28/07/2024
শাবিপ্রবিতে গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন
২৮ জুলাই, ২০২৪
Socialism SSF:SUST is a Page in Facebook of Socialist Students' Front SUST unit. SSF established in 1984, but the formal work in SUST started in 1998.
Now 12th Committee is running. As a unit of central SSF we are fighting for establishing an Education Policy which must be for all, and will be a secular, democratic, without discrimination, scientific, one way policy. Ultimately, we fight for establishing communism in the world. We are the front organization of Socialist Party of Bangladesh(Marxist)-SPB(M)
28/07/2024
শাবিপ্রবিতে গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন
২৮ জুলাই, ২০২৪
07/07/2024
তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৪
কোটা পুনর্বহালের বৈষম্যমূলক ও সাম্য-চেতনাবিরোধী রায় প্রত্যাহার কর
আজ ৭ জুলাই ২০২৪ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ,শাবিপ্রবি শাখা কমিটির সভাপতি এক বিবৃতিতে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের গণবিরোধী রায় বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'সম্প্রতি ৫ই জুন, ২০২৪ সরকারি চাকরির ১ম ও ২য় শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের গণবিরোধী রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ধরণের বৈষম্যমূলক রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও তা অবিলম্বে বাতিলের দাবী জানাই। কোনো দেশের পিছিয়ে পড়া(অনগ্রসর) জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করবার যৌক্তিক উদ্দেশ্যে চাকরির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ(অনুর্ধ্ব ১০ শতাংশ) কোটা বরাদ্দ রাখা যায় (২৯নং ধারা,অনুচ্ছেদ ৩,বাংলাদেশ সংবিধান)। আমাদের দেশেও সেরকম বহাল রাখা প্রয়োজন বলেই আমরা মনে করি। তবে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের ৩য় বা ৪র্থ প্রজন্মের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা একটি বৈষম্যমূলক সমাজে সেই বৈষম্যকে আরো তীব্র করছে শুধু তাই নয় এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাম্যের অঙ্গীকারকেও ভূলুন্ঠিত করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা করা কিংবা তাদের পরিবারের সহযোগিতার প্রশ্নেও আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখেই আমরা বলতে চাই এই ৩০ শতাংশ কোটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় তা থাকতে পারে। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আজকের সময়ে এই তীব্র বেকার সংকটের কারণ এই বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনা (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার) ও লক্ষ্য অর্জনে প্রধান অন্তরায়। এর ফলেই ঘরে ঘরে আজ বেকারত্ব এত প্রকট আকার ধারণ করেছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার হতাশাগ্রস্ত হয়ে আজ সমাজে বিরাজমান। তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা তারা জানে না। রাষ্ট্র তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছেনা। পুঁজিবাদের ক্ষয়িষ্ণু যুগে তার কোনো সুযোগও বাস্তব নয়। এরকম একটি সংকটগ্রস্ত পরিস্থিতিতে পুনরায় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জনমানুষের চাকরি পাবার সম্ভাবনাকে আরো সংকুচিত করবে, অনিশ্চয়তা আরো বৃদ্ধি করবে। অতীত সময়ে(২০১৮ সাল) এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলো। বর্তমান সময়ে আবার আন্দোলন করেই এই রায় বাতিলে বাধ্য করতে হবে।'
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, শাবিপ্রবি শাখা অবিলম্বে এই রায় বাতিল চায় এবং কোটা প্রথার যৌক্তিক সমাধান ও মেধাভিত্তিক শোষণহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
বার্তা প্রেরক
মাইনুল ইসলাম
সদস্য
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, শাবিপ্রবি।
07/07/2024
তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৪
বৈষম্যমূলক পেনশন স্কীম 'প্রত্যয়' বাতিল করে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালু কর
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান সর্বাত্মক আন্দোলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংহতি
আজ (৭/৭/২০২৪) সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চলমান নতুন পেনশন স্কীম 'প্রত্যয়' বাতিলের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি তানভীর রহমান বলেন, “২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর থেকে সারাদেশে সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈষম্যমূলক প্রত্যয় স্কীমের বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ স্কীমের আওতায় আনা হবে। নানা ভাবে আর্থিক সুবিধা কমানো হয়েছে প্রত্যয় স্কীমে। পূর্বে পেনশন স্কীমে গ্র্যাচুইটি বাবদ যে এককালীন টাকা দেওয়া হতো তা বাতিল করা হয়েছে। চাকুরীকালীন মাসিক বেতনের ১০% কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্বের পেনশন স্কীমে মাসিক ৫% ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যয় স্কীমে কোন ইনক্রিমেন্ট থাকবে না। পূর্বে চাকুরীজীর নমিনি আজীবন পেনশন পেলেও নতুন স্কীমে তা ৭৫ বছর পর্যন্ত সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নতুন স্কীমে এলপিআর, উৎসব ভাতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন বক্তব্য নেই। নতুন স্কীমের সকল সিদ্ধান্তই বৈষম্যমূলক। তাছাড়া এভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত জোর করে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাপিয়ে দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন হরণ করে। আমরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যয় স্কীম বাতিলের দাবি করছি।"
তারা আরো বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নেই। গবেষণায় বরাদ্দ যৎসামান্য। সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা রকম সংকটে জরাজীর্ণ। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকদের বেতনও সীমিত। স্বতন্ত্র বেতন ও মর্যাদার জন্যও শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হয়েছে। এর ওপর নতুন পেনশন স্কীম উচ্চ শিক্ষার সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে। প্রত্যয় স্কীম বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। সরকার এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অবিলম্বে 'প্রত্যয়' স্কীম বাতিল করে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
বার্তা প্রেরক
মাসুদ মন্ডল
সদস্য
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, শাবিপ্রবি।
06/07/2024
কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, শাবিপ্রবি শাখার শ্রদ্ধা নিবেদন
25/05/2024
শিক্ষাক্রম ২০২১ বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গণস্বাক্ষর কার্যক্রম।
08/03/2024
ক্লারা জেটকিন : আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পথিকৃত
ক্লারা জেটকিন, শ্রেণি সংগ্রামের লড়াইয়ে নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্তের নাম। এই মহীয়সীর নেতৃত্বেই সংগঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ৮ মার্চকে নারী দিবস ঘোষণার প্রস্তাব করেন তিনিই।
ক্লারা জেটকিন ছিলেন জার্মান জার্মানীর কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক এবং ‘নারী অধিকার’ আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী।
শ্রেণি সংগ্রামের লড়াইয়ে নারী নেতৃত্বের এক অসাধারণ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কমরেড ক্লারা জেটকিন। ১৮৫৭ সালের ৫ জুলাই জার্মানির ছোট গ্রাম সাক্সসনায় তার জন্ম। পিতা গটফ্রেড আইজেনার ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ প্রোটেসস্ট্যান চার্চ সংগঠক ও দক্ষ বেহালা বাদক। মা জোসেকিন ভেইটালে আইজেনার একজন সুশিক্ষিত প্রগতিশীল নারী।
এক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্যেই ক্লারা জেটকিন বেড়ে উঠেন। একদিকে পিতার সঙ্গীত চর্চার পাশাপাশি মায়ের পুঁথি চর্চা তার মনোগজতে এক উন্নত ক্ষেত্র তৈরি করে। স্কুল কলেজের পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনি পাঠ করেছেন যে সকল বই তার মধ্যে রয়েছে বায়রন, ডিকেন্স, সেক্সপিয়র, শিলার, গ্যাটে, হোমারসহ আরও অনেকে।
১৯১১ সালে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস সংগঠিত করেন। ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানির সমাজ গণতান্ত্রিক দলের কর্মী ছিলেন। পরে তিনি জার্মানির স্বাধীন সমাজ গণতান্ত্রিক দলে যোগদান করেন। সেই দলের দূর - বামপন্থী গ্রুপ স্পার্টাকাস লিগ থেকেই পরে জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টি (KPD) গঠিত হয়। তিনি সেই স্পার্টাকাস লিগের হয়ে ১৯২০ থেকে ১৯৩৩ পর্যন্ত রাইখস্ট্যাগে প্রতিনিধিত্ব করেন।
শৈশবে জেটকিন শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করলেও, অচিরেই তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে উঠেন। ১৮৭৪ সালের দিকে তার সাথে বিশেষ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল জার্মানির নারী আন্দোলন এবং শ্রম-আন্দোলনের সাথে জড়িত সংগঠনগুলোর।
নারীদের মাঝে ব্যাপকভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ক্লারা ১৮৭৮ সালে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক দলে যোগ দেন। এই দলটি গড়ে ওঠার এক ইতিহাস আছে। ১৮৭৫ সালে দুটি দল একত্রিত হয়ে এই দলটি গড়ে উঠে। দল দুটি ছিল ফের্দিনান্দ লাসালে কর্তৃক গঠিত সাধারণ জার্মান শ্রমিক সংগঠন বা General German Workers’ Association বা সংক্ষেপে ADAV এবং আগস্ট বেবেল ও ভিলহেল্ম লাইবনেখত কর্তৃক গঠিত জার্মানির সমাজগণতান্ত্রিক শ্রমিক দল বা Social Democratic Workers’ Party of Germany বা সংক্ষেপে SDAP। পরে ১৮৯০ সালে এই দলটির আধুনিক সংস্করণ তৈরি হয়েছিল এবং নাম গ্রহণ করেছিল জার্মানির সমাজ গণতান্ত্রিক দল বা Social Democratic Party of Germany বা সংক্ষেপে SPD।
১৮৭৮ সালে বিসমার্ক জার্মানিতে সমাজতন্ত্র-বিরোধী জরুরি আইন এবং সমাজতান্ত্রিক কাজকর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে জেটকিন ১৮৮২ সালে জুরিখ চলে যান। পরে সেখান থেকে প্যারিসে নির্বাসনে যান। প্যারিসে থাকাকালীন তিনি সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৮৭৪ সালের দিকে জার্মানির নারী আন্দোলন ও শ্রম আন্দোলনের সাথে তিনি জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি জার্মান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভ্য হবার যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি রাশিয়া থেকে পালিয়ে আসা মার্কসবাদী বিপ্লবী এবং তার অন্যতম বন্ধু ওসিপ জেটকিনকে (১৮৫০ - ১৮৮৯) বিয়ে করেন। তাঁদের প্রথম সন্তান ১৮৮৩ সালে জন্ম নেয় ম্যাক্সিম জেটকিন। ২য় সন্তান ১৮৮৫ সালে কোনস্টাইনটিন জন্ম নেয়। পারিবারিক জীবনে অনেক অভাব-অভিযোগ রোগ-ব্যাধি সবকিছুই তিনি ধৈর্য ওনিষ্ঠার সাথে মোকাবিলা করেন। একদিকে সংসার অন্যদিকে দেশ ও জাতির মুক্তি আন্দোলন। উভয় ক্ষেত্রেই তার দায়িত্ববোধ সমান্তরাল পর্যায়ে চালিয়ে গেছেন।
১৮৮৯ সলে দীর্ঘদিন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ওসিপ জেট জেটকিন মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৯০ সালে পার্টির নতুন নাম হয় সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জার্মান। স্বামীর মৃত্যুর শোক উপেক্ষা করে তিনি সেই পার্টির কাজে এগিয়ে আসেন।
এ সময়ে সহযোদ্ধা হিসেবে যাদের কাছে পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন- রোজা লুক্সেমবার্গ অন্যতম। ক্লারা ও রোজার মিলিত কর্মকাণ্ড নারী আন্দোলন ও শ্রমজীবী জনতার মুক্তি আন্দোলনকে আরও বেগবান, সুদূর প্রসারী ও সমগ্র দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। এছাড়া প্যারিসে অবস্থানকালে আরও দুই মহান ব্যক্তিত্বকে কাছে পান। একজন মার্কস তনয়া লরা ও তার স্বামী পল গ্রাফার। ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার পত্রিকা ‘ইকুয়েলিটি’ বা ‘সমতা’। ক্লারার সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্যারিসের নারী জাগরণের ক্ষেত্র অসামান্য অবদান রাখে। যেই পত্রিকার মাধ্যমে শুধুমাত্র জার্মান নয়, সমগ্র বিশ্বের নারী সমাজ সমাজতন্ত্র বির্নিমাণের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং এক বৈপ্লবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র কোনস্টাইনটেন সমতা পত্রিকা প্রকাশনায় মাকে সহযোগিতা করেন। ১৮৯১ হতে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তিনি এ পত্রিকার সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১০ দালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কর্মজীবী নারী সম্মেলনে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে প্রস্তাব রাখেন, প্রতি বছর ‘৮ মার্চ’ বিশ্বের সকল দেশের নারীসমাজ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালন করবে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোনো আন্দোলন করা যাবে না বলে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় তিনি তার প্রতিবাদ করেন। ১৯১৫ সালে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারীদের নিয়ে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেন।
১৯০৭ সালে দলের নারী বিষয়ক বিভাগ "Women's Office" প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি এই বিভাগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯১০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কর্মজীবী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কোপেনহেগেন শহরে। এই সভায় ১৭টি দেশের শতাধিক নারী-প্রতিনিধি যোগদান করেন। এই সম্মেলনে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক দলের নারী-কার্যালয়ের (Women's Office) নেত্রী হিসাবে তিনি যোগদান করেন এবং ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস করার প্রস্তাব পেশ করেন। কংগ্রেস ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাব গ্রহণ করে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রতি বছর একই দিনে প্রত্যেকটি দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করতে হবে। একই সাথে তিনি ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে নিজে পালন করেন। এরপর থেকেই পৃথিবীব্যাপী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে।
১৯১৬ সালে স্পার্টাকাসপন্থী লিগের তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯১৭ সালে জার্মানির সমাজ গণতান্ত্রিক দল বা SPD ভেঙে Independent Social Democratic Party of Germany বা সংক্ষেপে USPD গঠিত হলে এটিরও তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টি বা Communist Party of Germany বা সংক্ষেপে KPD প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর সাথে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯২০ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত রাইখস্ট্যগে ( Reichstag) এই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯২০ সালে তিনি লেনিনের একটি সাক্ষাৎকার নেন। এই সাক্ষাৎকারটির শিরোনাম ছিলো - The Women's Question। ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসের সদস্য ছিলেন। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯২১ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল বা কমিন্টার্নের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য পদে ছিলেন। এসবের ভিতরেই ১৯২৫ সালে জার্মান বাম সংগঠন Rote Hilfe বা “লাল সাহায্য”-এর সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৩২ সালে প্রবীণ সদস্য হিসাবে রাইখস্ট্যাগের চেয়ার-ওম্যান পদে ছিলেন ক্লারা।
বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিশীল চর্চার মধ্য দিয়েও সমাজের ভেতর যে একটা সংস্কৃতিগত প্রগতিশীল রূপান্তর আনা যেতে পারে সে ব্যাপারেও ক্লারা জেটকিন বেশ সচেতন প্রয়াস নিয়েছিলেন। ১৮৯১ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হল ‘ইকুয়েলিটি’ বা ‘সমতা’ নামক নারীদের একটি পত্রিকা। ওই পত্রিকার মাধ্যমেই ক্লারা নারীদের সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত করার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য অধিকারের লড়াইগুলোর নানা বিশ্লেষণ ও সমাজে তার প্রভাবে সুফলগুলো প্রচার করতে থাকেন। এই পত্রিকা সমগ্র জার্মানসহ সারা বিশ্বের নারীদেরকে এক সমাজতান্ত্রিক সমতার পৃথিবী গড়ার স্বপ্নে একত্রিত ও অনুপ্রাণিত করতে থাকলো। অধিকারের জন্য লড়াই করার প্রেরণা হয়ে উঠেছিল মুখপত্রটি। নারী ভোটাধিকারের লড়াইও তখন সমান তালেই চলছিল তার নেতৃত্বে। এই সকল সংগ্রামী কাজের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে অনেক বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ১৯০৭ সালে আয়োজিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন। এর পরবর্তীতে ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রী নারী সম্মেলনে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং নারীমুক্তি ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে ক্লারা জেটকিনই ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব করেন। জেন্ডার বিভাজন তৈরির জন্য নয়, নারীদের যে সমাজ ও সভ্যতা নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সেটিকেই তুলে ধরে এবং প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে একটি সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছেন এবং সে লক্ষ্যে পৃথিবীর সকল মেহনতি মানুষের মুক্তির সাথে নারীরমুক্তিও যে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত সেই বার্তা ও সংগ্রামকে ছড়িয়ে দিতে আজীবন লড়েছেন সুদৃঢ়ভাবে।
১৯১৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অব জার্মান গঠিত হলে তিনি তার সাথে যুক্ত হন। ১৯২০ সালে তিনি কমরেড লেনিনের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজ প্রগতির সংগ্রামে নারীর ভূমিকা ও তার শ্রেণি সংগ্রাম এবং নারীমুক্তি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ইত্যাদি নানা প্রশ্ন করেন। উত্তরও পেয়েছেন যথাযথ। ১৯৩২ সালে প্রবীণ সদস্য হিসেবে রাইখস্ট্যাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এডলফ হিটলার ক্ষমতায় এলে পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তিনি তখন ১৯৩৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যান। ১৯৩৩ সালের ২০ জুন তিনি মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন। মস্কোর ক্রেমলিনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
01/03/2024
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মী সংগঠকদের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের'২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহফুজ মল্লিকের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের'২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহফুজ মল্লিক, স্টুডেন্ট আইডি ২৩১৬৩৩ । সে অনেকদিন যাবত প্যাথলজিক্যাল হাই মায়োপিয়া, নিস্ট্যাগমাস এবং এমব্লায়োপিয়া রোগে আক্রান্ত। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থা ক্রমশ অবনতির কারণে তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রয়োজন। তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় ছয় লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাই নিজেদের সাধ্যমত, তার চিকিৎসার জন্য পাশে দাঁড়াই। আমাদের সবার সহযোগিতাই পারে তার এই সমস্যা সমাধান করতে এবং তাকে আবারো সুস্থভাবে ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে।
অনুদান পাঠানোর মাধ্যম:
Bkash - 01568715135
Bkash + Nagad - 01637331280
21/02/2024
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখার র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ।
12/02/2024
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের'২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহফুজ মল্লিক, স্টুডেন্ট আইডি ২৩১৬৩৩ । সে অনেকদিন যাবত প্যাথলজিক্যাল হাই মায়োপিয়া, নিস্ট্যাগমাস এবং এমব্লায়োপিয়া রোগে আক্রান্ত। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থা ক্রমশ অবনতির কারণে তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রয়োজন। তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় ছয় লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাই নিজেদের সাধ্যমত, তার চিকিৎসার জন্য পাশে দাঁড়াই। আমাদের সবার সহযোগিতাই পারে তার এই সমস্যা সমাধান করতে এবং তাকে আবারো সুস্থভাবে ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে।
অনুদান পাঠানোর মাধ্যম:
Bkash - 01568715135
Bkash + Nagad - 01637331280
15/12/2023
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পুষ্পস্তবক অর্পণ৷ ৫২তম বিজয় দিবসে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শোষণমুক্ত-বৈষ্যম্যহীন সমাজ নির্মাণে এবং পুঁজিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-ফ্যাসিজম বিরোধী লড়াই দৃঢ় করার লড়াইয়ে সকল নিপীড়িত জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
15/12/2023
পিসিপির সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমাসহ ৪ জনকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
পিসিপির সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমা, বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরাসহ ৪ জনকে হত্যা ও ৩ জনকে অপহরণের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখা। মিছিলটি ইউনির্ভাসিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে গোলচত্ত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সংগঠন শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক তানভীর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস,বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য রনি রায়,মাসুদ মন্ডল,মাহিন রাতুল, সজীব কুমার চৌধুরী প্রমুখ।
শাসকগোষ্ঠি পাহাড়ে অঘোষিত সেনাশাসন কায়েম করেছে। সেখানকার মানুষের আশা আকাঙ্খাকে পদদলিত করে ভূমিদখলসহ নানা জবরদস্তি করা হচ্ছে। পাহাড়ে নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ নিত্যকার ব্যাপারে পরিণত করা হচ্ছে। আর এ সবের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে গুলি-হত্যার মতো ঘটনা। গত ২দিন আগে রাতের আধারে গুলি করে হত্যা করা হয়
পিসিপির সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমা, বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরাসহ ৪ জনকে। আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করছি। একই সাথে পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি করছি।
15/12/2023
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মরণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখার আলোচনা সভা...