26/09/2025
#মাওলানা_ভাসানীর_সমাজকল্যাণ_কার্যক্রম_পাঁচবিবিতে
মওলানা ভাসানীর স্ত্রী ছিলেন পাঁচবিবির জমিদার কন্যা, যিনি নিজের বেশীর ভাগ জমিই মওলানা ভাসানীকে দিয়েছিলেন সমাজকল্যাণ মূলক কাজের জন্য। ১৯৬৯ সালের শেষ দিকে সেসব জমিতে অর্থাৎ বগুড়া জেলার পাঁচবিবিতে মহীপুর গ্রামে তিনি শুরু করেন ‘হক্কুল এবাদ মিশন’। এই মিশনের মাধ্যমে তিনি সেখানে শিক্ষা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলেন। প্রায় ষাট একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হক্কুল এবাদ মিশনের অধীনে ছিল হাজী মহসীন-ইকবাল কলেজ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন একাডেমী, নজরুল সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র, শেরে বাংলা হাসপাতাল প্রভৃতি। মওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন ইসলামের মানবতার শিক্ষা এবং আধুনিক সমাজতন্ত্র ব্যবস্থায় এই মিশনের কার্য পরিচালিত হবে। মিশনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশিত প্রচারপত্রে মওলানা ভাসানী বলেন-
“দেশের আবালবৃদ্ধবনিতার মনে খাঁটি জাতীয়তাবোধ, উচ্চতর দেশপ্রেম, বিশ্বভাতৃত্ব এবং সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার প্রতি অকুণ্ঠ আত্মনিবেদনের মনোভাব সৃষ্টি এই মিশনের লক্ষ্য। আমাদের দেশবাসীকে সত্য ও ন্যায়ের পথে নৈতিক আদর্শ অনুসারে সরল জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করাই মিশনের উদ্দেশ্য।
একটি শিক্ষা এবং গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন মিশনের মুখ্য প্রকল্প, যেখানে কারিগরী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম, কলা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হইবে।
হুক্কুল এবাদ মিশন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নহে এবং মিশনের কোন রাজনৈতিক কর্মধারা নেই। ইহার কর্মসূচী একান্তভাবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যে সীমাবদ্ধ।
ধর্মীয় এবং সংস্কৃতিমূলক- (ক) ধর্ম এবং সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন- এই কেন্দ্রে প্রখ্যাত অধ্যাপকবৃন্দের পরিচালনাধীনে সংস্কৃতি সম্পর্কে গবেষণা ও উচ্চতর অধ্যায়নের সুযোগ থাকিবে। (খ) ইসলামী গবেষণাগার- এই কেন্দ্রে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করা হইবে। পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদীস, ফেকাহ ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের মাতৃভাষায় সরল অনুবাদ কার্য এই কর্মসূচীর আওতাভুক্ত। (গ) মুবাল্লিগ শিক্ষা কেন্দ্র- সমাজ সেবকদের শিক্ষাদান করাই এই শিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্য। শিক্ষাপ্রাপ্ত সমাজসেবকেরা দরিদ্র গ্রামবাসীদের মানব জীবনের মৌলিক নীতিসমূহ শিক্ষা দিবেন, তাহাদের চরিত্রকে দৃঢ়ভাবে গঠন করিতে সাহায্য করিবেন এবং সৎ ও সরল জীবন যাপনে অণুপ্রাণিত করিয়া তুলিবান।
কারিগরি শিক্ষা- কেবলমাত্র উপদেশ ও প্রচার কার্যের দ্বারা জাতীয় চরিত্র গঠন করা যায় না। দরিদ্র, নিরক্ষর গ্রামবাসীদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ দৃঢ়ভাবে গঠন করিবার নিমিত্ত মিশন নিম্নলিখিত মিশন গ্রহণ করিয়াছে। (ক) গ্রামবাসীদের জন্য একটি আদর্শ কলেজ স্থাপন। দরিদ্র অথচ মেধাবী ছাত্রগণের জন্য পল্লী গ্রামে অল্প ব্যয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই কলেজের পরিকল্পনা করা হইয়াছে। (খ) কৃষি ফার্ম স্থাপন- বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিশন সংলগ্ন এলাকায় একটি কৃষি ফার্ম স্থাপন করা হইবে। বিভিন্ন জাতীয় ফলের চারা ইতিমধ্যে প্রচুর সংখ্যায় প্রস্তাবিত উদ্যান এলাকায় লাগান হইয়াছে। (গ) পশুপালন শিক্ষাকেন্দ্র ও পশু চিকিৎসালয় স্থাপন- দরিদ্র গ্রামবাসীগণকে আধুনিক পশু পালন ও সংরক্ষণ বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া এই মিশনের এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। পশু সম্পদের উপর গ্রামীণ অর্থনীতি বিশেষ ভাবে নির্ভরশীল বিধায় মিশন এই কার্য-সুচীর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করিতেছে। (ঘ) কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র- এই কেন্দ্রে সুতার, কর্মকার, রাজমিস্ত্রির কাজ; জুতা, ছাতা, সাবান ইত্যাদি তৈয়ারী, মোটরগাড়ী চালনা ও মেরামত ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হইবে।
সাহায্যের আবেদন- শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ এবং দানবীর আপামর জনসাধারণের নিকট আবেদন জানাইতেছি যে, উক্ত মিশনে উদার হস্তে সাহায্য প্রদান করিবেন। সাহায্যের টাকা নগদ অথবা চেক হাবিব ব্যাঙ্কের তেজগাঁও ফার্মগেট ঢাকা ঠিকানায় পাঠাইবেন। আজ পর্যন্ত উক্ত মিশনের এক কপর্দকও আমি পাই নাই। যদি কোন ব্যাক্তি কোন অর্থ ব্যাঙ্কের মারফৎ অথবা মিশনের সম্পাদক অথবা সদস্যদের নিকট দিয়া থাকিলে অনুগ্রহপূর্বক এক খানা পোষ্ট কার্ডে লিখিয়া জানাইলে বাধিত হইব। [মোঃ আবদুল হামিদ খান ভাসানী; মহিপুর হক্কুল এবাদ মিশন, পোঃ পাঁচবিবি, জেলা বগুড়া।]
