03/06/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৩ জুন ২০২৬
রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাঙ্গামাটিতে পিসিপি'র স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
আজ ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার), রাঙ্গামাটিতে শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত চাকমার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি জ্ঞান চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা ও পিসিপি, রাঙ্গামাটি শহর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সুরেন চাকমা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার সদস্য অভিক চাকমা।
স্মরণসভার শুরুতে শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সজল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামকে দূর্বল এবং ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে দূর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে শাসকগোষ্ঠী জুম্মদের একটি অংশকে নিয়ে ইউপিডিএফ নামক একটি চুক্তি বিরোধী সংগঠন সৃষ্টি করে। জন্মলগ্ন থেকে এই সংগঠন খুন, অপহরণ, অপহরণের পর হত্যা, অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান রেখেছে। জুম্ম জনগণের কান্ডারী লড়াকু সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে যারা যেবস ছাত্র-যুব বন্ধু লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে, চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে তাদেরকেও বিভিন্নভাবে হত্যা, গুম, অপহরণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে ইউপিডিএফ। এখনো অনেক ছাত্র নেতার খোঁজ মেলেনি, এখনো অনেক সহযোদ্ধা ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে রয়েছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল প্রকার অস্থায়ী সেনাক্যাম্পগুলো প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে নানিয়ারচরে দুই বিদেশিকে অপরহরণের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনের বৈধতার নজির দেখায়। যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে "অপারেশন উত্তরণ" নামে সেনাশাসন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার মতো অনেক বীর যোদ্ধা আমাদের জাতীয় মুক্তির আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এসব শহীদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিব না। জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রাম জারি রাখবো এবং তাঁদের বলিদানকে সার্থক করে তুলবো। জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে যারাই বাঁধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে প্রতিহত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
সুরেন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করেই ইউপিডিএফ নামক সংগঠনটির জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি নানা ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা জুম্মদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে জুম্মদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুইজন নেত্রীকে অপহরণের মাধ্যমে তাদের মুখোশ জনগণের সামনে আরেকবার উন্মোচিত হয়। জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরেও তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য তারা ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।তাদের কার্যকলাপ রুখে দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করার গুরু দায়িত্ব এই ছাত্র সমাজকেই নিতে হবে। জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যতজন শহীদ হয়েছেন তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
সভাপতি বক্তব্যে জ্ঞান চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো জুম্ম জনগণের মাঝে বিভেদ জারি রেখেছে। তাদের হাতে আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার মতো মতো বহু ছাত্রনেতাকে বলি হতে হয়েছে। আজ অবদি তারা তাদের নানাবিধ ষড়যন্ত্র জারি রেখেছে। ইউপিডিএফের অপকর্ম ও নোংরা রাজনীতির কারণে জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তির আন্দোলন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শহীদদের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জুম্ম ছাত্র সমাজকে একতাবদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে নিতে হবে। শেষে তিনি জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে ছাত্র ও যুব সমাজকে আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য যে, আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার সদরে বাজার এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার সদস্য ছিলেন।
বার্তা প্রেরক
দিগন্ত তঞ্চঙ্গ্যা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখা

03/06/2026
03/06/2026
01/06/2026
31/05/2026
31/05/2026
26/05/2026
25/05/2026
25/05/2026