Voice Of PCP - কেওক্রডং

Voice Of PCP - কেওক্রডং

Share

Official representative of Chittagong Hill Tracts Hill Students’ Council (P*P) On 20 May 1989 at 2002 no.

The Chittagong Hill Tracts Hill Students' Council in shortly P*P is only progressive and representative political student organization of the fourteen multilingual indigenous Jumma students of Chittagong Hill Tracts (CHT), south-eastern part of Bangladesh, studying different educational institutions throughout the country. It was formed on 20 May 1989 based on the fundamental principles of E

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 03/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৩ জুন ২০২৬
রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম

শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাঙ্গামাটিতে পিসিপি'র স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

আজ ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার), রাঙ্গামাটিতে শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত চাকমার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি জ্ঞান চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা ও পিসিপি, রাঙ্গামাটি শহর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সুরেন চাকমা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার সদস্য অভিক চাকমা।

স্মরণসভার শুরুতে শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সজল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামকে দূর্বল এবং ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে দূর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যে শাসকগোষ্ঠী জুম্মদের একটি অংশকে নিয়ে ইউপিডিএফ নামক একটি চুক্তি বিরোধী সংগঠন সৃষ্টি করে। জন্মলগ্ন থেকে এই সংগঠন খুন, অপহরণ, অপহরণের পর হত্যা, অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান রেখেছে। জুম্ম জনগণের কান্ডারী লড়াকু সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে যারা যেবস ছাত্র-যুব বন্ধু লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে, চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে তাদেরকেও বিভিন্নভাবে হত্যা, গুম, অপহরণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে ইউপিডিএফ। এখনো অনেক ছাত্র নেতার খোঁজ মেলেনি, এখনো অনেক সহযোদ্ধা ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল প্রকার অস্থায়ী সেনাক্যাম্পগুলো প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে নানিয়ারচরে দুই বিদেশিকে অপরহরণের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনের বৈধতার নজির দেখায়। যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে "অপারেশন উত্তরণ" নামে সেনাশাসন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার মতো অনেক বীর যোদ্ধা আমাদের জাতীয় মুক্তির আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এসব শহীদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিব না। জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রাম জারি রাখবো এবং তাঁদের বলিদানকে সার্থক করে তুলবো। জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে যারাই বাঁধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে প্রতিহত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সুরেন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করেই ইউপিডিএফ নামক সংগঠনটির জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি নানা ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা জুম্মদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে জুম্মদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুইজন নেত্রীকে অপহরণের মাধ্যমে তাদের মুখোশ জনগণের সামনে আরেকবার উন্মোচিত হয়। জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরেও তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য তারা ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।তাদের কার্যকলাপ রুখে দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করার গুরু দায়িত্ব এই ছাত্র সমাজকেই নিতে হবে। জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যতজন শহীদ হয়েছেন তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

সভাপতি বক্তব্যে জ্ঞান চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো জুম্ম জনগণের মাঝে বিভেদ জারি রেখেছে। তাদের হাতে আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার মতো মতো বহু ছাত্রনেতাকে বলি হতে হয়েছে। আজ অবদি তারা তাদের নানাবিধ ষড়যন্ত্র জারি রেখেছে। ইউপিডিএফের অপকর্ম ও নোংরা রাজনীতির কারণে জুম্ম জনগণের জাতীয় মুক্তির আন্দোলন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শহীদদের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জুম্ম ছাত্র সমাজকে একতাবদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে নিতে হবে। শেষে তিনি জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে ছাত্র ও যুব সমাজকে আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য যে, আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার সদরে বাজার এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার সদস্য ছিলেন।

বার্তা প্রেরক

দিগন্ত তঞ্চঙ্গ্যা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখা

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 03/06/2026

শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পিসিপি’র উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

আজ ৩ জুন ২০২৬, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রোয়াংছড়ি থানা শাখার সাবেক সদস্য শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদে উদ্যোগে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রোয়াংছড়ি, বরকল, লংগদু, কাউখালি, বিলাইছড়ি ও কাপ্তাইয়ে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার সদরে বাজার এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার সদস্য ছিলেন। আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

03/06/2026

শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী অমর হোক

আজ ৩ জুন ২০২৬ সাবেক ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের আজকের এইদিনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার সদরে বাজার এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার সদস্য ছিলেন। আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ শহীদ ছাত্রনেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যার আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে।

২০১০ সালের ৩ জুন সকাল ৮:১৫ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলা সদরে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর ২০/২৫ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ৪/৫ ভাগে বিভক্ত হয়ে একযোগে বাজারে অবস্থিত জেএসএস, যুব সমিতি ও পিসিপির অফিস, কর্মীদের আবাসস্থল, সরকারি রেস্ট হাউজে ৩৫ মিনিট ব্যাপী গুলিবর্ষণ করে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় পিছন দিক হতে পিঠে গুলি লেগে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত পিসিপি নেতা আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা (২২), পীং- গণেশ তঞ্চঙ্গ্যা, সাং- ওয়াগই পাড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলা ঘটনাস্থলে নিহত হন। ঐ সময় তিনি বাজারের দোকানে নাস্তা করতে বের হয়েছিলেন। একই সময়ে কর্মীদের আবাসস্থলে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তখন সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করলে রান্নায় কাজে ব্যস্ত জেএসএস সদস্য পলাশ চাকমা (৩২), পীং-সুমন চাকমা, সাং- হেডম্যান পাড়া, জীবতলী, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন।

প্রসিত খীসার লেলিয়ে দেয়া ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় নেতৃত্ব দেয় কালাইয়া চাকমা চন্দন ওরফে ডায়মন্ড সাং-বন্দুকভাঙা ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা, জীবন তঞ্চঙ্গ্যা সাং- বালাঘাটা, বান্দরবান সদর উপজেলা, সুনীল তঞ্চঙ্গ্যা সাং- খাগড়াছড়ি পাড়া, রাজস্থলী, রতন তঞ্চঙ্গ্যা সাং- ম্যাগাইন পাড়া, রাজস্থলী, চিনু মারমা সাং- কাউখালী, ধর্মজয় তঞ্চঙ্গ্যা সাং- ম্যাগাইন পাড়া, রাজস্থলী এবং রূপময় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজস্থলী প্রমুখ।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনার আগের দিন ২ জুন ২০১০ রাত আনুমানিক ৮/৯ ঘটিকার সময় সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা রাজস্থলীতে সাংগঠনিক কাজে সফররত জেএসএস ও পিসিপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ও অফিসে গিয়ে ব্যাপক তল্লাশী চালায়। জেএসএস ও পিসিপি সদস্যদের কাছ থেকে আপত্তিকর কোন কিছু না পাওয়া তারা চলে যায়। এখন প্রশ্ন হল- রাতে সেনা ও পুলিশের তল্লাসী ও পরদিন ভোর হওয়ার পরপরই জেএসএস ও পিসিপির নিরস্ত্র সদস্যদের উপর ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলিবর্ষণ- এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। উল্লেখ্য যে, এই হামলাস্থলের অত্যন্ত নিকটে রাজস্থলী থানা পুলিশের অবস্থান এবং মাত্র কয়েকগজ দূরত্বে রয়েছে সেনাক্যাম্প। অথচ সেনাবাহিনী বা পুলিশ কোন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করেনি।

উল্লেখ্য শাসকগোষ্ঠীর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ জন্মলগ্ন থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতি ও এর সহযোগী সংগঠন এবং চুক্তি সমর্থকদের খুন, গুম,মারধর, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা ধরণের অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে। ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে একশ জনের অধিক জনসংহতি সমিতির প্রত্যাগত সদস্যসহ অগণিত চুক্তি সমর্থক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও সেসব সন্ত্রাসীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 01/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১ জুন ২০২৬ খ্রি:
রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম

ভূষণছড়া গণহত্যা দিবসে রাঙ্গামাটিতে পিসিপি'র স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত

গতকাল ৩১ মে ২০২৬ খ্রিঃ(রবিবার) পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙ্গামাটি শহর শাখার উদ্যোগে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে সংঘটিত ভূষণছড়া গণহত্যার স্মর‍ণে স্মরণ সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেং ইয়ং ম্রো, বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চাকমা, পিসিপি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিগন্ত তঞ্চগ্যা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সদস্য লক্ষীদেবী চাকমা প্রমুখ।

স্মরণ সভার শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের আন্দোলনে এযাবৎ যারা আত্মবলিদান দিয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পিসিপির রাঙ্গামাটি শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমন চাকমার সঞ্চালনায় স্মরণ সভা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বালন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি রাঙ্গামাটি শহর শাখার সভাপতি অনন্ত চাকমা।এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি শহর শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিলন চাকমা।

প্রধান আলোচক রেং ইয়ং ম্রো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনেরও বেশি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে আজ থেকে ৪২ বছর আগে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে, সেনা-সেটেলারদের দ্বারা সংঘটিত ভূষণছড়া গণহত্যা ছিল অন্যতম বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসীরা যেন রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী। ন্যায়বিচারের দাবিতে এগিয়ে এলে তাদের প্রায়ই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় এক ৫ বছর বয়সী ত্রিপুরা শিশু একজন সেটেলার বাঙালির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয় । এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানাতে গেলে তারা সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর বাঁধার মুখে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞ, দমন-পীড়ন, ধর্ষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলোর সঠিক তথ্য দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়না। বরং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। অতীতের এসব শোক ও বেদনা শক্তিতে রূপান্তরিত করে বর্তমান তরুণ ও ছাত্রসমাজকে অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।

সুরেশ চাকমা বলেন, জুম্ম জনগণকে তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা এবং জুম্ম জাতিসত্তার অস্তিত্বকে বিপন্ন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার বিচারের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত কিংবা বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আত্মকেন্দ্রিকতা, সুবিধাবাদ ও দোদুল্যমানতা পরিহার করে তরুণ সমাজকে অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ঘোষিত কর্মসূচি ও বৃহত্তর গণআন্দোলনে তরুণ ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে তিনি ছাত্র-যুবসমাজের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

দিগন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লক্ষীদেবী চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত অসংখ্য গণহত্যার একটিরও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ অঞ্চলে সেনা ও সেটেলারদের সম্পৃক্ততায় ডজনেরও বেশি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র শুধু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই ব্যর্থ হয়নি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

বার্তা প্রেরক

মিলন চাকমা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
রাঙ্গামাটি শহর শাখা

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 31/05/2026

ভূষণছড়া গণহত্যা: বিচারহীনতার ৪২ বছর

আজ ৩১ মে ২০২৬ নৃশংসতম ভূষণছড়া গণহত্যার ৪২ বছর উপলক্ষ্যে পিসিপি'র উদ্যোগে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরকল সহ বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 31/05/2026

নৃশংসতম ভূষণছড়া গণহত্যার ৪২ বছর

আজ ৩১ মে ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২নং গেইট শাখার উদ্যোগে নৃশংসতম ভূষণছড়া গণহত্যার ৪২ বছর উপলক্ষ্যে স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২নং গেইট শাখার নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, ১৯৮৪ সালের ৩১ মে আজকের এই দিনে সেনাবাহিনী ও সেটেলার বাঙালি কর্তৃক সংঘটিত হয় ভূষণছড়া গণহত্যা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩০৫ তম ব্রিগেড এবং বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর ১৭ তম ব্যাটলিয়নের সদস্যরা সেটেলার বাঙালিদের সঙ্গে নিয়ে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার এ্যাড ভরিয়ে, সুগুরিপাতা, গোরস্থান,তারেঙে ঘাট, ভূষণ ছড়া, ও ভূষণভাগ গ্রাম গুলোতে একযোগে গণহত্যা চালায়। এ গণহত্যার বিচার ৪২ বছরেও পাওয়া যায়নি।

৩১ মে ২০২৬
বুদ্ধিজীবী চত্বর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

26/05/2026

বান্দরবানের থানচিতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সমাবেশ।
গতকাল বিকাল চারটায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে।

ছবি: মং হাই সিং মারমা

প্রথম আলো

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 25/05/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
২৫ মে ২০২৬
বান্দরবান, পার্বত্য চট্টগ্রাম

পাহাড়ে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী-শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে বান্দরবানে পিসিপি ও এইচডাব্লিউএফ’র বিক্ষোভ সমাবেশ

“সারাদেশে অব্যাহত সকল ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত কর” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক বিলাইছড়িতে জুম্ম ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, থানচিতে জুম্ম শিশুকে ধর্ষণ এবং রাজধানীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বান্দরবান জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক ফিলিপ খিয়াং এর সঞ্চালনায় পিসিপি, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উশৈহ্লা মারমা সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উছোমং মারমা, আদিবাসী অধিকার কর্মী জন ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি, বান্দরবান জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সিংমেউ মারমা, অধিকার কর্মী কৃপা ত্রিপুরা, সাবেক ছাত্রনেতা থোয়ইক্যজাই চাক, হিল উইমেন্স ফেডারেশন বান্দরবান জেলা কমিটির সদস্য এঞোসিং মারমা, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম, বান্দরবান অঞ্চল কমিটির সভাপতি শিমুল তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক উবাথোয়াই মারমা।

উছোমং মারমা বলেন, পাহাড়ে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বারবার ঘটছে। দেশের শিক্ষিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সচেতন ছাত্র-যুব সমাজকে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আজো আমরা দেখি সমাজের একটি অংশ নীরব রয়েছে। এই নীরবতাই অনেক সময় অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে হবে।

জন ত্রিপুরা বলেন, বারবার ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, অবহেলা ও দৃশ্যমান ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের আস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে। যখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়না, তখন মানুষের মনে ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা জন্ম নেওয়াটা স্বাভাবিক। আজ পাহাড়ের মানুষ শুধুমাত্র একটি ঘটনার বিচার চাইছে না, তারা দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, নিরাপত্তাহীনতা, অধিকারহীনতা ও বৈষম্যের অবসান চাইছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তব সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ বাস্তবায়ন অতীব জরুরি।

থোয়াইক্যজাই চাক বলেন, রাষ্ট্র যদি আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ একটি সভ্য সমাজে আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যই হলো অপরাধ দমন ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আমরা চাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করে ধর্ষণকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক। কারণ বিচারহীনতা কেবল একজন অপরাধীকেই রক্ষা করে না, বরং ভবিষ্যতের আরও অপরাধের পথ খুলে দেয়।

এঞোসিং মারমা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষকেরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়। অপরাধীরা যখন দ্রুত ও কঠোর শাস্তি পায় না, তখন সমাজে ভয় নয়, বরং অপরাধ করার সাহস বাড়ে। এসব ঘটনা বন্ধে যথাযথ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

বার্তা প্রেরক

মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ
বান্দরবান জেলা শাখা

25/05/2026

শিক্ষা সংহতি সাম্য প্রগতি

সারাদেশে অব্যাহত সকল ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত কর

সেটেলার বাঙালি কর্তৃক বিলাইছড়িতে জুম্ম ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, থানচিতে জুম্ম শিশুকে ধর্ষণ এবং রাজধানীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে

বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
তারিখঃ ২৫ মে ২০২৬ খ্রি:, সময় ঃ বিকাল ৩:০০টা, স্থান ঃ প্রেসক্লাব বান্দরবান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বান্দরবান জেলা শাখা।

Photos from Voice Of P*P - কেওক্রডং's post 25/05/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
২৫ মে ২০২৬ খ্রি:
রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম।

পাহাড়-সমতলে অব্যাহত ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে ও যথাযথ বিচারের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে পিসিপি ও এইচডাব্লিউএফ’র বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“সারাদেশে অব্যাহত সকল ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত কর” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক বিলাইছড়িতে জুম্ম ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, থানচিতে জুম্ম শিশুকে ধর্ষণ এবং রাজধানীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি রাঙ্গামাটির কুমার সমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বনরুপা পেট্রোল পাম্প প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয় এবং প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদী সমাবেশে এইচডাব্লিউএফ’র রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এলি চাকমার সঞ্চালনায় পিসিপি, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি সুমন চাকমার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙ্গামাটি জেলার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, পিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, এইচডাব্লিউএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবিতা চাকমা, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী লীলা চাকমা প্রমুখ।

যুবনেতা সুমিত্র চাকমা বলেন, এই রাষ্ট্র ধর্ষককে আশ্রয় দেয় যার উদাহরণ আমরা দেখি বান্দরবানের থানচিতে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ সমাবেশে সাধারণ জনগণ যখন ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে যায় তখন বিজিবিকে সেখানে জনগণের দিকে বন্দুক তাক করেছে। বিজিবি হলো বাংলাদেশের সীমান্তের পাহাড়াদার। জনগণের টাকায় জনগণের স্বার্থে সীমান্ত রক্ষার জন্য তাদের সে অস্ত্রগুলো দেওয়া হয়েছে অথচ তারা সেই বন্দুক উঁচিয়ে জণগণকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিলে বাঁধা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষকদের স্থান মুক্তভাবে দেশে ঘুরে বেড়ানো নয়, ধর্ষকদের স্থান হলো জেলখানায় আর এর চূড়ান্ত শাস্তি হলো ফাঁসি। রাষ্ট্র যদি এসব অসামাজিক কার্যকলাপগুলো বন্ধ করতে না পারেন, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে না পারেন তাহলে তাদের বিচার করতে বাধ্য হবে। সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক বিশেষ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

অন্তর চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারী ধর্ষণের ঘটনা যেন রুটিনমাফিক কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। এসবের একটিই কারণ হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। পূর্বে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় আমরা প্রশাসনের যথাযথ কোন বিচারের যথাযথ পদক্ষেপ আমরা আজও দেখি না। অপরাধীদের ধরার জন্য যদি প্রশাসন তৎপর হতো তাহলে এসব ঘটনা সংঘটিত হতো না। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত এবং ধর্ষণের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আমরা তাঁর সাধুবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ও আমরা এসব ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার বিচার যথাযথ ও দ্রুত দেখতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রামে চিংমা খেয়াং-এর ধর্ষণ ও তার পরবর্তী হত্যার ঘটনার এক বছর পরে ও কোনো বিচার হয়নি। বান্দরবানের থানচিতে ৫ বছরের জুম্ম শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে জনসাধারণ সমবেত হলে সেখানে বিজিবি কর্তৃক বাধা প্রদান করা হয়। বিজিবির কাজ হলো সীমান্ত রক্ষা করা, সমাবেশে বাধা প্রদান করা নয়। অথচ বান্দরবানে মায়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসার পুঁতে রাখা মাইনে ৩জন জুম্ম গ্রামবাসী নিহত হয়। অন্যদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এদেশে মাইন পুঁতে রাখছে তার বিরুদ্ধে বিজিবি কোনো ভূমিকা নাই।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সমস্যা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অথচ চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে যার মধ্যে ভূমি সমস্যা অন্যতম। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি কমিশন কার্যকর করার মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ বসে থাকবে না। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলবে।

কবিতা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যতগুলো ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে তা সংঘঠিত করেছে সেটেলার বাঙালি, যার একটিরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। প্রশাসনের মদতে মূলত এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যার কারণে প্রশাসন এসব ঘটনার ব্যাপারে উদাসীন থাকে। স্বাধীনতার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন দাবানল এবং চুক্তির পরে অপারেশন উত্তরণ নামে সেনা শাসন জারি রাখা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

সাধারণ শিক্ষার্থী লিলা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, সেসব ঘটনায় আমরা প্রশাসনের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখি না। উপরন্তু আমরা পাহাড়ে সেনা শাসন দেখতে পায়। পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তার নামে সেনা বাহিনীর নানারকম কার্যক্রম আমরা দেখতে পাই। সেনাবাহিনীর মদদে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক হত্যা, গুম, ধর্ষণ ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘটে চলেছে। আমাদের এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বার্তা প্রেরক

হীরা চাকমা
তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
হিল উইমেন্স ফেডারেশন
রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি

Want your business to be the top-listed Government Service in Rangamati?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


North Kalindipur
Rangamati
4500