Love story - ভালবাসার গল্প

Love story - ভালবাসার গল্প

Share

I will try to give you some love message 4 yours. It may help you.

I will try to give you some message for your favorite person to help make sweet relation & others.

01/03/2024

কচ্ছপ আর খরগোশের গল্পটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজার বিষয় হল আমরা গল্পের শুধু প্রথম অংশটাই পড়েছি।

আপনি কি জানতেন যে, এই গল্পের আরো ৩ টি অধ্যায় আছে! যা হয়তো আমরা কেউ কেউ পড়েছি বা শুনেছি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই পড়িনি।

গল্পের বাকি অংশটুকু এবার জেনে নিন।

🛶১ম অংশ:
এই অংশটা আমরা ছোটবেলায় বইয়ে পড়ছি। এখানে খরগোশ ঘুমিয়ে যায়, আর কচ্ছপ জিতে যায়। প্রথমবার হেরে যাওয়ার পর খরগোশ বিশ্লেষণ করে দেখল তার পরাজয়ের মূল কারণ 'অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।' তারমানে অতি আত্মবিশ্বাস যে কারো জন্যই ক্ষতিকর। আর কচ্ছপ বুঝল, লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই!

⛵২য় অংশ:
হেরে যাওয়ার পর এবার খরগোশ আবারো কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ করল আর কচ্ছপও রাজী হল।

এবার খরগোশ না ঘুমিয়ে দৌড় শেষ করল এবং জয়ী হল। খরগোশ বুঝল, মন দিয়ে নিজের সামর্থের পুরোটা দিয়ে কাজ করলে দ্রুত সফল হওয়া যায়।

আর কচ্ছপ বুঝল, ধীর স্থির ভাবে চলা ভালো, তবে কাজে উপযুক্ত গতি না থাকলে প্রতিযোগীতা মূলক পরিবেশে জয়ী হওয়া অসম্ভব!

🏔️৩য় অংশ:
কচ্ছপ এবার খরগোশকে আরেকবার দৌড় প্রতিযোগিতার আমন্ত্রন জানালো। খরগোশও নির্দিধায় রাজী হয়ে গেল। তখন কচ্ছপ বলল, "একই রাস্তায় আমারা ২ বার দৌড়েছি, এবার অন্য রাস্তায় হোক।" খরগোশও রাজী। অতএব নতুন রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হল।

যথারীতি খরগোশ জোরে দৌড় শুরু করে দিল। কচ্ছপও তার পিছন পিছন আসতে শুরু করল। কচ্ছপ যখন খরগোশ এর কাছে পৌঁছাল, দেখল খরগোশ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু দৌড়ের শেষ সীমানায় যেতে পারেনি।

কারণ দৌড়ের শেষ সীমানার আগে একটি খাল আছে। কচ্ছপ খরগোশ এর দিকে একবার তাকালো, তারপর তার সামনে দিয়ে পানিতে নেমে খাল পার হয়ে দৌড়ের শেষ সীমানায় পৌছে প্রতিযোগিতা জিতে গেল।

খরগোশ বুঝল, শুধু নিজের শক্তির উপর নির্ভর করলেই হবে না, পরিস্থিতি আর বাস্তবতা অনুধাবন করাও ভীষণ প্রয়োজনীয়! আর কচ্ছপ বুঝল, প্রথমে প্রতিযোগীর দূর্বলতা খুজে বের করতে হবে, তারপর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।

গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়‼️

🏞️চতুর্থ অংশ:
এবার খরগোশ কচ্ছপকে আরেকটি দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য আহবান জানালো এই একই রাস্তায়। কচ্ছপ ও রাজী। কিন্তু এবার তারা ঠিক করল, প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরংএবারের দৌড়টা তারা দৌড়াবে সহযোগী হিসেবে!

শুরু হল প্রতিযোগিতা। খরগোশ কচ্ছপকে পিঠে তুলে দৌড়ে খালের সামনে গিয়ে থামলো।এবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠ থেকে নেমে খরগোশকে নিজের পিঠে নিয়ে খাল পার হল।তারপর আবার কচ্ছপ খরগোশ এর পিঠে উঠে বাকী দৌড় শেষ করল আর এবার তার দু জনই একসাথে জয়ী হল।

⛰️এখান থেকে আমরা আসলে কি শিখলাম?

আমরা শিখলাম, ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকা খুবই ভালো। কিন্তু দলবদ্ধ হয়ে একে অপরের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলেই আসে সত্যিকারের সাফল্য যেখানে সবাই বিজয়ীর হাসি হাসতে পারে। Kamal Hossain - কামাল হোসেন

10/08/2023

একটি মজার প্রশ্ন। কিন্তু বুদ্ধি দিয়ে সমাধান করতে হবে। 😴😴
নিচের সব গুলো শুন্যস্থান একটা মাত্র শব্দ দিয়ে পুরন করতে হবে।😬😬

একটা____ মেয়ে বাজারে গেলো____কিনতে।____কিনতে গিয়ে সে বাজারের মধ্যে____একটা ছেলের সঙ্গে ধাক্কা খেলো।
ধাক্কা খেয়ে তার হাত থেকে সব ____পরে গেলো। এতে____মেয়েটা খুব রেগে গেলো। কিন্তু ছেলেটা মেয়েটাকে আসস্ত করলো এবং____ ____কথা বলে ____র দোকানে নিয়ে গেলো। সেখান থেকে মেয়েটিকে ____কিনে দিলো। এভাবে দুজনের মধ্যে____একটা সম্পর্ক সৃষ্টি হলো।🤧🤧

এখন শব্দ টা কি হবে?🙄🙄
Collectedসংগ্রিহিত

03/08/2023

ছেলে: "বাবা, আমি কি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?"
বাবা: "হ্যাঁ নিশ্চিত, বলো?"
ছেলে: "বাবা,তুমি এক ঘন্টায় কত আয় কর?"
বাবাঃ "এটা তোমার জানার বিষয় নয়। তুমি এমন কথা জিজ্ঞেস করছ কেন?"
ছেলে: "আমি শুধু জানতে চাই। আমাকে বলো, তুমি এক ঘন্টা কত আয় কর?"
বাবা: " আমি প্রতি ঘণ্টায় $100 আয় করি।"
ছেলে: "ওহ! (মাথা নিচু করে)।
ছেলে: "বাবা, আমি কি দয়া করে ৫০ ডলার তোমার কাছ থেকে ধার করতে পারি?"
বাবা রেগে গেলেন।
বাবা: "তুমি কি কোন খেলনা কিনবে বলে আমার কাছে পয়সা চাইছো? যদি তা তুমি ভেবে থাকো, আমি তোমাকে বলবো তুমি এখন গিয়ে শুয়ে পড়ো। আমাকে প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয় শুধুমাত্র পেটের ভাত যোগাড় করার জন্য,খেলনা কেনার জন্য নয়।

ছোট ছেলেটি চুপচাপ তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
লোকটি বসে পড়ল এবং ছোট ছেলের প্রশ্নের কথা ভেবে সে আরো ক্ষেপে গেল।শুধু কিছু টাকা পাওয়ার জন্য তার এমন প্রশ্ন করার সাহস হয় কিভাবে?
প্রায় এক ঘন্টা বা তার পরে, লোকটি শান্ত হয়ে গেল এবং ভাবতে শুরু করল:
হয়তো এমন কিছু ছিল যা তার সত্যিই $ 50 দিয়ে কেনার দরকার ছিল এবং সত্যিই তো আমার ছেলে কখনোই তো আমার কাছে টাকা পয়সা চায় না। লোকটা ছোট ছেলের ঘরের দরজায় গিয়ে দরজা খুলে দিল।
বাবা: "ঘুমাচ্ছো,বাবু?"
ছেলে: "না বাবা, আমি জেগে আছি"।
বাবা: "আমি ভাবছিলাম, হয়তো আমি তোমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। বাবা, বলতো ৫০ ডলার নিয়ে তুমি কি করবে?
ছোট ছেলেটা সোজা হয়ে বসে হাসল।
ছেলে: "ওহ, ধন্যবাদ বাবা!"
তারপর, তার বালিশের নীচ থেকে সে কিছু কয়েন টেনে আনলো। লোকটি দেখল ছেলেটির কাছে আগে থেকেই টাকা আছে, আবার তিনি রাগ করতে শুরু করলেন। ছোট ছেলেটি আস্তে আস্তে তার টাকা গুনল, তারপর বাবার দিকে তাকাল।
বাবা: "তোমার কাছে যদি আগের থেকে টাকা থেকেই থাকে, তাহলে তুমি কেন আমার কাছে টাকা চাইছো?
ছেলে: "কারণ আমার কাছে যথেষ্ট ছিল না, কিন্তু এখন গুনে দেখছি আমার কাছে 100 ডলারই আছে।
" আমি তোমাকে ১০০ ডলার দিতে চাই এবং তোমার এক ঘন্টা কিনে নিতে চাই। তুমি এই নাও টাকা, আর আগামীকাল এক ঘন্টা আগে বাড়ীতে এসো। ঐ ১ ঘন্টা আমি তোমার কাছ থেকে কিনলাম। ওই এক ঘন্টা তুমি শুধু আমার সাথে খেলা করবে, আর কোন কাজ নয়।

একথা শুনে বাবা ভীষণভাবে আলোড়িত হলেন। তিনি তার ছোট ছেলের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং তিনি তার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।
এটা শুধুমাত্র একটি ছোট উদাহরণ।সত্যি সত্যি আমরা সবাই গতিতে এগিয়ে চলেছি এবং নিজেদের কক্ষপথে নিজেরাই ছুটছি।আর এই ছোটার জন্যই যারা আমাদের প্রিয়জন তাদের খোঁজ খবরও রাখিনা, মনের খবরও রাখি না। আমাকে আপনাকে জীবনে এত কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে। তবে যারা আমাদের কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের হৃদয়ের কাছাকাছি তাদের সাথে কিছু সময় না কাটিয়ে সময়কে আঙুল দিয়ে পিছলে যেতে দেওয়া উচিত নয় ♡♡♡
Collected.

15/05/2023

তুমি যখন আলোকিত থাকবে
তখন সবাই তোমায় অনুসরন করবে
কিন্তু যখন তুমি থাকবে অন্ধকারে
তখন অন্য কেউ কেন ,
তোমার ছায়াও তোমাকে অনুসরন করবে না"

"মানুষের কখন বেশি কষ্ট হয় জানেন ?
যখন তার কাছের মানুষ তাকে কষ্ট দেয় ।
অচেনা মানুষের কষ্ট সহ্য করা যায় কিন্তু
ভালবাসার মানুষের দেওয়া কষ্ট সহ্য করা যায় না।

"জীবনে প্রথম একজন আমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছে ..
সে নাকি আমাকে ছেড়ে যাবে না..
আমি ছাড়া সে নাকি মূল্যহীন..
আমাকে ছাড়া সে অর্থহীন..
আর সে হল " কষ্ট "
আর এই কষ্ট এখন আমার জীবন সাথী।

"মাঝে মাঝে মানুষের জীবনে এমন কেউ
আসে যাকে সে নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসে ফেলে......
যেকোনো কারনে তাকে যখন মানুষ হারিয়ে ফেলে
তখন তার সাথে সাথে সে নিজেকেও হারিয়ে ফেলে...।।
অনেকেই চায় নিজেকে শেষ করে ফেলতে...।
অনেক রকম পাগলামি করে...।
ভালবাসার মানুষটার কাছে ভালবাসা ভিক্ষা চায়
কিন্তু কোন লাভ হয় না...।
যে যাবার সে তো যাবেই, তাকে কি ফেরানো সম্ভব?

30/08/2022

চাঁদের বিশালতা মানুষের মাঝেও আছে, চাঁদ এক জীবনে বারবার ফিরে আসে, ঠিক তেমন মানুষ প্রিয় বা অপ্রিয় যেই হোক,একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে।

23/08/2020


কোনো মেয়ে মাইন্ড করবেন না, একদম বাস্তব
কিন্তু . ..........
একটা মেয়ে প্রেমে পড়লে তার
বান্ধবীদের মন্তব্য কেমন হয়
দেখে নিনঃ
১ম বান্ধবীঃ ছেলেটা
লম্বা....
তো? ২য় বান্ধবীঃ দেখতে কেমন
রে?
৩য় বান্ধবীঃ টাকা পয়সা
আছে তো ?
৪র্থ বান্ধবীঃ বড়লোক
না হইলে বিয়ে করিস না কিন্তু
|
|
|
একটা ছেলে প্রেমে পড়লে
তার বন্ধুদের মন্তব্য টা কেমন হয়
দেখুনঃ
১ম বন্ধুঃ দোস্ত পার্টি
দিবিকবে?
২য় বন্ধুঃ দোস্ত মেয়েটাকে
কষ্ট দিসনা কিন্তু।
৩য় বন্ধুঃ দোস্ত, তোর সাথে
ভাল
মানাইছে মেয়েটাকে। ৪র্থ
বন্ধুঃ দোস্ত, মেয়েটা মনে
হয় তোকে অনেক ভালবাসে।

ঠিক_বললাম_কি ?????
নাকি মিথ্যা বললাম,,???"

30/06/2020

ওর সাথে পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়েছিলো।
বাসর রাতে ওর প্রথম প্রশ্ন ছিলো,কয়টা প্রেম করছেন?
আমি ওর মুখের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম।
আবার বলেছিলো,কয়টা প্রেম করছেন?
আমি বলেছিলাম একটাও না!
উওরটা শুনে অনেক খুশি হয়েছিলো।বলেছিলো,এখন থেকে শুধু আমাকেই
ভালোবাসবেন,অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকালে মেরে ফেলবো!
ও আমাকে কতটা ভালোবাসে বুঝছিলাম সেই দিন।যেদিন আমি ওর চাচাতো বোনের সাথে হেসে হেসে কথা কিছুক্ষন
বলছিলাম।
ও আমাকে জড়িযে ধরে সে কি কান্না!
আমাকে বলেছিলো, তোমাকে না বলেছি আর
কারো সাথে কথা বলবে
না।আমি মরে গেলে ইচ্ছেমত কথা বলো!
তখন আর নিষেধ করবো না!
ওর কাঁন্না দেখে আমি নিজেই কেঁদেছিলাম।

ও আমাকে বলেছিলো,আমি নাকি
বাবা হবো!
কথাটা শুনে যে কি খুশি
হয়েছিলাম বোঝাতে পারবো না!
ওকে কোলে করে সারা বাড়ি ঘুরেছিলাম।

ও আমাকে বলতো রান্না করার সময় ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে না থাকলে
নাকি ওর রান্না করতে ইচ্ছে করে না।
আমি ওর সব আবদার হাসি মুখে পুরন করতাম।
বড্ড ভালোবাসতাম ওকে।
এখনো বাসি।
ও আমাকে বলেছিলো,আমাকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে নাকি ওর ঘুমই আসে না!
সারারাত জড়িযে ধরে থাকতো।
তাই কোথাও রাতে থাকতাম না যত রাতই
হোক বাসায় আসতাম!

ও যখন ৬ মাসের অন্তঃসন্তা তখন আমাকে বলেছিলো,আমাকে ছাড়া তোমার কেমন লাগবে গো?
আমি ওর কথা উওর দিতে পারি নি শুধু কেঁদেছিলাম!
ও আমাকে প্রায় বলতো,আমার যদি কিছু
হয়ে যায় তুমি আবার আরেক টা বিয়ে করো না যেন!
মরে গিয়েও তোমাকে অন্য কারও হতে দিবো না!
আমাকে ভুলে যেও না।
ওর কথা শুনে কাঁদতাম।
ঘুমানোর সময় আমাকে বলতো,আমাকে ছাড়া ঘুমানোর চেষ্টা করো?
বলা তো যায় না..........
আমি ওকে আরও জড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতাম!

একদিন ওর ব্যথা উঠলো! সাথে সাথে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
ও আমাকে বলেছিলো,আমার যদি
কিছু হয়ে যায় প্লিজ আমাকে ভুলে যেও না!
বড্ড ভালোবাসি তোমাকে।
কথাটা শুনে কান্না ধরে রাখতে পারি নি!
ওকে বলেছিলাম,কিছু
হবে না তোমার আমি তো আছি।
কিছু হতে দিবো না!
ও আমাকে বলেছিলো,
শেষ বারের মত একবার
বুকে নিবে?
কথাটা বলেই হাউ মাউ
করে কেঁদে দিছিলো!
আমিও কান্না ধরে রাখতে পারি নি।ও আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছিলো না, জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো!
আমিও কাঁদছিলাম!
সবাই হা করে তাকিয়ে
ছিলো।

নিয়েছিলাম ওকে বুকে
কিন্তু এটাই যে শেষবার বুঝতে পারি নি।বুঝতে পারলে কখনোই ছেড়ে দিতাম না।ও আমাকে
বলছিলো,আমার সাথে তুমিও চলো আমার খুব ভয় করছে!
ডাক্তারকে কত বার
বলেছিলাম,আমিও ওর
পাশে থাকবো!
কিন্তু আমাকে যেতে দিলো না।

অপারেশন থিয়েটার থেকে একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনলাম।
বাচ্চাকে পেলাম,কিন্তু ওকে আর পেলাম না!

পাগলেন মত ওর কাছে
গেলাম,দেখলাম সাদা কাপড় দিয়ে ওকে ঢেকে রাখছে।
কাপড়টা সরাতেই অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম!
জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম ওকে খাটলিতে শুয়ে রাখছে।
ওর কাছে গেলাম।বলেছিলাম,এই কই যাও আমাকে ছেড়ে?
আমার রাতে ঘুম হয় না
তোমাকে ছাড়া জানো না?
তোমাকে না জড়িয়ে ঘুমালে আমার ঘুম হয় না
জানো না?
কেন চলে যাচ্ছো?
এই উঠো উঠো অনেক তো ঘুমালা আর কত ঘুমাবে?
আমার কথা মনে পড়েনি?
এই তুমি না বলেছিলে আমার চোখের জল তুমি সহ্য করতে পারো না!
এই দেখো আমি কাদছি,
এই উঠো,আরে উঠো না!
প্লিজ উঠো!
ও শুনলোই না আমার কথা ঘুমিয়ে থাকলো!

ওকে যখন নিয়ে যাচ্ছিলো আমি পাগলের মত আচরন করছিলাম।
তবুও উঠলো না!
চলে গেলো।
ও আমাকে বলতো যে দিন হারিয়ে যাবো সেই দিন বোঝবে কতটা ভালোবাসি
তোমাকে!
চলে গেলো,হারিয়ে গেলো!

১০ বছর ধরে তার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।
ছোট্ট মেয়ে বুঝতে শিখেছে।আমাকে বলে
আব্বু আম্মুর জন্য আর কেঁদো না।তোমাকে
আর কাঁদতে দিবো না!
বলে চোখের পানি মুছে দেয়।আবার চোখ জলে ভরে উঠে,আবার মুছে দেয়।
আমি চোখের পানি আটকাতে পারলাম না । আসুন সবাই এমন ভালোবাসা কে সম্মান জানাই।

Meme Akter Srity।
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦

01/04/2020

- হ্যালো
- কী করো?
- ডিম ভাজি
- আজও বুয়া আসেনি?
- নাহ
- কবে শুনব মুরগীরা আন্দোলন শুরু করেছে, ব্যাচেলরদের অত্যাচারে তারা ডিমে তা দিতে পারছে না বলে
- আমি ব্যাচেলর?
- নয়তো কী?
- তুমি আমার বউ না?
- কবে বিয়ে করলে?
- বউ বানাতে বিয়ে করতে হয় নাকি? ঠিক আছে, তুমি আমার অবিবাহিত বউ
সিঁথি হাসে। আজ আনিসের কথাবার্তা কেমন অন্যরকম লাগছে। এমনিতে সে খুব কমই কথা বলে। যা বলবে গুছিয়ে বলবে। মার্জিত ভাষায়। প্রেমিকের অধিকার নিয়ে কখনো অনধিকার চর্চা করেনি আনিস। জোকস করেও কোনোদিন একটা অশালীন শব্দ বলেনি, অন্তত সিঁথির সামনে। সেজন্য সিঁথির আরো বেশি ভালো লাগে।
- শোনো, কাল ভার্সিটিতে একটা কালচারাল প্রোগ্রাম আছে।আসবে?
- কখন?
- ৩টা নাগাদ?
আনিসের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়।
- ঐ সময়ে একটা টিউশনি আছে।
- একদিন বাদ দাও। কী হবে?
স্টুডেন্টের সামনে পরীক্ষা। তাছাড়া গত সপ্তাহে জ্বরের জন্য তোমার আদেশ মেনে পুরো তিনদিন ঘরে শুয়ে কাটিয়েছি। এমনিতেই অনেক বাদ গেছে। আর হলে...বোঝোই তো।
- তুমি একহাজার দিন বাদ দিলেও কিছু হবে না। তোমার মত টিচার কোনো গার্জেয়ান বা স্টুডেন্টই ছাড়তে চাইবে না। আর এই ছাত্রী তো তোমার মহাভক্ত
- তুমি এত জোর করছো কেন সেটা বলো। বিশেষ কিছু?
- নয়তো কী? আমার বান্ধবীদের সবার বয়ফ্রেন্ড কাল আসবে। তুমি না এলে, আমি ওখানে গিয়ে কী করব?
- আহহ, ঝামেলা হয়ে গেল থাক, নাহয় তুমিও বাদ দাও।
- তোমার সমস্যা কী, এখন বুঝতে পারছি। তুমি নিজে তো দশজনের সামনে সহজ হতে পারো না বলে কোথাও যাও না, আমাকেও যেতে দিতে চাও না। নিজে একটা অসামাজিক, এখন আমাকেও বানাতে চাইছো।
রাগ ঝরে সিঁথির কন্ঠ থেকে।
আনিস শান্ত গলায় বলল,
- এতো দিনেও যদি চিনতে না পারো, তাহলে আর কী বলার আছে। সিঁথি শোনো, তোমাকে আগেও অনেকবার বলেছি।বয়ফ্রেন্ড শব্দটা আমার খুব অপছন্দ। আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড-কথাটা ভাবলেই নিজেকে কেমন সস্তা মনে হয়। আমি তোমাকে ভালোবাসি, সিঁথি।
- কচু বাসো। খ্যাঁত কোথাকার। রাখো ফোন’
বলেই সিঁথি নিজেই ফোনটা কেটে দেয়।
বিছানা থেকে উঠে সিঁথি দেয়ালে টাঙ্গানো ক্যালেন্ডারের সামনে যায়। লাল মার্কার পেন দিয়ে আজকের তারিখে একটা দাগ দেয়। এই মাসে আজসহ মোট সাতবার ঝগড়া হয়েছে ওদের।
অদ্ভুত তো! সিঁথি নিজেই অবাক হয়। ইদানীং ঝগড়াঝাঁটি একটু বেশিই হচ্ছে। ঝগড়া বলা যায় না ঠিক, অনেকটা কথা কাটাকাটি, বাদানুবাদ। প্রায় সবদিনই সেটা হয় একপক্ষীয়। আনিসের মধ্যে অস্থিরতা, চিৎকার-চেঁচামেচির কোনো বালাই নেই। সে বরাবরই ধীরস্থির, শান্ত, চুপচাপ। যাই ঘটুক, তার সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিতে পারে। এই ব্যাপারটাই একটা সময় সিঁথিকে মুগ্ধ করেছিল কিন্তু এখন আর করে না। বরং অসহ্যবোধ হয়।
সিঁথির সাথে আনিসের পরিচয় হয়েছিল বছর তিনেক আগে। সিঁথি তখন সবেমাত্র কলেজে উঠেছে। কলেজের পাশেই পাবলিক লাইব্রেরি। সিঁথি ছোটবেলা থেকে বইয়ের পোকা। কলেজ ছুটির পর প্রায়ই লাইব্রেরিতে যেতো, লাইব্রেরি বন্ধ হওয়া অবধি থাকতো সেখানে।
নিয়মিত যেতে যেতে একদিন সিঁথি আবিষ্কার করলো, তার মতো আরো একজনও প্রতিদিন লাইব্রেরিতে আসে।
ছেলেটা এসেই প্রথমে পত্রিকা পড়ে, তারপর পেছনের রুম থেকে মোটা মোটা কয়েকটা বই নিয়ে এসে বসে পড়ে। কীসব নোটও করে।
লাইব্রেরি ছয়টায় বন্ধ হতো, বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় সাড়ে ছ’টা। একদিন লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেলে সিঁথি নিচে দাঁড়িয়ে আছে, এমন সময় ছেলেটা এগিয়ে আসে।
- এখানে দাঁড়িয়ে আছেন যে?বাসায় যাবেন না?
- দাঁড়িয়ে থাকলে আপনার কোনো সমস্যা?
- আমার সমস্যার জন্য বলছি না।সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায়, অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি আপনি দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হচ্ছিলো কোনো সমস্যা হয়েছে।
- অনেকক্ষণ ধরে আপনার আমাকে দেখার কী দরকার?নিজের চরকায় তেল দিচ্ছেন না কেন? ফুয়েল শেষ?
ছেলেটা হেসে ফেলে।
- জুতোর ফিতে ছিঁড়ে গেছে?
সিঁথি এবারে অবাক হয়,
- আপনাকে কে বলল?
ছেলেটা হাসতে হাসতে বলে,
- এক জায়গায় আপনি স্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে আছেন, একমাত্র জুতো ছিঁড়ে না গেলে মেয়েরা এতো দীর্ঘসময় এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না।
- মেয়েদের ব্যাপারে তো প্রচুর অভিজ্ঞতা দেখছি।
কথাটা শুনে ছেলেটা যেন বিব্রত হলো,
- কোথায় যাবেন?
- উফ! আপনার কী দরকার?
- রিক্সা ঠিক করে দিতাম। অন্ধকার হয়ে গেছে, জুতো হাতে একদৌড়ে গিয়ে উঠে পড়বেন।
ছেলেটার প্রতিটা কথাই তখন ভীষণ গা জ্বালানো মনে হয়েছিল সিঁথির কিন্তু কেন যেন, ফেরার পথে বারবার ঐ ছেলেটার কথাই মনে পড়ছিল।
বাসায় এসে সেদিন প্রচুর বকা খেতে হয় সিঁথিকে। মা’র সাফ কথা, কাল থেকে কলেজ বাদে সোজা বাসায় আসতে হবে কিন্তু পরদিনও সিঁথিকে লাইব্রেরিতে যেতে হয় এবং এরপর থেকে, প্রতিদিন।
গা জ্বালানো কথা বলা ছেলেটাকে কবে যে ভালো লাগলো, আর কবেই বা তার প্রেমে পড়ে গেল-সিঁথি নিজেও জানে না।শ্যামবর্ণের, প্রায় বিদঘুটে চেহারার, ফুলহাতা শার্টওয়ালা ছেলেটা অদ্ভুত সুন্দর করে হাসে। দেখলে মায়া লাগে।
সিঁথি সেই মায়ায় বেঁধে গেল, আর বেঁধে আছে তিনটি বছর ধরে।
‘আছে?’ সিঁথি নিজেকেই প্রশ্ন করে। এটা সত্যি, আনিসকে তার এখন আগের মত ভালো লাগে না।কেন?
এর পেছনে বোধহয় সিঁথির সদ্য ভার্সিটিতে উঠা ফ্রেন্ডসার্কেলের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা আছে। পরদিনের ঘটনা থেকেই ব্যাপারটা অনেকখানি বোঝা যাবে।
পুরো ভার্সিটি জুড়েই একটা উৎসবমুখর পরিবেশ।ক্যাফেটেরিয়াতে এসে সিঁথি দেখল ফ্যান্সি, নায়লা, সুতপা, সুহাসহ চারটা ছেলে গোল হয়ে এক টেবিলে বসেছে। সিঁথিকে দেখেই মেয়েরা চারজন হৈহৈ করে উঠে।
‘তোকে হেব্বি লাগছে’ প্রথমে ফ্যান্সি কথা বলে।
এতগুলো ছেলের সামনে সিঁথি ঠিক সহজ হতে পারছিল না। শুধু হাসলো, কিছু বলল না।
- একা কেন? তোর বিএফ কই? সুহা প্রশ্ন করে।
অনেকটা অস্বস্তির সাথে সিঁথি জবাব দেয়,
- ওর একটু কাজ আছে। আসতে পারবে না।
- ওহ নো। আজকের জন্য কত আগে থেকেই তো প্ল্যান করা ছিল।একটা ঘন্টার জন্যও ম্যানেজ করতে পারলো না?
কিছুটা বিরক্তির সাথেই বলল সুহা,
- আসলে বিকেলে ও একজায়গায় পড়াতে যায়।
সিঁথি বলে দেয়।
- অ্যাঁ!
সমস্বরে বলে উঠে মেয়েগুলো।
সিথির খুব লজ্জা লাগে। কথাটা বলায় কী হলো, যদিও বুঝলো না।ছেলেগুলোও কেমন হাসছে। ইস! কেন বলল কথাটা!
কিছুক্ষণ পর আবার ফ্যান্সিই বলে উঠল,
- বাই দ্য ওয়ে,পরিচয় করিয়ে দেই।আমাদের ফ্রেন্ড সিঁথি। আর ও হচ্ছে...’ফ্যান্সি তার বয়ফ্রেন্ডের নাম বলে। একে একে বাকি তিনজনও যার যার বয়ফ্রেন্ডের সাথে সিঁথির পরিচয় করিয়ে দেয়।
সময়টা ভালোই কাটে। বাসায় ফেরার পথে হুট করেই একটা কথা সিঁথির মাথায় আসে। আজকে আনিসকে নিয়ে না এসে ভালোই করেছে। বান্ধবীদের হাজারটা কটু কথা শুনতে হতো।
আর শুনতে হবে নাইবা কেন?আনিসকে ঐ ছেলেগুলোর পাশে দাঁড় করিয়ে দিলে কী বিশ্রী রকমের বেমানান লাগতো, তা সিঁথি চোখ বুজেই আন্দাজ করতে পারে। এখনকার ছেলেরা কতো স্মার্ট। জিন্স প্যান্ট, ফ্যাশনেবল গেঞ্জি টি শার্ট, চোখে সানগ্লাস।নিজেদের বাইক আছে, গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে যখন ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আর আনিস? জিন্স প্যান্ট নাকি তার পছন্দ না, কাপড় কিনে দর্জি দিয়ে বানায় সবসময়। ফুলহাতা শার্ট ব্যতীত অন্যকিছু পড়বে না। সানগ্লাস তার কাছে অন্ধের লাঠির মতো লাগে। বাইক নেই, আর জীবনে কিনবেও না। কিনবে কেন? তার রিক্সা চড়তেই বেশ লাগে। খ্যাঁত আর কাকে বলে! একদম উৎকৃষ্ট শ্রেণীর খ্যাঁত।
সিঁথির বান্ধবীরা ঠিকই বলে। প্রথম যেদিন সিঁথি আনিসের ছবি দেখালো, তারা প্রত্যেকেই চোখ কপালে তোলার ভঙ্গি করে বললো,
- এই নিগ্রোটাকে তুই কোথায় পেলি? এর সাথে তুই ডেটিংয়ে যাস? মাই গড! লোকজন তাকিয়ে থাকে না? পুরাই তো বিস্ট এন্ড বিউটি জুটি।
সিঁথির জন্মদিনে আনিস যখন একতোড়া ফুল আর একসেট বই উপহার দিল, সেদিনও সিঁথিকে বান্ধবীদের কটুক্তি শুনতে হলো।নায়লা তার ব্যাগ থেকে একটা ব্রেসলেট বের করে সিঁথিকে দেখালো,
- দেখ। এটা হোয়াইট গোল্ডের।সামির গত পরশু আমাকে গিফট করেছে। কোনো অকেশন নেই, এমনিতেই।
সিঁথি বললো,
- তোর সামিরের মত আনিসের অতো টাকা নেই। নিজের পড়াশুনার খরচ ও নিজেই দেয়।
- সামিরের টাকা কে বলল?সামিরের বাবার টাকা সব।
- আনিসের বাবারও অতো টাকা নেই।
- তাহলে তুই এই ফকির ছেলের সাথে লটকে আছিস কেন?
সুহা বলে উঠে।
বান্ধবীরা সিঁথিকে বোঝাতে চেষ্টা করে। ফ্যান্সি বলল,
- সিঁথি, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। তুই একটা মডার্ন মেয়ে। যথেষ্ট সুন্দরীও। প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ছিস। একটা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যামিলিতে তুই বড় হয়েছিস। অথচ রিলেশন করেছিস একটা বদখত বাংলা পাঁচ চেহারার ছেলের সাথে। বুঝলাম, পড়াশুনায় ভালো-ব্রিলিয়ান্ট। সো হোয়াট? এই ছেলে বড়জোর একটা ২০-২৫ হাজার টাকা বেতনের জব করতে পারবে। এই টাকা তোর এখন প্রতি সেমিস্টারের ফি। ছেলেটা একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে,তাই তার মেন্টালিটিও ওরকমই। তুই সেই সোসাইটির সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারবি নিজেকে?
সুতপাও সায় দেয়,
- দেখ, তিন বছর আগে তুই ছিলি ইমম্যাচিউরড। ইমোশনের বশে একটা ভুল করেছিস এবং গত তিন বছর ধরে সেটা বয়ে বেড়াচ্ছিস। এখন ভার্সিটিতে পড়ছিস, যথেষ্ট ম্যাচুরিটি এসেছে।তোর নিজেরই বোঝা উচিৎ, ইমোশন এন্ড রিয়েলিটি আর টোটালি ডিফরেন্ট। আর ঐ ছেলের সাথে রিলেশনটা কি তোর আব্বু-আম্মু মেনে নেবে?
কথাগুলো সিঁথিকে ভাবায়। দিন-রাত, রাত-দিন ভাবায়। সত্যিই তো, আনিসের সাথে তার সম্পর্ক বাবা-মা কখনোই মেনে নেবেন না। যদিও এটা এখন মুখ্য ব্যাপার নয়।
আর ফ্যান্সি যেটা বলেছে,তাও তো ঠিক। সিঁথির পাশে আনিসকে কেমন লাগে!
ব্যাপারটা সিঁথি লক্ষ্য করেছে, আনিসের সাথে কোথায় বেরুলে আশেপাশের লোকজন কী অদ্ভুত দৃষ্টিতেই না তাকায়।
ইস, এতোদিন কেন এটা খেয়াল করলো না!
এরপর থেকে আনিসের সাথে বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে সিঁথি।
আজকাল আগের মতো রাতভর কথাও হয় না। আনিসের ব্যস্ততা থাকে, কখনো বা সিঁথির পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন। এরকম কিছু থাকলে আনিসকে বলতে হয় না, সে নিজে থেকেই ফোন রেখে দেয়।পড়াশুনাকে সে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে।
আগে এই ব্যাপারগুলো সিঁথিকে যতোটা তৃপ্তি দিতো, এখন দেয় না। মনে হয়, এগুলো আনিসের ব্যক্তিত্ব নয় বরং দূর্বলতা।
মাস খানেক কেটে গেছে। এর মধ্যে একবারও আনিসের সাথে দেখা হয়নি সিঁথির। আনিস দেখা করতে চেয়েছে দু’একবার কিন্তু সিঁথি নানান অজুহাতে এড়িয়ে গেছে। আনিস বোধহয় এখনো কিছু বুঝতে পারেনি। আর পারলেই বা কী!
সিঁথি আনিসের কাছ থেকে সরে আসতে চাইছে। অনেক ভেবে চিন্তে সিঁথি বুঝতে পেরেছে, আনিসের সাথে যতোটা সহজে সম্পর্ক তৈরী হয়েছে, অতো সহজে জীবন কাটানো সম্ভব হবে না। প্রতিটা মেয়েই তো চায়, তার একটা সুখের সংসার হোক, সেই সংসারে ভালোবাসা থাকুক কিন্তু সুখ-ভালোবাসাই তো শেষকথা নয়। জীবনে অর্থবিত্তেরও যথেষ্ট প্রয়োজন আছে। সিঁথি স্বচ্ছল পরিবারে বড় হয়েছে, মুখ ফুটে যখন যা চেয়েছে, পেয়েছে। আনিসের কাছে এটা আশা করাও ভুল। হ্যাঁ, আনিস তাকে ভালোবাসে। আনিসের কাছে থাকলে তার জীবনটা ভালোবাসাপূর্ণ হবে কিন্তু সেখানে অভাবের দৌরাত্ম্যও থাকবে বিভীষিকার মত। এক সময় ভালোবাসা পরাজিত হবে সময়ের কাছে, প্রয়োজনের তাগিদে বাস্তবতা যখন কঠিন চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে, তখন কী করবে সিঁথি?
আবার এই তিনবছরের স্মৃতির ঝুলিটাও তো খুব হালকা নয়।জীবনের কতগুলো মধুর বিকেল কেটেছে আনিসের হাত ধরে, নির্ঘুম রাত পার হয়েছে তার গল্প শুনে। সেই স্মৃতিগুলোই বা সিঁথি কীভাবে ভুলে যাবে বেমালুম?
এমন দোটানা!
অবশ্য সেটা থেকেও মুক্তি পেল শীঘ্রই।
ভার্সিটিতে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়েছে সিঁথির। ছেলেটার নাম সেজান, ওর এক সেমিস্টার সিনিয়র। বেশ স্মার্ট। কথাবার্তার স্টাইলও চমৎকার। সিঁথি বুঝতে পারে, ছেলেটা তার ব্যাপারে আগ্রহী। ওরও খারাপ লাগে না সেজানকে।
ইদানীং ফোনে কথা হয় ওদের।সেজান নাকি গিটার বাজাতে পারে। সিঁথিকে বললো, একদিন শোনাবে।
একদিন ভার্সিটি শেষে সেজানের বাইকে করে সিঁথি ঘুরতে বের হয়।সিঁথিকে নিয়ে সেজান শপিংমলে যায়। এটা ওটা কিনে দেয়। একসাথে দুজনে লাঞ্চ করে। সেজানের ব্যাপারটা সিঁথির বান্ধবীরাও সাদরে মেনে নিয়েছে। তারা সিঁথিকে বলে,
- এতোদিনে ওর সুমতি হয়েছে।
সিঁথি আনিসের কথা প্রায় ভুলেই গেছে।
একদিন রাতে সেজানের সাথে কথা হচ্ছে, এমন সময় আনিসের ফোন আসে। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে ফোন দিয়ে যায় সে। সিঁথির অসম্ভব বিরক্ত লাগে। ননসেন্স একটা! কথা শেষে আনিসকে ফোন দেয় কিন্তু ততোক্ষণে আনিস ঘুমিয়ে পড়েছে। সিঁথির আরো মেজাজ খারাপ হয়। মেসেজ পাঠায় আনিসকে, কাল বিকেলে দেখা করার জন্য। যা বলার, সরাসরিই বলা উচিৎ।
প্রায় তিন মাস পর দেখা। আনিস কেমন যেন শুকিয়ে গেছে। মুখ ভর্তি খোঁচাখোঁচা দাড়ি। সবমিলিয়ে জুবুথুবু অবস্থা।
সিঁথির তাকাতে ইচ্ছে করে না।
ঘন্টাখানেক পর। সিঁথি চলে যাচ্ছে, পিছন ফিরে তাকালে দেখতো,আজ পৃথিবীর সবচে’ দুঃখী ছেলেটি কেমন ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে।
এরপর, ছ’মাস চলে যায়।
ভালোই ছিল সিঁথি। সেজানের সাথে চমৎকার কাটছিল সময়গুলো। সেসময় নতুন ব্যাচে প্রায় শ’খানেক স্টুডেন্ট ভর্তি হয়েছে ভার্সিটিতে।
সেদিন ছিল ফ্রেশার’স রিসিপশন। সিঁথি শাড়ী পড়ে ভার্সিটিতে গেল।সেজানের জন্য একটা সারপ্রাইজ এটা কিন্তু ভার্সিটি গিয়ে সেজানকে কোথাও দেখতে পেলো না।
হঠাৎ অডিটোরিয়ামের সামনে দেখলো, সেজান একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে। সিঁথি এগিয়ে গেল। সেজান সিঁথিকে দেখে একটুও বিচলিত না হয়ে বলল,
- সিঁথি, ও হলো নিভা। আমার কলেজ ফ্রেন্ড। এইবার ভর্তি হয়েছে। আর নিভা ও সিঁথি। আমার ফ্রেন্ড। আমরা একই ব্যাচে পড়ছি।
‘ফ্রেন্ড?’ সিঁথির মনে হলো একটা প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে কোথাও। সেজান এই মিথ্যেটা কেন বলল?
আজকাল সেজানকে পাওয়া যায় না। কেমন যেন সিঁথিকে এড়িয়ে চলে। সিঁথির সামনেই ঐ মেয়েটাকে নিয়ে হেঁটে যায়, কখনো ক্যাম্পাসে কখনো বাইরে। সিঁথি ফোন দিলে হু হা করে রেখে দেয়।
প্রচন্ড কান্না পায় সিঁথির। নিজেকে অসম্ভব অসহায় মনে হয়। একদিন ফ্যান্সিরা ওর বাসায় আসে। সিঁথি ওদেরকে সব খুলে বলে।
সুতপা বলল,
- এটা নিয়ে এত মন খারাপ করছিস কেন? সে অন্য মেয়ে নিয়ে ঘুরছে, তুইও অন্য কোনো ছেলের সাথে ঘুরে বেড়া।
নায়লা বলল,
- তোর ইমোশন আর গেলো না। এত ডিপ রিলেশনে যেতে কে বলল তোকে? ভালো লেগেছে, ঘুরেছিস, মজা করেছিস ব্যস। এটা নিয়ে ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদার কী হলো বাপ!
তখন ফ্যান্সি বলে উঠলো,
- ডিপ রিলেশন আর হবে কী।সেজান নাকি ওকে একদিন ওর ফ্ল্যাটে আসতে বলেছিল। সিঁথি না করে দিয়েছে। সেজান নিজের মুখে বলেছে আমাকে। এরকম ব্যাকডেটেড মেয়ের সাথে আর কতোদিনই বা রিলেশন টেকানো যায়?
সিঁথি হতভম্ভ হয়ে শুধু মেয়েগুলোর কথা শুনছিল। এদেরকেই কিনা সে বিশ্বাস করেছিল! এই নোংরা মেয়েগুলোকে, যারা নিজেদের ভাবে ‘আধুনিক’!
সিঁথি শান্তগলায় বলল,
- তোদেরকে একটা রিকোয়েস্ট করি। কাইন্ডলি তোরা এই মুহূর্তে আমার সামনে থেকে চলে যা। আর কক্ষণো ভুলেও আমার সাথে কথা বলতে বা যোগাযোগ করতে আসিস না।
নায়লা চেঁচিয়ে উঠে,
- মানে? তোর বাসায় এসেছি বলে এভাবে ইনসাল্ট করছিস আমাদের?
সুহা বলল,
- এসব তো তোর ভালোর জন্যই...
কিন্তু শেষ করতে পারে না।
সিঁথি চিৎকার করে উঠে,
- প্লিইজ। গেট আউট!
অনেকগুলো এলোমেলো দিন কেটে যায়। যদিও সিঁথির মনে হচ্ছিল কোনো এক নিষ্ঠুর উপায়ে তার ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিটা মুহূর্তই যেন একেকটা আলোকবর্ষ।
পুরনো দিনগুলো সিঁথির খুব মনে পড়ে।
এক বিকেলে কী মনে করে সিঁথি পাবলিক লাইব্রেরিতে যায়। কী আশ্চর্য! আনিসও এসেছে। ও বোধহয় আগের মতই প্রতিদিন আসে। আচ্ছা, আনিস কি সত্যি আগের মত আছে? ও কি এখনো সিঁথিকে ভালোবাসে?
ঐদিন সিঁথিকে দেখেই আনিস পালিয়ে যায়। এরপর প্রতিদিনই সিঁথি সেখানে যেতে শুরু করে কিন্তু আনিস আর আসেনি। ফোন নাম্বারটাও বোধহয় বদলে ফেলেছে। এতো অভিমানী ছিল ছেলেটা কিন্তু সিঁথি তো বোঝেনি।
একদিন সিঁথি আনিসের মেসে যায়। ঠিকানাটা জানা ছিল কিন্তু কখনো আসা হয়নি। আনিসের রুমমেট ছেলেটা ঘরেই ছিল। সিঁথি আনিসের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললো,সে নাকি দিন সাতেক আগেই মেস ছেড়ে চলে গেছে।
ঠিক ঐ মুহূর্তে, জীবনে প্রথমবারের মত সিঁথির মনে হয়, তার আর বেঁচে থাকার প্রয়োজন নেই। আনিস যে তাকে এভাবে আঘাত না দিয়েও মেরে ফেলবে, এতোখানি ক্ষমতা আনিসের হাতে আছে-সিঁথি স্বপ্নেও ভাবেনি।
চলে আসছিল, পেছন থেকে ছেলেটা ডাক দেয়।
- কিছু মনে করবেন না,আপনার নামটা জানতে পারি?
- সিঁথি
- আনিস ভাই একটা খাম দিয়ে গেছেন। বলেছিলেন, কেবল সিঁথি নামের কেউ যদি আগামী একমাসের মধ্যে আসে, তাকে যেন এটা দেয়া হয়। নয়তো ছিঁড়ে ফেলে দেই।
সিঁথি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
- আপনি একটু দাঁড়ান।
ছেলেটা ঘরে ঢুকে, খানিকবাদেই একটা হলদে খাম হাতে ফেরত আসে।
- নিন
সম্বোধনহীন একটা চিঠি।
“তোমাকে কী বলে সম্বোধন করে লেখা শুরু করবো, বুঝতে পারছি না। প্রিয়, প্রিয়তম বলার অধিকার তো নেইই, তোমার নাম ধরে ডাকার যোগ্যতাটাও মনে হচ্ছে হারিয়ে ফেলেছি। আদৌ এই চিঠি তুমি পাবে কিনা জানি না। আর সত্যি বলতে, এই অনিশ্চয়তাটুকু আছে বলেই আজ নির্দ্বিধায় লিখতে বসেছি।
সেদিন তুমি চলে আসার পর, পুরো পৃথিবীটাই মিথ্যে মনে হচ্ছিল। এক জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছি, ছোটবেলা থেকেই নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে জীবনের এই অবস্থানে এসেছি আমি। কিছুই তোমার অজানা নয়। সব জেনেই তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে। এখন জানি, সেই ভালোবাসা করুনা বৈ কিছু ছিল না। যাহোক, সেদিন তোমার কথাগুলো শোনার পর মনে হলো, এরচেয়ে বেশি কষ্ট স্বয়ং ঈশ্বরও আমাকে দিতে পারতেন না।
তবে, পরে ভেবে দেখলাম কথাগুলো মিথ্যে নয়।সত্যিই, তোমার পাশে আমাকে মানায় না।সত্যিই, তোমাকে কেবল ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ সুখী করে আমি রাখতে পারব না কিন্তু এই ব্যাপারগুলো তিন বছর আগে কেন ভাবলে না, বলতে পারো?
জানি, পারবে না। আমি বলে দিচ্ছি। তখন তুমি ভালোবাসাটাকেই বড় করে দেখেছো। আমাকে নিয়ে তোমার স্বপ্ন ছিল আমার মতোই। সাধ্যের মধ্যে সুখ তৈরী করার জন্য আমরা দুজনই প্রস্তুত ছিলাম। সেজন্যই আমার সাথে দিনের পর দিন ভাঙ্গাচুরা রিক্সায় করে ঘুরতে তোমার দ্বিধা হয়নি। আমার ত্রিশ টাকা দামের রজনীগন্ধা স্টিকও তোমার কাছে অনেক দামী ছিল। যাকগে, কী হবে এসব বলে।
শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে তোমার,তবুও বলি। আজ তুমি যেটাকে আঁকড়ে ধরে অন্য দশজনের সাথে তাল মিলাতে চাইছো, একটা সময় ঠিকই বুঝতে পারবে-সেটা ভুল ছিল।ভালোবাসার সংজ্ঞা একেকজনের জন্য একেকরকম। তুমি অনেক সৌভাগ্যবতী, স্বার্থহীন-শুদ্ধতম ভালোবাসা পৃথিবীর অল্প যে’কজন মানুষ পেয়েছে, তুমি তাদের একজন ছিলে।
খুব রাগ হচ্ছে ,না? তোমাকে আরেকটু রাগিয়ে দেই। শেষবারের মতো তোমার নাম ধরে ডাকতে খুব ইচ্ছে করছে।
সিঁথি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।জীবনের শেষ মুহূর্তটা পর্যন্ত বাসবো।
তুমি খুব অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছো, জানি। আমি তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি। তুমি সুখী হও।
-আনিস"

- হ্যালো
- কী করো?
- ডিম ভাজি
- আজও বুয়া আসেনি?
- নাহ
- কী কপাল তোমার! বিয়ে করেও ব্যাচেলরদের মত ডিম খেতে হচ্ছে।
- ডিম খেতে খারাপ লাগছে না। তুমি নেই বলে কষ্ট হচ্ছে।
- কাল এসে নিয়ে যাও
- সে কী! পরশুই তো কেবল গেলে
- আমারও ভালো লাগছে না এখানে
আনিস হাসে। সিঁথির ছেলেমানুষী এখনো যায়নি। কত রকম ঝামেলা শেষে ওদের বিয়ে হলো। আনিস মফঃস্বল শহরে একটা ব্যাংকে চাকরি করছে। এখানেই বাসা ভাড়া করে থাকে। সিঁথি মাঝে মধ্যে তার বাবার বাসায় যায়। আনিসের বাবা-মা এখনো গ্রামের বাড়িতেই আছেন। সিঁথি অনেকবার তাদের আনতে চেয়েছে এখানে, উনারা রাজি হননি।
সিঁথি সুখেই আছে। কসমেটিক্স সার্জারি করে সুন্দর হওয়ার মতো একটা নিখুঁত ভালোবাসা চেয়েছিল সে। আসলে ওটাই ছিল ভুল।কসমেটিক্স সার্জারিতে যে ভালোবাসা পাওয়া যায় তাহলো হাইব্রিড প্রেম। সেখানে খুঁত থাকে না, সীমাবদ্ধতা থাকে না। সত্যিকার সম্পর্কতে কিছু দোষ-ত্রুটি থাকেই। আর থাকে বলেই সেখানে মায়া থাকে, আর মায়ার জন্য সেই বন্ধনটাও হয় অটুট।
আনিসকে অনেক কষ্টে সিঁথি খুঁজে বের করেছিল। আর হারাতে চায় না।
আনিস আগের মতোই আছে। জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি, সানগ্লাসহীন।রাত জেগে বই পড়ে। চুল জবজবে করে তেল দেয় মাথায়।
সিঁথির খারাপ লাগে না। কারণ, এই আনিসকেই সে ভালোবেসেছিল। ঘষে মেজে তাকে অন্য মানুষে পরিনত করার প্রয়োজন নেই।
পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ আছে, ঠিক কিন্তু তোমার জন্য কেবল একজনই আছে। সেই একজনকে তোমার চিনে নিতে হবে না। তার ত্রুটিগুলোও নিজের মতো আপন করে নিতে হবে। একজন মানুষ সবদিকে কখনোই সমান ভালো হবে না। এটাই সহজাত এবং স্বাভাবিক।
অস্বাভাবিক হবে তখনই, যখন জোর করে সেখানে হাইব্রিডাইজেশনের চেষ্টা করবে।
সিঁথি সৌভাগ্যবতী বলেই আনিসকে আবার ফিরে পেয়েছিল কিন্তু সবাই তো এতোটা সৌভাগ্যবান নাও হতে পারে বা আনিসের মতোই কজন আছে, যারা এতোখানি আঘাত পেয়েও ভালোবাসার মানুষটির জন্য অপেক্ষায় থাকবে?
শোধরানোর উপায় নেই যে ভুলগুলোতে, সেগুলোর ব্যাপারে সাবধান থাকাই কি ভালো নয়?

গল্পের নাম: কসমেটিক্স সার্জারি এবং হাইব্রিড প্রেম
লেখক: আজমিনা এলি

27/03/2020

পাল্টে দিচ্ছে মানবসভ্যতা... কি হবে জানা নেই।তবে মানব সভ্যতায় যে পাপাচার ও নৈতিকতার পতন থামাতেই এটা একটা সংকেত।

দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে হু হু করে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা!
চীন, ইটালী বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা! পরিবেশবিদদের হতবাক করে নিউইয়র্কের আকাশে দূষণের মাত্রা কমেছে ৫০%য়েরও বেশী! স্রেফ উপগ্রহ ছবিতে নয়, ঘরবন্দী ইউরোপের মানুষ খালি চোখেও দেখতে পাচ্ছে ঝকঝকে নির্মল আকাশ! স্মরণকালের মধ্যে যা কখনো দেখেনি তারা!

দল বেঁধে ফিরে আসছে পরিযায়ী পাখির দল। সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাওয়া নিরীহ ডলফিনের ঝাঁক ফিরে আসছে মানুষের কাছে! রাশ পড়েছে বিশ্ব ঊষ্ণায়নের হারেও।

ক্ষুদ্র এক ভাইরাস গোটা দুনিয়ার ভোল পাল্টে দিচ্ছে । পাল্টে দিচ্ছে আমাদের মানসিকতা, আমাদের জীবনযাত্রা। একদিকে সীমান্ত মুছে গিয়ে গোটা পৃথিবী দাঁড়িয়েছে এক আকাশের নীচে, অজানা অচেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে একজোট হয়ে।

এরপর ঘরবন্দী হয়ে যাওয়া মানুষ প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলে হাত বাড়িয়ে দেবে প্রতিবেশীর দিকে। চারপাশের পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগে ভাববে আত্মীয়, বন্ধু, পড়শীদের কথা।

করোনা ঢেউ স্রেফ এই এক-দু’মাসের গল্প নয়। একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে বাজারে আসতে সময় নেবে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ মাস। এরমধ্যে পৃথিবীর অন্ততঃ দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আক্রান্ত হবে দফায় দফায় যতদিন ভ্যাকসিন না আসবে।

কী অদ্ভুত না? আমরা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের কথা জানি। কিন্তু এই পৃথিবীরও যে একটা ইমিউন সিস্টেম আছে, তা ভাবিনি কখনো! যেন মাত্তাতিৱিক্ত পৃথিবী আর সইতে না পেরে সেই সিস্টেমকে activate করে দিয়েছে!

বিজ্ঞানীদের মতে আগামী একবছরে করোনা-বিপর্যস্ত মানুষ, দফায় দফায় ঘরবন্দী থাকা মানুষ পৃথিবীর দূষণ কমিয়ে ফেলবে প্রায় ৪৫%! পরিবেশ ফিরে যাবে ৫০০ বছর আগে, বিশুদ্ধতার নিরিখে। মাস’ছয়েকের মধ্যে কমতে থাকবে হিমবাহের গলন, বন্ধ হয়ে যাবে বছরখানেকের মধ্যে।কমবে ক্যানসার, কিডনী, শ্বাসযন্ত্র ও অন্যান্য দূষণজনিত রোগ।

নতুন পৃথিবীতে নতুনভাবে নামবে মানুষ, ভাঙাচোরা অর্থনীতি, থমকে যাওয়া শিল্প, আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে। ধূলো-ধোঁয়া-অন্ধকার পেরিয়ে সেই নতুন পৃথিবীর সোনালী আলোর রেখা হয়ত দেখা যাচ্ছে এখন থেকেই!

26/03/2020

ছবিটি কোনো #ভ্যালেন্টাইন_ডে এর ছবি নয় ।

ছবিটি ইতালির এক বিখ্যাত হসপিটালের ছবি। এই দুইজন হলেন ইতালির প্রথম সারির বিখ্যাত দুই ডক্টর। এরা হলেন আবার স্বামী স্ত্রী।

এরা ২০ দিন ধরে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে, ১৩৪ জন #নোভেল_করোনা আক্রান্ত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু, ঘটনা হল- ঐ ২০ দিনের মধ্যেই ওরা দুই ডাক্তার দম্পতি করনার করালগ্রাসে চলে এসেছেন। মানে ওরাও করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

আর মৃত্যু নিশ্চিত জেনে গতকাল ওরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসার শেষচুম্বনটুকু করেন। আর তার ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই দুজনেরেই মৃত্যু ঘটে।

~ভালবাসা এমনই হয় 💙💚💜 ভালবেসে যদি দুঃখের সময় একে অপরের পাশেই না থাকা হয় তাহলে সেটাকে ভালবাসা বলেনা💘 💗

21/02/2020

#আমার_জন্মস্থান
#কবি_রনি_হাসান

হে আমার প্রানের জন্মভূমি জন্মস্থান
তোমার প্রতি মোর অফুরন্ত ভালোবাসা
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আর নমস্কার।
হে আমার প্রিয় মাতৃভূমি
আমার জন্মস্থান
আমার প্রাণে তোমার প্রতি
অজস্র মায়া আর বুক ভরা টান।
হে আমার শৈশবের সাথী
গায়ের বুক চিরে যাওয়া ইসামতি নদী
তোমার জলে কত সাঁতার কেটেছি
মায়ের ছেঁড়া আঁচল দিয়া
কত ছোট ছোট মাছ ধরেছি।
হে আমার হিজলতলী গ্রাম,
আমার প্রাণপ্রিয় জন্মস্থান
তোমার বুকে চির সাক্ষী হয়ে আছে
সেই মহাকালের স্মৃতি
হিজল গাছ যার নাম।
যে গাছটির ফল লইয়া
বাঁশের চুঙ্গী বানাইয়া
খেলিতাম পটকা পটকা খেলা
কত হাসি কত আনন্দে
বন্ধুদের সাথে কাটাইয়া যাইতো বেলা।

28/11/2019

#প্রেগন্যান্ট

মেয়েদের বিয়ের পরের জীবন নিয়ে কিছু কথা, দয়া করে খারাপ মন মানসিকতা নিয়ে পড়বেন না…

মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হয়ে দিনে ২০-৩০ বার বমি আর নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।

খেতে বসলে পেটে বাচ্চা লাথি মারে, খেতে পারেনা। রাতে ঘুমাতে গেলে যন্ত্রনায় ছটফট করে,ঘুম আসেনা। সারা দিন শরীরটা কেমন যেন করে।বসতে গেলে,শুইতে গেলে,হাটতে গেলে মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে।

আবার মনের ভিতর ভয়ও করে। কি হবে? পারবো তো সব সামলিয়ে উঠতে ?

এভাবে নয় মাস কেটে যায়। হঠাৎ প্রসব বেদনা উঠে। চারদিকে বিষাদের ছায়া,বাঁচবে তো মেয়েটি, আর অনাগত শিশুটি ?

মৃত্যুকে হাতে নিয়ে মেয়েটি শুয়ে পড়ে। জরায়ু ছিড়ে স্রোতের মত রক্ত ঝরে। চিৎকার করে উঠে মেয়েটি, যেন পৃথীবিটা তার অবস্থানে নেই। সে সুর্যের আলো যেন আজ ক্ষীণ দেখাচ্ছে।

প্রচন্ত আলোতেও সব কিছু কেমন যেন আবছা লাগছে। চারদিকে তাকায়। আপন মানুষগুলোকে খামছে ধরে। যেন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।

বাচ্চাটি পৃথীবির মুখ দেখে। সবাই বাচ্চাকে নিয়ে কত আনন্দ উল্লাস করে। নতুন নতুন জামা কিনে নিয়ে আসে। বাচ্চাকে নিয়ে হাজারো স্বপ্নের বীজ বপন হয়।

কে কি নামে ডাকবে তা ঠিক করতে হুলস্থুল অবস্থা শুরু হয়ে যায়। আত্মীয়় কুটুমরা বাচ্চার এ গালে, ও গালে চুমু খায়।

মেয়েটি বাচ্চার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। কে জানে সেই হাসির মাঝেও কত বেদনা লুকিয়ে আছে।

নবাগত অতিথিকে পেয়ে সবাই মেয়েটির কথা বেমালুম ভুলে যায়।

মেয়েটি সেই ময়লা বেডে শুয়ে থাকে। মুখ ফুটে তার শরীরের অবস্থার কথা বলতে পারেনা। কিছুটা ভয়ে, কিছুটা লজ্জায়।

সংসারের সব কিছুর জন্য সবার হাতে টাকা থাকে, শুধু মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কারো পকেটে টাকা থাকেনা।

ঝরে যাওয়া রক্তের পরিপূর্ণতার জন্য প্যাকেটে প্যাকেটে দুধ আসেনা। বাচ্চা গর্ভে থাকাকালীনও মেয়েটি কারো কদর পায়নি। না মায়া–দরদ, না একটু পুষ্টিকর খাবার। তবু সবার আক্ষেপ বাচ্চাটা আরেকটু মোটা হলে ভাল হতো।

কেউ বাচ্চার মায়ের কথা ভাবলো না। কি দিয়েছে বাচ্চার মাকে ??

দুধ,কলা,মাখন,কি পেয়েছে মেয়েটি ?

তিন বেলার ভাত মাছ আর সবজি ছাড়া কতটুকু পেয়েছে ?

শাড়ি খানা মলিন, মুখখানা আরো মলিন। হাতে ফোসকা ধরে গেছে। আগের মত আর মোলায়েম হাতখানা নেই বলে স্বামীর কাছেও সে অনাদৃত।

সেই লাবণ্য নেই বলে, শ্বাশুড়ী মাঝে মাঝে লোকদের কাছে বুড়ি বউ বলে সম্বোধন করে। দূর থেকে মেয়েটি শুনে। কিচ্ছু বলেনা। কাকে বলবে ??

স্বামীকে !! সে এসব কথাতে এখন কান দেয়না। এসব নাকি ন্যাকামী। দু দিন হতেই শাশুড়ী আর ননদের আক্ষেপ,বউটা এখনো রান্না ঘরে আসছেনা কেন?

মেয়েটি হাটতে পারেনা।হাটতে গেলে মনে হয় এই বুঝি পরান পাখি উড়ে গেল। লজ্জাস্থান থেকে এখনো রক্ত ঝরছে। কাতরাতে কাতরাতে মেয়েটি রান্না ঘরে আসে।

ননদ আর শাশুড়ী হুংকার দিয়ে বলে, বাচ্চা কি আমরা জম্ম দেয়নি? শুধু তুমিই মা হয়েছে ?

অসহায় চাতক পাখিটির মত মেয়েটি ভাবে পাখির ও তো একটা জায়গা আছে। এখানে ভাল না লাগলে অন্যত্র উড়ে যায়। কিন্তু, আমার!! বাবা মাকে ছেড়ে আসলাম। ভাইটিও নেই, যাকে একটু মনের কথা বলবো। স্বামী এখন এসব বুঝে না। ও নাকি কারো সাথে তর্ক করতে পারবেনা। সকালে যায় আর রাতে ফিরে।

মেয়েটি রান্না শেষ করে খাটে গিয়ে বুকে বালিশ দিয়ে টপটপ করে চোখের পানি ফেলে। ইচ্ছে করে স্বামীর কোলে শুয়ে একটু ঘুমাবে।

কিন্তু, সে তো এখন স্বামী না, বাচ্চার বাবা। তার অনেক দায়িত্ব। বাবা মাকে খুশি করতে হয়, অফিসকে খুশি করতে হয়,বন্ধু বান্ধবকে খুশি করতে হয়।

আর আমি? আমি তো স্ত্রী। আমাকে খুশি না করলেও চলবে। আমি তো আপন কেউ না।

সমাজের মানুষ বলে “পরের মেয়ে”।

ইচ্ছে করে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে। পরক্ষণেই মেয়েটি ভাবে ওরা কি ভাববে? শরীরটা ভাল নেই। খেতে ইচ্ছে করেনা।

বুকে দুধ আসেনা। বাচ্চাটার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে পাড়া প্রতিবেশি আলগা দরদ নিয়ে বলে “মাইয়াডার কারনে বাচ্চাটাও শুকিয়ে যাচ্ছে”।

হায়রে মানুষ, হায়রে সমাজ। শাশুড়ী, ননদ, অমুকের বউ বা তমুকের মেয়ে, সবাই তো নারী। অথচ, কেউ এই মেয়েটির কষ্টের কথা বুঝলো না। কেউ চিন্তাও করলো না , “মা বাঁচলেই তো বাচ্চা বাঁচে”।

মেয়েটি অভিমান নিয়ে শুয়ে থাকে। রাতে খায় না। স্বামী বাসায় এসে চেঁচিয়ে বলে “তোমার কারনে যদি আমার বাচ্চার কিছু হয়, তাহলে খবর আছে” |

এবার মেয়েটি দাঁত-মুখ খিছিয়ে বলে “হুম,কি খবর করবে ?
খবর নিয়েছো একবারও আমার ??

এটা শুনেই পাশের লোকরা বলে “কত্ত বড় বেয়াদপ মেয়ে”।

সব লাঞ্চনা-বঞ্চনার পরও মেয়েটি তার স্বামীকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারেনা। দিনের পর দিন অপেক্ষা করে, কবে তার স্বামীটি তাকে বুঝবে। কবে তাকে বুকে টেনে নিবে। দিন যায়, দিন আসে। হতভাগা মেয়েটির আর সুদিন ফেরেনা।

এভাবেই অনাদরে, অবহেলায় একটা মেয়ে তার জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়।

আমরা মাঝে মাঝে তাদেরকে মায়ের জাতি,বোনের জাতি,বউয়ের জাতি বলে সান্ত্বনা দিই। কিন্তু সান্ত্বনায় আর কাজ হয়না। চল্লিশ বছরের মেয়েটিকে দেখতে এখন পয়ষট্রি বছরের বুড়ি লাগে। তাতেও সমাজের আক্ষেপ,কেন এত বুড়ি লাগে !

ভাবুন তো, আপনাকে যদি এভাবে অবহেলা করা হতো, তবে কেমন লাগতো?

ভালবাসার মানুষগুলোকে ভালবেসে কাছে রাখা যায় না কি?

নারীদের প্রতি সহমর্মিতা আর ভালবাসার মোড়কোম্মচন হোক আপনাকে দিয়ে,আমাকে দিয়ে। তবেই সমাজ বাঁচবে। বাঁচবে মানবতা।

Want your business to be the top-listed Government Service in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Rajshahi
6200