ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা ক্বওমী মাদরাসা,মুন্ডুমালা।

ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা ক্বওমী মাদরাসা,মুন্ডুমালা।

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা ক্বওমী মাদরাসা,মুন্ডুমালা।, Public School, Rajshahi.

আসসালামু আলাইকুম।
সন্মানিত অভিভাবক এবং দ্বীনি ভাইয়েরা আমাদের মাদরাসা সকল কার্যক্রম দেখতে পেজটি ফলো করুন।
সকল প্রকার তথ্য ও ভর্তির জন্য যোগাযোগ করুন

*ঠিকানা: মুন্ডুমালা সোনালী ব্যাংকের পিছনে,
মুন্ডুমালা পৌরসভা, তানোর, রাজশাহী।
মোবাইল :
01736 631282

Photos from ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা ক্বওমী মাদরাসা,মুন্ডুমালা।'s post 24/05/2026

আমাদের প্রবাসী অভিভাবক তার সান্তান তুল্য মাদরাসার সকল ছাত্র ছাত্রীদের কে চকলেট উপহার দেন আলহামদুলিল্লাহ।

22/05/2026


fans

22/05/2026

আজ শুক্রবার
جمعة مباركة
২২ মে ২০২৬ | ০৪ যিলহজ্ব ১৪৪৭ | ০৮ জৈষ্ঠ্য ১৪৩৩

17/05/2026
17/05/2026

*প্রশ্ন:* বর্তমান হিফজ বিভাগের অধিকাংশ ছাত্রদের ইয়াদ কাঁচা কেন? সমাধান কী?

এটা হিফজ মাদ্রাসার খুবই বাস্তব সমস্যা। কয়েকটা মূল কারণ আর সমাধান এভাবে ভাবা যায়:

১. *ইয়াদ কাঁচা হওয়ার প্রধান কারণগুলো:*

*১. তাজবিদ ও মাখরাজে দুর্বলতা*
অনেক ছাত্র সঠিক উচ্চারণ না শিখেই মুখস্থ শুরু করে। ভুল উচ্চারণে পড়লে সেটা মনে গেঁথে যায়। পরে সংশোধন করা কঠিন হয়।

*২. পরিমাণ বেশি, গুণমান কম*
দৈনিক ১-২ পৃষ্ঠা না দেখে ৩-৪ পৃষ্ঠা নতুন সবক দেওয়া হয়। ছাত্র চাপে পড়ে রিডিং মুখস্থ করে, কিন্তু বারবার না পড়ায় ইয়াদ পাকা হয় না।

*৩. নিয়মিত মুরাজাআতের অভাব*
নতুন সবকেই বেশি জোর। আগের পড়া রিভিশন না দিলে ৭ দিনের মধ্যে ৭০% ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। মুরাজাআত না হলে ইয়াদ কাঁচা থাকবেই।

*৪. মনোযোগ ও নিয়তের ঘাটতি*
মোবাইল, খেলাধুলা, পারিবারিক চিন্তা, ঘুমের অভাবে মন বসে না। খুশু-খুজু ছাড়া কুরআন পড়লে বরকত কম হয়।

*৫. শিক্ষকের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া*
একজন উস্তাদ ৩০-৪০ জন ছাত্রকে একা সামলান। ফলে প্রত্যেকের ভুল ধরিয়ে ব্যক্তিগতভাবে শোনার সুযোগ কমে যায়।

*৬. শারীরিক ও মানসিক চাপ*
অপর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবারের অভাব, শাস্তির ভয়ে মানসিক চাপ—এগুলো স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়।

২. *পরিবর্তনের উপায়:*

*ছাত্রের জন্য:*
1. *কম পড়ো, পাকা করো*: ১ পৃষ্ঠা পাকা করে পড়া, ৩ পৃষ্ঠা কাঁচা পড়ার চেয়ে উত্তম।
2. *৫ ওয়াক্ত নামাজে যা মুখস্থ করেছো তা পড়ো*: নামাজই সবচেয়ে বড় মুরাজাআত।
3. *ফজরের পর মুখস্থ করো*: এ সময় মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ থাকে।
4. *অর্থ বোঝার চেষ্টা করো*: অর্থ জানলে আয়াত মনে রাখা সহজ হয়।

*উস্তাদের জন্য:*
1. *সবক দেওয়ার আগে তাজবিদ ঠিক করো*: ছাত্র শুদ্ধ না পড়লে সবক দিও না।
2. *মুরাজাআতকে অগ্রাধিকার দাও*: প্রতিদিন নতুন সবকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি সময় পুরাতন রিভিশনে দাও।
3. *প্রতিদিন ৫-১০ জনকে আলাদা করে শোনো*: সবার একসাথে শোনা সম্ভব না হলেও রোটেশন করে শুনতে হবে।
4. *উৎসাহ দাও, ভয় দেখিও না*: মারধর বা অপমান করলে ছাত্র কুরআন থেকে দূরে সরে যায়।

*মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য:*
1. ছাত্র-উস্তাদ অনুপাত ১৫:১ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করো।
2. পর্যাপ্ত ঘুম, খাবার, খেলার সময় নিশ্চিত করো।
3. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখো।

৩. *আমার মতামত:*

হিফজ মানে শুধু মুখস্থ করা না, হৃদয়ে ধারণ করা। আমরা অনেক সময় "খতম তাড়াতাড়ি দিতে হবে" এই প্রতিযোগিতায় পড়ে যাই। ফলে ছাত্র ৩০ পারা মুখস্থ করেও ৬ মাস পর ১০ পারাও মনে রাখতে পারে না।

*আসল সমাধান হলো ধীরে কিন্তু মজবুত গতিতে এগোনো।*
একজন ছাত্র ৫ পারা পাকা করে মুখস্থ করলে সেটা তার সারা জীবনের সম্পদ হবে। ৩০ পারা কাঁচা মুখস্থ করে লাভ নেই যদি ২ বছর পর কিছুই না থাকে।

উস্তাদ, ছাত্র আর অভিভাবক—তিন পক্ষ যদি নিয়ত ঠিক করে, সময় দেয়, আর বরকতের জন্য দোয়া করে, ইনশাআল্লাহ সমস্যা অনেক কমে যাবে।

14/05/2026

আস-সালা-মু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারকাতুহ্

সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়ার দোয়া -

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণঃ "বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদ্ দূররু মা’আইস্‌মিহী শায়উন ফিল আরদি ওয়া লা- ফিস্‌ সামা-য়ি, ওয়া হুওয়াস্ সামী’উল ’আলিম’’

অর্থঃ আল্লাহর নামে শুরু করছি, যে নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।

ফজিলতঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া বলবে সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না।

আবূ দাউদ,হা/ ৫০৮৮ ; তিরমিযী,হা/৩৩৮৮ ; মিশকাত,হা/২৩৯১।

Photos from ফাতেমাতুজ্জোহরা রাঃ মহিলা ক্বওমী মাদরাসা,মুন্ডুমালা।'s post 14/05/2026

আলহামদুলিল্লাহ আজ প্রথম সাময়িক পরিক্ষার ফলাফল প্রাকাশ হয়েছে।
প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এবং হাতে হাতে পরিক্ষার রেজাল্ট সিট দেওয়া হয়েছে।

12/05/2026

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের প্রধান আমলসমূহ :

বেশি বেশি জিকির ও তাকবির : সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পাঠ করা। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর ‘তাকবিরে তাশরিক’ (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হামদ) পাঠ করা ওয়াজিব।

রোজা রাখা : ১ থেকে ৯ই জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা, বিশেষ করে ৯ই জিলহজ (আরাফার দিন) রোজা রাখা সুন্নাত, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে কাজ করে।

নখ-চুল না কাটা : যারা কোরবানি করবেন, তাদের জন্য জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি দেওয়া পর্যন্ত শরীরের কোনো পশম, চুল বা নখ না কাটা মুস্তাহাব বা সুন্নাত।কোরবানি করা: সামর্থ্য থাকলে ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার নামাজ শেষে পশু কোরবানি করা।

তওবা ও ইস্তেগফার : খাঁটি মনে তওবা করা এবং গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া।

দান-সদকা ও ভালো কাজ : এ সময়ে বেশি বেশি দান করা, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভালো ব্যবহার করা।

ঈদের নামাজ ও কুরবানি : ১০ই জিলহজ ঈদুল আজহার নামাজ পড়া এবং এরপর কুরবানি করা।

রাসূল (সা.) বলেছেন, এই ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।

11/05/2026

📌 কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা 🌙
১. কার উপর ওয়াজিব? জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (৭.৫ ভরি স্বর্ণ / ৫২.৫ ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ টাকা) থাকলে কুরবানী ওয়াজিব।
২. নিসাবের মেয়াদ: মাত্র ৩ দিন (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ্জ)।
৩. উত্তম দিন: ১০ তারিখে করা সবচেয়ে উত্তম।
৪. নাবালক: নাবালকের সম্পদ থাকলেও কুরবানী ওয়াজিব নয়।
৫. অসুস্থ মস্তিষ্ক: বালেগ কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এমন ব্যক্তির উপর ওয়াজিব নয়।
৬. নাবালকের পক্ষে: অভিভাবকের পক্ষ থেকে দেওয়া মুস্তাহাব।
৭. দরিদ্রের কুরবানী: ওয়াজিব নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে পশু কিনলে তা জবাই করা ওয়াজিব।
৮. সময় পার হলে: কেউ সময়মতো দিতে না পারলে একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে। পশু কেনা থাকলে সেটিই সদকা করতে হবে।
৯. শুরুর সময়: ঈদের নামাজের আগে কুরবানী জায়েজ নেই। তবে জরুরি কারণে নামাজ না হলে সূর্য ঢলার পর করা যাবে।
১০. রাতে কুরবানী: ১০ ও ১১ তারিখ রাতে জায়েজ, ১২ তারিখ রাতে জায়েজ নেই।
১১. জায়েজ পশু: গরু, উট, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া।
১২. লিঙ্গ: পুরুষ বা মহিলা (নর/মাদী) উভয় দিয়ে হবে।
১৩. বয়স: উট ৫ বছর; গরু/মহিষ ২ বছর; ভেড়া/ছাগল/দুম্বা ১ বছর। (ভেড়া/দুম্বা দেখতে ১ বছরের মতো হলে ৬ মাস হলেও চলে)।
১৪. শরীক: গরু/মহিষ/উটে সর্বোচ্চ ৭ জন। ছাগল/ভেড়াতে ১ জন।
১৫. বন্টন: ভাগে কম-বেশি হলে কারো কুরবানী হবে না (পাল্লা দিয়ে মাপতে হবে)।
১৬. শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত: কারো যদি শুধু খাওয়ার নিয়ত থাকে, তবে কারো কুরবানী হবে না।
১৭. আকিকা: বড় পশুতে আকিকা দেওয়া জায়েজ।
১৮. হারাম টাকা: কারো টাকা সম্পূর্ণ হারাম হলে কারো কুরবানী হবে না।
১৯. একা কিনে শরীক নেওয়া: ধনী ব্যক্তি চাইলে পারবেন, তবে দরিদ্র ব্যক্তি একা করার নিয়তে কিনলে পরে শরীক নিতে পারবেন না।
২০. উত্তম পশু: রিষ্টপুষ্ট ও সুন্দর পশু সুন্নত।
২১. তিন পায়ে চলা: তিন পায়ে ভর করে চললে (এক পা অকেজো হলে) হবে না।
২২. রুগ্ন পশু: অতি দুর্বল পশু দিয়ে হবে না।
২৩. দাঁতহীন: দাঁত না থাকলে বা ঘাস খেতে না পারলে হবে না।
২৪. শিং: জন্মগত না থাকলে হবে, কিন্তু ভেঙে মগজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হবে না।
২৫. লেজ/কান: অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকলে হবে না।
২৬. অন্ধ: অন্ধ পশু দিয়ে কুরবানী হবে না।
২৭. হারিয়ে গেলে: ধনী হলে আবার কিনতে হবে। দরিদ্রের জন্য পাওয়া গেলে দুটিই দেওয়া ওয়াজিব।
২৮. গর্ভবতী পশু: কুরবানী জায়েজ।
২৯. পেটের বাচ্চা: জীবিত পাওয়া গেলে সেটিও জবাই করতে হবে।
৩০. প্রসব অবস্থা: জবাই করা জায়েজ তবে মাকরূহ।
৩১. কেনার পর খুঁত: ধনীর জন্য নতুন কিনতে হবে, দরিদ্রের জন্য সেটিই জায়েজ।
৩২. ভুল বয়স: বিশ্বাস করে কেনার পর বয়স কম বের হলে কুরবানী হয়ে যাবে, তবে বিক্রেতা গুনাহগার হবে।
৩৩. স্থান: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় জবাই করা উত্তম।
৩৪. কে জবাই করবে? নিজে করা উত্তম।
৩৫. বন্ধ্যা পশু: কুরবানী হবে।
৩৬. একাধিক ব্যক্তির ছুরি চালানো: সবাইকে 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে।
৩৭. উপকৃত হওয়া: পশুর দ্বারা কাজ করানো বা হালচাষ নাজায়েজ।
৩৮. হালচাষ করলে: সমপরিমাণ টাকা সদকা করতে হবে।
৩৯. পশুর দুধ: পান করা যাবে না।
৪০. দুধ দোহন করলে: সদকা করতে হবে।
৪১. শরীক মারা গেলে: ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে কুরবানী করা যাবে।
৪২. বাচ্চা দিলে: বাচ্চা জীবিত সদকা করতে হবে।
৪৩. মৃতের পক্ষ থেকে: ওসিয়ত না করলে গোশত খাওয়া যাবে।
৪৪. কতদিন রাখা যাবে: যতদিন ইচ্ছে রাখা যায়।
৪৫. অনুমান করে ভাগ: নাজায়েজ, ওজন করতে হবে।
৪৬. গরিবের অংশ: না দিলে কুরবানী হবে তবে কৃপণতা হবে।
৪৭. গোশত বিক্রি: নাজায়েজ।
৪৮. কসাইয়ের পারিশ্রমিক: গোশত দিয়ে দেওয়া যাবে না, নগদ টাকা দিতে হবে।
৪৯. অস্ত্র: ধারালো হতে হবে।
৫০. চামড়া ছাড়ানো: পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে নয়।
৫১. সামনে জবাই: এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা নিষেধ।
৫২. অমুসলিমকে গোশত: দেওয়া যাবে।
৫৩. মারা গেলে বা ছিনতাই হলে: ধনী হলে আবার কিনতে হবে।
৫৪. মুসাফির: কুরবানী ওয়াজিব নয়।
৫৫. অনুমতি: অন্যের পক্ষ থেকে দিলে অনুমতি লাগবে।
৫৬. গোশত খাওয়া: মুস্তাহাব।
৫৭. ঋণ নিয়ে কুরবানী: জায়েজ (সুদ ছাড়া)।
৫৮. হাজী: মুসাফির থাকলে ওয়াজিব নয়।
৫৯. পাগল পশু: ঘাস না খেলে না।
৬০. নবীর (সা.) পক্ষ থেকে: উত্তম আমল।
৬১. খাসি পশু: জায়েজ ও উত্তম।
৬২. বিদেশে অবস্থান: দেশে আপনার নামে কুরবানী দিলেও হবে।
৬৩. চামড়া: নিজে ব্যবহার করা যায়, বিক্রি করলে টাকা সদকা করা ওয়াজিব।
৬৪. জবাইকারীর হাদিয়া: পারিশ্রমিকের বাইরে হাদিয়া দেওয়া উত্তম।
৬৫. হাঁস-মুরগি: কুরবানীর নিয়তে জবাই করা যাবে না।
৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে: সওয়াব পৌঁছাতে কুরবানী করা জায়েজ।

আল্লাহ আমাদের সবার কুরবানী কবুল করুন। আমিন। 🤲
#কুরবানী২০২৬ #ইসলামিক_মাসয়ালা

11/05/2026

কুরবানী ও কুরবানীর তাৎপর্য : ইবাদত সম্পর্কে বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। তাই এতে আকাইদ, ইবাদত, মুয়ামালাত, মুআশারাত, আখলাক ইত্যাদি সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি বিষয়েরই আলাদা গুরুত্ব আছে। ইসলামের কোনো অংশকেই গুরুত্বহীন মনে করার অবকাশ নেই। পূর্ণাঙ্গতার পাশাপাশি ইসলামের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যথার্থতা। কেননা, ইসলামই হল আল্লাহর মনোনীত দ্বীন। গোটা মানবজাতির জন্য আল্লাহ তা প্রদান করেছেন। তাই এর সকল বিধান মানবজাতির সকল শ্রেণীর জন্য পূর্ণ কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বোত্তম বান্দাদের মাধ্যমে এই দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন। আকাইদ ও ইবাদত থেকে শুরু করে মুআশারাত ও সিয়াসাত পর্যন্ত ইসলামের সকল নির্দেশনা শক্তিশালী ভিত্তির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত। একজন মুমিনের জন্য এই দুটি বিষয় গভীরভাবে অনুধাবন করা অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক মুসলমান ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও পূর্ণ সচেতন নয়। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তাদের আলোচনায় তা পরিষ্কার বোঝা যায়। কুরবানীর মওসুমে কুরবানীর তাৎপর্য আলোচনা করতে গিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে যেসব প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয় তাতে এই সমস্যা প্রকটভাবে লক্ষ করা যায়।

একশ্রেণীর লেখকের আলোচনা থেকে অনুমিত হয় যে, ইবাদত প্রসঙ্গটি তাদের কাছে গুরুত্বহীন কিংবা এ বিষয়ে তাদের ধারণা পরিষ্কার নয়। এজন্য কুরবানীর ইবাদতের দিকটি তুলে ধরার পরিবর্তে তারা অন্যভাবে এর তাৎপর্য ব্যক্ত করেন। কেউ ইসলামের যে অংশটি তার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ তা দিয়ে একে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে, রাজনৈতিকভাবে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করাই কুরবানীর উদ্দেশ্য। প্রশ্ন হয় যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠাই যদি কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য হত তাহলে পশু যবেহর পরিবর্তে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কাজকর্মই কি অধিক উপযোগী ছিল না? সেক্ষেত্রে দাওয়াত, তালীম, জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ই হত কুরবানী দিবসের মূল কর্মকাণ্ড। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। কিছু কাব্যপ্রিয় মানুষ পশু-কুরবানীকে ‘পশুত্বের কুরবানী’র প্রতীক বলে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ তারা এটা অনুধাবন করেন যে, কুরবানী নিছক পশু যবেহ নয়, এতে আরো উচ্চতর তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু সেই তাৎপর্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় তারা এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে নিছক একটি প্রতীকে পরিণত করেন। অথচ কুরবানী হচ্ছে ‘ইবাদতে মাকসূদা’। অর্থাৎ এই কাজটিই আল্লাহর দরবারে ইবাদত হিসেবে গণ্য।

পক্ষান্তরে কিছু ইসলামবিদ্বেষী ও মুনকিরে শরীয়ত কখনো স্পষ্টভাবে আবার কখনো ইশারা-ইঙ্গিতে এ কথা বলে যে, পশু-যবেহ হল উৎসবের একটি অনুষঙ্গ। ভোজের প্রয়োজনেই পশু যবেহর রীতি প্রবর্তিত হয়েছে! বলাবাহুল্য যে, এভাবে তারা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকেই অস্বীকার করে। কেননা, কুরআন-সুন্নাহ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, কুরবানী একটি ইবাদত এবং তা শাআইরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। একে শুধু ভোজের অনুষঙ্গ বলার অর্থই হচ্ছে এই ইবাদতটিকে অস্বীকার করা। এই সকল ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে ইবাদত সম্পর্কে গুরুত্বহীনতা এবং ইসলামী ইবাদতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। প্রকৃতপক্ষে কুরবানী হচ্ছে একটি খাঁটি উপসনাধর্মী কাজ। ইসলামী পরিভাষায় খালিছ ইবাদত। কুরবানী নিছক পশু যবেহ নয়। কুরবানী হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর নির্দেশিত পন্থায় নির্ধারিত পশু তাঁর নামে উৎসর্গ করা। এজন্য এর সুনির্ধারিত নিয়মকানূন আছে, যার অন্যথা হলে তা আর ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না। আল্লাহ তাআলা যত প্রাণী মানুষের জন্য হালাল করেছেন, সব প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় না। যেসব প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় সেসবের মধ্যেও নির্ধারিত বয়স ও বৈশিষ্ট্যের শর্ত রয়েছে। এরপর কুরবানীর উপযুক্ত পশুও নির্ধারিত সময়ে যবেহ করা অপরিহার্য। এই কথাগুলি তো সবারই জানা আছে। এগুলি কী প্রমাণ করে
উপরন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর পশু ও গোশতের পশুর পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন। এসব বিষয় প্রমাণ করে যে, কুরবানী একটি উপাসনাধর্মী কাজ। তবে অন্য ধর্মের উপাসনার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। স্বরূপ, তাৎপর্য ও সম্পাদন-পদ্ধতি সব দিক থেকেই তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামের ইবাদত সম্পূর্ণ তাওহীদ ভিত্তিক। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর জন্যই তা হতে পারে। অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা শক্তির জন্য হতে পারে না। যিনি উপাসনার উপযুক্ত একমাত্র তারই জন্য উপাসনা, অন্য কারো জন্য নয়-এটা হচ্ছে ইসলামের ইবাদতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দ্বিতীয় পার্থক্য হচ্ছে, এর সম্পাদন-পদ্ধতি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত। কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিভিন্ন সহীহ হাদীসে এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও সম্পাদন-পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে।

পক্ষান্তরে অন্য সকল ধর্মের উপাসনার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শিরক ও বিদআত। আল্লাহর সঙ্গে গায়রুল্লাহর উপাসনা এবং ধর্মনেতাদের প্রণীত পদ্ধতি অনুসরণ এটাই হল অন্যান্য ধর্মের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কুরবানী ও অন্য সকল ইবাদত সম্পর্কে এই মৌলিক বিষয়টি পরিষ্কার থাকা উচিত। তাহলে যেমন ইবাদতের তাৎপর্য খোঁজার জন্য ইবাদতকে অতিক্রম করার প্রয়োজন হবে না, তেমনি ইসলামের শত্রুরা তা অস্বীকার করতে চাইলে তারও সঠিক জওয়াব দেওয়া সম্ভব হবে।

Want your business to be the top-listed Government Service in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Rajshahi