17/09/2025
গতদিন ইংল্যান্ডে ইসলাম তথা মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক বিশাল আন্দোলন সমাবেশ করেছে ব্রিটিশ সিটিজেনরা, তাদের সাথে ছিল ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের জনগণও। সমাবেশে প্রায় দের লাখ মানুষ যোগ দিয়েছে( খবর রয়টার্স)।
তাদের একমাত্র দাবী এবং শ্লোগান ছিল, ইউরোপে ইসলামের জায়গা নেই, যারা মুসলিম ধর্মপ্রান এখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চাও, তোমরা আরব দেশগুলোতে চলে যাও। এবং এদেরকে চিহ্নিত করে আর নাগরিকত্ব বাতিল করে বহিষ্কার আদেশ চেয়েছে রাষ্ট্রের কাছে। অন্যান্য স্লোগানগুলো খুবই নগ্ন ভাষায় দিয়েছে, যা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাইছি না।
ইউরোপে ইসলামের বিরুদ্ধে দিনে দিনে কেন এমন পরিস্থিতি হল???
আমরা যখন প্রথম ইউরোপে আসি, তখন আমাদের খ্রিষ্টান সহপাঠিরা আমাদের সাথে মসজিদে যেতো, আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতো, সাংবাদিকরা এগুলো নিয়ে পজেটিভ প্রচারণা পত্রিকায় লিখত। কিন্তু আজ তারাও আমাদের ইসলামের বিরুদ্ধে, তারাও এখন প্রচণ্ড রকমের বিরক্ত।
সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, ইতালি ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের অথোরিটি ইসলামের উপর শুধুমাত্র বিব্রত বাঙ্গালীদের কর্মকাণ্ডের উপর বেইজ করে। অথচ এদেশে বাঙ্গালীদের চাইতেও আরবের দেশগুলোর মুসলমানের সংখ্যা অনেক বেশী হলেও আরবের মুসলিম নিয়ে ইউরোপীয়দের তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই।
এখানে যারা বাঙ্গালী-ইসলামের ঠিকাদার, তারা কি কখনোই ভেবে দেখেছে, কেন আমাদের ধর্মকে এতো বাজে ভাবে দেখছে তারা? কিছুদিন আগেও যারা আমাদের ফেভারে ছিল, তারা আজ কেন আমাদের বিরুদ্ধে?? কখনো কি এই ধর্মীয় ঠিকাদারেরা রাষ্ট্র তথা সরকারের পালস বুঝার চেষ্টা করেছে? নাকি তারা নিজেদের খেয়াল খুশী মতো যেভাবে ইচ্ছে যা ইচ্ছে সেগুলোকে ধর্মের নামে অপতৎপরতা চালিয়ে এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ভাবে সবার শত্রু বানিয়েছে????
ইতালির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আয়োজিত একাধিক মিটিংএ আমার যোগ দেবার সুযোগ হয়েছে, ধর্ম ও সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয় থেকেও সভা আয়োজন করা হয়েছিলো, সেখানে ছিল ভেটিক্যান প্রতিনিধিরা, সেই মীটিংএও আমাকে অংশ গ্রহন করতে হয়েছিলো। সেখানে যেই বিষয়গুলোকে তারা তাদের নিজেদের কৃষ্টি কালচার অভ্যতা ভদ্রতা ধর্ম সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্যে হুমকি মনে করছে, তার মধ্যে মুল বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করি, দেখেন আপনাদের বুঝে আসে কিনা!!!!
ইতালির সরকার কোন অবস্থাতেই রাস্তা ঘাটে নামাজ পড়া, ইফতার করা বা কোন ধর্মীয় আচার আচারন অনুষ্ঠান করা পছন্দ করে না, বরং প্রচণ্ড রকমের বিরক্ত ও বিব্রত বোধ করে।
আমি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের অথোরিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাহলে তোমরা কেন রাস্তায় নামাজ পড়ার জন্যে পারমিশন দেও। উত্তরে বলেছে, এখানে দুটি বিষয় কাজ করে, ১, রাস্তায় কথা বলা ও সমাবেশ করা নাগরিকের গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকার, এই আইনটিকে সুচতুর ভাবে ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়।২, এদেশে সকল ধর্মের সহবস্থান সমান।
তবে ভ্যাটিকানসহ অন্যান্য ধরমালম্বিদের প্রশ্ন হল, আজ পর্যন্ত তো কোন খ্রিষ্টান ধর্মগুরু তার দলবল নিয়ে একদিনও রাস্তায় প্রার্থনার আসর বসালো না, আরও হাজারও ধর্মের মানুষ এই দেশে বাস করে তারাও কোনদিন পথে এসে প্রার্থনার আসর বসালো না। মরক্কো, তুনেশিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, পাকিস্তান, আফগানসহ পৃথিবীর ৫৬ টি ইসলামিক দেশের মুসলিমরা ইতালিতে বাস করে, তাদের কোন দেশের মুসলিমকেই রাস্তায় ইবাদত বন্দিগি আর ইফতার করার প্রয়োজন হয় না, রাস্তায় নামাজ আর ইফতার করতে হয় শুধু বাংলাদেশের মুসলমানদের, এবং কেন???
শুধু বিধর্মীরাই নয়, এখানে বাস করা মরক্কো তিউনেশিয়া ইরাক ইরান সিরিয়া লিবিয়া লেবাননসহ অন্যান্য দেশের মুসলমানেরাও বাঙ্গালীর ধর্মীয় উম্মাদনা নিয়ে অসন্তুষ্ট বিব্রত।
গত রমজান মাসে ইতালির অনেকগুলো স্কুল ভিজিটে যেতে হয়েছে আমাকে। আমাদের সিসিএল এর মুক্তার ভাইও একাধিক স্কুলে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়েছে। স্কুল অথোরিটির প্রশ্ন হল, শুধুমাত্র বাঙ্গালী ছোট ছোট শিশুদের উপরে রোজা ফরজ করলো কে?? কেন অন্যান্য মুসলিম শিশুদের উপর রোজা ফরজ নয়??" ১৬ ঘন্টা খারার আর পানীয় ছাড়া থেকে শিশুদের কোন ক্ষতি বা দুর্ঘটনা হলে এর দ্বায় নিবে কে???
আমিও নিজেকে প্রশ্ন করি, ইসলাম কি এতোই ঠুঙ্ক ও মূল্যহীন ধর্ম, যাদেরকে পথে ঘাটে ড্রেনের পাশে ইবাদত বন্ধিগি করতে হয়??
আপনারা খেয়াল করে দেখুন, পৃথিবী জোরে বাঙ্গালী বিদ্বেষ শুরু হয়ে গেছে, এবং এই একই কারনে বহিষ্কার করাও শুরু হয়েছে।
সৌদিতে গনহারে গ্রেফতার এবং দেশে ফেরত শুধুই বাঙ্গালিকে। কাতার দুবাই ওমান বাহারাইনে একই অবস্থা।
মালয়শিয়াতে গনগ্রেফতার বাঙ্গালীদেরকে।
ইংল্যান্ডএ গনহারে মব ও আক্রমের শিকার হচ্ছে বাঙ্গালীরা।(গতকালও লন্ডনে এক বোরকা নিকাব পরিহিত বাঙ্গালী মহিলাকে তার সন্তানসহ বেধর পটিয়েছে)। এবং ব্রিটিশ প্রশাসন এবাপারে নিশ্চুপ। মানে নীরব অনুমোদন দিচ্ছে।
পোল্যান্ডে অনেক দেশের মুসলমান বাস করে আসছে, তাতে কোন সমস্যা হয়নি, এখন বাংগালির গেদারিং বেশী হবার কারনে পোল্যান্ডের জনগন এটাকে তাদের সামাজ সংস্কৃতির জন্যে হুমকী মনে করে গতকাল ১ লক্ষ লোকের সমাবেশ করে বাংগালিদের বহিস্কার চেয়েছে॥
তুর্কী যে মুসলিম দেশ, তারাও শুধুমাত্র বাংগালি ধরা পরলেই বেধর মারধর করে॥
ইতালিতে বিদেশীদের নিয়ে সমস্যা থাকলেও বাঙ্গালীদের উপর নিপীড়ন অনেকগুণ বেড়েছে। গত দুই মাসে দুজন বাঙ্গালিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
পথে ঘাটে দিনে রাতে শুধু বাঙ্গালীর উপরই আক্রমণ হচ্ছে।
অথচ ইউরোপের সব চাইতে নিচু ও ঘৃণিত কাজগুলো করছে বাঙ্গালীরা। যেই কাজ ইতালিয়ানসহ অন্য কেউ করতে চায় না।
বাঙ্গালীরা জানপ্রান দিয়ে ইতালিয়দের যেই সেবা যত্ন করলো তাতে ইতালিয়ানরা বাংগালির উপর অত্যাচার না করে খুশী হবার কথা ছিল।
এখানেই শেষ নয়, ইতালি ফ্রান্স ইংল্যান্ড ফিনল্যান্ড নরওয়েসহ ইউরোপী দেশগুলোতে বাঙ্গালী আশ্রয়প্রার্থীদেরকে গনহারে আদালত বহিষ্কার আদেশ দিচ্ছে।
গত পরশু হাঙ্গেরি রাষ্ট্রীয় ভাবে আইন করেছে বাংলাদেশ থেকে তারা কাজের পারমিটে লোক নিবে না, কারন ধর্মীয় উম্মাদনা। একই কারনে পৃথিবীর সকল দেশের ইমিগ্রেশন পলেসি শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য কঠিন করা হচ্ছে॥
এই যে পৃথিবীতে দিনে দিনে বাঙ্গালীদের পথ সঙ্কুচিত হচ্ছে শুধুমাত্র অল্প কিছু বাঙ্গালীর ধর্মীয় উম্মাদনার কারনে। আমার তো মনে হয়, ইউরোপে বাংলাদেশ কমিউনিটির কিছু মানুষ ধর্মীয় লেবাস আর ব্যানারে সুচতুর ভাবে ইহুদীদের চর হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ইসলামকে পৃথিবীর কাছে শত্রু বানানোর কাজ করছে। এবং তারা এটাতে সফলও।
ইতালির বর্তমান সরকার সর্বউচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে রোমের ৫ নং মিনিচিপিওতে ডেমোক্রেট প্রতিনিধি হটিয়ে তাদের নিজ দলের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে, কারন ৫ নং মিনিউচিপিওতেই অনেকগুলো বাঙ্গালীদের মসজিদ, তারা নির্বাচিত হতে পারলে এই মিনিচিপিওর সকল বাংলাদেশীয় মসজিদগুলো বন্ধ করবে।
একই কারনে ইতালির আরও কিছু প্রভিন্সে বাঙ্গালী অধ্যাসিত এলাকায় তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার এজেন্ডা রয়েছে।
আর যদি এই সকল মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়, তাহলে এর জন্যে দ্বায় থাকবে একমাত্র বাংলাদেশ কমিউনিটির সংশ্লিষ্টগনদের।
এই দ্বায় আপনি আপনার গলার জুড়ে আর শরীরের জুড়ে এরিয়ে গেলেও দুটি কারনে এর দ্বায় থেকে আপনি মুক্তি পাবেন না॥
১, ভিন্ন ধর্মীয় দেশে ইবাদতের নামে পথে ঘাটে বিঘ্ন ঘটালো ইসলাম আপনাকে অনুমোদন দেয় না॥
২, মসজিদ মাদ্রাসা আর ঘরে নামাজের জায়গা থাকা অবস্হায় পথে ঘাটে ইবাদত বন্দিগী করার অনুমোদন কুরানে নেই॥
পুরো ইউরোপ জুড়ে ডানপন্হীদের উথ্যানের পেছনে বড় রকমের অবদান রেখেছে এই ধর্মীয় উম্মাদনার॥ ইসলাম যে সুশৃঙ্খল ও শান্তির ধর্ম, তা আমাদের কৃতকর্ম দ্বারা কখনোই প্রমান করতে পারি নাই। এই পরম সত্য আপনি না মানতে চাইলে নিজেকে প্রশ্ন করুণ, বাঙ্গালীরা বিগত ৩০ বছর ধরে ইউরোপের পথে ঘাটে ধর্ম চর্চা করে ইসলামের অবস্থান এখন কোন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে???
আমার খুব আফসোস হয়, আমরা ইউরোপে যেই অবদান রেখেছি, তাতে আমাদের অবস্থান হবার কথা ছিল সর্বউচ্চ মর্যাদার, অথচ এই উম্মাদনার কারনে আমরা হয়েছি সব চেয়ে নিকৃষ্ট।
ইতালিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি নিয়ে আমি নিজেও প্রচুর রকমের বিরক্ত কারন বাংগালি কমিউনিটির কেউ কাউকে সন্মান করে না, প্রতিটি নেতা নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করে, এবং তার চাইতে বেশী জ্ঞানী আর বড় বুদ্ধিজীবী জগতে দ্বিতীয়টি নাই বলেও জ্ঞান করে॥
আপনি শুধু এইটুকুন বুঝার চেস্টা করুন, আপনি যদি ধার্মিক হয়ে থাকেন তাহলে কোন স্যাকুলার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের দেশে প্রবেশ করা ধর্মীয় ভাবে অপরাধ করেছেন, -আলকুরআন
(সংগৃহীত)