23/11/2019
সিলেট কিতামেলায় পাওয়া যাবে সদ্য প্রকাশিত ইলাল উখতিয়াল মুসলিমা বইটি...
A heaven for good books.
23/11/2019
সিলেট কিতামেলায় পাওয়া যাবে সদ্য প্রকাশিত ইলাল উখতিয়াল মুসলিমা বইটি...
17/11/2019
পাঠকপ্রিয় কিছু গ্রন্থ...
14/11/2019
ভালো মানের বই কিনতে ভিজিট করুন...
13/11/2019
বই রিভিউঃ
আপনি আনমনে কোথাও বসে আছেন, তার মানে কি আপনার সব স্থবির হয়ে আছে । না, এই স্থবির সময়ে আপনার মনে নানা ভাবনার জন্ম নিচ্ছে । আমরা খুব কম মানুষ সেই চিন্তাগুলো নিয়ে ভাবি, কাজ করি । অসাধারণ প্রতিভার মানুষেরা তা লিখে রাখে, তা নিয়ে কাজ করে । আজ আমরা তেমন একজন গুণীর অসাধারণ বিক্ষিপ্ত চিন্তার সংকলন নিয়ে রচিত "হৃদয়ের দিনলিপি" বই নিয়ে আলোচনা করব ।
বইঃ হৃদয়ের দিনলিপি
বইটির পরিচয় লেখকের ভাষায় বলি " আমি যখন চিন্তার দৃষ্টিতে কোনো বিষয় নিয়ে ভাবি, মাথার ভিতরে আশ্চর্য সব ভাবনা ও বিশ্লেষণ এসে ভিড় করে । বোধ, বিশ্বাস ও চেতনার এক বিশাল ভান্ডার যেন আমার সমুখে খুলে যায় । অবশেষে ভেবে দেখলাম, এ বিষয়ে আর অলসতা বা উদাসীনতা দেখানো ঠিক হবে না । হ্রদয়ের কথাগুলো লিখতে শুরু করলাম । পরিশেষে এর নাম রেখে দিলাম- সইদুল খাতির । ভেতরে রক্ষিত কথামালা । হৃদয়ের দিনলিপি । অন্তরের কথা ।"
এই বইয়ের রিভিউ লিখতে গেলে একটা ছোটখাট পুস্তিকা হবে, কারণ এতে এতো টপিক আনা । আপনার জীবনের প্রতিটি পদে পদে এই বইয়ের টপিক এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন । এক বাক্যে বললে - যারা ন্যায়-ইনসাফের ওপর চলতে চান, জীবনে ভারসাম্য চান, আত্মশুদ্ধি চান বা শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে চান, তাদের জন্য এই বই ।
রিভিউয়ের জন্য আমার দৃষ্টিতে এই বইটিকে আত্মশুদ্ধি, ইলম অর্জন, নসিহাহ (মোটিভেশন), ইবাদত এই চার ভাগে ভাগ করার চেষ্টা করা যায় । যেহেতু বলা হয়েছে বিক্ষিপ্ত চিন্তার সংকলন, তাই এক নাগাড়ে কোন বিষয় আলোচনা হয় নি । কতক্ষণ ইলম, তারপর আত্মশুদ্ধি আবার ইলম এরকম বিক্ষিপ্তভাবে তাঁর চিন্তাগুলোর সংকলন হয়েছে ।
উপদেশ গ্রহণে মানুষের বৈচিত্র্যতা" এই শিরোনামে তিনি তাঁর প্রথম পাঠটি শুরু করেছেন, যা দিয়ে আপনাকে তাঁর বাকি পাঠগুলোর জন্য তৈরি করে নিবেন । এই পাঠে লেখক উপদেশ গ্রহণকে চাবুকের আঘাত মতো তুলনা করেছেন, যা যখন শরীরে আঘাত করে তখন যে ব্যাথার তীব্রতা থাকে সময়ের বাকে তা আর তেমন অনুভূত হয় না । আবার কিছু মানুষ আছে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে তিনি এই শ্রেণীর মানুষকে তিনভাগে ভাগ করেছেন ।
এখন আসি, আত্মশুদ্ধির চাদরে তিনি কি আলোচনা করেছেন । এই চাদরে তিনি অন্তরের যাবতীয় ময়লার কথা এনেছেন সাথে কিভাবে তা ধৌত করতে হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন । কয়েক প্রকার ময়লার মাঝে হল - দুনিয়াপ্রীতি, প্রবৃত্তির দাসত্ব, নফসের রোগ, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি ।
ইলম অর্জন এর চাদরে আমরা দেখেছি তিনি ইলম অর্জনের প্রয়োজনীয়তা, সময়, ধৈর্য, ইলম সংরক্ষণের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় এনেছেন । তবে তার চেয়ে যে বেশিটি ফুটে এসেছে আলেমদের (জ্ঞানীদের) দুনিয়াপ্রীতি ও দরবারমুখীতা নিয়ে সতর্কতা আর নসিহাত ।
নসিহাত বলতে তাঁর পুরো বইটি ই বলা যায় । কারণ আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছেন এই রোগের লক্ষণ, প্রতিকার । বিশেষ করে এই পাঠে তিনি জ্ঞান অর্জন, তাকওয়া অর্জন, দুনিয়ার জীবন, বিয়ে, ফিতনা, বন্ধু নির্বাচন, আদর্শ ও যুক্তি, সুখ অর্জন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আপনাকে প্রথমে পদস্খলনের স্বভাব দেখিয়েছে তারপর তিনি সরল ও সহজ পথটি উল্লেখ করে আপনাকে সতর্ক করে দিয়েছেন ।
ইবাদত পাঠে তিনি ইবাদত ও ঈমান নিয়ে আলোচনা করেছেন । ইবাদত বলতে আল্লাহকে পাওয়ার পথ দেখিয়েছেন, সাথে বিদ'আত পাঠে তিনি এ নিয়ে সতর্কতা দেখিয়েছেন । ঈমান এর বিষয়ে তিনি বুনিয়াদি বিষয়ের পাশাপাশি নাস্তিকতা ও অপযুক্তির বিষয় ও আলোচনা এনেছেন ।
তিনি বইয়ের সমাপ্তি টেনেছেন, প্রথম পাঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যা একটি আদর্শ বইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য । শেষ উপদেশ নামে পাঠে অল্প কথায় গভীর কিছু বলেছেন । সেই পাঠ থেকে কিছু লিখে শেষ করছি - স্মরণ রাখা উচিত - সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারাও একটি বড় যোগ্যতার ব্যাপার । পরিমিত খরচ করবে । যাক প্রকাশ করা উচিত নয়, তা গোপন রাখবে । ......
বইঃ হৃদয়ের দিনলিপি
মূল আরবিঃ ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.
অনুবাদঃ শামীম আহমাদ
সম্পাদনাঃ আলী হাসান উসামা
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৬০৮
মুদ্রিত মূল্যঃ ৭৮০ টাকা
প্রকাশনায়ঃ মাকতাবাতুল হাসান
12/11/2019
ভালো মানের বইয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
কুরিয়ারে বই পেতে ভিজিট করুন অথবা কল করুন
01765735638
11/11/2019
ইসলামি বইয়ের বিপুল সমাহার...
11/11/2019
ইসলামি বইয়ের সমাহার
কুরিয়ারে বই নিতে মেসেজ করতে পারেন অথবা কল করতে পারেন।
01765735638
11/11/2019
ইসলাহী মাজালিস (১-৭) খণ্ড
মূল্য: 50% ছাড়ে 895/-
বয়ান : শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম
নাম থেকে স্পষ্ট, এটি আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠনমূলক একটি আয়োজন। পরিবেশন করেছেন বর্তমানের শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম। তাঁর এবং তাঁর কীর্তিমালার পরিচয় তুলে ধরার বোধ হয় প্রয়োজন নেই। আচ্ছা, সূর্যের কি পরিচয় দিতে হয়? তার আলো কি দেখিয়ে দিতে হয়? না, হয় না। তদ্রূপ হযরত শাইখুল ইসলামও ইসলামের আফতাব ও মাহতাব। ইলম-আমল, তাকওয়া-পরহেযগারি ও চরিত্রমাধুরির দিগন্তপ্রজ্জ্বোলকারী চাঁদসুরুজ। তাঁর আলো সর্বত্র বিস্তৃত। তাঁর অবদান সর্বময় ব্যাপৃত। তার কি পরিচয় হয়?
আর তার লেখনী ও বয়ান-বক্তৃতা? এরও পরিচয় ও গুরুত্বের জন্য এটুকুর বেশি কি প্রয়োজন যে, এটি হযরত শাইখুল ইসলামের? তা আবার সে বয়ানের উৎস যদি হয় যুগের মুজাদ্দিদ ও মহাসংস্কারক হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. (মৃত ১৯৪৩ ইং)-এর ইসলাহী বাণীমালা? আর সে বাণীমালা হয় তার যুগান্তকারী বাণীসংকলন- ‘আনফাসে ঈসা’-এর নির্বাচিত বাণীগুচ্ছ? এবং সে বাণীগুচ্ছের বিশ্লেষক হন এ যুগের শাইখুল ইসলাম? তাহলে সে বয়ানের গুরুত্ব ও উপকারিতা এবং প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া কি বলার অপেক্ষা রাখে? অবশ্যই না।
সে বয়ানগুলোরই সংকলিতরূপ ‘ইসলাহী মাজালিস’। নিশ্চয় পাঠক উপলব্ধি করতে পারছেন তার মহত্ত্ব এবং বোধ করছেন বাংলায় তাকে রূপায়ণের প্রয়োজনীয়তা! মাকতাবাতুল আশরাফ ঢাকা-কে সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জানাই। এ প্রয়োজন পূরণের জন্য। বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞ আলিম অনুবাদকম-লীর একটি পরিষদ গঠন করে এর এক থেকে ছয় খ-ের অনুবাদ প্রকাশ করে। যাদের মধ্যে রয়েছেন এর স্বত্বাধিকারী মাওলানা মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান ছাহেব নিজেও।
সদ্য তাঁরই অনুবাদে প্রকাশিত হয়ে এল এর সপ্তম খ-। সরল ও প্রাঞ্জল অনুবাদ। মূলের কাছাকাছি থাকতে বদ্ধপরিকর। বড়দের উচ্চারিত জ্ঞানসমৃদ্ধ শব্দ অক্ষুণ্ণ রাখতে আগ্রহী...
চরিত্রগঠনপ্রেমী পাঠক এখানে পর্যাপ্ত খোরাক পাবেন আশা করি।
অনুবাদকমণ্ডলী : মাওলানা মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান (১ম ও ৭ম খ-)। মাওলানা মুহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ ও মাওলানা হাসান সিদ্দীকুর রহমান (২য় খ-)। মাওলানা মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (৩য় ও ৫ম খণ্ড)। মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ (৪র্থ খণ্ড)। মাওলানা ফযলুদ্দীন শিবলী (৬ষ্ঠ খণ্ড)।
প্রকাশক : মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান, মাকতাবাতুল আশরাফ
ইসলামি যেকোনো বই পেতে নক করতে পারেন বা মেসেজ করতে পারেন।
01765735638
11/11/2019
সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজের বীরত্বপূর্ণ জীবনী। আছে তাতার ও মঙ্গোল, মামলুক, আইন জালুত, শাজারাতুদ-দুর, রুকনুদ্দিন বাইবার্স নিয়ে আলোচনা।
মঙ্গোলদের মোকাবিলায় মামলুকদের ত্যাগ ও জিহাদ, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে কুতুজের দক্ষতা ও আইন জালুতে মুসলমানদের বিজয়ের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। শাসনক্ষমতা লাভের নীতিমালা এবং ইতিহাসের শিক্ষাও উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
এ গ্রন্থের মাধ্যমে হিংস্র তাতারদের বর্বরতা ও মামলুক শাসনামল সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারব।
সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ দ্য ব্যাটালিয়ন
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
ডেলিভারি চার্জসহ মূল্য : ৩৪০ টাকা /-
বইটি নিতে চাইলে ইনবক্স করুন।
কষ্টিপাথর
লেখক ডা. শামসুল আরেফীন
এই বইটা একবার হলেও সকলের পড়া উচিৎ।
খুব উপকারি একটা বই
11/11/2019
অনুবাদকের কথা
যাহার উত্থান আছে তাহারই পতন
শূন্যেতে উত্থিত তির থাকে কি কখন?
সমাজবিশ্লেষক আল্লামা ইবনু খালদুন বলেন, ‘যখন কোনো সভ্যতা শিকড় থেকে শিখরে পৌঁছে যায় তখন তার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।’ মহাকালের ইতিহাস এ বক্তব্য সত্য বলে প্রমাণ দেয়। ইতিহাস আমাদের জানায়, পৃথিবীতে একসময় দোর্দণ্ড প্রতাপ ছিল ফারাও সভ্যতার, মায়া সভ্যতার, সেমেটিক সভ্যতার, জরথুস্ত্রীয় সাসানি সভ্যতাসহ রোমান বাইজেন্টাইন সভ্যতার; কিন্তু কালের অমোঘ থাবায় প্রতিটি সভ্যতা উন্নতির শীর্ষে পৌঁছার পর আশ্রয় নিয়েছে ইতিহাসের ভাগাড়ে।
মহাকালের নিয়মানুযায়ী পতনের এ ধারা থেকে রক্ষা পায়নি ইসলামি খিলাফত এবং সালতানাতব্যবস্থাও। কালের নির্মম থাবায় তার জায়গা দখল করে নেয় সেকুলার পাশ্চাত্য সভ্যতা। ইতিহাসের সূক্ষ্ম-সন্ধানী পাঠক নিশ্চয় স্বীকার করবেন, বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তিকে পশ্চিমা সভ্যতা নেতৃত্বের শিখর স্পর্শ করার পর ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে পতনের সূচনা। পতন পূর্ণতায় পৌঁছাতে হয়তো আরও অর্ধশতাব্দী কিংবা শতাব্দীকাল লাগবে; কিন্তু পতন যে শুরু হয়ে গেছে এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নাই।
পৃথিবীকে শাসন-করা একটা রাষ্ট্রশক্তি কীভাবে উন্নতির স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে শিকার হয় পতনের নির্মম থাবার, সে প্রসঙ্গে কথা বললে বলতে হয়—সভ্যতার উত্থানের নেতৃত্বে যারা থাকেন তারা হন নিজেদের দর্শনের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী। নিজেদের আদর্শ ও দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় থাকেন সক্রিয়। সভ্যতার গোড়ায় শক্তি জোগাতে জোগাতেই নিঃশেষ হয়ে যায় তাদের জীবন-পরিধি। তারপর আসে তাদের অনুসারী পরবর্তী প্রজন্ম। তারাও হয়ে থাকে বাপদাদার দর্শনের প্রতি আন্তরিক এবং প্রচার-প্রসারে সক্রিয়। কারণ, তারা অনুধাবন করতে পারে এই সভ্যতা ও শক্তি অর্জনে তাদের বাপদাদা ঝরিয়েছে কত রক্ত আর ঘাম। ফলে তাদের চেষ্টা-প্রয়াসের মাধ্যমে সভ্যতা হয়ে ওঠে সুশোভিত ও সুদৃঢ়।
তাদের পর আসে তৃতীয় প্রজন্ম। এরা কিন্তু অতীত প্রজন্মের মতো কর্মতৎপর ও আন্তরিক থাকে না। কারণ, মানব-প্রজাতির স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুখসময়ে তাদের কর্মতৎপরতায় ভাটা পড়ে। এরা যেহেতু শৈশব থেকেই গড়ে ওঠে সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবেশে, সেহেতু আন্দাজ করতে পারে না পূর্বসূরিদের প্রাণপাত প্রয়াসের বিষয়টা। এভাবে একসময় প্রজন্মটি হয়ে যায় বিলাসী ও ভোগ-কাতর। তাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়ে অবাধ যৌনতা। নারীরা হয় লাগামহীন স্বাধীন। ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে তারা থাকে উদাসীন। শক্তি-কাঠামোর প্রতিটি অঙ্গে ছেয়ে যায় দুর্বলতা। আর পতনের এসব ঘুণপোকাগুলোই ক্রমান্বয়ে নিঃসার করে তোলে প্রবল পরাক্রান্ত শক্তি ও সভ্যতার কাঠামো। ধীরে ধীরে কালের নির্মম কষাঘাত আর অমোঘ বিধানে সভ্যতাটির জায়গা হয় ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।
একটা সভ্যতা যখন উন্নতির শীর্ষে পা ঝুলিয়ে বসে, তখন তার অবস্থা কোন পর্যায়ে উপনীত হয়, এই সুস্পষ্ট চিত্রপাঠ আমরা কুরআন থেকেও নিতে পারি। কুরআনের সুরা ইউসুফে বর্ণিত ফারাও সভ্যতার আলোচনা আমাদের এসব জানিয়ে দিয়েছে। ইউসুফ আ.-এর যুগে পাশের কেনানি সম্প্রদায় যখন যাযাবর-জীবন কাটাচ্ছিল, তখন মিসরিরা তাদের মানমন্দিরে বসে চর্চা করছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান। কিন্তু একটা সময় তাদের সে আকাশস্পর্শী সভ্যতা গ্রাস করে নেয় ভোগ ও নারীবিলাস। নারীরা হয়ে যায় একেবারে স্বাধীন।
পতনের এসব কারণ যেকোনো সভ্যতায় দেখা দিলে নিঃশেষে তার অনিবার্য ফল হয় ধ্বংস। তবে ইসলামি সভ্যতা এবং অন্যান্য সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য হলো, মানুষের খেয়াল-খুশিতে গড়ে-ওঠা সভ্যতার পেছনে ঐশী মদদ না থাকায় তা চিরতরে হারিয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি সভ্যতার পেছনে ঐশী মদদ থাকায় তা একেবারে হারিয়ে যায় না। আল্লাহর বলে দেওয়া উন্নতির মাধ্যমগুলো অনুশীলন করলে মুসলিম জাতি পতনের পরও সেই ধ্বংসস্তূপে গড়ে নিতে পারে ইসলামি সভ্যতার মজবুত ও নয়নাভিরাম প্রাসাদ। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ আলোচ্য গ্রন্থ দ্য অটোমান এম্পায়ার-এর বিষয়বস্তু।
বলা হয়, উসমানিদের আগ পর্যন্ত জগৎ-ইতিহাসে মানবসভ্যতার উপর মানুষ কর্তৃক যে ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে গেছে এর মধ্যে দুটি ধ্বংসযজ্ঞের কোনো তুলনা ছিল না—একটি ইয়াহুদি জাতির উপর বুখতে নাসার (নেবুচাদ নাজার) কর্তৃক ধ্বংসযজ্ঞ, অপরটি মুসলিমদের উপর তাতারদের ধ্বংসযজ্ঞ। তাতারদের ধ্বংসতাণ্ডবে বাগদাদ পরিণত হয় পুরা কাহিনিতে। ৪০ লাখ মানুষের গোরস্থানে পরিণত হয় প্রাচী-প্রাতিচী সভ্যতার প্রসূতি বাগদাদ। যে খলিফা ও আমিরগণ মুসলিমবিশ্বকে তাতার দানবদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নর্তকি আর মদের আসরে মগ্ন ছিল, খিলাফতের আসন দখল করে আল্লাহর দীনকে নিয়ে তামাশা করছিল হালাকু খান সহজভাবে তাদের হত্যা করেনি; পাগলা হাতি দিয়ে মাড়িয়ে, ঘোড়ার পায়ে পিষে, বস্তায় পেছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে, পিটিয়ে, কুপিয়ে নানাভাবে হত্যা করে। তাদের সুন্দরী স্ত্রী-কন্যাদের দাসী হিসেবে রেখে বাকিদের হত্যা করে।
যে আলিমগণ দীনকে যশখ্যাতি আর অর্থোপার্জনের অবলম্বন বানিয়েছিল, অনর্থক তর্ক-বিতর্ক করে আল্লাহর দীনকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছিল, নিজেদের মধ্যে ফিরকাবাজি করে সার্বক্ষণিক দাঙ্গায় ইন্ধন জুগিয়েছিল, তাতাররা তাদের সামনে তাদের স্ত্রী-কন্যাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে। সুন্দরীদের বেছে নিয়ে দাসী বানায়। আর আলিমদের টুকরো টুকরো করে রাস্তায় ফেলে রাখে; অথবা দিজলার পানিতে ভাসিয়ে দেয়। পরিণতিতে তারা হয় স্থলজ ও জলজ প্রাণীর খাদ্যে।
নগরী ধ্বংস করার পর হালাকু খান যখন জানতে পারে মাটির নিচে গুপ্ত কক্ষে কিছু লোক আত্মগোপন করে আছে, তখন সে দিজলার বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়ার হুকুম দেয়। ফলে তাদেরও সলিলসমাধি ঘটে। তাতাররা তিলোত্তমা বাগদাদ এমনভাবে ধ্বংস করে যে, সৃষ্টির শুরু থেকে নক্ষত্রমণ্ডল পৃথিবীর বুকে এমন বীভৎস ধ্বংসলীলা আর কখনো দেখেনি।
কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের উপর কীভাবে বেড়ে উঠল উসমানিদের বিশাল ইসলামি সভ্যতা, কীভাবে পৌঁছাল উন্নতির শীর্ষে, এরপর কোন কোন ঘুণপোকা কুড়ে কুড়ে খেল তাদের সে বিশাল সভ্যতা, কীভাবে আছড়ে পড়ল পতনের বেলাভূমে; মুসলিম জাতি কোন মাধ্যম গ্রহণ করলে আবারও ফিরে পাবে তাদের গৌরবময় অতীত, সে লক্ষ্যে কী করা দরকার, কী পরিহার করা প্রয়োজন, সেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে বর্তমান বিশ্বের আলোচিত ইতিহাসবিদ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির আদ দাওলাতুল উসমানিয়া আওয়ামিলুন নুহুজ ওয়া আসবাবুস সুকুত নামক গ্রন্থে।
খিলাফতব্যবস্থা পতনের শতাব্দীকাল পর বর্তমান সময়ে আমরা যখন একেবারে অন্ধকার সময় পার করছি, যখন আমাদের যুবশ্রেণির কাছে খেলার খবর আর পচা রাজনীতির বিষয় পঠনসূচির মুখ্য উপাদান, যখন ইতিহাস তাদের কাছে অপাঠ্য একটি বিষয়, সেই কঠিন মুহূর্তে ব্যবসায়িক ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কালান্তর প্রকাশনীর কর্ণধার প্রিয় আবুল কালাম আজাদ যে দুর্বার সাহস বুকে নিয়ে জাতির সামনে একের পর এক ইতিহাসগ্রন্থ পেশ করে যাচ্ছে, তাতে সে অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আল্লাহ তাঁর খেদমত কবুল করুন।
ইতিহাস ফিরে আসে বলে একটা কথা চালু আছে। কথাটা অসত্য নয়। হয়তো আবুল কালাম আজাদের মতো যুবকদের প্রয়াসেই সে ধারা সূচিত হতে পারে।
ইতিহাসের মতো তাত্ত্বিক বই রচনা কিংবা অনুবাদের জন্য যে নিবিড় সময়ের প্রয়োজন নানাবিধ ব্যস্ততায় আমি তা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তাই ভুল-ত্রুটি থাকাটা একেবারে স্বাভাবিক। তারপরও প্রিয় ভাই সালমান মোহাম্মদের অশেষ শুকরিয়া, সে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বইটি দেখে দিয়েছে। আল্লাহ তাঁর ইলম ও আমলে বরকত দিন।
আমরা বার বার বলে এসেছি এবং বিশ্বাসও করি যে, লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক, সম্পাদক, মুদ্রক, বাঁধাইকারী, পরিবেশক, পাঠক—এককথায় বইসংশ্লিষ্ট সবাই একই পরিবারভুক্ত। একে অন্যের সম্পূরক। একটা বই যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে পরিবেশন করা প্রকাশকের দায়িত্ব; আর পাঠকের দায়িত্ব হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনা। আমরা আমাদের পাঠকশ্রেণির কাছ থেকে তা-ই প্রত্যাশা করব। ইনশাআল্লাহ যেকোনো ভুল পরবর্তী সময়ে শোধরে নেওয়া হবে। আল্লাহ আমাদের সকলের প্রয়াস কবুল করুন। উত্তম জাজা দিন। আমিন।
আবদুর রশীদ তারাপাশী
১৮ অক্টোবর ২০১৯
বই : দ্য অটোমান এম্পায়ার (১ম ও ২য় খণ্ড)
[উসমানি খিলাফতের ইতিহাস]
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
অনুবাদ : আবদুর রশীদ তারাপাশী
প্রকাশক : কালান্তর প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য : ১,০০০/-
প্রি-অর্ডার মূল্য : ৬৫০/-
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৮৮০
01765735638
10/11/2019
ইসলামের চতুর্থ খলিফা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় জামাতা, মদীনাতুল ইলমের সদর দরজা, আবু তুরাব আলি ইবনু আবি তালিব রা.।
এক মহা ক্রান্তিকালে খেলাফতের দায়ভার উঠিয়ে নিয়েছিলেন তাঁর বলিষ্ঠ কাঁধে। তখন চারদিকে ছিল ফেতনাবাজ ইবনে সাবার দোর্দণ্ড প্রতাপ। সময়টা ছিল বড়ই নাজুক, একদিকে ছিল তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান রা.-এর শাহাদতের শাহাদতের কিসাস গ্রহণের তাগাধা। অপরদিকে ছিল ইসলামের রাজধানী শহর মদীনাতুল মুনাওওয়ারার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা।
বিষয় দুটির অগ্রাধিকার বিবেচনায় দেখা দেয় মতবিরোধ। আর এ মতবিরোধিতার জের ধরে এবং ইবনে সাবার কুটচালে সংঘটিত হয় বেদনাদায়ক জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিন। সিফফিন যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে ভ্রান্ত খারেজি সম্প্রদায়।
মহা অরাজক সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রিয় নবি সা. এর প্রিয়তম সাহাবি হজরত আলী রা. আদায় করেছিলেন খেলাফতের জিম্মাদিরি। কীভাবে উদ্ভব ঘটলো ভ্রান্ত খারেজি ফির্কা ও শিয়া ধর্মের তা বিস্তারিত উঠে এসেছে আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি রচিত সিরাতে আলী গ্রন্থে।
বইটি অনুবাদ করেছেন প্রথিতযশা অনুবাদক ভাই Kazi Abul Kalam Shiddique
প্রকাশ করেছে @কালান্তর প্রকাশনী।
গায়ের মুল্য ৭২০
বিক্রি মুল্য ৪৬০
বইটি কুরিয়ারে পেতে হলে মেসেজ বা কল করতে পারেন।
01765735638
| Monday | 10:00 - 22:00 |
| Tuesday | 10:00 - 22:00 |
| Wednesday | 10:00 - 22:00 |
| Thursday | 10:00 - 22:00 |
| Saturday | 10:00 - 22:00 |
| Sunday | 10:00 - 22:00 |