Youth Action For Social Change - YASC

Youth Action For Social Change - YASC

Share

Youth Action For Social Change (YASC) is a youth based non profit organization dedicated to build social awareness in Rajshahi.

It's vision is to end different social discrimination in society and to bring positive change in society as well as to create leaders. As a part of our community service we took different Social Action Project (SAP).

02/06/2026

নিঝুম রাতে বাঁশঝাড় কিংবা গ্রামের কোনো জলাভূমির ধারে জোনাকি পোকার মিটিমিটি আলো এক সময় গ্রামীণ বাংলার এক চিরচেনা রূপকথা ছিল। কিন্তু বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তা সেই চেনা রূপকথাকে এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীর বুকে জোনাকি পোকা এখন তীব্র অস্তিত্বের সংকটে। সম্ভবত আমরাই পৃথিবীর শেষ প্রজন্ম, যারা প্রকৃতির এই জাদুকরী আলো দেখার সৌভাগ্য নিয়ে বেঁচে আছি।

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের করা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, জোনাকি পোকার এই দ্রুত বিলুপ্তির পেছনে প্রাকৃতিক কোনো কারণ নেই; বরং মানুষের তৈরি কিছু সুনির্দিষ্ট সংকটই এদের আলো নিভিয়ে দিচ্ছে।

জোনাকির আলো নিভে যাওয়ার কারণ

গবেষকদের মতে, মূলত চারটি কারণে বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে জোনাকির সংখ্যা:

আবাসস্থল ধ্বংস: জোনাকির টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন আর্দ্র, বনাঞ্চল এবং জলাভূমি। কিন্তু অপরিকল্পিত ও দ্রুত শহরায়ণ এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে তাদের এই প্রাকৃতিক বাসস্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ফায়ারফ্লাই ট্যুরিজম: জাপান, তাইওয়ান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন্সে জোনাকি দেখার জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করে।হাজার হাজার মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যায় জোনাকির লার্ভা এবং ডিম, কারণ জোনাকিরা মাটির কাছাকাছি বা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে ডিম পাড়ে। মানুষের অজান্তেই তাদের হাঁটাচলার কারণে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

কৃত্রিম আলোক দূষণ: জোনাকির আলো কোনো সাধারণ

আলো নয়, এটি তাদের প্রজননের প্রধান মাধ্যম। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘জৈব-আলোকিত সংকেত’। পুরুষ জোনাকি আলো জ্বেলে স্ত্রী জোনাকিকে আকর্ষণ করে। কিন্তু আধুনিক শহরের তীব্র কৃত্রিম আলো এবং রাতের আলোর আধিক্যের কারণে জোনাকিরা একে অপরের এই সংকেত আর চিনতে পারছে না, যা তাদের প্রজনন চক্রকে ব্যাহত করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানে’ পরিবেশ বিষয়ক ফিচারে মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের জোনাকিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। সেখানে দেখানো হয়, পর্যটকদের অতিরিক্ত আনাগোনা এবং ক্রুজ শিপের তীব্র সার্চলাইটের কারণে নদীর ধারের বিখ্যাত জোনাকিরা (যাদের 'ঘোস্ট ফায়ারফ্লাই' বলা হয়) দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। আলোর এই তীব্রতায় তারা নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। কীটনাশকের ব্যবহার: আধুনিক কৃষিকাজে রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের সরাসরি শিকার হচ্ছে এই কোমল পোকাগুলো। কীটনাশক ব্যবহারে জোনাকি যেমন মারা যাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে তাদের লার্ভার প্রধান খাদ্য যেমন - শামুক বা ছোট কৃমি।

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত আবহাওয়া জোনাকির স্বাভাবিক জীবনচক্রকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া বা অতিরিক্ত খরা এদের বংশবৃদ্ধির পরিবেশ নষ্ট করছে।

সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রে জোনাকি

কেবল বাস্তুসংস্থানই নয়, মানুষের সংস্কৃতিতেও জোনাকির স্থান অনেক উঁচুতে। বিশেষ করে জাপানি সংস্কৃতি ও শিল্পকলায় জোনাকি পোকা এক গভীর আবেগের নাম। জাপানি চলচ্চিত্র (যেমন বিখ্যাত অ্যানিমে ফিল্ম ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাই’ এবং চিত্রকলায় জোনাকিকে জীবন, ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য এবং আত্মার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু আজ সেই চেনা বনাঞ্চল ও জলাভূমি হারিয়ে বাস্তব জগতেই টিকে থাকার কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত তারা।

এখনও কি বাঁচানো সম্ভব?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সময় ফুরিয়ে গেলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। এই উজ্জ্বল পোকাগুলোকে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এখনই বিশ্বব্যাপী কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

আবাসস্থল পুনরুদ্ধার: জোনাকি প্রজনন করতে পারে এমন জলাভূমি ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা।

রাতের আলো নিয়ন্ত্রণ: জোনাকির অভয়ারণ্য বা গ্রামীণ এলাকায় রাতের বেলা কৃত্রিম আলোর (বিশেষ করে নীল ও সাদা আলো) ব্যবহার কমানো এবং প্রজনন মৌসুমে আলো নিয়ন্ত্রণ করা।

পরিবেশবান্ধব কৃষি: রাসায়নিক কীটনাশক বর্জন করে জৈব কৃষিকে উৎসাহিত করা।

জনসচেতনতা: সাধারণ মানুষের মধ্যে জোনাকির গুরুত্ব এবং তাদের রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

পরিবেশবিদদের মতে, জোনাকি কেবল একটি সুন্দর পোকা নয়, তারা পরিবেশের স্বাস্থ্যের ‘ব্যারোমিটার’ বা পরিমাপক। জোনাকি কোনো এলাকায় থাকা মানে সেখানকার মাটি, পানি এবং বাতাস এখনও বিশুদ্ধ রয়েছে। কোনো এলাকা থেকে জোনাকি বিলুপ্তি হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো - সেখানকার পুরো ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থান বিনষ্ট হচ্ছে।

লিংক কমেন্টে:

02/06/2026

ফসলের হাসপাতাল
বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার একটি কৃষক সংগঠন গড়ে তুলেছে 'ফসলের হাসপাতাল', যেখানে কৃষকদের রোগাক্রান্ত শস্যের চিকিৎসা সমাধান দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

তারা বলছেন, ক্ষেতের শস্য পোকা মাকড় কিংবা রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হলে কীটনাশক প্রয়োগ না করে, প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন ও বালাই নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

"কৃষকরা রোগাক্রান্ত শস্যের স্যাম্পল নিয়ে আমাদের হাসপাতালে আসলে মূলত কোন রোগের জন্য কোন ঔষধ লাগবে এবং সেটা কীভাবে বানানো ও ব্যবহার করতে হবে সেই পরামর্শ দেওয়া হয়," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন 'ফসল হাসপাতাল' ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের একজন আবদুল ওয়াদুদ খান।

মি. খান জানিয়েছেন এই পরামর্শ দেওয়ার কাজটি করেন তাদের কৃষক সংগঠনের প্রশিক্ষিত কয়েকজন সদস্য।

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলছেন তারাও এই 'ফসল হাসপাতালের' কথা শুনেছেন এবং এর উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে 'অথেনটিক পরামর্শ' নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের এই ফসল হাসপাতালকে সহায়তা দিচ্ছে বারসিক নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটির নেত্রকোনা অঞ্চলের সমন্বয়ক অহিদুর রহমান বলছেন, ব্যতিক্রমী এই হাসপাতালে সবজি চাষ করা কৃষকরাই বেশি আসেন এবং সেখান থেকে তারা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ ও সহায়তাও পেয়ে থাকেন।

উদ্যোক্তারা অবশ্য বলছেন, ধান চাষিরা হাসপাতালটিতে কম আসেন, কারণ তারা কীটনাশকেই বেশি নির্ভর করতে চান। তবে অন্য অনেক শস্য চাষের ক্ষেত্রে কৃষকরা নিয়মিতই 'ফসল হাসপাতালে' এসে পরামর্শ নিয়ে থাকেন।

কীভাবে গড়ে উঠেছে 'ফসল হাসপাতাল'
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলায় গড়ে ওঠা এই ফসল হাসপাতালের মূল্য উদ্যোক্তা একটি কৃষক সংগঠন। 'বাঘড়া হাওর কৃষক সমিতি' নামে ওই সংগঠন প্রায় দেড় দশক আগে 'ফসল হাসপাতালটির' গোড়াপত্তন করে।

এর উদ্যোক্তাদের একজন আব্দুল ওয়াদুদ খান বলেছেন ২০১০-১১ সালের দিকে ফসলের পোকা-মাকড় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে করতেই ফসল হাসপাতালের ধারণাটি তাদের মধ্যে তৈরি হয়।

"আমরা তখন মুরুব্বিদের সাথেও কথা বলি। যাদের কৃষিকাজে অনেক অভিজ্ঞতা। কৃষকরা অভিজ্ঞতার আলোকে চাষাবাদের ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এরপর আমরা ভাবলাম মানুষ কিংবা পশুর জন্য হাসপাতাল থাকলে ফসলের জন্যও হতে পারে,"বলছিলেন মি. খান।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "তখনি সিদ্ধান্ত হলো যে একটি ফসল হাসপাতাল আমরা করতে পারি যেখানে রোগাক্রান্ত ফসল নিয়ে কৃষক আসবে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সমাধান পাবে"।

তিনি বলেন, 'ফসল হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের মূল্য উদ্দেশ্যই ছিল সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করেও যে ক্ষেতের ফসলকে রোগমুক্ত করা যায় ও ফসল নিরাপদ রাখা যায় তা নিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা।

'ফসল হাসপাতালের' সঙ্গে জড়িত আরেকজন কৃষক সায়েদ আহমেদ খান বাচ্চু বলছেন কোনো শস্য বালাই আক্রান্ত হলে হাসপাতাল থেকে তাদের যথাযথ বালাই নাশক কোনটা হবে এবং সেটি কীভাবে তৈরি করতে হবে সে সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়।

"আমরা ৫/৭ জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা একেকজন একেক বিষয়ে প্রশিক্ষিত। কেউ শস্যের জাত, কেউ পোকামাকড় দমন, কেউ বা জাত সংরক্ষণ – এমন পাঁচটি বিষয়ে তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোন শস্যে কোন পোকামাকড় তা দেখে সেভাবেই বালাই নাশক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় কৃষকদের," বলছিলেন তিনি।

ওই হাসপাতালের সঙ্গেই কাজ করছেন স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ নইম মিয়া। তার দাবি, বালাইনাশক বা জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন জাত সংরক্ষণ নিয়েও তারা কাজ করছেন।

হাসপাতালটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বারসিকের কর্মকর্তা অহিদুর রহমান বলছেন, একটি কৃষক সংগঠনই এই হাসপাতালটি পরিচালনা করছে এবং ফসলের রোগ বালাই হলে কৃষকরা সেখানে নিয়ে আসছে।

"ফলে তাদের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বীজ সংরক্ষণ, বালাই নাশক, ফসলের রোগ- এমন পাঁচটি বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা সেখানে কাজ করছেন। কোন রোগের সমাধান কীভাবে হতে পারে তার একটি চার্ট তৈরি করে সেটি অনুসরণ করে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। পুরো ব্যাপারটিই আসলে প্রাকৃতিক ও পরিবেশ সম্মত। এটি জমির গুণাগুণ রক্ষায় সহায়ক হচ্ছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. রহমান।

একই সঙ্গে এই হাসপাতাল পরিচালনার সাথে জড়িতরা কীটনাশক ছাড়া চাষাবাদ করছেন এবং একই সঙ্গে অন্য কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন করছেন বলে জানান তিনি।

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলছেন, কৃষি ও কৃষকের জন্য যে কোনো ভালো উদ্যোগকেই তারা ইতিবাচক বলে মনে করেন।

"আমাদের কাছে তারা এসেছিল। আমরা শুধু বলেছি যে যারা পরামর্শ দেবেন তারা যেন কৃষককে অথেনটিক (নির্ভরযোগ্য) পরামর্শ দেন," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কৃষকরা চাষাবাদের সার বা কীটনাশকের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ধানের ক্ষেত্রে সারের ব্যাপক ব্যবহার হয়। যদিও সারের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন বাড়ালেও বেশি ব্যবহারের কারণে জমির উর্বরতা কমে যায় বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন।

আবার বেশি সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ মারতে গিয়ে অনেক উপকারী পোকামাকড় ধ্বংস হওয়ায় সার-কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনাও আছে অনেক।

এমনকি সার কীটনাশক এখন জনস্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলছে বলে কৃষি বিভাগ বরাবরই সহনীয় পর্যায়ে সার কীটনাশক ব্যবহারে জোর দিয়ে আসছে।

অনেক সময় কৃষকরা অধিক ফলনের জন্য জমিতে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন। আবার কীটনাশক দেওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় অপেক্ষা না করেই ফসল তোলা হচ্ছে যা মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন।

এখন নেত্রকোনার 'ফসল হাসপাতালের'র উদ্যোক্তারা বলছেন, স্বল্প পরিসরে হলেও তারা এই হাসপাতালের মাধ্যমে জৈব সার ও প্রাকৃতিক বালাইনাশক দিয়েই যে ভালো ফলন সম্ভব সেটিই কৃষকদের জানানোর চেষ্টা করছেন।

লিংক কমেন্টে:

31/05/2026

সুপার এল নিনোর শঙ্কা: ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত কৃষকদের সামনে নতুন সংকট
প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া ব্যবস্থা ‘এল নিনো’ আবারও ফিরে আসার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কোটি কোটি কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়াবিদদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, এবার এমন এক ‘সুপার এল নিনো’ দেখা দিতে পারে, যার তীব্রতা গত দেড়শ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতে পারে।

ফিলিপাইনের বোটোলান শহরের ধানচাষি ফ্রইলান দিলাগ ইতোমধ্যেই উদ্বিগ্ন। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে সেখানে মৌসুমি বৃষ্টি শুরু হয়, কিন্তু এ বছর এখনো বৃষ্টির দেখা নেই।

দিলাগ বলেন, ‘২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। ভয় হচ্ছে, এবারও একই পরিস্থিতি হবে। এল নিনোর কারণে হয়তো আমরা যা রোপণ করব, তার মাত্র ৫০ শতাংশ ঘরে তুলতে পারব।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে সার সংকটের মধ্যেই যদি ‘গডজিলা’ মাত্রার এল নিনো আঘাত হানে, তাহলে কৃষি উৎপাদনে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।

শুধু ফসলই নয়, উষ্ণ সমুদ্রের কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক প্রজাতির মাছ মারা যেতে পারে বা তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে। এতে জ্বালানির বাড়তি খরচে আগে থেকেই চাপে থাকা জেলেরা আরও বিপদে পড়বেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

২ ডিগ্রির বেশি উষ্ণতা নিয়ে সতর্কতা

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চ সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়া তাশেত্তো বলেন, বর্তমান মডেলগুলো দেখাচ্ছে যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি বেশি থাকলে সেটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ৫০ বছরে মাত্র চারবার এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের হিসাবে, মে-জুলাই সময়ে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা ‘শক্তিশালী’ বা ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ।

ভারতের জন্য অশনিসংকেত

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে ২০২৬ সালের জুন-সেপ্টেম্বর মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ভারতের প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষিজমি এখনো কেবল বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে গেলে খাদ্যশস্য উৎপাদন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রের কৃষকেরা সয়াবিন না তুলা চাষ করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। কারণ তুলা খরা তুলনামূলক ভালো সহ্য করলেও এর দীর্ঘ চাষকাল অন্য ফসল উৎপাদনের সুযোগ কমিয়ে দেয়।

প্রাঞ্জুল ভান্ডারি বলেন, ‘কিছু এল নিনো বছরে বৃষ্টিপাত খুব বেশি কম নাও হতে পারে। কিন্তু তাপমাত্রা সবসময়ই বাড়ে। এখন সেই তাপমাত্রা এমন সীমা অতিক্রম করছে, যা শুধু সবজি নয়, ধান, গম, ডাল, তেলবীজ এমনকি ডিম ও মাংস উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।’

অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

২০১৫ সালের এল নিনোর সময় ভারতে গড় বৃষ্টিপাত ১৪ শতাংশ কমেছিল। মহারাষ্ট্রের কিছু এলাকায় ঘাটতি ছিল ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। সে বছর রাজ্যটিতে ৪ হাজারের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন।

একই সময়ে মালয়েশিয়ায় ধান ও পাম তেলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির জোহর রাজ্যে পানির রেশনিং চালু করতে হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৫ সালের দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা অনুযায়ী, ওই দূষণের কারণে এক লাখেরও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছিল।

জ্বালানি, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো কৃষির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পরিবহন, পর্যটন এবং প্রযুক্তি খাতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মালয়েশিয়ায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে, ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। পানির সংকট দেখা দিলে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা

খাদ্য সংকট, পানির ঘাটতি এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে অসন্তোষ অতীতে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

২০১৬ সালে ফিলিপাইনের হাজারো কৃষক খাদ্য সহায়তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।

১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক খরা ও খাদ্যসংকটের পাশাপাশি দাবানল, পরিবহণ বিপর্যয় এবং আর্থিক সংকট শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর পতনের পথ তৈরি করে।

প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশগুলো

তবে আগের তুলনায় এখন এশিয়ার দেশগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশি প্রস্তুত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মালয়েশিয়া সম্ভাব্য পানি রেশনিং ও চাহিদা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে খাল বন্ধ করা এবং কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঘটানোর জন্য মেঘে রাসায়নিক ছিটানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবুও কৃষকদের আশঙ্কা কমছে না। মহারাষ্ট্রের কৃষক আন্দোলনের নেতা বিজয় জাওয়ান্ধিয়া বলেন, ‘দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টি কৃষকদের জন্য অবশ্যই কষ্টকর হবে। কিন্তু তারা ইতোমধ্যেই ঋণের বোঝায় পিষ্ট। হয়তো খাদ্যের দাম নিয়ে বড় সংকট তৈরি হলেই নীতিনির্ধারক ও শহুরে মানুষ কৃষকদের প্রকৃত দুর্দশা বুঝতে পারবেন।’

লিংক কমেন্টে:

29/05/2026

Bangladesh has just approved one of the largest river engineering projects its history: the Padma Barrage, a vast river-control project intended to restore water in the country’s drought-prone southwest.

It comes at a dangerous moment for South Asia’s rivers. China is building the world’s largest hydropower dam upstream on the Brahmaputra, India is accelerating its own dam-building programme, and the treaty governing Ganges water-sharing between India and Bangladesh expires in December 2026.

Rather than easing regional water insecurity, the Padma Barrage risks adding to a cycle of unilateral river engineering across the subcontinent. South Asia is entering a regional dam-building race – without the institutions needed to share its rivers.

Bangladesh’s water crisis
Supporters say the barrage is a pragmatic response to chronic water insecurity in Bangladesh. The country sits at the end of the vast Ganges-Brahmaputra river system, where rivers that originate in the Himalayas spread into thousands of channels before they reach the sea. Despite all this water, the main river channels are drying up in summer and some smaller rivers are disappearing rapidly.

Bangladesh did not create this problem alone. Since the 1970s, the Farakka Barrage, built across the Ganges upstream in India, has diverted water towards the huge city of Kolkata to flush sediment away from its port.

The consequences for Bangladesh are well documented. Its rivers have dried up and become less navigable. They have also become saltier, groundwater levels have declined, and severe riverbank erosion has occurred.

Farming has become more difficult and fish stocks have declined. These environmental pressures have forced many people to migrate out of the country.

Most critically, the reduced flow of freshwater has harmed the Sundarbans — the world’s largest mangrove forest, shared between Bangladesh and India. There, elevated salinity has caused widespread “top dying” among mangrove trees and significant biodiversity loss.

The promise – and risks – of Padma Barrage
When complete, the centrepiece of the Padma Barrage will be a huge dam more than two kilometres long. It is designed to store water during the monsoon season and release it in the drier months, helping reduce salinity intrusion by maintaining freshwater flows and pushing saline water further downstream during the dry season.

In theory, the barrage will revive a host of smaller rivers in western Bangladesh. The government claims it will support irrigation across much of the country, while increasing rice and fish production.

Yet the project raises a series of ecological and geopolitical concerns that deserve serious scrutiny.

The most immediate relates to silt, because the Ganges is an exceptionally sediment-heavy river. A dam or barrage causes the river water to lose speed and the energy required to carry sediment, which is dumped upstream.

This is already a severe problem upstream of the Farakka Barrage. More than a million people have been displaced from riverbank communities over the past three decades, as banks have been eroded and floods have become more intense.

Constructing a second major barrier downstream – the Padma Barrage – risks compounding these effects, potentially trapping additional sediment loads between the two structures and intensifying flooding pressure.

The consequences downstream could be equally serious. The diversion of water into southwestern river channels — the stated objective of the project — implies reduced flows in the main river systems. If these flows aren’t strong enough to push back salty tidal waters, then parts of coastal Bangladesh, rather than benefiting from improved water security, could face accelerating salinisation.

There is a deeper irony here. Bangladesh is responding to the damage caused by India’s Farakka Barrage with a major barrage of its own.

Farakka was built to solve an economic problem upstream, but imposed major environmental costs downstream in Bangladesh. Those economic problems are still unsolved – Kolkata port still suffers from silt and needs constant dredging.

Critics fear the Padma Barrage could reproduce the same pattern: large environmental disruption without the promised benefits. In other words, the same engineering approach that damaged Bangladesh may soon be reproduced within that country.

A regional struggle over rivers
The project also depends on sufficient water continuing to flow into Bangladesh. But China damming the Brahmaputra – alongside planned hydropower projects across India, including plans to link its major rivers – could significantly reduce the volume of water entering Bangladesh in future. If that happens, the Padma Barrage may not have enough water to work as intended.

The timing also matters. The 1996 Ganges Water Sharing Treaty between India and Bangladesh expires in December 2026, and governs the same flows the Padma Barrage is designed to manage. Rather than strengthening Bangladesh’s position ahead of treaty talks, the project could weaken its case for demanding more water from India by signalling that it can cope with reduced flows.

Several rivers that the barrage aims to revive flow through both India and Bangladesh, meaning restoration will require cooperation between the two countries, rather than infrastructure alone.

That makes Bangladesh’s 2025 accession to the UN Watercourses Convention particularly significant. As the first South Asian country to join the treaty, Bangladesh now has a stronger legal basis to push for more equitable water-sharing, particularly as the Ganges treaty negotiations approach.

Dams cannot replace diplomacy
The Padma Barrage is not an inherently misconceived project. Bangladesh’s water crisis is real, and the political pressure to respond is genuine.

But without renewed water-sharing agreements and stronger cooperation with neighbouring countries, this new barrage risks repeating the pattern of unilateral river engineering that has already destabilised South Asia’s waterways.

Infrastructure that outpaces diplomacy is a familiar reason for failure in the region. The challenge for Bangladesh is to ensure the barrage becomes part of a strong legal and diplomatic framework for river cooperation – not another step in an escalating cycle of hydropolitical competition.

Link in Comments:


29/05/2026

বারো মাস নাব্য থাকে যে নদী তার নাম বারনই। নদীপাড়ের মানুষ, আপনার, আমার সকলের দীর্ঘদিনের দাবি বারাহী, নবগঙ্গা নদীর প্রবাহ দূষণমুক্ত করা। শহরের তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলেই এই দুটি নদী দূষণমুক্ত হবে। এই নদী দুটি দূষণমুক্ত হলেই বারনই দূষণমুক্ত হবে এবং প্রাণবৈচিত্র্যে ভরে উঠবে।‌ অবিলম্বেই বারাহী, নবগঙ্গা, বারনই নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে দখল-দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

এখন টিভির ডকুমেন্টারি লিংক কমেন্টে:

জেলা প্রশাসন, রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তর-Department of Environment-DOE Ministry of Environment, Forest and Climate Change, Bangladesh Ministry of Water Resources

27/05/2026

আসসালামু আলাইকুম।
পবিত্র ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

ত্যাগের এই মহিমান্বিত শিক্ষা আমাদের জীবনে মানবতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা বয়ে আনুক। কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতায় প্রতিফলিত হোক।

এই ঈদে আমি কামনা করি প্রতিটি মানুষের জীবন হোক নিরাপদ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ; সমাজে বৃদ্ধি পাক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা; এবং আমাদের চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি ও সকল প্রাণের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও গভীর হোক।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কুরবানি ও নেক আমল কবুল করুন এবং পৃথিবীকে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ করে তুলুন।

🌙 ঈদ মোবারক 🌿

মো. আতিকুর রহমান আতিক
সভাপতি, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম
সাধারণ সম্পাদক, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়‌্যাস
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ

26/05/2026

উন্নয়ন! চট্টগ্রাম.....
সরকার বরাবরই গাছের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে!
সড়ক প্রশস্ত করতে কাটা হলো কয়েকশ গাছ, ‘এত দেখলে কাজ থেমে যাবে’—উপজেলা প্রকৌশলী...

বিস্তারিত কমেন্টে:

26/05/2026

স্রোতস্বিনীর দেশে সংগীত হারানোর সূচক
লিখেছেন Sheikh Rokon , নদী গবেষক ও মহাসচিব Riverine People

নদীমাতৃক বাংলাদেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, উৎপাদন, সবই যখন নদীনির্ভর; তখন শিল্প, কলা, সাহিত্য ও সংগীতও এর প্রভাব এড়াবে কীভাবে? লালনগীতি থেকে রবীন্দ্রসংগীত, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে সলিল চৌধুরী—কে না পড়েছেন নদীর প্রেমে?

সেই আলোচনা পণ্ডিতদের জন্য রেখে যদি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের কথাই ধরি, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে নদীময় সংগীত। যেমন, একাত্তরের আগস্টের প্রথম দিন নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে যে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজিত হয়েছিল, সেখানে বিশ্বখ্যাত মার্কিন গায়ক বব ডিলান পাঁচটি গান গেয়েছিলেন। কিন্তু পরিকল্পনায় থাকলেও সময়ের অভাবে ‘নদীমাতৃক’ দেশের স্বাধীনতার সপক্ষে তার ‘নদীময়’ গানটি গাইতে পারেননি।

বব ডিলানের শেকড় মিনেসোটা রাজ্যে; জন্মেছিলেন ডুলুথ শহরে বেড়ে উঠেছেন হিবিং শহরে। পঁচাত্তর কিলোমিটার দূরবর্তী ডুলুথ ও হিবিং শহরকে বেঁধে রেখেছে সেন্ট লুইস নদী ও এর উপনদী-শাখানদীগুলো। এই দুই শহরকে নিয়ে তার বিখ্যাত ‘ওয়াচিং দ্য রিভার ফ্লো’ গানটির কয়েকটি চরণ বাংলা করে দিচ্ছি : ‘যদি ফিরে যাওয়া যেত আমার সেই শহরে/ এই পুরাতন নদীর বালুভরা তীর ছেড়ে/ যেখানে সূর্য ডোবে চিমনির শীর্ষ ছুঁয়ে/ যেখানে হাতে হাত রেখে পাশে বসে প্রিয়ে/ পাখা থাকলে আমি উড়তাম, গন্তব্য নয় অজানা/ এখানেও আমি সন্তুষ্ট অদ্যাবধি, নয়ন সমুখে বহে নদী নিরবধি’। কথা হচ্ছে, ডিলান যে শহরেই ফিরে যান না কেন, নয়ন সমুখে বহমান থাকবে সেন্ট লুইস।

ম্যাডিসন স্কয়ারের ওই কনসার্টের অন্যতম প্রধান আয়োজক জর্জ হ্যারিসন কেবল ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ গানটিই গাননি; পরবর্তী সময়ে উপমহাদেশীয় সংস্কৃতি ও ধর্মে মগ্ন হয়েছিলেন। এও চেয়েছিলেন মৃত্যুর পর তার চিতাভস্ম যেন গঙ্গা নদীতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে গেয়েছিলেন ‘আই অ্যাম গোয়িং ডাউন টু দ্য রিভার’।

নদীর দেশ বাংলাদেশের পক্ষে একাত্তরে সোচ্চার ছিলেন লতা মঙ্গেশকরও। তাকে অনেকে আখ্যা দেন ‘সুরের সরস্বতী’ হিসেবে। বাস্তবেও তিনি জন্মেছিলেন সরস্বতী নদীর তীরে, ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরে। তার গানে নদী এসেছিল কীভাবে? ৩৬টি ভাষায় যার ৫০ হাজারের বেশি গান রেকর্ড হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে, তার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাওয়া বাতুলতা ছাড়া আর কী হতে পারে?

কিন্তু লতার বাংলা গানগুলো শুনলেই নদীর প্রভাব স্পষ্ট ধরা যায়। যেমন, ‘নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা বুঝিবা পথ ভুলে যায়’ গানটি বিশেষত গোধূলিবেলায় নদীর পাড়ে গেলে কোন বাঙালির মনে গুঞ্জরিত হবে না?

হিন্দিতেও লতা মঙ্গেশকর যে ‘মানো তো ম্যাঁয় গঙ্গা মা হুঁ, না মানো তো বহতা পানি’ (মানলে গঙ্গা সবার মা, না মানলে প্রবাহ মাত্র) গান গেয়েছেন, সেটা শুনলে কারও যদি লালন সাঁইজির ‘গঙ্গায় গেলে গঙ্গার জল হয়, গর্তে তারে কূপ জল কয়’ গানটির কথা মনে পড়ে, দোষ দেওয়া যাবে? বস্তুত, লতাকে যে ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশেরও প্রত্যন্ত গ্রামে আপন করে তুলেছে, হতে পারে এর প্রধান কারণ তার সংগীতে নদীর বহমানতাই।

লতা মঙ্গেশকরের একটি গান ‘নদীয়া কিনারে হিরায়ি আয়ি কঙ্গনা, এইসে উলাঝ গ্যায়ে আনাড়ি সাজনা’। বাংলায়, নদীর পাড়ে গিয়ে কঙ্কন হারিয়ে এসেছি, আনাড়ি প্রেমিক তাতেই আটকে গেছে। সংগীত ততটা বুঝি নাা; কিন্তু ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা অববাহিকাজুড়ে হেলায় ফেরে রাখা লতা মঙ্গেশকরের সুরের কঙ্কনই হয়তো কোটি কোটি বাঙালি আনাড়ি প্রেমিক আটকে থাকবে অনাগত দিনগুলোতেও।

লতার মতোই আরেকজন শিল্পীর প্রভাবও বাংলা গানের রাজনৈতিক সীমানায় আটকে থাকেননি; তিনি ভূপেন হাজারিকা। বিশেষত ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা নিয়ে তার গানগুলোর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত।

ভূপেনের বিখ্যাত গান ‘ও গঙ্গা বইছ কেন’ মূলত রচিত হয়েছিল ব্রহ্মপুত্রকে নিয়ে: ‘বুঢ়া লুইত তুই বুআ কিঅ’। হিন্দি ও বাংলায় ভাষান্তরিত হওয়ার সময় বুঢ়া লুইতের জায়গায় শুধু গঙ্গা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ব্রহ্মপুত্রের ওপরের অংশের অহমীয়া নাম লুইত বা বুঢ়া লুইত।

‘মহাবাহু ব্রহ্মপুত্র’ গানটি যদিও বাংলায় ভাষান্তরিত হয়নি, সেখানে বলেছেন, ব্রহ্মপুত্র কীভাবে যুগ যুগ ধরে নানা ভাষা, সংস্কৃতি, জাতি ও ধর্মের ‘মহামিলনের তীর্থ’ হয়ে এবং ‘সমন্বয়ের অর্থ’ প্রকাশ করে আসছে। আর তার ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা/ ও আমার দুই চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা যমুনা’ গানটি তো রাজনৈতিক সীমারেখায় বিচ্ছিন্ন বাংলা ভাষার চার সাংস্কৃতিক অংশকেই সংযুক্ত করেছে; বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম।
পরবর্তী সময়ে ভূপেন হাজারিকা যে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই দলের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে মিল নেই; কিন্তু ভূপেন হাজারিকাই গেয়েছিলেন ‘পদ্মা নদীর ধুমুহাত পরি কত শতজন আহিলে/ লুইতর দুয়ো পারে কতনা অতিথি আদরিলে’। অহমিয়া ভাষায় ‘ধুমুহা’ অর্থ ঝড় বা দুর্যোগ। বোঝাই যাচ্ছে, পদ্মপাড়ের দুর্যোগ কবলিত মানুষের লুইতের দুই পাড়ে সাদর বসতির কথা বলা হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র বা বরাক নদী যেমন আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে, তেমনই ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে বয়ে আসা গোমতী পাড়ের শচীন দেব বর্মণ বাংলা ভাটিয়ালি গানের ধারায় যোগ করেছেন নতুন নতুন মাত্রা।

বস্তুত ‘ভাটিয়ালি’ শব্দটির মধ্যেই নিহিত রয়েছে ‘ভাটি’ কথাটি; এর অর্থ ইংরেজিতে ‘ডাউন স্ট্রিম’। ভারতীয় উপমহাদেশের তিন প্রধান নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, বরাক বা মেঘনার অভিন্ন ভাটি বা ডাউন স্ট্রিম হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বে আরও ব-দ্বীপ নিশ্চয়ই রয়েছে; কিন্তু সেগুলো যে কোনো একটি নদীর ভাটি। বাংলাদেশের মতো তিন প্রধান নদী বুকে ধারণ করে নেই আর একটিও। প্রাকৃতিক এই বৈশিষ্ট্যই তাই জন্ম দিয়েছিল ভাটিয়ালি নামে অনন্য সংগীত ধারা।

শচীন দেব বর্মণ বলতেন, ভাটিয়ালি গান তার কাছে বিশেষ অর্থ নিয়ে ধরা দেয়। এর গীতি ও গায়কি, এর ঐক্য ও স্বাতন্ত্র্য, এর আবেগ ও উল্লাস বাংলার নদীর কথা মনে করিয়ে দেয়।

মেঘনা অববাহিকারই আরেক সন্তান হেমাঙ্গ বিশ্বাস আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, বাংলার খোলা প্রকৃতি ও এর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী মাঝির মধ্যে যে দার্শনিকতার জন্ম দেয়, সেটারই সংগীতময় রূপ ভাটিয়ালি গান।

অবশ্য, বব ডিলান থেকে ভূপেন হাজারিকা, লতা মঙ্গেশকর থেকে শচীন দেব বর্মণ, বাংলাদেশের নদী ও সংগীতের এই সম্পর্ক সবই গত শতকের। পরবর্তী সময়ে এসে আমরা দেখি, অ্যান্ড্রু কিশোরের মতো আধুনিক বাংলা গানের আইকনদের কাছে নদী হয়ে উঠেছে নাগরিক প্রেমের মাধ্যম।

২০২০ সালের জুলাইতে অ্যান্ড্রু কিশোরের প্রয়াণের পর তার ‘নদীময় দশ গান’ নিয়ে লিখেছিলাম। এর মধ্যে রয়েছে : ঐ নদী চায় বারে বারে সাগর ডাকুক/ তরু চায় লতা তারে জড়িয়ে রাখুক (সবাই তো ভালোবাসা চায়/ সারেন্ডার)। সাগরেরই টানে যেমন নদী ছুটে যায়/ তেমনি করে আমার এ মন তোমায় পেতে চায় (আমার বুকের মধ্যখানে/ নয়নের আলো)। চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা/ নদীর সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা/ তুমি চাঁদ হতে যদি দূরেই চলে যেতে/ তুমি নদী হতে যদি দূরেই চলে যেতে (আশীর্বাদ)।

বাংলা গানের গত পাঁচ দশকের পরিক্রমায় প্রাকৃতিক প্রণোদনা থেকে নদী যে নাগরিক প্রেমের অংশ হয়ে উঠল, এর নেপথ্যে অবধারিতভাবেই রয়েছে খোদ নদীগুলোর ক্রমাবনতি। এটাই সম্ভবত অজান্তেই মূর্ত হয়ে উঠেছিল লাকী আখন্দের জনপ্রিয় গাটিনটিতে : ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে/ যেখানে নদী এসে থেমে গেছে’। বিটিভিতে গানটি যদিও প্রথম গেয়েছিলেন তারই শিষ্যসম অনুজ হ্যাপী আখন্দ, হ্যাপীর মৃত্যুর পর গানটি লাকীর কণ্ঠেই শোভা পেত। লক্ষণীয়, গানটি রচিত হয় পঁচাত্তর সালে; তখনই নদীর থেমে যাওয়ার কথা ভাবছেন একজন শিল্পী! নদী থেমে গেলে এর রূপ, রস, গন্ধে উৎসারিত সংগীতও তখন থেমে যেতে থাকে।

এখন চারপাশে তাকালে দেখা যায়, অনলাইন ও অফলাইনে সংগীতের পরিসর বেড়েছে বটে, সেগুলোতে নদী আর নেই! এ নিয়ে গবেষণাও যেন দুর্লভ। অথচ সংগীত হতে নদীর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বাংলা গানের সুরের সূচক। বিপরীতভাবে, সংগীতও হতে পারে আমাদের নদী হারানোর সূচক। প্রশ্ন জাগে, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে কতজন শিল্পী বব ডিলানের মতো তার শেকড়ের নদী নিয়ে গান বেঁধেছেন?

ইতালীয় শিল্পী জিদিতা ভ্যান্দ্রামে ইউরোপে ‘নদীর গান’ নিয়ে গবেষণা করেন। এখন আগ্রহী বাংলাদেশের ভাটিয়ালি নিয়ে। গত বছর অক্টোবরে রিভারাইন পিপলের অফিসে এসেছিলেন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে। বাংলাদেশে আসার আগে তার বিস্ময় ছিল একটি জনপদে কীভাবে নদীভিত্তিক সংগীতেরই ধারা গড়ে উঠতে পারে! আর এসে, আরও বিস্মিত হয়েছেন যে সেই গান আমরা কীভাবে হারিয়ে যেতে দিচ্ছি।

আমি বলেছিলাম, শুধু ভাটিয়ালি নয়; গোটা বিশ্বে যার নজির নেই, নদীর ক্রীড়া নৌকা বাইচের সংগীত ‘সারি গান’ আমরা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছি। খোদ নদীকে যারা হারিয়ে যেতে দেয়, নদীজাত সংগীতে তাদের কী আসে যায়!


26/05/2026

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সরকারি রাস্তা ও খালের ধারের গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. মোখছেদুল চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগেও একইভাবে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কাটা গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেই গাছগুলো এখনও ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে পড়ে রয়েছে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

এদিকে বর্তমানে খাল খননের কাজ শুরুর আগে আবারও রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি স্থানে থাকা গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার ইচিমারি কালভার্ট সংলগ্ন খাল ও পাকা রাস্তার ধারে থাকা শতাধিক মেহগনি গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছ ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোখছেদুল বলেন, “এসব গাছ আমার চাচা এজাজুল হক লাগিয়েছিলেন। তিনি স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মূলত তিনিই ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেছেন। আমি শুধু তার হয়ে বিষয়গুলো দেখাশোনা করছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি যে স্থানে গাছগুলো ছিল, সেটি তাদের নিজস্ব জমি। তার ভাষ্য, “খাল ও রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়েই গেছে।”

দুই বছর আগে প্রশাসনের কাছে গাছ না কাটার অঙ্গীকার করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোখছেদুল বলেন, “এসি ল্যান্ড আমাদের কোনো সতর্কবার্তা দেননি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, “রাস্তা ও খালের ধারের সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে কেউ পার পাবে না।”

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

লিংক কমেন্টে:

Want your business to be the top-listed Government Service in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


2, Kalabagan Mosque Market, Boalia
Rajshahi
6000