29/05/2025
https://www.varendratimes.com/news/5025
রাজশাহীতে দ্রুত বিচারসেবা নিশ্চিত করতে নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু
রাজশাহীতে বিচারাধীন মামলার তথ্য পাওয়া ও বিচারে সহজতর করার জন্য একটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
29/05/2025
https://www.varendratimes.com/news/5069
বাংলাদেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ৭ জুন ঈদুল আজহা
বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামী ৭ জুন ২০২৫ (শনিবার) সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদ.....
29/05/2025
আলসতায় আটকা রাজশাহীর মানুষ
রাজশাহীকে দীর্ঘদিন ধরে "শান্তির শহর" নামে অভিহিত করা হয়। তুলনায়ামূলক অপরাধপ্রবণতা কম, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন এবং শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে ভালো—এসব কারণে শহরটি বসবাসের জন্য অনন্য। তবে এর বিপরীতে, এই শহরের একটি বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থানের সংকট, যুবসমাজের মধ্যে অলসতা এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির ঘাটতি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমনটা হচ্ছে? আমরা সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।
অলসতার মূল কারণসমূহ:
১. অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও সরকারি চাকরির মোহ
রাজশাহীতে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে থাকে। এতে তারা স্বপ্ন দেখে বিসিএস বা ব্যাংক চাকরির। এই একমুখী লক্ষ্য তরুণদের অন্য কোনো পেশা বা উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ হারাতে বাধ্য করে। ফলাফল, যারা সুযোগ পায় না, তারা হতাশায় ডুবে অলস হয়ে পড়ে।
২. সুযোগের অভাব ও ‘মাইন্ডসেট গ্যাপ’
অনেক সময় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ কাজ খুঁজে পায় না। অন্যদিকে, অনেকে নতুন কিছু করতে চায় না বা ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। পরিবার এবং সমাজ থেকে তরুণদের মাঝে ‘চাকরি ছাড়া উপায় নেই’—এই মানসিকতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তারা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা করেও পিছিয়ে পড়ে।
৩. পর্যাপ্ত শিল্প বা কলকারখানার অভাব
রাজশাহীতে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা উৎপাদনখাত তেমন গড়ে ওঠেনি। একদিকে যেমন উদ্যোক্তার অভাব, অন্যদিকে সরকারি বিনিয়োগ ও উদ্যোগও খুব সীমিত। ফলে কর্মসংস্থান কম এবং শ্রমবাজার সংকুচিত।
উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথে বাধাসমূহ:
১. পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা না থাকা
তরুণরা অনেক সময় ব্যবসার আইডিয়া পেলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তা পায় না। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ঢাকাকেন্দ্রিক; রাজশাহীতে উদ্যোক্তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক কম।
২. বিনিয়োগ ঝুঁকি ও মূলধনের অভাব
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয় না। আবার যারা দেয়, তাদের প্রক্রিয়া জটিল এবং সুদের হার তুলনামূলক বেশি। এতে তরুণ উদ্যোক্তারা সাহস পায় না।
৩. পরিবেশগত ও বাজারগত সীমাবদ্ধতা
রাজশাহী একটি সীমিত বাজার। এখানকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে কম, এবং ভোক্তাদের রুচি এখনও শহুরে প্রবণতা অর্জন করেনি। ফলে উদ্ভাবনী পণ্য বা সেবা সহজে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
সমাধান ও সুপারিশসমূহ:
✅ ১. কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও বাস্তবভিত্তিক ট্রেনিং
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা না দিয়ে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতি বিষয়ে বাস্তবমুখী কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
✅ ২. উদ্যোক্তা সহায়ক তহবিল গঠন ও সহজ ঋণ প্রাপ্তি
সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তা সহায়ক তহবিল গঠন করে তরুণদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে তারা উদ্যোগ নিতে উৎসাহ পাবে।
✅ ৩. স্থানীয় স্টার্টআপ হাব ও ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা
রাজশাহীতে স্টার্টআপ ইনকিউবেটর ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে যেখানে তরুণরা তাদের আইডিয়া নিয়ে পরামর্শ, কোচিং ও বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।
✅ ৪. বিকল্প কর্মক্ষেত্র তৈরি
আইটি খাত, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন ও হস্তশিল্প খাতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে কর্মসংস্থান বাড়ানো যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও শহরতলির তরুণদের এসব খাতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
রাজশাহী শান্তিপ্রিয় ও শিক্ষিত একটি শহর হলেও তার মানবসম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অলসতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে মানসিকতা, শিক্ষাব্যবস্থা, এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। সময় এসেছে, রাজশাহীকে শুধু "শান্তির শহর" না বলে “সম্ভাবনার শহর” হিসেবে গড়ে তোলার। তার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা—সরকার, সমাজ ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ।