26/03/2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অনিয়মিত মুখপত্র ❝জুম্ম বার্তা❞
১৬শ সংখ্যা ।। নভেম্বর ২০২৫- ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতি জানতে জুম্ম বার্তা পড়ুন
📘নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন ( পিডিএফ) 👇
https://www.pcjss.org/wp-content/uploads/sites/16/2026/03/Jumma-Barta-16th-Issue-Nov25-Feb26.pdf
26/02/2026
Annual Report of 2025 on Human Rights Situation in CHT
◼︎ Click Here 👉https://www.pcjss.org/wp-content/uploads/sites/16/2026/02/Annual-Report-2025-on-Human-Rights-Situation-in-CHT.pdf
01/01/2026
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি ঘটেনি। ফলে চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০২৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ২০২৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনা-মদদপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, রোহিঙ্গ্যা সশস্ত্র জঙ্গী, মুসলিম বাঙালি সেটেলার ও ভূমিদস্যুদের দ্বারা ২৬৮টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং এসব ঘটনায় ৬০৬ জন জুম্ম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে এবং ১৯৩টি জুম্ম অধ্যুষিত গ্রামে টহল অভিযান চালানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে ৮ জন জুম্মকে বিচার-বহির্ভূত হত্যা, ১১৭ জন জুম্মকে গ্রেফতার, ২টি বৌদ্ধ মন্দিরসহ ৪৩টি বাড়িতে তল্লাসী, ৩২ জন জুম্ম নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা এবং ৩০ জন ম্রো শিশুকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তর করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ ও দেশের আদিবাসী জনগণের উপর ব্যাপক আকারে দুইটি নৃশংস সাম্প্রদায়িক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া বহিরাগত কোম্পানী, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সেটেলার কর্তৃক কমপক্ষে ৩০০ একর ভূমি বেদখল করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সংবিধানসহ সংস্কার কার্যক্রমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আশা করেছিল যে, আদিবাসীসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান বৈষম্য ও নিপীড়নসমূহ চিহ্নিত করে তা অবসানের লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপের সুপারিশ করার জন্য আলাদাভাবে একটি সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো আলাদা কমিশন গঠন করা হয়নি। পরবর্তীতে যে সকল কমিশন গঠন করা হয়েছে সেখানেও আদিবাসীসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এমনকি সংবিধান সংস্কার কমিশনেও কোনো সংখ্যালঘু প্রতিনিধি নেই। সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান বৈষম্যসমূহ নিয়ে আলোচনার জন্যে কমিশনগুলো কোন সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি। অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত জুলাই সনদেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। যা বর্তমান সরকারের আমলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি গভীর বৈষম্যের সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্....
01/01/2026
PCJSS Annual Report of 2025 on Human Rights Situation in CHT
PCJSS Annual Report of 2025 on Human Rights Situation in CHT - Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti
No progress has taken place on implementation issue of the Chittagong Hill Tracts Accord (CHT Accord) of 1997 even during the tenure of Dr. Yunus-led Interim government. Hence, two-third sections of the Accord including core issues have remained unimplemented as to this day. It is for not having the...
02/12/2025
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির
#বিবৃতি
প্রিয় সংগ্রামী জনতা,
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জানাচ্ছে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিনন্দন।
আপনার নিশ্চয় জানেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাঁচটি রাজনৈতিক সরকার এবং দুইটি তত্ত¡াবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কোন সরকারই রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তি স্বাক্ষরের অব্যবহিত পরে পৌনে চার বছর এবং ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ১৬ বছরের মেয়াদকালে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। একের পর এক প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করে আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে কেবল বুলিতে সীমাবদ্ধ রেখেছিল।
ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের পর ২৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। চুক্তির অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
১। পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের জন্য আইনী ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
২। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি ন্যস্ত করা;
৩। নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়ন ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ পূর্বক তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা;
৪। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে পার্বত্য পুলিশ বাহিনী গঠন করা;
৫। ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করে জুম্মদের বেহাত হওয়া জায়গা-জমি ফেরত দেয়া এবং এলক্ষ্যে ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করা;
৬। অস্থানীয়দের নিকট প্রদত্ত সকল ইজারা বাতিল করা;
৭। ‘অপারেশন উত্তরণ’সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা;
৮। ভারত-প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের জমিজমা প্রত্যর্পণ পূর্বক তাদেরকে যথাযথ পুনর্বাসন করা;
৯। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকরিতে পাহাড়িদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ দেয়া;
১০। পার্বত্য চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য সকল আইন, বিধি ও প্রবিধান সংশোধন করা;
১১। জুম্মদের জায়গা-জমি থেকে সেটেলার বাঙালিদের সরিয়ে নিয়ে সমতল জেলায় পুনর্বাসন দেওয়া।
প্রিয় বিপ্লবী জনতা,
গত জুলাই-আগষ্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে ৮ই আগষ্ট ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিগত ১৬ মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেনকে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ’কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় ৫ মাস অতিক্রান্ত হলেও সভার সিদ্ধান্তবলী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি নেই।
অপরদিকে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ কমিশনের সভা আহ্বান করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেনামদদপুষ্ট সেটেলার বাঙালিদের ছাত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) এর হরতালের হুমকিতে কমিশনের উক্ত সভাটি স্থগিত করা হয়। শুধু তাই নয়, গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ১২তম সভা আহ্বান করা হলে সেটেলারদের হুমকিতে উক্ত সভাও স্থগিত করা হয়। এভাবেই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের মদদে বাঙালি সেটেলার ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের মতো চুক্তি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করে চলেছে। বৈষম্যবিরোধী চেতনা, গণতন্ত্র ও সমানাধিকার, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিলোপ, ন্যায়বিচার ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা সহ ইতিবাচক সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মাণের অঙ্গীকারের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হলেও বিগত ১৬ মাসেও পার্বত্য অঞ্চলে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান নয়।
প্রিয় অধিকারকামী জনতা,
সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে ব্যাপক সামরিকায়ণ করে ফ্যাসীবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নীতি গ্রহণ করে। জনসংহতি সমিতিসহ চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনরত সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘অবৈধ অস্ত্রধারী’ হিসেবে তকমা দিয়ে ক্রিমিনালাইজ করা, মিথ্যা মামলা দায়ের করা, গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করা, অমানুষিক মারধর ও হয়রানি ইত্যাদি দমন-পীড়ন চালাতে থাকে।
তারই অংশ হিসেবে এই অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মাথায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-রাঙ্গামাটিতে এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ি-গুইমারায় নৃশংস সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। সর্বশেষ খাগড়াছড়ি-গুইমারা সাম্প্রদায়িক হামলায় সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনজন জুম্ম যুবক নিহত হয় এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সেটেলার কর্তৃক জুম্মদের শতাধিক দোকানপাট ও ঘরবাড়ি অগ্নিসংযোগ করা হয়। পূর্বের সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোর মতো উক্ত সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোতে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকেই আইনের আওতায় আনা হয়নি এবং উক্ত ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। এভাবেই একের পর এক সরকারের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ চরম অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে।
অপরদিকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে, সর্বোপরি জুম্ম জনগণকে জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব কর্তৃক সৃষ্ট সশস্ত্র সংগঠনসহ পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ইত্যাদি সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ’-এর ব্যানারে সংগঠিত করে মুসলিম সেটেলার, উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার নীলনকশা বাস্তবায়নের হীনউদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ঠেগামুখে স্থল বন্দর স্থাপন, ঠেগামুখ-চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়ক ও সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, সেনাবাহিনী কর্তৃক বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা, যত্রতত্র বিজিবির বিওপি স্থাপন, কাচলং-সীতা পাহাড় ভ‚-গঠনে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে জুম্মদেরকে তাদের চিরায়ত ভিটেমাটি থেকে চিরতরে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।
প্রিয় মুক্তিকামী জনতা,
বস্তুত পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে রক্ত-পিচ্ছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্বত্যবাসীর অধিকার সনদ এই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অর্জিত হয়েছে। এই চুক্তিকে বাস্তবায়িত না করার যে কোন ষড়যন্ত্র এবং জুম্ম জনগণের এই চুক্তি বাস্তবায়নের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ফ্যাসীবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের যে কোন চক্রান্ত দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কখনোই শুভ ফল বয়ে আনতে পারে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তি-পরিপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে জনসংহতি সমিতি বরাবরের মতো সদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তাই আসুন, আপামর জুম্ম জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হই এবং সাথে সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলি-
⚫ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কর, করতে হবে।
⚫ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।
⚫ পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করি।
⚫ জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব ও জুম্ম স্বার্থ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করি।
......................................................................................................................................
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগ কর্তৃক কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কল্যাণপুর, রাঙ্গামাটি থেকে ২ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত ও প্রচারিত।
02/12/2025
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে
২ ডিসেম্বর ২০২৫
পিডিএফ লিঙ্ক -
https://www.pcjss.org/wp-content/uploads/sites/16/2025/12/PCJSS-Report-on-Implementation-of-CHT-Accord-Bangla-2-December-2025.pdf
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগ কর্তৃক ২ ডিসেম্বর ২০২৪ জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কল্যাণপুর, রাঙ্গামাটি থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত
শুভেচ্ছা মূল্য ঃ ৫০.০০ টাকা
Parbatya Chattagram Chukti Bastabayan Prasange ।। 2 December 2025
published by Information and Publicity Department of Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti (PCJSS) on 2 December 2025 from its Central Office, Kalyanpur, Rangamati, Chittagong Hill Tracts, Bangladesh.
Telefax: +88-02333371927, E-mail: [email protected], [email protected]
Web: www.pcjss.org
Price : Tk. 50.00 only
https://www.pcjss.org/wp-content/uploads/sites/16/2025/12/PCJSS-Report-on-Implementation-of-CHT-Accord-Bangla-2-December-2025.pdf
02/12/2025
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির
ক্রোড়পত্র
২ ডিসেম্বর ২০২৫
সভাপতির কিছু কথা
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জুম্ম জনগণ তথা সমগ্র দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিগত ২৮ বছরেও পার্বত্য চুক্তির যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জিত হয়নি।
পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর একের পর এক সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে ব্যাপক সামরিকায়ণ করে ফ্যাসীবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নীতি গ্রহণ করে চলেছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলছে।
বস্তুত পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে– এটাই আপামর পার্বত্যবাসীর প্রাণের দাবি।
সেই সাথে জুম্ম জনগণ তথা পার্বত্যবাসীরা ইহাও আশা করে যে দেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও বুদ্ধিজীবি সমাজ চুক্তি বাস্তবায়নে ও পার্বত্য সমস্যা সমাধানে অধিকতরভাবে এগিয়ে আসবেন।
জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
সভাপতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ক্র
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ক্রোড়পত্র ২ ডিসেম্বর .....
02/12/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত
আজ ২ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি: “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জুম্ম জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হোন” এই আহ্বানে রাঙ্গামাটির জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর উপলক্ষ্যে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে কয়েক সহস্রাধিক জুম্ম জনতা অংশগ্রহণ করেন।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি শ্রী ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী বিজয় কেতন চাকমা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক শ্রী শিশির কান্তি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সভাপতি শ্রীমতি মনি চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি রুমেন চাকমা প্রমুখ। গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি ডা: গঙ্গামানিক চাকমা এবং সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকা চাকমা। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুনির্মল দেওয়ান।
প্রধান অতিথি শ্রী ঊষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিল চাই বললেই চুক্তি বাতিল হয়ে যায় না। যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের দাবি করছেন তারা কি বুঝেন এতে কি হবে? পার্বত্য চুক্তি বতিল হওয়া মানে ৯৭ সালের প‚র্বে ফিরে যাওয়া। যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান করতে চান তাহলে পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। উগ্রজাত্যাভিমানী, মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করে জুম্মদের দুঃখ দুর্দশা অনুভব করে সদিচ্ছার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের পথে আসতে হবে। জুম্মরা বন জঙ্গলের মানুষ, অশিক্ষিত মানুষ, মুর্খ মানুষ মনে করলে ভ‚ল করবেন। আমরা দীর্ঘ ২ যুগ সশস্ত্র সংগ্রাম করেছি, কেউ বলেনাই আমরা স্বাধীনতা চাই, বিচ্ছিন্ন হতে চাই, তবু কেন বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দেয়া হয়? আমরা বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করার জন্য আন্দোলন করেছি, রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করেছি।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় এম এন লারমা বলেছিলেন বাংলাদেশে বাঙালি জাতির বাইরেও অনেকগুলো জাতি রয়েছে তারা স্বতন্ত্র জাতি, তারা বাংলাদেশী। এম এন লারমা সমগ্র দেশের মেহনতী মানুষের অধিকারের কথা সংসদে বলেছিলেন কিন্তু কেউ তার কথা যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে নি। বাংলাদেশের একজন বাঙালি নাগরিকের যেমন মৌলিক অধিকার ভোগ করার অধিকার থাকে, আমাদের আদিবাসী জুম্ম জনগণেরও সেই সমান অধিকার রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কোন সরকারই সদিচ্ছার সাথে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করে নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদকে অথর্ব করে রাখা হয়েছে, জেলা পরিষদসমূহকে যে সরকার আসে সেই সরকার তাদের দলীয় কর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান করতে হলে পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।
শ্রী বিজয় কেতন চাকমা বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক, আধা-সামরিক বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এদেশের নাগরিকদের কতটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে তা প্রশ্ন থেকে যায়। জুম্ম জনগণ নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে গেলে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হয়। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের মরতে জানতে হবে। তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকতর আন্দোলনে সামিল হলে কেউ আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।
শ্রী শিশির কান্তি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন না করে চুক্তিকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। পাহাড়ের জুম্ম জনগণের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টির চেষ্টা করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন গড়ে না উঠার ষড়যন্ত্র চালানো হয়। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির নির্জাসগুলো ধ্বংস করে দিয়ে চুক্তিকে অকার্যকর ও অবাস্তবায়িত রেখে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে জনমিতি পরিবর্তন করে জুম্মদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগসমূহ পরিষদের নিজস্ব আইন অনুসারে সম্পাদনা করতে হবে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পান নি। এগুলো কিসের আলামত? পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু অধিকারের জন্য জুম্মরা লড়াই করতে জানে। অধিকারকামী জুম্ম জনগণের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দেয়া হয়, পাহাড়ে দীর্ঘকাল ধরে যে অরাজকতা বিরাজমান তা অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না।
তিনি পার্বত্য চুক্তি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে একটি গোষ্ঠী কটু কথা লেখে, অপব্যাখ্যা করে থাকে। আপনারা মুখে মুখে ঐক্যের কথা বলেন, এগত্তরের কথা বলেন এসব তো ঐক্যের লক্ষণ নয়। জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে এসব কার্যক্রম এখনই বন্ধ করতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
শ্রীমতি মনি চাকমা বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক সদিচ্ছার সাথে চুক্তি বাস্তবায়নে কোন সরকার এগিয়ে আসেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বৈষম্য বিলোপের উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারেরও পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের উপর নিপীড়ন বন্ধে কোন উদ্যোগ দেখা যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই জুম্ম নারীরা নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই জুম্ম নারীদেরকে অধিকার সচেতন হয়ে লড়াই সংগ্রামে অধিকতর সামিল হতে হবে।
অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান বলেন, বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে টালবাহানা করে জুম্ম জনগণের সাথে বেইমানি করে চলেছে। বিট্রিশ শাসনামলে জুম্মদের জন্য প্রণিত ১৯০০ সালের শাসনবিধি ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগের শাসনামলে হাইকোর্টে মামলা করে বাতিলের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের নিকট এই মামলা খারিজের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভ‚মি বিরোধ নিষ্পত্তির সরকারের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না যা খুবই দুঃখজনক। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদ তার নিজস্ব আইনে কাজ করার বিধান থাকলেও জেলা পরিষদগুলোকে সেভাবে কাজ করতে দেয়া হয় না। সারাদেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলেও জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের মামলা প্রত্যাহার করা হয় নি।
পিসিপি’র সভাপতি রুমেন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের জন্য সেটেলার বাঙালিরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত নেতা কাজী মুজিবুরের নেতৃত্বে বহিরাগত সেটেলারগণ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মরা পূর্বে বিজাতীয় শাসনের বাইরে ছিল। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রণিত সংবিধানে জুম্মদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে আমরা দেখি জুম্মরা যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে বসবাস করছে। পাহাড়ে জুম্মরাই প্রথম আবাস তৈরি করেছিল। আশির দশকে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বহিরাগত সেটেলার বাঙালিদের পুনর্বাসন দেয়া হয়েছিল, এখন তারাই জুম্মদের বহিরাগত আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সেটেলার বাঙালিদের দ্বারা যে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা চুক্তি বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ। এসব বিষয়কে অনুধাবন করে চুক্তি বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জুম্ম জনগণকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আন্দোলন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভ‚মিকা আমরা দেখি না। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ণ পূর্বক পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বার্তা প্রেরক
নগেন্দ্র চাকমা
সাধারণ সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি
রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি
08/10/2025
Report on Communal Attacks in Khagrachari and Guimara on 27 and 28 September 2025
https://www.pcjss.org/wp-content/uploads/sites/16/2025/10/PCJSS-Report-on-Communal-Attacks-in-Khagrachari-and-Guimara.pdf
05/10/2025
খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবেদন
চলমান ২০২৫ সনের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মাসে সেটেলার বাঙালি, বহিরাগত বাঙালি শ্রমিক ও ব্যক্তি কর্তৃক জুম্ম নারী ও শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের চেষ্টা, উত্যক্তকরণ ইত্যাদি ২১টি সহিংস ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং এতে এই পর্যন্ত ২৯ জন জুম্ম নারী ও শিশু মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী সহিংসতার ঘটনা নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে চলা এইসব সহিংসতার ঘটনার শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা অগণিত হলেও পাহাড়ের মানুষ এই সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার আজও পেয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই যাবত কালে সংঘটিত নারী সহিংসতার ঘটনা বিশেষত ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, অপহরণের মতন বর্বর পৈশাচিক ঘটনাবলীর বিচার তো দূরে থাক সঠিক তদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক জুম্ম কিশোরীকে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক গণধর্ষণের ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র সাথে সেটেলার বাঙালিদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ফলে অন্তত ৩ তিন জুম্ম গুরুতর আহত এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা রামসু বাজার ও এর আশেপাশের জুম্ম বসতিতে সেনাবাহিনী, বাঙালি সেটেলার ও বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীদের কর্তৃক সম্মিলিভাবে উপর্যুপরি হামলায় ৩ জন জুম্ম নিহত এবং অন্তত ২০ জনের অধিক আহত হয়েছে। এছাড়া রামসু বাজারে জুম্মদের ৫৪টি দোকান, ২৬টি ঘরবাড়ি ও ১৬টি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয়। এতে জুম্মদের প্রায় ২৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবেদন
খাগড়াছড়িতে এক জুম্ম স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের প্রতিবাদে আহুত অবরোধ কর্মসূচির সময় জুম্মদের উপর ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর ২.....
05/10/2025
Report on Communal Attacks in Khagrachari and Guimara on 27 and 28 September 2025
During the current January-September period of 2025, 21 violent incidents of r**e, murder after r**e, attempt to r**e, and harassment of Jumma women and girls have been committed by Bengali settlers, outsider Bengali workers, and individuals, and so far 29 Jumma women and girls have been victims of human rights violations.
Violence against Indigenous women in the Chittagong Hill Tracts is nothing new. Although the number of women and children who have been victims of these violence incidents for decades is countless, there is no single example of justice for these incidents. The incidents of violence against Indigenous women that have occurred in the Chittagong Hill Tracts over the years, especially the barbaric and demonic incidents like r**e, murder after r**e and kidnapping have not even been properly investigated, let alone tried.
In continuation of this, in the incident of gang-r**e of a Jumma girl by Bengali settlers in the Singinala area of Khagrachari Sadar on 27 September 2025, at least 3 Jummas were seriously injured as a result of a chase and counter-chase by the Bengali settlers with the ‘Jumma Chhatra-Janata’ and on 28 September 2025, 3 Jummas were killed and at least 20 more were injured in a joint attack by the army, Bengali settlers and outsider miscreants in the Jumma settlement of Guimara Ramsu Bazar and its surroundings in Khagrachari district. In addition, 54 shops, 26 houses and 16 motorcycles of Jumma people were burnt to ashes in Ramsu Bazar. It is known that the property of the Jummas worth about 25 crore taka was damaged in this violent incident.
Report on Communal Attacks in Khagrachari and Guimara on 27 and 28 September 2025 - Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti
Communal attacks on Jummas on 27 and 28 September 2025 during a blockade called to protest the gang r**e of a Jumma schoolgirl in Khagrachari During the current January-September period of 2025, 21 violent incidents of r**e, murder after r**e, attempt to r**e, and harassment of Jumma women and girls...