যারা বলে 'হাদিস হলো কোরানের ব্যাখ্যা।হাদিস ছাড়া কোরান বোঝা সম্ভব নয়।হাদিস বাদ দিলে ধর্মের কিছুই থাকেনা' এ কথাগুলো মূলত কোরান বিরোধী কথা ।প্রমাণ....
♣"আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ, রহমাত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।" [ সূরা আন নাহল- আয়াত ৮৯]
♣"এটা এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো জ্ঞানী কওমের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কুরআনরূপে আরবী ভাষায়।" [ সূরা হামীম- আয়াত ৩ ]
♣"আর নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং তোমাদের পূর্বে যারা চলে গেছে তাদের দৃষ্টান্ত ও মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ।" [ সূরা আন নূর- আয়াত ৩৪ ]
♣"কিতাবে আমি কোন কিছুই বাদ দেইনি।" [ সূরা আন আম- আয়াত ৩৮ ]
♣"এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।"[ সূরা বাকারা - আয়াত ২]
♣"তারা কি কুরআন সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা- গবেষণা করে না,না তাদের অন্তরে তালা দেয়া আছে?"
সূরা মোহাম্মদ :আয়াত-২৪
♣"এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।"[ সূরা শুআ'রা- আয়াত ২]
♣"আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করেছি; মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়।"
সূরা কাহাফ: আয়াত-৫৪
বোনাস স্বরূপ আরো একটি আয়াত...
♣"তিনিই তোমার উপর এমন কিতাব নাযিল করেছেন, যার আয়াত সমূহ মৌলিক-সুস্পষ্ট অর্থবোধক, এগুলো হল কিতাবের মূল আর অন্যগুলো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়; কিন্তু যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারা গোলযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে উক্ত আয়াতগুলোর অনুসরণ করে যেগুলো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মূলত: এর মর্ম আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না। যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে যে, আমরা তার উপর ঈমান এনেছি, এ সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে, মূলতঃ জ্ঞানবান ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই নসীহত গ্রহণ করে না।" [সূরা আল ইমরান: আয়াত ৭]
আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো
এই কিতাব তোমাদের প্রতিটি বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে।” (সূরা আন-নাহল: ৮৯)
05/06/2026
ইসলামে বিধানদাতা কে? আল্লাহ নাকি রাসূল?
রাসূল কি স্বাধীন আইনপ্রণেতা, নাকি ওহীর অনুসরণ ও বাস্তবায়নকারী?
শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদ!
বর্তমান মুসলিম সমাজে অতিভক্তির আড়ালে এমন কিছু আকিদা ঢুকে পড়েছে, যা প্রকারান্তরে আমাদের শিরকের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, রাসূল স্বাধীনভাবে যেকোনো বিধান দিতে পারতেন। অর্থাৎ, আল্লাহর মতোই রাসূলের আদেশ নির্দেশ ও বিধান দেওয়ার এখতিয়ার ছিলো।
কিন্তু, পবিত্র কোরআন কী বলে এ ব্যাপারে ?
চলুন, বিষয়টিকে কোরআনের আলোকেই খতিয়ে দেখি -
১. "রাসূল যা দেন তা গ্রহণ কর" আয়াতটির আসল প্রসঙ্গ কী?
"আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে 'ফায়' হিসেবে যে সম্পদ দিয়েছেন তা আল্লাহর, রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, মিসকীন ও পথচারীদের জন্য, যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান শুধু তাদের মধ্যেই ঐশ্বর্য আবর্তন না করে ।
(সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭)
এরপর বলা হয়েছে - "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"
( সূরা আল হাশর ৫৯:৭ )
বাস্তবতা - এই আয়াতের মূল প্রসঙ্গ ছিল 'ফাই' বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন।
রাসুলের প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার নির্দেশ এটি।
ভিত্তি কী? রাসুল নিজের ইচ্ছায় কোনো নির্দেশ দিতেন না।
[বলুন] " আমার প্রতি যা ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়, আমি তো শুধু তারই অনুসরণ করি"
(সূরা আন-আম: ৫০)
"বলুন, নিজ থেকে এটা বদলানো আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি ।
আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহা দিনের শাস্তির আশংকা করি।"
(সূরা ইউনুস: ১৫)
অর্থাৎ, তাঁর কর্তৃত্ব স্বাধীন নয়, ওহী-নির্ভর।
২. রাসুলের আনুগত্য মানেই আল্লাহর আনুগত্য।
"কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে আপনাকে তো আমি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠাই নি"।
(সূরা আন-নিসা: ৮০)
যদি রাসুলের নিজস্ব স্বাধীন আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতো, তবে ইসলামের উৎস হতো দুটি। একটি আল্লাহর বিধান অপরটি রাসূলের বিধান।
কিন্তু, আয়াত স্পষ্ট করছে - রাসূল আল্লাহর বার্তা হুবহু পৌঁছে দেন বলেই তাঁর আনুগত্য করা মানে আল্লাহরই আনুগত্য করা।
৩. রাসুল বিচারক ছিলেন, কিন্তু আইনপ্রণেতা নন।
"অবশ্যই আমি সত্য সহকারে তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যেন তুমি যা আল্লাহ তোমাকে জানিয়েছেন, সে অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচার ফায়সালা কর এবং খিয়ানতকারীদের পক্ষে তর্ক করো না।"
(সূরা আন-নিসা: ১০৫)
আজকের যুগে একজন বিচারক যেমন রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী বিচার করেন কিন্তু, নিজে আইন বানান না;
ঠিক তেমনি রাসূলও আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানের আলোকেই বিচার করতেন।
৪. হালাল-হারাম করার চূড়ান্ত মালিক কে ?
(সূরা আরাফ ৭:১৫৭)
এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন, রাসূল মানবজাতির জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করেন। ইহুদি-খ্রিস্টানদের ওপর অতীতের যে কঠিন ধর্মীয় বোঝা ও বিধি-নিষেধ ছিল, তা সহজ করতেই রাসুলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে মনে রাখতে হবে, রাসুল এই হালাল-হারামের ঘোষণা দিতেন আল্লাহর ওহী ও নির্দেশনার আলোকেই, নিজের মনগড়া প্রবৃত্তি থেকে নয়।
কারণ, আল্লাহ নিজেই অন্য আয়াতে রাসুলকে ভালোবেসে সতর্ক করে বলেছিলেন-
"হে নবী, আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তুমি তা কেন হারাম করছ?"
(সূরা আত-তাহরীম: ১)
সুতরাং, চূড়ান্ত আইনদাতা বা বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ-ই।
আল্লাহ আরও সতর্ক করে বলেছেন,
"আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।"
(সূরা আন-নাহল: ১১৬)।
সুতরাং, চূড়ান্ত আইনদাতা একমাত্র আল্লাহ।
৫. তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কিছু বলেন না।
"তিনি মন গড়া কোনো কথা বলেন না।
এটি তো ওহী, যা তাঁর কাছে প্রেরণ করা হয়।"
(সূরা আন-নাজম: ৩-৪)
এই আয়াত প্রমাণ করে দ্বীনের মূল বার্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী।
তবে, রাসুলের কিছু ব্যক্তিগত বা মানবিক সিদ্ধান্ত কোরআনে আল্লাহ নিজেই সংশোধন করে দিয়েছেন -
(যেমন: সূরা আনফাল: ৬৭, সূরা তাওবাহ: ৪৩)। যা প্রমাণ করে তিনি মানুষ ছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশনার অধীন ছিলেন।
রাসুল কি সুপারিশকারী নাকি কিয়ামতের দিন অভিযোগকারী ?
আজ আমরা উম্মত হিসেবে রাসূলের সুপারিশের আশায় বসে আছি, কিন্তু কোরআন বলছে কিয়ামতের দিন রাসূল আমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে এক ভয়াবহ অভিযোগ দায়ের করবেন!
"আর রাসূল বলবেন: হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যক্ত বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছিল।"
(সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৩০)
কোরআন বাদ দিয়ে যারা নিজেদের মনগড়া দ্বীন বানায়, তাদের বিরুদ্ধে রাসুল নিজেই আল্লাহর কাছে মামলা করবেন।
আল্লাহর নামে বানিয়ে কথা বলার শাস্তি !
দ্বীনের ব্যাপারে নিজের থেকে একটা শব্দও বাড়িয়ে বলার অধিকার কি রাসুলের ছিল ?
আল্লাহ বলেন:
"আর যদি তিনি (রাসূল) আমার নামে কোন কথা বানিয়ে বলত,
তবে অবশ্যই আমি তাকে শক্তভাবে পাকড়াও করতাম,
অতঃপর অবশ্যই আমি তার জীবনধমনী / হৃদপিন্ডের শিরা (ওয়াতীন) কেটে দিতাম।"
(সূরা আল-হাক্কাহ, ৬৯:৪৪-৪৬)
যেখানে রাসূল-কে নিয়ে আল্লাহ এমন কঠিন কথা বলেছেন, সেখানে আজ কিছু মানুষ কিভাবে কোরআনের বাইরে গিয়ে দ্বীনের নামে নতুন নতুন প্রথা ও বিধান তৈরি করে?
শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদ- ইহুদি-খ্রিস্টানদের পথেই কি আমরা হাঁটছি?
অতীতের আহলে কিতাবরা (ইহুদি ও খ্রিস্টানরা) তাদের নবীদের ভালোবাসতে বাসতে একপর্যায়ে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দিয়েছিল, কেউ বা আল্লাহর পুত্র বানিয়ে নিয়েছে।
আজকের মুসলিম সমাজের বড় একটা অংশও একই ফাঁদে পা দিয়েছে।
কেউ রাসুল-পূজায় লিপ্ত হয়ে তাকে 'সর্বজ্ঞ' বা 'সব ক্ষমতার মালিক' বানাচ্ছে।
কেউ আলীকে অতিভক্তির কারণে অতিমানবীয় স্তরে নিয়ে যাচ্ছে।
এগুলো সবই শয়তানের সূক্ষ্ম চাল। আর এই চালের শিকার হয়ে অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনার পরও শিরকে লিপ্ত হচ্ছে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সতর্ক করে বলেছেন-
"আর তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে শিরকও করে।"
(সূরা ইউসুফ ১২ : ১০৬)
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না ।
এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন।
আর যে-ই আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রচনা করে।"
(সূরা আন-নিসা, ৪:৪৮)
যারা কোরআনকে পূর্ণাঙ্গ মনে করে না, তারাই রাসূল রাসূল বলে চিল্লাইয়া কোরআনের বাইরে গিয়ে শিরকের সাগরে ডুব দেয়।
আসুন, কোরআনের এই অকাট্য সত্যকে গ্রহণ করি। রাসূলকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর মহান রাসূল হিসেবে মর্যাদা দেই, তাকে আল্লাহর সমকক্ষ না বানাই।
আল্লাহ আমাদের শয়তানের এই সূক্ষ্ম শিরকের জাল থেকে হেফাজত করুন।
04/06/2026
# **কুরআনে বর্ণিত বিয়ের শর্তাবলী**
কুরআনে বিয়ের জন্য বেশ কয়েকটি নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে:
১. বর ও কনে উভয়কেই বিয়ের বয়সে পৌঁছাতে হবে
২. মুমিনরা মুশরিক নারী-পুরুষদের বিয়ে করতে পারবে না
৩. বর ও কনের মধ্যে আন্তরিক ও দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে
৪. বিয়ের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে
৫. বিবাহ চুক্তি (আক্বদ) সম্পাদন করতে হবে
৬. বিয়ে করতে হবে স্থায়ী বন্ধনের উদ্দেশ্যে
৭. বর তার কনেকে দেনমোহর প্রদান করবে
**১. বিয়ের উপযুক্ত বয়স**
**[৪:৬] আর ইয়াতিমদেরকে যাচাই করো যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছায়; অতঃপর তাদের মধ্যে বিচার-বুদ্ধির পরিপক্বতা দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।**
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে “বিয়ের বয়স” (বালাগুন নিকাহ)-এর কথা বলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে “বিচার-বুদ্ধির পরিপক্বতা” (রুশদ) অর্জনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
আরবি “বালাগু” শব্দের অর্থ ‘প্রাপ্তবয়স্কতা বা পরিপক্বতা লাভ’। যেহেতু প্রত্যেক শিশু একই বয়সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্কতা অর্জন করে না, তাই আল্লাহ বিয়ের নির্দিষ্ট কোনো বয়স নির্ধারণ করে দেননি। বরং এটি অভিভাবক ও পরিবারের বিচক্ষণতার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
**২. মুশরিকদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ**
**[২:২২১] আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন দাসীও একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর তোমরা (তোমাদের নারীদের) মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন দাসও একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।**
অপরদিকে [৫:৫] আয়াতে সচ্চরিত্রা মুমিন নারী এবং সচ্চরিত্রা আহলে কিতাব (অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টান) নারীদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এর মানে এটাই দাঁড়ায় যে, কোনো মুমিন কোনো মুশরিক বা অবিশ্বাসী নাস্তিককে বিয়ে করতে পারবে না।
**৩. আন্তরিক ও দৃঢ় অঙ্গীকার**
**[৪:২১] তোমরা কীভাবে তা (প্রদত্ত মোহরানা) ফিরিয়ে নেবে, অথচ তোমরা এক অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলে এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছিল দৃঢ় অঙ্গীকার (মিসাক্বান গালিযান) ?**
এই আয়াতের ”দৃঢ় অঙ্গীকার” কথাটি থেকে বোঝা যায় যে, বিয়ের সময় বর ও কনের মধ্যে গভীর ও আন্তরিক প্রতিশ্রুতি থাকা আবশ্যক।
**৪. বিয়ের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা**
**[২:২৩৫]** **তোমাদের কোন পাপ নেই যদি তোমরা নারীদেরকে ইশারায় প্রস্তাব করো কিংবা মনে গোপন রাখো…… কিন্তু তাদের সাথে গোপন অঙ্গীকার কোরো না, তবে বৈধভাবে কথাবার্তা বলতে পার এবং তোমরা বিবাহ-চুক্তি সম্পাদন কোরো না যে পর্যন্ত ইদ্দত পূর্ণ না হয়।**
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, বিয়ের বাগদান বা প্রস্তাব গোপনে বা প্রকাশ্যে—দু’ভাবেই হতে পারে। কিন্তু বিয়ে গোপনে করা যাবে না।
**৫. বিয়ের চুক্তি সম্পাদন করা**
[২:২৩৫] আয়াতে “বিবাহ-চুক্তি সম্পাদন কোরো না” কথাটি থেকেই বোঝা যায় যে, বিয়ে শুধু মৌখিক সম্মতি বা প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে হতে পারে না; অবশ্যই একটি লিখিত ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
**৬. বিয়ে হতে হবে স্থায়ী বন্ধনের উদ্দেশ্যে**
কুরআন বি্য়েকে স্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। নির্দিষ্ট কিছু মেয়াদের জন্য বিয়ের কোনো সুযোগ কুরআন রাখেনি।
বিবাহ বিচ্ছেদ অর্থাৎ তালাকের জন্য কুরআন যেসব কঠিন শর্ত আরোপ করেছে, তা থেকেই এটি স্পষ্ট হয়:
- বিচ্ছেদের পূর্বে ৪ মাস অপেক্ষা (২:২২৬)
- দুই পরিবারের মধ্যে সালিশ ও মীমাংসার চেষ্টা (৪:৩৫)
- স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া যাবে না, যদি না সে স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় (৬৫:১)
- তালাকের পর প্রাক্তন স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া (২:২৪১)
- সন্তান থাকলে তাদের ভরণপোষণ দেওয়া (২:২৩৩)
- স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য ২ বছর খাদ্য-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা (২:২৩৩)
**৭. দেনমোহর প্রদান**
**[৪:২৪] “অতএব তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমাদের পছন্দ হয়েছে, তাদেরকে নির্ধারিত দেনমোহর দিয়ে দাও।“**
কুরআনে দেনমোহরের নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এটি পাত্রের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। দেনমোহর নগদ অর্থ, উপহার বা অন্য কিছু যাই হোক না কেন, তা সরাসরি কনের হাতে পৌঁছাতে হবে। উক্ত আয়াতে ব্যবহৃত ‘আতুহুন্না’ (তাদেরকে দিয়ে দাও) কথাটি দ্বারা স্পষ্ট হয় যে দেনমোহর পাবে কনে, তার বাবা কিংবা অভিভাবক নয়।
এই সাতটি শর্ত পূরণ করলেই কুরআনের দৃষ্টিতে একটি বিবাহ বৈধ ও পবিত্র বলে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
04/06/2026
আল্লাহ ছাড়া আইন বিধান দেয়ার অধিকার কারো নেই
তাগুত হচ্ছে আল্লাহকে বাদ দিয়ে আল্লাহর বিপরীতে যাদের আনুগত্য করা হয়। যেমনঃ মানুষ সাধারণত রাজা, বাদশা, নেতা, শাসক, বিচারক, এমপি, মন্ত্রী, আলেম-উলামা, পুরোহিত ইত্যাদির আনুগত্য করে থাকে।
সেটা হতে পারে তাদের সরাসরি আদেশ মান্য করার মাধ্যমে কিংবা তাদের দেয়া আইন বিধান অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করার মাধ্যমে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কি আইন বিধান দেয়ার অধিকার অন্য কারো আছে?
আসুন আমরা দেখি আইন তৈরি করা কার এখতিয়ারে পড়ে আর আইনের সংজ্ঞাই বা কি?
সার্বভৌমত্ব মানেই হচ্ছে সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী, আইন রচনার সর্বোচ্চ শক্তি। আইনের সার্বজনীন সংজ্ঞা হল সার্বভৌম সত্তার ইচ্ছাই আইন”।
সুতরাং পুরো সৃষ্টি জগতের সার্বভৌমত্বের মালিক যিনি, আইন বিধান দেয়ার অধিকার কেবল তাঁরই। চলুন আমরা পবিত্র কুরআন থেকে জেনে নেই, আসমান ও যমীনের সার্বভৌমত্বের মালিক কে?
এ ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ “আর মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব আল্লাহরই আর আল্লাহর প্রতিই হচ্ছে প্রত্যাবর্তন স্থল”।
[সূরা আন নূর, আয়াত ৪২]
“বলো, সুপারিশ সর্বতোভাবে আল্লাহরই জন্যে। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই”।
[সূরা যুমার, আয়াত ৪৪-৪৫]
“আর আল্লাহর জন্যই হল আসমান ও যমীনের সার্বভৌমত্ব। আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী”।
[সূরা ইমরান, আয়াত ১৮৯]
“তুমি কি জান না যে, আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান”। [সূরা মায়েদা, আয়াত ৪০]
উপরোক্ত আয়াতের মত আরো বহু আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, সার্বভৌমত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তিনিই সকল ক্ষমতার উৎস এবং সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। আর এই সার্বভৌমত্বে আল্লাহর কোন শরীক নেই।
আর কারোর উপাসনা করবে না”।
[সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪০]
“বিধান দেবার অধিকার শুধু আল্লাহর। তিনি সত্য বর্ণনা করেন আর মীমাংসাকারীদের মধ্যে তিনিই শ্রেষ্ঠ”।
[সূরা আনআম, আয়াত ৫৭]
“বিধান তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে”। [
সূরা ক্বাসাস, আয়াত ৭০]
সুতরাং হুকুম বা আইন বিধান দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর এবং এক্ষেত্রে আল্লাহর কোন শরীক নেই। তার প্রমাণ নিম্নোক্ত আয়াতঃ “তিনি নিজ হুকুমে বা কর্তৃত্বে (সৃষ্টিজগতের জন্য আইন বিধান তৈরির ক্ষেত্রে) কাউকে শরীক করেন না”।
[সূরা কাহাফ, আয়াত ২৬]
আল্লাহ ছাড়া এই অধিকার কিভাবে অন্য কারোর থাকতে পারে যেখানে আল্লাহই হলেন সমগ্র বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা? আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক”।
[সূরা আ’রাফ, আয়াত ৫৪]
এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা আমাদের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করছেন যে, বিধান দেয়ার বিষয়টা সৃষ্টি করার সাথে সম্পর্কিত।
সৃষ্টিজগতের জন্য বিধান দেয়ার ব্যাপারটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাকেই মানায়। কারণ সৃষ্টিজগত সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান কেবলমাত্র স্রষ্টার নিকটেই রয়েছে।
সৃষ্টিজগতের জন্য কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ সেটা তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন। এজন্য আল্লাহ আমাদের জন্য যে দ্বীন বা বিধি-বিধান (ইসলামী শরীয়াহ) নির্ধারণ করেছেন সেটাই আমাদের জন্য সর্বোত্তম এবং পূর্ণাঙ্গ।
কেবলমাত্র ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজে ন্যায়বিচার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অপরদিকে একে তো কোন মানুষের আইন ও বিধি-বিধান তৈরী করার কোন অধিকার নেই। যদি কেউ এটা করে তবে সে নিজেকে আল্লাহর আসনে বসাবে এবং তার এই আইন মানার মাধ্যমে তারই ইবাদত করা হবে।
আর সেটা হবে আল্লাহ তা’আলার সাথে সুস্পষ্ট শিরক। অন্যদিকে মানবসৃষ্ট যে কোন বিধানই অপূর্ণাঙ্গ এবং ত্রুটিযুক্ত। এর দ্বারা সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তির পরিবর্তে যুলুম, অন্যায়-অবিচার ও বিশৃঙ্খলাই তৈরী হবে।
পৃথিবীতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জীবনযাপন এবং পরকালে আল্লাহর প্রতিশ্রুত জান্নাত পেতে হলে ইসলামী শরীয়াহর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
03/06/2026
যেদিন পাল্লা হবে চূড়ান্ত সাক্ষী...
প্রতিটি ভোর আমাদের মনে করিয়ে দেয় — জীবনের পাতা থেকে আরেকটি দিন কমে গেল। আমরা কি একটু ভাবি, সেই মহা হিসাবের দিনে আমাদের আমলের পাল্লা কোন দিকে ঝুঁকবে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেই ভয়াবহ পরিণতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন —
যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়।
(সূরা মুমিনুন: ১০৩-১০৪)
সেদিন আল্লাহ প্রশ্ন করবেন —
তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো না? তারপর তোমরা সেসবে মিথ্যারোপ করতে।
তখন অনুতপ্ত কণ্ঠে তারা কাঁদতে কাঁদতে বলবে —
হে আমাদের রব! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়।
হে আমাদের রব! এই আগুন থেকে আমাদের বের করুন; তারপর আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি, তবে তো আমরা অবশ্যই জালিম হব।
কিন্তু সেই আকুতি আর কোনো কাজে আসবে না...
আল্লাহ তখন চূড়ান্ত রায় দেবেন —
তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলবে না।
(সূরা মুমিনুন: ১০৫-১০৮)
একটু ভাবুন...
সেদিন যখন আল্লাহ বলবেন "আমার সাথে কোনো কথা বলবে না" — এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে? যে আল্লাহ আজ প্রতিটি দোয়া শোনেন, সেদিন তিনি মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এই ভয়টুকু যদি বুকে থাকে — সেটাই আমাদের বাঁচাতে পারে।
03/06/2026
❝ধর্ম নাকি ব্যবসা? কুরআনের আলোকেই খোঁজা যাক উত্তর❞
আমাদের সমাজের বর্তমান ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু রূঢ় কিন্তু বাস্তব সত্য কথা বলা এবার দরকার।
আজকাল তথাকথিত অধিকাংশ হাদিস অনুসারী আলেমদের ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় প্রোগ্রামগুলোর দিকে তাকালে কী দেখা যায়? লাখ লাখ টাকার চুক্তি, বিলাসবহুল গাড়ি, এমনকি হেলিকপ্টারে চড়ে দ্বীন প্রচারের নামে রাজকীয় রাজত্ব! একদল মানুষ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে হাদিসের নামে মনগড়া কথা বলে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে এবং এক চরম বিলাসী জীবনযাপন করছে।
দ্বীন প্রচারের এই আধুনিক রূপ দেখে মনে একটা বড় প্রশ্ন জাগে— কুরআনের আলোকে এটা কতটুকু জায়েজ?
নাকি এটা শুধুই ধর্মের নামে এক বিশাল ব্যবসা?
📖 কুরআনের অকাট্য বাণী কী বলে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধর্মের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন এবং পার্থিব লালসাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন:
তোমরা আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় করো। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪১)
কুরআনে পূর্ববর্তী নবীদের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বারবার বলা হয়েছে, তাঁরা দ্বীন প্রচারের জন্য মানুষের কাছে কোনো প্রতিদান বা টাকা চাইতেন না। তাঁদের একমাত্র প্রতিদান ছিল আল্লাহর কাছে। কিন্তু আজকের দিনের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। চুক্তি ছাড়া অনেক আলেম স্টেজেই ওঠেন না!
আল্লাহর হাদিস বনাম মানুষের হাদিস
ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো মানুষের তৈরি বা সংকলিত 'সহিহ হাদিস' (যা নবীর মৃত্যুর প্রায় দুই শত বছর পর মানুষের মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে)-এর ওপর দ্বীনের ভিত্তি রাখি না বা মোটেও রাখা উচিত নয়। মানুষের কথায় ভুলভ্রান্তি ও স্বার্থ থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহর বাণীতে কোনো ভুল নেই। আমার জন্য স্বয়ং আল্লাহর বাণী ও তাঁর 'হাদিস' (উত্তম কথা)-ই যথেষ্ট।
কুরআনে আল্লাহ নিজেই প্রশ্ন করেছেন:
তাহলে ওরা আল্লাহর বাণী (হাদিস) এবং তাঁর আয়তের পর আর কোন কথায় (হাদিসে) বিশ্বাস স্থাপন করবে? (সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৬)
যেখানে আল্লাহ স্বয়ং কুরআনকে সর্বোত্তম ও সম্পূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ঘোষণা করেছেন, সেখানে মানুষের তৈরি কিতাবের ওপর ভিত্তি করে একদল মানুষ ধর্মকে সস্তা উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে ফেলবে— এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ধর্ম কোনো ব্যবসার পণ্য নয়, আর আলেমদের বিলাসবহুল লাইফস্টাইল বজায় রাখার হাতিয়ারও নয়। ওয়াজ মাহফিলের নামে এই যে জাঁকজমক আর অর্থের খেলা, তা সাধারণ মানুষকে দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
আসুন, অন্ধ অনুকরণ বাদ দিয়ে সরাসরি আল্লাহর কিতাব—কুরআনের দিকে ফিরে আসি। মানুষের ব্যবসার ফাঁদ নয়, আল্লাহর খাঁটি নির্দেশনাই আল-কোরআন হোক আমাদের একমাত্র পথপ্রদর্শক।
03/06/2026
❝পীর-মুরিদি ও বায়াত গ্রহণ: কুরআন কী বলে?❞
আমাদের সমাজে একটি কথা খুব প্রচলিত আছে— যার কোনো পীর নেই, তার পীর শয়তান কিংবা বিংশ শতাব্দীতে এসেও তরীকতের পীরের হাতে বায়াত না হলে ঈমান পূর্ণ হয় না।
এই ধারণাগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যখন আমরা সরাসরি মহান আল্লাহর বাণী— পবিত্র কুরআন মাজিদ খুলে বসি, তখন সত্যটা একদম কাঁচের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।
অনেকেই জানতে চান, কুরআন মাজিদে কি পীর বা মুর্শেদ ধরার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আছে? পীরের হাতে হাত রেখে বায়াত গ্রহণ করতেই হবে— এমন কোনো হুকুম বা আদেশ কি আল্লাহ দিয়েছেন?
উত্তরটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সরাসরি: না, আল্লাহর কিতাব কুরআন এমন কোনো নির্দেশনা বা বাধ্যতামূলক হুকুম মানবজাতিকে দেয়নি।
'মুর্শেদ' শব্দের প্রকৃত অর্থ কী?
কুরআনে 'মুর্শেদ' (সঠিক পথপ্রদর্শক) শব্দটি এসেছে, কিন্তু সেটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পীর বা মাজারের অর্থে নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-কাহাফ-এ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হেদায়েত বা সঠিক পথ দেখানোর একচ্ছত্র মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি বলেন:
আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, সেই পথপ্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনো তার জন্য কোনো সাহায্যকারী মুর্শেদ (পথপ্রদর্শক) পাবেন না। (সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ১৭)
অর্থাৎ, প্রকৃত 'মুর্শেদ' বা গাইড হলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত কিতাব। কোনো সাধারণ মানুষ অলৌকিকভাবে কাউকে হেদায়েত দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
বায়াত কার হাতে হতে পারে?
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে সাহাবীগণ তাঁর হাতে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করেছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে। রাসূল (সাঃ), এর পর খলিফাদের হাতে বায়াত নেওয়া হতো রাষ্ট্রের আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে।
কুরআনে বলা হয়েছে:
নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে। (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১০)
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, বায়াত ছিল আল্লাহর রাসূলের সাথে দ্বীনের পথে চলার সরাসরি চুক্তি। রাসূলের পর কোনো সাধারণ পীর বা ব্যক্তির হাতকে 'আল্লাহর হাত' বা অলৌকিক মাধ্যম বানিয়ে মিলাদ, মাজার বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বায়াত করার কোনো বিধান আল্লাহ কুরআনে দেননি।
কুরআনের বিকল্প কোনো 'মিডিয়া' বা মাধ্যম নেই
ইসলামে আল্লাহ এবং বান্দার মাঝখানে কোনো 'দালাল' বা তৃতীয় মাধ্যমের (যেমন খ্রিস্টানদের পোপ বা হিন্দুদের পুরোহিত প্রথা) অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ আমাদের এত কাছে যে, ডাকলেই তিনি শোনেন:
আর আমার বান্দাগণ যখন আপনার কাছে আমার পরিপ্রক্ষিতে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৬)
নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে কিংবা আল্লাহর ভালোবাসা পেতে কোনো পীরের সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু খাঁটি অন্তরের তাওবাহ।
ধর্মকে যারা পীর-মুরিদির নামে ব্যবসা, মাজারপূজা আর অন্ধ অনুকরণে রূপান্তর করেছে, তাদের ফাঁদ থেকে বের হওয়ার সময় এসেছে। দ্বীন শেখার জন্য আলেমদের কাছে যাওয়া বা জ্ঞানীদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু কাউকে অন্ধভাবে 'পীর' মেনে তার কাছে নিজের ঈমান বন্ধক রাখা কুরআনের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আসুন, মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে সরাসরি আল্লাহর কিতাবের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি। কুরআনই আমাদের জন্য একমাত্র সম্পূর্ণ গাইড বুক।
03/06/2026
**কুরানে কি ব্যভিচারের শাস্তির বিধান বর্ণিত আছে?**
* হ্যাঁ
**কুরানে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তি কী?**
* ৪জন সাক্ষীসহ আপরাধ প্রমাণিত হলে নারী ও পুরুষকে উভয়কে ১০০ বেত্রাঘাত (২৪:২, ২৪:৪, ২৪:১৩)
**কুরানে কাউকে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শাস্তি কী?**
* ৮০ বেত্রাঘাত এবং তার সাক্ষ্য আর কখনো গ্রহণ করা হবে না (২৪:৪) যদি না সে তওবা করে এবং ফিরে আসে (২৪:৫)
**কুরানে কি ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার কথা বলা আছে?**
* না
**কুরানে কি অন্যকোনো অপরাধের জন্য পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান বর্ণিত আছে?**
* না
**তাহলে কুরান পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার ব্যাপারে কী বলে?**
* কুরান বলে মুশরিকরা এই রীতি পালন করতো ঈমানদার এবং নবীদের হত্যা করার জন্য (১১:৯১, ১৮:২০, ১৯:৪৬, ২৬:১১৬, ৩৬:১৮)
**ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান কোথায় পাওয়া যায়?**
* হাদিস এবং ইসলামের দ্বিতীয় উৎসগুলোতে
**কুরানে রজম সম্পর্কিত কোনো আয়াত নেই কেন?**
* কুরানে এমন একটি আয়াত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা হারিয়ে যায়
**কীভাবে হারিয়ে যায়?**
* ছাগলে খেয়ে ফেলেছে
**হারিয়ে যাওয়া আয়াতের ব্যাপারে হাদিসে কী বলা আছে?**
* হাদিস বলে ব্যভিচারিকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা এবং প্রাপ্তবয়স্ক লোককে দশঢোক বুকের দুধ পান করিয়ে মাহরাম বানানোর বিধান দিয়ে আয়াত নাজিল হয়। আয়াতগুলো আয়েশা (রাঃ) এর বালিশের নিচে রাখা ছিল। নবীর মৃত্যুর পর একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে (ইবনে মাজাহ:১৯৪৪)
* অন্য হাদিসে বলা আছে, প্রথমে অবতীর্ণ দশবার স্তন্যপানের আয়াত রহিত করে দিয়ে, পরবর্তীতে পাঁচবার স্তন্যপান করিয়ে মাহরাম বানানোর একটি আয়াত নাজিল হয় (মুসলিম: ৩৪৮৯,৩৪৯০)। কিন্তু কুরানে উভয় আয়াতের একটিও খুঁজে পাওয়া যায় না।
**কুরান কি বলে কুরান থেকে কোনো আয়াত হারিয়ে গেছে?**
* না, কুরান বলে কুরানে প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্ট এবং বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (১৬:৮৯, ৬:১১৪) এবং মুমিনদের পথনির্দেশের জন্য কুরান যথেষ্ট (৭:৫২)
--------------------------------------------------------------------------
হাদিস এবং ইসলামের দ্বিতীয় উৎসগুলো থেকে দাবি করা হয় কুরান থেকে অনেক আয়াত হারিয়ে গেছে। যেমন রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ডের আয়াতটি। কিন্তু রজমের আয়াত যে কখনোই কুরানের অংশ ছিল না তা নিম্নোক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়:
**[০৪:২৫](অংশ...)**
**“তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন মুসলিম নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, তারা ঈমানদার দাসীদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ডান হাতের অধিকারভুক্ত তাদের বিয়ে করবে।…………… অতঃপর যখন তারা বিবাহিত হবে তখন যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের শাস্তি হবে স্বাধীন নারীর অর্ধেক।“**
উক্ত আয়াত থেকে আমরা দেখতে পাই, একই অপরাধের জন্য ডান হস্ত মালিকানাধীন নারীর শাস্তি হবে স্বাধীন নারীর অর্ধেক। তাহলে প্রশ্ন হলো, ব্যভিচারের জন্য বিবাহিত স্বাধীন নারীর শাস্তি যদি হয় পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড, তবে বিবাহিত দাসীকে অর্ধেক মৃত্যুদণ্ড দেয়া কীভাবে সম্ভব?
সুতরাং, এই কথা পরিষ্কার যে কুরান কখনো রজমের বিধান দেয়নি এবং কুরানের অংশ হিসেবে কখনো এর অস্তিত্ব ছিল না।
03/06/2026
হাদিস না থাকলে আমরা কীভাবে জানতাম কুরআন সংরক্ষিত হয়েছে কিনা?
যারা কুরআনের বিরুদ্ধে গিয়ে মানব-রচিত বিধানের পক্ষে ওকালতি করে, তাদের খুব কমন একটি যুক্তি হলো: “হাদিস ছাড়া কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করা অসম্ভব।”
তাদেরকে একটি সহজ প্রশ্ন করতে চাই - আপনারা যখন কোনো অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত দেন, তখন তার হাতে কুরআন তুলে দেন নাকি বুখারি শরীফ?—অবশ্যই কুরআন।
কারণ আপনারা ভালো করেই জানেন, কোনো অমুসলিমকে বুখারি শরীফ পড়তে দিলে সে আর জীবনেও ইসলাম গ্রহণ করবে না।
এভাবে শুধুমাত্র কুরআন দেখিয়ে একজন অমুসলিমকে মুসলিম বানানোর পর আপনারা তার ওপর শত-শত, হাজার-হাজার হাদিস-ফিকাহ আর ফতোয়ার বোঝা চাপিয়ে দেন।
এখানে আমাদের প্রশ্ন হলো—হাদিস ছাড়া কুরআন বোঝা যদি অসম্ভবই হয়, তাহলে কীভাবে হাদিসের সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্র কুরআন পড়ে অমুসলিমরা ইসলাম গ্রহণ করে?
বাস্তবতা হলো, একজন অমুসলিম কুরআন পড়ার পর নিজে থেকেই বুঝে নেন যে এটি সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আগত। তারপর তিনি এই কিতাব যার ওপর নাযিল হয়েছে, অর্থাৎ মুহাম্মদ-এর ওপর ঈমান আনেন।
অপরদিকে আমরা যারা জন্মগত মুসলিম, তারা সাধারণত আগে মুহাম্মদ ও তাঁর নবুয়তের কাহিনি শুনি, তারপর তাঁর ওপর নাযিলকৃত কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করি।
প্রকৃত সত্য হলো—কুরআন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কিতাব। এটিকে আল্লাহর বাণী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য দ্বিতীয় কোনো উৎসের প্রয়োজন হয় না।
বরং মানব রচিত হাদিসগুলোই বারবার কুরআনের বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এসেছে। যে কারণে দেখা যায়, প্রকৃত ঈমানদারদের নিকট হাদিসের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও কুফফারদের নিকট হাদিসগুলো খুবই জনপ্রিয়।
নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো যে কীভাবে মানবরচিত হাদিসগুলো কুরআনের সংরক্ষণ ও সত্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে:
* ব্যভিচারীকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করার আয়াত এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দশবার বুকের দুধ পান করিয়ে মাহরাম বানানোর আয়াত কুরআনের অংশ ছিল।
কিন্তু নবীর মৃত্যুর পর আয়েশার অসতর্কতায় একটি ছাগল এসে সেই আয়াতগুলো খেয়ে ফেলে।
(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৯৪৪)
* নবী একবার কুরাইশদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার সময় সুরা আন-নাজমের মাঝখানে লাত, উজ্জা ও মানাত দেবীর সুপারিশ করার ক্ষমতা আছে স্বীকার করে কিছু আয়াত পাঠ করে ফেলেন।
পরে জিবরীল এসে তাঁকে সংশোধন করে দেন। ইতিহাসে এটি “কিসসাতুল গারানীক” বা “স্যাটানিক ভার্সেস” নামে পরিচিত। (তারিখ আল-তাবারী, খণ্ড ৬)
* খলিফা উসমান কুরআনের অতিরিক্ত কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। (সহীহ বুখারী ৪৯৮৭)
* কুরআনের অংশ হিসেবে, প্রথমে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দশবার স্তন্যপান করিয়ে মাহরাম বানানোর একটি আয়াত নাযিল হয়। পরে তা রহিত করে দিয়ে পাঁচবার স্তন্যপান করিয়ে মাহরাম বানানোর আরেকটি আয়াত নাযিল হয়। কিন্তু কুরআনে এই দুটি আয়াতের কোনোটিই খুঁজে পাওয়া যায় না। (সহীহ মুসলিম ১৪৫২)
* কুরআনে সুরা বারাআত (সুরা তাওবা)-এর সমান দৈর্ঘ্যের আরেকটি সুরা ছিল, কিন্তু তার একটি লাইন ছাড়া বাকি পুরো অংশ সবাই ভুলে গেছে।
(সহীহ মুসলিম ১০৫০)
* কুরআনের অংশ হিসেবে মুসাব্বিহাত সুরাগুলোর মতো আরেকটি সুরা পাঠ করা হতো। (মুসাব্বিহাত বলতে সেই সুরাগুলোকে বোঝায় যেগুলো ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘সাব্বাহা’ বা ‘ইউসাব্বিহু’ দিয়ে শুরু হয়—যেমন সুরা হাদীদ, হাশর, সাফ, জুমু‘আ, তাগাবুন, আ‘লা ইত্যাদি)। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সুরাটির দুটি বিচ্ছিন্ন আয়াত বাদে বাকি পুরো অংশ সবাই ভুলে গিয়েছিল। (সহীহ মুসলিম ১০৫০)
* বি’রে মাউনার শহীদদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়ে নবীর ওপর একটি আয়াত নাযিল হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তার তিলাওয়াত রহিত হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী ২৮১৪, ৪০৯৫; সহীহ মুসলিম ৬৭৭a)
কুরআনের মতো শাশ্বত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি কিতাবের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে গোঁজামিল ও অন্তর্দ্বন্দ্বে পরিপূর্ণ হাদিস মানতে হবে—এমন কথা তারাই বলে যাদেরকে আল্লাহ বিবেক-বুদ্ধি থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন; এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের ওপর আল্লাহ অপবিত্রতা চাপিয়ে দিয়েছেন (১০:১০০)। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাদের মতো হওয়া থেকে হিফাযত করেন।
03/06/2026
🛑 কুরআনে বারবার বলা হয়েছে—নবী-রাসূলগণ দ্বীন প্রচারের বিনিময়ে কোনো অর্থ বা পারিশ্রমিক চাননি (৩৬:২১, ৩৮:৮৬, ২৬:১০৯)। অথচ অনেকেই আল্লাহর আয়াতকে দুনিয়াবি স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে কুরআনে সতর্ক করা হয়েছে (২:৭৯, ২:১৭৪, ৯:৯)। তাই দ্বীন প্রচার হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, ব্যবসা বা লাভের জন্য নয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the business
Website
Address
Sunamganja, Sadar
Sunamganj
