It is a place where all great person have born in Bangladesh as well as in the world.
রাজশাহী মহানগরীর পরিচয়
একদা দেশে জীবিকার খোঁজে দূর থেকে ছুটে আসা মানুষেরা দেশীদের ঝাঁকে মিশে পদ্মার তীরের মহাকাল গড়ে যে বসতি গড়েছিল তা থেকেই বতর্মান রাজশাহী মহানগরীর উৎপত্তি।
আয়তন : ২৪-০৫', ২৫-১৪' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮-০১' হতে ৮৯-২৫' পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।
আয়তন : (রাসিক এলাকা) = ৯৬.৭২ বর্গ কিলোমিটার।
সীমানা : প্রমত্তা পদ্মার উত্তর ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রাজশাহী মহনগরীর চতুপার্শ বেড়া দিয়ে আছে রাজশা
হী জেলার পবা থানা। উত্তরে: মৌজা হড়গ্রাম জে এল নং ৪৩, মৌজা সড়কগ্রাম জে এল নং ১০৯, মৌজা মেহেরচন্ডি জে এল নং ১২০।
দক্ষিণে: পদ্মা নদী । পূর্বে : মৌজা বুধপাড়া জে এল নং ১২৫, মৌজা মিজার্পুর জে এল নং ১১৯, মৌজা ডাঁশমারী জে এল নং ১৯৪। পশ্চিমে : মৌজা গোয়ালপাড়া জে এল নং ৪২, মৌজা হাড়ুপুর (আংশিক) জে এল নং ২১৬।
জলবায়ু : বাংলাদেশের অবস্থান ক্রান্তীয় অঞ্চলে বলে এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।
মহানগরের গড় তাপমাত্রা = ২৩.৮৩ সে :(১৯৯১-১৯৯৬)
মহানগরের বাষির্ক বৃষ্টিপাত = ১৪৪৭.৬মি.মি.(১৯৯৬-২০০১)
বাষির্ক গড় আদ্রতা = ৭৬% (২০০১)
থানা : ৪ টি ১। বোয়ালিয়া ২। রাজপাড়া ৩। শাহ্ মখদুম ও ৪। মতিহার
ওয়ার্ড সংখ্যা : ৩০ টি
মহল্লা : ১৩৪ টি
সংক্ষেপে রাজশাহী জেলা পরিচিতি
আয়তন ২৪০৭.০১ বর্গ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা ২২,৭৪৩৪০ জন (২০০১ সালের আদমশুমারী)।
পুরুষ ১১,৮১,০০০জন, নারী ১০,৯৩,৩৪০ জন।
শিক্ষার হার: ৪৭.৪৩ (২০০১ সালের আদমশুমারী)।
জেলা থানা: ১৩টি।
উপজেলা-৯টি, থানা-৪টি (আরএমপি)।
উপজেলা: পবা, গোদাগাড়ি, তানোর, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট।
থানা (আরএমপি): বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, শাহমখদুম ও মতিহার।
জাতীয় সংসদের আসন: ৬ টি।
লক্ষীপুর, জেলা প্রশাসন,পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ অফিস রাজপাড়া থানার মহল্লায় অবস্থিত।
কারাগার ১টি।
রাজশাহীর নামকরণ
রাজশাহী নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলেই কয়েক শতাব্দী পূর্বে ফিরে যেতে হয়। এ শহরের প্রাচীন নামটি ছিল মহাকাল গড়। পরে রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়ায় রামপুর-বোয়ালিয়া থেকে রাজশাহী নামটির উদ্ভব কিভাবে হলো এর সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নাই । ব্রিটিশ আমলের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসেও রাজশাহী নামক কোন জনপদ বা স্থানের উল্লেখ নাই । অনেকে মনে করেন, এই জনপদ একদা বহু হিন্দু, মুসলিম, রাজা, সুলতান আর জমিদার শাসিত ছিল বলে নামকরণ হয়েছে রাজশাহী। ঐতিহাসিক ব্লকম্যানের (Bolch Mann) মতে, খ্রিষ্টীয় ১৫শ শতকে গৌড়ের মুসলিম সালতানাত এই জেলার ভাতুড়িয়ার জমিদার রাজা গণেশ কতৃর্ক আত্মসাতের সময় থেকে রাজশাহী নামের উদ্ভব হয়েছে। তিনি দাবী করেন, গৌড়ের সুলতান মাহমুদ শাহ বারবাক শাহ প্রভৃতির নামানুসারে যেমন রাজশাহীর আশে পাশে মাহমুদ শাহী, বারবাকশাহী পরগনার উদ্ভর হয়েছে। একইভাবে মুসলিম মসনদে আরোহণকারী হিন্দু রাজা শাহ বলে পরিগণিত হওয়াই এই এলাকার নামকরণ হয়েছে রাজশাহী। হিন্দু রাজ আর ফারসী শাহী এই শব্দ দুটির সমন্বয়ে উদ্ভব হয়েছে মিশ্রজাত শব্দটির। কিন্তু ব্লকম্যানের অভিমত গ্রহণে আপত্তি করে বেভারিজ (Beveridge) বলেন, নাম হিসেবে রাজশাহী অপেক্ষা অর্বাচীন এবং এর অবস্থান ছিল রাজা গণেষের জমিদারী ভাতুড়িয়া পরগনা থেকে অনেক দূরে। রাজা গণেশের সময় এই নামটির উদ্ভব হলে তার উল্লেখ টোডরমল প্রণীত খাজনা আদায়ের তালিকায় অথবা আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী নামক গ্রন্থে অবশ্যই পাওয়া যেত। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের মতে, নাটোরের রাজা রামজীবনের জমিদারী রাজশাহী নামে পরিচিত ছিল এবং সেই নামই ইংরেজরা গ্রহণ করেন এই জেলার জন্য। এনেকে এসব ব্যাখাকে যথার্থ ইতিহাস মনে করেননা। তবে ঐতিহাসিক সত্য যে, বাংলার নবাবী আমল ১৭০০ হতে ১৭২৫ সালে নবাব মুশির্দকুলী খান সমগ্র বাংলাদেশকে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য ১৩ (তের)টি চাকলায় বিভক্ত করেন। যার মধ্যে ‘চাকলা রাজশাহী' নামে একটি বৃহৎ বিস্তৃতি এলাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রবাহিত পদ্মা বিধৌত ‘রাজশাহী চাকলা' কে তিনি উত্তরে বতর্মান রাজশাহী ও দক্ষিণে মুর্শিদাবাদের সঙ্গে অপর অংশ রাজশাহী নিজ চাকলা নামে অভিহিত করেন। প্রথমে সমগ্র চাকলার রাজস্ব আদায় করতেন হিন্দু রাজ-জমিদার উদয় নারায়ণ। তিনি ছিলেন মুশিদ কুলির একান্ত প্রীতিভাজন ব্যক্তি। যে জন্য নবাব তাকে রাজা উপাধী প্রদান করেন। দক্ষিণ চাকলা রাজশাহী নামে বিস্তৃত এলাকা যা সমগ্র রাজশাহী ও পাবনার অংশ নিয়ে অবস্থিত ছিল, তা ১৭১৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলী খান নাটোরের রামজীবনের নিকট বন্দোবস্ত প্রদান করেন। এই জমিদারী পরে নাটোরের রাণী ভবানীর শাসনে আসে ও বহু অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃতি লাভ করে। রামজীবন প্রথম নাটোর রাজ ১৭৩০ সালে মারা গেলে তার দত্তক পুত্র রামকান্ত রাজা হন। ১৭৫১ সালে রামকান্তের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী ভবানী দেবী রাণী ভবানী নামে উত্তরাধীকারী লাভ করেন। অনেকের মতে, প্রথম রাজা উদয় নারায়ণের উপর প্রীতি বশত এই চাকলার নাম রাজশাহী করেন নবাব মুশিদকুলী খান। কিন্তু ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতে, রাণী ভবানীর দেয়া নাম রাজশাহী । অবশ্য মিঃ গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রাজশাহী বলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। নবাবী আমল থেকেই বৃহত্তর রাজশাহীর প্রশাসনিক কাযর্ক্রম পরিচালনা হতো নাটোর থেকে । নাটোর রাজ বৃহত্তর রাজশাহীর প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করতেন। বৃটিশ শাসনের পত্তন হলেও সে সূত্র ধরে নাটোরই প্রশাসনিক সদর ছিল। তখন রাজশাহী মহানগর তৎকালীন বোয়ালিয়া ছিল বিখ্যাত বাণিজ্য বন্দর। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নাটোর ক্রমশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে । নারদ নদীর মুখ বালি দ্বারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বন্যার দূষিত পানি নাটোর শহরে আটকে পড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয় । শহরাসি বিভিন্ন পীড়ায় আক্রান্ত হতে আরম্ভ করে। এই দুরবস্থায় কতৃর্পক্ষ জেলা সদরদপ্তর রাজশাহীর শ্রীরামপুরে স্থানান্তরিত করে ১৮২৫ সালে। ফলে শ্রীরামপুর শহরে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু ১৮৫০ সালে প্রবল বন্যা হয় এবং শ্রীরামপুর নদী গভে ভেঙ্গে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী বুলনপুরে সরকারী প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তরিত করা হয় ও এখনও সেখানে বিদ্যমান।
ভাষা আন্দোলন
ভাষা আন্দোলন বিশ্বের এক নজীর বিহীন ঘটনা। যার অন্তরনিহিতে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি। রক্তক্ষরণে বিশ্বের এই অদ্বিতীয় ঘটনাটি বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ জুড়ে শুধু মাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে ছিল। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান সাংস্কৃতিক সংঘ (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর মহান একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার পর বিশ্ববাসীর ইতিহাসে রূপান্তরিত হয়েছে। এই আন্দোলনের প্রাণ বিসর্জন শুধুমাত্র ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও মরণপণ আন্দোলন হয়েছিল দেশব্যাপী। তার মধ্যে রাজশাহী ছিল আন্দোলনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র। আন্দোলরে সূচনা থেকেই রাজশাহীর বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, ছাত্র ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। এর কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ( তৎকালে মেডিক্যাল স্কুল), ভুবন মোহন পার্ক ইতিহাস হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক সাইদ উদ্দিন আহমদ ‘আন্দোলন ও নির্যাতনের দশক পঞ্চাশের দশক' প্রবন্ধে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে জানা যায়, ভাষা আন্দোলনের প্রথম রক্ত ঝরে রাজশাহীতে এবং প্রথম শহীদ মিনারটিও এখানেই তৈরী হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ দেশব্যাপী ভাষা দিবস পালন উপলক্ষে রাজশাহী কলেজের ছাত্ররা যে মিছিল বের করে তার ওপর কিছু লোক লাঠি-সোটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে নগরীর ফায়ার ব্রিগেডের মোড়ে (তৎকালীন তফজুল মিয়ার মোড়) আহত হন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা আব্দুল লতিফ, ব্রতীশ ঘোষ, ফজলুর রহমান প্রমুখ। আর প্রথম শহীদ মিনারটি তৈরী হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে রাজশাহী কলেজ নিউ হোষ্টেল প্রাঙ্গনে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কয়েকদিন পর ১৯৪৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গণতান্ত্রিক যুবলীগ ও ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করার দাবি জানান। ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। রাজশাহীতেও এর শাখা গড়ে উঠিছিল। ১৯৪৭ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবানেই ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেয়া হয়। হরতালেই ভাষা আন্দোলনের প্রথম রক্তক্ষরণ ঘটে রাজশহীতে। সে কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে । এই হরতালে বেশ কিছু অধ্যাপক ছাত্রদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। প্রখ্যাত ধ্বনি বিজ্ঞানী মুহম্মদ আব্দুল হাই, প্রখ্যাত পন্ডিত ও গবেষক ডঃ মুহম্মদ এনামুল হক, প্রখ্যাত পন্ডিত ও গবেষক ডঃ গোলাম মকসুদ হিলালী রাজশাহী কলেজে অধ্যাপনার ফলে এখানকার ভাষা সৈনিকদের তাদের নিকট থেকে সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
১৯৪৮ সালে এখানকার ভাষা আন্দোলন রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীক ছিল। রাজশাহী কলেজের সংগ্রামী ছাত্ররা আন্দোলনের গতিধারা চিহিত করতেন এবং সঠিক নেতৃত্বের দ্বারা ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হন। রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে আতাউর রহমান, মুহম্মদ একরামুল হক ১৯৪৮ সালের শেষের দিকে এবং পরবর্তীতে কাশেম চৌধুরীও গ্রেফতার হন। হাবিবুর রহমান শেলী ও মুহম্মদ সুলতান পড়া-শুনার জন্য ১৯৪৯ সালে ঢাকায় চলে আসেন। এর ফলে নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হলে ও এস. এ. বারী, গোলাম আরিফ টিপু, আহমদুল্লাহ চৌধুরী, মোহম্মদ আনসার আলী, মহসীন প্রমাণিক, আবুল কালম চৌধুরী, এস. এম. এ. গাফ্ফার, হাবিবুর রহমান প্রমুখের বলিষ্ঠ ভূমিকায় এ শূন্যতার সমস্যা প্রবল না হয়ে ভাষা আন্দোলনের গতি আরো তীব্র হয়ে ওঠে।
রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালে গঠিত ‘দিশারী সাহিত্য মজলিশ' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংগঠনটি দিশারী নামের একটি পত্রিকাও প্রকাশ করত। রাজশাহী কলেজে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কিছু ছাত্র আরবিকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানায়। তারা ১৯৫০ সালের ১৮ জানুয়ারী কলেজের কমনরুমে সভাও করে। এই সভায় আরবিকে রাষ্ট্রভাষার জন্য আইনসম্মত আন্দোলন চালানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই আশ্চযর্জনক ও নিন্দনীয় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সফল ভূমিকা পালন করেছিল দিশারী সাহিত্য মজলিশ। দিশারী পত্রিকাও ভাষা আন্দোলনে তরুণদের উৎসাহিত করেছিল। রাজশাহী জেলা তমদ্দুন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ আনসার আলী।
রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের গতি ক্রমশ বেগবান হওয়ায় ১৯৪৮ সালে যেসব নেতৃবৃন্দ বিরোধী ছিলেন, চরম পর্যায়ে তারাও বাংলা ভাষার দাবীতে সোচ্চার হয়েছিলেন। তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মহানগরীর ভুবন মোহন পার্কে বিরাট জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভার সভাপতি মোহাম্মদ আনসার আলীর মতে এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের দাবিতে প্রথম জনসভা। এই জনসভায় তৎকালীন স্থানীয় বিশিষ্ট জননেতা ক্যাপ্টেন শামছুল হক, মোসাদ্দারুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এই জনসভায় কিছু প্রস্তাব গ্রহীত হয়। যেমন- বাংলাকে পূর্ব বঙ্গের রাষ্ট্রভাষা করা, আরবি হরফের প্রচলন বন্ধ করা, রাজশাহীতে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা এবং বতমান বাজেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলটি সবপ্রথম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলির ওপর সাম্রাজ্যবাদের আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ, কেন্দীয় অর্থ সাহায্য হতে ডিজি স্কুলের স্ম্প্রসারণ। এই জনসভার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং রাজশাহীর জনগণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। জনসভার জন্য প্রচারিত লিফলেট মুদ্রিত হয়েছিল রাজশাহীর তমোঘ্ন প্রেস থেকে।
এরপর রাজশাহীতে সবর্দলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। মাদার বখ্শ (এম এল এ), ক্যাপেটন শামছুল হক, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান (রাজশাহীর প্রাক্তন পৌর চেয়ারম্যান), হবিবুর রহমান, নূরুল ইসলাম (লালমিয়া ব্যবসায়ী), বামপন্থীনেতা আতাউর রহামন, এ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, ডাঃ মেসবাহুল হক বাচ্চু্, সাইদ উদ্দিন আহম্মদ (ব্যবসায়ী), এ্যাডভোকেট মহসিন প্রামাণিক, ইয়াসীন আলী, ডাঃ আব্দুল গাফ্ফার, বাবু প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী (প্রাক্তন মন্ত্রী), বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলী প্রমুখ এই পরিষদের সদস্য ছিলেন।
আপনি কি কম বাজেট এর মধ্যে শহরের সকল সুবিধাযুক্ত সুন্দর মনোরম পরিবেশে কোনো ফ্ল্যাট কিনতে চান? তাহলে চলে আসুন আমাদের প্রজেক্টে।
সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা আমাদের কাছে।
এক নজরে আমাদের প্রজেক্ট:
প্রত্যেক ফ্ল্যাটের সাথে যা থাকবে:
বেড রুম : ২/৩ টি
ড্রয়িং রুম : ০১ টি
ডাইনিং রুম : ০১ টি
কিচেন রুম : ০১ টি
টয়লেট : ২/৩ টি
বারান্দা : ১/২/৩ টি
সকলের জন্য সাধারণ সুবিধা সমূহ:
কমিউনিটি হল,
ছাদে বসার জায়গা,
কাপড় শুকানোর প্রভিশন,
বাগান
অন্যান্য সুবিধা সমূহ:
কার পার্কিং
রিসেপশন
আধুনিক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লিফট
ইন্টারকম সিস্টেম ও মেইল বক্স
সাব মারসিবল পানির পাম্প (গাজী) এবং
ওয়াটার রিজার্ভ ও ওভারহেড পানির ট্যাংক।
সিঁড়ি এবং কমন এরিয়াতে লাইটিং
অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঠিকানা:
গাজীপুর সদর
Hakkani road
উত্তর ছায়াবিথী
আরো বিস্তারিত জানতে
আজই যোগাযোগ করুন।
মোবাইল +880 1999 803329
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে হ্যাট্রিক জয়ে জননেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে অভিনন্দন
25/05/2023
আম কিনতে গেলে প্রথমেই খেয়াল করুন আমের গায়ে কষ লেগে আছে কিনা!
গরমের এই সময়ে বাজারে আম উঠতে শুরু করে। বাজারে বিভিন্ন রকম আম পাওয়া যায়। নানা জাতের আমের ভিড়ে ভালো আম নির্বাচন করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়। আমরা যারা ক্রেতা আছি তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোন আমটা ভালো আর কোনটা খারাপ সেটা বুঝতে পারিনা। আর সেই সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা আমাদের প্রতারিত করেন। তাই আজ আপনাদের ফলের রাজা আমকে ভালোভাবে চেনার উপায় জানাবো--
আম ভালো কিনা,সতেজ কিনা সেটা বোঝার প্রথম উপায় হচ্ছে ঘ্রান। আম সতেজ আছে কিনা তা বুঝার জন্য ঘ্রাণশক্তির উপর ভরসা রাখতে হবে। একেক আমের একেক রকম ঘ্রান। সেই ঘ্রান চেখে আম চিনতে হবে। আমের বোটার নিকট থেকে মিষ্টি গন্ধ বের হলে তখনই সেই আম কিনুন। তবে টক গন্ধ বা অন্য কোনো করা গন্ধ বের হলে তা কিনবেন না।
আমের গায়ে আঙুল দিয়ে টিপে দেখুন। যদি আঙুলের টিপে আমে গর্ত হয় তবে সেই আম কিনবেন না। ভালো আম আলতো করে চাপ দিলে নরম অনুভব হবে কিন্তু আঙুলের চাপে গর্ত হয়ে যাবেনা। তবে বাসায় রেখে খেতে চাইলে একটু শক্ত আম কিনতে পারেন।
আম কেনার ক্ষেত্রে নিটোল ও দাগহীন আম কিনবেন। খোসা কুঁচকে গিয়ে থাকলে সেই আম কিনবেন না। সব সময় রং বিশেষকে গুরুত্ব দিবেন না। লাল, সোনালি হলুদ, সবুজ, কমলা যেকোনো রঙের আম দেখতে সুন্দর হলে কিনতে পারেন।
অনেক সময় গাছ থেকে আম ছিঁড়তে গেলে আমের গায় কষ লেগে যায়, এই আম অনেক ভালো হয়। কেননা, এ ধরনের আম গাছ পাকা হয়ে থাকে।
বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারনার হাত থেকে বাঁচতে এই বিষয় গুলো জানা খুবই জরুরি। https://www.facebook.com/advancewebs.net
ফ্রিল্যান্সিং একটা স্বপ্ন। যারা এটাকে লালন করেন। তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। তবে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে আসার আগেই অবশ্যই যার কাছে শিখবেন অবশ্যই তার সম্পর্কের আগে আপনাকে জানতে হবে। লক্ষ টাকা মাসে ইনকাম করতে পারবেন, এটা শুনেই হুট করে টাকা দিয়ে দেন। আর স্বপ্ন দেখেন আগামী মাস থেকেই আমার লক্ষ্য টাকা ইনকাম হবে। তাহলেতো প্রতারিত হতেই হবে। ফ্রিল্যান্সিং আসলে এত সহজ না। এক মাসে কাজ শিখে পরের মাস থেকে ইনকাম, এটা কখনই ফ্রীলান্সিং আপনাকে বলবে না এবং এটা সম্ভব না। প্রতিটা সফল ব্যক্তির পিছনে অনেক ধৈর্য এবং রহস্য লুকিয়ে থাকে।
সবাইকে অনুরোধ করব। এরকম ভুল আর কেউ করিয়েন না।
ধন্যবাদ সবাইকে। https://www.facebook.com/advancesitpark
Advance IT Park
It services Freelancer training, Digital Marketing, Programming, IT security, Business support etc.
#জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা -২০১৯ প্রেক্ষিতে
মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত ১০ টি নির্দেশনাঃ-
১। পরীক্ষার্থীদের ৭ টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে । ইংরেজি ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।
২। শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংস্কৃত, পালি বিষয়সমূহ এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
৩। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই হলে প্রবেশ করতে হবে। তবে অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীকে এ সময়ের পরে হলে প্রবেশ করতে দিলে তার বা তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, দেরি হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ঐদিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে।
৪। শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়েছে । দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তাদের জন্য শ্রুতি লেখকের সুযোগ রাখা হয়েছে।
৫। প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেলিপলসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক/ অভিভাবক/ সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
৬। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীই এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, কোনো নির্বাচনী কিংবা প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে কোনো বৃত্তি পরীক্ষাও দিতে হবে না ।
৭। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীদের মোবাইল, মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতিবিহীন যে কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে ।
৮। পরীক্ষা চলাকালে এবং এর আগে-পরে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যতীত অন্যদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশকারী অননুমোদিত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৯। আসন্ন জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
১০। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফাঁসের গুজবমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষে কোনো প্রতারক যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া বা মিথ্যা প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রতারণা কিংবা গুজব সৃষ্টি করতে না পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
#বিশেষ অনুরোধ
#বহিরাগত কেউ (পরীক্ষা গ্রহণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়) পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেনা।
#কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি/ব্যক্তি বর্গ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেননা।
#অভিভাবক গণ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেননা।
#সাংবাদিকবৃন্দ (কার্ডধারী)সংবাদ সংগ্রহের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবের অনুমতি সাপেক্ষে পরীক্ষা কক্ষের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন শেষে দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করবেন। কোনভাবেই পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করা যাবেনা।
#আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত কোন ফোর্সের সদস্য পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেননা। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দায়িত্বপালন করবেন।
#পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী থাকবে।
সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষে উল্লিখিত বিষয় গুলো সকলকে মেনে চলার অনুরোধ করা হল।