24/05/2026
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানী তেঁতুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গরুটি মোটাতাজা করেছেন উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের সরকারটোলা এলাকার জিন্নাত আলী মুহুরী বাড়ির দিদারুল আলম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির অদূরে মাঠে বাধা ছিল ৩ মণ ওজনের ষাঁড়টি। রোববার দুপুরে হটাৎ বজ্রপাতে গরুটি মারা যায়। গত শুক্রবার বিক্রির জন্য আবুতোরাব বাজারে তোলা হয়েছিল। ক্রেতারা ১লাখ ১০ হাজার টাকা বলেছিল। কিন্তু মালিক দিদারুল আলম ১ লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য বিক্রি করেনি। পরে রোববার বজ্রপাতে ষাঁড়টি মারা গেলে কান্নায় ভেঙে পড়ে গরুর মালিম দিদারুল আলম।
গরুর মালিক দিদারুল আলম বলেন, অনেক কষ্টে কোরবানিতে বিক্রির জন্য গরুটি মোটাতাজা করেছি। আজ সকালে বাড়ির পাশে মাঠে বেঁধে আসি। দুপুরের পর খবর পাই বজ্রপাতে গরুটি মারা গেছে। গরুর কাছে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গরুটি মারা যাওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।
24/05/2026
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নে রাস্তার অভাবে পানির উপর দিয়ে ট্রলারে বাইক পারাপার, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকায় পাকা সড়কের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা উন্নয়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক জায়গায় পানির উপর দিয়ে ট্রলারের সাহায্যে মোটরসাইকেলসহ যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে যেমন রোগী হাসপাতালে নেওয়া, বাজারে যাতায়াত কিংবা শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া—সবকিছুতেই অতিরিক্ত কষ্ট পোহাতে হয়। অনেক সময় ট্রলার না থাকলে পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তা নির্মাণ ও স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, টেকসই বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
14/05/2026
সুনামগঞ্জ জেলায় আবারও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এবছরও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২০২২ সালের স্মৃতিকে আবারও ফিরিয়ে আনতে পারে এবারের বন্যা। জেলার নিম্নাঞ্চল, হাওর এলাকা ও নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের মাঝে ইতোমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। কৃষকরাও আশঙ্কা করছেন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে ভারতের মেঘালয় ও উজান এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার প্রস্তুতি রাখতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াল স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেনি সুনামগঞ্জবাসী। আবারও কি সেই ভয়ংকর বন্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জেলা? এখন সবার চোখ আকাশ আর নদীর পানির দিকে।
14/05/2026
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন, চামারদানি ইউনিয়ন এবং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন— এই তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ যেন বর্ষা এলেই চরম আকার ধারণ করে। বছরের পর বছর ধরে কাঁচা ও কাদামাটির রাস্তা, ভাঙাচোরা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ব্রীজের অভাবে কার্যত নিজেদের উপজেলা থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর ধরেও এসব ইউনিয়নে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট কাদায় পরিণত হয়। মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে কাদামাটিতে পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন, কারও হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের। বর্ষাকালে অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত টেকসই রাস্তা নির্মাণ, নতুন ব্রীজ স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে তিন ইউনিয়নের মানুষ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়ে আছেন।
02/05/2026
মধ্যনগরের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার সরকারি তথ্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যানুযায়ী, ৭৬ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যেই কর্তন সম্পন্ন হয়েছে এবং মাত্র ১৩ শতাংশ জমি জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান কাটার আগেই আকস্মিক বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেত ডুবে যায়। ফলে যে ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল, তা চোখের সামনে পানির নিচে হারিয়ে যাচ্ছে।
একজন কৃষক বলেন, “আমাদের সব ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথায় ৭৬ শতাংশ কাটা হলো, আমরা তো কিছুই দেখছি না। মাঠে গেলে শুধু পানি আর ডুবে থাকা ধান দেখা যায়।”
স্থানীয়দের মতে, কাগজে-কলমে ধান কাটার হার বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ জমির ফসল এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে করে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি, যা সরকারি হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে না ধরলে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই তারা দ্রুত সরেজমিনে বাস্তব চিত্র যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
01/05/2026
সুনামগঞ্জ এর হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২০০ কোটি টাকার পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে না পারায় সম্পূর্ণ ফসল হারিয়েছেন, আবার যারা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন তারাও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা শুকাতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে পানি বাড়ায় হাওরের বিস্তীর্ণ জমি ডুবে যায়। এতে বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার। কৃষকরা বলছেন, “এই ধানই ছিল আমাদের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
শুধু সুনামগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য হাওর অঞ্চলগুলোতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অকাল বৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন দুর্যোগ বাড়ছে, যা কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বেড়িবাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে—এ বিপুল ক্ষতির দায় কে নেবে, এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবেলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
30/04/2026
সুনামগঞ্জে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সময় আকাশে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পেয়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে হাওরাঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে চলমান বোরো ধান কাটার মৌসুমে এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি ফসলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ঝড়ের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এ অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।