03/04/2026
প্রথমে শুধু হালকা জ্বর…
সাথে সর্দি, কাশি
বাচ্চা একটু খিটখিটে, খেতে চাইছে না…
এভাবেই শুরু হয়।
এই সময়ই শরীরে ঢুকে পড়ে Measles (হাম) ভাইরাস
কোনো আক্রান্ত মানুষ হাঁচি দিলো, কাশি দিলো…
সেই বাতাস থেকেই ভাইরাসটা ছড়িয়ে গেলো।
আপনি বুঝতেও পারলেন না
শিশুর শরীর ইতোমধ্যে আক্রান্ত।
প্রথম ২–৩ দিন:
শুধু জ্বর, সর্দি, কাশি…
চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে।
অনেকে
ধরেই নেন এটা সাধারণ ভাইরাল জ্বর।
তারপর
জ্বর বাড়ে,
মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spot) দেখা যেতে পারে…
আর ৩–৪ দিনের মাথায়
গায়ে লালচে র্যাশ উঠা শুরু।
মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পুরো সময়টাতেই বাচ্চা অন্যদের জন্য খুব সংক্রামক।
মানে, আপনি বুঝার আগেই
আরো কয়েকজন শিশুর মধ্যে এটা ছড়িয়ে যেতে পারে।
হাম হলে শিশুর যত্ন:-
১. বিশ্রাম ও আলাদা রাখা
ভিড় এড়িয়ে শান্ত ঘরে রাখুন। জ্বর বেশি হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছান, প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শে প্যারাসিটামল দিন।
২. পর্যাপ্ত তরল দিন
পানি, দুধ, স্যুপ, ওরস্যালাইন—অল্প অল্প করে বারবার দিন। না খেতে চাইলেও চেষ্টা চালিয়ে যান।
৩. ভিটামিন A দিন
চোখ ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ—ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দিন।
৪. আলো কম রাখুন
চোখে সমস্যা হলে হালকা অন্ধকার ঘরে রাখুন, পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ মুছান।
৫. ত্বকের যত্ন নিন
নখ ছোট রাখুন, চুলকাতে না দিন, শরীর পরিষ্কার রাখুন।
কেন ভয় পাবেন?
কারণ
এই ভাইরাস ফুসফুস, চোখ, এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, এমনকি খিঁচুনি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
একটু সচেতন হন, সেভ করুন
আর পোস্টটা শেয়ার করে অন্যকেও জানিয়ে দিন
ডা.আব্দুর রহমান
Collected
25/08/2025
শিশুর জন্য মেনে চলুন।। আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ।।
20/08/2025
টাইফয়েড একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়, যার বেশিরভাগই ১৫ বছরের কম বয়সী।
কিন্তু ১ ডোজ টিকা নিয়ে টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
আপনার শিশুর টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন 👉 https://vaxepi.gov.bd/
26/05/2025
বিস্ময়কর সাফল্য
আজ ২৬/৫/২০২৫ ইং তারিখে সোমবার সকাল ৭টার কিছু পরে ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধৌড় বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্মান শ্রমিক মো: হাসান মিয়া (৩০) গুরুতর ভাবে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপর থেকে একটি রড বল্টু সহ তার মাথায় এসে পড়লে হেলমেট ভেঙ্গে সেটি মাথার হাড় ছিদ্র করে মগজের ভিতরে ঢুকে যায়।
সাথে সাথেই তার সহকর্মীরা দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক দ্রুত সিটি স্ক্যান করান এবং নিউরোসার্জন Md Humayun Rashid রোগীটিকে জরুরী বিভাগেই পর্যবেক্ষন করেন। পরবর্তীতে দ্রুত হাই ডিপেন্ডেসি ইউনিট (এইচ ডি ইউ) এ স্থানান্তর করা হয়।
রোগীর স্বজন ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কাজ তদারকী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এর সম্মতিতে মাত্র ১ ঘন্টার মাঝেই মস্তিস্কে অপারেশন এর সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে মগজের ভিতরর প্রায় ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত দেবে যাওয়া রড টি সফলভাবে বের করে নিয়ে আসেন নিউরোসার্জন ডা: মো: হুমায়ন রশিদ ও তার টিম।
অপারেশনে সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন হাসপাতালের দক্ষ এনেস্থেশিওলজিস্ট বৃন্দ। ৩ ঘন্টার সফল অপারেশনের পরে রোগীর জ্ঞান ফিরে আসে এবং তিনি হাত - পা স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে পারেন, কথাও বলতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ।।
যেকোন কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন, সুস্থ্য থাকুন।।
22/05/2025
একটি শিশু বেসরকারী ক্লিনিকে জন্ম নিয়েছে ৩ দিন হলো।ডেলিভারির পরে সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো, শিশুর ঠিকমতো দুধ খাওয়া, প্রস্রাব পায়খানা সবকিছু স্বাভাবিক।আগামিকাল সেখান থেকে তাদের ছুটি দেয়ার কথা।বাচ্চার খালার ভাষ্যমতে আজকে রাত ১ টার সময় বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পরে শুইয়ে দেয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে বাচ্চা হঠাৎ বমি করে দেয়, এর পরেই শ্বাস কষ্ট,এর পরেই বাচ্চা হঠাৎ চুপ হয়ে যায়।চট্টগ্রাম মেডিকেলে যতক্ষণে নিয়ে আসে, ততক্ষণে সব শেষ।হার্ট বিট নেই,শ্বাস প্রশ্বাস নেই,বাচ্চা ঠাণ্ডা হয়ে আছে।বাচ্চার বাবা অসহায়ের মতো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি নিজেই নিস্তব্ধ, কি উত্তর দিবো,চোখে পানি চলে আসলো। মনকে শক্ত করে বলেই ফেললাম আপনার বাচ্চা আর বেঁচে নেই।হঠাৎ যেনো আকাশ ভেংগে পড়লো তাঁর মাথায়। আদরের ধনকে বুকে জড়িয়ে বলতে লাগলেন তোর কিচ্ছু হবে না।
এই যে এতোবড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো, এটা কিন্তু চায়লেই এড়ানো যেতো। আমরা প্রায়ই বাচ্চার মা-বাবা দেরকে বলে থাকি, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পরে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট বাচ্চার মাথা উপরের দিকে রেখে কোলে নিয়ে বসে থাকবেন অথবা হাঁটাহাঁটি করবেন।কারণ বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পরে শুইয়ে দিলে এই দুধ এসপিরেট করে শ্বাস নালীর মাধ্যমে ফুসফুসে চলে গিয়ে নিউমোনিয়া তৈরি করতে পারে।এটিকে Aspiration pneumonia বলে যেটি বাচ্চার জীবন নিয়ে নিতে পারে যেটা এই বাচ্চাটির ক্ষেত্রে হয়েছে।
এই ধরনের মৃত্যু মোটেও কাম্য নই।
ডা: শোভন আচার্য্য
এমবিবিএস,বিসিএস(স্বাস্থ্য)
এমডি রেসিডেন্ট,ফেইজ বি
শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।