমার কাপ্তাই বাঁধের বিরোধিতার কারণ তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে তৎকালীন সরকার স্বতন্ত্র জাতির স্বীকৃতি এবং জুম্ম জাতি তথা শোষিত, নির্যাতিত আপামর জনতার অধিকার সংবিধানে স্থান না পাওয়ায় তিনি সংসদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। তিনি শিক্ষক, রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হিসেবে অবদান রাখেন। জুম্ম জাতিকে তিনি অধিকার ও রাজনৈতিক সচেতন করেন। সর্বোপরি এম.এন লারমার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওনার বক্তব্য শেষ করেন।
সমাপনীর বক্তব্য পিসিপি, রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বলেন, এম.এন লারমার জীবন পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই তিনি ছোটবেলা থেকে অধিকার সচেতন ছিলেন। পারিবারিকভাবে তিনি সেই শিক্ষাটি লাভ করেছিলাম। ফলস্বরূপ আমরা দেখি তখনকার ঘুণে ধরা জুম্মদের সামন্ত নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি ষাট দশকের কাপ্তাই বাঁধ বিরোধী পাহাড়ের আপামর জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে নিজ দায়বদ্ধতায় উদ্দ্যোগ হাতে গ্রহণ করেন। এর পরবর্তী আমরা দেখি তিনি পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে একই কাতারে সামিল করার জন্য প্রগতিশীল আদর্শের জুম্ম জাতীয়তাবাদের ধারণার উন্মেষ ঘটান। ১৯৭২ সালের সংবিধানের তিনিই উগ্র বাঙালি জাত্যভিমানকে চ্যালেঞ্জ করে "বাংলাদেশের সকল নাগরিক বাঙালি বলে পরিচিত হইবে" আব্দুল রাজ্জাক ভূঁইয়ার আনিত বক্তব্য দৃঢ় কন্ঠে বিরোধীতা করে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাশাপাশি বাংলাদেশের মেহনতি আপামর মানুষের কথা গণপরিষদ বিতর্কে ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহতের পর যখন নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের সকল পথ রুদ্ধ হয় তখন তিনি পাহাড়ের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ো যান। একপর্যায়ে ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কষাঘাতে ক্ষমতালিপ্সু বিভেদপন্থীদের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সহ আট জন সহযোদ্ধা শহীদ হন। আজকের এই দিনে আমি এম.এন লারমা সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ও সংগ্রামে আত্মবলিদানকারী সকল বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি।
তিনি আরো বলেন, কেবলমাত্র একটি দিনের মধ্যে এম.এন লারমাকে, তার চেতনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখলে চলবেনা। পাহাড়ের বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এম.এন লারমার চেতনাকে বুকে ধারণ করার মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলনে নিজেকে সামিল হতে হবে। বর্তমান বাস্তবতা উপলব্ধি করে তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এরই মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্দ্যোগে আয়োজিত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্মরণসভা সমাপ্ত হয়।
প্রাচুর্য্য চাকমা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা
09/11/2025
"শোষিত মানুষের মুক্তির মিছিলে চিরকাল ধ্বনিত হবে তোমার নাম
বিপ্লবী লারমা, তোমায় লাল সালাম"
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা'র ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী
১০ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার, বিকাল ৫:৩০ টা
বুদ্ধিজীবী চত্ত্বর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
আয়োজনে: পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা।
01/10/2025
খাগড়াছড়ির গুইমারায় সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াই
সুহৃদ,
শুভেচ্ছা নিবেন। আপনারা জানেন যে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারার রামসু বাজারে আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা করা হয়। এ হামলাতে আদিবাসীদের মধ্যে ৭ জন নিহত, অনেকেই আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় আদিবাসীদের আনুমানিক ১৫টি বাড়িঘর, ৬০টি দোকানপাট ও ১৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ৭টি দোকানপাট লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে। হামলায় আহতের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে তহবিল গঠনে সচেতন নাগরিকদের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি।
আর্থিক সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ:
বিকাশ
01857444765 [অন্তর চাকমা]
01846-463422 [ম্রানুচিং মারমা]
01558948152 [সুনীতি চাকমা]
01568237602 [কবিতা চাকমা]
নগদ
01558948152 [সুনীতি চাকমা]
01568237602 [কবিতা চাকমা]
ব্যাংক একাউন্ট নং:
Jiko Chakma
20502010202092913 [Islami Bank Bangladesh PLC, Rangamati Branch]
আহ্বানে:
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
হিল উইমেন্স ফেডারেশন